এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শাক্যজিৎ | ২৬ মে ২০১৫ ১৩:১৫679629
  • এপ্রিল মাসে মিডল-ইস্ট বিষয়ক এক ম্যাগাজিনে একটা প্রবন্ধ বেরোয় যা আমার বন্ধু আমায় রিকমেন্ড করে গার্ডিয়ানে পুনঃপ্রকাশিত হবার পর। লেখাটার সাবজেক্টটা ঠিক সেটাই ছিল যে এতদিন ধরে বলে আসছি, যে নাস্তিকতার এই নয়া আন্দোলন আসলে ইস্লামোফোবিয়া এবং নিও-কনদের হোয়াইট সুপ্রিমেসির আরেকটা মুখ হয়ে দাঁড়াচ্ছে আস্তে আস্তে। এটা নিয়ে বহু চেঁচিয়েছি এখানে ওখানে। অভিজিৎ রায় বলুন বা অনন্ত বা ওয়াসিকুর, জেনে অথবা না জেনে আসলে ইস্লামোফোবিয়া ছড়ানোর যন্ত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে গেছেন। এদের-ই মতাদর্শগত পথিকৃত হিসেবে বিল মাহের বা রিচার্ড ডকিন্স নিও-কন দের ফেভারিট মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন। এই নিও-এথিস্টরা কু ক্লুক্স ক্লানের মত ক্রুড ল্যাঙ্গুএজ ইউজ করে না, বরং পলিশড ভাবে ইস্লামকে বর্বর, পিছিয়ে পড়া, অসভ্য এসব ইংগিত দেয়। সবথেকে বড় খোরাকটা হল, এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অনুন্নত মানুষজনকে বাঁচানোর মহান ব্রতে উদ্যোগী হয়ে নিও-এথিস্টরা বারবার ইসলামের সংস্কার করার কথা বলেন। ঠিক কলোনীয়াল প্রভুরা এই দেশে এসে অশিক্ষা দারিদ্র্য দেখে শিউরে উঠে যেভাবে মেকলের হাত ধরে ব্লাডি নেটিভদের শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন, একদম সেরম হোয়াইট সেভিয়ার কমপ্লেক্স। এরা ইরাক ওয়ার বা আফগানিস্তান নিয়ে বেশ ইন্টারেস্টিং স্ট্যান্ড রাখেন, সে প্রসংগে আর গেলাম না। এরা মনে করেন যে সব ধর্মই খারাপ তবে ইসলাম যেহেতু সবচেয়ে ‘পিছিয়ে পড়া’ তাই এখান থেকে সবথেকে বেশি উগ্রবাদ বেরোয়। অভিজিত রায়ের লেখাপত্তর পড়ে ওনাকেও এই হোয়াইট সেভিয়ার কমপ্লেক্সের ধ্বজাধারী নিও-কন মনে হয়েছে নো ওয়ান্ডার। এরা গায়ে চাপিয়ে রাখেন নাস্তিক্যবাদের নীতি, কিন্তু ব্যবহৃত হন সাম্রাজ্যবাদের এবং আমাদের দেশে হিন্দু মৌলবাদের হাতে (মনে রাখতে হবে নাস্তিক্যবাদ প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের-ই অংশ এবং আর এস এস-এর একটা বড় অংশ নাস্তিক, তাই নাস্তিকদের দিয়ে হিন্দু মৌলবাদের কিছু এসে যায় না, নিও-কন দের-ও না। বরং বাজারের প্রসারের সুবিধের জন্য বিশ্বাসহীনতার থেকে ভাল কিছু হয় না)। এই ‘পিছিয়ে পড়া’, ‘অশিক্ষিত’, ‘স্যাভেজ’ জনগোষ্ঠীর ধর্মচর্চার উপকরণগুলো দেখে নাস্তিক্যবাদ শিউরে ওঠে, কারণ এই বোরখা বা হিজাব তার ইউরোসেন্ট্রিক চিন্তাভাবনায় দ্য আদার কে রিপ্রেজেন্ট করে। কিন্তু যেটা বোঝে না, এরা যদি আদার হয়, এদের রিঅ্যাকশানটাও ওই আদারের রিঅ্যাকশন হয়েই থাকবে। আদারকে বোঝা যায় না, আদারের প্রতিক্রিয়াও নয়। তাই অভিজিতেরা যেমন বাইরে থেকে দেখে এই আদারের সেভিয়ার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, তেমনই তথাকথিত যুক্তির অগম্য হিসেবের বশবর্তী হয়ে এই আদার অভিজিত বা ওয়াশিকুরের গলায় চাপাতি চালাবে। ফারাবীকে সত্যি-ই আমরা চিনি না, কিন্তু এই না চেনার দায় পুরোটাই আমাদের, এই নিও-কন-এথিস্ট-লিবারালদের ধ্বজাধারীদের।
  • শাক্য | ২৬ মে ২০১৫ ১৩:২৭679963
  • থ্যাঙ্ক ইউ
  • je suis charlie | ২৬ মে ২০১৫ ১৬:২৯680074
  • " তাই অভিজিতেরা যেমন বাইরে থেকে দেখে এই আদারের সেভিয়ার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, তেমনই তথাকথিত যুক্তির অগম্য হিসেবের বশবর্তী হয়ে এই আদার অভিজিত বা ওয়াশিকুরের গলায় চাপাতি চালাবে" - চাপাতি চালানোর আরেক যুক্তি। চিনে রাখুন এই ডেভিলস অ্যাডভোকেট দের যারা "সাম্রাজ্যবাদের" "নাস্তিক্যবাদের" বিরোধিতার আড়ালে ISIS এর হয়ে প্রচার চালায়।
  • 0 | ২৬ মে ২০১৫ ১৯:২২680185
  • কাউন্টার-আর্গুমেন্ট ছেড়ে পার্সোনাল অ্যাটাক কেন?
  • দেব | ২৬ মে ২০১৫ ১৯:৪৪680296
  • অভিজিৎ রায় ইরাক যুদ্ধের সপক্ষে ছিলেন না বোধহয়। লিঙ্ক আছে কিছু?
  • ranjan roy | ২৬ মে ২০১৫ ১৯:৪৫680407
  • সত্যি কথা।
    শাক্যজিতের বক্তব্যের বিরুদ্ধে তথ্য/যুক্তি দিয়ে পাল্টা বক্তব্য না রেখে এই দেগে দেওয়া "চিনে রাখুন" শব্দবন্ধ আরেক ধরনের গলা টিপে ধরা।
    কেন? বিশ্লেষণ কিছু কম পড়িয়াছে?
  • শাক্যজিৎ | ২৬ মে ২০১৫ ২১:৫৭680518
  • আর ভাই ! এই নাস্তিকতা যে একটা বিশাল মৌলবাদের জন্ম দিচ্ছে সেটা মনে হয় আমাদের বুঝতে আরো সময় লাগবে
  • nastik | ২৬ মে ২০১৫ ২২:০৭679630
  • দিক।
    জতক্ষন না এই গলাকাটা ভিডিও আর মেয়েদের সেক্স স্লেভ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ হয় গড়পড়তা মাস ঈকটা খুন বন্ধ হয়, বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়েমমিন পোড়ানো বন্ধ হয় ততক্ষণ ঐ ঠেকাতে যত মৌলবাদ আসে আসুক।
    কলকাইত্তা বাবুদের ক্যাতক্যাতানি শুইনতে চাই না। অ্যালা থামেন ম্যালা বকসেন।
  • তাপস দাশ | ২৬ মে ২০১৫ ২২:১৬679642
  • শাক্য একটা কথা সিরিয়াসলি বলে যাচ্ছে যে এই এদেরকে, মানে শাক্যর ভাষায় সম্ভবত আদার ই হবে, তাদের কে আমরা চিনি না। এ প্রসঙ্গে আমার আজকাল মনে হয় যে, এত বিভাজন, এই কম্পারটমেনট বোধহয় এরকম ভাবে নেই। সাব অলটার্ন কোন কথা কইতে পারে না, এ ধ্রুব তত ধ্রুব নয়। তারা দিব্যি বলে, এবং সেলফএর ভাষাতেই বলে, অন্তত কখনও কখনও। উলটো রকম ভাবে একটা যুক্তি আসতে পারে যে, যারা সেলফের ভাষায় কথা বলে তাদের পশ্চিম(সেলফ) আত্মিকরন করে ফেলেছে। এর মধ্যে একটা সুবিধাবাদ আছে। আমি আমার মতন করে আদারকে রচনা করে নিই। অর্থাৎ যে পশ্চিমের ভাষায় কথা বলে না, সেই আদার। এই আদারও কিন্তু, তৈরি করা। শাক্য এদের কেই আদার ভাবছে, এদের আদারাইজেশন শাক্যর হাতে পূর্ণতা পায়। শাক্য গড হয়, আদারেরা ডগ। ফারাবিরা, যাদের শাক্য, এবং শাক্যর মতে আমরা চিনি না, তারা ঠিক কোন ভাষায় ভাবে,এ কথা কি সত্যিই অজানা? একটা স্পষ্ট বিশ্বাসের যুক্তি এই ফারাবিদের মধ্যে কাজ করে। সে বিশ্বাস শাক্যর অচেনা? যুক্তির বিশ্বাস, আর অযুক্তির বিশ্বাসের মধ্যে কি এতই তফাত? এতটাই? নাকি আমরা, মানে শাক্যরা, সামহাউ সেলফকেও নির্মাণ করছি, নিজেদের সুবিধে মতন? আদারের কমপ্লিট আদারাইজেশন করতে গিয়ে?
  • Sakyajit | ২৬ মে ২০১৫ ২২:১৯679653
  • তাপসদা, প্রথম কথা হল সাব-অল্টার্নরা কথা কইতে পারে না এমন দাবী কোনো সাব-অলটার্ন থিওরেটিশিয়ান করেন না। সাব-অলটার্ন কথা বলে, কিন্তু তার ভয়েস আমাদের কানে এসে পৌঁছয় না। আর দ্বিতীয় কথা হল, এই যুক্তির বিশ্বাস, অযুক্তির বিশ্বাস এগুলো কি সব-ই পাওয়ার কন্সট্রাক্ট নয়? ভাবো একবার, যদি ইউরোপিয়ান এনলাইতেনমেন্ট না আসত, কোন যুক্তি দিয়ে কথা বলতে? ডেলফির দেবতার ওরাকলকেই তখন তর্কের শেষ কথা হিসেবে ধরে নেওয়া হত। সেটা ভাল হত না খারাপ তা বলছি না। কিন্তু এই যে একটা সার্টেন চিন্তার জগতের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছি নির্দিষ্ট কিছু প্যারামিটার নিয়ে (বিজ্ঞান, যুক্তি, প্রগতি ইত্যাদি), যখনব-ই কোনো আদার সেই বৃত্তের বাইরে দাঁড়িয়ে ভয়েস তুলছে তাকে আমি বুঝতে পারছি না। কারণ তাকে আমি দেখছি আমার সেট প্যারামিটারগুলোর মধ্যে দিয়ে।
  • I | ২৬ মে ২০১৫ ২২:২১679664
  • তাপসকে ক।
  • তাপস দাশ | ২৬ মে ২০১৫ ২২:২৮679675
  • ১। সব কিছুই পাওয়ার কন্সত্রাক্ত। তোর লেখাও। তাতে কিছু বদলায় না। এই গোলক ধাঁধার মধ্যে ঘুরে লাভ নেই।
    ২। এনলাইটেনমেনট একটা রিয়েলিটি। সেটাকে যারা সচেতন ভাবে অস্বীকার করছে, তাদের মধ্যে কোন এনলাইটেনমেন্তের দীপের আলোও এসে পৌঁছয়নি, এরকম ভাবার কোন মানে হয় না। এবং এই অস্বীকারের যুক্তি তারা যুক্তি হিসেবেই নিয়েছে। হিজাব বা বোরখার প্রতি অনুরাগ পুরোটাই অযুক্তির ভাষ্য থেকে উঠে এসেছে, এরকম নয় বোধহয়। অস্বীকারের যুক্তিও এনলাইটেনমেন্ত থেকেই পাওয়া যায়। দিরাইভ করা যায়।
  • Ishan | ২৬ মে ২০১৫ ২২:৩২679686
  • হ্যাঁ, কিন্তু তাপসের পয়েন্টটা অন্য। তাপস কইছেন, যে, "যখনব-ই কোনো আদার সেই বৃত্তের বাইরে দাঁড়িয়ে ভয়েস তুলছে তাকে আমি বুঝতে পারছি না" এই যে স্টেটমেন্টটা, এটা নিজেই একটা ক্ষমতার নির্মান। অর্থাৎ, এরও একটা সেন্টার ও পেরিফেরি আছে। কেন্দ্রে আছে একটা তত্ত্ব, যেটা এক লাইনে "যখনব-ই কোনো আদার সেই বৃত্তের বাইরে দাঁড়িয়ে ভয়েস তুলছে তাকে আমি বুঝতে পারছি না"। এই তত্ত্বের জন্য একটা "আদার" দরকার। এই তত্ত্বের খাতিরেই একটা কাঠের পুতুল দরকার, যাকে "আমি বুঝতে পারছিনা"। এই তত্ত্বের প্রয়োজনেই তাই এমন একটা "আদার" তৈরি করা হচ্ছে, যে "মার্জিনালাইজড", যার ভয়েস "অ্যাপ্রোপ্রিয়েটেড"। এইটা করতে গিয়েই মৌলবাদীদের কন্ঠস্বর আরেকদফা "অ্যাপ্রোপ্রিয়েটেড" হয়ে যাচ্ছে।
  • Ishan | ২৬ মে ২০১৫ ২২:৩৩679697
  • ওহো তাপস নিজেই লিখেছেন। আমার টিপ্পনি ইগনোর করলেও চলবে। :-)
  • শাক্যজিৎ | ২৬ মে ২০১৫ ২২:৩৬679708
  • ভয়েস অ্যাপ্রোপ্রিয়েটেড বলছি না কিন্তু। বলছি তার ভয়েস আমাদের কাছে পৌঁছচ্ছে না। আনহার্ড অফ।

    আর আদার নির্মাণ তো করছে আমাদের যুক্তিবাদ, বা জ্ঞানচিন্তার ইতিহাস যাই বলো না কেন। আমি তো আলাদা করে কোনো তত্ব দিচ্ছি না বরং একতা জিনিস অবজার্ভ করছি। যেমন ধরো ফারাবী যখন জ্বীন জাতির ইতিহাস লেখে সেটাকে নিয়ে তুমুল খিল্লি চলে, কিন্তু অনেকে বইটা পড়েও। সেটা কারা পরে কেন পড়ে আমরা জানি না। এ ঠিক ওই কান্তি শাহের সিনেমার মতন। গুন্ডা নিয়ে খিল্লি করি, সো ব্যাড ইইটস গুড তত্ব আউড়াই কিন্তু কেন ছবিটা সুপার-ডুপার হিট হয় তা বুঝি না। কারণ আমাদের সেট প্যারামিটারগুলো যেগুলো ভাল সিনেমা খারাপ সিনেমা এগুলো ডিফারেনশিয়েট করতে শেখায় সেগুলো সার্বজনীন হয় না। অন্য অনেক আদারের কাছেই তার কোনো মূল্য নেই, এই আর কি !
  • কল্লোল | ২৬ মে ২০১৫ ২২:৪০679719
  • নাস্তিকেরা যদি "ইসলামের সংস্কার করার কথা বলেন" তবে কোথাও খুব বড়সর গন্ডোগোল আছে। সত্যি কথা বলতে কি নাস্তিকেরা যদি কোনও ধর্মের সংস্কারের কথা বলেন, তো সেটা বেশ গন্ডোগোলের।
    পশ্চিমা নাস্তিকদের লেখা ততো পড়িনি, কিন্তু পব ও পূব'র বেশ কিছু নাস্তিকদের লেখায় একটা অদ্ভুত উগ্রভাব থাকে, যা আমার একেবারেই ভালো লাগে না।
    কিন্তু এদের উল্টোদিকে যে অন্ধ মৌলবাদের চাষ হয়, সে আমার পরিচিত। আপনারা চিনতে না পারেন আমি কিন্তু "ফারাবী"দের চিনি।
    কোথায় যেন পড়লাম, সম্ভবতঃ বাবুর হত্যাকারীদের বয়ানে, নাস্তিকদের দূর থেকে গুলি করে মারাটা নাকি কাপুরুষের কাজ। এদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারতে হবে, প্রত্যকটি কোপে মিশে থাকবে অপরিসীম ঘৃণা এদের প্রতি, তবেই আল্লাহ খুশী হবেন।
    আমার ধারনা রঞ্জন, ডিডি এদের চেনেন।
    আমি অপেক্ষা করছি ওদের চেনা বা না চেনার জন্য। তারপর বলবো।

    আর হ্যাঁ, মৌলবাদ দিয়ে মৌলবাদের বিরোধীতা হয় না, স্রেফ করা যায় না। সেটা ফাঁসী বা গণপিটুনি দিয়ে ধর্ষণ বন্ধ করার মতোই অবাস্তব।
  • dc | ২৬ মে ২০১৫ ২২:৫৮679730
  • "ভাবো একবার, যদি ইউরোপিয়ান এনলাইতেনমেন্ট না আসত, কোন যুক্তি দিয়ে কথা বলতে? ডেলফির দেবতার ওরাকলকেই তখন তর্কের শেষ কথা হিসেবে ধরে নেওয়া হত। সেটা ভাল হত না খারাপ তা বলছি না। "

    কেন বলছেন না? ইসলামিক মৌলবাদীদের লেজিটিমেসি দেওয়ার জন্য যদি প্রচেষ্টা করা হয় (যাদের বিরোধিতা করা মানেই আপনার মতে ইস্লামোফোবিয়া), তাহলে তো এই ভালো খারাপের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে! এটা এড়িয়ে যাওয়ার মতো পয়েন্ট একেবারেই না। ইউরোপিয়ান এনলাইটেনমেন্ট তো হাওয়ার থেকে এসে পড়েনি, সে তো বহু শতাব্দীর বহু বহু মানুষের চিন্তার ফসল! এই এনলাইটেনমেন্ট তো ধাপে ধাপে এসেছে, লিনিয়ারলি এসেছে তাও নয়, বহু বিরোধিতার পরে এসেছে! এটাকে এতো সরলীকৃত করে "যদি না আসত" কিকরে বলা হচ্ছে? সেই কোপার্নিকাস থেকে নিউটন হয়ে টমাস ইয়ং, ফ্যারাডে থেকে ম্যাক্সওয়েল, আইনস্টাইন থেকে টুরিং, ফেনম্যান থেকে ফ্রান্সিস ক্রিক, এই সুদীর্ঘ ধাপে ধাপে উত্তরণের ইতিহাস কি এক কথায় "যদি না আসত" বলে নাকচ করে দেওয়া যায়? আর এই এনলাইটেনমেন্ট বা যুক্তিবাদী চিন্তাধারা যদি না আসত তাহলে তো আজ আমরা সভ্যতা বলে যা জানি তার কিছুই আসত না! তাহলে তো ইন্টারনেটের যুগও আসত না আর ব্লগও আসত না আর আইসিস বা জামাতির অনলাইন রিক্রুটমেন্টও আসত না! হ্যাঁ ডেলফির দেবতার কথাই শেষ কথা বলে ধরে নেওয়া হতো বটে, কিন্তু মানবসভ্যতাও তো তাহলে অন্ধকার মধ্য যুগেই পড়ে থাকত!

    "যদি ইউরোপিয়ান এনলাইতেনমেন্ট না আসত" - এটা কি সার্কুলার আর্গুমেন্ট হয়ে গেল না?
  • সিকি | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:০০679742
  • বেসিকালি - যুক্তিতে অনেক ফ্যালাসি আছে। প্যারামিটারের বেসিসেই ভীমসেন জোশীর থেকে হিমেশ রেশামিয়ার অডিয়েন্স বেস বেশি। বেশি ভালো, সবসময়েই অ্যাপ্রিশিয়েটেড বাই ফিউ। কম ভালো অ্যাপ্রিশিয়েটেড বাই মেজরিটি। পপুলারিটির ব্যাপারটা কোয়ালিটি দিয়ে নয়, কোয়ান্টিটি দিয়ে মেজার করা হয়।

    যাই হোক, শাক্যর এই টিপিকাল যুক্তিজালের প্রতি আমার অসীম ঘেন্না আছে, সেটা আমার প্রিভিলেজড সো-কলড বর্ণহিন্দু পজিশন থেকেই হোক বা অন্য কোনও পজিশন থেকেই হোক, ঘেন্না এবং অসহমতটা জানিয়ে গেলাম।
  • dc | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:০৮679753
  • এটা যুক্তিজাল বলা বোধায় ঠিক হবে না, বরং non-logic বা pseudo-logic বলা যেতে পারে। মানে লজিকটা ঠিক কোন জায়গায় সেটাই বুঝতে পারছিনা। "নিও-কন", "ইউরোসেন্ট্রিক", এরকম দুয়েকটা কিওয়ার্ড ব্যবহার করে একটা পোস্ট করে দেওয়ার প্রচেষ্টা, যদিও "নিও-কন" ইত্যাদিরা আজকের মৌলবাদের সমস্যার একটি ক্ষুদ্র অংশমাত্র।
  • তাপস দাশ | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:০৯679764
  • ইয়ে, তাই বলে আমি অবশ্য মনে করি না যে আলো ভাল আর আঁধার খারাপ। অত লিনিয়ারলি তো মনে করিই না। একদম অন্ধকারে পড়ে থাকা---
    অবশ্য এ নেহাতই বিশ্বাসের কথা। শাক্য বোধহয় এখানে সারকুলার লজিক পেতে পারে। এই বিশ্বাসের কথায়। আলো, আঁধার, এনলাইতেন্মেন্ত, পোস্ট মডার্ন।
    যুক্তির বাহির নেই। আর বিশ্বাসেরও আছে কি?
  • dc | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:১৬679775
  • আলো ভাল আর আঁধার খারাপ না হতেই পারে। ইউরোপিয়ান দর্শনই একমাত্র উপায় নাও হতে পারে, ইসলামিক দর্শন বা প্রাচ্য দর্শন তার বদলে বেশী গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠতেই পারে। কিন্তু কোন দর্শনেই যুক্তিবাদের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। শাক্যবাবু আদৌ সেদিকে যাননি, নিজের মনমতো কিছু একটা পোস্ট করার চেষ্টা করেছেন মাত্র।
  • aka | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:১৭679786
  • প্রতিটা কাজ করার জন্য প্রত্যেকের নিজস্ব যুক্তিজাল আছে, সব কিছু বুঝতে গেলে ঘরের দরজা চোরকে খুলে দিতে হয়। ব্লগ লেখার জন্য যদি খুন হতে হয়, এবং সেই খুন কে করল, কেন করল বুঝতে হয়, তাহলে বুঝতে বুঝতেই একের পর এক লোক পগার পার। আস্তিকরা সংখ্যায় যা লেখে নাস্তিকরা তার অনেক বেশি লেখে। কোন আস্তিককে দেখি নি চাপাতি চালিয়ে নাস্তিক খুন করতে লেগেছে। সুপারফিশিয়াল লেখাপত্তর। যাস্ট একটা ভিন্নমত লিখে দেখাতে হবে তাই।
  • pi | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:২০679797
  • অন্য তর্কে এখন যাবোনা, কীরকমটা হলে ভাল হয় বলে শাক্যর মনে হয় ? বা চলছে তাই নিয়ে কিছু বলার নেই ? মানে আইসিএস তালিবানি জামাতিদের কাজকর্ম যেমন চলছে তেমন চলতে থাকুক ? এরকম তো নয়, এদের সব কাজটাই রিঅ্যাক্টিভ, এদের বিরোধিতা করলে তবেই গলা কাটে।
    এগুলোর উত্তর পেলে বুঝতে সুবিধা হয়, তারপর বাকি কথায় আসছি।
  • | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:২৩679808
  • আকা রাগের চোটে আস্তিক নাস্তিক গুলিয়ে ফেলেছ। জাস্ট উল্টে গেছে। আস্তিকেরাই নাস্তিকদের গলা কাটে, উল্টোটা নয়।
  • pi | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:২৭679819
  • আমি পড়ে ঘাবড়ে গেছিলাম !
  • ranjan roy | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:২৯679830
  • সিকি,
    অসহমতি বা তীব্র আপত্তি থাকতেই পারে, কিন্তু ঘেন্না কেন?

    কল্লোল,
    হ্যাঁ, আমি চিনি। সেই মৌলবাদ আমার মধ্যেই আছে।
    যখন অন্ধকার ও আলো, রাত ও দিনকে দুটো "আদার" হিসেবে চিনতে শিখি, মানে mutually exclusive entity" হিসেবে তখন থেকেই আমরা/ওরা দিয়ে মানুষকে ভাগ করতে শিখি। শ্রেণীঘৃণা কে পবিত্র মনে করতে শিখি। আর শিখি শ্রেণীশত্রুকে খতম করতে।
    কারণ, হয় "ওরা" থাকবে, নয় "আমরা"।
    কাজেই আমাদের বেঁচে থাকার পূর্বশর্ত হল ওদের খতম করা। শুধু তাই নয়, এমনভাবে করা যে অন্যেরা ভয়ে কেঁপে ওঠে।

    খালি কখন যেন শ্রেণীশত্রু বদলে গিয়ে দেশের শত্রু, হিন্দুস্থানের শত্রু হয়ে যায়। আমি শ্লোগান তুলি" হিন্দুধর্ম বিপন্ন, সব হিন্দু এক হও"। আরও বলি' জিস হিন্দু কা খুন না খৌলে ও খুন নহীঁ, ও পানি হ্যায়।'
    আবার হিরো/ভিলেন বদলে যায়। দুই সভ্যতার দ্বন্দ্ব, দুই সংস্কৃতির সংঘাতের তত্ত্ব এসে যায়।
    আমরা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বদলা নিতে একদশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকগুণ নারীশিশুকে মেরে ফেলি। ওরা বর্বরের জাত। তাই ওদের মৃত্যুর খতিয়ান কোন মিডিয়া তেমন করে দেখায় না।
    আবার জেগে ওঠে জিহাদের ডাক। যুগ যুগ ধরে নাকি শয়তানের দল ন্যায়ের সাম্যের জন্যে আল্লার আশীর্বাদ পূত রাষ্ট্র/সমাজ নির্মাণের চেষ্টায় জল ঢেলেছে, ন্যায়ের জন্যে সংগ্রাম করা ধর্মযোদ্ধাদের ঘরপরিবারকে রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে।
    কাজেই শেষ যুদ্ধ শুরু আজ কমরেড, থুড়ি আল্লা কে বন্দে! হাতিয়ার ওঠাও। নোংরা ন্যায়হীন পশ্চিমী বর্বরতাকে খতম কর। একমাত্র আল্লার পাক বাণীর হিসেবে ভবিষ্যতের সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোল।
    এ লড়াই তুমি যা করবে তাই ন্যায়। বিরোধী কন্ঠস্বরকে রক্তের বন্যায় ডুবিয়ে দেওয়া পাক কাজ। ইসলামবিরোধী কন্ঠস্বরের বেঁচে থাকার অধিকার নেই।পবিত্র ইসলামীবিপ্লবের আতংকে কেঁপে উঠুক গোটা কাফির দুনিয়া।
    এস ভাই, যদি এই লড়াইয়ে মারা পড় তো গাজি হবে, জিতে গেলে তোমার জন্যে গোটা দুনিয়া। তোমার জীবন এই ধর্মযুদ্ধের জন্যে নিবেদিত।
    [ ভুলিও না, তুমি মায়ের জন্যে বলিপ্রদত্ত।]
    হতো বা প্রাপ্সসি স্বর্গং, জিত্বা তু ভোক্ষসি মহীম্‌]
    দিন আগত ঐ!
  • Arpan | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:৩০679841
  • রাগের চোটে না, কর্পো হনুরা ব্যস্ততার মাঝে পোস্ট করতে গিয়ে এরম ছড়িয়ে ফেলেন। ঃ))
  • তাপস দাশ | ২৬ মে ২০১৫ ২৩:৩৯679853
  • চাপাতি ব্যবহার সম্ভবত একটি সচেতন ক্রিয়া।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন