হরিদাস পালআজ ৫ জুন ২০২৬। আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এই নিবন্ধটি প্রকাশ করা হলো।
হরিদাস পাল
হরিদাস পাল
হরিদাস পাললক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ২.২ কোটি মহিলাকে প্রতি মাসে ১,০০০-১,২০০ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর এই প্রকল্প বন্ধ করে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হচ্ছে যাতে মাসিক অনুদান বেড়ে দাঁড়াবে ৩,০০০ টাকা। এই লেখায় ১৯ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি, ১১ পাতার আবেদন ফর্ম এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের ফেসবুক বক্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে নতুন প্রকল্পের যোগ্যতার মানদণ্ড কতজন প্রকৃত সুবিধাভোগীকে বাদ দিতে পারে।
হরিদাস পালসরগমের সাতসুরের শেষ সুর নি কে নিয়েই সাতকাহনের অন্তিম পর্ব। মনখুলে মতামত জানান।
বুলবুলভাজাগুরুচণ্ডা৯র প্রকাশিত বাংলা গল্পের অডিও সিরিজ - স্বকন্ঠে।
হরিদাস পালসেই কমিউন গড়লেন কারা? মূলত হাউসমান শহর থেকে উচ্ছেদ করেছিলেন যাদের, যাদের পাড়া ভেঙে বুলেভার্ড হয়েছিল, যারা সেই উজ্জ্বল সিটি অফ লাইটসের রোশনাইয়ে-চাকচিক্যের কোনো অংশ পাননি। ১৮৪৮-এর স্মৃতি বেঁচে ছিলো তাদের মধ্যে, যেমন স্মৃতি রয়ে যায় ক্ষমতান্ধ আর ক্ষমতাহীনের মাঝে। সামাজিক প্রজাতন্ত্রের স্মৃতি অথবা স্বপ্ন যা দমন হয়েছিল, কিন্তু উবে যায় নি, হয়তো মাটি চাপা পড়েছিল বীজের মত। তার সাথে অনুঘটকের কাজ করলো হাউসমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। পারী কমিউনের মানুষ তাদের শহর ফিরে পেতে চেয়েছিলেন বই কী। ইতিহাস আমরা জানি - কমিউন মাত্র ৭২ দিন টিকেছিল। ভার্সাই থেকে আসা সরকারি বাহিনী রক্তে ডুবিয়ে কমিউনের শেষ প্রহর লিখলো। কিন্তু সেই ৭২ দিনে যা ঘটেছিল, সেই শ্রমিকদের স্বশাসন, নারীদের অংশগ্রহণ, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বনাম বিকেন্দ্রীভূত গণতন্ত্রের বিতর্ক - পরবর্তী দেড়শো বছরের বামপন্থী রাজনীতির ভাষা গড়ে দিয়েছে।
হরিদাস পালবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম ইংরেজি উপন্যাস পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এই পোস্ট। 'Rajmohan's Wife' বইটি পড়ার চমৎকার অনুভূতি এখানে বর্ণিত হয়েছে। বই: Rajmohan's Wife লেখক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মূল আলোচনা: ইংরেজি উপন্যাসে বঙ্কিমী রসবোধের চমৎকার বিশ্লেষণ
হরিদাস পালআর এই জন্যেই তিনি তৈরি ক'রে নিয়েছেন তাঁর নিজস্ব এক 'প্রতি-কবিতা,' 'অ্যান্টিপোয়েম'—কাব্যকবিতার সব কৌশলকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যা একান্তভাবেই নগ্ন, কৃশকায়, ও অসহায় আর নির্মমভাবে সৎ; এই প্রতি-কবিতার অব্যবহিত দাবি ও আঘাত আর আভান্তরীণ হিংস্রতা কেবল এক অসংবরণীয় দয়া ও মায়া দিয়েই শামাল দেয়া। এই বিশৃঙ্খলা ও দুর্বিপাকের মধ্যেও কী ক'রে লোক তথাকথিত সহজ স্বাভাবিক জীবনযাপন করে—এটাই তাঁর আঘাতের লক্ষ্য—অর্থাৎ তথাকথিত সভ্যতাই তাঁর দ্বারা অভিযুক্ত, দায়রায় সোপর্দ।
বুলবুলভাজাঝাড়বাগদায় ফিল্ড করার সময় আমরা ছিলাম মুকুটমণিপুর বাঁধ-এর কাছে। এই জায়গাটায় যতবার আসি, ততবারই নতুন করে ভালো লাগে, মন্দও লাগে। কংসাবতী নদীর ওপর তৈরি বিশাল জলাধারের নীলচে বিস্তার, দূরে মুকুটের মতো জেগে থাকা পরেশনাথ পাহাড়—সব মিলিয়ে যেন শান্ত সমুদ্রের ধারে এসে দাঁড়ানোর অনুভূতি হয়। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বাস্তবতা। গত শতকের পাঁচের দশকে জলাধার তৈরির সময় বিশাল বনভূমি, গ্রাম ও মানুষের বসতি জলের নীচে তলিয়ে গিয়েছিল।
হরিদাস পালএর মধ্যে তৃণমূলের দামাল ছেলেরা অর্ধেক ভালো হয়ে গেছে। অর্ধেক জেলে। বাকি যে অর্ধেক থাকে, তাদের কুনাল ঘোষ আকুল আবেদন জানিয়েছেন, এখন সমালোচনা না করতে। বুদ্ধিমান রাম-বামরা এত ঝক্কি নেন নি। শিরদাঁড়াযুক্ত বিখ্যাত ডাক্তার-আন্দোলনের নেতারা আগেই আটঘাট বেঁধে দুই নেতাকে পাঠাতে পেরেছেন বিধানসভায়। তাঁরাই এখন হইচই করে হকার-উচ্ছেদ করছেন।
হরিদাস পালআড্ডার মাঝে মাঝে কখনো কখনো, মান্না দে, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় বা শ্যামল মিত্র-র গানের দু-চার কলি গেয়ে উঠতেন দরাজ গলায়। বিশেষ করে শ্যামল মিত্র-র অনেক গল্প করতেন, কারণ শ্যামল মিত্র-র সঙ্গে ফাদারের ব্যাক্তিগত পরিচয় ছিল একসময়। অনেক মজার মজার স্মৃতি জড়িয়ে ছিল এই গায়কের সঙ্গে।
হরিদাস পাল
বুলবুলভাজাখেয়াল করি, নজরুলের কবিতা ও গানে দুর্গা আনন্দময়ী দেশমাতৃকা হয়ে যান। যুদ্ধ থেকে ফিরে ইংরেজ তাড়ানোর ইচ্ছে ওর মনে প্রবল। ওঁর আগুন ঝরানো সম্পাদকীয়ের চোটে একের পর এক পত্রিকা নিষিদ্ধ হচ্ছে। আর নামগুলো কী—লাঙল, ধূমকেতু, নবযুগ আরও অনেক।
হরিদাস পালসরগমের সাতসুরের ভাবনাকে মাথায় রেখে সাতটি গল্পের ডালি। আজ ষষ্ঠ সুর ধা
হরিদাস পালতিনি সোক্রাতিসের ছাত্র ছিলেন – সোক্রাতিসের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা ছিল; আর সোক্রাতিসকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল গণতন্ত্র। তাই, নিজের আদর্শ সাধারণতন্ত্রের রেখচিত্র হিসেবে তিনি যে স্পার্টাকে বেছে নিয়েছিলেন – এ খুব আশ্চর্যের নয়। নিজের (সংকীর্ণ না হলেও) অনুদার প্রস্তাবগুলোকে এমন মোড়ক দেওয়ার শৈল্পিক দক্ষতা তাঁর ছিল, যাতে ভবিষ্যত প্রজন্মদের চোখে ধুলো দেওয়া যায়, যাতে তারা ‘প্রজাতন্ত্র’ বইটির প্রস্তাবে আদতে ঠিক কী আছে না জেনেই—বইটিকে শ্রদ্ধা করতে পারে। প্লেটোকে বুঝি, না বুঝি, তাঁর প্রশংসা করতে হবে – এই-ই মোদ্দা কথা ছিল সর্বদা। মহান মানুষদের এইটেই ভবিতব্য, ঠিকই, কিন্তু আমার লক্ষ্য উলটো। আমি তাঁকে অবশ্যই বুঝতে চাই, কিন্তু আমার সমসাময়িক কোনো ইংরেজ বা মার্কিন সর্বগ্রাসীবাদ/একচ্ছত্রবাদের সমর্থকের জন্যে যতটুকু সম্ভ্রম বরাদ্দ রাখবো, প্লেটোর জন্যেও থাকবে মাত্র ততটুকুই
হরিদাস পালআশেপাশে ঘোরার ব্যপারে প্রয়োজনীয় খবরাখবর নিয়ে বাইরে বেরোতেই আলো আর হাওয়া দুভাইবোন হইহই করে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরল। হাওয়া বলে তুমি না চালাল যাবে, চল চল শীগগির। বললাম দাঁড়া বাপু এককাপ কফি না খেয়ে কোথাও যেতে পারবো না। গুগল বলেছে হোস্টেলের কাছেই রিভারসাইড ক্যাফে। ম্যাপ ধরে পৌঁছে দেখি নদীর ধারের ছাউনিটা বন্ধ।
হরিদাস পালকিঞ্চিৎ কথার মারপ্যাঁচ রয়ে গেল যেন - ভগবান বললেন, কাল বা মৃত্যু অমোঘ ও অনিবার্য। এই মৃত্যুকে কোন ভাবেই নিবারণ করা যায় না। একথা সত্যি। কিন্তু কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ নিবারণ করতে পারলে, যুদ্ধক্ষেত্রে এতগুলি মানুষের অকালমৃত্যু অনিবার্য নাও হতে পারত। অবশ্য একথাও সত্যি, পাণ্ডব এবং ভগবান কৃষ্ণের যথোচিত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, দুর্যোধনাদি কৌরবপক্ষকে যুদ্ধ থেকে নিরস্ত করা যায়নি। হয়তো দুর্যোধনের অন্যায্য অহংকারই ছিল কাল-নির্দিষ্ট - তাঁদের সকলের এবং অন্যান্যদেরও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
হরিদাস পালআমার শহরতলি বহুদূর এ প্রান্তর থেকে, গাছেদের হোলি নেই, ফাগ নিয়ে আসে না পলাশ। মেঘেরা হারায় পথ, আকাশে কার্ফু জারি হলে, একটু ছায়ার খোঁজে ফিরে গেছে শেষ মধুমাস।
হরিদাস পাল
হরিদাস পাল
হরিদাস পালরামিসা হত্যাকাণ্ডের পরে নানা জায়গা থেকে দেশে শরিয়া আইন চাওয়া শুরু হয়ে গেল! বেশ কয়েকজন হুজুর মতবাদ দিয়ে দিলেন শরিয়া চালু হলেই এগুলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। হুজুরদের সাথে সাথে ভণ্ড গুলো সব একই স্বরে হুক্কাহুয়া শুরু করে দিল। এক উৎকৃষ্ট ছাগল, যার নানান কিচ্ছা অনলাইন অফলাইনে সয়লাব হয়ে আছে, সেও শরিয়া আইন চায় দেশে! গোলাম মাওলা রনি তাকে নিয়ে মজা করে বলেছেন জেনা করলে শরিয়া আইন অনুযায়ী একশ বেতের বাড়ি দিতে হয়। যে ছাগল শরিয়া চাইছে তার কথা তিনি বলছেন যে তাকে এই অপরাধে বেত মারা শুরু করলে কেয়ামতের সময় হয়ে যাবে, ইসরাফিল ফেরেশতা এসে তাগদা দিবে ওর বেত মারা দ্রুত শেষ করার জন্য, বলবে তাড়াতাড়ি শেষ করেন, শিঙ্গায় ফু দিতে হব!
হরিদাস পালসরগমের সাতসুরের ভাবনাকে মাথায় রেখে সাতটি গল্পের ডালি। আজ পঞ্চম সুর পা।
বুলবুলভাজাহিন্দু না ওরা মুসলিম, ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন? – না-হিন্দু না-মুসলমান অথবা হিন্দুও মুসলমানও – যাঁর একমাত্র পরিচয় শুধু বাঙালিই – বাঙালি এবং কবি – সেই কাজি নজরুল ইসলাম সারা জীবন এই সম্প্রদায়গত বিভাগ মেনেই নিতে পারেননি। তবুও একদিকে পাকিস্তান তর্ক আর অন্যদিকে উনিশশো বিয়াল্লিশের সাত আর আটুই জুলাই কংগ্রেসের বোম্বাই অধিবেশনে গান্ধীর ভারত ছাড় প্রস্তাব গৃহীত হবার পর কলকাতায় দাঙ্গা লাগল পরের দিনই, নয়ই জুলাই।
বুলবুলভাজাবর্তমানের বিষাক্ত সাম্প্রদায়িক সময়ের দিকে তাকালে নজরুলের এই অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর সুরের ভুবনও বিস্ময়কর। শাস্ত্রীয় রাগ, কীর্তন, লোকসংগীত, মার্শাল রিদম, ইসলামী সুরধ্বনি—সবকিছু মিশিয়ে তিনি এমন এক সংগীতভাষা তৈরি করেছিলেন, যার আগে বাংলা সঙ্গীত জগৎ পায়নি। তাঁর গানের মধ্যে যেমন ভৈরবীর ধ্যান আছে, তেমনই আছে সৈনিকের পদশব্দ।
হরিদাস পাল
বুলবুলভাজাগুরুচণ্ডা৯র প্রকাশিত বাংলা গল্পের অডিও সিরিজ - গুরুচন্ডা৯র গল্প।
হরিদাস পাল
হরিদাস পালআরশোলারা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রাণী। তার প্রথম কারণ হল, ওরা দলবেঁধে থাকে এবং নোংরার মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু ওয়াশিং মেশিনে বিশ্বাস করেনা। যেন গায়ে ময়লা টয়লা লাগেনা, আস্ত পরমহংস।
হরিদাস পালসৌমেন অন্যমনস্কভাবে মাথা নাড়ে। মনে তীব্র অপরাধবোধের কাঁটা খচখচ করে। হে ঈশ্বর, এতো আগ্ৰহ নিয়ে যে সম্পূর্ণ অচেনা কাউকে এভাবে আহ্বান জানায় তার সম্পর্কে এমন কুভাবনা কেন এলো মনে?
বুলবুলভাজামিকেশের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়েছিলেন প্রয়াত নিখিল সরকার, শ্রী পান্থ নামে যিনি আপামর বাঙালির কাছে পরিচিত। দাদার বন্ধু শান্তিদার (ভৌমিক) সৌজন্যে ক্লাস টেনে পাঠরতা তাঁর ভাগ্নিকে পড়ানোর কাজটি জোটে। মায়ের সংসারে থাকি তখন। ধান বেচা, বাড়ি ভাড়ার টাকা থেকে হাত সাফাই করে বাজে খরচার টাকা জোগাড় করতাম; শান্তিদার কল্যাণে এই আমার প্রথম আইনি উপার্জন। নিখিল বাবু আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, তাঁর বাড়িওলা ছিলেন শৈলজা নন্দ মুখোপাধ্যায়, তাঁর সদানন্দ চেহারাটি আজও মনে ভাসে। এ বাড়িতে আগত অনেক সাহিত্যিক সাংবাদিকের সঙ্গে নিখিল বাবু আলাপ করিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে বইয়ের স্তূপ, তাঁর অধ্যয়ন ও মেধার কোন পরিসীমা ছিল না শুধু যে কোন বইয়ের রেফারেন্স দিতেন তাই নয়, বইয়ের গাদা থেকে পাতা খুলে দেখাতেন। মনে হয়েছে সত্যজিৎ রায় হয়তো তাঁরই আদলে সিধু জ্যাঠার রূপ দিয়েছেন।
হরিদাস পালএই ছকে জনতাকে সাবধান করে দেওয়া হয় – যে সংবাদমাধ্যম তাদের সমালোচনা করছে, তাদের সত্য ও তথ্যের প্রতি দায়বদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে, তারা সবাই ফেক নিউজ়, তাদের হয় মুছে দেওয়া, নয় নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বিচারব্যবস্থায় যেসব স্বাধীনচেতা বিচারক তাদের দায়ী করতে পারে, এ ছকের শুরুতেই তাদের সরিয়ে, কথা শুনবে বা স্বার্থ চরিতার্থ করবে – এমন অনুগতদের দিয়ে আদালত ভরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তারপর একে একে রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান—সিভিল সার্ভিস, পুলিশ, আয়কর বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ, সেনাবাহিনী—দখল করা বা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা তাদের লক্ষ্য হয়, যাতে এদের অস্ত্র বানিয়ে বিরোধীদের উপর প্রয়োগ করা যায়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রটিকে অধিকার করা যায় আর নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাদার সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, ছাত্র সংগঠন, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী পর্যন্ত সমস্ত স্তরকে নিজেদের তাঁবে রাখা যায়
হরিদাস পালসর্বত্র আশাভঙ্গের বেদনা ফুটে-ফুটে বেরোচ্ছে। তোমাকে সব দিয়ে ভালোবেসেছিলাম, এই কি তার প্রতিদান?
হরিদাস পালপরমশত্রুর শিশুপুত্রদেরও হত্যা করে, তাদের নির্বংশ করাটা ভারতের যুদ্ধনীতি ছিল না। কিন্তু পরবর্তীযুগে বিধর্মীদের সঙ্গে যুদ্ধকালে এই নীতির কারণে সনাতনী যোদ্ধাদের বারবার মাশুল গুনতে হয়েছে।
হরিদাস পালযা বোঝা যাচ্ছে, মুঘল সাম্রাজ্যের আরও একবার পতন হল। হুমায়ুন এখন কোটি কোটি টাকায় বাবরি মসজিদ বানিয়ে সুখে আছেন। জাহাঙ্গীর বনবাসে। শাজাহান অনেকদিন আগেই সন্দেশখালির তাজমহলচ্যুত। এবার ক্ষমতায় আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
বুলবুলভাজাতবে এ মুহূর্তে যাঁরা শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলনের কথা বলছেন — তাঁদের সিংহভাগই শ্রেণি সংগ্রামের প্রশ্নকে এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং এই অসময়ে 'কিছু করতেই হবে', এই উন্মাদনায় অল্পতেই আত্মহারা হয়ে পড়ছেন, অল্প কিছুকেই অনেক বড় কিছু ভাবছেন। অনেকেই অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের আন্দোলনকে শ্রমিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে দেখাতে চাইছেন।
বুলবুলভাজা১১ই জ্যৈষ্ঠ নজরুলজয়ন্তী। আগামী এক পক্ষকাল আমরা কাজি নজরুলকে নিয়ে লেখা প্রকাশ করতে চাই। চর্চা করতে চাই তাঁর সাহিত্য ও সঙ্গীতজীবনের। তেমনি জানতে চাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কথা, তাঁর ব্যক্তিজীবনের বিদ্রোহী চেতনার প্রকাশের কথা। আমরা তাঁর অসাম্প্রদায়িক আধ্যাত্মিক সাধনার আলোচনাও করতে চাই। আহ্বান রইল-আপনার লেখা মেল করে দিন [email protected]এ ১০ই জুনের মধ্যে।
হরিদাস পালপরীক্ষার ফলাফল এখন বিজ্ঞাপনের বস্তু। এই বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরেই উঠে আসে নানান ভাবনা। অবশ্য যাঁরা ভাবতে ভালোবাসেন তাঁদের কাছে ভাবনার বিষয় হয়ে ওঠে সামান্য একটা ঘটনা যা অনেকের কাছে আর তেমন জটিল বলে, চিন্তনীয় বলে মনেই হয়তো হয়না। টনি ক্লোর আমাদের নতুন চিন্তার খোরাক জুগিয়েছেন।
হরিদাস পালবঙ্গীয় সুধীজনেরা নিশ্চয়ই সকলেই অম্বিকেশ মহাপাত্রের নাম জানেন। সেই গ্রেপ্তারটি হয়েছিল, পূর্বতন সরকার আসার ১ বছর পরে। এবং রোদ্দুর রায়ের গ্রেপ্তার হয়েছিল শেষ পর্বে। দুটো নিয়েই প্রতিবাদ-হইচই হয়েছিল প্রচণ্ড, সংবাদমাধ্যম তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিল। ঠিকই করেছিল। তা বাদে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ১৫ বছরে কুরুচিকর মিম-মন্তব্যের জন্য কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে শুনিনি।
হরিদাস পালএর মধ্যে এসে যায় নতুন কেন্দ্রীয় সরকার। তারা ধীরে-সুস্থে পুরো মিডিয়াটাকেই কিনে ফেলে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হয় 'সংগ্রাম'। সেখানে ওই ওয়েস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি কোনো দুর্নীতি করেনা, হাজার-হাজার কোটি টাকা মেরে দেওয়া কোনো দুর্নীতি না। এটাকে বলে বাদ দেবার রাজনীতি। বরং পুরোটাই পেশ করা হয় কর্পোরেট স্টাইলে। শাইনিং মধ্যবিত্ত মার্কেট ইকনমির আনন্দে নাচতে শুরু করে।
হরিদাস পালশিক্ষা মানুষের জীবনবোধকে আলোকিত করে। একালে শিক্ষা নিয়ে সমাজ ভাবনার স্তরে খুব বড়ো রকমের পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষায় সফলতা বলতে এখন নম্বর পাওয়াকেই বোঝায়।আর এই নম্বরের পুঁজি সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক সকলেই। সবাই নিজের নিজের ভাবনার জায়গা থেকে এই তথাকথিত সাফল্যের মূল্যায়নে ব্যস্ত। আমরাও খোঁজার চেষ্টা করলাম।
হরিদাস পালএই সিরিজের আগের দুটি পর্ব ছিল শিবের গাজন। এই পর্ব থেকে থাকবে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা। এই পর্বের ভ্রমণের সময়কাল - ৬ ও ৭ই অক্টোবর - ২০১২ - শনিবার ও রবিবার
বুলবুলভাজাবন দেবতা আর দেবীর থান দেখা হল, এবারে গাইড বাবুর নেতৃত্বে পাহাড়ে চড়ার পালা। আমরা সরু লাইন করে একে একে সেই বন্ধুর জঙ্গলের পথে পা বাড়ালাম। শাল, সেগুন, মহুয়া গাছগুলো আমার আন্দাজে তিন সাড়ে তিন ফুট দূরত্বে রয়েছে। মানে চারা যখন লাগানো হয়েছিল তখন ছয় সাড়ে ছয় ফুট দূরে দূরে হয়তো পোঁতা হয়েছিল। এখন গাছ বড় হয়ে গুঁড়ির বেড়গুলো বেড়ে গেছে, তাই কাছে মনে হচ্ছে। আর লম্বা গাছের মাঝে নিজে থেকেই ঝোপ ঝাড় লতানে গাছ গজিয়ে উঠে বনটাকে বেশ গহন করে তুলেছে। আর একটা জিনিস নতুন দেখলাম...
হরিদাস পালসেদিন রবিবার। সন্ধ্যায় শোরুম বন্ধ। আকাশটা মুখ গোমড়া করে আছে। একটু একটু করে মেঘ জমছে। সন্ধ্যা নেমে আসার আগেই চারিদিক অন্ধকার করে এসেছে। বঙ্কুর ভালো লাগছে না ; ভাবল সিম্পির ঘরে গিয়ে এক কাপ চা খেয়ে আসে। ভর সন্ধ্যায় বঙ্কু এলো সিম্পির ঘরে। দুজনে চা নিয়ে বসল। ওরা গল্পে মশগুল হয়ে গেল। বাইরে টিপ টিপ বৃষ্টি। গল্প করতে করতে ওরা দেখল ঝির ঝির বৃষ্টি মুষল ধারায় পরিণত হল। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড ঝড়। সিম্পি বলল, “ বঙ্কুদা, এই অবস্থায় তুমি বাড়ি যেতে পারবে না। একটু বসে যাও। আমি খিচুড়ি বসিয়ে দিচ্ছি ; খেয়ে যাও। “ বাইরে ঝড়বৃষ্টি, গরম খিচুড়ি, সঙ্গে সিম্পি --- মুহূর্তের মধ্যে একটা মনোরম ছবি ফুটে উঠল বঙ্কুর চোখের উপর। বঙ্কু ‘না’ করল না।
হরিদাস পালসেকালে ভর্তৃহীনা নারীর প্রতিভাবান পুত্রদের সমাজবরেণ্য হতে কোন বাধা ছিল না, এখানে দেবর্ষি নারদের কথা শুনলাম, উপনিষদের ঋষি সত্যকামের কথা শুনেছি রবীন্দ্রনাথের কবিতায় - "জন্মেছিস ভর্তৃহীনা জবালার ক্রোড়ে"। নারদ অবশ্য এখানে তাঁর মায়ের নামটি প্রকাশ করলেন না - "বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের দাসী" বলেই মায়ের পরিচয় পর্বটি সেরে ফেললেন।
হরিদাস পালপৃথিবীর ঘনায়মান খাদ্য সংকট বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে এক প্রশ্ন চিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একদিকে বিশ্ব উষ্ণায়নের হাত ধরে নেমে এসেছে এক অনিশ্চিত জলবায়ু পরিবর্তন; অন্যদিকে হানাহানির রাজনীতি মানুষের জীবনে নূন্যতম খাদ্যের জোগানকে নিয়মিত অনিশ্চিত করে তুলেছে। আমরা কি দুনিয়াজোড়া এক খাদ্য সংকটের আভাস পাচ্ছি?
হরিদাস পাল
বুলবুলভাজাআর এই সব ঘটনার, এই সব ভাবনার চারপাশ জুড়ে ছেয়ে থাকে মন কেমন করা সেই সুগন্ধের ছায়া। সেই তিনি! যাঁর থাকা না থাকাতেই তৈরি হয় গল্পের আবহ, বিশেষ বিশেষ মোড়গুলি। বই এর সবচে উপরের যে মোটা পাতাটা থাকে- ‘প্রচ্ছদ’ বলে যেটাকে- তার উপর দেখি তুই নীল আকাশে পক্ষীরাজ ঘোড়া ছোটাচ্ছিস, হাতে তরোয়াল। দুপাশে লাল লাল বাড়িগুলো অবাক হয়ে দেখছে তোকে আর নিচে মানুষজন কেউ উপরের দিকে তাকিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে, তো কেউ আবার হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।
হরিদাস পাল
বুলবুলভাজারাজনীতি এক বিরাট প্রাঙ্গন। সেখানে খেলা অনেকরকম, তাদের নিয়মও রকমারি। এখানে শুধুই আলোচনা হল, সে মাঠে কাদের খেলতে দেবেন না, বা কোনো দলটিকে কখনোই সমর্থন করবেন না – তা নিয়ে। এর পরের স্তরে আসে ‘কাকে সমর্থন করবো?‘ সেই প্রশ্ন। তার সঙ্গেই আসে – দেওয়ালে যাদের পিঠ ঠেকেছে, তারা কী গণের অংশ নয়?