এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই

  • তাজা বুলবুলভাজা...
    নজরুল ও তাঁর শ্যামা মা - অনুরাধা কুন্ডা | অলংকরণ: রমিত লীলা মজুমদারের অহি দিদির গল্পে আছে যখনই রান্না করতে বসতেন ন দশটা কচি কচি ছেলে মেয়ে তাকে এসে ঘিরে ধরে বসত। অহি দিদি নানা রকম খাবার করে তাদের খাওয়াতেন কিন্তু তারা কেউ কথা বলত না। গল্পের শেষে গিয়ে জানা গেল যে এই বাচ্চারা এখনকার বাচ্চা নয়। তারা ১০০ বছর আগের বাচ্চা যাদের এক দুষ্টু লোক জিভ কেটে দিয়েছিল খাওয়ার সময় তারা ভারী গন্ডগোল করতে বলে। লীলা মজুমদারের গল্প অথচ এই ভারী নিষ্ঠুর কাহিনীটি গল্পের মূল জায়গাতে রয়েছে। কেন জিভ কেটে দিয়েছিল তারা দুষ্টু বাচ্চা বলে না অন্য জাতের বাচ্চা বলে? লিলু পিসি সেসব কথা বলে যাননি কিন্তু আমরা এখন যে সময় বাস করি সেই সময় বসে এটা মনে হতেই পারে যে বাচ্চাগুলো বোধহয় অন্য জাতের ছিল। তাই তাদের কল কল করা জিভ, কেটে দিয়ে তাদের কচি মুখের সব কথা বন্ধ করে দিতে দুষ্টু লোকদের কোন অসুবিধা হয়নি। যে সময় আমরা বাস করি সেই সময় দলিত হবার অপরাধে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করা, উঁচু জাত আর নিচু জাতের কলহ জনিত সংঘাতে জেরবার সমাজ বড় দূষিত হয়ে আছে। আর তাই এই সময় দাঁড়িয়ে, "জাতের নামে বজ্জাতি সব" বলে ওঠা, সমস্বরে বলে ওঠা, চিৎকার করে বলে ওঠা দরকার। সেই চিৎকার, সেই দ্রোহ সেই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম যিনি লেটোর দলে নাম লিখিয়ে নাটক লিখেছিলেন, লিখতে শিখেছিলেন গান, যার ধর্ম ছিল প্রকৃত অর্থেই মানবিকতা। ইদানিংকালে ভাইরাল হয়ে যাওয়া ভিডিও গুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে ঘরে ঘরে ঢুকে কিছু মানুষ প্রশ্ন করছেন আপনার বাড়িতে তুলসী গাছ আছে? তাতে জল দেওয়া হয়নি নিয়মিত? আপনার বাড়িতে ঠাকুর ঘর আছে? আপনি পুজো করেন? তারা মানুষের ঘরের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছেন ঠাকুরঘর দেখবার জন্য এবং রীতিমতো শাসন করছেন যে দেবতার পূজা ভালোভাবে বাড়িতে হচ্ছে না। ২০২৬ সালে বসে আমাদের দেখতে হচ্ছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা বলছেন যে সনাতনপন্থী হয়ে তারা কোনরকম অনাচার সহ্য করবেন না এবং হিন্দুর সঙ্গে মুসলমানের বিবাহ তারা লাভ জিহাদ বলে ঘোষণা করছেন। যে দেশে কাজী নজরুল ইসলাম শ্যামা সংগীত লিখেছেন, লিখেছেন কৃষ্ণ ভজন আর লিখেছেন "বলো বীর বলো উন্নত মম শির", সেই দেশের বীর পুঙ্গবরা গৃহস্থ বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাত রক্ষার জন্য শাসানি-ধমকানি দিচ্ছেন। মৌলবাদ যখন সভ্যতাকে গিলে খাওয়ার জন্য অজগরের মতন হাঁ করে রয়েছে, তখন এ কথা মনে করা আবশ্যক কাজী নজরুল ইসলাম প্রায় ১০০ টি শ্যামাসঙ্গীত লিখেছিলেন। সেই সমস্ত শ্যামা সংগীত নিয়ে "রাঙা জবা" নামে একটি আলাদা গানের গ্রন্থ রয়েছে। অধুনা উগ্র মৌলবাদের পাল্লায় পড়লে তাঁকে হয়তো প্রবল হেনস্থা হতে হত জাতে মুসলমান হয়ে শ্যামা সংগীত লিখে ফেলার জন্য। নজরুলের শ্যামা সঙ্গীতে আশ্চর্য ভক্তিভাব। কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন, কথায় আর সুরে বাঙালির মন প্রাণ শীতল করেছে। কোন বাঙালি না "শ্যামা নামের লাগল আগুন "শুনে আপ্লুত হয়েছেন! অসাম্প্রদায়িকতার অপর নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পুত্র বুলবুলের মৃত্যুতে তিনি শোকাহত। কি করে শান্ত করবেন নিজেকে দিশা পাচ্ছেন না। আবেগ উথলে ওঠে, নজরুল দিশাহারা হন বারবার আর সেই শোক পারাবার পার হওয়ার জন্য আকুল হয়ে ওঠেন। সান্নিধ্যে এলেন বরদাচরণ মজুমদারের। যোগী বরদাচরণ মজুমদার নজরুলকে শাক্ত সাধনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। পুত্র শোকে ক্লান্ত নজরুলের মন কোথাও যেন একটি অবলম্বন খুঁজে পেল। ভয়ংকরী নয়, ধ্বংসকারিনী নয়, কাল রুপিনী নয়। কালিকা মূর্তির মধ্যে নজরুল খুঁজে পেলেন মাতৃমূর্তি। ঠিক যেমন রামপ্রসাদের গান। যেমন কমলাকান্তের শ্যামা সংগীত। দেবী সেখানে দেবী নন। তিনি জননী রুপা। মানুষ যখন মনের মধ্যে হাহাকার করে, তখন অবলম্বন হিসেবে সে বোধহয় মাকে খুঁজে বেড়ায়। বাঙালি হৃদয়ে মাতৃমুর্তির স্থান বড় অপরূপ। সে কখনো মা, কখনো মেয়ে। মা ডাকের মধ্যে লুকিয়ে থাকে কন্যা। কন্যাকে মা বলে ডেকে শান্ত হয় মন। বাঙালির এই চিরকালীন আকুতি কে যে নজরুল রাগ প্রধানের সুরে বেঁধে ফেললেন, তাকে হিন্দু বা মুসলমান বলে আখ্যা দিয়ে, তার মেধা মনন আর হৃদয়ের বিশালত্বের পরিমাপ করবে কে?বুলবুল অকালে মৃত। কবি লিখেছেন "শূন্য এ বুকে পাখি মোর ফিরে আয়।" কিন্তু তার শূন্যতা তাতে পূর্ণ হয়নি। পুত্র শোকে আকুল পিতৃ হৃদয় শান্ত হয়েছে শাক্তসাধনার খোঁজ পেয়ে। একইসঙ্গে ইসলামী গান লেখা এবং শাক্ত সাধনার গান লেখা, এ বড় কঠিন কাজ। দুর্লভ প্রতিভার অধিকারী কাজী নজরুল ইসলাম এই অসম্ভব কঠিন কাজ সম্ভব করেছিলেন দরদিয়া মননে। ইসলামী গান যখন লিখেছেন তখন "তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে" গানে যে আকুতি, সেই একই আকুতি ফুটে উঠেছে যখন এসে শ্যামা সঙ্গীতে লিখেছেন "স্থির হয়ে তুই বোস দেখি মা"। হিন্দু না "ওরা মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোন জন, কান্ডারী বল ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা'র"। এই অসম্ভব সাহসী উক্তি যাঁর কাব্য ভাষা, তিনি যে একাধারে ইসলামিক গান এবং হিন্দু ভক্তি গীতি রচনা করে সুর পিপাসু বাঙালির মন মাতিয়ে দেবেন তাতে সন্দেহ কিসের! কিন্তু শুধু মন মাতলে তো হবে না।মন শান্ত হবে কীসে। একদিকে স্ত্রী প্রমীলার অসুস্থতা, অন্যদিকে পুত্রশোক। কবি স্থিতধী হতে চাইছেন।তাই কী দেবী কালিকাকে মাতৃরূপে দেখেছেন? আর ঐ ব্যক্তিগত শোক উপশমের জায়গা থেকে উপনীত হয়েছেন মহাকালের কোলে মহাকালীর বন্দনায়? শোকে,প্রবল সন্তাপে মানুষ মাতৃক্রোড় খোঁজে।একমাত্র মা পারেন শোকের ক্ষতে স্নেহের মলমটি লাগাতে। নজরুল তাই কালীর শক্তিময়ী রূপ আর স্নেহময়ী মাতৃরূপকে আরাধনা করেছেন অনির্বচনীয় আকুতিতে...শ্যামা নামের লাগল আগুন আমার দেহ ধূপকাঠিতে,যতো জ্বালাই সুবাস ততো,ছড়িয়ে পড়ে চারিভিতে..। ব্যক্তিজীবনের শোকে যে দেহ, মন পুড়ছে,তাকে তিনি সমর্পণ করেছেন মায়ের পায়ে। আগুনে পুড়ে শুদ্ধ হচ্ছে দেহ মন...ভক্তি আমার ধূমের মতো,উর্দ্ধে উঠে অবিরত..এই আকুতি তো একেবারে ঘরোয়া গৃহস্থ আজন্ম স্নেহের কাঙাল বাঙালি হৃদয়ের আর্তি। রবি ঠাকুর বলেছেন..আমার এ ধূপ না জ্বালালে,গন্ধ কিছুই নাহি ঢালে।তাঁর নিঠুরকে সাধারণ মানুষ ততোটা বোঝে না,যতোটা বোঝে নজরুলের কালিকাকে। অ্যাবস্ট্র্যাক্ট নয়। কনক্রিট। মানুষ মূর্তি বোঝে। রবীন্দ্রনাথের নিঠুর তাই অনেকটা দূরের। মা বড় কাছের। তাঁর আরাধনায় অন্তরলোক স্নিগ্ধ, শান্ত হয়, আর পুত্রশোকাহত পিতা অপেক্ষা করেন, কবে তাঁর দেহ ভস্ম হবে..সেই ভস্মে আঁকা হবে মায়ের কপালের তিলক। নিজেকে নিবেদন করার এই আকুলতা, এমন ভক্তি, নিজেকে নিঃশেষ করা নিবেদন, এমন শ্যামা সংগীত কজন লিখতে পেরেছেন? ২০২৬ সালে এসেও আমরা হিন্দু মুসলমানের উর্ধ্বে উঠতে পারলাম না। এখনো আমাদের আলোচ্য বিষয় ওরা হিন্দু না, ওরা মুসলমান? তবে নজরুল কেমন করে লিখলেন এমন গান? কোন অপার সাধনায়, গভীর মেধায় এবং অনন্য ভক্তিতে লিখলেন "মহাকালের কোলে বসে গৌরী হল মহাকালী।"বিশেষ করে এই গানটিতে কালীর যে রূপ নজরুল বর্ণনা করেছেন সেটি আমাদের বিস্মিত করে। দেবী কালিকাকে মূর্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করে এই সৌরজগতের এক প্রকাণ্ড অংশ হিসেবে ভাবা, কল্পনার কি বিস্ময়কর প্রকাশ। "তবু মায়ের রূপ কি হারায়, সে যে ছড়িয়ে আছে চন্দ্র তারায় মায়ের রূপের আরতি হয় নিত্য সূর্য প্রদীপ জ্বালি"।এই শ্যামা সংগীতটিতে কিন্তু নজরুল কংক্রিট থেকে একেবারে অ্যাবস্ট্রাক্ট এর দিকে চলে গেছেন এবং সেটিও চূড়ান্ত অ্যাবস্ট্র্যাক্ট। অপরিসীম ক্ষমতা বলে একজন কবি এই কল্পনা করতে পারেন। মহাকালীর যে কৃষ্ণবর্ণ রূপ সেটি তিনি প্রত্যক্ষ করছেন রাত্রির গভীর কালো আকাশের মধ্যে। চন্দ্র তারার গহনা পরা মাতৃ মূর্তি। মহাকাল এবং মহাকালী, উভয়কে এই সৌরজগতের অংশ হিসেবে কল্পনা করে, কালের এবং কালীর সম্পর্কের এক অপূর্ব ব্যাখ্যা দিয়েছেন কবি নজরুল ইসলাম। আবে সেই একই সঙ্গে বজায় রেখেছেন কালির ঘরোয়া অন্য একটি রূপ। "উমা হলো ভৈরবী হয় ভৈরবেরে বরণ করে" হেরি শিবের সিরে জাহন্নবীরে শ্মশানে মশানে ঘোরে।" দুর্গা হোমা এবং কালি যে একই মহাশক্তির বিভিন্ন রূপ তা এই ছোট্ট গানটির মধ্যে দিয়ে অপূর্ব ভাবে প্রকাশিত। অন্ন দিয়ে ত্রি জগতে অন্অনদা মোর বেড়ায় কেঁদে ভিক্ষু শিবের অনুরাগে ভিক্ষা মাগে রাজ দুলারি। একটি গানের মধ্যে মহাশক্তির এমন বিবিধ প্রকাশ আর কোন ভক্তিগীতিতে আছে? মুহূর্তে কালিকা হয়ে গেলেন ঘরের মেয়ে উমা, শিবের প্রেমে মাতোয়ারা উমা তিন ভুবনে অন্ন জুগিয়ে বেড়ান আর তার নিজের সংসারে কিনা অন্নেরর অভাব! অভাবে বাংলার দরিদ্র মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ মধ্যবিত্ত মানুষ এই অন্নাভাব বড় ভালো বোঝে। তাই যে দেবী কালিকাকে তারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে প্রত্যক্ষ করতে পারেনা, তাকে দেখে ফেলে ওই ছোট্ট উমার মধ্যে। শিবের ঘরনী হয়ে তার যে গৃহিনীপণা, নজরুলের গানে তার বিশ্বস্ত প্রকাশ। তাই মায়ের কাছে নালিশ জানাচ্ছেন সন্তান। "আমার যারা দেয় মা ব্যথা আমায় জারা আঘাত করে তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী"। কোথায় যেন কানে বাজে "সকলি তোমারি ইচ্ছা"। কিন্তু নজরুল নিজস্বভাবে স্পষ্ট। "আমার যারা ভালোবাসে বন্ধু বলে বক্ষে ধরে তোরই ইচ্ছা ইচ্ছাময়ী আমায় অপমান করে যে মাগো তোরই ইচ্ছা সে যে।" জীবনের বিভিন্ন ওঠা পড়া কি নজরুলকে এইভাবে ভাবতে শিখিয়েছিল?" আমায় যারা যায় মা ত্যেজে যারা আমার আসে ঘরে তোর ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী।" ভক্তি ভাবে পরিপূর্ণ, স্ফটিকের মত টলটলে স্বচ্ছ নিবেদন। ব্যথিত শোকাতুর সন্তান যেন নালিশ করছে মা-কে। একমাত্র মা-ই পারেন তার আহত, অপমানিত হৃদয়টিকে শান্ত করতে। একমাত্র বাঙালি ঘরেই দেবীকে মা এবং মেয়ে, এই দুইভাবে আরাধনা করা হয়। নজরুল তাই লিখতে পারেন "আমার ক্ষতি করতে পারে অন্য লোকের সাধ্য কিনা, দুঃখ যা পাই তোরই সে দান মাগো সবই তোর মহিমা।" এ গান যেন স্বগতোক্তি। সমস্ত দুঃখের স্থলনে এই গানের মধ্যে দিয়ে। সুরে, ভাবে, মননে, কোথাও এতোটুকু ঘাটতি নেই "তাই পায়ে কেহ দলে যবে, হেসে সয়ে যাই নীরবে।" সমর্পণের এই দর্শন সাধনার মূল কথা। তাই এই অপূর্ব ভাব সাধনার আরেক প্রকাশ আমরা দেখি "বলরে জবা বল, কোন সাধনায় পেলি শ্যামা মায়ের চরণ তল" গানে।কবি বলছেন, "মায়াতরুর বাঁধন টুটে মায়ের পায়ে পড়লি লুটে, মুক্তি পেলি উঠলি ফুটে আনন্দ বিহ্বল, তোর সাধনা আমায় শেখা জীবন হোক সফল।"এ যেন ইংরেজ কবি জন কিটসের negative capability আহরণ করার সাধনা।"কবে তোরই মতো রাঙবে রে মোর মলিন চিত্ত দল"সম্পূর্ণ নিজের সত্তা বিসর্জন দিয়ে, ফুলের মতো নির্বিকারত্ব প্রাপ্তি। মাতৃ সাধনার মূল মন্ত্র। এই ভক্তির কোন জাত নেই। যে ভক্তি নিয়ে তিনি দেবী কালিকাকে মহাবিশ্বের মহাকালী রূপে দেখেন সেই একই ভক্তি নিয়ে তিনি লেখেন "তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে, মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদ দোলে যেন উষার কোলে রাঙা রবি দোলে।"এই ভক্তি ভাবে কোনো কৃত্রিমতা নেই, কোন হিন্দু মুসলমান দ্বন্দ্ব নেই এবং জাত পাতের কোন প্রশ্নই নেই কারণ সন্তান আর মায়ের সম্পর্কের মধ্যে জাত আসেনা। এই সেই কাজী নজরুল যিনি লিখেছেন "বল বীর বল উন্নত মম শির", লিখেছেন "আমি বিদ্রোহী ভৃগু ভগবান বুকে এঁকে দিই পদচিহ্ন।" লিখেছেন "আমি টর্পেডো আমি ভীম ভাসমান মাইন।" সেই তিনি আবার পরম ভক্তি ভরে মায়ের সঙ্গে সন্তান সম্পর্ক স্থাপন করে জানিয়েছেন তাঁর সমস্ত সুখ,তাঁর বেদনা তাঁর অভিমান তার অপমান। গানের মধ্যে দেবীর সঙ্গে পূজারীর, মায়ের সঙ্গে সন্তানের যে বিভিন্ন রকম সম্পর্ক উঠে আসে তা কিন্তু বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য। কখনো মা, কখনো রাঙা জবার বায়না ধরে কাঁদা কালো মেয়ে...আবার সেই তারার মালা চুলে গাঁথা এলোকেশী কন্যা। মুহূর্তে রূপান্তর। ঘরোয়া ক্রন্দনরত মেয়েটি নিমেষে সৌরজগতের মহাশক্তির প্রকাশ হয়ে ওঠে...তার যুগল আঁখি সূর্য চাঁদ। অনুরাগের রাঙা জবা থাকুক তাঁর মনের বনে,কালো মেয়ের রাগ ভাঙাতে তিনি ফুলের খোঁজে ঘোরেন...রাঙা চরণ দেখতে পেয়ে তাঁর শান্তি। পুত্রশোক কী এইভাবে কিছুটা শান্ত হয়েছিল তাঁর?" আমার আর কোনো গুণ নেই মা তারা"। স্বীকারোক্তি অকপট। "হাত বাড়িয়ে মা তোর কোলে যাব না আর মা মা বলে...মা হয়ে তুই ঘুরে বেড়াস,আমায় ধূলায় ফেলে রেখে..তোর আর ছেলেমেয়ে অনেক আছে..আমার শুধু নাই যে কেহ।" মা বেটার সম্পর্কে অভিমান আর আদর মিশিয়ে দেন কবি। এই সম্পর্কের কোনো দেশ নেই, জাতি নেই, ধর্ম নেই, আবার বাঙালিয়ানায় মোড়া একটি মিষ্টত্ব আছে, দেবী থেকে সে মুহূর্তে হয়ে ওঠে তাঁর 'হাবা মেয়ে'।"কোনো অঙ্ক শেখাও নি তো, তোমার অঙ্ক বিনা তারা।" ভাগের অঙ্ক শেখেননি নজরুল। তাই তাঁর ভক্তি এতো শুদ্ধ। সুর এতো প্রাণবন্ত। জগতজুড়ানি শ্যামার কাছে এক মাতৃহারা,সন্তানহারা প্রাণ। মা ছেলেকে মারে ধরে, কিন্তু কাছছাড়া করে না। চিরমাতৃহারা সন্তান আশ্রয় খুঁজছে ছোট শিশুর সারল্য নিয়ে। শব্দ চয়নে কী বিস্তার। "জুড়ানো" শব্দটি একান্ত বাঙালি। তার থেকে ' জুড়ানি', একেবারে ' জগতজুড়ানি'। তাকে বিদেশী ভাষায় ব্যক্ত করা মুশকিল। নজরুলের আবেগ বড় শক্তিশালী, শবের মাঝে শিবজাগানো শ্মশানকালীতে তাঁর কাছে আনন্দের নন্দিনী। কল্পনার বিস্তারে বিস্মিত হতে হয়। মা'কে পাষাণী বলেছেন, মা যে লুকিয়ে বেড়ান লোকে লোকে। আর মা কে না পেয়ে তাঁর ব্যথা ভরা হৃদয় জবা হয়ে ফোটে। আবার সেই নেগেটিভ কেপেবিলিটি। সেই নিবেদন আর ভক্তি। লেটোর দলে গানবাঁধা নজরুল, বিপ্লবী, বিদ্রোহী, অশান্ত, আবেগমথিত নজরুলের এক অনন্যরূপ খুঁজে পাই তাঁর শ্যামাসংগীতের কথায়, ভাবে, সুরে। তিনি কতোবড় ভক্ত ছিলেন,তা প্রমাণ করার জন্যে নয়,শাক্তসাধনায় কত গভীর ছিল তাঁর জ্ঞান তাও প্রমাণ করার জন্যে নয়...জাত পাতের তফাৎ জলাঞ্জলি দিয়ে তাঁর যে অনাবিল মনখানি ছিল, সেই মনের স্পর্শ পাওয়ার জন্যে। এই তীব্র হানাহানির সঙ্কটকালে, সাম্প্রদায়িকতার বীভৎস আস্ফালনে,পেশীশক্তির আগ্রাসনের সময়ে, একবার অন্তত মনে করা, কাজি নজরুল ইসলাম গান বেঁধেছিলেন, শ্যামা মায়ের গান। তাঁর ইসলামের সঙ্গে ভক্তিগানের কোনো বিরোধ ছিল না, কোথাও রসবিচ্যুতি ঘটেনি, সুরধারায় এক ভক্তিবিপ্লব ঘটে গেছে।নজরুলের সেই প্রবল শক্তিশালী অথচ শিশুর মতো সরল মনটি আজ ভারতবর্ষে বড় দরকার। যে দেশে লাভ জিহাদের নামে মানব হত্যা হয়, দলিত জল খেতে গেলে তাকে পিটিয়ে মারা হয়, দলিত মানুষ জন্মদিনের কেক কাটলে তাকে তথাকথিত উঁচু জাতের লোক হত্যা করে আর লীলা মজুমদারের মতো লেখককে জিভ কাটা ছেলেমেয়েদের গল্প লিখতে হয়, সেই দেশে নজরুল জন্মেছিলেন, যে ভক্তিভাবে ইসলামিক সঙ্গীত লিখেছিলেন, সেই একই ভক্তিভাবে শ্যামাসঙ্গীত লিখেছিলেন…যে গান আজও মানুষকে জাতপাতের উর্ধে তুলে এক মহাজাগতিক বিশ্বাস আর শরণের সন্ধান দেয়। গান গাওয়া হয়, অনুধাবন হয় কী?
    গুরুচণ্ডা৯-র গল্পপাঠ - গুরুচণ্ডা৯ | ছবি: রমিত‘পিরোবতির নাকছাবি’ গল্পটি শক্তি দত্ত রায়ের ‘পিরোবতি ও মুড়ির টিন’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। ‘হাজবপুরের কেচ্ছা' লেখকের 'অতিনাটকীয়’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। আজকের গল্প এস এস অরুন্ধতীর লেখা 'পাপ হে '। গল্পটি লেখকের 'চাঁপা ফুলের গন্ধে’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। সুনাগরিক রঞ্জন দত্তর মৃত্যুর দিন - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়। গল্পটি লেখকের 'ছয়ে রিপু’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।আজকের গল্প জয়ন্তী অধিকারীর 'না হাঁচিলে যারে'। গল্পটি লেখিকার 'কুমুদির রোমহর্ষক গল্পসমূহ’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে সোহিনী সেনগুপ্ত।অমর মিত্রের লেখা 'কাশী মথুরা বৃন্দাবন '। গল্পটি 'আমার ভয় করছে’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।প্রতিভা সরকারের লেখা 'তালাও গ্রামের রূপকথা'। গল্পটি 'হে চিরসারথী’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে সোহিনী সেনগুপ্ত।দময়ন্তীর লেখা 'দুষ্কালের পদধ্বনি'। গল্পটি 'দুষ্কালের আখ্যানমালা’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।উপল মুখোপাধ্যায়ের লেখা 'তিলবাড়ি'। গল্পটি 'ম্যাকলাস্কিগঞ্জ’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।মহারাজ মিত্রবর্মণের রাজ্যবিজয়, ঘেঁটুফুল ও ব্রহ্মকমলের গল্প, লিখেছেন রমিত চট্টোপাধ্যায়, পাঠ করেছেন অমিতাভ চক্রবর্তী।শক্তি দত্তরায়ের লেখা '৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড' বই থেকে নেওয়া ক্ষীরের পুতুল। গল্পপাঠে কেকে।স্মৃতি ভদ্রর লেখা 'রসুই ঘরের রোয়াক (দ্বিতীয় খণ্ড)' বই থেকে গল্পপাঠে পায়েল চ্যাটার্জী।চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়ের ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস 'সীমানা' বই থেকে নেওয়া একটি পর্ব, নাম - দেশের কাজ। ২৫শে বৈশাখ পার হয়ে ১১ই জ্যৈষ্ঠ্যর এই বিশেষ সময়কালে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য, এই পর্বে ধরা হয়েছে সেই সময়ের দুই প্রধান ব্যক্তিত্ব নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের দেখা হওয়ার গল্প।গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।অ্যাবনর্ম্যাল - লিখেছেন কুন্তলা বন্দ্যোপাধ্যায়। গল্পপাঠ - সোহিনী সেনগুপ্ত।ফোটোগ্রাফ - ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক, গ্রাফিক শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।কেকে-র 'ছায়ার পাখি' বই থেকে নেওয়া গল্প - জিহ্ব; পাঠ - পায়েল। চিত্রশিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।শারদা মণ্ডলের 'পাকশালার গুরুচণ্ডালি' বই থেকে, পাঠ - পায়েল। চিত্রশিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাসজ্যোতিষ্ক দত্তর লেখা ‘সে ছিল একদিন আমাদের' বই থেকে 'ইস্কুলের গল্প'। পাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।মৃণাল শতপথীর লেখা ‘দিতি ও মহারানি' বই থেকে নেওয়া গল্প - পাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।
    আরশোলার ধর্নায় একদিন - শুভদীপ মণ্ডল | অলংকরণ: রমিত‘কোথা থেকে আসছেন?’ ‘নাম কী?’ ‘কী করা হয়?’হাসিমুখে, আলাপ জমানোর ভঙ্গিতেই একের পর এক প্রশ্নগুলো আসতে থাকলো, অবশ্যই হিন্দিতে। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জানালেন, এত লোকজনের জমায়েত হচ্ছে, নিরাপত্তার দায়িত্ব তো ওনাদের উপরেই – তাই একটু বাড়তি সতর্কতা। স্থান – দিল্লির যন্তরমন্তর-সংলগ্ন ককরোচ জনতা পার্টির ধর্না ও অনশন মঞ্চ, আর উপরোক্ত প্রশ্নকর্তা খাকি উর্দিধারী দিল্লি পুলিশ। ধর্নার জন্য নির্ধারিত জায়গাটি ডাইনে-বামে দেওয়াল আর সামনে-পিছনে পুলিশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা। পিঠের ব্যাগ স্ক্যান করিয়ে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্যে দিয়ে হেঁটে তারপর ভিতরে ঢোকা গেল। শুধু পুলিশ নয়, সঙ্গে প্যারা-মিলিটারি ফোর্স আর র‍্যাফ মিলিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ‘পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ’ পুরো চত্বর [১]। শুধু পাহারা দেওয়া নয়, দিল্লি পুলিশ-নিযুক্ত ফোটোগ্রাফাররা ক্যামেরা হাতে টহল দিচ্ছেন চারিদিকে। ছোটোখাটো সমস্ত ঘটনা, জটলা, কলেজপড়ুয়াদের আলাপচারিতা, গান-বাজনা এবং প্রতিবাদীদের সমর্থনে হাজির হওয়া প্রতিটি মানুষ দিল্লি পুলিশের ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন। বিশেষ করে, যে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবাদকারীদের জন্য জল, খাবার, ওষুধ এসব নিয়ে আসছেন – তাঁদের রীতিমতো মুখের সামনে ক্যামেরা ধরে জেরা করা হচ্ছে। এ-ও জানা গেল, কিছু স্বেচ্ছাসেবীর বাড়িতেও হানা দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে তাদের টাকার সোর্স জানতে। দুঃখের ব্যাপার এই, যে, এখনো অবধি জর্জ সোরোস, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ – কোনো লিঙ্কই খুঁজে পাওয়া যায়নি। জেরায় জানা গেছে, কিছু লোকজন নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করেই প্রতিবাদকারীদের টিকে থাকার রসদ জুগিয়ে যাচ্ছেন। এসব গালগল্প অবশ্য দিল্লি পুলিশ কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছে না। তদন্ত এবং নজরদারি চালু আছে চব্বিশ ঘণ্টা। আশা করা যায়, বলিউডের দেশপ্রেমী ডাইরেক্টররা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁদের হাত ধরে সত্য নিশ্চয়ই একদিন উন্মোচন হবে এবং সেদিন কোনো মাল্টিপ্লেক্সের বড় পর্দায় পপকর্ন খেতে খেতে দেশের জনসাধারণ জানবে – কীভাবে এইসব দেশদ্রোহী বেকার ছেলেমেয়েদের দল দেশের ভিতর থেকে দেশকে টুকরো টুকরো করার ষড়যন্ত্র করেছিল আর কীভাবে দিল্লি পুলিশের ধুরন্ধররা নিজেদের মগজাস্ত্র প্রয়োগ করে সেই রহস্য ভেদ করেছিলেন। [৭ - ৮] সে যাই হোক, আগামীর আচ্ছে দিনের স্বপ্ন সাইডে সরিয়ে রেখে আপাতত ডিসেম্বর মাসের রেকর্ড-ব্রেকিং AQI আর জুন-জুলাইয়ের হিটওয়েভের দিল্লিতে ফেরা যাক। জনপথ মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে মোটামুটি পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ। তাতেই ধর্না মঞ্চ অবধি পৌঁছানোর আগেই পুরো টি-শার্ট ঘামে জবজবে। এই আবহাওয়ায় ককরোচদের অবস্থানের সেদিন দশম দিন। পৌঁছে জানলাম – শুধু সোনম ওয়াংচুক নন, অনশনে আছেন দিল্লি, জওহরলাল নেহরু এবং এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত কিছু ছাত্রছাত্রী-সহ জনা পনেরো [৭]। প্রাথমিক দাবি – NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং আরও বৃহত্তরভাবে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা। সমবেত মানুষজনের কথায় আরও অনেক বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটলেও, মূল দাবী ওইটুকুই। এঁদের মধ্যে কয়েকজন সোনম ওয়াংচুক আসার আগে থেকেই অনশনে রত এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার বেশ খানিকটা অবনতি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। এর কোনো খবরই বাইরে বিশেষ বের হয়নি, তার কারণ – সামগ্রিকভাবে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনকে বয়কট করেছে। অবশ্য ধর্না চত্বরে ক্যামেরার অভাব নেই। কিছু ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া হাউস ছাড়াও অনেকেই নিজেদের ইউটিউব বা ইন্সটাগ্রাম ভিডিও বানাচ্ছেন এবং শেয়ার করছেন। বড়সড় ইনফ্লুয়েন্সাররা অবশ্য অনুপস্থিত। সে নিয়েও ক্ষোভ আছে বোঝা গেল। রাস্তার ধারে অস্থায়ী টেবিল পেতে জল আর খাবার-দাবারের জোগান দিচ্ছেন উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা থেকে আগত বিভিন্ন ধর্ম আর ভাষার মানুষজন [১০]। তার পাশেই চোখে পড়ল মেডিসিন কাউন্টার। জনৈক ডাক্তার নিজেই এসেছেন First-Aid Kit, ORS, Paracetamol-সহ বিভিন্ন ওষুধের পসার নিয়ে [৯]। এক বাম ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে খোলা হয়েছে অস্থায়ী লাইব্রেরি। অবস্থানরত মানুষজন বই নিচ্ছেন, পড়ছেন, আবার ফেরত দিয়ে যাচ্ছেন। এই লেখা যেদিন লিখছি, তার ৩-৪ দিন আগে হঠাৎ সেই লাইব্রেরি বন্ধ করতে উদ্যোগী হয় দিল্লি পুলিশ। এ নিয়ে ধস্তাধস্তি হয় এবং ছাত্রদের তরফ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে গালাগালি ও ধমকধামক করার অভিযোগ আসে [১১]। স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, লাইব্রেরি নিয়ে তাদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। অবশ্য অভিযোগ ঠিক কী আর কারা সেই অভিযোগ করেছেন – সে প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যায়নি। [৯ - ১১] সরাসরি বলপ্রয়োগ না করে, নিজেদের বিপুল সংখ্যায় উপস্থিতি, ক্যামেরার নজরদারি আর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আন্দোলোনকে কক্ষচ্যুত করার চেষ্টা চলছে প্রশাসনের তরফে। মাঝে মাঝে লাউডস্পিকারে ঘোষণা করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে – এই ধর্নার সময়সীমা প্রথমদিন বেলা পাঁচটাতেই শেষ হয়ে গেছে, তাই সবাই যেন স্ব-স্ব-গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন। এছাড়াও গত রবিবার (৫ই জুন) একসঙ্গে আরও পাঁচটি সংগঠনকে ওই একই জায়গায় অন্যান্য ইস্যুতে প্রতিবাদ জানানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়, খুব সম্ভবত একটা গোলমাল পাকানোর উদ্দেশ্য নিয়ে, যাতে একটা অজুহাত খাড়া করে অবশেষে ককরোচদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করা যায়। আমার ব্যক্তিগত ধারণা – সোনম ওয়াংচুক এসে পড়ায় পরিস্থিতি একটু জটিল হয়ে গেছে, নাহলে এত ছলাকলার আশ্রয় না নিয়ে, সরাসরি বলপ্রয়োগ করে এই আন্দোলন হয়তো আরও আগেই থামিয়ে দেওয়া হত। প্রশাসন মোটের উপর নিষ্ক্রিয় থাকলেও উনিজির ভক্তকূল কিন্ত বসে নেই। প্রথমদিন থেকেই টুকটাক চেষ্টা চলছে উপস্থিত আন্দোলোনকারীদের উত্যক্ত করে গোলমাল সৃষ্টি করার – সে ‘সাংবাদিক’ বা ‘আমজনতার প্রতিনিধি’ সেজে ট্যাঁড়া-ব্যাঁকা প্রশ্ন করেই হোক, বা ‘আন্দোলোনকারী’ সেজে ক্যামেরার সামনে সাজানো ইন্টারভিউ দেওয়ার নাম করে উত্তেজক কথাবার্তা বলে। সরাসরি গুন্ডামির ঘটনাও একটা দুটো ঘটেনি এমন নয়, তবে সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনাই। অভিজিৎ দিপকে বারবার আন্দোলোনকারীদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন – শত প্ররোচনাতেও এদের ফাঁদে পা না দিতে এবং এখনও অবধি তেমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। সমাজমাধ্যমে বিজেপির আইটি সেল আন্দোলনকে বদনাম করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে – সোনম ওয়াংচুক বোতল থেকে জল নয়, চিকেন স্যুপ পান করছেন [৮], আবার কখনও বলা হচ্ছে অনশনকারী ছাত্রছাত্রীরা নাকি টয়লেটে গিয়ে চেটেপুটে খাবার-দাবার খেয়ে আসছেন। কয়েকজনকে ক্যামেরা হাতে টয়লেটের আশেপাশে ঘুরঘুর করতেও দেখা গেছে। ধন্য তাদের অধ্যবসায়। স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলোনকারীদের ‘ভাইরাস’ এবং ‘আতঙ্কবাদীদের বি-টিম’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও উপাধি হিসাবে ‘দেশবিরোধী’, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ – এসব উপরি পাওনা তো আছেই। অবশ্য ভক্তকূল ছাড়া এসব বস্তাপচা হেটস্পিচ আর কেউ গিলছে বলে মনে হয় না। বরং সংহতির দৃশ্য চোখে পড়েছে অনেক বেশি। কৃষক নেতারা এসেছেন, মঞ্চের উপর উঠে সমর্থন জানিয়ে গেছেন। প্রবীণ স্বাধীনতাসংগ্রামী পণ্ডিত রামকিষণ এসেছেন। বয়স ১০১ বছর, ভারত ছাড়ো আন্দোলন থেকে শুরু করে আজীবন আপোষহীন সংগ্রাম করেছেন। জেল খেটেছেন স্বাধীনতার আগে এবং পরবর্তীকালে, এমারজেন্সির সময়। এই বয়সেও প্রতিবাদ-মঞ্চে এসে অনেকটা সময় কাটালেন। বক্তব্য রাখলেন, ধৈর্য্য ধরে আন্দোলোনকারীদের কথা শুনলেন, উৎসাহ দিলেন, উপস্থিত জনতার প্রশ্নের উত্তরও দিলেন। প্রশান্ত ভুষণ, যোগেন্দ্র যাদব, সঞ্জয় সিং, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, বৃন্দা কারাত – প্রমুখেরাও হাজিরা দিয়েছেন/দিচ্ছেন একে একে। এসেছেন অরুন্ধতী রয় ও আরও অন্যান্য সমাজকর্মীরা। সাধারণ মানুষজন আসছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে [৩]। তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অন্যায় এবং তার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে কীভাবে প্রশাসনিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন – সেইসব ঘটনা তুলে ধরছেন। তাঁদের কথায় উঠে আসছে কিছু কমন ফ্যাক্টর – বিজেপি-শাসিত রাজ্য, বিবিধ দুর্নীতি, আতঙ্কের পরিবেশ, আর পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা ক্ষেত্রবিশেষে অতি সক্রিয়তা। ক্ষমতাবানের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে ক্লান্ত হলেও, হাল ছাড়েননি তাঁরা। দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন এই ধর্না মঞ্চে, আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাতে। এগিয়ে আসছেন – NEET-কেলেঙ্কারি যেসব ছাত্রছাত্রীদের ঠেলে দিয়েছে আত্মহত্যার পথে, তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনেরা [১২]। যেটুকু সময় থাকছেন, স্বেচ্ছাসেবীরা আগলে রাখছেন এঁদের সবাইকে। কাঠফাটা রোদ, ধুলোর ঝড়, মুষলধারায় বৃষ্টি – সবকিছুই সহ্য করতে হয়েছে, হচ্ছে। অনশনরত ছাত্রছাত্রীদের অস্থায়ী ছাউনি কোনোভাবেই পর্যাপ্ত ছিল না। বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়ে গেছে তাদের সবকিছু। তেরপল নিয়ে আসতে বাধা দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। তার জন্যও নাকি অনুমতি আসতে হবে ‘উপর’ থেকে [২, ১৪]। প্রধান মঞ্চের উপর অভিজিৎ ও আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীদের দেখা গেল – একটা বড়সড় ব্যানার মাথার উপর ধরে সোনম ওয়াংচুককে প্রবল বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে। ম্যাগসেসে পুরষ্কারজয়ী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী... তাঁর মতো মানুষ যে কোনো দেশের সম্পদ। ভাবছিলাম, আমার দেশের সংখ্যাগুরু নাগরিকের সেই বোধটুকুও কী আছে? প্রশ্ন এখানে দায়বদ্ধতার। পদ যত উঁচু, সেই পদের দায়বদ্ধতাও তত বেশি। কারণ সেইসব পদাধিকারীর একটা ভুল অগুনতি মানুষের জীবন ছারখার করে দিতে পারে—যা এক্ষেত্রে হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর অযোগ্যতা, অক্ষমতা – যাই বলুন না কেন, তা ২০-২২টা ছেলেমেয়েকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে। অগুনতি ছেলেমেয়েকে হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছে। আর এটা তো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, গত কয়েকবছরে এতগুলো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে – এ যেন গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে আমাদের। চলতি বছরেই অভিযোগ এসেছে UPSC এবং NET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়েও। Hanlon’s razor বলে, “Never attribute to malice that which is adequately explained by stupidity”, আবার Grey’s law অনুযায়ী, “Any sufficiently advanced incompetence is indistinguishable from malice”. যা ঘটে গেছে, তা স্রেফ অযোগ্যতার নিদর্শন, বা ইচ্ছাকৃত অনিষ্টসাধনের চেষ্টা... যে সিদ্ধান্তেই আপনি উপনীত হন না কেন, ক্ষমা-ঘেন্না করে দেওয়ার সময় অতিক্রান্ত। আর এই বিপুল ক্ষতির সামনে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াকে ‘এমন কিছু বড় ঘটনা নয়’ প্রমাণ করতে বাজারে নেমেছেন। আশা করি তাঁদের বিবেক, মনুষ্যত্ব একদিন জাগবে। বছর বছর স্কুলে ছেলেমেয়েদের ঘাড় ধরে বসিয়ে যে প্রধানমন্ত্রীর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র বাণী গিলতে বাধ্য করা হয়, পরীক্ষা নিয়ে এত বড় একটা কেলেংকারির পরও তা নিয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। অথচ দ্বিতীয়বার NEET পরীক্ষা সফল’ভাবে পরিচালনা করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে দেরি হয়নি একটুও। সাফল্যের কৃতিত্বের ভাগ নিতে সদা তৎপর। আর ব্যর্থতা এলে দেশবাসীর জন্য বরাদ্দ হিরন্ময় নীরবতা। [৫, ৬] আশার কথা, কিছু দক্ষিণপন্থী সমর্থকও অবশেষে জেগে উঠছেন এবং অন্তত এই একটি বিষয়ে সরকারকে সমর্থন করছেন না [৪, ১৩]। যন্তর-মন্তরে লোকজনের ভিড় বাড়ছে, কমছে। এক একদিন তিল ধারণের জায়গা থাকছে না, আবার কোনওদিন মেরেকেটে ৫০-১০০ জন। তাতে অবশ্য ককরোচদের উৎসাহে ভাটা নেই। রোদ, বৃষ্টি, ধুলোর ঝড় উপেক্ষা করে ওরা রোজ স্লোগান দেয়, গান গায়, একে অন্যের মনোবল বাড়ায়, ক্লান্ত হয়ে রাস্তার ধারেই একটু ঘুমিয়ে নেয়, আবার নতুন উদ্যমে দিন শুরু করে। আমিও যাচ্ছি মাঝেসাঝে। স্লোগান দিতে বা অনশন করতে নয়, স্রেফ হাজিরা দিতে। গত বেশ কয়েকবছর ধরে দিল্লি থেকে সামান্য দূরে থাকি চাকরির সূত্রে। যাদের মাঝে ওঠাবসা, তাদের অনেকের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে অদ্ভুত উদাসীনতা বা নারকীয় উল্লাস দেখে প্রায়শই নিরাশায় ভুগি। এই কমবয়সী ছেলেমেয়েগুলোর দৃপ্ত চেহারা, মুষ্টিবদ্ধ হাত, প্রাণখোলা হাসি আর লড়াকু স্লোগানে আমার মনের অন্ধকার যেন একটু ফিকে হয়ে আসে। দিল্লির অসহ্য গরমও আর অতটা টের পাই না। দেখি – এদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মাঝবয়সীরাও আসছেন। অফিস-ফেরতা, পিঠে বা হাতে ব্যাগ আর চেহারায় একরাশ ক্লান্তি নিয়ে। এঁরা সেই শ্রেণীর মানুষ, যাঁদের অনেককিছু হারানোর ভয় – স্থায়ী চাকরি, তিলে তিলে গড়ে তোলা সংসার, মাসিক কিস্তিতে কেনা গাড়ি, ফ্ল্যাটবাড়ি... যাঁরা খুব অতিষ্ঠ না হলে সচরাচর নিজেদের সযত্নে লালিত গণ্ডিবদ্ধ জীবনের বাইরে পা রাখেন না। এই আন্দোলন যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এঁদের মতো আরও অনেকে আসবেন একটু একটু করে ভয় আর জড়তা কাটিয়ে। সেদিন মানুষের ভিড় যন্তর-মন্তর ছাড়িয়ে রাজপথে নেমে আসবে। আশা করবো – সেইদিন খুব দূরে যেন না হয়। সোনম ওয়াংচুক ইতিমধ্যেই প্রায় শয্যাশায়ী, তাঁর ওজন কমেছে ৭ কিলো। রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মান বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গেছে। অনশনরত এক ছাত্র আর এক ছাত্রীকে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে [৫, ৬]। সোনম, অভিজিৎ, নেহা, আশুতোষ, জুনেইদ, সৌরভ আর তাদের সঙ্গীসাথীরা যে লড়াইয়ে নেমেছেন – তা আমাদের সবার লড়াই। জয়লাভ হবে কিনা জানা নেই, কিন্তু ময়দানে থাকতে হবে – এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। চরৈবেতি। [১] Youths rally in large numbers; bang plates, spoons to demand accountability at CJP protest - The Hindu[২] 'People falling sick': CJP's Dipke claims Delhi Police denied tarpaulin at protest site despite rain - Hindustan Times[৩] Fresh political support pours in on 15th day of CJP protest; student hospitalised - The Hindu[৪] Spoke to the AISA student activists about their hunger strike being ignored by the government - @PeekTVOfficial[৭] 6 Days Without Food Or Support From Parents - @PeekTVOfficial[৮] ‘Even If I D!e…’: Wangchuk’s Reply To Critics - @PeekTVOfficial[১২] Father Who Lost His Son Due to Paper Leak - @PeekTVOfficial[১৩] 58% NDA Voters Chahte Hain Dharmendra Pradhan Istifa Dein? | C-Voter Survey Mein Bada Khulasa - @official_cockroachjantaparty[১৪] CJP founder Abhijeet Dipke confronts Delhi police for not allowing tarpaulins at protest amid rains - @thenewindianxpress
  • হরিদাস পালেরা...
    মধু বহ্নিময় না বহ্নি মধুময়: ধরতাই  - রানা সরকার | মধুময় আর চার পাঁচটা সাধারন ঘরের ছেলের মতোই বড় হয়েছে। সে ভালো সেতার বাজাতে পারে। গ্রাজুয়েশন পাস করে প্রথমে ভেবেছিল যে দল বেঁধে ব্যবসা করবে। তা এখন যেহেতু শ্যাম্পু, সাবান, ক্রিম দেদার বিক্রি হয়, তাই তারা পলতেদার নেতৃত্বে শুরু করল ক্যারিবিয়ান ক্রিম আর পলিগ্যামি সাবান তৈরী করে বিক্রি করা।  ক্যারিবিয়ান ক্রিমটির নাম দিল ডবল বিউটি ক্রিম।   কেসটা কিছুই নয়, গঙ্গামাটি তুলে এনে তৈরি করা হবে ক্যারিবিয়ান ক্রিম আর স্কুলের কর্মশিক্ষায় শেখা পদ্ধতিতে তৈরি হবে পলিগ্যামি সাবান। ঠিক হল, একটা বিশেষ পরিমাণ সাবান আর ক্রিম কিনলে ফ্রি হিসেবে দেওয়া হবে ছাতা!  কিন্তু সেসব বিক্রি করতে গিয়ে বিপত্তি হল। তারপর বাকি টাকা দিয়ে ঘি এর ব্যবসা শুরু করল ওরা। নাম দিল খাঁটি বাংলা ব্যাকরণ ঘি। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি হওয়াতে ওরা অনাদিবাবুর কাছে এসে সাজেশন চাইল। অনাদিবাবুর আড্ডাখানাটি ছিল একটি পাঁচমিশালী লোকের পাঁচখেয়ালি আড্ডাখানা। নিজের রিটায়ারমেন্টের পর অনাদিবাবু এই আড্ডাখানাটি তৈরি করেছিলেন।  সব শুনে অনাদিবাবু বললেন যে তাদের দ্বারা কিছুই হবে না। তাই তাদের বিয়ে করে ফেলাই সমীচীন।  এখন, মেয়েরা কত প্রকারের হয় সেই নিয়ে আড্ডাখানায় বিস্তর আলোচনা হল। এদিকে ব্যবসায় গণেশ উল্টে আর এইসব নানা প্রকারের মেয়েদের কথা শুনে মধুময় ভাবতে বসলো, তাহলে কি বহ্নির সঙ্গে তার প্রেম ও বিবাহ হবে না?  ওদিকে বহ্নির বাবা, চারুবাবু, আবার জিভেগজা পার্টির একজন দোর্দণ্ডপ্রতাপ জোনাল সেক্রেটারি। তার সঙ্গে আছে প্রায় কুড়ি বছরের পুরনো খাস চাকর সারদাপ্রসাদ। সারদাপ্রসাদ অবশ্য কানে কম শুনতে পায় আর এই নিয়েও বিপত্তি কিছু কম হয়নি।  কিন্তু মধুর প্রতি তার মেয়ের দুর্বলতার কথা জানবার পর চারুবাবু গোপনে মেয়েকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিলেন।  এমতাবস্থায়, আদৌ কি মধু বহ্নির খোঁজ পাবে? যদি পায়, কিভাবে পাবে? নাকি চারুবাবু অন্যত্র তার মেয়েকে বিয়ে দিতে সক্ষম হবেন? নাকি, অনাদি বাবুরা মিলে মধু আর বহ্নির চার হাত এক করতে সক্ষম হবে?  এটি একটি রোম্যান্টিক কমেডি ধর্মী উপন্যাসিকা। আর ঘটনাটি শুনেছিলাম একটি আড্ডাখানায়।      
    বহ্নি মধুময় অথবা মধু বহ্নিময়: (উপন্যাসিকা ঃ পর্ব ১)  - রানা সরকার | মুখবন্ধঃ এই উপন্যাসিকাটি আমি লিখেছিলাম ২০১০-১১ সালে। এখানে যে সময়টার কথা বলা হয়েছে সেটা ১৯৯৫-১৯৯৯/২০০০। দুটি বড় বাংলা কাগজের শারদ সংখ্যায় দিয়েছিলাম। তারা ছাপেন নি। বাড়ির নাম অনাদি-অনন্ত। তার সিঁড়ির নীচের একটা ঘরে অনাদিবাবুর বৈঠকখানা। বৈঠকখানাও বলা যায়, আবার ক্লাবও বলা যায়।তবে যে অর্থে আপনারা ক্লাব ভাবছেন এটা ঠিক সেইরকম কিছু নয়। চ্যাংড়া ছোকরার সংখ্যা এখানে নেহাতই কম। যে ক’জন আছেন তাদের বেশীরভাগ দেহে না হলেও মনে চ্যাংড়া।অনাদিবাবুর বউ বছর ছয় হল গত হয়েছেন। সন্তানাদি বলতে ঐ একটি ছেলে; আমেরিকায় থাকে। নাম অনন্ত। একটা বেসরকারি ঔষুধের কোম্পানীতে কাজ করতেন অনাদিবাবু। পুরোনো লোক। সৎ, কর্মঠ। কোম্পানী তাকে রিটায়ারের পরেও কাজ করতে বলেছিল।তাতে তিনি জবাব দিয়েছিলেন যে রিটায়ারের পর আর কিচ্ছু নয়। হয় সমুদ্রে ফ্রি-টায়ারের ওপর ভাসব আর হাসব অথবা রিটায়ারের পর রেলের থ্রি-টায়ারে চেপে ভারতবর্ষ ঘুরে আসব। কিন্তু আর কোনো কাজ নয়। যে ক’টা দিন বাঁচি নিজের মতো করে বাঁচব। তা অনাদিবাবু তার রিটায়ার্ড লাইফ কাটানোর জন্য এখানে ওখানে বেড়ানোর পাশাপাশি খুলে ফেললেন একটা ক্লাব। পাড়ার-বেপাড়ার বিভিন্ন ধরণের লোকের আছে নিত্য যাতায়াত। ছেলে ছোকরাও কিছু আসে। সাহিত্য-বিজ্ঞান-দর্শন, হালফিলের রাজনীতি, খেলাধুলা ইত্যাদির চলে ঘনঘোর আলোচনা। চলে তাস, দাবা, শব্দছক। মাঝেমধ্যে চাঁদা তুলে খাওয়া হয় দেদার। এ যেন পাঁচমিশালী লোকের পাঁচখেয়ালী আড্ডাখানা। এইরকমই এক আড্ডাধারীর নাম শ্রীমান মধুময় সরখেল। ছোটোবেলায় সে কথা খানিকটা দেরী করে বলেছে।সবাই বলে তার মাথাটা নাকি ভোঁতা।বন্ধু-বান্ধবের কথা শুনে, তার একটা সারসংক্ষেপ করে নিজের সমস্ত কাজের সিদ্ধান্ত নেয় মধু।পড়াশুনায় অতটা ভালো না হলেও সরোদটা দারুন বাজায়। বৃষ্টিস্নাত করবী গাছভর্তি হলুদ ফুল যে মুগ্ধতা নিয়ে আসে, মধুর সারোদ বাদন তার থেকে কিছু কম আনে না। বরঞ্চ হিসেব কষলে তার থেকে বেশীই মনে হবে। মাত্র বছর ছয় হল শিখছে। মাষ্টার বলেছেন এভাবে এগোতে পারলে মধু একদিন নিশ্চয় দশের সেরা হবে, দেশের সেরা হবে। হবে আমাদের গর্ব।তবে মধুর সময়টা এখন খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। বি.এ. পাশ করে চাকরীর চেষ্টা করছিল। নম্বরও তেমন ভালো নয়, তাছাড়া মামার জোরও নেই। এক বন্ধু বলল যে বিজনেস কর। কী বিজনেস? না, এখন কনজিউমার প্রোডাক্ট খুব বিক্রি হচ্ছে। লোকজন এখন তাদের রূপ-যৌবন সম্পর্কে দারুন সচেতন। আগে মেয়েরা এই দলে থাকলেও এখন ছেলেরাও ভিড়ে গেছে সেই গড্ডপ্রবাহে। দেদার বিকোচ্ছে শ্যাম্পু-ক্রিম-সাবান। বেশীরভাগ পন্যই ক্রেতাদের রূপ-যৌবন অটুট রাখবার জন্য। তা সেই রকমই কিছু একটা যদি করা যায়। কথা হচ্ছিল স্কুল মাঠের ধারে বসে। রাত তখন আটটা। মাঠের এদিকটা প্রায় চুপচাপ। অফিস ফেরতা লোকজনের বাড়ি ফেরার তাড়া, সাইকেল-রিক্সোর ঘন্টি আর তাদের কথাবার্তা ছাড়া প্রকৃতির নিস্তব্ধতার আইন কেউ ভঙ্গ করছে না। যে সময়ের কথা বলছি সেই সময়ে পকেটে পকেটে মোবাইল ফোনের আর রাস্তায় রাস্তায় মোটরবাইকের প্রাদুর্ভাব ঘটেনি।ফচকে ফোঁড়ন কাটল, “কিন্তু জৈব বা হার্বাল হওয়া চাই”।মংকা যোগ দিল, “আরে ছাড়। হার্বাল ব্যাপারটা জাস্ট একটা ভার্বাল ব্যাপার। হার্বালের নাম করে কী যে চলছে কে দেখতে গেছে, কিগো পলতেদা? তাইতো?”।পলতেদা একটা বিড়ি খাচ্ছিল। বেশ মন দিয়ে। মংকার প্রশ্নটা এক ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিল। বলল, “আরে এসব তো হবেই। যারা বেচছে শুধু তাদেরকেই দেখলি, আর যারা কিনছে? তাদের দেখিসনি। হাড়-হাভাতের দল, মাথায় কিছু নেই। যা বুঝিয়ে দিল ব্যাস তাই বুঝে নিয়ে ছুটল তার পেছনে পেছনে ....। দূর দূর, এদের ওপর আবার করুণা ..... বরঞ্চ ..... বরঞ্চ ”। দাড়িতে খানিকক্ষণ হাত বুলিয়ে বলল, “আমার না দারুন একটা আইডিয়া এসেছে”। “কি গো?”“আমরাও কনজিউমার প্রোডাক্ট তৈরী করে বিক্রি করব ...”“কন .. জিউ ... মার?”, মংকার কথায় একটা বেশ তাচ্ছিল্লের ভাব।“হ্যাঁ। একটা ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট হবে আর একটা ট্রেডিং ...। কী বলবি তো?”“ট্রেড লাইসেন্স লাগবে ...। তারপর পলিউশন কন্ট্রোল থেকে সার্টিফিকেট ...”“দূর দূর। কত লোকে বিনা লাইসেন্সে কারবার করে খাচ্ছে। আর দেখগে যা যত কারখানা আছে তার থেকে বেশী আছে পলিউশন সার্টিফিকেট”।“তবে?”“তবে আবার কী। সব আছে কথায়; কাজে নয়। আসুক না পলিউশন, এমন ইলিউশন দেখাব না, বাছাধনেরা পালাবার পথ পাবে না”।“তাহলে কী করবে?, আমরা সকলে পলতেদার কথায় বেশ উৎসাহিত বোধ করলাম”।“শোন, আমার বাড়িতে যে পুরনো গোয়ালঘরটা আছে ..”“গরু পুষবে!”, বলে মংকা বেশ একটা শ্লাঘা অনুভব করল। আমাদের মধ্যে পলতেদার কথা বোঝা নিয়ে বেশ একটা প্রতিযোগিতা চলে। কে কতবার সবার আগে পলতেদার কথা ঠিক বুঝেছে, তাই দেখে নম্বর দেওয়া হয়। আবার ভুল বুঝলে মাইনাস। মাসের শেষে খাতা দেখে হিসেব কষা হয়।নম্বর যার বেশী থাকে তাকে সেই মাসে আমাদের মধ্যে সমঝদার বলে খাতির করা হয়। মংকা একবারও ‘সমঝদার অফ দি মান্থ’ হয় নি। এবার তাই জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কথাটা বলে মুখে একটা বেশ প্রশান্তির ভাব এনে আমাদের দিকে তাচ্ছিল্লের ভাব করে তাকাচ্ছিল মংকা।“হ্যাঁ ....”।মংকার হাসি ক্রমশ চওড়া হচ্ছে..“তুই একটা গরু, আর তোকেই পোষা হবে”।মংকার চোয়াল ঝুলে পড়ল। আমরা ফেটে পড়লাম হাসিতে। পলতেদা সে দিকে নজর না দিয়ে বলতে থাকল, “শোন, আমাদের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটটা হবে গোয়াল ঘরে। সাবান আর ক্রিম”। মধুকে ঠেলা মারল পলতেদা। বলল, “আমরা স্কুলের ওয়ার্ক এডুকেশনে সাবান তৈরী শিখেছিলাম না ...?”“সাবান আর ফিনাইল .."“যা একটা সাবান বানিয়েছিলাম না মাইরী। নমিতাবৌদিকে দিতেই পরদিন বলল কী সাবান দিয়েছ? এখানে ওখানে ফুসকুরি উঠেছে। বাইরে বেরোনো যাচ্ছে না ...! এমন সব অসভ্য জায়গায় চুলকোচ্ছে”। বলেই খ্যাকখ্যাক করে খানিকটা হেসে নিল পলতেদা।হাসি থামিয়ে বলতে থাকল, “বললাম কুছ পরোয়া নেই বৌদি, এ হল হোমিওপ্যাথ সাবান। আগে সব ইরাপশন বের করে দেবে, তারপর দেখবেন কোনো রোগ নেই”।নমিতাবৌদি আমাদের ড্রিমগার্ল, আমাদের হার্টথ্রব, আমাদের লাব-ডুব-লাব। পলতেদার সাবান মেখে তার হালত খুব খারাপ হয়ে গেছিল। শেষে ভালো একজন স্কিন স্পেশালিস্ট দেখিয়ে সে যাত্রায় রক্ষে পায়। অতীতের এই অভিজ্ঞতার জেরে মধুময় বলল যে সে এসবের মধ্যে নেই। শেষে কী মারধোর খাবে না কী।পলতেদা মধুকে আশ্বাস দিল। বলল, “ধুর, ওটা তো কাঁচা কাজ হয়ে গেছে। এবার যা করব না পৃথিবীতে হয় নি”।আমরা সব উত্তেজনায় পলতেদার গা ঘেঁষে বসলাম। কী এমন কাজ পলতেদা করবে যা এখনও অবধি পৃথিবীতে কেউ করেনি জানতে তর আর সই ছিল না আমাদের।পলতেদা মাতব্বরের মতো বলতে থাকল, “ভেজিটেবল ওয়েল দেব বুঝলি। ফ্যাটি অ্যাসিডের জন্যে দেব পাঁঠার চর্বি”। "পাঁঠার চর্বি!”“হ্যাঁ। পাঁঠার চর্বির বড়া খেয়েছিস? একবার খেলে হাত ধুতেই ইচ্ছে করবে না”।মংকা, ফচকেরা নাক সিঁটকালো। বলল, “কিন্তু গা দিয়ে যদি পাঁঠা পাঁঠা গন্ধ বেরোয়?”“তাহলে ..... তাহলে”, পলতেদা হাতড়াতে থাকল...।“তাহলে?”“ইউরেকা। চাঁপা, শিউলি আর বকুল হামানদিস্তায় পিষে দিয়ে দেব”।“চাঁপা, শিউলি আর বকুল তুমি পাবে কোথায়?”, মংকার ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য ঠেকছিল।“কেন তোরা এর ওর বাগান থেকে পেড়ে আনবি। আহ, যা একটা খুশবু আসবে না, আহ!”।মংকা থাকতে না পেরে যোগ দিল, “সাথে কলকে, আকন্দ ...”“তোমার মুন্ডু!”“আর ক্রিম?”“হ্যাঁ, ক্রিমটা আমরা বানাব না। তুলে আনব আর ভরে ভরে বিককিরি করব ...”।আমাদের তো চোয়াল ঝুলে ঝুলবারান্দা। বলে কী? ক্রিম তুলে আনবে আর ভরবে!“তুলে আনব কী গো? একী নদীর বালি না পুকুরের জল? নাকী তোমার হবু শ্বশুড়ের ক্রিমের ফ্যাক্টরি আছে, না কোনো কোম্পানী স্টক ক্লীয়ার করছে?”“না না, তা নয় ..”।“তবে?”।“গঙ্গামাটি”, কানটা কড়ে আঙুল দিয়ে চুলকে নিল পলতেদা।“গঙ্গামাটি!”।“তোদের ফান্ডা এতো পুয়োর কেন। জানিস না গঙ্গামাটি মাখলে স্কিন কীরকম স্মুদ হয়ে যায়?”“কিন্তু কালো হবে যে? তাছাড়া একটা বিটকেল গন্ধ থাকবে না?”“গন্ধর জন্য স্প্রে করে দেব আর কালো বলছিস? বলব ...., বলব, হ্যাঁ, ক্যারিবিয়ান ক্রিম। টিভিতে ক্রিকেট খেলায় দেখিস নি....। ব্যাস, তোরা সাইকেল করে বালতি বালতি আনবি। ভরব আর সিল মারব। দেখবি কোথায় আমাদের ব্যবসা চলে যাবে”। “কোথায়?”, মংকা আশ্চর্য হয়ে বলল।“হংকং, প্যারিস, ইওরোপে ছড়িয়ে পড়বে। অফিস, গাড়ী, স্যুট,বুট, সেক্রেটারি ...”।ফচকা আবদার করে বলল, “আমি কিন্তু নমিতা বৌদিকে সেক্রেটারী করব”।আড্ডা ভাঙতে ভাঙতে বেজে গেল সাড়ে এগারোটা। বাড়িতে মা-দিদি না খেয়ে বসেছিল। দুদ্দার করে খেয়েই বিছানায় শুয়ে পড়ল মধুময়। রাতে ঠিক মতো ঘুমাতে পারল না। শেষরাতের দিকে স্বপ্ন দেখল। বিরাট কাঁচঘেরা ঘর। কম্প্যুটার, সেলফোন, ল্যাপটপ, ভিডিও কন্ফারেন্সিং রুম। কাজ করতে করতে একটু ঝিম এসে যাচ্ছিল। অনেকদিনের ভাতঘুমের অভ্যাস তো। হঠাৎ কে যেন দিল মৃদু ধাক্কা। বলল, “ইটস্ কফি টাইম, স্যার”। মুখটা অবিকল নমিতাবৌদি। তবে অনেকটা লম্বা। সাদা ধবধবে পা অনেকটা বেরিয়ে! পায়ের পাতাটা বাঘের থাবার মতো। ধরতে গেল, দেখে কাঠ কাঠ। আবার ধাক্কা। ধড়মড় করে ঘুম ভেঙে দেখে যে মধু তার খাটের পায়া ধরে আছে আর ওর মা চা খাওয়ার জন্য ডাকছেন। বললেন, “ঘুমের মধ্যে কী যাতা বকছিলি? যা, হাতমুখ ধুয়ে চা খেয়ে বাজারে যা। বাবা আজ তাড়াতাড়ি অফিস বেরিয়ে গেছে আর বাড়িতে আনাজ একটুও নেই”।বাজার যাওয়ার পথে পলতেদার সাথে দেখা। বলল, “এগারোটা নাগাদ আমাদের গোয়ালঘরে চলে আসিস”।সকালের জলখাবার দুদ্দার করে খেয়েই পলতেদার গোয়ালঘরে ছুটল মধু। দেখে ভুতোও চলে এসেছে। একটা ভাঙা বালতি নিয়ে এসেছে ওর বাড়ি থেকে। ফচকে আর মংকাও হাজির। প্লাস্টিক প্যাকেট করে নিয়ে এসেছে ফুল। সকালে এর ওর গাছ থেকে পেরেছে। পলতেদা নিয়ে এসেছে আধকেজি পাঁঠার চর্বি। মাহমুদের দোকান থেকে। বালতিটা মধুকে দিয়ে বলল, “যা, গঙ্গামাটি নিয়ে আয়”।মধু প্রথমে বাড়ি গেল। ফুলপ্যান্ট ছেড়ে পড়ল আধময়লা একটা হাফপ্যান্ট। মাথায় খানিকটা তেল নিল মেখে। তারপর ঠাকুমার থেকে নিয়ে নিল একটা তোবড়ান জার; গঙ্গাজল আনবে। বুড়ি অনেকদিন ধরে বলছিল। তারপর সাইকেলটা নিয়ে সোজা গঙ্গায়। বাড়ি ফিরে গা-হাত-পা মুছে শুকনো জামাকাপড় পরে যখন আবার পলতেদার গোয়ালঘরে এল আধবালতি গঙ্গামাটি নিয়ে শুনল পলতেদা বাগরি মার্কেট চলে গেছে। ক্রিমের কৌটো আর সাবানের র‍্যাপার-এর অর্ডার দিতে।বিকেলে পাড়ার দু’একজন লোক দেখতে এলেন কী হচ্ছে। কেউ বললেন, “হবে, হবে। ও আজকাল চাকরি করে কিসসু হবে না। ফোর্ডও এভাবেই শুরু করে ছিল।অপরজন বললেন, “বানিজ্যে বসতে লক্ষী। যারা ব্যবসা করে দাঁড়িয়েছেন তাদের শুরুটাও এমনই। জানো আমাদের পাড়ার যে মিষ্টির দোকান দিয়েছেন তিনিও এক সময় বাঁকে বাঁকে দুধ বিক্রি করতেন। তোমাদেরও হবে”।অন্য একজন জানতে চাইলেন যে আমরা কীসের বিজনেস করছি। ক্রিম আর সাবানের শুনে বললেন বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে, পাড়ার দাদা বলে কথা। মাঝে মধ্যে এসে উৎসাহও দেবেন জানিয়ে গেলেন।মধুর আনন্দ আর ধরে না।নিজের জমান টাকা দিল ঢেলে। পলতেদা কলকাতা থেকে চলে এসেছে। সাথে এসেছে নীল রঙ-এর ক্রিমের কৌটো আর দুধসাদা রং এর সাবানের র‍্যাপার। নাম কী হবে তাই নিয়ে তর্ক চলল খানিকক্ষণ। শেষে ঠিক হল ক্রিমের নাম হবে ‘ডবল বিউটি ক্রিম’ আর সাবানের নাম ‘পলিগ্যামী সোপ’।‘ডবল বিউটি ক্রিম’ কারণ এই ক্রিম ত্বকের কালোভাব তুলবে, আবার রঙ এবং জেল্লা দুটোই বাড়াবে। পলিগ্যামি সাবান শরীরের যে কোনো জায়গায়, মানে মাথা থেকে পা পর্যন্ত মাখা যাবে।বিজ্ঞাপনে আরও লেখা থাকবে - ‘ডবল বিউটি ক্রিম’ আর ‘পলিগ্যামী সোপ’ মাখুন ও মাখান। প্রথমে স্নানের আধঘন্টা আগে ক্রিম মেখে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকুন। কারণ তখন শরীরে কম অক্সিজেন লাগবে।বেশি অক্সিজেনে বিপরীত ফল হতে পারে। একহাতে লাগান আর অন্য হাতে মশা-মাছি তাড়ান।তারপর গায়ে জল ঢেলে খোসা দিয়ে ঘষে আলতো করে সাবান মেখে আবার জল ঢেলে ভিজে গায়ে হাসতে হাসতে বাথরুম থেকে বেড়িয়ে আসুন। মুখের হাসি যেন লেগে থাকে, অন্যথায় বিপরীত ফল হতে পারে। এরপর তোয়ালে দিয়ে চোয়ালে বুলিয়ে নিন। তারপর মুছে নিন শরীরের অন্যান্য অংশ। এভাবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বা সঠিক অর্থে যুগ যুগ ধরে উপহার পান এক অর্নিবচনীয় মহাজাগতিক তুলতুলে মার্বেল টাইলসের মতো ত্বক, যা ঝকঝক করবে, চকচক করবে। ত্বকের ওপর আলো পড়লে হবে আভ্যন্তরীন পূর্ণ প্রতিফলন। যার ফলে ছেলেদের চোখ ট্যারা হয়ে যাবে। শরীর হবে ঠান্ডা, ত্বক হবে মসৃন। ত্বকের মেলানিন ‘মেলাবেন তিনি মেলাবেন’ বলে মিলিয়ে যাবে। আপনি হয়ে উঠবেন অপরূপা, অপ্সরা। আপনার পেছনে অনেকে লাইন দেবে। তবে লাইন ভঙ্গকারী আইন অমান্যকারীকে প্রশয় দেবেন না। একডজন ক্রিম আর সাবান কিনলে সাথে ফ্রি ফোল্ডিং ছাতা। রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাবেন। তৎসহ অনভিপ্রেত পুরুষদের ছাতাপেটাও করতে পারবেন।মধু বলল, “এসব কী যাতা লিখছ!” পলতেদা মুখে একটা সবজান্তা ভাব এনে বলল, “থাম তো।এটা হচ্চে নিউ মার্কেটিং টেকনিক, বুঝলে চাঁদ? নীচে বড় বড় করে লেখা থাকবে ‘ইন্ডিয়ান ক্যাডাভারাস অ্যাসোসিয়েশন’ দ্বারা প্রমানিত”।“ক্যাডাভারাস অ্যাসোসিয়েশন!সেটা আবার কী?”, আমরা সবাই জানতে চাইলাম।“মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের খুঁড়োশ্বশুড়। সঙ্গে থাকবে ‘স্ক্র্যাচ কার্ড’। ঘষলেই রোকরা। ফুর্তি করুন, মূর্তি গড়ুন”।“কিন্তু উপহার দেবে কেমন করে?”“আরে দূর। ১০,০০০ টাকা লাভ করলে পাঁচ টাকা প্রাইজ।দেখবি প্রাইজের লোভে কেমন মাল বিক্রি হয়”।“আচ্ছা, আমরা কী লোকালই বিক্রি করব?”“লোকালে তো এজেন্ট থাকবে। তার আগে প্রোমো প্যাক দেব। তবে দূরে, পাড়ায় নয়”।“কেন গো?”“ওসব বিজনেসের ব্যাপার বুঝবি না। যা এখন স্টোভ ধরা। সাবান তৈরী করতে হবে। আর তুই ভুতোকে নিয়ে গঙ্গামাটি থেকে নোংরা বাছ”।তারপর একদিন সাবান আর ক্রিম তৈরি হয়ে গেলে পলতেদা ঠিক করে দিল কোনদিকে কারা যাবে। যারা যেদিকে যেদিন যাবে, তারা পরের দিন যাবে উল্টোদিকে। কারণ প্রথমদিন যদি কোনো গোলমাল হয় তাহলে ধরা পরে ধোলাই খেতে হবে না। দল করে দিল পলতেদা। মধু আর ভুতো একসাথে যাবে। মংকা আর ফচকা যাবে একসাথে। কোথায় কখন ঠিক কী বলতে হবে পাখি পড়ানোর মতো বুঝিয়ে দিল পলতেদা। সকালবেলা যথারীতি ঠাকুর প্রণাম সেরে বেরিয়ে পড়ল চারজনে। গেল একটু দূরেই। এক বাড়িতে গিয়ে ভুতো বেল বাজাল। বৃদ্ধ এলেন বেরিয়ে। হাসি মুখে ডাকলেন বাড়ির ভিতর। মধুকে চোখ টিপল ভুতো, মানে কেস সাকসেস। অনেকক্ষণ কথা বললেন। কোনটা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে বিশদে জানলেন সবকিছু। মধু আর ভুতোর তর সইছে না। কখন যে অর্ডারটা দেবেন। শেষে থাকতে না পেরে নিজেরাই বলল সেই কথা। বৃদ্ধ জানালেন যে তিনি কিছুই নেবেন না।বিরক্ত হয়ে ভুতো জানতে চাইল, “নেবেন না যখন, তখন আমাদের এতো বকালেন কেন? আর কেনই বা নষ্ট করলেন সময়?”বৃদ্ধ হেসে বললেন, “সারাটা দিন একা থাকি তো। কথা বলবার লোক নেই। তাই যে সেলসম্যান আসে তার সাথেই কথা বলি। নয়ত অসামাজিক হয়ে পড়ব যে”।অন্যদিকে আরেক অবস্থা। ফচকা আর মংকাকে এক ভদ্রমহিলা ক্রিম দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “কালো কেন? ” ফচকা ঢোক গিলল। ভদ্রমহিলা বলে চললেন, “টিভিতে যে সমস্ত ক্রিমের অ্যাডর্ভ্যাটাইস দেখেছি তাদের রঙ হয় সাদা নয়তো অফ-হোয়াইট অথবা গোলাপী। কিন্তু কালো রঙের ক্রিম তো দেখিনি?”মংকা একটুও না দমে উত্তর দিল, “বুঝলেন না, এটা হোল নিগ্রো ক্রিম। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা বোঝেন, চোখের বদলে চোখ?” মহিলা ঘাড় নাড়লেন, মানে বোঝেন। মংকা বলে চলল, “এও ঠিক তাই। আমরা কালো দিয়ে কালো তুলব।তারপর সাবান তো আছেই। কি, বুঝলেন এবার?”ক্রিমের কৌটো নিয়ে মহিলা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকলেন। মংকা বলল, “নিয়মাবলী ঐ প্যাকের মধ্যেই পাবেন”। মহিলা সাবান আর ক্রিম কিনলেন।মংকাকে তখন দেখে কে। জামার কলার তুলে সিগারেট ধরাল। চোখ নাচিয়ে বলল, “দেখলি, কেমন দিলাম”। এই ভাবে বেশ কয়েকটা মাল বিক্রি হল। সন্ধ্যেবেলায় পলতেদা সমস্ত কিছু জেনে পিঠ চাপড়ে দিল মংকার। বলল, “এই তো চাই। আমার উপযুক্ত শিষ্য হওয়ার দিকে তোর যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। তোরাও শেখ”। বাড়ি ফিরবার সময় মংকা বলল, “নতুন ক’টা জামা বানাতে দিতে হবে বুঝলি”“কেন?”“বুকের ছাতিটা ৫৬ ইঞ্চি হয়ে গেছে”।বেশ কয়েকদিন পর মধু, ভুতো আর পকাই রোজকার মতো মাল বিক্রী করতে বেড়িয়েছে। পকাই নতুন এসেছে। পাড়ায় ঢোকবার মুখে সাফারি স্পোর্টিং মাঠের কাছে গিয়ে দেখে একটা জটলা। বেশ কিছু লোক হাতে লাঠি,উইকেট, দরজার খিল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েরা রয়েছে ঝাঁটা, খুন্তি হাতে। ব্যাপার দেখে ভুতো বুঝল কেস জন্ডিস। পকাইকে পাঠাল। কারণ ও নতুন এসেছে। কেউ ওকে আগে দেখেনি। নিজেরা একটা সিগারেটের দোকানে অপেক্ষা করতে থাকল। দুরু দুরু বুকে এগোল পকাই। কাছে গিয়ে বলল, “আচ্ছা দাদা, চপলদের বাড়িটা কোথায় বলতে পারেন?”তাচ্ছিল্যপূর্ণ দৃষ্টি নিয়ে এক মহিলা বলল, “ও নামে তো এখানে কেউ থাকে না। কিগো ?” পাশের এক ভদ্রলাককে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হ্যাঁ গো, চপল নামে কেউ থাকে? আমাদের এখানে?”একেই লোকজন ক্ষেপে ছিল। বিরক্ত হয়ে বলল, “এরকম বিদঘুটে নামের লোক যদি থাকত তাহলে পেঁদিয়ে নাম পাল্টে দিতাম। যান তো, ম্যালা মাথা চাটবেন না। একেই দেখছেন আর্মস নিয়ে রয়েছি। বাছাধনেরা একবার আসুক। ... আজ আর প্রাণ নিয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে না ....” না বোঝার ভান করে পকাই কারণ জানতে চাইল। হাতে দাদুর ছাতা নিয়ে এক ভদ্রলোক লুঙ্গী গুটিয়ে নধর দেহটা নিয়ে রনংদেহী মূর্তিতে বেরিয়ে এলেন ভিড় ঠেলে।বললেন, “আর বলবেন না দাদা, দু’তিনটে ঠকবাজ! কী সব আজেবাজে ক্রিম আর সাবান বেচে গ্যাছে কী বলব আপনাকে! আমার বৌ-এর হাতের চামড়া পুড়ে গেছে। কারো মুখে এমন কালো দাগ হয়ে গেছে যে সকলের সামনে বেরোতে পারছে না। কে যেন ক্রিমের গন্ধে বমি করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাই এইসব নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি। পেলেই হাড় ক’টা ভেঙে একেবারে গুঁড়ো গুঁড়ো করে দেব”।পকাই একবার নিজের হাড়গুলো দেখে নিল। বলল, “বেশ করবেন। পেলে আমার হয়েও ক’ঘা দেবেন”। বলে সটকান দিল।সিগারেটের দোকানে এসে এই ভীষণ খবরটা শুনে আজকের বিক্রি ক্যানসেল করে তিনজনে সটান ফিরে গেল বাড়িতে। সবশুনে পলতেদা বলল, “এই ব্যবসা এখানেই খতম। যা পুজিঁ হয়েছে তা দিয়ে নতুন ব্যবসা করব। কারণ ডাইভার্সিফাই করতে হবে। একটা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। পরে আবার সাবান আর ক্রিম বেচা যাবে”।“তা এখন আমরা কিসের ব্যাবসা করব?”“আমি ভেবেই রেখেছি..”“কিসের?”“ঘি”। "ঘি!!"। “হ্যাঁ, ঘি! নাম দেব ‘খাঁটিঁ বাংলা ব্যকরণ ঘি’”।“খাঁটিঁ ....!” বলে মংকা পেট চেপে হাসতে থাকল। থামল ধমক খেয়ে। “হ্যাঁ, খাঁটিঁ বাংলা ব্যকরণ ঘি। এই ঘি খেলে মাথার গ্রামার পোক্ত হবে, শক্ত হবে। এই গ্রামার হল ইউনিভার্সাল গ্রামার। বাচ্চাদের রোজ নিয়ম করে দু’বেলা খাওয়ালে দেখবেন বড় হয়ে আট-দশটা ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারবে। তবে বাংলায় প্রস্তুত বলে ‘বাংলা’ শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। জানবেন, স্বয়ং নোম চমস্কি এই ঘি খেয়েই বড় হয়েছেন”।কিন্তু নোম চমস্কিই বা কে আর তিনি সত্যিই এই ঘি খেয়েছেন কী না, সেসব জিজ্ঞাসা করলে কোনও উত্তর দিল না পলতেদা। আর কীভাবে এসব করব জানতে চাইলে পলতেদা বোঝাল যে ব্যাপারটা তেমন কিছুই নয়। এক হিন্দুস্থানি ঘি-ওয়ালার থেকে ঘি নিয়ে তার সাথে সস্তার রেপসিড বা পাম তেল মিশিয়ে বিক্রি করবে। সাবান-ক্রিমের বেলায় যে সব জায়গায় যাওয়া হয়েছিল এবার আর সেদিকে যাওয়া হল না। কিন্তু এবারেও সেই বিপত্তি।বেশি লাভ করতে গিয়ে বেশি বেশি করে পামতেল মেশান হয়েছিল। তাই খেয়ে কারও পেট ব্যাথা, কারো আমাশা। কেউ কেউ তো ডায়রিয়া হয়ে আধমাস ভর্তি ছিল হাসপাতালে। মার খায় আর কী। কোনো রকমে প্রাণ নিয়ে এলো পালিয়ে। দোষ দিল ঐ হিন্দুস্তানি ঘি বিক্রেতার নামে। এইসব ঘটনা ঘটার পর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল যে নাহ্, ব্যবসা আর নয়। বেশ কিছু টাকা গেছে বেরিয়ে। মধুময়ের গেছে সবচেয়ে বেশি, উৎসাহটা ওরই বেশি ছিল কীনা। এবার চাকরি করে সেই সব টাকা তুলতে হবে। এখন কোন ধরণের চাকরি করা যায় ভাবতে ভাবতে ওরা সবাই এসে হাজির হল অনাদিবাবুর সেই ঘরোয়া ক্লাব ঘরে।(চলবে) 
    ভাগবত পুরাণ - ১/১০ - Kishore Ghosal | "ভাগবত পুরাণ" - প্রথম স্কন্ধ দশম পর্বভাগবত পুরাণ - পর্ব ১/১০ রাজা পরীক্ষিতের অভিশপ্ত হওয়া এবং সর্প দংশনে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাটি মহাভারত সবিস্তারে বর্ণনা করেছে, এই পুরাণের বর্ণনার মতো ভাসা-ভাসা ভক্তিরসে মাখা নয়। আগ্রহী পাঠকরা আমার ব্লগের "ওঁ শান্তিঃ (নাটিকা)"-টি এই নীচের সূত্র থেকে পড়ে নিতে পারেন - পরীক্ষিতের মৃত্যুর পিছনে কী যেন এক রহস্য ছিল, সে কথা মহাভারত বেশ গুছিয়েই তুলে ধরেছে। ওঁ শান্তিঃ (নাটিকা)  
  • জনতার খেরোর খাতা...
    কালবেলার রৌদ্রছায়া  - ২৬ - Anjan Banerjee | ( ২৬ )বাগবাজারে শচীন মিত্র লেনে এক পরিবারে ছ'জনের মধ্যে পাঁচজনেরই মন খারাপ। গগনবাবুর বয়স আটষট্টি। দেড়হাজার টাকা করে বার্দ্ধক্যভাতা পেলে মন্দ হয় না। কিন্তু সে ব্যাপারে পরিষ্কার কোন খবর নেই। অফলাইন আর অনলাইন এই দুটো শব্দ লোকের মুখে মুখে। এই দুই লাইনের চক্করে ঘুরে মরছে গিন্নী থেকে কর্তা, ছুঁড়ি থেকে বুড়ি গাদা গাদা লোক। সে যাই হোক, এদের মনোবেদনার কারণ হল, গগনবাবু কবে কিভাবে অফ না অন কোন লাইনে ভাতা পেতে পারেন কিছুই খবর জোগাড় করতে পারছেন না। তাই তিনি দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। তার ছেলের বউ এবং গিন্নীর উৎকন্ঠা অন্নপূর্ণাভান্ডার নিয়ে। এখনও ঢোকেনি। মানে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। আশা নিরাশার দোলায় দুলতে দুলতে তার মানসিক অবসাদ এসে যাচ্ছে। গগনবাবুর আইবুড়ো মেয়েরও একই অবস্থা। তারও এখনও টাকা ঢোকেনি। সারাদিন ধরে চেনা জানা পঁচিশ থেকে ষাটের মধ্যে সামনে যাকে পাচ্ছে ধরে জিজ্ঞেস করছে, 'তোর ঢুকেছে নাকি... তোমার ঢুকল... আপনারটা ঢুকেছে ঢুকেছে... ঢোকেনি, না ? 'মোটামুটি হাল্কা মনে আছে গগনবাবুর ছেলে সৃজন, যদিও বউয়ের অন্নপূর্ণালাভ নিয়ে তারও কম ঝক্কি যাচ্ছে না। প্রতিদিন সৃজনের করা ফর্ম পূরণ সংক্রান্ত সম্ভাব্য ত্রুটি নিয়ে কাঁটাছেড়া করতে বসা তার স্ত্রী পিয়ালির দৈনন্দিন কাজে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে তার স্ত্রীকে বারংবার আশ্বস্ত করতে করতে নাজেহাল অবস্থা তার। একমাত্র গগনবাবুর সাত বছরের নাতি জুজুর মন এসব নিয়ে আলোড়নের থেকে একেবারেই মুক্ত। সে একটা মোবাইল ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করে কী একটা দেখছে মন দিয়ে। খুব সম্ভত এ আই কারিগরি নির্মিত কোন আকর্ষনীয় ভিডিও রীল। চারটে বাড়ি পরে সোমনাথদের বাড়ি। সোমনাথ বক্সী। বাড়ি মানে ভাড়া বাড়ি। তিনতলার বাড়িটার একতলায় দুটো ঘরে সোমনাথ পরিবার নিয়ে থাকে। তার দুটো বাচ্চাও আছে। সোমনাথ যে কী করে, কী করে তার সংসার চলে পাড়ার কেউই ঠিকমতো জানে না, সোমনাথ পাড়াতে তেমনভাবে কারও সঙ্গেই মেশে না। অতীশের সঙ্গে তার অনেকদিনের ঘনিষ্ঠতা। সন্ধেবেলায় এসে হাজির হল। এটা নতুন কিছু না। অতীশ মাঝে মাঝেই আসে। চা বিস্কুট খায়। ঘন্টাখানেক বসে। পলিটিক্স নিয়ে উত্তেজিতভাবে নানা কথা বলে, তারপর চলে যায়। অতীশ একজন দোকানদার। বিডন স্ট্রিটে একটা ছোট মনিহারি দোকান আছে।চলে না তেমন। কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়। এমনিতেই আয় কম, তার ওপর তোলাবাজি আছে। মাসোয়ারা বন্দোবস্ত। কিছু আয়পয় থাকুক আর না থাকুক। এক একবার এক এক জন আসে নগদ নিতে। আজ চা খেতে খেতে সোমনাথ বলল, ' দেখ এবার যদি একটু কমে... ভ্রষ্টাচার পছন্দ করে না বলেই তো পাবলিক এদের সরিয়েছে ... 'অতীশ চায়ে একটা চুমুক দিয়ে বলল, ' আরে রাখ তো... পাবলিকের কথা আর বোল না। পাবলিক ভ্রষ্টাচার নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামায় না। নইলে টি এমসি একচল্লিশ পারসেন্ট ভোট পেত না। ভোটারগুলো তো ওদের জেতাবার জন্যই ভোট দিয়েছে। তারা কি জানে না ওরা কী করেছে না করেছে ? সিপিএম পাঁচ পারসেন্ট মুসলিম ভোট না কাটলে তো মমতাই জেতে। জনগন নাকি খুব সচেতন। এরা নাকি মাস লিডার! এই তো মাস, তার আবার লিডার। শুধু ভাতা পেলেই হল.... ভাতা বন্ধ হলে গদি উল্টোবে। এবারে মেয়েরা ভোট ঢেলেছে তিন হাজারের লোভে, সোজা কথা। দুর্নীতি টুর্নীতি কোন ব্যাপার না। গরীব মানুষ হল ক্রীতদাস বা অবল এবং অবোল কোন মানবেতর প্রাণী। তাদের গিনিপিগের মতো ব্যবহার করা হয়। যেই ক্ষমতায় আসে সেই করে। আর জি করের ফয়সালা তো ক্ষমতায় আসার পর সাত দিনের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। কী হল... 'সোমনাথ ভাবল, এই শুরু হল অতীশের রাজনীতির কচকচানি। বলল, ' এই তো সবে এল। দেখ একটু... '----- ' হ্যাঁ, দেখি দেখি... 'অতীশ চায়ে বিস্কুট চোবাতে চোবাতে বলে, 'ব্যাপার হচ্ছে যে এইভাবে তো আর চলছে না... '------ ' কী ? ' ----- ' না মানে, ইনকামটা বাড়ানোর দরকার। এভাবে আর চালানো যাচ্ছে না। তুমি তো নানা লাইনে ঘোর। দেখ তো একটু। এখনও তো অনেকদিন বাঁচতে হবে... বুঝতেই তো পারছ... '----- ' অ... হ্যাঁ, তা ঠিক... 'তারপর একদমই সময় নিল না সোমনাথ বক্সী। যেন তৈরিই ছিল। চটপট উত্তর দিল। ----- ' চল আমরা মন্দিরের ব্যবসা করি... ঠিকমতো করতে পারলে লাল হয়ে যাবে ... '---- ' মন্দিরের ব্যবসা মানে ? '----- ' মন্দির মানে মন্দির। মূর্তি, বিগ্রহ, সেবায়েত, যজমান, পুজো আচ্চা, হোম যজ্ঞ, পালা পার্বন, ভজন কীর্তন আর ওই ইয়ে.... 'অতীশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল, ' কী... কী ? '---- ' পাবলিকের, মানে ওই ভক্তদের মনস্কামনা টামনা পূরণের ব্যবস্থা করা। নইলে তারা মন্দিরমুখো হবে কেন আর খোলামনে উপুড়হস্ত হবেই বা কেন ? দু একটা কেস ঠিক ঠিক খাইয়ে দিতে পারলে এ ব্যবসায় মার নেই। আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাবে... 'অতীশ সরকার হতবুদ্ধি হয়ে সোমনাথের দিকে তাকিয়ে রইল। কী বলবে ভেবে পেল না। এসব কাজ কারবারের ব্যাপারে সে যে একেবারে অজ্ঞ তা না কিন্তু এতসব কান্ড যে তার মতো একজন মামুলি দোকানদারের পক্ষে ঘটানো সম্ভব এটা তার বিশ্বাস তার নেই। সে যাই হোক, তার মনে একটা আশার দীপ উজ্জ্বল আভা বিকিরণ করে জ্বলে উঠল। তার চোখ যেন কিসের আশায় চকচক করতে লাগল।এদিকে সোমনাথ বক্সী বলে চলেছে, ' ব্যবসা অবশ্য আরও আছে। যেমন কঙ্কালের ব্যবসা। ওটাতে বেশ ঝামেলা আছে অবশ্য। তার চেয়ে ঠাকুরের ব্যবসা অনেক ভাল। তবে হ্যাঁ, ওসব শনিমন্দির শেতলা মন্দির টন্দির করে কিছু হবে না। একটা আশ্রম স্ট্রাকচারের কিছু চাই যাতে মোটা ধরনের প্রণামী পড়ে। গোল্ড টোল্ড আসতে পারে। ট্রাস্টি থাকবে, ভজন কীর্তনের ব্যবস্থা থাকবে... '----- ' মানে ওই রামমন্দির বা জগন্নাথধাম গোছেরব্যাপার... ' অতীশ বলে ফেলল। সোমনাথ ঘাড় কাৎ করে জিভ কেটে চোখ বুজে একগাল হেসে বলল, ' ওই হ্যাঃ... বোল না বোল না.... যা বলেছ যা বলেছ... আমরা ছোটখাটো... আপাতত ছোটখাটো হলেই চলবে... বুঝলে তো... '----- ' সে তো বটেই সে তো বটেই... কিন্তু কোথায় হবে ? ' ----- ' ওইটাই হচ্ছে মুশ্কিল.... তারকদার কাছে একবার যেতে হবে। একটু গাছপালাওয়ালা ছড়ানো জায়গা চাই, নইলে ঠিক জমবে না, কী বুঝলি ? একটা আধ্যাত্মিক পরিবেশ চাই তো...' ----- ' হ্যাঁ, তা বুঝলাম কিন্তু এসব হবে কীভাবে ? 'তারকদার পরামর্শ নিতে হবে... কাল যাব, যাবি তো ... :----- ' হ্যাঁ, কিন্তু তারকদা কে ? ' ----- ' ওই তো, তারকনাথ গোস্বামী। গোকূল মহাবেদান্ত মঠের প্রেসিডেন্ট .... '----- ' অ... তা দেখ যদি হয়.... ' অতীশ বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে লাগল।ভরসা করে বলল, ' আর ওই যে... কঙ্কালের ব্যাপার... কী একটা বলছিলে... '----- ' ও হ্যাঁ... ওটায় একটু ঝকমারি আছে। মেডিকেল কলেজগুলোয় ছাত্রদের পড়ানোর জন্যওগুলো লাগে... ভাল লাভ আছে, তবে ধরা পড়লে ওখানেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবে। কবর থেকে টাটকা বডি তুলতে হবে... বুঝতে পারছ তো... কাদের বডি কবর দেওয়া হয়। যাক, ও ব্যাপারটা পরে বলব'খন... '( ক্রমশ) ********************************************
    বসত  - Anjan Banerjee | কত স্নেহময় মানুষের কাছে গল্প শুনেছিলামযখন আমি চারা গাছ এখন আমি একটু একটু গল্প বলতে চেষ্টা করি নিজের বসত বাড়ির, গল্পের শেষটা খুঁজে বেড়াই মেলাতে পারি না কারণ আমি নিজের বসত খুঁজে পাই না। আজ আর চাঁদের বুড়ি চরকা কাটে না ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী আঁধার নিশার পাগল হাওয়ায় বৃক্ষ শাখায় বসে যোজন দূরের পাহাড় চূড়ার আগুন আর ধোঁয়া দেখে না। এখন কোন গল্প নেই শুধু স্মৃতির মেঘ আছে মনের আকাশে ভাসে জলের কণা বর্ষা হয় বারো মাস অপরূপ কান্নার মতো। কান্না আছে কানায় কানায়, বেদনার একটা সমুদ্র আছে মায়ের জন্য একটা অনন্ত নির্জন চরাচর রেখেছি বাবার জন্য একটা অমেয় পর্বত আছে বুকের মাঝ বরাবর। বাবা একদিন ইছামতির ধারে নিয়ে গিয়েছিল মার সাথে দেখেছিলাম পথের পাঁচালি। আমি কোনদিন বাবাকে দেখাতে পারিনি কোন পাহাড় কিংবা সমুদ্র মায়ের হাত ধরে নিয়ে যেতে পারিনি কোন প্রশান্ত দেবালয় চত্বরে। জীবন চলে গেছে জীবনের মতো রেল স্টেশনে অগনন যাত্রীওঠা নামায় ব্যস্ত নিজস্ব সম্বল সামলে ইস্পাত লাইনের এক ধারে পড়ে আছে মাঠ মাঠে একটা যুবতী গাছের ঝাঁকড়া পাতার কোলের যত্নে একটা ফিঙে পাখির সংসার সেও এক বসত, মরমী বসত। কিন্তু আমি আমার বসত খুঁজে পাই না।*******************************************
    বিশ্ব বসবাসকারী সূচক তালিকায় ভারতের মেট্রো শহর মুম্বাই র দিল্লির বেহাল অবস্থা  - biswajyoti das | মানুষ যদি একবার রাস্তায় নেমে হেটে একটু দেখে তাহলেই এই শহর গুলোর বিবর্ণ দশা নোংরার স্তুপ, উন্মুক্ত আবর্জনা, ইঁদুর দেখতে পাবেন | এই আন্তর্জাতিক সূচক দিল্লী আর মুম্বাই কে যথাক্রমে ১২০ আর ১২১ ক্রমাংকে রেখেছে |এই শহর গুলোর সাথে বিশ্বের বিখ্যাত সব শহর গুলোর যেমন প্যারিস, ব্রুসেলস , লন্ডন, নিউ ইয়র্ক ব্যাংকক, এডিলেড সিডনি, টোকিও, বেইজিং, মিলান এর কোনো তুলনা হয়না | এই সব প্রত্যেকটা শহরে আছে যান চলাচলে র সু ব্যবস্থা , সাইকেল চালানোর আলাদা লেন, বয়স্ক দেড় জন্য অনুকূল রাস্তা ঘাট, গাছ গাছালির প্রাচুর্য |যেহেতু শতকরা ২% ভারতীয় রা বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায় না তাই তারা শহর গুলোর অবস্থা তা স্বাবাভিক বলে মেনে নিয়েছে আর আমাদের রাজনৈতিক নেতা দের কোনো কঠিন প্রশ্ন করে না |||||এই পরিস্থিতির কবে যে জানে সেটা ঈশ্বর এর হাতে ছেড়ে দিয়ে অবসাদে দিন গোনে ||
  • ভাট...
    commentতরমুজ | সময়ও কার্য কারন সম্পর্কের বাইরে নয়। অর্থাৎ সময় কার্য কারন সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। এবং বিশেষ কার্য কারন সম্পর্ক সময়কে প্রভাবিত করতে পারে।
    commentManali Moulik | কিন্তু কার্য কারন সেভাবে থাকে না
     
    একেবারেই। কিন্তু কার্যকারণ সম্পর্ক সময়ের সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল। তাই স্লেভ সোসাইটির সমাজের একটা কার্যকারণ সম্পর্কের সঙ্গে আজকের Speculation based society আলাদা। সেটা বুঝতেই হবে ও সেইভাবে মার্কসিসমের প্রয়োগ করতে হবে। নাহলে ওই প্রেডিকশন থেকেই যাবে। ঠাকুরের সেই কথাটার মতো, "পাঁজিতে লিখেছে অমুক তিথিতে এতো জল হবে, কিন্তু পাঁজি নিঙড়ে ক ফোঁটা জল পাবে?"
    commentতরমুজ |
    //আমি এখানে এই পর্যন্ত যা লিখেছি। সেখানে সমাজতন্ত্র সম্পর্কে কোথায় লিখেছি?//
     
    সমাজতন্ত্র আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ। কিন্তু আমার মস্তিষ্কের সবটুকু নয়। ..... এছাড়া কেন মৌলিক কিভাবে মৌলিক, সময় হলে জানতে পারবেন। আস্তে আস্তে আস্বাদন করুন। বুঝতে চেষ্টা করুন।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত