এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • আরও একটি ধর্ষণ

    Ishan
    অন্যান্য | ১৬ মে ২০১৩ | ৪১৬২৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ishan | ১৬ মে ২০১৩ ২৩:১২603919
  • খবরটা হঠাৎই চোখে পড়ল। দিল্লীর কাছের ঘটনা। জিলা গাজিয়াবাদ।

    সিনেমার মতই গপ্পো। ছেলেটি ও মেয়েটি কলেজে পড়ে। তাদের ভাবসাব হয়। বাড়ি লোকেদের পছন্দ না। এক্ষেত্রে মেয়ের বাড়িতে পছন্দ না। মেয়ের বাবা এলাকার "প্রভাবশালী" মানুষ। তিনি খবর পেয়ে আর কি করেন। হিন্দিবলয়ের সিনেমায় দেখা "বাবা"রা যেমন করেন। লোকলস্কর পাঠালেন ছেলেটিকে ধরে আনতে।

    নাঃ অনার কিলিং নয়। এরপর ছেলেটিকে ধর্ষণ করা হল। তার উপর কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হল। ক্ষতস্থানে নুন আর লঙ্কাগুঁড়ো ছড়িয়ে দেওয়া হল। এবং তাতেও শান্তি না হওয়ায় ফেসবুক আইডি বানিয়ে তাতে ছেলেটির অশালীন ছবি পোস্ট করে দেওয়া হল। খুবই টেকস্যাভি ধর্ষক, যা দেখা যাচ্ছে।

    ঘটনাটি নজরে আসে বুধবারে। নেটে যা দেখলাম। ছেলেটি ও মেয়েটি, দুজনেই, পাড়া-গাঁ নয়, রীতিমতো রাজধানী দিল্লীর দিল্লী ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও ছাত্রী।

    http://www.firstpost.com/india/another-shocker-du-student-raped-for-being-friends-with-a-girl-788445.html
  • pi | ১৬ মে ২০১৩ ২৩:২৩604141
  • ভাটে দিয়েছিলাম তো। হনার-রেপ। একটি ছেলের।
  • san | ১৬ মে ২০১৩ ২৩:২৩604030
  • কী ভয়াবহ, এরা কি মানুষ !!!
  • pi | ১৬ মে ২০১৩ ২৩:২৯604252
  • এই রেপ কি এখন শাস্তিযোগ্য ? এতবার বিল আসে, বদল হয়, সব গুলিয়ে যায়। নাকি, সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের বিলটাতে জেন্ডার নিউট্রালিটি আসেনি ?
  • Ishan | ১৬ মে ২০১৩ ২৩:৩৩604363
  • এইটা পড়ে আমার দুটো কথা মনে পড়ল। এক, রাজধানীR কথা। দিল্লী তো ভারতের রাজধানী। পৃথ্বীর রাজধানী আমেরিকার কথা মনে পড়ল। স্পেসিফিকালি পুরোনো একটা টিভি প্রোগ্রামের কথা। অনেক দিন আগে দেখা। খুব একটা অনালোচিত বস্তু নিয়ে যে টিভি অনুষ্ঠান। বিষয়ঃ পুরুষের কি যৌন হেনস্থা হয়? সেটা কি যতটা ইনসিগনিফিক্যান্ট ভাবা হয় ততটাই ইনসিগনিফিক্যান্ট? দূর তৃতীয় বিশ্বে না, এই আমেরিকায়। টিভি প্রোগ্রাম কিছু ডেটার কথা বলেছিল। সে আর খুঁজে পাইনা। আমাদের সার্চ ইঞ্জিন পাই খুঁজে বার করেছে দেখা গেল। টিভির কথায় আসার আগে, ডেটাটা দিই। পরের পোস্টে।
  • Lama | ১৬ মে ২০১৩ ২৩:৩৭604474
  • এইটা দেখেছেন কেউ?

    http://vimeo.com/66086141

    কেন মানুষ হয়ে জন্মাতে হল আমাকে? এইসব দেখার, শোনার জন্য?
  • san | ১৬ মে ২০১৩ ২৩:৩৯604585
  • ইন্ডিয়ান পেনাল কোডে আদৌ কি ছেলেরা রেপ ভিকটিম হিসেবে আসে ? একদম জানা নেই। যারা জানেন একটু বলবেন।
  • Ishan | ১৬ মে ২০১৩ ২৩:৪৪604665
  • আমেরিকায় সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের একটি সরকারি স্ট্যাটিস্টিক্স আছে। সেখানে যৌন নিগ্রহের অভিযোগের লিস্টি ও আরও নানা ডেটা পাওয়া যায়। এখানে যে টেবলটা আমি তুললাম, সেটা হল, যৌন নিগ্রহের সমস্ত অভিযোগের মধ্যে ছেলেদের করা অভিযোগ কত শতাংশ তার ডেটা। সালওয়ারিঃ

    ২০০৭
    ১৬.০%

    ২০০৮
    ১৫.৯%

    ২০০৯
    ১৬.০%

    ২০১০
    ১৬.৪%

    ২০১১
    ১৬.৩%

    পুরো সংখ্যাতত্ত্ব এই লিংকে পাবেন। http://www.eeoc.gov/eeoc/statistics/enforcement/sexual_harassment.cfm
  • Ishan | ১৭ মে ২০১৩ ০০:০৩603920
  • সংখ্যাটা মোটামুটি ১৬ শতাংশ। সংখ্যা হিসেবে মোটেও ইনসিগনিফিক্যান্ট নয়। কিন্তু শুধু ১৬% -- এই সংখ্যাটা দিয়ে দেখলে বিষয়টার মাহাত্ম ঠিক বোঝা যাবেনা। যে কারণে আমার দেখা টিভি প্রোগ্রামটার কথা বলছিলাম।প্রোগ্রামটি এবিসির। মূলতঃ একটি রিয়েলিটি শো। তার মূল ফরম্যাটটা এরকমঃ একাধিক গোপন ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে লোকে নানা অদ্ভুত আচরণ করে। যেমন ধরুন, একজন দোকানে দাঁড়িয়ে এক দামড়া লোক এক মাইনর বাচ্চাকে মদ কিনে দিচ্ছে। এই বাচ্চা ও খরিদ্দার দুজনেই এবিসির ভাড়া করা অভিনেতা। তাঁরা এগুলো পাশের লোকজনকে শুনিয়ে শুনিয়ে করছেন। আর গোপন ক্যামেরা মাপছে পাশের লোকজন, অর্থাৎ অজ্ঞাতপরিচয় অ্যাননিমাস জনতার প্রতিক্রিয়া। কেউ দেখে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে, কেউ এসে উপদেশ দিচ্চে, বাচ্চাকে মদ কিনে দিওনা। কেউ পুলিশের ভয় দেখাচ্ছে, কেউ সত্যিই পুলিশে ফোন করছে, ইত্যাদি।

    এবার কে কি রিঅ্যাকশন দেখাচ্ছে, এই নিয়েই প্রোগ্রাম।
  • Ishan | ১৭ মে ২০১৩ ০০:০৮603931
  • আমি যে এপিসোডটির কথা বলছি, সেটা ছিল যৌন নিগ্রহ বিষয়ক। লোকেশন একটি বার। নাটকের দুজন কুশীলব। বারের জনৈক মহিলা কর্মচারী, যিনি মদ সার্ভ করছেন। আর সেই কর্মচারীর পুং বস। দুজনেই এবিসির ভাড়া করা অভিনেতা। গোপন ক্যামেরার সামনে বস যা যা কান্ড ঘটাচ্ছেন, তা মূলতঃ এইঃ

    ১। কর্মচারীর গায়ে হাত দেবার চেষ্টা করছেন।
    ২। কর্মচারী অস্বস্তি প্রকাশ করলেও আরও ভালোবেসে কাছে টেনে নিচ্ছেন।
    ৩। কর্মচারীকে যৌন উস্কানিমূলক শব্দ বলছেন।
    ৪। ঘনিষ্ঠভাবে ছবি তোলার জন্য বায়না করছেন।
    ৫। কর্মচারী ছবি তুলতে আপত্তি করলে চাকরি চলে যাবার ভয় দেখাচ্ছেন। ইঙ্গিতে।

    এগুলো ধাপে ধাপে একটার পর একটা ঘটছে। জোরে-সোরে। এবং বারের সমস্ত খদ্দেরের সামনে। খদ্দেররা কেউ কিন্তু ভাড়া করা নন।
  • Ishan | ১৭ মে ২০১৩ ০০:১৩603942
  • এই নাটকটি অনেকবার অভিনয় হয়েছে বারের মধ্যে। অনেক রিঅ্যাকশান পাবার জন্য। স্বাভাবিকভাবেই। বারের খদ্দেরদের রিঅ্যাকশন মূলতঃ ইউনিফর্ম।

    ১। মহিলা খদ্দেররা কান্ড দেখে জোরে-সোরে রিয়াক্ট করেছেন। এবং পুরুষদের আগে।
    ২। পুরুষদের রিঅ্যাকশন একটু দেরিতে হয়েছে, চেঁচামেচি কোনো পুরুষই করেননি। কিন্তু অনেকেই শান্তগলায় ম্যানেজারকে গিয়ে বলেছেন, এটা আপনি করতে পারেননা। যদি কন্টিনিউ করেন তো আমি রিপোর্ট করব।
    ৩। খুব গুরুত্বপূর্ণ যেটা, সেটা হল, নিগ্রহের পাঁচটি স্তরে প্রতিটি দর্সকই কোনো না কোনো ভাবে মেয়েটির পক্ষে রিঅ্যাক্ট করেছেন। ব্যতিক্রম শুধুমাত্র একটি। একটি লোক এইসব বাজে বাওয়াল দেখে জাস্ট কেটে পড়েছিলেন।
  • Ishan | ১৭ মে ২০১৩ ০০:২০603953
  • কাহানীমে টুইস্ট এল এর পরে। নাটক ও স্ক্রিপ্ট একই রইল। খালি কুশীলবদুজনকে উল্টে দেওয়া হল। মহিলা হলেন ম্যানেজার, আর লোকটি কর্মচারী। নিগ্রহ টিগ্রহ একই রইল। খালি নিগ্রকারী হয়ে গেলেন কারিণী। আর নিগৃহিতা হয়ে গেলেন নিগৃহীত। নিগ্রহের পাঁচটি স্টেপ ও নিগৃহীতের রিঅ্যাকশন একই রইল।

    এবার দর্শকদের মধ্যে রি-অ্যাকশনে এক র‌্যাডিকাল পরিবর্তন দেখা গেল। ছেলেটি যখন ছবি তুলতে অস্বীকার করছে, গায়ে হাত দিলে পালিয়ে যাচ্ছে, তখন মহিলারা মুখ টিপে হাসছেন। পুরুষরাও বেশ উৎসাহিত। একজন তো ছেলেটিকে বললেন, আরে কি আছে রে ভাই, এসো আমি ছবি তুলে দিচ্ছি।

    মজামস্তি পোচ্চুর হল, কিন্তু অনেকগুলো শুটের শেষে প্রতিবাদী কাউকে জাস্ট পাওয়া গেলনা। ব্যতিক্রম, হ্যাঁ, এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম শুধু একজনই। এক পুরুষ ছেলেটিকে ডেকে বললেন, তাও চুপি চুপি করে, যে, মেয়েদের জন্য যা আইন তোমার জন্যও কিন্তু তাইই।

    ওই একটিই। ব্যস।
  • Ishan | ১৭ মে ২০১৩ ০০:২৮603964
  • টিভি শো এখানেই সমাপ্ত। সঞ্চালক দুটো অবসার্ভেশনের কথা বলেছিলেন। কোনো নৈতিক অবস্থান ছাড়া। সামাজিকভাবে পুরুষদের উপর যৌন নিগ্রহ কোনো "ক্রাইম" বলে স্বীকৃত নয়। ওটা মজার জিনিস। যেকারণে, যে পুরুষ নিগৃহীত হচ্ছে, সেও ওটাকে নিগ্রহ হিসেবে দেখেনা। অনেকসময়ই। ফলে পুরুষদের ক্ষেত্রে অনেক অ্যাবিউজই রিপোর্টেড হয়না। রিপোর্টেড হয়না, কারণ, অপরাধ হিসেবে তা কনসিভডই হয়না। টিভি সঙ্চালক একটা হিসেব দিয়েছিলেন। পুরুষের উপর যৌন নিগ্রহের প্রকৃত পরিমাপ, নাকি, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ৩০%। হিসেবের সোর্স আমার জানা নেই। উনি দেননি।

    এখানে একটা ইন্টারেস্টিং অবসারভেশন করাই যায়। সেটা হল, রিপোর্টিং এর সমস্যাটাকে আমারা এতদিন ভাবতাম, তৃতীয় বিশ্বের সমস্যা বলে। এখন এর সূত্র ধরে দেখছি সেটা উন্নত বিশ্বেও ঢুকে পড়ছে।
  • | ১৭ মে ২০১৩ ০১:০৪603975
  • অনুষ্ঠানটার নাম What would you do?
    সঞ্চালক Jhon Quinones
  • Ishan | ১৭ মে ২০১৩ ০১:১৩603986
  • তা, এই রিপোর্টিং এর সমস্যার কারণ কি? অনেকরকম ভাবে দেখা যেতে পারে। ফেমিনিস্ট স্টাডির খুব পপুপার একটা ক্যাটিগরিই নেওয়া যাক। "মেল গেজ"। এখানে যদি মেল গেজ বস্তুটিকে অ্যাপ্লাই করি, দেখতে পাচ্ছি, যে ব্যাপার একটাই। যৌনতায় মেয়েটি ভোয়পণ্য এবং ছেলেটি এনজয় করছে -- এই বহুল-প্রচলিত ধারণাটিই এখানে চালিকাশক্তি। ছেলেটি নিগ্রহে বিব্রত হতেই পারেনা, কারণ, তার বিব্রত হবার রাইট নেই। সে তো মূলতঃ এনজয়কারী। এই হল গপ্পো।

    এটা হাল্কা কথা নয়। গভীরতর সামাজিক নির্মান। "পুরুষ" ও "নারী" এবং বলাবাহুল্য তাদের "শরীর" এই গেজ দ্বারাই নির্মিত হয়। ফিজিওলজি দিয়ে নয়। নারী আক্রমনকে আইডেন্টিফাই করতে শেখে। আইডেন্টিফিকেশন একটি বড়ো শক্তি। নারী নিজের করা আক্রমনকএ আইডেন্টিফাই করতে শেখেনা। পুরুষ আক্রমন করা শেখে, সেটাকেও সে আইডেন্টিফাই করা শেখে। কিন্তু নিজের উপরে আক্রমনকে আইডেন্টিফাই করতে শেখেনা। সামাজিক স্টিরিওটাইপ, ইকুয়ালিটির ধারণা, সাংবিধানিক অধিকার -- সবই এর উপরেই দাঁড়িয়ে আছে। এবং "ব্যক্তি" নিজেও এরকম করেই ভাবে।
  • pi | ১৭ মে ২০১৩ ০১:২৪603997
  • দেশের পরিসংখ্যান (একটা সার্ভে থেকে)ঃ

    "..Judging from the findings of a recent Economic Times-Synovate survey, the men need to be incorporated in that bill ASAP. Of the 527 people queried across seven cities - Bangalore, Chennai, Delhi, Hyderabad, Kolkata, Mumbai and Pune - 19% said they have faced some kind of sexual harassment at office. In Bangalore, 51% of the respondents had been sexually harassed, while in Delhi and Hyderabad, 31% and 28% of those surveyed said they had been sexually harassed. Around 38% of the respondents across 7 cities in India said that in today's workplaces, "men are as vulnerable to sexual harassment as women."

    The biggest reason why these cases were never reported was "social ridicule" and because they felt they wouldn't be believed due to India's social beliefs...
  • pi | ১৭ মে ২০১৩ ০১:৩৬604008
  • জেন্ডার নিউট্রাল রেপ ল বোধহয় হয়নি। দেশের অ্যাকটিভিস্টরা দেখলাম এর বিপক্ষে বলেছেন !

    "...Put simply: unlike in existing law where the accused is male, the Committee recommendations if enacted into a proposed new Bill, will make it possible for women to be charged with these offences. This is wholly unacceptable," she said.

    Kalpana Vishwanath from Jagori said that making a gender neutral rape law will pave the way for bigger problems and make the woman more vulnerable. Dwelling on the reality of rape, women activists say, "It is an act of violence that must be seen in the context of deeply entrenched power inequalities between men and woman in our society. Gender neutral provisions only strengthen those already powerful, silencing the real victims...."

    এই যুক্তিটা মানা গেলনা ! পুরুষদের ধর্ষণকে অপরাধ বল্লে মেয়েদের উপর অপরাধ বেড়ে যাবে !

    http://articles.timesofindia.indiatimes.com/2013-03-07/india/37530996_1_gender-women-activists-human-rights
  • pi | ১৭ মে ২০১৩ ০১:৩৭604019
  • * দেশে হয়নি।
  • Ishan | ১৭ মে ২০১৩ ০১:৪০604031
  • পাই ভারতের সম্ভাব্য কিছু পরিসংখ্যান দিয়েছে। আমি আর কিছু যোগ করলাম না। বাংলা কথা হল ভারতে বস্তুটি আছে।

    এবার তৃতীয় বিশ্বে রিপোর্টিং এর এমনিই সমস্যা আছে। এখানে জাস্ট সমস্যাটাকেই হাওয়া করে দেওয়া হয়। যেমন, মোবাইল ফোন চুরির সংখ্যা কমানোর জন্য পুলিশ চুরির রিপোর্টই লেখেনা। তাতে করে, যে চুরি হল, সেটাকে নেই করে দেওয়া গেল। পুরুষের যৌন নিগ্রহের ক্ষেত্রে আমরা আরও এক ধাপ উঁচুতে অবস্থান করি। মানে চুরির সম্ভাবনাটাকেই খারিজ করে দেওয়া হয় আইন করে। অথাৎ, ভারতে আইনতঃ পুরুষের যৌন নিগ্রহ এবং ধর্ষণ কোনোটাই হয়না। সম্ভবই নয়।

    পাই যে লিংটা দিয়েছে সেটা খসড়া স্তরে বিলটি আলোচনার সময়কার লিংক। তখন এরকম সম্ভাববনা একবার দেখা দিয়েছিল, যে, পুরুষরা হয়তো ধর্ষিত হতেও পারে। কিন্তু যুদ্ধের পর "মেল গেজ" জয়ী হয়। এবং পুরুষরা এখন আর ধর্ষণযোগ্য নয়। মনে রাখতে হবে, ধর্ষণ, মৃত্যুদন্ড ইত্যাদি নিয়ে প্রবল আলোচনা হয়েছিল দিল্লী কান্ডের পর। তারপর জনমতের চাপে এই বিলটি পাশ করানো হয়। এত আলোড়ন, এত বিদ্রোহ সবকিছুতেই পুরুষের ধর্ষণের প্রসঙ্গ কখনও ওঠেনি। কারণ, মেল গেজ সর্বত্র বিদ্যমান।
  • Ishan | ১৭ মে ২০১৩ ০১:৪৯604042
  • ভারতে নতুন ধর্ষণ আইনটি কেমন? ছোটো করে লেখা যাক।

    একটি লোক(ম্যান) ধর্ষণ করেছে তখনই বলা যাবে, যদি,

    ১। যদি কোনো মহিলার শরীরে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করায়
    ২। কোনো মহিলার শরীরের অন্য কোনো বস্তু প্রবেশ করায়
    ....

    ক) মহিলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে
    খ) সম্মতি ব্যতিরেকে
    গ) ভয় দেখিয়ে বা ম্যানিপুলেট করে কনসেন্ট আদায় করে
    ঘ) কনসেন্ট থাকলেও, যখন লোকটি জানে, যে, সে তার স্বামী নয়, কিন্তু মেয়েটি তাকে স্বামীর মতো ভাবছে (এই বিচিত্র বস্তুটি আজও বদলালোনা)
    ঙ) মাল টাল খাইয়ে কনসেন্ট আদায় করে
    চ) কনসেন্ট থাকলেও আঠারো বছরের নিচে হলে
    ছ) যখন কনসেন্ট মেয়েটি কমিউনিকেট করতে পারছেনা।

    এটা খুবই বাজে ভাবে লেখা হল। আসল আইনটি পড়ে নেবেন বিশদে জানতে হলে। কিন্তু বাংলা কথা হল, যে, দিল্লীকান্ড পরবর্তী এই বিপুল জনজাগরণ (আমরা গুরুতেও এই নিয়ে কত্তো তক্কো করলাম), আমাদের তুমুল আলোড়ন, সরকারি ও সসংসদীয় আইন-বিশেষজ্ঞদের এক্সপার্টপনা -- সবার শেষে ফল কি দাঁড়াল? ধর্শণের নতুন আইন হল। সেখানে ওই ছেলেটি, তার কোনো জায়গা নেই।
  • Ishan | ১৭ মে ২০১৩ ০১:৫৬604053
  • লেখাটা শুরু করেছিলাম দিল্লীর ছেলেটিকে দিয়ে। (আজকের সারাদিনটি অন্যসব কাটিয়ে দিয়ে তাকে নিয়েই পড়লাম, তাকেই উৎসর্গ করলাম। নতুন আইনটিও পড়া হল ছেলেটির কল্যাণেই) ছেলেটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তার ক্ষতস্থানে নুন আর লঙ্কা ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভারত্য আইনে সেই ধর্ষণের কোনো বিচার হবেনা। কারণ পুরুষের ধর্ষিত হবার অধিকার নেই।

    দেবেশ রায় লিখেছিলেন "নারী মাত্রেই ধর্ষণযোগ্য"। আর ভারতীয় দন্ডবিধি লিখেছে, "পুরুষ মাত্রেই ধর্ষণ অযোগ্য"। মেল গেজের একটি কয়েনের দুটি দিক। একই বৃন্তে দুটি কুসুম। আমাদের শ্লীলতা ও শ্লীলতাহানি, তা বই তো আর কিছু নয়।
  • Rivu | ১৭ মে ২০১৩ ০১:৫৭604064
  • কিন্তু পাই যে বললেন ধর্ষণ আইনে পুরুষের জায়গা আছে, সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্তে নেই?
  • pi | ১৭ মে ২০১৩ ০২:০০604097
  • আমার 1:36 এর পোস্ট দেখুন।
    ওটা বিলে ছিল। আইনে যা মনে হচ্ছে, যথাপূর্বং। আর সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের বেলায় বিলেও আসেনি।
  • Ishan | ১৭ মে ২০১৩ ০২:০০604086
  • পাই এর লিংকটা ২০১২। তখন খসড়া ছিল বিলটা। নতুন আইনের লিংকটা পড়ুন। তাতে ওই গপ্পোটা আর নেই।
  • rivu | ১৭ মে ২০১৩ ০২:০৪604108
  • কিন্তু ধর্ষণ আইন থেকে পুরুষ কে বাদ দেওয়ার যুক্তি তো কিছুই নেই, এস্পেসালি যখন প্রিসন রেপ খুবই কমন বিষয়।
  • pi | ১৭ মে ২০১৩ ০২:০৮604119
  • কিছু (সব নয়) অ্যাক্টিভিস্ট মেয়েদের গ্রুপ থেকে আপত্তি তোলা হয়েছিল। সেইজন্যই কি বিলের ঐ ক্লজ পাস হলনা ? মনে হয়না। পার্লামেন্ট তো পুংপ্রধান।
    তার মানে, ছেলেরাও হয়তো নিজেদের ভিক্টিম হিসেবে দেখতে, সে কথা বলতে চায়না, সেটা লজ্জাকর হবে, হাস্যাস্পদ হতে হবে এই ভেবে। এবং সেই থেকেই হোক বা অন্য কারণে, ঐ মামু যেটা লিখেছে, ছেলেরা নিজেদের উপর আক্রমণকে আইডেন্টিফাই করতে চায়না, করতে শেখেনা।
  • pi | ১৭ মে ২০১৩ ০২:২৩604130
  • আরেকটা ব্যাপারও মনে হল। সঠিক পরিসংখ্যান জানিনা। পুরুষদের উপর হ্যারাসমেন্টের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েরা দায়ী, কিন্তু ধর্ষণের জন্য বোধহয় ছেলেরাই দায়ী। নাকি হ্যারাসমেন্টের জন্যও ছেলেরাই বেশি দায়ী ? ফেবু গ্রুপে এই নিয়ে থ্রেডে একজন কিছু কলেজ র‌্যাগিং এর কথা তুলেছিলেন। সেখানে বেশিরভাগ সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ছেলেরা ছেলেদের উপর করছে। এবং সেগুলো সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট হিসেবে রিপোর্টেড না। এগুলো ধরলে আণ্ডাররিপোর্টিং আরো বড়বে। ওপরে দেশের যে সার্ভেটা দিয়েছিলাম, তাতে বোধহয় এগুলো ধরা হয়নি।
  • Debashis | ১৭ মে ২০১৩ ০২:২৮604142
  • বড় আশ্চর্য্য ব্যাপার সত্যিই। কারন child abuse এর ক্ষেত্রে অনেক পুং child ও থাকে। সেক্ষেত্রে আইন কি বলে?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন