এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • একক | ০১ মে ২০১৫ ১২:৩৩678335
  • কোনো একদিন লিখবো ভেবে ভেবে স্মৃতি ফিকে মেরে যায়। সে যতই মনে রাখার মত হোক।

    তো হয়েছে কী আমিতো মহানন্দে একটা চাকরি ছেড়ে আরেকটা ছোটো কোম্পানি তে ঢুকেছি সদ্য। কাজকম্মো হেব্বি বোরিং তাই হটাত একদিন একটা এমেলেমে জয়েন করে ফেল্লুম। এমএলএম মানে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং। ওই যেসব লোকদের আপনেরা সযত্নে এড়িয়ে চলেন এবং এমওয়ে-হারবাললাইফ এর মত মাল্টিন্যাশনাল হলে বলেন ম্যানিপুলেটিভ, আর ছোটো কোম্পানির লোক হলে বলেন চিটিংবাজ। আমার চিরকালই নতুন কোনো ধান্দাবাজি দেখলে নেড়ে চেড়ে দেখা অভ্যেস। এবং বাছ বিচার নাই বললেই চলে। কলকাতার একটা এলিট ক্লাবে তাদের প্ল্যান-শো চলছিলো। গেলুম, দেখলুম, জয়েন করলুম। সিঙ্গাপুরে মেইন আপিস, হায়দরাবাদে আপিস এসব খুব কানের কাছে হ্যাজাচ্চিলো এক মাকড়া। পাশে ডেকে নিয়ে বল্লুম : নিজে মুরগি হয়ে বাকিদের মুরগি কত্তে হবেতো ? বাজে ঢং না করে কাগজে প্ল্যান টা আঁকুন, দেখছি। সে আঁকলো, স্ট্রাকচার দেখে মনে হলো মন্দ না। নতুন অভিজ্ঞতা হবে। ব্যাস, জয়েন।

    মাস ছয়েক লাগলো বুঝতে। মানে নিজেকে বুঝতে। উঁহু আমি যে এপ্রচে কথা বলি তাতে এ ব্যবসা জমবে না। এদিকে তদ্দিনে তাদের টপ কলকাতা লীডার এর সঙ্গে হেবি দোস্তি। অল ইন্ডিয়া টপ আর্নার যে তখনই মাসে পঞ্চাশ লাখের কাছাকাছি পায় ট্যাক্স কেটে সে মাঝেমাঝেই কীরে সব ঠিকঠাক তো ? এসব বলে। এই বিশ-পঞ্চাশ লাখের গপ্প টা এখানে টানছি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, পাঠক পরে বুঝবেন। সব ট্রেনিং সেশনে আইদার স্টেজে থাকি নয় ফ্রন্ট সীট-এ। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত রোজগার প্রায় নিল বললেই হয়।

    তা এই পুরো সময় টা জুড়ে আমার এক বন্ধু কাম দাদা আমার সর্বদা সঙ্গী। মানে আমরা কে কার সঙ্গী বলা মুশকিল। এবং তার ও দশা আমার মত। নিজেদের ব্যবসা বাড়ছেনা। এদিকে তাকে ছাড়া বিসনেস প্ল্যান মিটিং অচল। এইরকম এক বিটকেল গ্রীষ্মের দিনে নিউমার্কেটের এক তদানীন্তন কনফারেন্স হল-এ সন্দীপ-জির সঙ্গে আলাপ। সন্দীপ জি সর্বভারতীয় এনএলপি ট্রেনার হিজিবিজি এইসব শুনেই গেছি। বেসিকালি মালটাকে বাজাতে গেছি। একটা লোক কথা বলার জন্যে ঘন্টায় লাখের কাছাকাছি চার্জ করে সেই দুহাজারের প্রথম দিকে। এবং লোকে টিকিট কেটে সেসব ভাট শোনে। আমাদের কোম্পানিও সেজন্ন্যেই তাকে রেখেছে। তাকে একবার দেখবো না ? আমরা দুজন ভাগ্যক্রমে পাস পেয়েছিলুম। সময়মত কফি হাউস থেকে বেড়িয়ে একটা ট্যাক্সি ধরে, আবার জ্যামে আটকে, খানিক হেঁটে একেবারে শুরু হওয়ার আগের মুহুর্তে গিয়ে ধপাস করে সীট দখল করলুম।
  • san | ০১ মে ২০১৫ ১২:৫৪678346
  • তারপর ?
  • একক | ০১ মে ২০১৫ ১৩:৩৯678357
  • বাইরে শ-পাঁচেক লোকের ভীর। অন্য একটা হলে প্ল্যান-শো হবে। আর এই ছোটো হলের ভেতরে আমরা চল্লিশ জন। সন্দীপজি একদম ঘরোয়া আলাপের ভঙ্গীতে শুরু করলেন। নিজেকে পরিচয় দিলেন একজন এনএলপি থেরাপিস্ট হিসেবে। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর ট্রেনার মিট যাঁরা এটেন্ড করেছেন তাঁরা জানবেন ওখানে ক্রুড বিসনেস নিয়ে কথা হয়না বললেই চলে। যেমন এমওয়ে -র ব্রিট স্কুল। ভাবভঙ্গী এবং কথাবার্তা শুনলে আপনার মনে হবে ইহাই পৃথিবীর সেরা কাজ এবং সকলের এটাই করা উচিত। সন্দীপজি ঠিক সরাসরি সে পথে হাঁটছিলেন না। কে কী পোশাক পরে আছে, কার কী পছন্দ তাই নিয়ে ট্রেনার দের সঙ্গে আড্ডার মুডে এগোচ্ছিলেন। বুঝতে পার্ছিলুম উনি সেনসরি ডেটা একত্র করছেন।

    আমি কী হলুদ শার্ট বেশি পছন্দ করি ? উত্তরে বল্লুম নাহ এরকম কিছু নেই, স্টেজে থাকতে হলে বা সীট এ থেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হলে উজ্জ্বল রং বেশি কাজের। তাহলে আমার একচুয়াল পছন্দ কী ? আমি ? খালিগায়ে থাকতে পছন্দ করি। একটা হাসির হররা উঠলো। উনি আবার অন্যদের দিকে ফিরলেন।

    এরকম সুমিষ্ট মাপা লোক খুব কম দেখেছি। বা বলা ভালো একদম দুটো এক্সট্রিম এন্ডে দেখেছি। হয় সন্ন্যাসী নয় পাক্কা চিটিংবাজ। ব্যান্ডের মাঝখানে থাকা মানুষ কখনো টিপিকাল মাথা ঠান্ডা সুইট টকার হয়না। এদিকে সন্দীপজি আস্তে আস্তে তখন সাবজেক্ট এ ঢুকছেন।

    দেখো, তোমরা যে কাজটা করো সেটা একজন থেরাপিস্ট এর কাজ। ফরগেট এবাউট মানি (আমার মাথায় রেড এলার্ট), আগে ভাবো তোমরা মানুষকে কী দিচ্ছ ? আজকের দিনে মানুষের বন্ধু নেই। কিন্তু চাইলেই তুমি কারো বন্ধু হতে পারোনা। সোশাল ব্যারিয়ার আছে, মেন্টাল ব্যারিয়ার আছে, দীর্ঘ সময় দরকার। কিন্তু তোমার কাছে আছে ম্যাক্সিমাম পনেরো মিনিট। সেই পনের মিনিটে তোমাকে এমন একটা ব্রিজ বানাতে হবে যাতে সে তোমাকে বিশ্বাস করতে পারে।

    কিন্তু স্যার, এটা কি টু ওয়ে ব্রিজ ? মানে আমিও তাকে বিশ্বাস করবো ?

    গুড কোয়েস্চেন। আসছি। মিষ্টি হাসি দিয়ে আবার বক্তৃতা। বুঝতে পারছি এবার কায়নেস্থেতিক -অডিও-ভিডিও ডিভিশনে ঢুকবেন। তাই ঢুকলেন। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে কোনো একধরনের সেনসরি পারসেপশনের প্রাধান্য দেখা যায়। মানে আমরা ওইভাবে জগৎ কে দেখি। আমরা কেও কেও ভিডিও টাইপ। যা শুনি বা যা বলি তার একটা দৃশ্য কাজ করে সর্বদা। কারো কাছে জগৎ টা শব্দ দিয়ে ভরা। তারা বৃষ্টিকে বৃষ্টির শব্দ দিয়ে মনে করে, বাইক ভাবলে প্রথম বাইকের আওয়াজ মাথায় আসে, টিচার ভাবলে ছোটবেলার কোনো টিচারের বাজখাই গলা। আর আছে কায়নেস্থেতিক। এদের জগৎ টা স্পর্শ্বের, অর্থাত ট্যাকটাইল ফিলিং। সিল্কের নরম সারফেস, ভালো লেদারের জিনিস থেকে শুরু করে শরীর স্পর্শ্ব, যে কোনরকম স্পর্শ্ব ......এইসব জিনিস দিয়ে এদের মেমরি সঞ্চিত হয়। তোমাকে প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে বুঝে নিতে হবে সামনের মানুষ টির কোন ধরনের সেনসরি পারসেপশনের প্রবণতা বেশি। সেটাই তোমার তার মনের মধ্যে ঢোকার দরজা।

    হলে, স্বভাবতই পিন পরছে না। সবাই যেন একটা মানুষ ধরার কল পেয়েছে। এই মন্ত্রটাও শিখে নিলো বলে।

    "মাল্টা গুছিয়ে এগোচ্ছে কিন্তু " ফিসফিস করে দাদা বল্লো। "থামো, আমাদের খেয়াল করছে "।
  • de | ০১ মে ২০১৫ ১৫:০৫678358
  • বাঃ! ভালো লাগছে পড়তে!
  • একক | ০১ মে ২০১৫ ১৭:২৫678359
  • এখন এই যে তোমার সামনে মানুষটা, সে কিন্তু একইসঙ্গে একাধিক সেনসরি পারসেপশন এ স্ট্রং হতে পারে ! শুধু অডিও বা শুধু ভিডিও নয়। সে ভিডিও-কায়নেস্থেটিক হতে পারে, অডিও কায়নেস্থেটিক ও হতে পারে। সেযেরকম তোমাকেও সেইভাবেই এগোতে হবে। যে অডিও টাইপ নয় তাকে তুমি যেভাবে দেখা হলে গ্রিট করবে আর যে অডিও টাইপ, এই দুটো কেস এক না। হতেই পারে বাস্তবে একজন কে বেসিক রীড করার পর আর এগোবার সময় পেলে না। সেক্ষেত্রেও মাথায় রাখবে তার কোন টাইপ টা রীভিল করেছিলো। একজন ভিডিও কায়নেস্থেটিক কে ফোনে কথা বলার সময়েও তোমাকে কথার মধ্যে দিয়ে দৃশ্য তৈরী করতে হবে। নিঃশ্বাসের শব্দ নিয়ে সচেতন হবে কারণ ফোনে নিঃশ্বাসের আওয়াজ কায়নেস্থেটিক কমিউনিকেশন বিল্ড করে। আবার একজন অডিও পারসন এর ক্ষেত্রে প্রপার ভয়েস মডুলেশন অত্যন্ত জরুরি ............।

    আমার মন সরে যাচ্ছিলো। এই বেসিক ব্যাপারগুলো জানি। বইপত্র পড়েছি। আগেও এনেলপি সেশনের অভিজ্ঞতা আছে। শুধু মন দিয়ে সন্দীপজী কে দেখছিলুম। মারাত্মক ভালো ভয়েস মডুলেশন। আবার সেই সঙ্গে একেকজনের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সময় নিজের ভঙ্গী পাল্টাচ্ছেন। হ্যান্ড জেস্চার কখনো বেড়ে যাচ্ছে। বাতাসে এঁকে গোল-বাক্স এসব দেখাচ্ছেন। আবার কখনো হাত জাস্ট রেস্ট মোড -এ, গলা বেশি কাজ করছে।

    স্যার, ওয়ান ডাউট!

    ইয়েস, প্লিস।

    আমার নিজের ওরিয়েন্টেশন কী, সেটা কি তাহলে হাইড করবো ? না সবকটা ওরিয়েন্টেশন এই মাস্টারি ডেভেলপ করবো ?

    এগিয়ে এলেন। একদম কাছে কিন্তু সামনে নয় দাঁড়িয়ে পকেটে হাত রেখে একটু ঝুঁকে : আই থিঙ্ক ইউ আর কেপেবল অফ ফাইন্ডিং আউট দ্য আন্সর ইওরসেলফ।

    বলার দরকার ছিলোনা। বুঝে গেছি। শালা আপাদমস্তক নাটক করার বুদ্ধি দিচ্ছে। কিন্তু লোকটার চার্ম-এ মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি। যখন এগিয়ে আসছিলেন প্রতিটা স্টেপ মাপা। চোখ একদম কুল। নাটকের স্টেজে দেখেছি চক দিয়ে মুভমেন্ট এরিয়া ড্র করা থাকে। এ পাবলিক একদম চোস্ত হয়ে গেছে।

    কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছিনা। এসব থিওরি ভালো, এসবের এপ্লিকেশন ও ভালো। কিন্তু আমার টিমের লোকজন অন্যদের মত হুহু করে বাড়ছেনা কেনো ? পয়সা কামাতে হবে তো ! কোথায় গলদ ? আমি কী বেশি স্পেস দিচ্ছি লোকজন কে ? আরও প্রেসার দেওয়া দরকার টিম বাড়ানোর জন্যে ?

    এই আধা-আধাত্মিক ক্লাসরুমে এসব জিগ্যেস করা সম্ভব না। আরও আধঘন্টা ধরে প্রাক্টিকাল সেশন চললো। রান্ডম ট্রেনার দের তুলে নানারকম এনএলপির টুলস এপ্লাই করে দেখালেন। কয়েকটা নতুন এঙ্গেল পেলুম। সেশন শেষ হতেই নীলাঞ্জন দা ( মানে যে দাদা পাশে বসে আমারই মত উসখুস কচ্ছিল একই কারনে ) কে বল্লুম, ওই চলো জ্ঞান অনেক হলো, মাল কে লবিতে ধরতে হবে।
  • একক | ০১ মে ২০১৫ ১৭:৩০678360
  • তুই আবার সব খিটকেল প্রশ্ন করবি তাই তো ? তারচে আগে চল দাঁত কেলিয়ে একবার আমাদের টিমের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দি। আর কিছুনা হোক গ্লামার কসেন্ট এর ধাক্কায় টিমটা মাসখানেক চাঙ্গা থাকবে !

    বেশ, তাই চলো। ছাড়া যাবেনা এমনি এমনি হ্যাজ শুনে। আর আলাপের পর প্রশ্নটাও জরুরি।

    নীচের তলায় এসে দেখি আগের প্ল্যান শো ভেঙ্গে গ্যাছে। লীডার রা দাঁড়িয়ে সন্দীপ জি র সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। রঞ্জন কালকেই নতুন ল্যান্সার নাবিয়েছে। বিসনেসের ছ মাসের মাথায়। পলাশদা তাকে সন্দীপজি র সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলো। অনমিত্র দা, টপ আর্নার অফ দ্য কোয়ার্টার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে একটু দূরে দেয়ালে হেলান দিয়ে তৃষিতা ম্যাডামের সঙ্গে হ্যা হ্যা রত। তারমানে এখান থেকে বেড়িয়ে ওরা সন্দীপজি কে নিয়ে তাজ-এ ঢুকবে। এদিকে আমাদের টিমের সাকুল্যে পাঁচটি প্রাণী ইস্কুলের ভালো ছেলেমেয়ের মত আরষ্ট ভঙ্গী তে একপাশে দাঁড়িয়ে। শুধু মোহিনী ম্যাডাম হালকা উসখুস করছেন যদি কারো সঙ্গে আলাপ করা যায়। আমি জানি এই ভীর টার নেচার আলাদা। এখানে ট্রেনার বলে কেও অত পোঁছেনা, আর্নার রাই সব। আর ওদের তুলনায় আমার আর নীলাঞ্জনদার টিম বেশ ছোটো।

    এমন সময় পলাশদা এগিয়ে আমার কাঁধে আলতো হাত দিয়ে টেনে নিলো। সন্দীপজি ......হ্যাভ ইউ মেট ....? ওহ ইয়েস ! আবার এদিকে ফিরলেন।

    অনমিত্রর কাছে তোমাদের দুজনের কথা শুনেছি। সায়েন্স সিটির মোটিভেশন সেশন খুব ভালো হ্যান্ডল করেছিলে ........বেস্ট উইশেস !

    সুযোগ ছাড়ার কোনো সীন নেই। প্রশ্ন রেডি। এদিকে নীলাঞ্জন দা হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মোহিনী ম্যাডাম ও তার পেছনে পেছনে বাকি কয় জনা হাজির। আ স্মল ফ্র্যাগমেন্ট অফ আওয়ার টিম, স্যর ! চটপট হাত মেলানো, স্মাইলিং বুদ্ধা গোছের হাসি ........এবং আমি ততক্ষণে সামলাতে না পেরে বলে ফেলেছি : আই হ্যাভ ওয়ান লাস্ট কোয়েস্চেন স্যর !

    ওহ, ইয়েস ......বলো ! ফেসিয়াল মাসল বলছে সিরিয়াস।

    ইটস পীয়র্লি বিসনেস। আপনি এনএলপি টুলস শেখালেন, অনেক নতুন কিছু শিখলুম। এখন আমি যদ্দুর জানি আপনার নিজের টিম-এর লেফট হ্যান্ড হচ্ছে ইউপির একটা বেল্ট যেখানে .....আই মীন ইউ নো ইটস ডিফারেন্ট কাইন্ড, আ রুরাল মাফিয়া বেল্ট বেসিকালি। সেখানে লাস্ট ফোর মান্থস এ সাড়ে বাইশ হাজার এসোসিয়েট জয়েন করেছে। ইস ইট সামথিং মোর দ্যান এনএলপি ?

    ফ্র্যাকশন অফ সেকেন্ডে একটু হাসি খেলে গ্যালো সন্দীপজির চোখে।

    ইউ আর টু কুইক। ওয়েল, লেটস টক বিসনেস দেন। তোমার টিমের লোকজনের এভারেজ এডুকেশনাল-সোশাল স্টেটাস কী ?

    ঝটপট বলে গেলুম। চঞ্চল বাবু ইউনিভার্সিটিতে পড়ান। মোহিনী দি চেম্বার্স এ বসেন,ইকনমিক্স এর লোক। মনিদীপা রাজাবাজার সায়েন্স। আরেকজন গভমেন্ট সার্ভিসে, বিকাশ ভবন এই এই এই ........।

    বলছি আর ওনার হাসি চওড়া হচ্ছে .......ওদিকে পলাশ দা আর কার সঙ্গে আলাপ করাবে বলে উশখুশ করছে।

    নামাবলী শেষ হলে,

    হমম। নাইস। গুড কম্পানি টু কীপ। ইউ হ্যাভ গট আ স্টেডি হ্যান্ড। ইয়া, ইউ হ্যাভ। লেফট-রাইট দুটোই
    এরকম কোয়াআলিটি পিপল ?

    ইয়েস স্যর। আর্বান এডুকেটেড মাস।

    ভুরু বাঁকছে, ঠোঁট দুমড়চ্ছে এপাশ ওপাশ ....।

    হওয়াট এবাউট ইওর লেফট হ্যান্ড স্যার ?

    ওহ, দ্যাটস মাই গ্রিডি হ্যান্ড ! অর হাউ কাম ইউ এক্সপেক্ট সাচ আ ফাস্ট গ্রোথ ?

    পলাশদা মাঝখানে এসে গেছে। না এলেও কাটিয়ে দিতুম। ভাটের উত্তর। এই স্টেডি -গ্রিডি থিওরি ধর্মতলার মোরের ফুটপাথের বইতে লেখা থাকে। পঞ্চাশ টাকায় সেকেন্ড হ্যান্ড। মেজাজ টা পুরো খিঁচরে গ্যালো। ট্যাক্সি না নিয়ে হাঁটতে শুরু করলুম। নীলাঞ্জনদা ও চুপচাপ সিগারেট টানতে টানতে হাঁটছে পাশে পাশে।

    ধুর্ধুর্ধুর এই বালের ম্যানেজমেন্ট ভাট শুনতে হাউসের আড্ডাটা মিস করলুম বাল ! ধুসস !

    আরে বাল তুই এতো রেগে যাচ্ছিস কেন ? আড্ডা তো রোজই হয়। মাল্টা কিন্তু বেশ বড় লেভেলের গ্লামারাস গুপিবাজ !

    ধোর বাঁড়া নিজে রুরাল বেল্টে টিম বানিয়েছিস কীকরে সেটা বলনা জ্ঞান না মাড়িয়ে ! গ্রিড তো সমস্ত লোকের থাকে। সব বোকাচোদা গ্রিডি ! এ আবার নতুন কথা কী ? গ্রিডি হ্যান্ড স্টেডি হ্যান্ড শালা এইসব বালের ম্যানজেমেন্ট থিওরি ফুটপাথে কুকুরে মুতে দিয়ে যায়। সেগুলো বাল এসি রুমে বসে শোনা ....ধুরধুর্ধুর ....

    প্রচন্ড রাগে আকাশ বাতাস খিস্তাতে খিস্তাতে মুক্তারামবাবুর গলি দিয়ে দৌরচ্চি।
    ন টায় হাউস বনধ। আগে পৌছে একটা কালো খেয়ে এই পাপ স্খালন করতে হবে। অন্ধকার গলি। আমূলের কৌটো তে লাথি মারলুম বোধায় ....রাস্তায় একটা মরা যাচ্ছে। গ্রীষ্মের দুপুরের মত চাপা ডাক বলহরি বলহরি হরি বোওল ....। একপাল ন্যাকড়া ছ্যাকরা মানুষ। মড়ার সামনে দুটো মাতাল। পেচনে একটা টিকীয়য়ালা কেজানে পুরুত না দালাল .......এই বাল, মরার দালাল হয় ? হ্যা ? সুনেচ কখুনো ? মড়ার দালাল ?

    নীলাঞ্জনদা দেখি গলির মুখে দেয়ালে ঠেস দিয়ে জুতোয় পেরেক খুঁজছে।

    মড়ার দালাল ? কল্লেই হয় !

    হ্যা, ভাটের ম্যানেজমেন্ট থিওরি শোনার চে কাজের হবে। আমি বাল আর ট্রেনিং ফেনিং দেওয়ার চক্করে নেই। পাঁচ আনার জিনিস পাঁচ টাকার ঢং !

    উঃ তুই বাল এতো রেগে যাস কেন সর্বদা.....দেখে রাস্তা হাঁট ......কোন চুদির্ভাই অনেক পেরেক ছড়িয়েছে.........আর শোন......ফুটপাথে ফেলে দিলে গীতা-বাইবেল ও পাঁচ টাকায় কিনবেনা কেও। ফ্রি খুঁজবে .........কিন্তু খাপে খাপ লাগাতে পারলে ও দিয়ে লাখো লোকের দাঙ্গা বাধানো যায় ......যায় না ? বল .......বল ..........কেমন দিলুম বল ? আজ মুক্তারামে দিচ্ছি কাল এসি হলে দেব ..........হা হা হা হা হা হা

    শালা হতাশায় পেগলে গ্যাছে নির্ঘাত। আজ ওর বান্ধবী আসার কথা ছিলো হাউসে। তাকে দুজনমিলে ঢপঢাপ দিয়ে কাটিয়ে সন্দীপ আগরওয়াল এর ট্রেনিং নিতে যাওয়া। পিরাল্যার ঘরের মেয়ে ....পুরো ডবল অভিশাপ লেগে গ্যালো রে !
  • Atoz | ০২ মে ২০১৫ ০৩:০৮678361
  • দুর্দান্ত লাগছে। পহেলা মে থেকে শুরু হলো তবে। ঃ-)
    অপেক্ষায় আছি পরের কিস্তির।
  • aranya | ০২ মে ২০১৫ ০৩:২৩678362
  • ফাটাফাটি
  • একক | ০২ মে ২০১৫ ১৫:৪৫678363
  • সাহাবুদ্দিইইইন...........দুটো কালো !

    যথারীতি ভাবলেশহীন মুখ করে চলে গ্যালো । যদিও আনবে। ঘামে চপচপে ব্লেজার টা খুলে চেয়ারের হাতলে রাখি । শার্ট টাও ভিজে । কী বিদঘুটে গরম শালা । চিরাচরিত মুতের গন্ধের ধারে আমাদের টেবিল । সুদর্শনাদি একমনে একটা হলদে পাতা ছেঁড়া বই থেকে কিসব পরে চলেছে । পাশে মুকুল দা ঠিক আমরা বসবার মুহুর্তেই " এই যে চারিদিকের অবস্থা.......বুঝলে." বলে বাকিটা ভুলে গিয়ে একবার আমাদের দেখছে আরেকবার বধায় চারিদিকের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছে । পাখাটা গরম বাতাস উগ্রাচ্ছে গলগল করে।

    নীলাঞ্জন দা কে বসতে দেখেও কিছু বলল না সুদর্শনাদি । ক্ষেপে আচে । আজ সুকিয়া স্ট্রিটের মোরে আরেকটা ফাটাফাটি হবে । আমি একটু নিজের রাগ ভোলার জন্যে মুকুল দাকে :

    কী অবস্থা ? চাদ্দিকে ?

    এইইই .....আবার সমাধিস্থ হলো । তারপর উসখুস করে : তোরা অফিস থেকে ফিরলি ?

    না গো । একটা ব্যবসার কাজে মিটিং এ ছিলুম । নীলাঞ্জনদাও স্বাভাবিক হতে চাইছে ।

    ব্যবসা ? আজকাল তো সবাই ব্যবসা করতে চায় শুনি ! কীসের ব্যবসা ?
    মুকুলদা র হাসিটা বেশ মুকুলদা সুলভ ।

    লোক ধরার । এই আমি তোমাকে ধরলুম । তুমি অলর্ক কে ধরলে । সুদর্শনা কেও । আমি কিছু পয়সা পেলুম । তুমি কিছু । ওরা আবার লোক ধরলে পয়সা পাবে। এই আর কী !

    আমি চুপ । সুদর্শনাদি হাল্কা ভ্রু কুঁচকে আবার পুঁথির পাতায় নিবিষ্ট । মুকুল দার মুখে 'বুঝে ফেলেছি' হাসি !

    ওহ সেত চিটফান্ড তাপ্পর ওইযে কিবলে এমওয়ে ঐসব ! আরে আমার মাসিকে একবার একগাদা মুখে মাখা-দাঁতমাজা এসব গছিয়ে দিয়ে গেছিলো জানিস তো ! সেকী সব বাজারছাড়া দাম রে , তারপর শুনি সেসব কোম্পানি উঠে গ্যাছে ! কিন্তু তোরা শেষে লোক ধরে বেড়াচ্ছিস.............এটা কী নতুন কোম্পানি ? কী নাম ?

    আরে বাদ্দাও । নাম জেনে কী করবে । তোমার কাছে যেমন এমওয়ে উঠে গেছে এটাও যাবে । তার মাঝে যা কামাই হয় । কী করবো বলো ? নীলাঞ্জনদা হাসতে হাসতেই বলছে । কিন্তু আমার মনে কেমন কু ডাকছে !

    তো সেখেনে এইসব সুট ফুট পরে যেতে হয় ?

    হ্যা , ফুটো পাঞ্জাবি পরে লোক ধরলে তো খালি গায়ে লোক আসবে শুধু , তাই না ?
    এই মারিয়েছে ! এ আবার চেগে গ্যাছে রে !

    কালো এসে গেছে । চার কাপ ভাগ হয়ে যায় । খুচরো মিটিয়ে দি ।

    সিগারেট ধরায় নীলাঞ্জন দা । হটাত কাঁধে হাত অনুভব করি । ভেটকি । ওই দীপ্ত কে দেখেছিস ? হ্যা,পেছনে গ্যালো , বানাতে । সে নীলাঞ্জনদার কাঁধেও একটু চাপ দিয়ে দুলতে দুলতে চলে যায় ।

    পয়সা পেলে ? পাবলিশার কী বলচে ?

    মুকুলদা ভ্রু কুঁচকে বসে ফ্যানের ঘর্ঘর দেকচিলো , নীলাঞ্জনদার প্রশ্নে আবার অস্বস্তি তে নড়েচড়ে । কোলকুঁজো চেহারা টা এগিয়ে নেয়, কালো তে চুমুক দেয়।

    নাহ , বলল আগামী হপ্তায় যেতে । মনোজিত ছিলোনা ।
    একটু চুপ থেকে : মানুষ কিন্তু আমাদের ভোলেনি । সেই আগুনঝরা সময়ের কথা........

    মুকুল দাকে কেটে দিয়ে নীলাঞ্জনদা আবার :

    সেকী , ফোন করে যাওনি ?

    আরে পঁচিশ বার ফোন করেছি । তোলেই না । আজ ওদের লোক বলছে বই নাকী সব যেমনকার তেমন পরে আছে , অমুক তমুক । বললেই হলো ? মুকুল সমাদ্দার কে চেনেনা এমন ......

    মুকুলদার কথায় আবার ছেদ পরলো । একটা হাত একটু তুললো । হেঁ হেঁ ভাব মুখে । আমার ঘাড়ের পেছনে কারো উদ্দেশ্যে । নির্ঘাত সিরাজুল দা । মুততে ঢুকছে । ঘাড় আলতো ঘুরিয়ে নিশ্চিত হলুম ।

    লোক উঠে যাচ্ছে একে একে । দরজার কাছে জটলা । কবি তরুণকান্তি নিজের একাকী টেবল থেকে বই গোটাচ্ছেন । সাদা আলিগড়ি পাজামা লত্পত সেই এক শান্ত ছবি এতো বছর ধরে ।

    আমরাও উঠবো । সুকিয়াস্ট্রিটের দিকে হাঁটা । মুকুলদা আগেই উঠে পরলো । আসি রে ......তোরা আবার ব্যবসা ট্যাবসা কর ! দুজনের চেয়ারের হাতায় ঝোলানো ব্লেজারের দিয়ে তাকিয়ে অদ্ভূত হাসি দিয়ে ।

    নীলাঞ্জনদা ....আমি রাস্তায় নেবে বলি : রোজ ব্লেজার পরে হাউসে এলে খুব গরম লাগবে ?

    তুই ! ওফ সালা তোকে নিয়ে আর ........ফ্যাকফ্যাক করে হেসে উঠে আবার চোয়াল শক্ত হয় । গরম লাগলে লাগবে । এভাবেই আসবো এবার থেকে ।

    চুপচাপ তিনমূর্তি বাদুরবাগানের গলিতে । সুদর্শনাদি মাথা নীচু করে একটু আগে আগে । হঠাত পেছন ফিরে :

    লোকটাকে ওরকম ভাবে পিন্চ করার কোনো দরকার ছিলোনা !

    আবার হাঁটতে লাগলো । মাথা নীচু ।

    নীলাঞ্জনদা একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে একবার আমার দিকে, হাত দুদিকে ছুঁড়ে মাথা চাপড়ে মা মা গো ও ও !!

    নুন চা-র জন্যে জিভ টা বড় আনচান করচে । জোরে হাঁটতে থাকি ।
  • kc | ০২ মে ২০১৫ ১৬:৪৯678336
  • এদিক ওদিক আটভাট না বকে এটা লেখো, বড়ই সুন্দর হচ্ছে।
  • একক | ০২ মে ২০১৫ ১৮:৩৩678337
  • রাজাবাজারের ওদিকে দুপুরের দিকে কোনো ক্যাচাল হয়েছে । কজন জটলা করছিলো তাই নিয়ে । চেনা মুখ কয়েকটা ঘাড় হেলালো । চা নিয়ে বিট্টুর দোকানের উল্টো রেলিং ঘেঁষে দাঁড়ালুম । একটু দূরত্ব রেখে । নীলাঞ্জনদা-সুদর্শনা দি কথা বলুক । এবং যথারীতি নীলাঞ্জনদা গুছিয়ে শুরু করতে যেতেই শান্ত হাত তুলে সুদর্শনাদি

    : আমাকে বোঝাতে হবেনা । দুটোতে কোথায় গেছিলে জানি । আগে বললে কয়েকটা কাজ সেরে আসতুম । শুধুমুধু তাড়াহুড়ো ।

    নীলাঞ্জনদা রিল্যাক্সড মুডে সিগারেট ধরায় ।

    : ওই তুই আবার সাত হাত দুরে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছিস কী ? এখানে কোনো প্রেমালাপ হচ্ছে না !

    উফ আমি একটু স্বস্তি পাই । নর্মাল টোনে কথা বলছে । দুনিয়ায় এই একজনকেই আমি মাত্র তিন বছরের বড় হলেও দিদি বলি । শান্ত মাঝসমুদ্রের মত । খেপলে ভুবন দেখিয়ে দেবে । তার্চে পেছনে লাগুক , গম্ভীর বই পড়ে শোনাক সব ঠিক আছে ।

    নিজেই এগিয়ে আসে সুদর্শনা দি ।

    :শিরিন এর কী খবর রে ?

    : আমি কীকরে জানবো ? দেখছো তো রাদ্দিন নানান ধান্দায় দৌরচ্চি ।

    :কাজের ফিরিস্তি দিস না । কদ্দিন যোগাযোগ নেই ?

    : মাস চার হবে । নাথিং নিউ । শী ইস অল্সো বিজি । মানে , সম্ভবত ।

    : বুঝিনা তোদের !

    নীলাঞ্জন দা আবার মাঝখানে এসে পরে রেসকিউ করতে : তুমি আবার ওদের ব্যাপারে......

    : আমি কথা বলছি তো ?

    তারপর ঘড়ি দেখে : আজ এগোই ।

    ওরা উল্টোদিকের ফুটে দাঁড়িয়ে । টালিগঞ্জের বাস ধরবে সুদর্শনাদি । বাসে উঠে গেলে নীলাঞ্জন দা এপাশে ফিরবে আবার । বিট্টুর থেকে দু প্যাকেট হজমিগুলি কিনি । একটা প্যাকেট ফাটিয়ে মুখে পুরে গুলিগুলো চিবুতে থাকি ।

    ঝাঁঝালো টক ঝাল স্বাদে মাথাটা একটু ফাঁকা হয় । শিরিন । শিরিন । শিরিন আমার প্রেমিকা তাই তো ? চার মাস যোগাযোগ থাকে । সাত মাস থাকেনা । যখন থাকে তখন হাত ধরে ঘোরা-চাম্বা লামা-সেক্স-গুর্জরী প্রিন্ট-কোপাই এর ধার । এই করে পাঁচ বছর গেলো । বাড়িতে প্রথম থেকেই জানে । তবে বোঝার চেষ্টা করে হাল ছেড়েছে ।

    অন্বয় বল্লো সেদিন কেন্দুলী মেলায় দেখেছে । কে জানে।

    নীলাঞ্জনদা রাস্তা পেরিয়ে আসছে । এই বাসে ওঠার আগের সময়টুকু ওদের একান্ত । আজ বোধায় পাঁচ মিনিট ও পেল না । সুদর্শনাদি কে কখনো বাস ছেড়ে দিতে দেখিনি আমি ।
  • শ্রী সদা | ০২ মে ২০১৫ ২০:৩৬678338
  • গোলা হচ্ছে। চলুক।
  • kk | ০২ মে ২০১৫ ২১:৫৮678339
  • বাঃ,ভারী ভালো লাগছে।লিখতে থাকুন।
  • Abhyu | ০৩ মে ২০১৫ ০৩:২৪678340
  • খুব ভালো হচ্ছে।
  • একক | ০৩ মে ২০১৫ ১৪:০০678341
  • ঢাইশো দেনা ! হাঁ উহ মির্চিওয়ালি...

    মানিকতলার মোর পেরচ্ছি গরম ভুজিয়া খেতে খেতে । এ মানে আমাদের রোজকার রুটিন । নীলাঞ্জনদা প্রথমে অম্বলের ভয়ে খাবে না । তাপ্পর দু এক খামচা । আমার তো ওরাল ফিক্সেশন আছে,সর্বক্ষণ মুখে কিছু থাকলে ভালো। স্ন্যাকস,সিগারেট, চুমু ....না না চুমুটা এর মধ্যে সবচে লেস এভেইলেবল তাছাড়া রিস্কি । গন্ধ ফন্ধ হয় যদি । শিরিনের চুমুতে একবার কী বিকট ব্রয়লার মুরগির গন্ধ ছিলো । ভালো করে মাংসটা কষে না ওদের বাড়িতে । পুরো প্যাঁজ ফ্যাজ জেগে .....

    :তাহলে কী দাঁড়ালো ?

    :এসবে আজকাল আর দাঁড়ায় না !

    ফ্যা ফ্যা করে হেসে ওঠে নীলাঞ্জনদা : যা বলেছিস । আজ বিকেল টা তো জ্ঞান শুনে গ্যালো ! তবে আমার কিন্তু মনে হয় জানিস .......এক হাত গ্রিডি রাখার কথা টা ভুল নাও হতে পারে । তুই মাইরি ফটাস করে ওটাই জিগ্যেস করবি বুঝতেই পারিনি !

    : আমাকে দেখছো তো এদ্দিন , যার যেখানে হিট করার করেই ছাড়বো ।

    : তিল ঢ্যামনা হচ্ছিস দিন দিন ! আর সু বলে আমার সঙ্গে মিশে নাকী এরকম । সালা সব দোষ আমার !

    : সুদর্শনাদি এট্টু বেশি স্নেহ করে আমাকে , জেলাস হচ্চ ?

    : বাল ! স্নেহর জায়গায় ভালবাসে বল্লেও হতুম না। কিন্তু সিরিয়াসলি বল গ্রিডি হ্যান্ড .......

    : আরে , ওসব জ্ঞানের কথা শুনে আমরা কী করবো বলোত ? আমরা কলকাতার ছেলে । কোম্পানি প্রোডাক্ট লাইন দিচ্ছে আয়ুর্বেদিক সাপ্লিমেন্ট-যোগ ব্যায়াম এর সিডি,আর কাওকে রেফার কল্লে রেফারাল মানি । এবার আমি ঠেলাওয়ালার কাছে অফার দিলে সে গিয়ে জুতো পালিশ ওয়ালাকে ধরবে ! ওরা সিডি দেখে ব্যায়াম করবে বাল ? কী বলছো এসব ? পুরো মানি ফর মানি কেস হয়ে যাবে তো !

    :দাঁড়া,দাঁড়া.........এতো হরবর করিস না ।

    খন্না সিনেমার গায়ে সিগারেট গুমটি থেকে সিগারেট কেনা হলো । ল্যাম্পপোস্টে হেলান দিয়ে রাস্তা দেখতে বেশ । এগারোটা এমন কিছু রাত নয় । বিধুশ্রীর গলি থেকে দুটো পেঁচো পাবলিক বেড়িয়ে পরস্পরের কাঁধে হাত দিয়ে ঘসটাতে ঘসটাতে পাশ দিয়ে চলে গ্যালো : থুই স্লামাকে বিসসাস কইস না ? বিস - সাস ? বিস্সাসের মায়ের ....।

    নীলাঞ্জন দা ভাবনাচিন্তার মুডে আছে । আমার মাথায় কিছু ঢুকছেনা ।

    : এক এক করে বলতো ! এইযে মোহিনী ম্যাডাম। জয়েন করার সময় তো মনে হচ্ছিলো ফাটিয়ে দেবে ! ইকোনমিক্স এর থিওরি, মাইক্রোফিনান্স মডেল অমুক তমুক সাপ ব্যাং .....এ মাল্টা গত তিন মাসে কজন কে রেফার করেছে ?

    উফ এই মোহিনী একটা হেডেক। যাই হোক মাথা ঠান্ডা করে বলি

    : চার জন। তারমধ্যে একজন আমার আর ওর কমন পরিচিত ওই নিরঞ্জনদা, আরবিইউ -র। সেই জয়েন করেছে। বাকি তিনজন করেনি।

    : হমম। নিরঞ্জন মানে সেই নিরীহ গোছের মোটাফ্রেমের চশমা, আগেরদিন আমাকে স্যার স্যার বলছিলো ......ওই মালটা তো ?

    : হ্যা, ব্রাইট স্টুডেন্ট ছিলো। নিডি ব্যাকগ্রাউন্ড। এখন রিসার্চ এ আছে।

    :উরেস্সালা, রিসার্চার ও স্যার বলচে ! আমার বাবা জানলে কুয়োয় ঝাঁপ দিতো রে !

    :তোমাকে বলেনি বাল, সেদিন তুমি অনমিত্রদার সঙ্গে ফিরেছিলে। মার্সিডিজ থেকে নাবলে লোকজন ধ্বসে ...এটা নতুন কী ?

    :ওহ বাঁচা গ্যাছে ! যাক। যে কথা হচ্ছিলো। মোহিনী নিজের তো কিসব লন্ডন স্কুল ফুল চক্কর আছে না ? আর ডাকছে নীলাঞ্জন কে যে হাফহাতা আর হাওয়াই পরে কলকাতায় রিসার্চ করে। হমমম। এই সপ্তাহে যে মালটাকে ডেকেছিল ?

    :ও তো কাগজওয়ালা।

    :জয়েন করেছে ?

    :না। আমার সঙ্গে কথা বলাবার প্রয়োজন বোধ করেনি। এমনিই নাকী করবে। তিনদিন বাদে সে বলেছে হাতে ক্যাশ নেই।

    :এক্সপেক্টেড। আচ্ছা তোর এটা হন্ট করছেনা একজন হাই এযুকেটেড মহিলা, মানে শুধু এযুকেটেড নন, যথেষ্ট গ্লামারাস সব কনফারেন্সে যান ........তাপ্পর সেদিন ....ঐযেরে .......আমরা পাঞ্জাব ক্লাবে মাল খাচ্চিলুম শুনে নাক কোঁচকাচ্চিলেন........মনে পড়ছে তোর ? হ্যা ? মানে টলি-র নীচে ক্লাব ছোটলোকে যায় এমন ভাব.......হ্যা, মনে পর্ছে ?

    :হ্যা বলোনা ......ইনফারেন্স টা কী ?

    : এই যে, যাঁর এত হাই লেভেল চেনাশোনা তিনি রেফার করার সময় করছেন কাগজওয়ালা নইলে দুঃস্থ একাডেমিসিয়ান ? প্রবলেম টা কোথায় ? মুখে বলবার সময় বলে এখানকার রেফারাল প্ল্যানে কোনো চিটিংবাজি নেই, দুর্দান্ত প্রোডাক্ট। সোসাইটির সবার জন্যে দরকার। তাহলে নিজের পাশের টেবিলের কলীগ কে বলতে ফাটছে কোথায় মামা ?

    :মানি ডীল কে ছোটো চোখে দ্যাখে বলছো ? সেম স্টেটাস-এর লোক ভাবতে পারে রেফার করে পয়সা পাচ্ছে এন্ড দ্যাট ম্যাটারস ইন আ সেম স্টেটাস রিলেশনশিপ। তাই ঘুরে ফিরে বকনা পাবলিক ধরে আনে ? এস ইফ "হেল্প" করছে ! ?

    :একদম তাই। এক দোওওওম তাই। আমরা শালা এদের চক্করেই পরে গেছি। আরে যে মাকড়া রা নিজের মাইনে কে বলে সম্মানদোক্কিনা আর ফোরেপুকুর মিলের লেবারের বেলায় ওয়েজেস ....তাই নিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে থিওরি মারায়........ভাবতে পারছিস অলর্ক ? হাঃ হাঃ হাঃ সালা কাদের খপ্পরে পরেচি আমরা ? আগুন দে আগুন দে আরে বাল মুখে ....দেশলাই চুদে গ্যাছে ...।

    লাইটার এগিয়ে দি। নিজেও একটা ধরাই।

    আমি ভাবতে পারছি। বুঝতেও পারছি। অনেকদিন ধরেই এই স্টেটাস-ক্যাটেগরী-অফার এর খেলাটা খেলতে খেলতে অনেক কিছুই ক্লিয়ার হচ্ছে চোখের সামনে। মানুষ জন্তুটাই অদ্ভুত। সন্দীপ-জির একটা হ্যান্ড কিন্তু পুরো আর্বান এডুকেটেড। ঐতো এনএসডি র যার সঙ্গে আলাপ হলো সায়েন্স সিটি তে। স্টেজ এপিয়ারেন্স নিয়ে কপ্চাচ্ছিল !.............কিন্তু আরেকটা হাত মালটা রুরালে .........শ্লা আলটিমেটলি রেশিও তে কামিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিন্তু ......

    :ঢুকলো কিভাবে ?

    :মানে ? কোথায় ? সন্দীপজির রুরাল বেল্ট?

    :না তো কী আমার হোগায় ?

    :আরে বাল চটিস না ! এসব মোটিভেশনাল স্পীকার, নেটওয়ার্কার এরা বিষ মাল হয়। ঠিক কোনো কানেকশন কাজে লাগিয়েছে। ওর রাইট হ্যান্ডে পার্মিন্দর কাউর কে চিনিস ? সে আরেক বিষ।

    :কে পারমিন্দর ? সেই জেলের দুরবস্থা নিয়ে টাইমস এ কলাম লিখলো...সবুজ কাজল-সোনালী চুল সেই মালটা ? কে আবার বল্লো ওর নিজের অর্গানায়যেসনে নাকী অডিট এ প্রচুর চাপ !

    :ওসব পার্ট অফ দ্য গেম মামু। এই কুত্তা-শেয়ালে কামড়ানো মার্কেটে তুমি সাকসেস পাবে আর তোমার অর্গানায়যেসনে রেইড হবে না তো কী আমাদের বেগার্স কর্নার কফি হাউসে হবে ? পার্মিন্দরের মাফিয়া কানেকশন আছে। সেদিক দিয়েই ঢুকেছে কিনা আমি জানি না অবশ্য।

    :ধুর বাল ! বেকার পোলাও রান্না রাখো। আমরা কী করতে পারি ? পারমিন্দরের গপ্প শুনেই বা আমার কী ? তোমার কী ?

    :জানতে চাইলি আমার হানচ টা বল্লুম। পশ্নও করবি আবার গাল ও দিবি ......কী চাপ

    নীলাঞ্জনদা চুপ মেরে যায়। সিগারেট ধরায়। এবার টুকটুক হাঁটতে থাকি আবার। শ্যামবাজার থেকে একটা ট্যাক্সি নিয়ে নেব। রাস্তা পেরোচ্ছে ঠেলাওয়ালা রা। বিশাল সব কাগজের কার্টুন। বই ফই হবে বা বাঁধাই খাতা। এলিয়ে পরে যায় এমন অবস্থা। পাশ কাটিয়ে ফুটপাথে উঠি।

    গোলবাড়ির সামনে একটা কাপল দরদাম করছে। নীলাঞ্জনদা লেকটাউনের ট্যাক্সি ধরবে। আমি সোজা বেরোবো।

    : গ্রিডি ফিডি বুঝিনা, কোনো একটা পয়েন্টে জোরে ধাক্কা দিতে হবে। নতুন পকেট খুলবো। নীলাঞ্জনদা কে বলি।

    :কোথায় ?

    : দেখি, সবচে বেশি এমেলেম কোম্পানি কাজ করেছে, পয়সা মেরে উঠে গেছে এরকম জায়গার লিস্ট বানাতে হবে।

    :দিয়ে সেগুলো বাদ্দিবি ? ওহ না না বুঝেছি ...........!

    নীলাঞ্জনদা আবার ছয় ফুট চার শরীরটা দুলিয়ে হাসতে থাকে। চারপাশের লোকজন তাকায়। দুটো গরমের মধ্যে ব্লেজার পরিহিত যুবক নিজেদের মস্করায় নিজেরাই পাগলের মত হেসে চলেছে ..

    ....না না তুমি দেখো জাস্ট থিঙ্ক ...আমি বোঝাতে থাকি.......এইযে বুলবুলি পত্থম পেরেম টা চটকে গ্যালো তকুন হাউসে বসে আমার মাইরি এক কাঁধ বেথা করে ভিজিয়ে......আর .......এখন তো অষ্টম গর্ভের প্রেমিক ........হাঃ হা......তাপ্পর এইযে আমি ......আগে আগে কেমন একটা দেখা করার বাই...........আর এখন........অভ্যেস...মামা অভ্যেস....যাদের ঠকার অভ্যেস বেশি তারা বেশি বেশি.......হো হো হো করে হেসে উঠি নিজের অবাস্তবতায়। নীলাঞ্জনদাও হেসে চলেছে।

    একজন নাকে আঁচিলওয়ালা বিরক্ত থোবরা ঝুলিয়ে সাইড কাটায়। ওদিকে একটা ট্যাক্সি শেয়ার তুলছে।

    কাটা আজকে। কী দিন গ্যালো স্লা....সন্দীপজির বাতেলা.....সু-র বকুনি......এখন তোর থিওরি ..এগোই রে..।

    একজনই নিতে বাকি ছিলো, ফ্রন্ট সীট দেখে উঠে পরি।
  • একক | ০৪ মে ২০১৫ ১৫:২০678342
  • কদিন এলেবেলে যায় । আপিস থেকে বেরোতেও দেরী হচ্ছিল । উইকেন্ড দুটোতে দুটো ধরাবাঁধা ট্রেনিং দিলুম । সেই কালো কালো মাথা । ফটাফট ফটাফট । থার্ড উইকে শুক্কুরবার দেখে কী একটা কারনে ছুটি । দুপুর দুপুর তাই সল্লেক চলে এলুম । পলাশদা গাঁটের কড়ি খসিয়ে একখান আপিস নিয়েছে । প্রোডাক্ট ট্রেনিং চলছে । হাবিজাবি কথা । হঠাত দেখি দুজন কাঁধে ব্যাগ-হাতে ফোল্ডিং ছাতা পাবলিক নিয়ে কৃষ্ণেন্দু হাজির ।

    :অলর্কদা তুমি আছ ! কী ভালো হলো !

    মনে মনে সতর্ক হই । কিছু ব্যাগার খাটানোর মতলবে আছে ব্যাটা ! ভয়ঙ্কর ডেসপারেট ছেলে কৃষ্ণেন্দু। গত দুমাসে ওর কলেজের ফিজিক্স এর হেড ডিপ থেকে বিডি ব্লকের ডাবওয়ালা সবাইকে ধরে এনেছে এবং কাওকে না কাওকে দাদা -দিদি পাকড়ে প্ল্যান শো করিয়ে নিয়েছে ! কালোকুলো-বেঁটেখাটো আদুরে মত শালাকে দেখলেই মনে হয় গালটা টিপে দিয়ে মাথায় এক চাঁটি বসাই , হতভাগা লাঞ্চ টাইমে লোক নিয়ে হাজির ......

    :আমি এখন বেরোবো রে !

    : আরে আপনি অলর্কবাবু ? হেঁ হেঁ কৃষ আপনার নাম করছিলো ! এহে বেটাইমে এসে পড়লুম । আসলে পুরনো ছাত্র এতবার করে বলছে এদিকে এই টিপিন টাইমের পরেই আবার দুজনের ক্লাস হেঁ হেঁ !

    আপাদমস্তক দেখলুম । কৃষ হার্গিস আমার নাম করেনি । দুজন ইস্কুল টিচার । দুজনেরই পায়ে হাশ পাপিস । জামার ছিটটা রেমন্ডের সামার কালেকশন। একজনের হাতের ঘড়ি বেশ দামী।

    :বসুন বসুন। কোনো অসুবিধে নেই। আমি দুমিনিট বাইরে থেকে আসছি।

    কৃষ কে ইশারায় বাইরে ডাকি।

    :এই হতভাগা ....এতো খাপের মাল মনে হচ্ছে, কেস কী ?

    :দাদা একদম খাপের ! পলাশদা র ফ্ল্যাট -এর ওপরে থাকে। বিসনেস সবই জানে। পলাশদাকে এপ্রোচ করতে ধস্ছিল বোঝোই তো ! আমি তুলে নিয়ে এলাম। ঐযে টাকমাথা সন্তোষ স্যার ওর বিশাল কোচিং আর ভুটে কে চেন তো ভুটে ? স্যারের কথায় ওঠে বসে। আর কাঁচা-পাকা চুল হচ্ছে চিদু, চিদানন্দ খাসনবিশ ! আরে ওই কদিন আগে কাগজে এলোনা ঘাটালের মহানন্দ খাসনবিশ...।

    :ও সেই এমেলে কেস ? এর ভাই ? আর ভুটে তো অবিনাশ চক্কতির বখাটে ছোঁড়াটা না ? বাপ মিনিস্টার আর ছেলে বাওয়াল দিয়ে বেড়ায়। সেও তোর ক্লাসমেট !

    : চিদু ছোটো ভাই ! ঘাটালে হাত খুলে যাবে। ওদিকে সন্তোষ স্যারের মালদায় পুরো পলিটিকাল লবি মামা কলকাতা তো আছেই উহহ.........

    ছেলেমানুষী লোভে ঘাম চকচকে হয়ে ওঠে কৃষ্ণেন্দুর মুখ।

    :থাম এতো নাচিস না। আমি কথা বলছি। তুই একদম মাথা গলাবিনা।

    আবার ঘরে এসে বসি। চুপচাপ জল খাই। চা অফার করি। কিছুক্ষণ হেঁ হেঁ চলে।

    :হ্যা স্যার বলুন ! আমাকে বাবু বলার দরকার নেই। একসঙ্গে কাজ করব, অলর্ক বলেই ডাকবেন।

    সন্তোষ স্যার মুখ খোলেন : তা তো বটেই ! আসলে কী আমার জানার ছিলো এখানে মানে একসঙ্গে কতগুলো সাইট খুলে জয়েন করা যায় ?

    :আপনি তো সরকারী এমপ্লয়ী। এবার বৌদি-প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে -এরকম ধরে যত পারেন। আইনি কোনো বাধা নেই।

    : ওহো তা ভালো তা ভালো। আমার বুঝলেন.........প্রথমেই শ-দুয়েক লোক মানে এসব ব্যবসা যা বুঝি প্রথমেই বেশ চেক টেক এলে হেঁ হেঁ বুঝলেন তো ....

    কৃষ্ণেন্দু গোল গোল চোখ করে তাকিয়ে আছে। আমি জানি ও স্বপ্নে ডুবে গ্যাছে। লোকে জয়েন করে মাসে দুটো রেফারাল দিতে পারেনা আর ইনি শ-দুয়েক। মালটাকে খোঁচা দি : ওই কৃষ, আমার ল্যাপটপ পাশের ঘরে নিয়ে আয়। না থাক .......

    :স্যার আসুন, কনফারেন্স রুমে বসি। কৃষ গিয়ে প্রজেক্টর সেট কর।

    কোনদিন এরকম হলেও হতে পারে বড় মাছ জয়েন করাইনি। মালটা ঢপ দিচ্ছেনা তো ? তবে রোদে পোড়া চোখমুখ-গলার মডুলেশনে মনে হচ্ছে মাল তৈরী জিনিস। দেখাই যাক। কন্ভেন্সনালি প্ল্যান শো করব না। প্রোডাক্ট জানে। পটেনশিয়াল তো টাকার অঙ্কে জেনেই এসছে। রোজ পলাশদার ঠাট বাট দেকচে।

    প্রজেক্টর অন করে একদম ওয়েস্ট বেঙ্গল ম্যাপ ফেলে দি।

    :বলুন স্যার। আপনি মানে আপনারা দুজনেই কোথায় কত লোক দিতে পারবেন। আমি নোট করে নি। তারপর নাহয় কোথা থেকে শুরু করা যায় নিয়ে আলোচনা হবে। কেমন ?
  • de | ০৬ মে ২০১৫ ১২:৫৫678343
  • তার-পর?
  • সিকি | ০৬ মে ২০১৫ ১৪:৩৪678344
  • একক্কে দেখা যাচ্ছে না কেন?
  • একক | ০৬ মে ২০১৫ ২১:১৪678345
  • : শোনেন, শিক্ষকতার বাইরে আমার পরিচয় ইয়ে মানে কৃষ্ণেন্দু নিশ্চই বলেছে আপনাকে । কলকাতা আর মালদা এই দুই জায়গায় আমার পরিচিতি ।

    সন্তোষ স্যার থামতেই চিদানন্দ স্যার বলেন

    :আর আমার ধরেন কলকাতা আর ঘাটাল ।

    :হ্যা , এখন কলকাতায় আমাদের দুজনের পরিচিতি কিছুটা পুরনো ছাত্রছাত্রী কিছুটা হেঁ হেঁ অবিনাশদার পরিচয় জানেনই তো ওনার ছেলে আমার ছাত্র , তাআআ সে বড় বাপের ব্যাটা যা হয় আরকি , কিন্তু খাতির টা রয়ে গ্যাছে হেঁহেঁ .....এইত আজ সকালেই......মানে যাইহোক টিম বানাতে কোনো অসুবিধে হবেনা !আর মালদায় আমি আপনাকে সঙ্গে নিয়ে যাবো । ওখানকার বড় বেল্ট আছে আমার । টিম নিয়ে ভাবতে হবেনা হেঁ হেঁ

    আবার চিদানন্দ...

    :আর আমার কলকাতার পরিচিতি ছাত্রছাত্রী আর ইয়ে মানে ঘাটালে আমি হেসেখেলে কী বলেন পাঁচশো লোক ডাকলে দুশো জয়েন করবেনা ?

    শুনে যেতে থাকি । ম্যাপ এর ওপরেই দাগ দিচ্ছি । নোট রাখছি । প্রায় দশ মিনিট ধরে বিশদে কোন কাউন্সিলর চেনা,কোন প্রাক্তন ছাত্র কোন কমিটির মেম্বার , কোন কোন "বাঁচাও" কমিটিতে নিজের লোক আছে সে এক লম্বা ফিরিস্তি । সবটা বিশ্বাস হয়না । মিথ্যে বলছেন তা না । কিন্তু ওভারএস্টিমেট করছেন । কিন্তু সিরিয়াস মুখে "তাই ?" , "দুর্দান্ত" এসব বলতে বলতে ঠিকুজি কুষ্টি সব লিখে নি । মোটামুটি জমিদার বাড়ির বেড়ালের বিয়ে মার্কা একখান লম্বা লিস্ট বানিয়ে পাশে সরিয়ে রেখে মুখ খুলি । মালদুটোকে একটু সাইজ করা দরকার । নইলে কনফিডেন্স এর চোটে প্রথমেই মাখাবে ।

    :স্যার , আমার একটা ছোট্ট প্রশ্ন । ঠিক এইমুহুর্তে , কোনরকম ইন্ট্রোডাকসন না দিয়ে , ডিটেলস না দিয়ে শুধু যদি ফোন তুলে বলেন "ওই আমি আছি মানে তুমিও থাকবে , টাকা নিয়ে অমুক জায়গায় চলে এসো" তাহলে ঠিক কে কে বা কতজন শুধু আপনাদের মুখ দেখে জয়েন করে ফেলবে ? অফিস দেখবেনা , আমি কোনো প্ল্যান শো করবোনা । এদের নাম বলুন ।

    চিদানন্দ স্যার কপাল কুঁচকে ভাবতে থাকেন । সন্তোষ স্যারের দিকে তাকান । সন্তোষ স্যার একটু এদিক ওদিক তাকিয়ে ষড়যন্ত্র করার ভঙ্গীতে

    : হে হে আমিতো অলরেডি দুজনকে বলেছি । তারা রাজি । একজন আমার ছাত্র । কোচিং চালায় । আরেকজন প্রমোটিং করে । এই সল্লেকেই !

    :তাহলে মোট কত হলো ?

    দুজন মিলে হিসেবটা সাত জনে নেবে আসে । সন্তোষ স্যারের পাঁচ , সদানন্দের দুই ।

    :ব্যাস , আমরা প্রথম এই সাত জন কে দিয়ে খাতা খুলি । আপনার মাল্টিপল সাইট কেনার থাকলে আগে কিনে সাজিয়ে নিয়ে নীচে এদের রাখুন । তারপর গোটা ওয়েস্ট বেঙ্গল খাবো ! ঘাটাল -মালদা দিয়ে তো শুরু !

    ........সেকী ভাই তুই সব খেলে আমি খাবো কী ?

    দাঁত ক্যালাতে ক্যালাতে পলাশদা ঢোকে : আরে সন্তোষ স্যার আপনিইইই ! কী সৌভাগ্য !

    ব্যাস হে হে হো হো শুরু হয়ে যায় । এটা পলাশদার নিজস্ব স্টাইল । কোনো ব্যবসার কথা না বলে নাগারে শো অফ করে যাবে আর খালি হাসি । মাঝে একবার সিরিয়াস মুখ করে : অলর্ক নিশ্চই সব ক্লিয়ার করে বুঝিয়ে দিয়েছে ?

    :হ্যা উনি একদম ম্যাপ ফেলে বুঝলেন কিনা আমরা যা প্ল্যান করেছি একদম ফাসক্লাস ! পুরো ঘিরে ফেলবো ! এখন প্রথমে সাতজনের টার্গেট ।

    :টার্গেট ? টার্গেট ও ধরিয়ে দিয়েছে ? হি হি হি কিসব ব্যবসায়ী ছেলেপুলে বানিয়েছি দেখুন ! স্যার আমার নেবার বুঝেছো তো ? জয়েন করাচ্ছ করাও ঠিকমত সাপোর্ট না দিলে মান-সম্মান যাবে ! শিক্ষকের সম্মান রেখো বাবা !

    ন্যাকামি চলতে থাকে । আমার খিদে পাচ্ছে । এদের এখন লম্বা হে হে হে চলবে । অলরেডি গাড়িতে নতুন কেনউড এর সেট আর লেদার ফিনিশ নিয়ে কতগুলো টাকা "এমনি এমনি" গচ্চা গ্যালো সেই নিয়ে বিপুল অনুযোগ চলছে । সন্তোষ স্যার তাইতো তাইতো কচ্ছেন । কেটে পরাই মঙ্গল !

    :আমি লাঞ্চ সেরে আসি কেমন ।

    :লাঞ্চ করিস নি ? আনিয়ে নিচ্ছি !

    :না না থাক !

    :হ্যা তোর তো সিটি সেন্টারের খাবার ছাড়া চলেনা !

    :তোমার প্রতিবেশী বলে কথা । কিছু প্রাইভেট আলোচনা থাকবে !

    :দেখেছেন স্যার , আওয়াজ দিচ্ছে ! দেখেছেন !

    আবার হাহা হো হো হেঁ হেঁ হি হি ...........

    বেড়িয়ে আসি ।

    :ওই কৃষ ! পেটে কিছু পরেছে সকাল থেকে ? চল সিটি সেন্টার ।

    ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুর । কাঁচের ভেতরে ঢুকে কিছুটা স্বস্তি লাগে । কিসব চাউমিন ফাউমিন দেখে তুলে নি । গদ গদ করে চিলি-সোয়া সস আর ভিনিগার ঢেলে ঘ্যান্ট পাকাই । মাথাটা কী বিশ্রী ধরে আছে ।

    :দাদা কিরকম টিম হবে ? কী বুঝলে ?

    :দু -ম্যাক্সিমাম তিন । নেক্সট টু উইকস এ ।

    :এতো কম ?

    :বাল , এই খেয়ে হজম কর আগে !
  • একক | ০৭ মে ২০১৫ ১৫:২৫678347
  • : তুমি মাইরি আবার সেই কালো ঘ্যাঁট টা পাকিয়েছো !

    : তো ?

    :আমারও পাকাতে ইচ্ছে করছে যে !

    অতঃপর কৃষ্ণেন্দু সোয়াসস এর বোতল উপুড় করে দেয় নিজের ডিশ-এ। চিলি ও। গ্রেভি নুডলস এর সঙ্গে মেখে চুকে মুখে তুলে জোর হেঁচকি।

    হেসে ফেলি। আমি এভাবে খাই বলে ওকেও করতে হবে। ছেলেমানুষ কী গাছে ফলে। ওর মাথায় কী ঘুরছে জানি। এইত তিনটে টেবিল পরে ওই কোনাতে মাস পাঁচেক আগের সন্ধ্যে। নীলাঞ্জনদা,আমি,সুদর্শনাদি, কৃষ আর শিরিন। সেদিন বেজায় ভীর। গমগম করছে কাঁচ ঘেরা জায়গাটা। এরকমই চাউমিনে কালো ঘ্যাঁট পাকানো দেখে শিরিনের কী চিত্কার। আমি বুঝেই পাচ্ছিনা ওর অসুবিধে টা কী ! আমিতো আমার মত করে খাবো নাকী। "ইট লুকস আগলি ! পিপল আর অযচিং !!!" যা স্সালা এমনিতেই নুডলস খেতে বোর লাগে। খেলে এভাবেই খাই।

    সুদর্শনাদি কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে ব্যাপারটা বোঝার পর : এই তুই আমার পাশে বসে খা, এদিকে ঘুরে ! কেও দেখবেনা। লোক দেখছে বলে নিজের ইচ্ছেমত খাওয়া যাবেনা ?

    ব্যাস, সেই তোম্বাপানা মুখ করে বসে রইলো তো রইলই। কালো কাঞ্জিভরম পরেছিল সেদিন। আর রেগেমেগে শাড়ি পরে হাঁটতে গেলে হোঁচট খাবেই। ঐতো ওই গোল হয়ে ঘুরে নাবা সিঁড়ি টা .......আমি পাশে পাশে নাবছিলুম কথা না বলে।

    :রোটারি তে যাচ্ছ আজকে ?

    কৃষ এর কথায় আবার বর্তমানে ফিরি। আজ সন্ধ্যের প্ল্যান শো রোটারি তে। পলাশ দা নিজেই কন্ডাক্ট করবে। আজ তো আমার আসার কথা না। তবে গেলেই হয়। মোহিনী ম্যাডাম আর চঞ্চল স্যার আসবেন বলেছেন নিজের ইনভাইটি নিয়ে। বলে দিয়েছিলুম অত বাবা বাছা করে সঙ্গে আনার দরকার নেই। জাস্ট প্রপার এড্রেস দিয়ে দেবেন, হলের বাইরে দাঁড়িয়ে রিসিভ করবেন। যথারীতি শুনবেনা। এদের কনফিডেন্স এতো পুওর ক্যানো ? এই সন্তোষ স্যারের মত পাবলিক যদি এক-দুটো পেতুম.......

    : হ্যা যাচ্ছি। শোন কৃষ, এই সন্তোষ আর চিদানন্দ স্যারের পেছনে লেগে থাকিস না। পলাশদার নেবার। ওকেই ক্লোস করতে দে। তোর টিম-এ জয়েন হলে ওউ তো পয়সা পাবে নাকী ?

    কৃষ একটু চিন্তায় পরে। বেচারার প্রথম হাত খুলছে। টিম লীড করার একটা খিদে তো সবারই থাকে।

    : তাহলে আমি কি উল্টোহাতের জয়েনিং দেখবো ? কিন্তু অলর্কদা, পলাশদার দেড় লাখের টিম ;যদি এত ডেপথ এ নেবে সাপোর্ট না দেয় স্যার দের ?

    আচ্ছা বাচ্চা। খেলাটা বুঝতে শুরু করেছে। পেপার ন্যাপকিন গোল্লা পাকাতে পাকাতে বাস্কেটে ছুঁড়ে দি। বাস্কেট !

    : দেড় লাখের টিম তো কী হয়েছে ? একটিভ মেম্বার ম্যাটার করে। আমাদের সঙ্গে এত হেহে করে এমনি নাকী ?

    :সে আর বলতে ? তুমি তো অন্যের টীম এও প্ল্যান শো করো.......ট্রেনিং দাও !

    :আমার কথা বাদ্দে বাল। সন্তোষ স্যার রা যা গপ্প দিচ্ছে এর টেন পার্সেন্ট কনভার্সন রেট্ হলেও তোর একশিরা হয়ে যাবে। একশিরা বুঝিস ? অন্য হাতে লোক জয়েন করা। চেক ক্লিয়ার কর।

    :বেশ তাই করবো ! কী গরম শালা একটু পরে বেরোলে হতো না ?

    :একজনকে মিট করতে হবে যে ! তুই চাইলে পরে আসতে পারিস ........

    রোদ সত্যি চাঁদি ফাটিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু রোটারি ঢোকার আগে একাডেমি যেতে হবে। জুতো প্রতীক আসবে। কবি জুতো প্রতীক। নিজের ছোট একটা কারখানায় জুতো বানিয়ে বাটায় সাপ্লাই দেয়। জম্পেশ ছেলে। লেখেও খাসা ! অনেকদিন দেখা নেই তাই আজ সন্ধ্যে তেই প্ল্যান করেছিলুম ........

    :কে ? আমি চিনি ?

    :না চিনিস না। একজন কবি।

    :কো - বি ? তুমি তো কবি দেখলেই খেস্তাও !

    হেসে ফেলি : আরে চলনা আলাপ করবি। এ মস্তির ছেলে। কফি হাউসি ন্যাকাচো নয় !

    রোদ্দুর টা সিরিয়াসলি গাঁড়ফাটা। সিগারেট কিনে ঝুপড়ির তলায় যেটুকু ছায়া হয় মাথা গুঁজে দাঁড়িয়ে আছি। মিটার ট্যাক্সি পেয়ে যাবো ঠিক। কৃষ্ণেন্দু একজায়গায় দাঁড়াতে পারেনা। রাস্তায় নেবে দূর দূর দেখার চেষ্টা করছে। ছায়ায় আসতে বলাতে আবার ডায়ালগ দিলো

    :আমার তোমার মত রং পুড়ে যাবার ভয় নেই হে হে ভার্নিশ করা লেদার পুরো !

    এই ছেলেটা একদিন কান পেঁচিয়ে খাবে। বহুত বেড়েছে ! এত ন্যাওটা যে কিছু বলাও যায়না ..
  • de | ০৭ মে ২০১৫ ১৫:৪৩678348
  • পড়তে দারুণ লাগছে - একদম অন্যরকম!
  • Nina | ০৮ মে ২০১৫ ০৮:২৫678350
  • আরে বাহ --খাসা হচ্ছে ----
  • Tim | ০৮ মে ২০১৫ ১৩:৫০678351
  • ব্যাপক হচ্ছে... পড়ছি
  • একক | ০৮ মে ২০১৫ ১৬:২৭678352
  • "মার্চের হীটপ্লেটে --
    গলে যেতে যেতে
    ---আমি দেখি : কীভাবে মিশে যাচ্ছে
    তোমার সোল্
    আর আমার সুখতলা, গত পুজোয়
    দেখা হয়েছিলো, অন্তত
    একটা সিজিন তো টিঁকে যাক ! "

    :তোর জুতো ফেটিশ হয়ে গ্যাসে ! হো হো ভালো লিকচিস !

    নিঃশব্দে হেসে ওঠে প্রতীক : আমি কী শালা কবিতা শোনাতে ডেকেছি ? এইতো কৃষ্ণেন্দু শুনতে চাইলো। আর চাইবেনা !

    :যা তা মাইরি ! তারপর ব্যবসা কেমন চলছে বল ?

    প্রতীকের মুখে আলতো অন্ধকার নাবে।

    :সেরকম ভালো না রে ! অর্ডার পাচ্ছি কিন্তু প্রডাকশন বাড়াতে নতুন মেশিন বসাতে হবে। জানিস তো লোন পাওয়ার কত ফ্যাকড়া। দালাল ফালাল
    ধরেও দেখলাম ........যা হাঁকাই মালগুলোর চিন্তা করতে পারবি না ! মেশিন কিনবো না শালাদের পার্সেন্টেজ দেব ? এদিকে পেমেন্ট ঝুলে সাত মাসের .....

    কী বলবো আর। এই চক্কর টাতে আমিও পরেছি। পার্ক স্ট্রিট কমার্শিয়াল ব্রাঞ্চের অর্ডার তো এমনি ছার্লুম না। ধারের পাহাড় জমছিলো, শেষে আবার চাগরি !
    এটা সেটা কথা চলতে থাকে। আমাদের দুজনের কমন পরিচিত অমুক তমুক। মাঝে একবার ....

    "উদাসীনি বেশে........বিদেশীনি কেএএএ সে এএএ" .........পাশ থেকে গান !

    :উফ স্বপন ! এই পাগলাচোদা গরমে এই গান মাইরি !!!!!

    "এসো নীপবনেএএএ........." গাইতে গাইতে গায়ক চলে যায় ....একমুখ শিশুর হাসি তার, পুরনো চেনা, গাল দিলেও মুখে হাসি ছাড়া নেই.......

    আমরাও আবার ঠাট্টা ফাজলামি তে ফিরে আসি। হরির দোকানে দাঁড়িয়ে চা নিয়ে নি। প্রতীক স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কৃষ্ণেন্দুর কটা গার্লফ্রেন্ড, কিভাবে গার্লফ্রেন্ড ম্যানেজ করা উচিত এইসব বালের টিপস দিচ্ছে। নিজে যেন কত ম্যানেজ মাস্টার ! এদিক ওদিক চেনা লোকজন। নন্দী কাকে একটা হাত ফাত নেড়ে ব্রডওয়ে কালচার নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছে ......পর পর দুটো সিগারেট সেই শ্রোতার কাছ থেকেই নিলো........রোদ পরে এসছে কিন্তু ভ্যাপসা গরম চেপে বসছে আরও....

    একটা কল আসছে, ফোন টা সাইলেন্ট ছিলো, হঠাত হাতে নেওয়ায় টের পেলুম। এদিকে প্রতীক এগিয়ে এসে বলছে

    :তোকে বলা হয়নি, একটা চ্যানেল থেকে অফার পাচ্ছি বুঝলি, মাইনে খারাপ না .......কিন্তু মন সায় দিচ্ছেনা ....এতোদিনের কারখানা টা....।

    আমি ওকে কাঁধে হাত রেখে থামাই। অলরেডি চারটে মিসড কল হয়েছে খেয়াল করিনি ! এবার ধরে নি।

    :
  • sinfaut | ১১ মে ২০১৫ ২২:৫৮678353
  • | ১৮ মে ২০১৫ ১৩:৪৪678354
  • একক, সময় করে এই টা লেখো। খুব এনজয় করছি। ...
  • টই নং টু | ১০ জুলাই ২০১৫ ১২:১০678355
  • টই নং টু
  • Ekak | ১১ জানুয়ারি ২০১৬ ১৫:০৩678356
  • "হেলুউউ আমি প্রানহরি বটব্যাল বলছিলাম। হেলু হেলু "

    "শুনতে পাচ্ছি। কী বলছিলেন আরেকবার বলুন " ......খেয়েছে রে, আবার একটা বটব্যাল জুটলো কোদ্দিয়ে। ভুল করে ব্যাটবল না বলে ফেলি। আমার এই গোলমাল পাকাবার অভ্যেস টা আছে। রোটারির সেকেন্ড গেট থেকে সরে ক্লাব এর দিকে ঢুকে যাই। নয়েস একটু কম।

    "হ্যা তা আমাকে সন্তোষ স্যার আপনার নাম্বার টা দিলেন। বুইতেআচ্ছেন নিশ্চই। আমি সল্লেকেই থাকি। আপনাদের আপিসের সামনে গ্রিন্লেজ এর বিল্ডিং আছে না ? ঐটা আমার প্রজেক্ট। হে হে আমি পেশায় প্রোমোটার। আপনার্সঙ্গে ওই স্কীম টার ব্যাপারে এট্টু কথা বলার ছিল "

    "ফোনে এত কথা বলা তো চাপ। আপনি অফিসে আসতে পারবেন ?" এই মাল এখনি এটাকে "স্কীম " ঠাউরেছে। ফোনে প্ল্যান শেয়ার করার কোনো সীন নেই। আগে অরিয়েন্টেশন করতে হবে। আসুক ঠেঙিয়ে।

    "আপিস ? হ্যা সেত আসাই যায় তবে কী সোকালে আমার সমই হোই না। বুইতেই আচ্ছেন হে হে নানা কাজ। আজ সন্ধ্যে ব্যালা হতে পারে ? ন টা নাগাদ সল্লেকে। আমি আপনাকে বাড়ি অবধি পৌছে দেব। পাক পাড়া ফির্বেনত ?"

    ঠিকুজি জেনেই ফোন কচ্ছে। কী চাপ আবার সল্লেক ফের। মাইরি লাইফ লুল্লু হয়ে গ্যালো অন্যের টিম কে সাপোর্ট দিতে দিতে। এদিকে কৃষ টা কখন পোষা বেড়ালের মত পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

    দাদা ট্যাক্সি ডাকি ? জ্যাম কাটিয়ে পৌছতে সময় লাগবে তো ?

    কী ভেবেছে ? বুঝলোই বা কীকরে যে সন্তোষ স্যারের রেফারাল ফোন করেছে ? দুনিয়ায় সবাই কী আমাচ্চে বুদ্ধিমান !

    এক প্যাকেট সিগারেট কিনে নি। কৃষ এট্টু কৃতার্থ মুখ করে আছে। একবার মিনমিন করে বল্লো : এই ফেয়ার টা আমি দেব কেমন ?

    বাল। ভেতরে ঢোক বেড়ালচোদ। আমি জানলার পাশে বসব।

    মোহিনী আজ হল থেকে বেড়িয়ে বিস্তর ঘ্যানাবে। এবং যেহেতু আমি নেই আজকেই ওর সবচে ইম্পোরট্যানট লোকটা জয়েন করার কথা ছিলো।
  • pi | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২২:১১729646
  • একক কি নৈপালের পথ ভুলিয়া গেল?
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন