এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অনামী | ০২ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৪৫66905
  • "আমি খুব সিরিয়াসলি বিশ্বাস করি যে ভারতে সংখ্যালঘু ও দলিত তোষণ ঠিক করে হয়নি।"
    এইখানে তোষণ শব্দটিতে তীব্র আপত্তি জানাচ্ছি। লেখক কি বলতে চাইছেন সেইটা বোঝা গেলেও, এই ধরনের শব্দপ্রয়োগ উচ্চবিত্ত জাতিবিদ্বেষী বর্ণহিন্দুদের হাতে খামোখা অস্ত্র তুলে দেয়। ভারতবর্ষের পিছিয়ে পড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দলিত, আদিবাসী আর দলিত মুসলিমদের প্রতি রাষ্ট্রের বিশেষ যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। সংরক্ষণ তার একটা রাস্তা নিশ্চিত। কিন্তু সেইটা একমাত্র রাস্তা বা শুধুমাত্র রাস্তা হওয়া উচিত নয়। গনতান্ত্রিক সমাজবাদী রাষ্ট্রের থেকে এই প্রত্যাশা কোনভাবেই 'তোষণ' নয়। এইটা পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বাভাবিক এবং ন্যুনতম অধিকার।
  • Blank | ০২ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৫৭66906
  • অনামীর বক্তব্যে একমত মোটামুটি
  • অনামী | ০২ নভেম্বর ২০১৫ ০৪:০২66907
  • "অনেক লিবারাল প্রগতিশীল মানুষেরাও প্রশ্ন তুলেছেন যে সেকু-মাকুরা হিন্দু মৌলবাদ নিয়ে যতটা সরব মুসলিম মৌলবাদ নিয়ে কেন ততখানি নয়। এর উত্তরে বলার, খুব স্বাভাবিক কারণেই মুসলিম মৌলবাদ নিয়ে সরব হওয়া উচিত নয়। এক তো ভারতে মুসলিম মৌলবাদ এমন কোন বিপদ-ই নয়। তার থেকে হিন্দু মৌলবাদ প্রতিদিন আরো বড় আকারে চোখের সামনে ঘনিয়ে আসছে।"

    লেখাটি আরেকবার পড়তে গিয়ে সাম্প্রতিককালে গোমাংস ভক্ষণ নিয়ে যে অলীক কুনাট্য রঙ্গ হচ্ছে তার কথা মনে পড়ে গেল। এই নিয়ে এখনকার পরিস্থিতি উপরে শাক্যজিতের যে ভ্রান্ত ধারণা তার সাথে খাপে খাপ হয়ে যায় একদম। হিন্দু সেনা হনুমানের দল গোমাংস খাওয়া নিয়ে মার মার কাট কাট করছে। অন্য দিকে সেকুরা প্রতিবাদ স্বরূপ মাংস ভক্ষণ উদযাপন করছে। ভালো কথা। বেশ কথা। এই প্রতিকী প্রতিবাদ জরুরি। তা যতই এতে গুএর এপিঠ ওপিঠ মিলে একে অপরের মুখে এককালের বন্ধুতের তাগিদে মাংস ঠুসে দিকনা কেন। আমরা তো চাই সুবোধের বিকাশ হউক!
    চাড্ডিদের বক্তব্য কি? তাদের বক্তব্য হলো, "হে মহান সেকু, শূকর মাংস কই? আপনাদের ধর্ম নিরপেক্ষতা একচক্ষু হরিণের মতন নয় কি?"
    সেকুদের কথা হলো, শূকর মাংস ব্যান হয়নি। বাড়িতে সসেজ আর ট্যাংরাতে চিলি পর্ক খেলে কোনো ইমাম এসে আমার কল্লা ফেলবে না। হক কথা। কিন্তু এই সুক্ষ তক্কে, ন্যারেটিভটা যে বেদখল হয়ে যাচ্ছে ধর্মাবতার! বিফ কাবাবের সাথে পর্ক রিবস খেয়ে নিলে বিনা কষ্টে ন্যারেটিভটা পুনর্দখল হয়ে যেত। অনেক বিপ্লব অনেক কষ্ট করে করতে হয়! এইটা আহ্লাদের সাথেই করা যেত। কিন্তু না। কোনো অজানা কারণে আমাদের মনে হয় যে মুসলিমরা এতে বড় গোসা করবে। যেন তারা ভাবতেও পারেনা সেকুলার মানুষ শূকর মাংস খায়। এতে নাকি তারা বিচ্ছিন্ন বোধ করবে! এইটা আসলে একধরনের বড় ভাই সুলভ আচরণ ছাড়া কিছুই নয়। আসলে সাধারণ মুসলমানকে আমরা অবোধ শিশু মনে করি। তাই এই অতি সাবধানী আতুপুতু আচরণ।
    এর ফল যা দাড়াচ্ছে তা হলো হিন্দু হনুমানগুলো এই সামান্য ব্যাপার নিয়ে হিন্দু ভাবাবেগ জাগিয়ে তলার সুযোগ পাচ্ছে। বৃহত্তর প্রশ্নগুলো গৌন হয়ে যাচ্ছে। যে মানুষ ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলবে অথচ সমস্ত ধর্মের সমান এবং যৌক্তিক সমালোচনা করেননা, তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। রাস্তায় দাড়িয়ে গপগপিয়ে গরু খেলে, আর প্রকাশ্যে শুয়োর খাবার বেলাতে কিন্তু কিন্তু করে মিনমিনে যুক্তি দিলে জনতা সরু সন্দেহের চোখে তাকাবে জাঁহাপনা। এইটা অস্বীকার করে কোন রাজনীতিটা হবে?
    রাজনৈতিক বক্তব্য শুধুমাত্র বুদ্ধিমত্তাকে আবেদন করলে চলবেনা। মানুষের হৃদয়াবেগ ও ভাবাবেগকেও ছুঁতে হবে। আর-এস-এস আর বিজেপি এটা খুব ভালো বোঝে। আর বোঝে দাঙ্গার মাধ্যমে ক্ষমতা সুসংহত করা। বিজেপির গ্রাফ যখনি চড়েছে, দাঙ্গার পিঠেই চড়েছে। রাম মন্দির হক, গুজরাট হক কি মুজফ্ফর নগর। দাঙ্গার মাধ্যমে এই জানোয়ারগুলো হেগেমনি অন ভায়োলেন্স কে প্রতিষ্ঠা করে। এই দাঙ্গা গুলো তো ভাবাবেগকে সুরসুড়ি দিয়েই হয়। যদি আজকে আপনি মুসলিম মৌলবাদীদের হিংসার উচিত সমালোচনা না করতে পারেন, তাহলে কালকে আপনার আর-এস-এস সমালোচনা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু পরিত্যাগ করবে। কালবুরগিকে নিয়ে কান্নার সাথে তসলিমা/অভিজিতের বেলায় আর না বলাটাও জরুরি। নিরপেক্ষ শব্দটির আভিধানিক মানে তাই বলে!
  • Sakyajit Bhattacharya | ০২ নভেম্বর ২০১৫ ০৬:২১66908
  • কাল বিস্তারে লিখব। আজ হাতে সময় নেই
  • অনামী | ০২ নভেম্বর ২০১৫ ১০:৪১66899
  • অনেকগুলো বিষয়কে গুলিয়ে দিলেন।
    ১) মুসলিম মৌলবাদকে সমালোচনা করা যাবেনা কেন সেইটা খুবই দুর্বল যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করেছেন। যে ন্যারাটিভটা জরুরি, তা হলো হিন্দু মৌলবাদ বা মুসলিম মৌলবাদ বা ক্রিস্টিয়ান মৌলবাদ বলে কিছু হয়না। মৌলবাদ হলো মৌলবাদ। এটা একধরনের রাজনীতি বই কিছু নয়। একদিকে প্রগতিশীল ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক শক্তি অন্যদিকে মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি। মুসলিম মৌলবাদের সব থেকে বড় বন্ধু হলো হিন্দু মৌলবাদীরা। নরেন্দ্র মোদী যখন দিল্লীর মসনদে বসেন, যখন আখলাকরা বেঘোরে মারা যান, তখন মুসলিম মৌলবাদীরা আদতে খুশি হয় কারণ তা দ্বীজাতি তত্ত্বকে validate করে। অনেক প্রগতিশীল মুসলিম তাদের ধর্মের মৌলবাদীদের নিন্দা করেন। হিন্দু মৌলবাদের নিন্দাও করেন। তাদের মুসলিম হিসেবে না দেখে, মরিয়া দেশপ্রেমিক হিসেবে না দেখে, প্রগতিশীল মানুষ হিসেবেই দেখুন না! মুসলিম মৌলবাদ কতটা শক্তিশালী বা দুর্বল সেইটা বিষয়না। মৌলবাদের কোনো রং হয়না। তাকে দেখলেই আক্রমন করা উচিত। এই বিষয়ে সিলেক্টিভ হলে সমস্ত মৌলবাদীরাই শক্তিশালী হয়।

    ২) হাফ চাড্ডি সেকুলার আর প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষদের মধ্যে বিস্তর ফারাক। ইসলাম ধর্মের সমালোচনা মানেই যে ইসলামফোবিয়া তা নয়। হাফ চাড্ডি সেকুলারদের একটু খোঁচা মারলেই তাদের নাস্তিকতার মুখোশ খুলে যায়। হিন্দু ধর্ম কত মহান সেইটা প্রচার করতে বেশিক্ষণ লাগেনা। এরা মিচকি মিচকি হাঁসি দিয়ে অন্য ধর্মের বা জীবনচর্যার সমালোচনা শুনে/করে চলে। কিন্তু হিন্দু ধর্ম নিয়ে শুরু করলে হিন্দুরা কত সহনশীল, হিন্দু ধর্ম কত বৈজ্ঞানিক, কত মহান এইসব আলবাল বকতে থাকে।
  • Sakyajit Bhattacharya | ০২ নভেম্বর ২০১৫ ১০:৫৩66900
  • একদিকে প্রগতিশীল সেকুলার অন্যদিকে মোউলবাদ এরকম সাদা কালো বিভাজন আর হয় না। এটা আমাদের প্রব্লেম যে এভাবে আমরা দেখি। আর অবশ্যই হিন্দু আর মুসলিম মৌলবাদ চরিত্রে আলাদা। স্ক্রিপচার আলাদা, বিধান আলাদা, রাজনীতি আলাদা। এক কি করে হবে?
  • jk | ০২ নভেম্বর ২০১৫ ১১:০৮66901
  • সুন্দর লেখা হয়েছে। অ্যাংস্টটাও ঠিকমতো ফুটে উঠেছে। হাগুবীর জিন্দাবাদ।
  • অনামী | ০২ নভেম্বর ২০১৫ ১২:০৫66902
  • "আর অবশ্যই হিন্দু আর মুসলিম মৌলবাদ চরিত্রে আলাদা। স্ক্রিপচার আলাদা, বিধান আলাদা, রাজনীতি আলাদা। এক কি করে হবে?"
    কিছু মনে করবেন না, কিন্তু আপনার চিন্তা এবং জ্ঞানের অপ্রতুলতা এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট। স্ক্রিপচার আলাদা, বিধান আলাদা ধর্মচর্চা এবং ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মপালনের ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক চরিত্র যথেষ্ট এক। এইখানে হিন্দু ধর্মের মৌলিক দর্শন বা ইসলাম ধর্মের মৌলিক দর্শনের কথা হচ্ছেনা। রাজনৈতিক হিন্দুত্ব আর রাজনৈতিক ইসলামের কথা হচ্ছে। যেটুকু ফারাক তা হলো চামড়ায়, মজ্জায় নয়!
    একটু পেছনে ফেরা যাক। দারুল-উল-ইসলাম আর অখন্ড ভারতের পেছনে কোন রাজনীতি আছে? দারুল-উল-ইসলাম একটি দিবাস্বপ্ন যা মিশর থেকে ইন্দোনেশিয়া অবধি একটি ইসলামিক খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অখন্ড ভারতে বিশ্বাসী মহান আর্যপুত্রেরা অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশকে নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে। দুটি রাজনৈতিক বিশ্বাসই অবাস্তব এবং জঘন্য। ইসলাম যে জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হতে পারেনা তার প্রমান হলো বাইশটা আরব রাষ্ট্র যার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মুসলিম। ইসলাম nationhood নয়, brotherhood। এইটি মুহাম্মদ নিজের জীবদ্দশাতে বলে গেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক মৌলবাদ এই সব থোড়াই কেয়ার করে? ধর্ম হলো জাতি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এবং ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, যুক্তিবাদের অতিসরলিকর্ন। এই মিথ্যা দর্শনের উপর দ্বীজাতি তত্ত্ব এবং ইসলামী মৌলবাদ প্রতিষ্ঠিত। হিন্দু মৌলবাদ নামে যে জিনিসটা ভারতে বিংশ শতাব্দির শুরুতে উদয় হলো, সেইটা তো এই রাজনীতি থেকেই টোকা।
    ভারতের মধ্যে থেকে যে মুসলিমদের জন্যে একটা আলাদা রাষ্ট্র দরকার সেই ধারনাটাও মিথ্যা প্রমানিত মুক্তিযুদ্ধে মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়। হিন্দুত্ববাদ এবং মুসলিম মৌলবাদ ধর্মের ভিত্তিতে অদ্ভুত জাতিসত্ত্বার কল্পনা করে। ভারতের মানুষকে এরা মনোলিথিক মনে করে। এদের খেলাটা একই। ইউনিফর্ম আলাদা।
    খেয়াল করবেন, ভারতে ব্রিটিশ শাসনকালে দুটি রাজনৈতিকদলের নেতৃত্বকে কারাবরণ করতে হয়নি। তারা হলো হিন্দু মহাসভা আর মুসলিম লীগ। সাভারকর বিপ্লবী বিপ্লবী খেলতে গিয়ে ডান্ডা খেয়ে চটজলদি মুচলেকা দিয়েছিল। ইকবাল আর মহান গরু (থুড়ি গুরু ) গোয়াল্কারের দর্শন তুলনা করে দেখুন। দেখবেন কুম্ভের মেলাতে খোয়া যাওয়া জমজ ভাই।
    যখন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ মৌলবাদের তুল্যমূল্য বিচার করে তখন তা বিপদজনক। জিন্নার war cry ছিল 'ইসলাম খাতরেমে হ্যায়'! অতএব মুসলিমদের আলাদা রাষ্ট্র চাই। শিবসেনার war cry কি? মারাঠি মানুস খাতরেমে হ্যায়! হিন্দু ধর্ম খাতরেমে হ্যায়! জামাতের বাংলাদেশে war cry কি? জেনফবিয়াটা কি চেনা চেনা লাগে?
  • PM | ০২ নভেম্বর ২০১৫ ১২:২৮66903
  • আমার কেমন সন্দেহ হয় শাক্যবাবু এখানে হাত মকসো করছেন অযৌক্তিক বক্তব্যের সমর্থনে যুক্তি বিন্যাস করে।
  • de | ০২ নভেম্বর ২০১৫ ১২:৫০66904
  • শাক্যর অনেক দেখাই ছোটবেলার ডিবেট ক্লাসের কথা মনে করিয়ে দেয়।
  • সরকার | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০২:০৯66909
  • মনে আছে, সিপিএম আমলে যখন ক্যাডার বাহিনী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তখন একটু বাড়াবাড়ি রকম খুন জখম করে ফেললে (মানে দু-তিনটের জায়গায় দশ-বারটা আরকি) গণশক্তিতে হেডিং দিত "জনগণের ক্ষোভ প্রকাশ পেল"। তার সাথে একটু কাদা খুঁচিয়ে দেখা হত খুন হওয়া লোকটা আর কি করত, কি রঙের জামা পরত, রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনত কি না। আর অন্য পার্টির সদস্য হলে তো হয়েই গেল। বহু খুন এই "righteous anger of the oppressed" তকমা দিয়ে চালান হয়েছে। পার্টির যুক্তি ছিল যেহেতু তারাই অফিসিয়াল আর মার্কা সর্বহারার পার্টি, একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেলে ক্ষমা ঘেন্না করে নিতে হবে। বিপ্লব করতে গেলে ওসব একটু সইতে হয়। তা এতে নতুন কিছু নেই। এই দেশের সব রাজনীতিই আত্মপরিচয়ের রাজনীতি (identity politics)। তা সিপিএম- বিজেপি- তৃনমূল- ডিএমকে, সবাই করে। যার যখন এক দুটো খুন করার দরকার, নিজেরা হয়ে যায় "oppressed" আর লাশটাকে করে দেয় "oppressor"। ব্যাস- খেল খতম। লেবেলিং ঠিক না ভুল, ঠেলা সামলাবে চিত্রগুপ্ত।

    কিন্তু সাক্যজিত বাবু, লেবেলিং যে শাঁখের করাত। আসতেও কাটে, যেতেও কাটে। কাল যখন হাফ প্যান্ট পরে লোক জন একই লেবেল লেবেল খেলা আপনার সাথে খেলবে, সেটা ভাল লাগবে তো? এই গোছের তক্কের আরও একটা অভ্যাস হল আসল কথাটা যুক্তি দিয়ে না কেটে কে বলল- কেন বলল- কি খেয়ে বলল, এই সব মেটা এনালিসিস, সাইকো এনালিসিস- আরও গুচ্ছের এনালিসিস করে বেপারটাকেই গেঁজিয়ে দেয়া। কিন্তু সেটাও যে একই শাঁখের করাত। যখন ভক্তরা এসে দাবি করবে "রমিলা থাপার, ইরফান হাবিব জত্ত বড়ো বড়ো দিগগজ হোক না কেন, আসলে তো কম্যুনিস্ট নয় মুসলিম", তখন তাদের কি জবাব দেবেন? আর মানুষ যা বোঝে না, সেটার পেছনে সময় নষ্ট করে না। তারা ধর্মনিরপেক্ষতা বুঝলেও বুঝতে পারে, এই অতি জটিল থিওরি খাবে বলে মনে হয়না। তখনকি আবার এই গুরুতেই "সাক্যজিত কেন বাড়াবাড়ি করল না?" গোছের লেখা দেখব?

    আর শেষ প্রব্লেমটা আরও বেশি খোঁচা দেয় পেটে। দুদিন আগে চা বাগানে আরও গুটি কতক মানুষ মরেছে। একটা সার্ভে দেখছিলাম, মাথা প্রতি গোটা মাসের গড় প্রোটিন আসে দেড়টা ডিম থেকে- সেটাও রোজগার থাকলে তবেই। নাহ- সেখানে একটা দুটো গরু কাটলেও কিছু আসবে যাবে না। একটু সময় করে দেখবেন পুরনো স্কুলে পাওয়া কাপও যদি কেউ প্রতিবাদ করে ফেরত দেয়, তবে চাঁড়াল গুলর নাম কাগজে ওঠে।
  • lcm | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০২:৫৪66920
  • শিরোনাম থেকে 'ভারতে' টা বাদ দিলে আরো চটকদার হবে ব্যাপারটা
  • আলি | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:১০66921
  • এই প্রশ্নটা আমিও করবো ভাবছিলাম কিন্তু ভয়ে করতে পারিনি। আমি বাংলাদেশে থেকে মুসলিম মৌলবাদকে গুরুত্ব দিতে পারবো তো? আমি যদি একটা ব্লগ লিখি আর আইপি পাবলিক করলাম না, তা ব্লগ তো আর দেশের হিসেব মানে না, পুরো ইন্টারনেটে পড়া যায়। এরকম ব্লগে মুসলিম মৌলবাদের বিরুদ্ধে লেখালিখি করলে টই যিনি শুরু করেছেন তিনি কি রাগ করবেন?
  • :) | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৪:৪১66922
  • আপনি বাংলাদেশের হিন্দু মৌলবাদকে গুরুত্ব দিতে চাইলে উনি রাগ করবেন।
  • pi | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৫:১০66923
  • A BJP leader has threatened to behead Karnataka Chief Minister Siddaramaiah if he eats beef. Alleging that the CM was "behaving like a dictator", SN Channabasappa, a former president of the erstwhile Shivamogga City Municipal Council, dared Siddaramaiah to eat beef at Gopi Circle in Shivamogga on Monday.

    "He has stated he would eat beef if he chooses to do so and nobody could stop him," said the local leader during a protest organised by the BJP against the CM's remarks on beef. "If he does so, he will be beheaded. We won’t think twice about that."

    সংখ্যাগুরু মৌলবাদ বেশি বিপজ্জনক, যে কোন দেশের পক্ষেই, এটা কি খুব অদ্ভুত কথা ?

    অবশ্য কাল তসলিমা অন্যরকম বললেন। এমনকি এও বললেন, বহার্তের হিন্দু মৌলবাদ খারাপ হলেও ভেবে দেখা দরকার সেটা আসলে ইসলামী মৌলবাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আসছে কিনা। ওনার ধারণা আসছে। শ্রীজাত, মন্দাক্রান্তাকেও এতে আপত্তি করতে দেখলাম না। শাক্য দেখেছে, কালকের ২৪ ঘণ্টার প্রোগ্রামটা। একেবারে ঘাঁটা লাগলো।
  • aka | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৫:৩১66910
  • শাক্য তোমার হাতের লেখা ভালই কিন্তু পলিটিকাল অ্যানালিসিস তোমার ডোমেইন নয়। বাঙ্গলা অ্যাড, নস্টালজো ইত্যাদি আছেই। সেসবই ভালো।
  • aranya | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৬:৫৭66924
  • এই প্রোগ্রাম-টার লিং থাকলে পোস্টিও
  • aranya | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৭:১০66925
  • ভারতের ক্ষেত্রে হিন্দু মৌলবাদ বেশি গুরুত্ব পেলেও মুসলিম মৌলবাদ-কেও কিছু গুরুত্ব তো দিতে হবে, বিশেষতঃ যেসব অঞ্চলে মুসলিমরা সংখ্যাগুরু বা সরকার সক্রিয় ভাবে মুসলিম মৌলবাদীদের সহায়তা দিচ্ছে।
    পঃ বঙ্গ-এর দেগঙ্গা এবং আরও কিছু জায়গায় দাঙ্গা হয়েছে অনতি অতীতে এবং তাতে মুসলিম মৌলবাদীরাই মুখ্য ভূমিকা নিয়েছে, পুলিশ নিস্ক্রিয় বা তাদের সহায়ক -সোশাল নেটওয়ার্কে এসব পোস্ট চোখে পড়ে, যদিও মেইন স্ট্রীম মিডিয়ায় প্রায় কিছুই আসে না।
    বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে আসা জামাতের মত দলগুলির উগ্রপন্থীদের জন্য আমাদের রাজ্য যে একটি সেফ হ্যাভেন, এ নিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্টের কথা অবশ্য মাঝে মাঝেই মিডিয়ায় আসে, আসে খাগরাগড়ের কথা।

    ভারতে এবং বিশেষ করে পঃ বঙ্গে মুসলিম মৌলবাদ নিয়ে চিন্তিত হবার যথেষ্ট কারণ আছে।
  • অনামী | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৭:১৬66926
  • "সংখ্যাগুরু মৌলবাদ বেশি বিপজ্জনক, যে কোন দেশের পক্ষেই, এটা কি খুব অদ্ভুত কথা ?"
    উল্টো মানে ধরলে কি করে হবে? যে কোনো দেশেই সংখ্যাগুরু মৌলবাদ বেশি বিপদজনক। কিন্তু শাক্যর লেখার মূল প্রতিপাদ্য হলো ইসলামিক মৌলবাদকে পাত্তা না দিলেও চলবে কারণ তা ততটা বিপদজনক নয় এবং একে গুরুত্ত্ব দিলে মুসলমানেরা নিজেদের প্রান্তিক বোধ করবেন। আমার মূল বক্তব্য সংখ্যাগুরু মৌলবাদ, সংখ্যালঘু মৌলবাদ, হিন্দু মৌলবাদ, মুসলিম মৌলবাদ, খ্রীষ্টান মৌলবাদ, শিখ মৌলবাদ এরা সকলেই ধর্মীয় মৌলবাদী রাজনীতি করে যা ভ্রান্ত এবং বিপদজনক। এদের রাজনৈতিক দর্শন জেনোফোবিয়া এবং অপরকে ঘৃনা করার মধ্যে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এরা একে অপরের পরিপূরক এবং পরম মিত্র। রাম মন্দির আন্দোলনে যখন বাবরি মসজিদ ভাঙ্গে, তার রেশেই তো মুসলমানদের হাতে হিন্দুর ঘর পুড়ে যায়। আবার তার রেশে মুম্বাইতে দাঙ্গা হয়। তার রেশে বিস্ফোরণ। এই অনন্ত চক্রটা অস্বীকার করলে হবে? গুজরাট গণহত্যার নিন্দা করব আবার আজমল কাসাভ-এর শ্রেণী চরিত্র বিচার করে সহানুভূতিশীলতা দেখাবো, এ কিরকম সুকুমারীয় আবোল-তাবোল গন্ধবিচার রে বাবা!
    আরো বাজে ব্যাপার হলো হিন্দু হনুমানগুলো মুসলমানদের যেমন মনোলিথিক মনে করে, শাক্যর লেখা পড়ে মনে হবে ও তাই মনে করে। যেন তারা অল্পে কাতর ফুলের ঘায়ে মুর্চ্ছা যায় টায়িপ্স। ইসলামিক মৌলবাদ দেখলে তার নিন্দা, প্রতিরোধ, সমালোচনা করার দায়িত্ত্ব ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীলদের। মুসলিমদের নয়। হিন্দু সম্প্রদিয়াকতা দেখলে তার কাছা খোলার দায় ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীলদের। হিন্দুদের নয়। গান্ডুকে গান্ডু বললে গান্ডুরাই রেগে যায়। কেউ বাঁহাতি ও গান্ডু হলে তাকে গান্ডু বলা যাবেনা কারণ বাঁহাতিরা সংখ্যালঘু, তাঁদের অনুভুতি আহত হবে, এইটা যে বলে তার রিয়ালিটি চেক প্রয়োজন।
  • aranya | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৭:২০66927
  • 'কেউ বাঁহাতি ও গান্ডু হলে তাকে গান্ডু বলা যাবেনা কারণ বাঁহাতিরা সংখ্যালঘু' - এইটা গোলা হয়েচে :-)
  • aranya | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৭:৪০66929
  • থ্যাংকস, পাই।

    শাক্য অন্য কোথাও লিখেছিল - ভারতে হিন্দুত্ববাদী-দের প্রতিহত করার জন্য বামপন্থী-দের জামাতের হাত ধরা উচিত। আশা করি, এই মতে সাবস্ক্রাইব করা বামপন্থী-দের সংখ্যা খুবই কম।

    শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু - এ এক অতীব বিপজ্জনক ট্রেন্ড, বিশেষতঃ সেই বন্ধু যদি জামাত-এর মত ভয়ানক সাম্প্রদায়িক দল হয়।

    শাক্য, সময় পেলে এটা নিয়েও একটু লিখ।
  • aranya | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৭:৪৬66930
  • আর একটা প্রশ্ন হল, আজকের দুনিয়া যেভাবে কানেক্টেড, শুধু 'ভারতের' প্রেক্ষিতে কেন চিন্তা করব - 'সারা পৃথিবীর' পরিপ্রেক্ষিতে নয় কেন?
  • pi | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৭:৪৭66931
  • না। কিন্তু সংখ্যালঘুকে স্পেশাল প্রোটেকশন দেওয়া হয়। সেটা খারাপ না। কারণ সংখ্যালঘু সব ট্রিটমেন্ট ও সমান পান না। সব কিছু সমান সমান করতে হবে, এই দাবি তোলা যায় সমান সমান যারা পেয়েছে তাদের মধ্যে। বাঁহাতির উদাহরণটা ঠিকঠাক হলনা মোটেই, কারণ বাঁহাতির কারণে সামাজিকভাবে কেউ বঞ্চিত কোণঠাসা হন না। ভারতে মুসলিম, দলিত হলে হন। বাংলাদেশে হিন্দু হলে হন। এবার এই ফ্যাক্টগুলোকেও অস্বীকার করলে কিছু করার নেই।

    আর লেখায় তো মুসলিম মৌলবাদকে কেন 'ভারতে' গুরুত্ব কম দিতে হবে তাই নিয়ে বলা, ইন্জেনেরাল মুসলিম মৌলবাদকে সর্বত্র কী করতে হবে, তাই নিয়ে বলা কি ? তাই বারবার নানা জন কেন খুঁচিয়ে চলছেন জানিনা। গালি দেবার সুবিধা হয়, সেট হয়তো একটা কথা।
  • pi | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৭:৪৮66932
  • শুরুটা অনামীর পোস্টের প্রেক্ষিতে লিখেছিলাম।
  • Onami | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৭:৫৭66933
  • বামপন্থীরা জামাতের হাত ধরলে ফল কি দাঁড়াবে সেইটা শাক্য ইরানিয়ান কমিউনিস্টদের জিগ্গেস করে দেখতে পারে। ইরানিয়ান রেভোলুশন আদতে ইসলামিক ছিল না। ইরানে সমাজবাদী বামপন্থীরা শক্তিশালী ছিলেন। মার্কিন ক্যু যখন শাহকে সিংহাসনে বসায় তখন বামপন্থীদের হঠিয়ে বসায়। গমতন্ত্রকামিরা ভেবেছিলেন আন্দোলনে খমেইনিকে ব্যবহার করা হবে figurehead হিসেবে। তারপর বাকি ইতিহাস। অচিরেই দেখা যায় ধর্মীয় রাষ্ট্র এবং শাহের পুলিশ বনে যায় ধর্মীয় পুলিশ। সবার আগে বামপন্থীদের কল্লা কাটা যায়। তুমি নিজেকে তিমি ভেবে বসে থাক, কিন্তু তোমার "মিত্র" যে তিমিঙ্গিল সেইটা খেয়াল রাখো? অনামী
  • | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৮:০২66911
  • অনামীর লেখা বেশ ঠিকঠাক লাগল।
  • Sakyajit Bhattacharya | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৯:৩২66934
  • অনামীকে উত্তর দি-ই আগে। রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদ এবং রাজনোইতিক ইসলাম নিয়ে যখন কথা হচ্ছেই, ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে দুখান কথা। কমিউনিস্ট পার্টির অজয় ঘোষের ১৯৬২ সালের লাইন যে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যাগুরুর মৌলবাদ ফ্যাসিজম ডেকে আনবে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুর মৌলবাদ সন্ত্রাসবাদের বিপদ ডেকে আনবে, এই লাইন আজো প্রাসংগিক মনে করি। আর তাই ফ্যাসীবাদ আর সন্ত্রাসবাদকে একসাথে গোলাই না। হিন্দু ফ্যাসীজম চরিত্রে একদম-ই ভারতীয়, ইউরোপীয়ান ফ্যাসীজমের থেকে আলাদা, এবং ইস্লামিক মৌলবাদের থেকেও আলাদা। ইস্লামিক মৌলবাদ ক্যালিফেট প্রতিষ্ঠার ডাক দেয় এবং সেই বিশ্বজোড়া সাম্রাজ্যে অন্য ধর্মের স্থান নেই কোনও। দরকারে হত্যা করে বিধর্মীকে সিস্টেমের বাইরে বার করে দিতে হবে। কিন্তু হিন্দু মৌলবাদ হত্যার ডাক দেয় না। হিন্দু মৌলবাদ বলে অন্য ধর্ম জাতি সংস্কৃতিকে ভারতে পদানত হয়ে থাকতে হবে, আর নাহলে হিন্দু কালচারে মিশে যেতে হবে। ইউরোপীয়ান ফ্যাসিজম এবং ইস্লামিক মৌলবাদ যেখানে ডমিনান্স আনার কথা বলে থ্রু এলিমিনেশন, হিন্দু মৌলবাদ সেখানে ডমিনেশন আনার কথা বলে থ্রু অ্যাসিমিলেশন। এই পার্থক্য দুই দলের রাজনীতিকেও প্রভাবিত করে। ওসব ‘আমরা বিপন্ন’ টাইপ উদাহরণ খুব-ই জেনেরিক। কংগ্রেস-ও ১৯৬২ সালে বলেছিল দেশমাতৃকা বিপন্ন। টোরীদের ম্যানিফেস্টো দেখুন, ওরা বলে টোরী কালচার বিপন্ন। ওসব সবাই বলে। কিন্তু তফাত হল দুই মৌলবাদের অ্যাপ্রোচে। ভারতবর্ষে হিন্দু মৌলবাদ অখণ্ড হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় আদারকে পদানত করে। মুস্লিম মৌলবাদের ভারতবর্ষে সেরকম কোন লক্ষ্য নেই, লোকাল অ্যাজেন্ডা এম্যান্সিপেট করা ছাড়া, যেমন কাশ্মীর। ওয়াহাবীজমকে ভারতে কতজন মুস্লিম মৌলবাদী পাত্তা দেয়? হিজবুল বা লশকর তো সেদিনের ব্যাপার। কিন্তু তাঁর আগে থেকে যারা ছিল, মুস্লিম লীগের রাজনীতি যারা করেছে, সিমি যারা করে, এমনকি পাশের দেশের জামাত, তারা কতজন ঐতিহাসিকভাবে সালাফিস্ট? এমনকি ঘোষিত ওয়াহাবিস্ট লশকর বা হিজবুলের প্যাম্ফলেট দেখুন, তারাও ভারতবর্ষে মুস্লিম রাজ্য ঘোষণার কথা বলে না। কারণ খুব সহজ। কারণ ডমিনেশন থ্রু এলিমিনেশন তখন-ই সম্ভব যেখানে তারা মেজরিটি। তাই ভারতে মুস্লিম মৌলবাদ ডমিনান্ট ফোর্স হয়ে উঠে আসতে পারবে না। উল্টোদিকে আর এস এস-এর সমস্ত ম্যানিফেস্টো অখণ্ড হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে যাবে্,‌ বলেই যাবে, এবং কার্যক্ষেত্রে সেটা করেও দেখাবে। কারণ ডমিনান্স থ্রু অ্যাসিমিলেশন অথবা/এবং সাপ্রেশন অনেক সহজ, এস্পেসালি যেখানে তারা মেজরিটি। আর সেজন্যই হিন্দু মৌলবাদ মুস্লিম মৌলবাদের থেকে চরিত্রে আলাদা।
    কাজেই, সব মৌলবাদ সমান এটা বলাও আসলে মনে হয় মোউলবাদকে ঠিকমত অ্যাসেস করতে না পারার ফল। ওই আমরা ছোটবেলায় আপ্তবাক্য পরতাম না, “হিন্দু-মুস্লিম ভাই ভাই”, “সব মানুষ সমান কারণ সবার রক্তের রঙ লাল”, এসব গোল গোল কথা শুনতে বেশ ভাল লাগে কিন্তু বাস্তবে কাজে দেয় না। ইন্ডিয়ান লিবারালদের একটা মুশকিল হল তাঁরা নিজেদের সদিচ্ছা সত্বেও গুড মুসলিম ব্যাড মুসলিম খেলে ফেলেন। মৌলবাদকে মুষ্টিমেয় কিছু দুষ্টু লোকের অসস্ত্র ভাবেন আর ভাবেন যে বাকী সাধারণ মানুষ শান্তিপ্রিয়, তাঁরা সক্কলে সকালবেলা উঠে রাম রহিম ভাই ভাই হয়ে ক্ষেতে মাঠে কারখানায় কাজ করতে যায় এবং সন্ধ্যেবেলায় নামাজ আর গীতা গলা জড়িয়ে পড়তে পড়তে জিংগালালা নাচে। ব্যাপারটা হয়ত এত সরল নয়। মৌলবাদ আমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে, আমাদের ধর্মের মধ্যে লুকিয়ে থাকে, এবং সেটা সাধারণ যে কোন অপরাধের থেকে আলাদা। তাই গুজরাত দাংগায় নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষ-ও ছুতে চলে যায় প্রতিবেশি মুস্লিমের বাড়ি পোড়াতে। মানতে খারাপ লাগলেও এটাই বাস্তব। সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা করে মৌলবাদকে বিচার করা মানে তাকে তাঁর ধর্মীয় কনটেক্সট থেকে আলাদা করে অন্য যে কোন অপরাধের মাত্রায় নামিয়ে আনা। এই অ্যাবস্ট্রাকশনে মৌলবাদকে ধরা যায় না।

    আপনি আরো যেটা বারবার বলেছেন, সেকুলার রাজনীতি বনাম মৌলবাদী রাজনীতি। এভাবে সাদা কালো বিভাজনের মানে দেখি না কারণ ভারতীয় উপমহাদেশে সেকুলারিজমের মধ্যে মৌলবাদী উপাদান লুকিয়ে থাকে। কংগ্রেসকে দেখুন। অথবা মুলায়মের সমাজবাদী দল। তীব্র সেকুলার পজিশনে থেকেও সারেন্ডার করে ফেলে বারবার। মুজিবকে দেখুন। তীব্র জাতীয়তাবাদী অবস্থানে থেকেও ইস্লামের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ধর্ম আমাদের চেতনায় এবং হাজার বছরের সংস্কারে। সেখানে মৌলবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা কোনো এক্সক্লুসিভ ফ্যাক্টর নয়, বরং হাত ধরে পাশাপাশি হাঁটে।এবং বর্ডারলাইনটাও খুব ওয়েল ডিফাইন্ড নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেকুলারিজমের পলিটিক্সেই বিশ্বাস করি না তাই। এই রাজনীতি ভারতীয় উপমহাদেশে ফেইল করতে বাধ্য। বরং ধর্ম ও কৌমচেতনাকে গুরূত্ব দিয়ে কোনো সমন্নয়ের পথে এগোনোকেই ঠিক রাস্তা বলে মনে হয়।
  • Sakyajit Bhattacharya | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৯:৩৩66935
  • আপনার বাকী প্রশ্নের উত্তর পরে। আর আজ সময় নেই।
  • Sakyajit Bhattacharya | ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৯:৩৪66936
  • অরণ্যর প্রশ্নের উত্তরে একটা ছোট্ট উদাহরণ দই। প্যালেস্তাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের ছাতার তলায় জর্জ হাবাসের বামপন্থী গেরিলা দল তীব্র মৌলবাদী ইস্লামিক দলগুলির সাথে অ্যালায়েন্স করে দশকের পর দশক ধরে আন্দোলন চালিয়েছে। পিএলও কতটা সফল, কতটা ঠিক কত্টা ভুল সেসবে যাচ্ছি না। কিন্তু এটাও একটা মডেল, যেটা তিরিশ বছরের বেশি সাস্টেইন করেছিল এবং প্যানেস্তাইন ইস্যুকে গোটা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছিল সাক্সেসফুলি।

    পরিশেষে সবার কাছে নয় কিন্তু উদ্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে একটা বিনীত প্রশ্ন, আমি তো বারবার ভারতের কনটেক্সটে বলছি। তাতেও আং বাং চাং এসব বকছেন কেন? মুস্লিম মৌলবাদ শুনেই বীর হিন্দু সত্বা জাগ্রত হয়ে উঠল?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন