এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • সিঙ্গুর: কী ভাবছেন সবাই?

    Samik
    অন্যান্য | ০২ অক্টোবর ২০০৬ | ৮৫২৬৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Samik | ০২ অক্টোবর ২০০৬ ০০:০৬669607
  • কলকাতার লালবাড়ি থেকে অনেক অনেক দূরে বসে আছি আমাদের বেশির ভাগই। উত্তাপটা এত দূরে এসে পৌঁছচ্ছে না হয় তো সেইভাবে। কিন্তু পরিস্থিতি আপাতত খুবই উত্তপ্ত। নানা রকমের নানা রঙের চাপান উতোর, হুমকি, প্রতি-হুমকি, পুলিশের অত্যাচার, বিমান বসুর স্বভাবসিদ্ধ ঔদ্ধঙ্কÄ (বানানটা ঠিক এল না, ত + ত + ব), রতন টাটার আলটিমেটাম, কংগ্রেসের পাল্টি খাওন, ... সব মিলিয়ে আসর একেবারে, যাকে বলে, জমজমাট। কারখানা হব্বে কি হব্বে না। ফিসফাস, গুজগুজ, এবং সর্বোপরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদন, গুজবে দেবেন না কান।

    গুজবে কান না দিয়ে আমরা বরং একটু এখানেই চায়ের কাপ নিয়ে বসি, দেখি, কী ঘটছে সেখানে, কী ঘটলে ভালো হত, আর কী ঘটলে ভালো হত না।
  • Arjit | ০২ অক্টোবর ২০০৬ ১৬:৫৫669765
  • কার চোখ দিয়ে দেখবো? আবাপ? আজকাল? বর্তমান? আবাপ গত হপ্তায় একটা সম্পাদকীয়তে মমতা এবং কংগ্রেসকে ঝেড়ে কাপড় পরিয়েছে। আজকাল তো রোজই। বর্তমান সেই "মমতা আক্রান্ত" - এর বাইরে বেরোতে পারেনি।

    শিল্প জরুরী এই নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তার জন্যে জমিও জরুরী সেটাও প্রশ্নাতীত। প্রশ্নটা তাহলে কি নিয়ে?
  • saa | ০২ অক্টোবর ২০০৬ ১৭:৪৬669876
  • আচ্ছা যেসব শিল্প এতোদিন ধরে বন্ধ হয়েছে, বা এখন ও হচ্ছে, বা ধুঁকছে, সেগুলোকে আবার খোলা যায়না?
    তাহলেও তো অনেক লাভ হয় তাই না?
  • Arjit | ০২ অক্টোবর ২০০৬ ১৮:০১669987
  • সবচেয়ে বড় শিল্প যেটা বন্ধ হয়ে গেছে - বা প্রায় বন্ধ - সেটা হল পাটশিল্প - এবং এটা মোটামুটি ক্লোজড চ্যাপটারই বলা যেতে পারে - পাটের তৈরী জিনিসের কিছু ক্ষেত্রে সৌখিন ব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নেই।
  • dd | ০২ অক্টোবর ২০০৬ ২১:৩৬670098
  • এবং চা। সিক।

    বাজার ই মাথায় তোলে বাজার ই নীচে নামায়। তুমি আমি রামা কৈবর্ত্ত কি কোরবো ? তবে সরকার পারে। কখনো সখনো। কোথাও।

    তিরিশ বছর আগে কেরালার ব্যাক ওয়াটার ছিলো নালা। দুর্গন্ধ। অপরিষ্কার।

    আর এখন ? ঝক ঝক করছে। এটা একটা মির‌্যাকল। বাম ডান সব সরকার ই কয়েক দশক ধরে উঠে পরে লেগে থেকে ট্যুরিসম সেক্টর ডেভেলপ করেছে। এখন ও করছে। তাই প্রচন্ড অপ্রেসিভ ক্লাইমেট থাকা স্বত্তেও কেরালার ট্যুরিসম হু হু করে এগোচ্ছে।

    আর পচ্চিম বাংলায় অপোসিশন সব সময়েই নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভংগ করে এসেছে। এখনো করছে। সেই ট্র্যাডিশন .........
  • Samik | ০২ অক্টোবর ২০০৬ ২২:২৩670209
  • প্রশ্নটা ঠিক সেখানে নয়। চা শিল্প বা পাট শিল্প নিয়ে আরো হাজারখানেক কথা বলা যেতে পারে অন্য থ্রেডে। ডানলপ কেন খুলিতে খুলিতেও খোলে না, তাও পরে আলোচনা করা যেতে পারে। কথা হচ্ছে, টাটা মোটরের প্রস্তাবিত কারখানা নিয়ে।

    পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীদের কাজই নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ, নো ডাউট। কিন্তু সিঙ্গুরে ঠিক যে ব্যাপারটা হচ্ছে শাসক দলের হাত ধরে, ব্যাপারটা কি অতটাই সরলীকৃত? নেতারা বললেন জমি দাও, হাতে গরম চেক বিলি করে দিচ্ছি, আর সবাই রাজি হয়ে গেছে? রাজি না হলে কেড়ে নেওয়া হবে জমি, এবং জোর করে হাতে গুঁজে দেওয়া হবে চেক।

    ফাঁকার দিকে জমি পছন্দ করে কিনে আমি একখানি দোতলা বাড়ি করেছিলাম। কালক্রমে শহর প্রসারিত হল, ফাঁকা এলাকাও জনাকীর্ণ হয়ে গেল, উন্নয়নের তাগিদে ঐ এলাকায় একখানা ফ্লাইওভার করা জরুরি হয়ে পড়ল, আর সেই ফ্লাইওভার হবে আমার বাড়ির জায়গা দিয়ে। অর্থাৎ সরকার উন্নয়নের খাতিরে আমার বাড়ির জমি অধিগ্রহণ করে নিতে চাইলেন। আমার নিজের দাঁড়িয়ে তৈরি করা বাড়ি ধূলিসাৎ করে সেখান দিয়ে রাস্তা উঠবে আকাশের দিকে। সরকার তার বদলে আমাকে তথাকথিত সমমূল্যের পয়সা কড়ি দিয়ে দিলেই আমি হাসিমুখে আমার নিজের পয়সায় তিলে তিলে তৈরি করা বাড়ি ছেড়ে চেক হাতে করে বেরিয়ে আসতে পারব? উচিৎ অনুচিতের প্রশ্ন নয়, ইমোশনের প্রশ্ন। ফ্লাইওভার রাতারাতি তৈরি হয়ে যাবে না, আর চেক হাতে করে আমি চাইলেও সমান ফেসিলিটির আরেকটা জায়গায় রাতারাতি রিলোকেট করে যেতে পারব, এমন কোনও গ্যারান্টি আছে কি?

    আমার বাড়ির জায়গায় একটা মসজিদ থাকলে সরকার পারবে এত সহজে অধিগ্রহণ করতে?

    এখানে খোঁজ ওঠে অল্টারনেটিভের। কলকাতার আশেপাশে সত্যিই কি জমি কম পড়েছে? দিল্লি রোডের আশেপাশে কলকাতা থেকে হুগলি আসার পথে কত যে বন্ধ কলকারখানার সারি, যেগুলো হয় তো আর কোনওদিনই খোলার সম্ভাবনা নেই, সেই জায়গাগুলো কি রতন টাটাকে কোনওভাবেই গছানো যেত না? সিঙ্গুরের জমিই কি কারখানা গড়ার পক্ষে এক ও কেবলমাত্র একমাত্র জমি?

    এটাও ঘটনা, যেখানেই গড়ুক, তৃণমূলের বাওয়ালি করার উপলক্ষ্যের অভাব হবে না। কিন্তু একটু কি ভেবে দেখা যেত না? চাষের জমি ছাড়াও তো সত্যিই অনেক জমি আছে কলকাতার কাছে!
  • saa | ০২ অক্টোবর ২০০৬ ২৩:১৬670320
  • ডিডি কে একটি নির্দোষ প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে ট্যুরিসম বিকাশ হয়নি বিরোধী দের জন্যে?
    মানে মমতা ঝান্ডা গেড়ে বসে ছিলো যখন দীঘা অবধি রেল চালু হচ্ছিলো?
    ইয়ে মানে ...
    আর তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গে তো বিরোধী নেই ই! দোষ দিয়ে কি লাভ!
  • Ishan | ০৩ অক্টোবর ২০০৬ ০০:৪২670431
  • সিঙ্গুর কেন ভালো জায়গা:

    দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে। সিঙ্গুরের পাশ দিয়ে গেছে। বানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

    ডাবল লাইন। জাস্ট চালু হচ্ছে। সৌজন্য : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ভৌগোলিক অবস্থান। কলকাতা থেকে মাত্র তিরিশ কিলোমিটার। কৃতিত্ব: ঈশ্বর / জব চার্নক / বিজয়সিংহ।

    দেখা যাচ্ছে, আমি বা আমার বন্ধু সুজয় সিঙ্গুরে জম্মো থেকে থাকলেও সিঙ্গুরের উন্নতির পিছনে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। অতএব সিঙ্গুরের জমি কাকে দেওয়া হবে, সেই ব্যাপারে আমাদের মতামত না নিলেও চলে।

    সমালোচনা বলতে এইটুকুই।
  • Su | ০৩ অক্টোবর ২০০৬ ১০:০৫670542
  • শমীকের প্রশ্নগুলো যথাযথ। বক্তব্যটা ঠিক লজিকের নয়, ইমোশনের। কিন্তু তা সঙ্কেÄও একটা প্রশ্ন থেকে যায়। একটা রাজ্যের যখন সামগ্রিক উন্নয়নের কথা বলা হয়, তখন কি মাইক্রো-লেভেলে ইমোশন বা লাভ-লোকসান দিয়ে সব কিছু চলে? ওই বাড়ি বানানো আর তা ভেঙে দিয়ে ফ্লাই-ওভার বানানোর কথাই ধরা যাক। একজনের ইমোশনের কথা ভাবব নাকি সামগ্রিক সুযোগসুবিধে এবং ইমোশনের কথা ভাবব? আজকাল আমরা ব্যক্তিগত ইমোশন নিয়ে বড্ড বেশি ভাবিত। আগে কিন্তু দেশের জন্যে সবাই ভাবত। দেশের বা রাজ্যের কাজে ব্যক্তিগত স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার উদাহরণ আছে ভুরিভুরি। কলকাতায় যতগুলো সরকারি হাসপাতাল আছে, তার প্রয় সবগুলোই এক সময়ে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল। বা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। আদৌ কি তা হত যদি ব্যক্তিমালিকেরা সম্পত্তিগুলো দিয়ে না দিতেন? কিংবা ধরুন বিশ্বভারতী?

    তা ছাড়া আরও একটা ব্যাপার আছে। এই যে আমরা সবাই এক লাখ টাকা দামের মোটর গাড়ি চড়ব, তা ভাবলে বেশ একটা রোমাঞ্চমতো হয় না কি? কী রকম সুদিন আসবে ভেবে দেখুন, সবাই পাঁউরুটির বদলে কেক খাবে!

    সু
  • b | ০৩ অক্টোবর ২০০৬ ১০:২৭669608
  • তাহলে প বঙ্গ তথা ভারতের উন্নয়ন বিভিন্ন অকুস্থলে মসজিদের জন্য আটকে আছে? শমীকের প্রস্তাবনায় শিল্প/উন্নয়ন/তোষন সংক্রান্ত সমস্যা সমূহ এই সব বিষয় একটু আবছা হয়ে রয়েছে। এক দুই পয়েন করো। মামু যথা।
  • Arjit | ০৩ অক্টোবর ২০০৬ ১৪:০৬669666
  • শমিকের যুক্তি মেনেই কোনা এক্সপ্রেসওয়ে আর দ্বিতীয় হুগলী সেতুর মন্দিরতলা অঞ্চল আজও পুরো হয়নি। পাতালরেলও অন্তত: দশ বছর পিছিয়েছে। শুধু ওই ইমোশন - এবং ইমোশনের টানে কোর্টে গিয়ে ইনজাংশন।

    ইমোশন থাকে, কিন্তু তার সঙ্গে কিছুটা বাস্তবতা দরকার। কলকাতা প্ল্যানড শহর নয় এটা ঐতিহাসিক সত্য - নতুন ডেভেলপমেন্ট করতে গেলে আগের অনেক কিছুকে ভেঙেই করতে হবে। সেখানে ইমোশন/ইনজাংশন এসে রাস্তা কাটলে উন্নয়নই থামবে, কাজের কাজ কিসুই হবে না।
  • Arjit | ০৩ অক্টোবর ২০০৬ ১৪:০৭669677
  • সিঙ্গুর মোটে তিরিশ কিলোমিটার?
  • Santanu | ০৩ অক্টোবর ২০০৬ ১৪:২৫669688
  • সিঙ্গুর কোলকাতা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দুরে! তাহলে টাটা কারখানা হক ছাই না হক, দুদিন পর নিশ্চিত ওখানে Housing Complex হবে। শহরের এত কাছে, এত সুবিধা থাকলে, সেখানে কৃষি থোড়ি হয়?

    তবে দেড় গুন দামে জমি বেচে পয়্‌সা bank এ রাখলে যা সুদ আসে, তা কি ঐ জমিতে ফসল ফলিয়ে যা লাভ হয় তার চেয়ে কম?

    শমিক এর বাড়ি অধিগ্রহন এর ব্যপারেও পয়্‌সাটা খুব important আর দুরকম reaction হতে পারে। বালীতে ব্রীজ হবে বলে অনেক জমি বাড়ি অধিগ্রহন হয়েছে, বহু লোক কে বলতে শুনেছি, 'ইস আমাদের বাড়িটা একটুর জন্য এলোনা, কপাল টাই খারাপ'
  • r | ০৩ অক্টোবর ২০০৬ ১৪:৪৮669699
  • দুটো কথা, যেগুলো আগেও বলা হয়েছে।

    ১) মুক্ত বাজার এবং ধনতন্ত্রের ভিত্তি হল ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার। অর্থাৎ জোর করে কাউকে উচ্ছেদ করা যায় না। একদিকে মুক্ত ধনতন্ত্রের কথা, আর একদিকে গায়ের জোরে উচ্ছেদ- একসাথে চলতে পারে না।

    ২) কাজেই জমি পেতে গেলে যথোপযুক্ত দাম দিতে হবে। ঠিকঠাক দাম পেলে কেউ জমি বিক্রি করবেন না, তা হয় না, যতই আবেগ জড়িয়ে থাকুক না কেন। কাজেই আর একটি প্রশ্ন হল, যা দাম দেওয়া হচ্ছে তা আদৌ যথোপযুক্ত কিনা?
  • kallol | ০৩ অক্টোবর ২০০৬ ১৯:৪৯669710
  • কেসটা একদম ওন্নো।
    ১) যে শিল্প গড়বে সেই ঠিক করবে কারখানাটা কোথায় হবে। তার মনমতো জমি না পেলে সে বলতেই পারে -হাঁ করে ইল্লি বল। ফলে বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার কোন গল্প নেই।
    ২) কোন বন্ধ কারখানায় একসাথে ১০ হাজার একর জমি পাওয়া যবে ? টাটা কি চাকার রিম বানাবে উলুবেড়িয়ায়, কার্বুরেটার বানাবে ঝাপানদিহিতে, সিট বানাবে কাঁকুড়গাছিতে, আর ফিট করবে সিঙুরে ? ফলে বন্ধ কারখানার কোন গল্প নেই।
    ৩) শিল্প গড়তে গেলে জমি লাগবেই। এইতো ঘরের পাশে হিন্দ মোটর্স। বিড়লারা বাজার দরের বেশি দিয়ে জমি কিনেছিলো। জমির মলিকেরা স্বেচ্ছায় বেচেছিলো। তাছাড়া চাকরীর ব্যাপার তো ছিলো-ই। এখানে স্বেচ্ছায় বেচার গল্প নেই। আর চাকরীর যে গল্পটা বলা হচ্ছে সেটা যে পাতি ঢপ, তা বুঝতে আইনস্টাইন হবার দরকার নেই।
    ৪) এবার দেড়গুণ দামের গল্প। সরকার সিঙুরে জমির দাম ঠিক করেছে ৬ লাখ টাকা একর - মানে ২ লাখ টাকা বিঘা - মানে ১০ হাজার টাকা কাঠা। যে ইংরেজ আমলের আইনে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে তাতে বলা হয়েছে : জমি যে স্বেচ্ছায় দেবে তাকে সরকারি দামের ৩০% স্বান্তনা (সোলশিয়াম)+তার ওপর ১০% ভর্তুকি+তার ওপর ১২% সুদ দেওয়া হবে। তাহলে কাঠা দাঁড়ালো ১৬০১৬ টাকায়। শুনতে ফাটফাটি। হুগলী সেটেলমেন্ট নথী বলছে সিঙুরে জমির বাজারদর একবছর আগেও ছিলো ৩০ হাজার টাকা কাঠা। ফলে দেড়গুণ দামের গল্প-ও নেই। আর ব্যাংকে সুদের গল্প যে হারে স্লিম হচ্ছে কোনদিন না টাকা রাখার জন্য নিরাপত্তা কর বসিয়ে দেয়।
    ৫) এসব তো জমির মালিকের গল্প। যারা ঐ জমিগুলো ভাগে চাষ করে বা ঐ জমিগুলোতে খেতমজুরী করে জীবন চালায়, তারা ???? তারা পাবে একটা সামান্য টাকা। এরাই না তেভাগা আন্দোলনে দাবী তুলেছিলো ফসলের দুই ভাগ পাবে যে চাষ করে সে আর এক ভাগ পাবে জমির মালিক !!!!!

    তাই বলছিলাম কেসটা একদম ওন্নো।
    সেটা নিয়ে পরে কথা হবে। আজ চলি।
  • Ishan | ০৩ অক্টোবর ২০০৬ ২১:০৯669721
  • র এবং কল্লোল। ঠিক কথা। সরকার ব্যবসা করছে, কিন্তু বাজারের নিয়ম না মেনে।

    একই গল্প রাজারহাটে। যেখানে এখন নিউ টাউন হচ্ছে। সেখানেও জমির মালিককে কাঠা প্রতি দাম দেওয়া হয়েছিল দশ হাজার টাকা। সরকার সেই জমিই বেচছে কাঠা প্রতি এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা দামে। এটা বসবাসের জমির দাম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লটের কতো দাম জানিনা। বেশিই হবে মনে হয়।

    এটা পাতি ব্যবসা। এবং ব্যবসার ধরণ লোকাল প্রমোটারদের থেকেও অনেক খারাপ।
  • Lyadosh Chandra Mitra | ০৩ অক্টোবর ২০০৬ ২১:৫৫669732
  • চাষী-কে জমির বদলে টাকা দেওয়া হবে। ভালো কথা। কিন্তু চাষী জমি ছেড়ে দিয়ে টাকা নিয়ে করবে টা কি? শেয়ার মার্কেট-এ লাগিয়ে দিয়ে বাকি জীবন পায়ের ওপর পা তুলে কালার টিভিতে বাংলা সিরিয়াল দেখে কাটিয়ে দিতে পারে।
    সমপরিমান জমি দিলে ভালো - চাষবাষ যোগ্য হয় যেন। কিন্তু সে জমি কোথায়? আর তার মালিকদের কি হবে? তা আমি জানি না, আমি এখানে দুলাইন লিখে কেটে পড়ব।
  • Ken | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ০৬:২৪669743
  • একটি কথা কই, এ ধরনের অলোচোনার আগে দুটি প্রশ্ন করা প্রয়োজন, "বাংলায় শিল্প কি কম পড়িয়াছে? মানে হঠাথ শিল্প নিয়ে এত মথাব্যথা কেনো। লাভ জনক শিল্প হলে যে উন্নয়ন হবে এ বুঝতে তো আর অধ্যাপক চকোত্তির প্রবন্ধ পড়ার দরকার হয় না।

    নকি প্রশ্নটা অন্য জায়গায় অর্থাত শিল্পটা করছে কে? শাসক পক্ষ না বিরোধী পক্ষ। এবার দেখতে হবে আমি কোন দলে। সেখান থেকে তৈরী হবে আমার সাপোর্ট বেস। যাদি আমি শাসক পক্ষ হই সিঙ্গুরে শিল্প অবশ্যই হওয়া দরকার। আর বিরোধী হলে, শিল্প দরকার, কিন্তু যে ভাবে হচ্ছে সেটা ঠিক নয়।

    একটু ভেবে দেখুন যাদি আপনি অবস্থান তা বদলে নেন মনে ধরুন শিল্প করছে কেন্দ্র আর রাজ্য করছে তার বিরোধীতা, এবার আপনি কি বলবেন। সব পুঁজিবাদীদের চক্রান্ত, সর্বহারা দের ভিটেমাটি হারা করার কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুঁড়িয়ে দাও ....

    অর্থাৎ কি পেলেন ...... আজকাল বর্তমান......আপনি কোন পক্ষে দেখে নিয়ে যুক্তি টা গুছিয়ে বলুন ...... আর সবশেষে চন্দ্রবিন্দু

    আমায় যদি জিগ্গেস করেন, চুপি চুপি বলি, দুটো কথা, শিল্পটা নিশ্চিতি হওয়া দরকার, তবে মমতা মাসি যা করছেন এটা কিন্তু উনি শিখেছেন ঐ শাসক পক্ষের থেকেই। এখন অপনি চান মমতা হঠাৎ মসি থেকে দেবী হয়ে উঠুন, যে ভুল আগে আপনি করেছেন ভেঙ্গে দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে সে সব থেকে উনি শিক্ষা নিন। আমিও খুব আশা করি তাই হোক, কিন্তু কাঁকড়া কি মাকড়শাকে দেখে শিখবে! শিখলো ভালো না শিখলে আসুন সমবেতস্বরে গেয়ে উঠি,

    ওরা আমাদের গান গাইতে দিচ্ছে না ....
  • Pallab | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ০৭:০৬669754
  • দাদা রে দাদা!
    টাটা সরকারকে মাঝখানে না রেখে নিজেই সরাসরি জমি কিনতে আসছে না কেন রে?
    যতটা জমি দরকার ততটার মালিকদের সরাসরি ডেকে অফার দিচ্ছে না কেন রে/ এই সরকারটো মিদ্যিখনে থেইক্যে শুদুই কি আমাগো উবগর করে গ'? ও ম্মা, সরকার কি গৌড়ি সেন আর টাটা কি ভাঁড়ু দত্ত?
  • Santanu | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ১০:৪৩669766
  • রাজারহাট এ জমির দাম সরকার ১।৬০ লাখ নিচ্ছে, লোকে লাফিয়ে গিয়ে কিনছে, তাই দেখে Olive Gardens ৪ লাখ টাকা কাঠা চাইলো, তাও সব কটা প্লট বিক্রী হয়ে গেল। আজ থেকে ৫-৬ বছর আগে যখন সরকার ১০,০০০ টাকা কাঠা দিয়ে জমি নিয়েছিল, তখন কিন্তু কেউ ফ্রী দিলেও ওখানে বাড়ি বানানোর জমি নিত না।

    জমির দামের বাজারের নিয়ম টা এই রকম ই তো।
  • kallol | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ১২:৪৭669777
  • হ্যাঁ, যা বলছিলাম। কেসটা একদম ওন্নো। একটু গোড়ার দিকে। শিল্প=উন্নয়ন এই সমীকরণটাই আমার গোলমেলে লাগে। অহন পেশ্ন উন্নয়ন কারে কয় ? যে কম্মে ব্যাবাক মাইনষের ভলো অয়। হ্যাঁ, তাবোলে কি হগলেই টাটা-বিড়লা হয়ে যাবে? নাকি সকলেই পটলবাবু বনে যবে? কোনোটাই নয়। তবে সকলেই দুবেলা খেয়ে পড়ে নেচে কুঁদে থাকলেই হলো। কি ? খুব বেশী চাওয়া হলো কি ? শিল্প আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। পিচের রাস্তা, মটোর গাড়ী, রেলগাড়ী, উড়োজাহাজ, কম্পিউটার, টেলিভিশন ইত্যাদি ইত্যাদি (আমি পরমাণু বোমাটোমা, মারণ গ্যাস - এসব চমৎকার ব্যাপার-স্যাপার বাদই দিলাম)। তাতে করে আমরা অনেক ""উন্নতি"" করেছি। কিন্তু, সকলেই দুবেলা খেয়ে পড়ে নেচে কুঁদে থাকছে কি ? ১৭৬৯-এ স্টিম ইনজিনের কু ঝিক ঝিকের পর টেমস-রাইন-ভোল্গা-মিসিসিপি-হোয়াংহো দিয়ে জল তো কম বইলো না। ধনতন্তর-সমাজতন্তর সবই তো হলো। কিন্তু সকলেরই দুবেলা খেয়ে পড়ে নেচে কুঁদে থাকা আর হলো না। উল্টে ""উন্নয়নের"" বিছানাসঙ্গী ""শিল্প"" আমাদের বসবাসের জায়গাটার হোগা মারাইয়া দিলো দূষণ বাঁশে। যে কম্মে ব্যাবাক মাইনষের হোগায় বংশ অয়, হেই গব্বোযন্তোন্নারে ""উন্নয়ন"" কয় কুন মাগ্গের বাই ?
    জানি সংগত কারনেই প্রশ্ন উঠবে, যে চুতমারাইন্না নেট পত্রিকায় জ্ঞানের বাতি জ্বালাইয়া কয় শিল্প-টিল্প সব ঝুট হ্যায়, তারে কোন জুতোয় পেটানো উচিৎ !!
    এক হিসাবে ঠিক। তবে গান্ধী বা তলস্তয়কেও এই ঝামেলায় পড়তে হয়েছে, আমি তো কীটস্ব-কীট। এইবার সেই লাখোঁ রুপীয়া কা সওয়াল - তবে কীঈঈঈঈঈঈঈঈ। দাও ফিরে সে অরণ্য ? হতেও পারে, নাও হতে পারে। তবে, যাই হোক না কেন, প্রকৃতির সাথে, প্রকৃতির একজন হয়ে বাঁচতে হবে, প্রকৃতির প্রভূ হয়ে নয়।
  • Arjit | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ১৪:৩৭669788
  • কল্লোলের লেখাগুলো ভালো লাগছে। কিন্তু প্রশ্ন হল "অত: কিম"? ঘোড়ার ডিম হয়েই থাকবে?
  • kallol | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ১৫:০৮669799
  • সুপ্রিয় অর্জ্জিত
    পাগলা - মা কি আমার এগলার ? আয় ভাই সকলে মিলে ঘোড়ার ডিমেই তা দেই। নিদেন পক্ষে খচ্চর একটা পয়দা হবেই।
  • Su | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ১৯:১৭669810
  • অ্যাতো কথাই যখন হইত্যাসে, তহন আম্মো দুইহান কথা কই:

    শিল্প না কৃষি, এই বিষয়টা এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত ঘোড়েল বিতর্ক। যার এদিকটা আসতে কাটে, অন্যদিকটা যেতে কাটে। সিঙ্গুরের মতো একঈ রকম বিতর্ক চলছে কাটোয়ায়, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বানাচ্ছে, সেখানেও কৃষক বাঁচাও সমিতি ইত্যাদি হয়েছে। জমি অধিগ্রহণও মন্দ না -- লেক টেক মিলিয়ে প্রায় ৭০০ একর (যতদূর মনে পড়ছে, ঠিক শিওর নই)। ওখানে টাটা নেই বলে বিতর্ক কম, মমতার পক্ষেও রোজ রোজ অতো দূরে গিয়ে অন্দোলন করা শক্ত।

    কিন্তু কথাটা সিঙ্গুর বা কাটোয়া নয়, সমস্যা অন্যত্র। কাটোয়া বা সিঙ্গুর-এর এই অঞ্চল সরকারি খাতায় কলমে দু-ফসলি জমি। কিন্তু চোখে দেখলে দেখা যাচ্ছে সেখানে বছরে চারবার চাষ হচ্ছে। এখানেই গোল বাধছে, এবং এ কারণেই কৃষকেরা অনেকেই জমি ছাড়তে নারাজ। কিন্তু প্রশ্ন হল যে জমি সরকারি মতে দু ফসলি, তাতে কী করে বছরে চার বার চাষ হচ্ছে? চাষ হচ্ছে, তার কারণ এখানে মাটির তলায় জলস্তর খুব নীচে নয়। সুতরাং, যাকে বাংলায় বলে ""শ্যালো'' বসিয়ে হুশ হুশ করে মাটির তলার জল তুলে নেওয়া হচ্ছে। তাতে সব মিলিয়ে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। ভট ভট করে শ্যালো চলছে, তাতে দূষণ তো হচ্ছেই।

    যে খানে মাটির তলায় এভাবে জল পাওয়া যায় সেখানে কৃষি এখনও লাভজনক। সে কারণেই সিঙ্গুর এবং কাটোয়াতে বেশ গোলমাল লেগে গেছে। যেখানে এই সুবিধে নেই সেখানে কিন্তু কৃষকদের সমস্যা হচ্ছে। এবং অচিরে এই সমস্যা সিঙ্গুর এবং কাটোয়াতেও আসবে। ব্যাপারটা এরকম : গণতন্ত্র এবং মুক্ত অর্থনীতি দেয় যেমন অনেক তেমন ফিরিয়েও নেয় অনেক কিছু। যেমন কৃষকদের কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হচ্ছে ভর্তুকি। যে ইউরিয়া চার বছর আগেও আড়াই টাকা কিলোয় পাওয়া যেত তার দাম এখন তেরো টাকা মতো। যে কেরোসিনে শ্যালো পাম্প চলে, তাতেও ভর্তুকি উঠে গেছে, এখন মাথাপিছু মাত্র এক লিটার মেলে সপ্তাহে পাঁচ টাকায়, বাকিটা খোলা বাজার থেকে কিনতে হয় ২৬ টাকা লিটারে। শ্যালো চালাতে মোটামুটি ঘন্টায় এক লিটার কেরোসিন লাগে। চাষ ঠিক মতো করতে গেলে দিনে অন্তত দু ঘন্টা শ্যালো পাম্প চালাতে হয়। এই অবস্থায় যাদের অল্প জমি তাদের কিন্তু মাথায় হাত। ইউরিয়া এবং কেরোসিনের দাম কিন্তু আরও বাড়বে, কারণ পুরো ভর্তুকি এখনও তোলা হয়নি। তোলা হলে চার ফসলি জমির মালিকেরাও আতান্তরে পড়বেন। যেমন হতে শুরু করেছে পশ্চিমঙ্গের বাইরে বেশ কয়েকটি রাজ্যে (যেখানে জনবণ্টন ব্যবস্থা বা পাবলিক ডিসট্রিবিউশন সিসটেম জোরদার নয়।) কৃষকেরা আত্মহত্যা করছেন। সেখানে জমি নিয়ে শিল্প করারও কেউ নেই। ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে এরকম হবে না তার গ্যারান্টি কি আছে?

    সমস্যাটা হল : ভূমি বন্টন হওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গে কৃষকদের মাথাপিছু জমি কিন্তু কম। এখানে জোতদার নেই, কিন্তু সমবায় না করে কৃষি লাভজনক আর থাকবে না। অথবা, বিরাট বিরাট ক্ষেত্র টাটা বা মাল্টিন্যাশনালদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে -- গাড়ির জন্য হয়তো নয়, কিন্তু চাষের জন্যেই। অর্থাৎ কৃষিকেও অচিরেই শিল্প হয়ে উঠতে হবে।

    এই বিষয়গুলো নিয়ে আজকাল বর্তমান বা আবাপে আলোচনা থাকে না। মমতাদেরও এ নিয়ে তোয়াক্কা নেই। ইমোশন তো থাকবেই, কিন্তু তার পাশাপাশি এই বিষয়গুলোও ভেবে দেখে তবে সিঙ্গুর নিয়ে মত প্রকাশ করলে ভালো হয় না কি?

    (সব মিলিয়ে পোচোন্ডো গম্ভীর দিয়ে দিলাম কিন্তু এখন অবধি আলোচনাটা বড্ড ট্রিভিয়াল হচ্ছিল বলে দু:খিত হয়ে পড়েছিলাম।)

    সু
  • Arjit | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ১৯:৪০669821
  • সত্যিই এই পয়েন্টগুলো কোথাও দেখিনি। আরো জানা যাবে?
  • vikram | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ২০:৫০669832
  • সু,
    আট্টু লেখো। জানতে চাই।

    বিক্রম
  • Ishan | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ২১:০৯669843
  • কল্লোল এবং সু, (সু নিচ্চই সুমেরু না)

    পয়েন্ট অফ ভিউ গুলো ব্যাপক লাগছে। একটু বড়ো করে লিখুননা। গুরু নয়ে তুলে দেওয়া যাক। ডকুমেন্টেড হয়ে থাক।

    আপনাদের মেল আইডি জানিনা। জানলে সেখানেই লিখতাম। যদি অসুবিধে না থাকে, আমাকে bsaikat অ্যাট gmail.com এ এট্টু মেল করুননা। অথবা গুরুর আইডিতেও করতে পারেন। guruchandali অ্যাট guruchandali.com
  • b | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ২১:২৯669854
  • সু এর একটি সত্যি ভাল পোস্টের পরে কয়েকটি সীমিত স্কোপের রিজয়েন্ডার দিতে ইচ্ছে করছে, যদিয়ো এটা সু কে বলার জন্য নয়, ওঁর তুলে আনা কয়কটি গুরুঙ্কÄপূর্ণ বিষয়ে কটি রিলেটেড খবর দেওয়ার জন্য-

    ১। বরগা/খাস যেখানে যত বেশি দিনধরে হয়েছে, সেখানে মাথাপিছু জমি র পরিমাণ বেশ কিছু ক্ষেত্রে কমেছে। যেমন দক্ষিন বীরভূম। কিন্তু বে আইনী জমি ও real estate e দাম পাওয়ার জন্য সম্প্রতি non agricultural land এ পরিণত হওয়া জমি এর মধ্যে ধরা যায় না, ধরার উপায় ও নেই।
    (গত দেড় দশক ধরে যে ব্যাপক হারে গ্রামীণ সড়ক গুলি সারিয়ে তোলা হয়েছে ও কয়েকটি বড় রাস্তা জোড়ার জন্য অসংখ্য ছোট রাস্তায় পিচ ধালা হয়েছে, তাতে সেই সব নতুন ট্রেড রুট গুলোর পাশের জমির দাম অনেক অনেক বেড়ে গেছে লাফিয়ে লাফিয়ে, কিন্তু সরকারি আইনে চাষের জমিকে সরাসরি চাষ ছড়া অন্য কাজে ব্যহৃত হওয়ার জন্য বিক্রি করতে বাধা আছে, তাই অনেক জায়্‌গায় social foresting বা farm house গড়ে উঠছে, তার একটা পার্ট পরে গঞ্জ শহর গুলি বড় হলে real estateconvert
    হতে পারে।)

    ব্যাপক হারে জমির রেকর্ড centralised না হলে উত্তর বেরোবীও না। তবে যে কোন centralisation এর বিপদ এতে আছে।



    আর এই সমস্যার পুরোটা বিদেশি contract farming এর model এর চাপে বড় retialer দের জন্য নতুন conslidation করে নাও মিটতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে মিটতেও পারে।

    ২। স্বল্প পরিমাণে জমির মালিক জাঁরা তাঁরা অনেকে subsistence farmer অর্থাৎ চাষ করা ফসলের একটা বড় অংশ নিজেরা খাবার হিসেবে ব্যবহার করেন। ফসলের ব্যবসায় এঁদের স্টেক কম।

    ৩। শ্যালো টিউবে র ব্যাপক ব্যবহার ground water level কে যে জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, তাতে canal based বা অন্যন্য irrigation এর খোল নলচে না বদলালে উচ্চ ফলনের হার, একবারের বেশি চাশ করার সুবিধে ক্রমশ: কমবে। তবে এর empirical quantification কঠিন।
    বীর ভূমএ এটা সমস্যা।

    গত পোনেরো টা বর্ষা ভাল হওয়ায় আজ যে গুলি দু বা তিন ফসলী জমি সেটা অনেকটাই মৌসূমী বায়ু নির্ভর, এখন সেচ নির্ভর নয়।

    ৪। ক্ষেত মজুর দিন মজুর দের একটা অংশ migrant ও বেশিটই seasonal। জনসংখ্যার চাপ agriculture এর উপরে প্রচন্ড। এছড়া agriculture এর উপরে 'ছদ্ম বেকারের' চাপ বেশি। অর্থাৎ ধরুন এক পরিবারের পাঁচ জন ১০ বিঘে জমিতে কাজ করেন, কিন্তু আসলে তিন জন করলেই চলে। দুই জন extra করেন কারণ আর কোনো কাজ তাঁদের হাতে নাই।

    ৫।হাওড়া অঞ্চলে একটা বিচিত্র সমস্যা আছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া jute mill এর প্রাক্তন শ্রমিক দের একট অংশ কে জোর করে skill বদলিয়ে চাষী হতে হয়েছিল, তাঁরা skill এ পিছিয়ে এবং ভালো yield পান না। জমি র সমস্যার কথা বলছি না নতুন করে।
    ৬।যে সব রাজ্যে সব চেয়ে বেশি কৃশক আত্ম হত্যা ঘটেছে সেটা মুলত: trade policy, pricing policy, loan policy, import/dumping এবং সর্বোপোরি ভর্তুকী উঠে যাওয়ার ফলে। এইটে সু বলেছেন।
  • Samik | ০৪ অক্টোবর ২০০৬ ২২:৩৫669865
  • দু পয়সা:

    প্রথমেই ডিসক্লেইমার, খুব বেশি পড়াশোনা করি নি, আদতে কাগুজে বাঘ। জাস্ট খবর দেখে পড়ে নিজের মতামত জানাচ্ছি। ভুলভাল বকতেও পারি, কারেক্‌শনায়িত হইলে বাধিত হইব।

    শিল্প মানেই কৃষিবিরোধী এমন ভাবার যুগ নেই। হ্যাঁ, কেরালায় কোকের ফ্যাক্টরি যা করছে তা অবশ্যই কৃষিবিরোধী শুধু নয়, জনবিরোধী শিল্প, সেটা অবশ্যই নিন্দনীয়, কিন্তু তার মানে সবাই কোকাকোলা নয়।

    টাটা শিল্পের কারণে কিছু আবাদী চাষজমি নিচ্ছে, যৌক্তিক বা ইমোশনাল যে কোনও কারণেই হোক, আমরা ব্যাপারটাকে খোলা মনে মেনে নিতে পারছি না। কৃষির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকারও করতে পারছি না, আবার একলাখি মোটরগাড়ির স্বপ্ন থেকে লালঝোল গড়ানো থেকেও নিবৃত্ত হতে পারছি না। দুটোই সত্যি দরকার, উন্নয়নের স্বার্থেই।

    আমরা মমতা বা বুদ্ধদেবকে গালাগাল করছি, আলাদা আলাদা কারণে, কিন্তু বামফ্রন্ট সরকার এ বারে যেতার পরে টাটার মত অনিল আম্বানিও একটা লাভজনক প্রকল্প নিয়ে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গে। সেটা নিয়ে কিন্তু খুব বেশি নাচানাচি হচ্ছে না।

    সবাই জানে হয় তো, রিলায়েন্স এ বার রিটেইল ব্যবসা শুরু করছে, শহরে আধা-শহরে গ্রসারি সুপারমার্কেট টাইপের জিনিস বানাবে, তারা সরাসরি চাষীদের কাছ থেকে সব্জি আনাজ কিনবে এবং ঐ সুপারমার্কেটে বেচবে। বর্তমান অবস্থাতেও সামান্য কিছু অবস্থাপন্ন চাষী ছাড়া বেশির ভাগ চাষীই নিকটবর্তী হিমঘরের অভাবে ক্ষেতজোড়া ফসল অতি অল্প দামে আড়তদারের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়, নয় তো বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয় সমস্ত ফসল বিক্রি করতে না পেরে। লাভ হয় আড়তদারেরই, সে সুবিধেমতো হিমঘর থেকে মাল বের করে সারাবছর ধরে বিক্রি করে। রিলায়েন্স দাবি করছে তাদের ব্যবস্থায় তারা চাষীদের কাছ থেকে বাল্‌কে (bulk) সব্জি কিনবে, মাঝে কোনও আড়তদার না থাকায় তারা চাষীদের ভালো দাম দিতে পারবে।

    কতটা কী হবে জানি না, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী এ শিল্প কিন্তু কৃষিবিরোধী নয়।

    আরও একটা সংস্থা, তারা দাবি করেছে চাষীদের কাছ থেকে ডিরেক্ট সব্জি কিনে টাটকা সব্জি তারা রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করবে, স্টেটওয়াইড তাদের নেটওয়ার্ক বিছানো থাকবে সড়কপথে এবং হেলিকপ্টার দ্বারা। রিমোট এলাকার হাসপাতাল, জেলখানা ইত্যাদিতেও তারা এইভাবে ফ্রেশ সব্জি সরবরাহ করবে।

    এগুলো টাটা বিতর্কের সাথে রেলিভেন্ট নয়, তবে পশ্চিমবঙ্গে কৃষির জন্যেও কিন্তু অনেক কিছু শিল্প হচ্ছে। সিঙ্গুরে চাষ জমি যাওয়াটাই সার্বিক চিত্র নয়।
  • b | ০৫ অক্টোবর ২০০৬ ০০:০৬669877
  • রিলায়েন্স এর লার্জ স্কেল বিজনেস মডেল এর যাঁরা হোতা সেই সব বড় পশ্চিমি রিটেলার রা তাঁদের পূর্ব পরিচয়ে ঠিক কৃষক প্রেমী বলে পরিচিত নন। তবে ব্যবসার খাতিরে তাঁদের কৃষি বিরোধী হলে চলে না।

    যদি oxfam জাতীয় সংস্থার literature বা এমনি খপরের কাগজে চোখ রাখা যায় দেখা যায় এক্টা বড় অংশের producer রা ন্যায্য মূল্য পান না, বা মূল্য নিধরণের শক্তি buyer অর্থাৎ বড় retailer দের হাতে থাকে। খুব বেশি ভাবে থাকে। স্রেফ মামলার সংখ্যাও কম নহে।

    পেয় কফি বীন এর ক্ষেত্রে কিছুউটা fair trade self regulaltion বা legislation করা গেছে শুনেছি বা খবরের কাগজে বিঁজাপণ দেখেছি, অসংখ্য ফসলের ক্ষেত্রে যায় নি, বিভিন্ন G8GAT চুক্তির conference গুলোর সময়ে পত্র পত্রিকায় চোখ রাখলে এই সব খবর পাওয়া যায়, দ্রি ও অক্ষ র শুরু করা বিকল্প মিডিয়ার থ্রেডে উল্লেখিত মিডিয়া বা এমন কি mainstream মিডিয়া তেও এই সব খবর বেরোয়। নতুন globalisation এর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ফসল হল আফ্রিকার মালির পেঁয়াজ আর আমাদের তুলো।সম্ভবত এই ফসলের কথাই সু কয়েছেন।

    যে সব উন্নত দেশে বিশাল বিশাল কৃষি ভর্তুকি চালু আছে সেখানে industrial tax payer এর পয়্‌সায় বিরাট ভর্তূকী দিয়ে 'সম প্রতিযোগিতা' র বাজার টিঁকিয়ে রাখা হয়, এই সব দেশে meat farmingdair farmingagriculture এর ভর্তূকী কেবল ই বাড়ে। বাড়ানো নিয়ে EUUS এর মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। গত তিন বছরে সব চেয়ে বেশি যারা ইংল্যাণ্ডে ভর্তূকী পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে prince charles এর organic farming company উল্লেখে্‌যাগ্য! অবিশ্যি শিল্প বিপ্লবের পর থেকে ধীরে ধীরে ইংল্যাণ্ডে আমাদের দেশের অর্থে 'গরীব চাষী' নাই, farm worker আছে তাদের industrial worker status আছে কিন জানিনা, আছে বোধ হয়।অতএব দেখা যাছে, ওয়েলফেয়ার স্টেট এর ওয়েল ফেয়ার দিয়ে বড় contract farm এর বিশাল পাইকারী কৃষি পণ্যের বিক্রয়যোগ্‌য়্‌তা ও বড় রিটেলার দের 'মুনাফা' প্রকল্প চালু রাখা হয়েছে, (অবিশ্যি তার পরেও ইংল্যাণ্ডে অন্তত দামের কারণে প্রচুর সব্জি ও poultry
    বাইরে থেকে আসে, তার ফলে অনেক producer রা জোট বেঁধে এখন farmers market করেছেন।) ভর্তুকী কমেছে শুধু দক্ষিন আফ্রিকা, ভারত ও ব্রেজিলে। সম্ভবত ভেনেজুয়েলায় বেড়েছে। কৃষি 'reform' শুধু আমাদের ভাগ্যে জোটে। একটি উদা হল ফ্রান্সের ওয়াইন প্রস্তুত কারক গণ ও আমেরিকার meat farmer কোং গুলি। রসিকতা করে বলা হয়, আমেরিকার রোগা গরুর খোরপোষে বহু পরিবার সারা পৃথিবীতে টিঁকতে পারে। আর এদের সংগে মন্সান্তো মূলক খোলা হাওয়ায় ওয়েল্ফেয়ার ঠ্যাকনবিহীন বিশুদ্ধ বাজারি লড়াই ধরুন দাদনে জর্জরিত অন্ধ্রের কৃষকের।

    সরা সরি কৃষক (অর্থাৎ producer
    দের কাছ থেকে কেনার প্রক্রিয়া টি খুব সহজ নয়, তাইলে পাট ও আলু মার্কেটে এবং আখ বা মসলার মার্কেটে ফাটকা বা hoarding থাকত না, বা সরকারি কো অপারেটিভ গুলির proccurement process সাফল্য পেতো। আমুল ছাড়া উল্লেখযোগ্য কেউ তেমন নাই।

    তবে এই সব কোনোটাই কথা তেমন প্রাসঙ্গিক নয়, শমিক বল্ল তাই আমি একটু ফুঁকলাম। কথা হচ্চিলো সিংগুর নিয়ে। আপনারা বলুন। আমি দুটো পোস্টে অনেক সরে এসেছি, বেশি বকে ফেলেছি।

    অর্থনীতি, রাজনইতিক অর্থনীতি, রাজনীতির লোকের, কৃষি নির্ভর অঞ্চলের ছেলেয়ে মেয়েদের অভিজ্‌নতা ও পেশাদারি শিক্ষা আমার থেকে বেশি হবে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন