এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কুলদা রায় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৪:৩২583598
  • একাত্তরে পাকিবাহিনী ৩০ লক্ষ বাঙালীকে হত্যা করেছিল। ৫ লক্ষ মা-বোনকে ধর্ষণ করেছিল। এক কোটি লোককে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। সম্পদ লুট করা হয়েছিল। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল ঘরবাড়ি।
    তখন পাকবাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এই গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
    সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান, এরশাদ, জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া এই খুনী-দালাল জামায়াতে ইসলামীকে দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন। তাদেরকে মন্ত্রী বানিয়েছেন। জামায়াত জঙ্গী বাহিনী বানিয়ে এক যোগে সারাদেশে বোমাবাজি, হত্যা, সন্ত্রাস করেছে। বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক, লেখক, ছাত্র, জনতাকে গ্রেনেড দিয়ে মেরেছে। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন উদিচীর সম্মেলনে গ্রেনেড দিয়ে হত্যা করেছে অসংখ্য সাংস্কৃতিক কর্মীকে। কম্ম্যুনিস্ট পার্টির সমাবেশে মেরেছে কম্যুনিস্টদের। আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড মেরে হত্যা করতে চেয়েছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।
    ৪০ বছর পরে জনগণের দাবীতে এই দানব জঙ্গী জায়াতের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। বাচ্ছু রাজাকার নামে একজন অভিযুক্ত জামাতী নেতার ফাঁসীর আদেশ হয়েছে। তখন জামায়াতে ইসলামী গৃহযুদ্ধের হুমকি দিয়ে সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করেছে। ৫ ফেব্রুয়ারী আরেকজন অভিযুক্ত কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় হয়।

    জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগ--
    --------------------------------------------------------------
    প্রথম অভিযোগে বলা হয়, কাদের মোল্লার নির্দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে আটক মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র পল্লবকে একাত্তরের ৫ এপ্রিল গুলি করে হত্যা করা হয়।

    দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ২৭ মার্চ কাদের মোল্লা তার সহযোগিদের নিয়ে কবি মেহেরুননিসার মা ও দুই ভাইকে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বাসায় হত্যা করেন।

    তৃতীয় অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ বিকেলে আরামবাগ থেকে সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেব মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বাসস্ট্যান্ডে গেলে কাদের মোল্লা ও তার সহযোগিরা তাকে ধরে পাম্পহাউসে জল্লাদখানায় নিয়ে জবাই করে হত্যা করেন।

    চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ২৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কাদের মোল্লা ও ৬০-৭০ জন রাজাকার রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানার খানবাড়ি ও ঘটেরচর (শহীদনগর) এলাকায় যান। সেখানে মোজাফফর আহমেদ খান এবং দুজন নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণি ও গোলাম মোস্তফাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কাদের মোল্লার ও তার সহযোগিরা ভাওয়াল খানবাড়ি এবং ঘটেরচরে (শহীদনগর) হামলা চালিয়ে শতাধিক নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে হত্যা করেন।

    পঞ্চম অভিযোগ অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাদের একটি হেলিকপ্টার মিরপুরের আলোকদি গ্রামের পূর্ব দিকে নামে। কাদের মোল্লা অর্ধশতাধিক অবাঙালি ও রাজাকার নিয়ে গ্রামের পশ্চিম দিক থেকে ঢোকেন এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকেন। ওই ঘটনায় ৩৪৪ জনের বেশি লোক মারা যায়।

    ষষ্ঠ ও শেষ অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ২৬ মার্চ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কাদের মোল্লা ও তার সহযোগী কয়েকজন বিহারি ও পাকিস্তানি সেনা মিরপুরের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর কালাপানি লেনের হযরত আলীর বাসায় যান। কাদের মোল্লার নির্দেশে হযরত আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে তার স্ত্রী আমিনা এবং দুই মেয়ে খাদিজা ও তাহমিনা, দুই বছরের ছেলে বাবুকে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় কাদের মোল্লার ১২ সহযোগী মিলে হযরতের ১১ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে। হযরতের আরেক মেয়ে মোমেনা ওই সময় আত্মগোপন করে সেই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।

    কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
    এই কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিলে ডাকার শাহবাগে ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্লগাররা প্রতিবাদ শুরু করেন। নতুন প্রজন্মের আহবানে সেখানে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। 'কাদের মোল্লার ফাঁসী চাই' দাবী করে রাজপথ দখল করে। কেউ ঘরে ফিরে যায়নি। দিনে রাতে শাহবাগে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপস্থিত হয়ে একাত্তরের খুনী রাজাকার জামায়াতে ইসলামীদের ফাঁসীর দাবীতে অনড় থাকে।

    সমাবেশে কোনো রাজনৈতিক শ্লোগান দেওয়া হয়নি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা সেখানে পাত্তা পায়নি। এটা হয়ে উঠেছে জনতার স্বতঃস্ফুর্ত আন্দোলন। একাত্তরের পরে এ রকম জাগরণ আর কখনো ঘটেনি। এই গণজাগরণ দেখে পাকিস্তানপন্থী জামায়াতে ইসলামী স্তদ্ধ হয়ে গেছে। তাদের সহযোগী খালেদা জিয়ার বিএনপি ও তাদের মিত্র জোট ভীত হয়ে তাদের সমাবেশ বাতিল করেছে।
    দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নতুন প্রজন্মের এই জাগরণ নতুন করে আবার একাত্তরের স্বাধীনতার মূল চেতনায় ফিরে যাওয়ার শক্তি-সাহস-সামর্থকে বিপুলভাবে প্রকাশ করছে। ধর্মীয় মৌলবাদকে না করে দিয়েছে।
  • কুলদা রায় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৪:৩৫583684
  • আমাকেও সাথে নিও’
    -----------------
    কাবেরী গায়েন
    এই তরুণদের কাছেই আমাদের সত্যিকারের সূর্যোদয়ের দাবি

    মিছিলের সব পথ মিলেছে আজ শাহবাগে। লাখো মানুষের ঢল সেখানে। শাহবাগের উত্তাল তারুণ্যের মহাসমাবেশ থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নতুন ইশতেহার ঘোষিত হয়েছে: ‘আজ আমরা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।’ ঘোষণা দিয়েছে বাংলার তারুণ্য দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের। ঘোষণা দিয়েছে এ দেশ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের এবং জামায়াতে ইসলামীসহ সব ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি নিষিদ্ধের। চার দিন ধরে তাঁরা বলছেন, ‘বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন, সে আগুন ছড়িয়ে দাও।’ এই আগুন বাঙালি জাতি বুকের ভেতর চাপা দিয়ে রেখেছে ৪২ বছর। সেই বুকের আগুন তারুণ্যের ডাকে ছড়িয়ে গেছে সারা দেশে। শাহবাগের মতোই সারা দেশের সব শহীদ মিনার আজ মুখরিত রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে। তাঁরা মিরপুরের কসাই কাদের মোল্লার বিচারের রায় মানেননি। তাঁরা প্রতিজ্ঞা করেছেন, কাদের মোল্লা তো বটেই, সব রাজাকারের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরে যাবেন না। এই দাবি তাঁরা জানিয়ে যাচ্ছেন চার দিন ধরে এবং আজকের মহাসমাবেশে বাঙালির রণধ্বনি ‘জয় বাংলা’কে উচ্চারণ করে। এ রণধ্বনি দিয়েই ১৯৭১ সালে বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ করেছে, কাঁপন ধরিয়েছে পরাক্রমশালী পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনীর দুর্গে। অথচ ’৭৫-পরবর্তী ধর্মাশ্রয়ী সামরিক রাজনীতি বিতর্কিত করেছে বাঙালির রণধ্বনিকে। প্রতিস্থাপিত করেছে পাকিস্তানের আদলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দিয়ে। এই রণধ্বনিকে বিতর্কিত করতে পেরেছিল বলেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির বুকে কাঙ্ক্ষিত কাঁপন ধরানো যায়নি পরবর্তী ৪০ বছর। যারা সুকৌশলে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এই রাজনীতি করে গেছে, তাদের বুকে ফের কাঁপন ধরাতে এ দেশের তারুণ্য জাতিকে ফেরত দিয়েছে সেই রণধ্বনি। এই জাগ্রত তারুণ্যের কাছে তাই কৃতজ্ঞতা। কে আর রুধবে বাঙালির অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রা; যখন তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি ফিরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তাঁর পরিচয়ের ঠিকানা, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’। এ দুই মুক্তিযুদ্ধের প্রতীককে পুনরুদ্ধার করেছে যে তারুণ্য, পৃথিবীর কোনো শক্তিই আর আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।

    আমি বেড়ে উঠেছি সামরিক শাসকদের ক্রূর সময়ে। মুক্তিযুদ্ধ শব্দটিই নিষিদ্ধ ছিল তখন, যেমন নিষিদ্ধ ছিল ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি কিংবা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান। ৭ মার্চকে ভুলিয়ে দিতে রেসকোর্সের মাঠকে বানানো হয়েছিল শিশুপার্ক। আমি বড় হয়েছি হুর-এ-আরব, বাগদাদের চোর কিংবা আবেহায়াত নামের চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপন দেখে দেখে। আসলে বাংলাদেশ ধারণাটিই নিষিদ্ধ করেছিল এ দেশের ক্রূর সামরিক সেনাপ্রধানদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। আমাদের কৈশোর আর তারুণ্য শুরুর কাল কেটেছে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি যে করা যায়, শহীদজননী জাহানারা ইমাম সে কথা না তুললে হয়তো জানাই হতো না। সেই শহীদজননী জাহানারা ইমাম এ দেশের মাটিতে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলা মাথায় নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি স্মরণ করছি সেই মহান মাকে। তিনি তাঁর অনাগত সন্তানদের ভেতর যুদ্ধাপরাধীদের নিশ্চিহ্ন করার বীজমন্ত্র রোপণ করে গিয়েছিলেন। বিপ্লবের মন্ত্র আজ মূর্ত হয়েছে। হায় রাষ্ট্রদ্রোহ! প্রকৃত রাষ্ট্রদ্রোহীদের বিচার যারা করবে, তারা প্রস্তুত হয়েছে। যে রাজনীতি আপসের, যে রাজনীতি ভয়ের, যে রাজনীতি বিভ্রান্তির, সেই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন রাজনীতির অভিষেক মঞ্চকে স্বাগত জানাই। এই জাগরণ আমাদের রাজনীতিবিদদের কাছেও এক বার্তা। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কিংবা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে যাঁরা ক্ষমতায় যেতে মতলব আঁটেন, এই জাগরণ তাঁদের কাছে বার্তা পাঠায়, ‘সাধু সাবধান’। সেই বার্তা যদি তাঁরা কান পেতে না শোনেন, তারুণ্যের এই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ তাঁদের বিরুদ্ধেও সমানই গর্জে উঠবে। কারণ, এই দেশের ভাবিকাল তাঁদের নির্দেশমতো চলবে, যেমন একদিন চলেছে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীনদের নির্দেশে। এবং আমি অবাক হয়ে দেখলাম, ইতিহাস পাল্টানোর এই শুভমুহূর্তে রাজনৈতিক ব্যানারহীন নতুন রাজনীতির দেশকে অভিশাপমুক্ত করার ডাকটি জানাল ঠিক ঠিক মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের চেতনাকে ধারণ করেই। এর ভাষা নতুন, এর প্রতিজ্ঞা নির্ভীক এবং সেই আগুনের নির্মিত যে আগুন আমরা বুকের মধ্যে বহন করে এসেছি বহুকাল।

    আর যাঁরা এই অসাধ্যটি সাধন করলেন আজ তাঁদের উদ্দেশে বলি, যাঁরা আপনারা হিমালয়কে জয় করেছেন, সেখানে উড়িয়েছেন বাংলাদেশের পতাকা প্রবল শীত-বিপদ-বাধাকে অগ্রাহ্য করে, যাঁরা এশিয়া কাপের ফাইনালে দেশ হেরে যাওয়ায় শিশুর মতো কেঁদেছেন—খেলোয়াড় হয়ে, খেলার দর্শক হয়ে, আপনারা যাঁরা পাটের জিনোম সিকুয়েন্স আবিষ্কার করেছেন, সারা পৃথিবীকে আপনারা বলে দিয়েছেন—আপনারাই বাংলাদেশ। আপনারা এগোচ্ছেন, এক চমৎকার গতিতে এই দেশ নিয়ে আপনারাই এগিয়ে চলেছেন। আপনাদের বানানো চলচ্চিত্র বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে নতুনভাবে পরিচয় করাবে। আপনাদের গবেষণা নোবেল বিজয়ী করবে আমাদের। জেনারেশনের ইন্টারনেট আপনাদের দরজায়। আপনারা চাইলেই ফেসবুকের আন্দোলন শাহবাগে নিয়ে যেতে পারেন, ছড়িয়ে দিতে পারেন সারা দেশে, সারা পৃথিবীতে। আপনাদের প্রতিবাদে নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি। আপনাদের কথা শুনতে বাধ্য হয় এ দেশের মানুষ। এটা আপনাদের দেশ। এটা আমাদের দেশ। এটা মানুষের দেশ। এটা কোনোভাবেই রাজাকার, আলবদর, আলশামস, যুদ্ধাপরাধীর দেশ নয়। আপনাদের আন্দোলন আজ সারা দেশকে বুঝিয়ে দিয়েছে, এ দেশে রাজাকার বুড়ো হবে, এ দেশে আলবদর বুড়ো হবে, বুড়ো হবে যুদ্ধাপরাধী। বুড়ো হবে দুর্নীতি। বুড়ো হবে স্বার্থান্বেষী রাজনীতি। এই দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে যে আজ আপনারা উঠে দাঁড়ালেন, সোচ্চার হলেন, আপনাদের কাছেই সত্যিকার সূর্যোদয়ের দাবি জানিয়ে রাখছি। এ দেশে মুক্তিযুদ্ধকে কখনোই বুড়ো হতে দেবেন না। আপনাদের ডাকে শারীরিক বয়স বেড়েছে যে মুক্তিযোদ্ধার, তিনিও স্লোগানে, গানে, নাচে, মুষ্টিবদ্ধ হাতে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা-তারুণ্য প্রকাশ করে যাচ্ছেন শাহবাগ চত্বরে। আপনারা জেগে থাকলে, এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ কখনোই বুড়ো হবে না।
    মানুষের বাংলাদেশ জাগছে। ‘আমাকেও সাথে নিও, ও ভাই, ও বোন! হে বন্ধু!’
    জয় বাংলা।

    ড. কাবেরী গায়েন: শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • কুলদা রায় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৫:১২583695
  • শাহবাগ আন্দোলনের এক নেত্রী লাকী আখতারের বক্তব্য
    Voices From Sahabag Square - Lucky একটার
    http://www.facebook.com/photo.php?v=10151425906188934
  • aranya | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৬:২৬583706
  • 'এটা আমাদের দেশ। এটা মানুষের দেশ। এটা কোনোভাবেই রাজাকার, আলবদর, আলশামস, যুদ্ধাপরাধীর দেশ নয়। ' - সত্যিই যেন তাই হয়।
    এই আন্দোলন থেকে এক নতুন বাংলাদেশ জন্ম নিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যার ভিত্তি।
  • কল্লোল | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৮:১৪583717
  • যুদ্ধপরাধীদের বিচার হোক। শাস্তি হোক যুদ্ধপরাধীদের। বাংলাদেশে গড়ে উঠুক ভয় মুক্ত, দলতন্ত্রমুক্ত, স্বাধীন গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ।
  • বিপ্লব রহমান | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৮:৩২583728
  • শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন ও তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি প্রসঙ্গ
    লিখেছেন: নিরন চাকমা
    ____________________________________
    ["আন্দোলনের সূচনাকাল থেকে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে শাহবাগ এলাকা। তার মধ্যে একটি শ্লোগান বার বার ধ্বনিত হয়ে উঠেছে ‘তুমি কে, আমি কে, বাঙালি বাঙালি। এই শ্লোগানটি স্বভাবতই পাহাড়ি তরুণ প্রজন্মকে আন্দোলনে অংশগ্রহণে অনুৎসাহিত করছে।"]

    http://unmochon.net/node/2086#comment-23117
  • বিপ্লব রহমান | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৮:৩৬583739
  • টানা পাঁচদিন ধরে প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন-সংগ্রামের ওপর নানা তথ্য প্রতিবেদন লিখে চলেছি।
    প্রখর রোদ, লাখো জনতার ঢল, মাইক, শ্লোগান, ড্রাম-ঢোলের তুমুল শব্দ-কোলাহলের ভেতর মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করা খুব পরিশ্রমের।

    খুব কাছ থেকে শাহবাগের ঘটনা প্রবাহ ও এর দিক-দর্শন বুঝতে চেষ্টা করছি।

    ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত ফেবু/টুইটার/ব্লগ/গুরুতে আসতে পারছি না।

    সদ্য প্রকাশিত চণ্ডালের একটি প্রতিবেদন:

    ‘১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আর অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা আমি ঢেলে দিই স্লোগানে। ‘৭১ থেকেই প্রেরণা পাই। ছাত্র-জনতাই আমার স্লোগানের শক্তি।’
    http://www.kalerkantho.com/index.php?view=details&type=gold&data=news&pub_no=1149&cat_id=1&menu_id=14&news_type_id=1&index=3#.URb1hx03tZg
  • CHANDAN SARKAR | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৯:০০583750
  • আমি ও এই আন্দোলনে সামিল হলাম guruchandali ও FACEBOOK এর মাধ্যমে( আমার FACEBOOK NAME_____ sarkar chaandaan)
  • কুলদা রায় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৯:৪২583761
  • শাহবাগে লক্ষ লক্ষ মানুষের এই দিনরাত্রির সমাবেশে নেই--
    পাকিস্তানী পন্থী--
    বিএনপি
    জাতীয় পার্টি
    মৌলবাদী দলগুলো
    এবং চিনাপন্থী বামেরা।
    বদরুদ্দিন উমর, পিয়াস করিম, ফরহাদ মজহার প্রমুখ চিনাপন্থীরা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কলম ধরেছেন। জামায়াতের পত্রিকায় এই সমাবেশকে ফ্যাসিবাদের সমাবেশ হিসেবে অভিহিত করছেন।
    এই সমাবেশের কোথাও নেই গ্রামীণ ব্যাংকের ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস।
    সবাই নেমেছেন একাত্তরের জয় বাংলা শ্লোগান নিয়ে। গাইছেন আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি' জাতীয় সঙ্গীতটি।
  • rivu | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৯:৪৯583599
  • এই আন্দোলনের লক্ষ্য কি? কিছু অপরাধীর মৃত্যুদন্ড সুনিশ্চিত করা? তাহলে আদালতের কাজ কি রইলো?
  • কুলদা রায় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১১:০৭583610
  • এই আন্দোলনের লক্ষ্য হল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করা। মৌলবাদী-জঙ্গীবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে হটিয়ে দেওয়া।
  • প্পন | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১৩:২১583621
  • এই আন্দোলনকে সার্থক বলে মনে করব একমাত্র তখনই যখন বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা reinstated হবে।
  • কল্লোল | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১৬:১৩583632
  • গণতান্ত্রিক চেতনার জয় হোক।
    ধর্মনিরপেক্ষতার জয় হোক।
    সমস্ত জাতিসত্তার অধিকার নিশ্চিত হোক।
    যুদ্ধপরাধীরা কঠোর শাস্তি পাক।
  • PM | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১৭:০৮583643
  • কল্লোল-দার "কঠোর শাস্তির মধ্যে কি মৃত্যুদন্ড-ও পরে। আপনি তো মৃত্যুদন্ডের বিরোধী বলেই জানতাম
  • কল্লোল | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১৭:২৬583654
  • আমার কঠোর শাস্তির মধ্যে মৃত্যুদন্ড পড়লে তাইই চাইতাম।
    কিন্তু আমার কঠোর শাস্তি অন্য রকম।
    বন্দী থাকুক এরা সারাজীবন।
    এদের রোজ নিয়ম করে গান শেখানো হোক। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। তার সাথে আরও মুক্তিযুদ্ধের গান। রোজ এদের গাইতে বলা হোক সেসব। এদের দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা নাটক করানো হোক। সেগুলো নিয়মিত জেলের অন্য বাসিন্দাদের সামনে অভিনয় করুক এরা। মাসে একবার এদের সামনে এদের কীর্তির কথা বয়ান করা হোক। এরা যেহেতু সকলেই ধর্ম বিশ্বাসে মুসলমান, তাই একজন ইসলামে সুপন্ডিত কাউকে দিয়ে এদের বোঝানো হোক এরা যা করেছে তার অনুমোদন ইসলামে নেই।
    কিন্তু এসব কারুর পছন্দ হবে না।
    তাই।
    সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদন্ড।
  • PT | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১৯:৩১583665
  • for a change-এই শাস্তিবিধানের প্রসঙ্গে কল্লোলদার সঙ্গে আমি সম্পুর্ণ একমত। ঐ গানের তালিকায় যেন-"মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম"-ও থাকে।
  • bb | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১৯:৪১583676
  • কল্লোলদা কে ক। তবে এই ট্রায়াল বাই মাস নিয়ে ভয় লাগে।
    বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ করার দাবী সম্বন্ধে কোন দাবী নেই দেখে অবাক হলাম।
  • চান্দু মিঞাঁ | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ২১:২৯583682
  • খালি ধর্ম নিরপেক্ষ হলেই কী হাতি ঘোড়া হবে বলতে পারেন? ওটিই কি আজকের শ্রেণীবিভাজনের প্রধান রাস্তা? আজকের বাস্তব ৭১ থেকে আলাদা তাই অর্থনীতি বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কি বেশি কাল চলবে?
  • কুলদা রায় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ২২:৪৩583683
  • চান্দু মিয়া--
    আমরা বাংলা পরীক্ষার দিন বাংলা পরীক্ষা দেই। ইংরেজী দেই না। ইতিহাসের দিন ইতিহাস দেই--অংক দেই না।
    ১) ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে কী হাতি ঘোড়া হচ্ছে--সেটা বলুন?
    ২) শ্রেণী বিভাজনের প্রধান রাস্তাটি কী সেইটা কন--তারপর উত্তর দেব।
    ৩) একাত্তরের বাস্তব আর ২০১৩এর বাস্তব জিনিস্টা বলতে কী বোঝাচ্ছেন?
  • কুলদা রায় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ২২:৪৫583685
  • আজকের শাহাবাগ আপডেট--
    ফেব্রুয়ারী ১০, ২০১৩
    -----------------------
    মাথায় বাঁধা জাতীয় পতাকা। গালে আল্পনায় আঁকা 'ফাঁসি চাই'। পরনের টি-শার্টে রয়েছে বাংলা বর্ণমালা কিংবা জাতীয় মানচিত্র। হাতে ক্ষুদ্রাকৃতির জাতীয় পতাকা। কণ্ঠে স্লোগান-'ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই।'

    যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে জেগে ওঠা রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে গতকাল রবিবার জমায়েত তরুণ-কিশোর-শিশুদের বাহ্যিক অবয়ব ছিল এমনটাই। টানা ষষ্ঠ দিনের আন্দোলনে এসে তারুণ্যদীপ্ত স্লোগান যেন পেয়েছে আরো জোর। সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তরুণদের আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। স্পিকারের কাছে দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্মারকলিপিও পেশ করেছেন তারা। মশাল মিছিল, পতাকা মিছিল, স্লোগান, নাটিকা মঞ্চস্থ, ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন, কবিতা, স্মারকলিপি পেশ, প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ তৈরি, গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, গান, গণসঙ্গীত, বাদ্যসহ নানা আয়োজনে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন তরুণরা। এ আন্দোলন সারাক্ষণ উজ্জীবিত রাখছে স্লোগান। হাজারো মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে-'ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই', 'ফাঁসি, ফাঁসি, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি' 'জয় বাংলা', তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'আমাদের ধমনিতে শহীদের রক্ত, এই রক্ত কোনোদিন পরাভব মানে না।' একাত্তরের মন্ত্রে উজ্জীবিত তারুণ্য যেন ভুলে গেছে ক্লান্তি।

    রাজধানীর শাহবাগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া 'গণজাগরণে' তারুণ্যের প্রতিবাদী কণ্ঠের সাথে সুর মিলিয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। প্রজন্ম চত্বরে তরুণদের সাথে যোগ দিয়েছেন চার বছরের শিশু থেকে আশি বছরের বয়স্ক নাগরিক। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, রিকশা চালক, দিনমজুর, দোকানদার, হকার, সব শ্রেণীর মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে শাহবাগ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবাই নিজেদের উজ্জীবিত করে নিলেন আরো একবার। 'তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধকে' স্যালুট জানালেন একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা।

    গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও রোদ ছিল বেশ চড়া। দুপুরের রোদ উপেক্ষা করে গণজাগরণ মঞ্চে সমবেত হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। মূল মঞ্চের স্লোগানের সাথে তাল মিলিয়ে স্লোগান দিলেন অনেকে। আবার পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সারাদিনই সমবেত স্লোগান তুললেন কেউ কেউ। সড়কে প্রতিবাদী ব্যঙ্গচিত্র আঁকলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বাদ্য বাজিয়ে ও স্লোগানে মুখর করলো শাহবাগ চত্বর।

    স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি
    ------------------------------
    শাহবাগে চলমান আন্দোলনে তরুণরা গত ছয় দিন সম্মিলিতভাবে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছেন। গতকাল বিকালে তারা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিসহ ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদকে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

    ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট'র আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার স্বাক্ষরিত ঐ স্মারকলিপিতে কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা, জামায়াতের আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করা, জামায়াতের মালিকানাধীন গণমাধ্যম নিষিদ্ধ, ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা রহিত করা, জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, যেসব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, শক্তি ও প্রতিষ্ঠান যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা, ১৯৭৫'র পর সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন যে সমস্ত যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আলবদরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদের পুনরায় গ্রেফতার এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানানো হয়।

    আন্দোলনরতদের পক্ষে গতকাল বিকালে সংসদে স্পিকারের অফিসে স্মারকলিপি জমা দেন পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ঐ দলের নেতা ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, স্পিকার একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। এজন্য আমরা তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। দাবি বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছি।

    এ বিষয়ে স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ বলেন, স্মারকলিপিটি সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে পাঠানো হবে।

    রাতে স্মারকলিপির একটি অনুলিপি পাঠ করা হয় গণজাগরণ মঞ্চে।

    ক্রিকেট দলের সংহতিতে উজ্জীবিত
    ------------------------------
    বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশের 'তারুণ্যের আইডলে' পরিণত হয়েছে অনেক দিন আগেই। গতকাল বিসিবি'র সভাপতিসহ ক্রিকেট দলের সদস্যরা প্রজন্ম চত্বরে এসে সংহতি জানান। ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে আন্দোলনরত উপস্থিত জনতার মাঝে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে।

    দুপুর দেড়টার দিকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে গণজাগরণ মঞ্চে উপস্থিত হন প্রধান নির্বাচক আকরাম খান, পরিচালক জালাল ইউনুস, সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, পরিচালক মাহাবুবুল আনাম, ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, আজম নাসির, আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি, আফজালুর রহমান সিনহা, ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোহাম্মদ আশরাফুল, আবদুর রাজ্জাক, নাসির হোসেন, ইলিয়াস সানি, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা প্রমুখ।

    সমাবেশে স্লোগান তোলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, দেশের জন্য স্লোগান দিতে পেরে গর্বে আমার বুক ভরে গেছে। স্লোগানে এত সুখ আগে কখনো অনুভব করিনি। রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে যে গণআন্দোলন চলছে, তাতে সংহতি জানাতে এসেছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড় এর সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন। তবে বিপিএল চলার কারণে সবাই আসতে পারেনি।

    তিনি বলেন, রাজাকার মুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। এ তরুণদের চোখে আমি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পেয়েছি। তাই সংহতি জানিয়েছি।

    ক্রিকেটার আশরাফুল ইসলাম বলেন, খেলার কারণে আমরা আন্দোলনে অংশ নিতে পারিনি। তাদের এ আন্দোলনে আমাদের সমর্থন রয়েছে ও থাকবে। এটি অভূতপূর্ব এক আন্দোলন।

    দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে দুরন্ত রাজশাহী ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ও আন্দোলনরতদের সাথে সংহতি জানিয়েছেন। এর আগে শনিবার রাতে ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিসও আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়েছিলেন।

    পতাকা হাতে নতুন বাংলাদেশ
    ------------------------------
    গতকাল সন্ধ্যায় পতাকা ও মশাল হাতে মিছিল করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এ মিছিলে শরিক হন আন্দোলনে আসা নানা বয়সী মানুষ। মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকলেই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নানা সংগঠন ও ব্যক্তির উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্বলন করেও একই দাবি জানানো হয়।

    স্লোগানে ধ্বনিত মূলমন্ত্র

    শাহবাগের 'গণজাগরণের' শুরু থেকেই প্রতিবাদের প্রধান ভাষায় পরিণত হয়েছে স্লোগান। মূল মঞ্চের বাইরেও এখন খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়ে স্লোগান তুলছেন আন্দোলনরতরা। ক্লান্তিহীনভাবে তরুণরা স্লোগান দিচ্ছেন যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে। জনপ্রিয়তা পেয়েছে 'ক-তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার'; 'ক-তে কামারুজ্জামান, তুই রাজাকার তুই রাজাকার'; 'গ-তে গোলাম আযম, তুই রাজাকার তুই রাজাকার'; 'স-তে সাকা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার'; 'ম-তে মুজাহিদ, তুই রাজাকার তুই রাজাকার'; 'ন-তে নিজামী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার'; 'স-তে সাঈদী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার' স্লোগানটি।

    গতকাল সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত স্লোগান ছিল- 'তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা', ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই, 'একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার', 'আমাদের ধমনিতে শহীদের রক্ত, এই রক্ত কোনোদিন পরাভব মানে না।'

    উচ্চারিত হয়েছে, 'সামপ্রদায়িকতার আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও', 'জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো', 'পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা, পাকিস্তানেই ফিরে যা', 'বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াত-শিবিরের ঠাঁই নাই'; 'আমাদের সংগ্রাম চলছে, চলবে', 'আর কোনো দাবি নাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই', 'জামায়াতে ইসলাম, মেড ইন পাকিস্তান', 'এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন'।

    আজ টোকেন খাদ্য বিতরণ শুরু
    ------------------------------
    আন্দোলনের শুরু থেকেই আন্দোলরত তরুণরা নিজেরা চাঁদা উঠিয়ে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি উদ্যোগে আনা খাদ্যের মাধ্যমে খাবারের সংস্থান করছেন। এতে আজ থেকে যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা। অবস্থান কর্মসূচিতে আসা আন্দোলনরত জনতার জন্য স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করেছে সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন। আয়োজকরা জানান, আন্দোলনে আসা জনতাকে সহায়তার উদ্দেশ্যে এ টোকেন-খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাদুঘরের মূল ফটকের সামনে স্থাপিত টোকেন কাউন্টার থেকে ৫ বা ১০ টাকার বিনিময়ে টোকেন সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী অন্য কাউন্টার থেকে খাদ্য সংগ্রহ করা যাবে। এ জন্য সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। আর ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আসা খাদ্য সরসরি সমাবেশেই বিতরণ করা হবে।

    এছাড়া তথ্যকেন্দ্র তৈরি করেছে সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন। চিকিত্সা কেন্দ্র তৈরি করে চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছে ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট।

    কিছু সময়ে জন্য অবমুক্ত হলো এক পাশের সড়ক
    ------------------------------------------------
    শাহবাগ মোড়ে চলমান আন্দোলন শুরুর দিন থেকেই ঐ সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত ঐ এলাকা দিয়ে যান চলাচল করে। তবে দুপুরে সমাগম বেড়ে যাওয়ায় পৌনে ১২টার দিকে তা আবারো বন্ধ হয়ে যায়। শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট সড়কগুলেতে স্থায়ী যানজট তৈরি হয়েছে। তবে এ ভোগান্তিকে সাধারণ জনগণ 'বৃহত্তর স্বার্থে' মেনে নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

    'আয় রাজাকার আয়'
    ---------------------
    ফাঁসির দাবিতে উত্তাল শাহবাগে তৈরি করা হয়েছে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ। গতকাল রবিবার শাহবাগ মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি রূপক ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করেছেন আন্দোলনরতরা। চারুকলা অনুষদের সামনে একটি রূপক ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে তরুণরা স্লোগান দেন 'আয় রাজাকার আয়, ফাঁসি দেবো, আয়'। জাদুঘরের সামনে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় রাজাকারদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়। শাহবাগ সড়কে অন্য একটি মঞ্চে ফাঁসে ঝুলতে থাকে একটি ডামি।

    আগ্রহ বাড়ছে
    ---------------
    গণজাগরণে তরুণদের এবং জনতার আগ্রহ বাড়ছে। গতকাল সাপ্তাহিক কর্মদিবসের শুরুর দিনেও হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে শাহবাগে। সংহতি জানায় তরুণদের আন্দোলনের সাথে। শাহবাগে এসে আন্দোলনের সাথে সংহতি জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুপুরে তিনি শাহবাগে আসলে আন্দোলনরতরা তাকে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। সংহতি জানিয়েছেন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, লেখক আনিসুল হক, রোকেয়া প্রাচী, চলচ্চিত্র পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।

    সংহতি জানিয়ে আন্দোলনে শরিক হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, এআইইউবি ইউনিভার্সিটি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, তিতুমীর কলেজ, কুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। স্লোগানে, গানে, নানা আয়োজনে তারা মুখরিত রাখেন শাহবাগ চত্বর।

    মুক্তিযোদ্ধাদের 'নতুন যুদ্ধ'
    -------------------------
    শাহবাগে তরুণদের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন একাত্তরের রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারাও। তারা আন্দোলনরতদের নানাভাবে উত্সাহ দিচ্ছেন ও সহায়তা করছেন। স্লোগান তুলছেন তরুণ কণ্ঠের সাথে। এমনই একজন সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বীর প্রতীক। তিনি গতকাল বিকালে বললেন, এ আন্দোলন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নতুন জন্ম। ২০১৩ সালে ১৯৭১কে দেখছি। দেশ স্বাধীন করলেও চেতনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছি। এরা সেই চেতনা বাস্তবায়ন করবে।

    তিনি বলেন, রাজনীতিকরা আমাদের চেতনা বাস্তবায়ন করেনি। তরুণরা পারবে। তারা যেটি করছে, এটিও রাজনীতি। তবে দলীয় রাজনীতিতে তাদের জড়ানো চলবে না। দলীয় যুক্ততা যেন এ আন্দোলনে না থাকে। যতটুকু পারছি উত্সাহ ও সহায়তা জোগাচ্ছি। এটি আমাদের জন্য নতুন করে মুক্তিযুদ্ধ।
  • rivu | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৪:০২583686
  • কুলদা রায়ের শেষ পোস্ট এর প্রথম দুই প্যারা এবং 11:07 AM এর পোস্ট "এই আন্দোলনের লক্ষ্য হল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করা। মৌলবাদী-জঙ্গীবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে হটিয়ে দেওয়া" এর মধ্যে পার্থক্য আছে। আমি একটি সহজ জিনিস বুঝতে পারছিনা যেদেশে একটি বিচার ব্যবস্থা বিরাজমান, সেখানে একটি গণআন্দোলন " কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড" কিভাবে দাবি করতে পারে?

    কুলদা বাবু, ভুল বুঝবেননা, আমি আপনাদের আন্দোলনের ভাবাবেগকে সম্পূর্ণ রূপে সমর্থন করি, কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত এক অপরাধীর সাজা বাড়িয়ে দেওয়ার দাবির কি কোনো আইনি বৈধতা আছে? কি করে সরকার একজনকে ফাঁসি দিতে পারে, যখন আদালত তাকে কারাদন্ড দিয়েছে?
  • কুলদা রায় | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৪:৫৭583687
  • যুদ্ধাপরাধী আরো ১২ জনের রায় হবে। এরা প্রত্যেকেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।
    এই দাবীটা কোনো একজন হত্যাকারীর জন্য নয়। সবার জন্যই প্রযোজ্য।
  • চান্দু মিঁঞা | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৭:৩৬583688
  • কুলদা-দা শ্রেণী বিভাজনের সব থেকে মৌলিক রাস্তা হল ক্রয়্ক্ষমতা, তার ভিত্তিতেই বাজার মানুষকে ভাগ করে। ঐ সব ধর্ম টর্ম হলো গুলিয়ে দেবার রাস্তা। তা নতুন বাংলা দেশেও কি সে ভাবেই হবে শ্রেণী বিভাজন। না কি তার বাইরে যাওয়ার কোন চেষ্টাও হবে?

    এই হুজুগে বেশিকাল চলবেনা, তার পরে কি হয় সেটাই দেখার।
  • rabaahuta | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৭:৫০583689
  • ঋভুর প্রশ্নটা কিছুটা আমারও।
    কল্লোলদার বলা পথে 'সংশোধন' হলে তা আদর্শ হতো, কিন্তু তা হওয়ার নয়। জেলে গেলে এঁরা সেখানে অনেক খিদমতগার পাবেন ও নতুন বাহিনী বানাবেন, বড় সড় অপরাধীদের এরকমই বোধয় দস্তুর। তো, নিজেকে মৃত্যুদন্ড বিরোধী ভাবলেও, এইসব রাজাকার ইত্যাদিদের হত্যা করলে দুঃখ পাবোনা, নাজি হোমড়া চোমড়াদের প্যাকিং বাক্সে দাঁড় করিয়ে গাছে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়ার ছবি দেখে যেমন দুঃখ পাইনা।

    কিন্তু আদালতের রায় গণআন্দোলনে পাল্টানো যায় কি? আর পাল্টাতে পারলেও সেটা একটা দেশের জন্যে খুব ভালো উদাহরন কি হবে? আজ যে আন্দোলন হচ্ছে তার কারন আমার মতের সঙ্গে মেলে... কিন্তু আদালতের রায় পরিবর্তন- এটা ঠিক কিভাবে করতে চাইছি?
  • কল্লোল | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১০:৫২583690
  • চান্দু মিঞার ধর্মনিরপেক্ষতায় আপত্তি কিসের সেটা বুঝলাম না।
    ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রা না থাকাই তো ভালো। ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়, তা ব্যাক্তিগতই থাকুক।
    জানতে ইচ্ছে হয়। যে সব মানুষ যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসী চাইছেন তাদের রামু নিয়ে, ফুলবাড়ী নিয়ে, গারমেন্ট কারখানার আগুন লাগা নিয়ে অবস্থান কি।
    চান্দু মিঞা বা কুলদার জানা থাকলে লিখুন।
  • Blank | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১২:০৯583691
  • এদের জেলে দিয়ে কি হবে? সরকার পাল্টালেই তো এরা বাড়ি ফিরে যাবে।
  • কৃশানু | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১২:৩২583692
  • বাংলাদেশী জনগণ সেই দলকে ভোট জিতিয়ে সরকারে আনবে কেন, যারা এসেই এই যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেবে?
  • চান্দু মিঁঞা | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১৮:৪৮583693
  • কল্লোলদা আমার ধর্মনিরপেক্ষতায় কোন আপত্তি নাই, কিন্তু খালি ওতে কাজ বিশেষ এগোয় না। আমাদের দেশেই দেখুন। কোন বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কি আমরা সংখ্যালঘুদের দেখি? কোথাও দেখি? সংখ্যালঘুদের সংখ্যা কি স্বাধীনতার পর থেকে সব সময় বেশি বাড়েনি। এর পিছনে কি কোন থ্রেট পারসেপশন কাজ করে?
  • siki | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১৮:৫৩583694
  • কুলদাবাবুর চোখ দিয়ে দেখছি। সঙ্গে আছি। আলোচনা চলুক, আর আপডেটও।

    প্রার্থনা করি এমন দিন আসুক, যেদিন বাংলাদেশের পরিচয় হবে বিশ্বের একমাত্র বাংলাভাষী রাষ্ট্র হিসেবে, অন্যতম ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে নয়। ধর্মের নামে রাষ্ট্রের পরিচয় বড় লজ্জার। অন্য ধর্ম ছোট হয় তাতে।
  • siki | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ১৮:৫৫583696
  • চান্দু মিঞা পড়া করুন। অনেক বড় বড় পদে, অনেক বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই মুসলমান থাকেন আমাদের দেশে।

    সব প্রশ্নের উত্তর এক কথায় হয় না। আলোচনা চলুক।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন