এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • সিঙ্গুর: কি ভাবছেন সবাই(২)

    Ishan
    অন্যান্য | ১৮ অক্টোবর ২০০৬ | ৭৯৩০৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ishan | ১৮ অক্টোবর ২০০৬ ০২:৪০697128
  • অরিজিৎ,

    সরকার বে-আইনী কিছু করেনি। চাষীরা কোর্ট কাছারি করলে জিততে পারবেনা। কারণ আইন অনুযায়ী ঐ ভাবে জমি নেওয়াই যায়।

    কিন্তু প্রশ্নটা আইনী বৈধতা নিয়ে নয়। প্রশ্নটা "আইনের বৈধতা' নিয়েই। অর্থাৎ ঐ আইনটি একটি ব্যবহারযোগ্য আইন নাকি তুলে দেওয়া উচিত।নাকি থাকলেও ব্যবহার করা উচিত নয়, যেমন তিনশোছাপ্পান্ন ধারা থাকলেও যত্রতত্র ব্যবহার করা যায়না। প্রসঙ্গত: আইনটি ১৮৯৬ বা এরকম কোনো সালের।

    বাকি কথা পরে।
  • bozo | ১৮ অক্টোবর ২০০৬ ০২:৫৯697239
  • সিঙ্গুর এর ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকায় যে সমস্যা টা হচ্ছে:

    ১। সরকার বলছে বাজার অর্থনীতি। খুব ভালো। কিন্তু নিজে জমিগ্রহনের ক্ষেত্রে সেই বাজার অর্থনীতি মানছে না।
    আমার জমি এক্সক্লুসিভ। অতএব আমি অনেক চড়া দামে বেচবো অথবা বেচবো না। সেটা আমার অধিকার। সেটা সরকার মানতে নারাজ।

    ২।দ্বিতীয়ত: সোজা কথা সোজা করে বলে না। তোর পাওয়ার আছে, তুই করবি। যেদিন পাওয়ার আমার হাতে আসবে আমিও করব। সত্যি কথা বলতে গেলে সরকারের বা সমাজের সব লেংথ স্কেলে এই পাওয়ার প্লে হয়। খালি বড় বড় বুলি আউড়ে (শিল্পায়ন, বেকার সমস্যা দূরীকরন এই সব কথা বলে) পাওয়ার প্লে করার কি দরকার বাপু?

    ৩। তৃতীয়ত: আমি মনে করি অন্য সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বর্তমান শাসক দলের কোন পার্থক্য নেই। নীতিগত ভাবে থাকলেও (??) পদ্ধতিগত ভাবে নেই। তাই স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরা ইত্যাদি এক প্রকার ভন্ডামী।
    রাজনীতি করলে নোংরা কাদা সবাইকে ঘাঁটতে হয়। সরকার-ও ঘাঁটে, বিরোধীপক্ষ-ও ঘাঁটে।
  • saa | ১৮ অক্টোবর ২০০৬ ১১:৫১697350
  • ব এর এই কতা টা মেনে নিতে পাল্লুম নি! শাসোক দল কিন্তুক আমাদের সাধুপুরুষ !!
    ৩০ বছর ক্ষমতায় থেকে ভোগ বাসোনা মিটে গেছে! একেই বলে বিরিঞ্চি বাবার মতো ভোগমার্গ থেকে ত্যাগমার্গে অনায়াসে অবতরণ!
    অপ্পাসোঙ্গিক হয়ে গেলে ক্ষমা পাত্থোনিও ! আসোলে রাজনীতিতে ভন্ডামি টা অঙ্গাঙ্গী তো তাই বল্লুম আরকি!! গুরুচন্ডালিতে একটু ভুল চুক তো চলিতেই পারে!!!
  • Ishan | ১৮ অক্টোবর ২০০৬ ২২:১২697461
  • সাম্প্রতিক অতীতে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন, এবং কৃষকদের অবস্থা নিয়ে কয়েকটা সমীক্ষা হয়েছে। তার মধ্যে একটা নিচে দিলাম। এটা মূলত: EPW থেকে নেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই বিষয়ক ট্র্যাক রেকর্ডের একটি নমুনা এখানে পাওয়া যাবে।

    সেঞ্চুরি টেক্সটাইল -- একটি কেসস্টাডি
    -------------------------------------
    সেঞ্চুরি টেক্সটাইল এমন একটি পিগ আয়রন কোম্পানি যা কখনও পিগ আয়রন তৈরি করেনি। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে তাদের প্রস্তাবিত কারখানার জন্য কলাইকুন্ডা এলাকায় সাড়ে তিনশো একর জমি অধিগ্রহণ করে রাজ্য সরকার এবং তাদের হাতে তুলে দেয়। তারাও জমি বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে। কোম্পানিটির এই বাবদ আট কোটি টাকা দেবার কথা ছিল, যা দিয়ে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ভূমি অধিগ্রহণ দপ্তরের ১৯৯৮-৯৯ সালের কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে, যে, কোম্পানিটি প্রয়োজনীয় পয়সাকড়ি দেয়নি, ফলে এক বা একাধিক কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাচ্ছেনা। উপরতলা থেকে কোনো নির্দেশ না আসায় জমি চাষীদের ফিরিয়ে দেওয়াও যাচ্ছেনা। উপরতলা নিজস্ব গতিতে চলেছেন। ১৯৯৬ সালে খবরের কাগজের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, যে, একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাবিনেট কমিটি গড়া হয়েছে, যারা শিল্পের প্রস্তাবকে কো-অর্ডিনেট করবে। তৎকালীন ভূমিসংস্কারমন্ত্রী সূর্যকান্ত মিশ্র প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানাচ্ছেন, যে, শিল্পের জন্য অধিগৃহীত জমি যদি ব্যবহৃত না হয়, তবে তা কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কৃষি জমি কে এড়িয়ে কিভাবে শিল্প গড়া যায়, এ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গড়ার কথাও তিনি ঘোষণা করছেন। ঐ একই সময়ে তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এই বিষয়ে ঘোষণা করছেন ?land would not be given indiscriminately to the multinational corporations and the big industrial houses for setting up of their units?.

    এর পরের গপ্পো লম্বা। বেড়ায় ঘেরা ঐ জমি পড়েই থাকে পড়েই থাকে। কারখানা তৈরি হয়না। কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাননা। জমি ফেরতও পাননা। সিপিআইএমের কলাইকুন্ডা অঞ্চলপ্রধান স্থানীয় কৃষকদের প্রতিনিধি হয়ে উপরতলায় কিঞ্চিৎ খোঁচান। এবং মেদিনীপুরের ল্যান্ড রিকুইগিশন অফিসার পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি লেখেন ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে। তিনি জানতে চান এই ব্যাপরটা নিয়ে কি করা উচিত।মাত্র আট মাস অপেক্ষা করার পর, এর উত্তরে রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব ঐ বিষয়টি নিয়ে একটি রিপোর্ট পাঠানোর জন্য জেলার কালেক্টরকে একটি নোট পাঠান। ব্যস, ওখানেই এই "অতি গুরুত্বপূর্ণ' বিষয়টির ইতি। তার পর থেকে অন্তত: ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে আর ফাইল নড়ে চড়ে নি।

    এখানে উল্লেখ থাকে, যে, ইতিমধ্যে উনিশশো নিরানব্বই সালে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর, একটি বিবৃতিতে জানান, যে ঐ প্রোজেক্টটি তাঁরা বাতিল করছেন। অর্থাৎ কারখানা তাঁরা আর করবেননা। তিনি এর পিছনে অনেক গুলো কারণ দেখান। মাননীয় মন্ত্রী সূর্যকান্ত মিশ্রকে ঐ সময়েই প্রশ্ন করা হয়, যে, যে সমস্ত কৃষকদের জমি ঐ কারখানার জন্য নিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের এবার কি হবে? তিনি উত্তরে জানান, যে, জমি ফিরিয়ে দেবার মতো কোনো লোককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা -- ?We are not finding any taker for the land? (The Statesman, November 18, 1999)

    আমি যেখান থেকে টুকছি, সেই EPW তে এটি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। লেখক জানাচ্ছেন, তখনও পর্যন্ত এটাই ছিল লেটেস্ট রিপোর্ট। (সূত্র: Land Acquisition in a West Bengal District -- অভিজিৎ গুহ, EPW October 2004)।

    ঠিক একই রকম আরও এন্‌ক উদাহরণ আছে। যথা -- বানতলা চর্মনগরী। সেটার স্ট্যাটাস কি, কেউ জানেনা। এটার কোনো সুরাহা না করেই আরও অনেক "নগরী' গড়ে তোলা হবে শোনা যাচ্ছে। যথা সালিমের "স্বাস্থ্যনগরী'। সেটা কি বস্তু, কেউ জানেনা।সিপিএমের তাবড় নেতারা, যাঁরা শিল্পায়ন নিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন, তাঁরাও জানেন না।

    একটি সমীক্ষা
    --------------

    EPW তে পশ্চিম মেদিনীপুরের কৃষকের অবস্থা নিয়ে একটি সমীক্ষাও বেরিয়েছিল ২০০৪ সালে। শিল্পের জন্য যে এলাকায় জমি নেওয়া হয়েছে, সেখানেই ঐ সমীক্ষাটি চালাও হয়। সমীক্ষায় অনেক ইন্টারেস্টিং জিনিস আছে। যথা:
    ১। ঐ এলাকার প্রান্তিক চাষীদের ১৫% ভূমিহীনে পরিণত হয়েছেন অধিগ্রহণের পরে।
    ২। ক্ষুদ্র-প্রান্তিক ছাষীদের শতাংশ বেড়ে ১৩% থেকে হয়েছে ২৫%।

    ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো খুবই প্রত্যাশিত রেজাল্ট। কারণ জমি অধিগ্রহণ করলে লোকের জমির পরিমান যে কমে যাবে তাতে আর আশ্চর্য কি। সেজন্যই তো তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এবং সরকারি দাবী অনুযায়ী এই ক্ষতিপূরণের টাকা ব্যাঙ্কে রেখে চাষীরা সুদ হিসাবে যে পরিমান টাকা পাবেন, সেটা চাষ করে পাওয়া টাকার চেয়ে বেশি।

    তো, ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে চাষীরা কি করে, সে নিয়েও একটি সমীক্ষা করা হয়।এর ফলাফলও খুব ইন্টারেস্টিং।

    ১। ৬০% মানুষ ক্ষতিপূরণের টাকা জাস্ট ব্যাঙ্কে রাখেনইনা। ৪০% মানুষ পুরো টাকা বা তার একটা অংশ ব্যাঙ্কে রাখেন।
    ২। ডোমেস্টিক কনসাম্পশান + বিয়ের খরচায় এই টাকার পুরোটা বা একটা অংশ ব্যয় করেন ৬৪% মানুষ।
    ৩। জমি বা শ্যালো কেনেন মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ।

    তো, দেখা যাচ্ছে, ক্ষতিপূরণের টাকাটা বেশিরভাগ লোকই খরচা করে ফেলেন। ব্যাঙ্কে রেখে বা অন্য কোনো প্রোডাক্টিভ খাতে ব্যবহার করার প্রবণতা খুব কম।

    এর অর্থনৈতিক সিগনিফিক্যান্স টা কি সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর রাজনৈতিক সিগনিফিক্যান্স হল, বিমান বসুরা যখন বলেন, আমরা এমন ক্ষতিপূরণ দেব, যে ব্যাঙ্কে রেখেই চাষী খেতে পারবে, তখন তাঁরা জাস্ট আকাশচারী হয়ে কথা বলেন। কোনো সমীক্ষা-টমীক্ষা বিশ্লেষণ-টন করা হয়না।

    সমীক্ষা সূত্র: (সূত্র: Land Acquisition in a West Bengal District -- অভিজিৎ গুহ, EPW October 2004)।
  • Ishan | ১৮ অক্টোবর ২০০৬ ২২:১৫697572
  • বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং সূর্যকান্ত মিশ্রের বক্তব্যের ইংরিজি উদ্ধৃতিদুটির আগে এবং পরে কোটেশন মার্কের বদলে প্রশ্নচিহ্ন পড়ে গেছে। ওগুলো কে কোটেশন হিসেবেই পড়তে হবে।
  • bozo | ১৮ অক্টোবর ২০০৬ ২৩:১৩697683
  • সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপার টা দেখা হোক। পুরো ব্যাপারে সরকারের লাভ বা ক্ষতি কি কি হতে পারে:-

    ১। পুরো ঘটনা টা সরকারের ভুল প্ল্যানিং এর ফল। সে ক্ষেত্রে সরকারের কোনো লাভ নেই, তবে হোম-ওয়ার্কের অভাব দেখায়।সেক্ষেত্রে সরকারের ডাইরেক্ট লাভ বা ক্ষতি নেই।
    ২।শিল্প এর নামে জমি গ্রহন একটি ব্যব্‌সা। সরকার ও পার্টির অনেক মধ্য সারির দালাল/অফিসার এর থেকে কাট মানি পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাদের পসিটিভ ইন্টারেস্ট রইবে। অতএব সরকারের এক অংশের লাভ।
    ৩। লোক্যাল পার্টির ভূমিকা। এরা ক্ষতিপূরন ডিস্ট্রিবিউশনে এ বড় ভাগ নেন এবং একটা উপার্জনের রাস্তা। অতএব পার্টির এক অংশের লাভ।
    ৪।কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটা পার্ট হতে পারে।খুব অবাস্তব যুক্তি যদিও। আজকের বাজার দরে সরকার জমি নিল কিছু একটা দেখিয়ে। ২০ বছর পরে ওখানে কিছু বানানো হল সরকারের তরফ থেকে যদিও জমি অনেক কম দামে এলো। এই সরকার যখন নিজেদের অপর্যাপ্ত সময় গদী তে দেখে এরা ভবিষ্যতের ২-৩ জেনারেশনের জন্য পরিকল্পনাও করতে পারে। যেখানে 'শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ'।-:))
  • joy | ১৯ অক্টোবর ২০০৬ ০০:৩৬697794
  • ঈশন বাবুর কথ প্রসঙ্গে দু এক্তি কথ্‌হ।

    লোকে তো তাকা পেলে প্লে-য়িন ও খেলে। তাতে কি সার্কারের দায় অছে?
  • joy | ১৯ অক্টোবর ২০০৬ ০০:৪৫697905
  • আগের লেখা তি দেখতে বেশ খারাপ।

    লোকে তো টাকা পেলে প্লে-উইন লোতারি ও খেলে সব হারায়। সুতরঙ্গ ঐ ষতকরা হিসেবের কোনো মানে হোয় ন। মেয়ের বিয়ে দিতে গ্রামের লোক জে জমি বিক্রি করে, সেট কি আপনি জানেন ন?

    কোন চহ্‌হী ভাই কি এখানে অছেন? বুকে হাত দিয়ে বোলুন তো, তিন অসলি জমি থেকে কতো আয় হয়?

    জদি ঐ অধ পগোল মহিল র মতো অনাবৃহি্‌হ্‌তর দায় তও CPI(M) এর ওপোর চাপিয়ে দেন, তাহোলে এই আলোচনাই বৃথাআ।
  • Ishan | ১৯ অক্টোবর ২০০৬ ০৩:০২696288
  • জয়বাবু,

    লোকে লটারি খেলে স্বর্বস্বান্ত হলে সরকারের সত্যি ই কোনো দায় নেই, যদি সরকার "ব্যক্তি স্বাধীনতা' নামক বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেয়। তবে সেক্ষেত্রে কোনো লোক তার নিজের জমি বেচবনা বললেও সরকারের কিছু করার নেই। কারণ সেই একই। "ব্যক্তির অধিকার'। সমস্যাটা হচ্ছে, যে সরকার জমি নেবার সময় "ব্যক্তি স্বাধীনতা'কে অস্বীকার করছে। কার্যত: গায়ের জোরে জমি নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে অজুহাত হল "সমষ্টির উন্নতি'। কিন্তু তারপর লোকগুলোর কি হল/হবে জানতে চাইলে বলা হচ্ছে, টাকা তো দিয়ে দিয়েছি আবার কি? টাকা কিভাবে খরচা করবেন, সে আপনার "ব্যক্তিগত' ব্যাপার। সরকার দায়ী না। এইখানেই সমস্যা।

    এবার ব এর বক্তব্যের উত্তর।
    বয়ের বক্তব্য মুলত: দুটি :

    এক। ব্যবসাবাণিজ্যের যত নিয়ম তার একটি গ্যাঁড়াকল আছে, তা হল, সমস্ত কিচুই সম্ভব যদি একটি contract থাকে।এই কনট্র্যাক্ট বিষয়টাকে ব প্রশ্ন করছে। যে, কনট্র্যাক্ট থাকলেই কি পাবলিক ইন্টারেস্টকে এড়িয়ে যা খুশি করা যায়?

    আমার উত্তর খুব সোজা। ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির চুক্তিতে স্টেটের নাক গলানো উচিত নয়। ব্যক্তির সঙ্গে সমষ্টির চুক্তিতে এবং সমষ্টির সঙ্গে সমষ্টির চুক্তিতে অবশ্যই স্টেটের গইডলাইন থাকা উচিত। যেকোনো প্রাইভেট লিমিটেড/পাবলিক সংস্থা, এমনকি সরকার নিজেও এখানে "সমষ্টি' নামক বর্গে আসবে।

    এবং স্টেটের গাইডলাইন, অবশ্যই, ব্যক্তির "অধিকার'এর সীমাকে বাড়ানোর জন্য থাকবে, তার অধিকারকে খর্ব করার জন্য নয়। বেসরকারী সংস্থাগুলো এবং সরকার নিজেও যদি ব্যক্তির অধিকারকে ডিঙিয়ে যেতে চায়, তাকে সেই অধিকার দেওয়া হবেনা।

    আরও একটা কথা হল, যে কনট্র্যাক্ট মাত্রেই বর্জনীয় -- এটা কোনো মতেই সমর্থন যোগ্য নয়। কনট্র্যাক্ট যারা করছেন, সেই দুই পার্টি যদি "ইকুয়াল' না হয়, তাহলে সব সময়েই এক পক্ষ কনট্র্যাক্টে বেশি সুবিধে পাবে। যেমন আমাকে কোনো কোম্পানি চাকরি দিলে তাদের দেওয়া কনট্র্যাক্টেই আমাকে সই করতে হয়, দরাদরির ক্ষমতা খুবই সীমিত থাকে। কিন্তু তবুও, সেটা কনট্র্যাক্ট না থাকার চেয়ে, একদম ঠিকে শ্রমিক হবার থেকে ভালো। সহজবিধ্য কারণেই।

    দুই। ভারতবর্ষে সমস্ত আইন কানুন ক্যাপিটাল জোগাড়ে যারা এগিয়ে আছে তাদের পক্ষে। এবং এভাবে দীর্ঘদিন চলার ফলে ব্যবসায় আর নিয়ম বলে কিছু নেই, বা থাকার কথা নয়।

    আমার বক্তব্য। সবাই জানে, যে ভারতবর্ষ একতি নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির মধ্যে ছিল। সঙ্গে ছিল একতি দুর্নীতিগ্রস্ত নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির যাবতীয় গুণ ও দোষ। এবার নাকি বাজার অর্থনীতি হবে। তা বাজার অর্থনীতির পূর্বশর্ত হল, ব্যক্তিগত অধিকার এবং conatract নিয়ে যা যা আগের পয়েন্টে বললাম সেগুলো। "বাজার অর্থনীতি' যদি তুমি করতে চাও, তাহলে তার পূর্বশর্ত তোমাকে তৈরি করতে হবে। ব্যক্তিতে সম্পত্তির

    অধিকার দিতে হবে। চুক্তির অধিকার দিতে হবে। তাতে বাজার বাড়তে পারে, নাও পারে, শিল্প হতে পারে, কর্মসংস্থান হতে পারে নাও পারে। সেসব অন্য কথা। এগুলো না দিলে আর যাই হোক বাজার অর্থনীতি হবেনা।

    ভারতবর্ষে এবং পশ্চিমবঙ্গে, দেখা যাচ্ছে, এই পূর্বশর্তটিই তৈরি হচ্ছেনা। আঠারোশো ছিয়ানব্বই সালের ঔপনিবেশিক আইনে জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে। আইনটি, চূড়ান্তভাবে কলোনিয়াল। এবং এর জন্য পঞ্চাশ বছরের লিগ্যাসি টিগ্যাসি বা "পুঁজিবাদী কাঠামোর মধ্যে একটি অঙ্গরাজ্যের সীমিত ক্ষমতা' টমতা বলে কোনো লাভ নেই। জমি রাজ্যের বিষয়, ঐ আইনতি রাজ্যসরকার পাল্টাতে পারে। প্রকৃতপক্ষে বেশ কয়েকটি রাজ্য পাল্টেছেও। কিন্তু এখানে পাল্টানো হয়নি। কারণ শিল্পের বা বাজার অর্থনীতির পূর্বশর্ত তৈরির কোনো সিরিয়াস ইচ্ছাই নেই। যেটা হচ্ছে, সেটা হল স্টেট স্পনসরড বাজার অর্থনীতি নামক একটি সোনার পাথরবাটি। এই চেষ্টাকে সার্কাস বললে হয়তো একটু বেশি কড়া হয়ে যাবে, কিন্তু এটা আসলে সেই পুরোনো প্র্যাকটিসেরই লিগ্যাসি। আগে সরকারের উদ্যোগে সরকারী পুঁজি দিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি হত। এখন বেসরকারী পুঁজি দিয়ে সরকারী উদ্যোগেই শিল্প হবে। তত্বাবধান করবেন সরকার, আর ব্যবসা করবে ব্যক্তি। প্রতিযোগিতা থাককএনা, সম্পত্তির অধিকার থাকবেনা, শুধু সরকারের পছন্দমতো শিল্পগোষ্ঠীরা ব্যবসা করে মুনাফা লুটবে আর বাকিরা আঙুল চুষবে -- এর নাম আর যাই হোক বাজার অর্থনীতি নয়।

    আপাতত এইটুকু। এছাড়াও আবাপ আজকাল প্রসঙ্গে মুচকি হাসির কারণটা বুঝিয়ে দিলে সেটা নিয়েও দু পয়সা দেব।
  • kallol | ১৯ অক্টোবর ২০০৬ ০৯:৩১696399
  • ঈশানকে অসংখ্য ধন্যবাদ, সেঞ্চুরি টেক্সস্টাইলস কেস স্টাডির জন্য।
    সরকারতো বলেই খালাস "জমির মালিক পাওয়া যাচ্ছে না"। এই যে জমির মালিক, আর যাদের কথা সরকার এবং আমরাও, হ্যাঁ আমরাও, ভুলে গেছি; সেই জমির ওপর নির্ভরশীল অগনিত মানুষ স্রেফ উবে গেলো-তাতে কারোর এতোটুকু কোন লজ্জা আছে ? "ভুল প্ল্যানিং" বললেই অতগুলো মানুষের এতো বছরের জীবন এবং উবে যাওয়া যাপন ফিরে আসবে? শিল্পায়ন-নগরায়ন উন্নয়ন নয়। যে যা খুশি তাই বলতে পারো.......... ইউটোপিয়া, দাও ফিরে সে অরন্য, চাকা পেছনে ঘোরানো, কাব্যি করা, ধোঁয়াটে ভালো থাকা........। সত্তর বছর আগে যখন সুইডেনের এক ভদ্রলোক গ্রীন হাউস এফেক্টের কথা বলেছিলেন তখনও এই প্রকার যুক্তিসমূহ উড়ে এসেছিলো। বুকে হাত দিয়ে বলা হোক কে দায়ী global worming এবং তার ফলে তৈরী হওয়া বিশ্ব পরিবেশের এই অবস্থার জন্য। আর কে তৈরী করেছে এই অমানবিক ব্যবস্থা যা প্রকৃতিকে শুধুই object হিসাবে দ্যাখে (আমি মানুষকেও প্রকৃতির মধ্যেই ধরি)।

    ভেবেছিলাম এই তর্কে আর জড়াবো না। খুব কষ্ট থেকে কথাগুলো লিখলাম। কাউকে আঘাত দিয়ে ফেলে থাকলে, আন্তরিক ভাবে ক্ষমা চাইছি।
  • Arjit | ১৯ অক্টোবর ২০০৬ ১৪:০৯696510
  • তর্ক নয় - কিন্তু একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করছি - বেশ কয়েক জায়গাতে এই ইস্যুটা নিয়ে আলোচনা চলছে - সব জায়গাতেই ঘুরে ফিরে সেই একই রেফারেন্সগুলো আসছে কিন্তু - অশোক মিত্তির, অভিজিত গুহর এই লেখাটা...
  • Ishan | ১৯ অক্টোবর ২০০৬ ২০:২৪696621
  • আর কোথায় আলোচনা হচ্ছে? তোর দেয়া অর্কুট সিপিএমের কমিউনিটিতে তো আর কিছু হচ্ছে না দেখলাম।

    সেখানে ডেমোক্রাসি প্রসঙ্গে এই রেফারেন্সটা কি কেউ দিয়েছে?
    http://www.epw.org.in/showArticles.php?root=2006&leaf=10&filename=10633&filetype=pdf
    না দিয়ে থাকলে দিয়ে দে।

    এটাও EPW
  • Arjit | ১৯ অক্টোবর ২০০৬ ২০:৩৯696732
  • হুঁ - এটাও এসে গেছে।

    অভিজিত গুহর-টাও ছিলো বলেই মনে হচ্ছে। ওতা আমি JU সায়েন্স ক্লাব লিস্টেও পেয়েছি।
  • Ishan | ২০ অক্টোবর ২০০৬ ০০:৪০696843
  • মেনস্ট্রিম মিডিয়া এমনকি বুদ্ধবাবুর কথাও ছাপছেনা, যদি সেটা কোনো কারণে অস্বস্তিতে ফেলে। যে কথাগুলো বলা হয়েছে, কিন্তু আবাপ-আজকালে ছাপা হয়নি, রেকর্ডের স্বার্থে সেগুলো এখানে থাক।

    টাটাদের কিকি সুবিধা দেওয়া হবে জানাও যাবেনা কেন,ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিরুপম সেন : " There is a word called trade secret in the dictionary and you should remember that'।

    এর উত্তরে সিপিআই এর রাজ্যসম্পাদক মঞ্জু মজুমদার : "In a democratic set-up there cannot be any trade secret. The people should get to know everything'।

    এর জবাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য :"They say all this because they want to get their pictures printed in newspapers. Their pictures are hardly published. Would you publish their pictures if they had not said all this to you?'

    এছাড়াও সব তথ্য যে জানানো হবেনা, এ ব্যাপারটি বুদ্ধবাবু কনফার্ম করেন। "We will tell them what we want and will not tell them what we do not want'।

    এর জবাবে মঞ্জুবাবু: "I had been associated with him in several movements. I knew him to be a cultured, polite man. I never imagined he could have made such an abominable comment while answering a political question. And it will be beyond my dignity to answer such a distasteful comment'।

    সূত্র: http://cities.expressindia.com/fullstory.php?newsid=205899
  • J | ২৩ অক্টোবর ২০০৬ ১৯:৩৩697065
  • সই করেছি ইন্দির।
  • Samik | ২৩ অক্টোবর ২০০৬ ২২:২৭697106
  • আমিও করলাম সই।

    পিটিশন অনলাইনে সই করে সত্যি কিছু হয়? মানে, অ্যাট লিস্ট সরকারের কাছে পৌঁছয় এটা?
  • Ishan | ২৭ অক্টোবর ২০০৬ ০১:২৭697129
  • সিঙ্গুরে আজ মেধা পাটকর আসছেন। "গণ আদালত' বসাতে। মেন স্ট্রিম মিডিয়া চুপ। অতএব আমি ই লিখে দিলাম। নিউজ আইটেম।
  • Samik | ২৭ অক্টোবর ২০০৬ ১২:০৭697140
  • কাল কোনও একটা চ্যানেলে দেখলাম। ছোট্ট খবর, গুরুত্বহীন ভাবে প্রচার করা।

    তবে মেধা পাটকর এখন একজন লোক হাসানোর লোক হয়ে গেছেন। জন্তর মন্তরের পাশে রোজই বসে থাকেন। সেদিন স্বর্ণালীদের অফিসে এসে পাওয়ার সেক্রেটারির ঘরের সামনে বসে পড়েছিলেন। শ্রমশক্তি ভবনে শক্তি, শ্রম আর জলসম্পদ, এই তিনটে মিনিস্ট্রি চলে। উনি এসেছিলেন জলসম্পদ মন্ত্রীর সেক্রেটারির কাছে ধর্ণা দিতে, তা সেক্রেটারি তখন ট্যুরে ছিলেন বলে মেধা পাটেকর পাওয়ার মিনিস্টারের সেক্রেটারির ঘরের সামনে বসে চা সিঙ্গারা খেলেন।
  • b | ২৭ অক্টোবর ২০০৬ ১২:১০697151
  • মেধা পাটকর সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন থাকলেও, আন্দোলন কারী রা কেন চা সিঙাড়া খাবে না মাইরী?
  • tan | ২৮ অক্টোবর ২০০৬ ২২:১৯697162
  • ঈশেন,
    "গণ-আদালত" য়ের ব্যাপারটা নিয়ে শুনতে চাই। লিখবে?
  • Su | ২৯ অক্টোবর ২০০৬ ০০:১১697173
  • পিটিশনে সই করলুম না। এখনও convinced হই নি।
    সু
  • Bunan | ৩১ অক্টোবর ২০০৬ ০০:৩৩697184
  • আমিও অল্প কিছু বলতে চাই সিংগুর নিয়ে, বা আমি অল্প কিছু জানতে চাই।

    Singur vs Century textile--- এরে কয় খুঁত খোজা
    -------------------------------------------------------
    century textile এর ব্যপার টা না হয় মেনে নেয়া গেল, কিন্তু, singur এর ব্যপারে সরকারি পক্ষ বা বিপক্ষের সব কটা খবরের কাগজে কিন্তু Cheque বিলি করার খবর বেশ বড় করে বেড়োচ্ছে।
    দ্বিতীয়ত, Century textile এর রিপোর্টে লেখা আছে "এক বা একাধিক" কৃষক কে ক্ষতি পুরণ দেয়া সম্ভব হয় নি। কিন্তু কোথাও সেই সংখ্যার উল্লেখ দেখলাম না। মানে ধরা যেতেই পারে খুব অল্প সংখ্যাক কৃষকের ক্ষেত্রে এমন হয়েছে (বিরোধী পক্ষ নাহলে কি আর ছেরে দিত?)।
    কোনো একজনের সাথেও এমন হওয়া নিশ্চয় অন্যায়, আর আমি তাই এই নিয়ে সরকার পক্ষের হয়ে কোনো সাফাই গাইছি না। কিন্তু ঐ সূর্য বাবু যেটা বলেছেন যে "কৃষক দের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না", সেটা খুব একটা ভুল নাও হতে পারে, কারন বাস্তব বলছে এই ধরণের কৃষকের সংখ্যা খুব অল্প।

    বানতলা চর্ম (শিল্প নগরী)
    ------------------------------------
    আসা যাক "বানতলা চর্ম নগরী" র কথায়। ওটাঅর স্ট্যাটাস যারা বলছেন জানেন না, সেটা তাঁদের জানার সীমা বদ্ধতা। এই টুকুই বলতে পারি যে আমাদের সফট ওয়ার কোম্পানিটি ওখানে একটা বিশাল জমি কিনে ফেলেছে, আর আমাদের বেশ কিছু প্রোজেক্ট ওখানে উঠে যাবে (ওটার নাম চর্ম নগরি হলেও ওটা আসলে শিল্প নগরী তৈরি হবে, রাজার হাটের extension হিসেবে, আর প্রথম থেকেই প্ল্যানে এটাই ছিল বলে জানি)।

    জমি অধিগ্রহন ও সরকার
    ------------------------------
    আর জমি অধিগ্রহণের পর সরকারের দায়িত্ব হিসেবে যে জিনিস গুলো দেখানো হয়েছে সেগুলো তো রীতি মতন হাস্যকর। ১৫০% জমির দাম যেখানে ক্ষতি পূরণ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে সেখানেও সবার আপত্তি এবং অজুহাত টা "ব্যাক্তি স্বাধীনতা" (বিরোধী রা আবার এই নিয়ে খুব আন্দোলন করছেন আজকাল, অথচ ঐ ঘাস ফুল দিদি যখন রেল মন্ত্রী ছিলেন, তখন নতুন রেল লাইন বসানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কত জমি ঠিক কত মুল্যে অধিগ্রহণ করেছিলো, তার একটা হিসেব ওনাকে দিতে বললে, হয়তো উনি ফের গোঁসা ঘরে খিল দেবেন), সে ক্ষেত্রে সরকার যদি কৃষকের হাতে টাকা টা না দিয়ে তার হয়ে ব্যাঙ্কে জমা করে রাখে, তাহলে যে কি ভয়ংকর আন্দোলন হবে কে জানে। ঘাস দিদি হয়তো আবার চুল বাঁধা বন্ধ করে দেবেন, কৃষক দরদী রা আরো মনের আনন্দে সমালোচনা করার নতুন নতুন টপিক্স খুঁজে পাবেন।

    বাজার অর্থ নীতির এই থিওরি!!!!
    -----------------------------------------------------

    বাজার অর্থনীতি নিয়েও এক গাদা থিওরি পড়লাম, সেই কলেজের অতি বোরিং থিওরি ক্লাশ গুলোর মতন। একটা থিওরি সব টা শিখিয়ে বলা হয় যে এই থিওরি টা কাজে লাগানো যাবে না শেষ অব্দি, তেমন একটা ব্যপার।
    প্রধান আপত্তি টা বোঝা গেল যে এই রাজ্যে থিওরিটি মানা হচ্ছে না। আর সেই অত্যাশ্চর্য থিওরিটির ফলাফল কি? "বাজার বাড়তেও পারে, নাও বাড়তে পারে, কর্ম সংস্থান হতেও পারে, নাও পারে" ... তা এমন ৫০-৫০ একটা সিস্টেম বানাবার জন্য বুঝি কোনো থিওরি লাগে? আর এমন থিওরি টাই বুঝি ফলো করা উচিৎ?

    বুদ্ধ বাবু, মঞ্জু মজুমদারে কথোপথন
    ------------------------------------
    এই নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না, আজকালের নেপথ্য ভাষনের একটা লিংক দিচ্ছি। বেশ সুন্দর কিছু কথা লেখা আছে।

    http://www.aajkaal.net/archive/cat.php?hidd_cat_id=7

    বাম দল গুলোর অন্তর্গত কিছু দল শুধু প্রচারে আসার জন্য মাঝে মাঝে হঠাৎ কি ভাবে ল্যাজ তুলে চেচায়, তা এটা পড়লে বেশ ভাল বোঝা যায়। তাই তাদের কথার গুরুঙ্কÄ কত টা তা নিয়ে সত্যি ভাবার দরকার।

    সার্কাসের টিকিট বিক্রির হিসেব
    -----------------------------
    আর সমস্ত ব্যপার টা না হয় সার্কাস ই হলো, কিন্তু সেই সার্কাসের ফলে যে এই রাজ্যে কাজের man hour টা বেড়ে গেল, সেটা কি হিসেবের বাইরে রাখা হবে?
    আচ্ছা একটা ছোট্ট হিসেব করা যাক
    ৫০০ টি পরিবার, ৬০০ টি চাষি (কিছু বেশি ধরলাম), বছরে সর্বাধিক ১০০ দিন চাষ (ধরে নিলাম সব জমি দুই ফসলি, এক ও না, তিন ও না) = ৬০০০০ শ্রম দিবস
    পরিবার পিছু একজনের চকরি, ৫০০*৩৬৫ =১৮২৫০০ শ্রম দিবস
    তো প্রায় ২০০% বৃদ্ধি, তো এই হিসেব গুলো কে ধরবে?

    প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যে অনেক বেশি লোকের উপার্জনের সুরাহা হলো, সেটাও কেন হিসেবের বাইরে রাখা হচ্ছে?

    শুধু মাত্র singur বা তার চার পাশের area না, এমনকি কোলকাতা বা হলদিয়া বন্দর এলাকাও যে উপকৃত হবে গাড়ি রপ্তানির সময়। এই হিসেব টা কেন বাদ দেয়া হচ্ছে?

    আর একন্তই যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তারা তো তাঁদের চিন্তা গুলো দিয়ে কিছু constructive plan বানাতে পারেন। আমরা কোনো constructive plan ও দেবো না, আবার সরকারের construction এর মধ্যে সবসময় destruction খুঁজবো, এ আবার কেমন কথা?
  • Ishan | ৩১ অক্টোবর ২০০৬ ০৩:১৫697195
  • সেঞ্চুরি টেক্সটাইলস
    ---------------------
    কারখানার যে জমিটি নেওয়া হয়েছিল, সেটি পাঁচিলে ঘেরা অবস্থায় পড়ে আছে -- এটা ঐ সমীক্ষাতেই লেখা হয়েছিল। অতএব "বাস্তব বলছে এই ধরণের কৃষকের সংখ্যা খুব অল্প' -- কথাটা ঠিক নয়। বরং বাস্তব বলছে, কোনো কৃষকই জমি ফেরত পাননি, অন্তত: ঐ সমীক্ষাটি প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত।

    বানতলা চর্ম(শিল্প) নগরী
    ------------------------
    "আমাদের সফটওয়্যার কোম্পানি' টা কোনটা ঠিক বুঝলামনা। আপনি চর্মনগরীর স্ট্যাটাস যারা জানেনা তাদের সীমাবদ্ধতাকে কটাক্ষ করেছেন, কিন্তু "আপনার সফটওয়্যার কোম্পানি' বিরাট জমি কিনে ফেলেছে ছাড়া আপনারও বিশেষ কিছু জানা নেই, দেখাই যাচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কি, এতে দোষের কিছু নেই, কোন প্রজেক্টের কি হল, সেটা জানানোর কোনো দস্তুর আমাদের দেশে তৈরি হয়নি এখনও। সেই রীতি মেনে সরকার এটা নিয়েও কিছুই জানাননি।

    জমি অধিগ্রহণ ও সরকার
    -----------------------
    প্রশ্নটা শুধু জমি অধিগ্রহণের পর সরকারের কি দায়িত্ব তা নিয়ে নয়, সরকার কি পদ্ধতিতে জমি অধিগ্রহণ করেছে তা নিয়েও। আমি বাড়ির রোয়াকে বসে ভাত খাচ্ছিলাম, একদিন জমিদারের পেয়াদা এসে বলল ওঠো হে, বাবু বলেছেন এখানে কারখানা হবে, দেশের উন্নতি হবে, এই নাও দেড়শো টাকা, -- পুরো প্রসিডিওরটা এতোটাই অগণতান্ত্রিক। জমি যেহেতু আমার যাচ্ছেনা, অতএব এই প্রসিডিওর নিয়ে ভাববনা, এটা সুবিধেবাদী যুক্তি।

    রেললাইন, এবং রাস্তা (যথা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে) বানানোর জন্য এই জাতীয় প্রশ্ন গুলো ওঠেনি, কারণ এগুলো ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল ডেভেলাপমেন্ট, এবং একই জায়গায় অনেক লোকের জমি ওতে যায়না। কিন্তু জনৈক টাটাবাউ তাঁর ব্যবসা করবেন বলে আমাকে জমি ছেড়ে উঠে যেতে হবে, উঠে না গেলে লাথি মেরে ওঠাবো -- এটা জাস্ট আন অ্যাকসেপ্টেবল।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, কিংবা অন্যত্র এরকম হলে পশ্চিমবঙ্গের বুকে আন্দোলনের বন্যা বয়ে যেত।

    বাজার অর্থনীতির থিয়োরি
    -------------------------
    বক্তব্যটা বুঝলামনা। কিলিয়ার করে বলা হোক।

    বুদ্ধবাবু আর মঞ্জু মজুমদারের কথোপকথন
    ---------------------------------------
    এটা নিয়ে আপনি কিছু বলতে চাননা, কারণ বিষয়টা অস্বস্তিকর। বামফ্রন্ট সরকারের শরিকদের কিরকম আচরণ করা উচিত, বা কিভাবে তারা প্রচার চায়, সেটা তাঁদের ব্যাপার। এই প্রচারলোভী দলগুলো, যারা প্রচারে আসার জন্য "ল্যাজ তুলে চেঁচায়', তাদের নিয়ে গড়া "উন্নততর বামফ্রন্ট' সরকার কিভাবে চলবে তাও বামফ্রন্ট সরকারের ব্যাপার। আমার সে নিয়ে কিছু বলার নেই। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে, শুধু একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমি সরকারের কাছে জানতে চাইব, যে, টাটাদের সঙ্গে ঠিক কি চুক্তি হচ্ছে? ঠিক কি চুক্তি হচ্ছে আম্বানি বা সালিমদের সঙ্গে। এটা সরকার না জানালে বলব স্বচ্ছতার অভাব। আর না জানিয়ে শুধুই গাল পাড়লে বলব অস্বচ্ছতার সঙ্গে গোপন করার মতো আরো কিছু আছে।

    সার্কাসের টিকিট বিক্রির হিসেব
    --------------------------
    অঙ্কটা ভালই। কিন্তু গোঁজামিল থাকায় কোনো নম্বর দেওয়া গেলনা। "পরিবার পিছু একজনের চাকরি ৫০০*৩৬৫=১৮২৫০০ শ্রবদিবস' -- এই য দাবী, এতে একমাত্র গুণফলটা ঠিক আছে, বাকি সবই গোঁজামিল। পরিবার পিছু একজনের চাকরিটা দিচ্ছে কে? টাটা? সরকার? না "আপনাদের কোম্পানি'? :-) সূত্রস্‌সহ বিস্তারিত জানালে ভালো হয়।
  • Riju | ৩১ অক্টোবর ২০০৬ ১১:৫৫697206
  • বুনানের বক্তব্য জোরালো লাগে নি।
    কন্সট্রাকটিভ কিছু অল্টার্নেটিভ দেওয়া হয়েছে এই থ্রেডেই,ঈশান দার প্রথম দিকের একটা লেখা তেই ছিলো সিঙ্গুরে যেখানে জমি নেওয়া হচ্ছে তার মাত্র পাঁচ কি মি দূরে দূর্গাপুর হাইওয়ের ধারে পোচ্চুর জলা জমি পড়ে রয়েছে,সেটা কেন নেওয়া হোলো না ? আরো অলটার্নেটিভ হিসেবে আমি তুলে ধরেছিলাম দূর্গাপুর আসানসোল রাণীগঞ্জ শিল্পাঞ্চলের পতিত জমি কে।
    আর যেকোন যুক্তি কাটতে গেলেই ঐ ক্ষ্যাপা নেত্রীর প্রসঙ্গ টেনে আলোচনা ঘুরিয়ে দেবার চেষ্টা টা সিপিমের পুরোন রোগ,আরো টু দি পয়েন্ট হওয়া উচিত শাণিত যুক্তি। মনে রাখা উচিত এই থ্রেডে কিন্তু কেউ মমতা পন্থী হয়ে কথা বলছে না - সমালোচনা করছে রাজ্য সরকারের নীতির।অন্য রাজ্যে শিল্পর জন্যে উর্বর কৃষি জমি নেওয়া হয়না - ফর এক্সাম্পল মহারাষ্ট্রের MIDC এরিয়া হয়েছে আহমেদনগর - ঔরঙ্গাবাদ জুড়ে বন্ধ্যা জমির ওপর।
  • Bunan | ৩১ অক্টোবর ২০০৬ ১৩:২৮697217
  • Century textile

    ------------------------------

    আমি কি বলতে চেয়েছিলাম তা মনে হয় আপনি বোঝেন নি। জমি ফিরে পাওয়ার অধিকার শুধু তাদের ই আছে যারা ক্ষতি পূরন পান নি। আমি বলতে চেয়েছি (according to report), এদের সংখ্যা খুব অল্প। তাই সূর্য বাবুর কথা টা মিথ্যে না হবার সম্ভাবনা বেশি (যে এদের খুজে পাওয়া যায় নি)। জমি বেচার টাকাও নেব, পরে জমি পড়ে আছে বলে ফেরত ও নেবো? এ তো সেই পাড়ার ক্লাব্দের দাদা গিরি মার্কা ব্যপার হয়ে গেল।

    বানতলা

    ------------------------

    কোলকাতার সফট ওয়ার কোম্পানি গুলো কি প্রচন্ড রকম space crunch এ ভুগছে তা সমন্ধে আপনার কোনো ধারনা নেই বোঝা যাচ্ছে। আশা করা যায় বাগান বাড়ি বানাবার জন্য ওখানে কোম্পানি গুলো জমি কিনছে না। আর আমি মনে হয় লিখেছিলাম যে রাজার হাটের extension হিসেবে ওটা তৈরি হচ্ছে। আশা করি পরের বছর ও আমরা এই টপিকস নিয়ে আলোচনা করবো।

    জমি অধিগ্রহন ও সরকার

    ------------------------------------

    সরকার কি ভাবে জমি অধিগ্রহন করেছে, তা আপনিও জানে, আমিও জানি। ৮০০ একরের ও বেশি জমি স্বেচ্ছায় কৃষক রা তুলে দিয়েছেন।

    http://www.aajkaal.net/report.php?hidd_report_id=72037

    রেল লাইন, রাস্তা বানাবার জন্য "এক সাথে অনেক লোকের জমি যায় না"--একদম ঠিক, কিন্তু ultimately কিছু লোক বাস্তু হারা হয়। ব্যপার টা আপনার কথা মতন সেই একি জায়গায় এসে দাড়ায়, "বাবু বলেছেন এখানে রাস্তা হবে, দেশের উন্নতি হবে ...."

    আর economic development টা যদি আপনার কোনো proper কারন বলে মনে না হয়, তা হলে infrastructural development টাও অজুহাত। আর ঐ infrastrucral development এর নামে দুর্গা পুর হাই ওয়ের অজুহাত টা কি না দিলেই নয়? সবাই জানে ওটার পেছনে কত টা infra structure আর কত টা দুর্গা পুর শিল্পা ঞ্চল।

    "জমি যেহেতু আমার যাচ্ছে না, তাই এই প্রসিডিওর নিয়ে ভাবনো না", এটা নি:সন্দেহে সুবিধেবাদি যুক্তি। কিন্তু যেহেতু টাটা কারখানা খুলুক বা না খুলুক তাতে আমার income বাড়ছে না বা কমছে না বলে আমি হথাৎ "কৃষক দরদী" হয়ে উঠবো, সেটাও সমান ভাবে সুবিধেবাদি চিন্তা ভাবনা।

    বাজার অর্থ নীতির থিওরি

    -------------------------------

    ঐ এক ই ব্যপার ইষান দা, আমার ও কিছু কিলিয়ার হয় নি। শুধু এই টুকুন বুঝেছিলুম যে ঐ আপনার দেয়া থিওরিটি মানলে "শিল্পায়ন হতেও পারে, নাও হতে পারে, বাজার বাড়তেও পারে, নাও পারে..."। সেই ছোট্ট বেলায় পরশু রামের লেখা বিরিঞ্চি বাবা পড়েছিলুম, সেখানেও সেই মাহা পুরুষ বাবা টি এমন সব থিওরি শোনাতেন।

    ঐ বাজার অর্থ নীতির এমন সব নিয়ম শুনলে তো Heisenberg ও লজ্জা পেতেন।

    সরকারের স্বচ্ছতা

    -------------------------------------

    সরকারের স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে অনেক কিছু শুনছি। কিন্তু যেখানে আশে পাশের রাজ্যের সরকার রা ঘাস দিদি দের বিরোধিতার সুযোগ নিয়ে সারা ক্ষন ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে (নীতিশ কুমারের টাটা আরাধনা), সেখানে সরকার চুক্তির details টা যে গোপন করতে বাধ্য হবে, তাতে বলার কি আছে?

    সার্কাসের টিকিট বিক্রির হিসেব

    -----------------------------------------

    ধন্যবাদ ইশান দা অঙ্ক টা কে ভাল বলার জন্য। বেশ চমকে গেলাম যে অঙ্কের ডান দিকের গোঁজামিল টি ঠিক আপনার চোখে পরেছে বলে। কিন্তু খুব খুশি হলাম দেখে যে ডান দিকের গোঁজামিল টা কে balance করার জন্য আমি বাম দিকেও যে যে গোঁজামিল গুলো দিয়েছি তা আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে বলে। ওটাই expected ছিল।

    যাকগে, যেহেতু আমরা জানি না ৫০০ টি পরিবারের সবার ক্ষেত্রে পরিবার পিছু একজন চাকরি পাবে কিন, তাই বাম দিকের অংকে আমি অনতত ১০০ জন কৃষক কে extra ধরেছি (রিষকের সংখ্যা ধরেছি ৬০০)। সমস্ত জমি কে দুই ফসলি ধরে হিসেব টা করেছি (যেখানে ওখানকার ৯১ % জমি এক ফসলি http://www.aajkaal.net/archive/report.php?hidd_report_id=71359)।

    বাম দিকের অঙ্কের গোঁজা মিল টি না ধরতে পারা টা কি ইচ্ছে করে এড়িয়ে যাওয়া?

    constructive idea

    --------------------------------------

    বিরোধি দের কাছ থেকে কিছু constructive idea আষ করেছিলাম (দুরাশা মনে হচ্ছে), যে সরকারের কি করা উচিৎ ছিল। শিল্পায়ন যে দরকার সেটা তো at least মানবেন?
  • Bunan | ৩১ অক্টোবর ২০০৬ ১৩:২৯697228
  • ঋজু কে "চোট্ট" করে কয়েক টা প্রশ্ন,

    ১) দুর্গাপুরের হাইওয়ের ধারে পোচ্চুর জলা জমি পড়ে আছে, এটা কি wikimapia র ছবি থেকে জানা গেল? সরকার যদি ঐ জমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতো তখন বিরোধী রা কি বলতেন?
    (জলা জমি তে construction করার থেকে, সেখানে মাটি ফেলে চাষ আবাদ করা তো বেশি সহজ)

    ২) দুর্গাপুর, আসানসোল, রানীগঞ্জের পতিত জমি ঠিক কত টা? সেই জমি অধিগ্রহণ করার আইনগত জটিলতা কত টা? এই তথ্য গুলি না দেখানো অব্দি ঐ ধরনের idea meaningless

    ৩) দুর্গাপুর আসানসোল এর মতন শিল্প সমৃধ্‌হ জায়গায় নতুন শিল্প গড়া টা তো "তেলা মাথায় তেল দেওয়া" বেশি করে। সত্যি সরকার অমন কিছু করতে চাইলে সবার আগে সেটার বিরোধিতা করা উচিৎ।

    ৪) To the point যুক্তি তখন দেয়া যায় যখন উলে্‌তা দিকে to the point কিছু পাওয়া যায়। বাজার অর্থনীতির থিওরি আর Century textile এর উদাহরন ছাড়া তো কিছুই পেলুম না।oops তার ওপর আবার টাকা হাতে পেয়ে কৃষক রা কি করেন তার ওপোর সমীক্ষা !!!

    ৫) সিঙ্গুরের ৯১% জমি এক ফসলী সে তো আগের থ্রেডেই লিখলাম। তাহলে শিল্পের জন্য 'উর্বর কৃশি জমি' নেওয়ার concept টা তো এখানেও খাটে না, তাই না? :)
  • Bunan | ৩১ অক্টোবর ২০০৬ ১৩:৩১697240
  • লেখার মধ্যে কেমন গুচ্ছ খানেক space এসে গেছে। Offline এ লেখা তো, তাই !!!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন