এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  অন্য যৌনতা

  • ঋতু, সম-যৌনতা, বৃহন্নলা এবং অতীত ও বর্তমানের রক্ষণশীল ভারতীয় সমাজ

    বিশ্বেন্দু নন্দ লেখকের গ্রাহক হোন
    অন্য যৌনতা | ০৮ জুলাই ২০১৩ | ৬০৪৩ বার পঠিত
  • ঋতুপর্ণ ঘোষের অকালমৃত্যু শহুরে উচ্চ-মধ্যবিত্ত সমাজকে মূল থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ঋতু নিজেকে উৎসর্গ করে ছিলেন পশ্চিমি ভাবনায় (যাকে অনপনেয় বাঙালিত্ব বলে চালান হচ্ছে) ভাবিত চোস্ত ব্রিটিশ কায়দায় ইংরেজি বলা শহুরে মেকলে পুত্র কন্যাদের সংস্কৃতির বিকাশের কাজে, সত্যজিতের যৌন সংস্করণের উত্তরাধিকারী হিসেবে। এ কাজে চলচ্চিত্র ছিল অন্যতম হাতিয়ার। চলচ্চিত্র ছাড়াও তাঁর নানান কাজের আলোচনা, বিশেষ করে, যৌনতার ভাবনা অথবা তাঁর লিঙ্গ পরিবর্তনের উদগ্র প্রচেষ্টা(আমাদের ধারণা তাঁর মৃত্যুর বড় কারণও বটে) বড় প্রচারমাধ্যমগুলোয় এসেছে, সরাসরি নয়, নারীত্বের জয়গানের টিকা হিসেবে। যে মানুষটি ১৮৩৬এ ভারতের প্রথম দণ্ডসংহিতা রচনা করে সমযৌনতার আশেপাশে থাকা নানান সমাজকে নিষিদ্ধ করবেন, সেই মেকলের সন্তান সন্ততিদের কাছে যৌনতা আজও অনেকটা নিষিদ্ধ বস্তু। ঋতু শহুরে বাংলার আকাশ বাতাসে সেটিকে অনেকটা জলচল করার চেষ্টা করেছিলেন। শুধু ঋতুর যৌনতার ধারণাই নয় - অস্বস্তির সমকামিতা, বৃহন্নলার ইস্যুর মত হাজারো শহরের উচ্চ-মধ্যবিত্তের চৌহদ্দিতে সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ এই বিষয়গুলি, স্বস্তির মোড়কে যতটা চিনির সিরা দিয়ে গ্রহণযোগ্য করে উচ্চ-মধ্যবিত্ত সমাজে বাংলা ভাষায় খাওয়ানো যায়, তার প্রচেষ্টা চলেছে সংবাদমাধ্যমগুলোতে। ফলে পুরুষ দেহে নারীত্বের অস্তিত্ব অথবা উল্টোটা অথবা সমাজে সমকামিতা অথবা বৃহন্নলাদের সামাজিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়গুলো হঠাৎই যেন কলকাতার নাগরিক রাষ্ট্রিক জ্ঞানচর্চার অস্বস্তির অঙ্গ হয়ে ওঠে। সেই অস্বস্তি ঢাকতে বিশ্বায়নের যুগের প্রেসিডেন্সিয় বা বালিগঞ্জীয় বাংলিশ চক্করবক্কর ভাষায় ঋতুর পশ্চিমী যৌনতাকে এড়িয়ে যেতে, তাঁর কাজে কতটা তিনি নারীত্বের জয়গান গেয়েছিলেন, সেই সাধুবাদের মধ্যেই ঋতুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন আলোচনার মধুর সমাপ্তি ঘটে, বন্ধুদের চোখের জলের বাধ্যতামূলক সেন্সরশিপ আরোপে। চিত্রাঙ্গদা শুধুই উঠে আসে একটা ব্যতিক্রমী উদ্যমের টিকাসূত্র হিসেবে।

    সেই আলোচনাগুলোতে একটা বিষয় বারবার উঠে আসছে যে, সমকামিতা ইত্যাদি রক্ষণশীল ভারতের সংস্কৃতি নয়। একটি পশ্চিমী বিষয়। একে ভারতে নিয়ে এসে রক্ষণশীল ভারত(হিন্দুদের)কে আধুনিক, পশ্চিমের সমাজের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। রক্ষণশীল ভারতের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছিল, সেই সমাজে লড়াইয়ের কথাগুলো ঋতুর সিনেমা, লেখনির কৃতির মধ্যে উঠে এসেছিল। রক্ষণশীল ভারতে সাংস্কৃতিকভাবে নীরব, প্রান্তিক এই মানুষদের জন্য সারা জীবন ধরে ঋতু শুধু লড়াইই করেন নি, নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করে সেই আন্দোলনকে যথেষ্ট মর্যাদা দান করেছিলেন। প্রখ্যাতরা আন্দোলনে এলে আন্দোলনের ছড়ানো দাবিগুলো কেন্দ্রীভূত হয় কি না বা পশ্চিমি ভাবনাগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে, রাষ্ট্রকে নমনীয় করে যত কিছু অধিকার অর্জন করা গিয়েছে, প্রখ্যাতরা আন্দোলনে এলে সে অধিকারের অনেকগুলি, যেগুলো আপাত দৃষ্টিতে প্রায় গুরুত্বহীন, সেগুলো লঘু হয়ে যায় কিনা এ বিতর্কে না ঢুকে একটা কথা আমরা বলতে পারি, নতুন করে রক্ষণশীল ভারত বনাম প্রগতিশীল পশ্চিমী সমকামিতা, তৃতীয় লিঙ্গ ইত্যাদি বিষয়গুলো আবার সামনে উঠে এসেছে। কলাবতী মুদ্রা যেহেতু বহু বছর ধরে পুরনো ভারতের ঐতিহ্য বোঝার চেষ্টা করছে, তাই ঐতিহাসিকভাবে দেখার চেষ্টা করব, প্রাচীন ভারতে এর কোনও রেশ ছিল কিনা। কিছুটা নজর দেব বর্তমান সমাজেও। সেই কাজে বেদ, মহাকাব্যগুলো, নানান আঞ্চলিক কথা এবং পুরাণের নানান গল্পে নতুন করে আলো ফেলার চেষ্টা করব।

    দীপা মেহতার ফায়ার চলচ্চিত্রে রাধাকে আদর করতে করতে প্রেমিকা সীতা আক্ষেপে বলছে, আমরা যে কাজটি করছি, সেই কাজটির শব্দ আমাদের ভারতীয় ভাষায় পাইনি। বিনীতা রুথ প্রশ্ন করছেন, কোন ভাষার কথা দীপা চরিত্রগুলোর মাধ্যমে উল্লেখ করছেন তিনিই জানেন। বাংলা, উর্দু, গুরমুখী না তামিল না অন্যান্য ভাষা? সিনেমায় দীপার চরিত্র দুটি ইংরেজিতে কথা বলে। যদিও ২৫০ বছর ভারত ইংরেজি বলছে, তবুও তার পকড় শহরের গণ্ডী ছাড়ায়নি। আজও গ্রামে ইংরেজি শহুরে বিদেশী ভাষা। দুর্ভাগ্য ভারতের ইংরেজি মাধ্যমে বেড়ে ওঠাদের চিন্তা প্রায় দীপারই মত।

    রুথ আরও একটা উদাহরণ দিচ্ছেন, ক্লদ সামারসএর ইন্টারন্যাশনাল লেসবিয়ান অ্যান্ড গে লিটারেরি হেরিটেজএ শুধু আধটি পাতা বরাদ্দ করচ্ছেন ভারতীয় ভিন্ন ভাষায় সম যৌনতার, তৃতীয় লিঙ্গের উদাহরণে আর দু পাতারও বেশি ব্যয় করছেন ভারতের ইংরেজি লেখা থেকে উদাহরণ তুলতে। সামারসএর মতো ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন গবেষক মস্ত মস্ত কেতাব লিখে জানিয়ে দিয়েছেন এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক ইংরেজি সাহিত্যে একমাত্র এ ধরণের মানুষদের দেখা যাচ্ছে। এর আগে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রাচীন সাহিত্যে, ইতিহাসে এধরনের ঐতিহ্য ছিল না। সামারসএর মত আসলে বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। ঔপনিবেশিক সময় থেকে গড়ে ওঠা এ অঞ্চলের নারী আন্দোলনের ইতিহাসও আসলে এ ধরণের ভাবনা পোষণ করে। এবং নারী আন্দোলনের ভিত্তিভূমিই এই তত্ত্ব, নারী কতটা দুর্বল, অত্যাচারিত, অবদমিত। নারী আন্দোলন বলে, শুধু নারীরা নয়, পুরুষ বাদে সব ধরণের মানুষ, যৌনতা, আচার-আচরণ এ অঞ্চলে অবদমিত। সীতার তত্ত্ব(এ অঞ্চলে সমলিঙ্গে ভালবাসার শব্দের অভাব) আদতে ভারতীয় ঐতিহ্যকে পশ্চিমী দৃষ্টিতে, দেখার ফল। রুথ এবং সালিম কিদওয়াই ভারতীয় অতীত এবং সমকালীন ঐতিহ্য খুঁড়ে তুলে নিয়ে আসেন নতুন এক দৃষ্টি, পুরনো সব তথ্য নতুন আলোকে।

    রক্ষণশীল ভারতের বিতর্কে নেমে আমরা অর্ধনারীশ্বরের উদাহরণ ভুলে যাই। ভুলে যাই উর্দু গজল মসনউভির গর্বিত ঐতিহ্য। এর জন্য গভীরে উর্দুও জানতে হয় না, সংস্কৃত জানতে হয়না, পুরাণও জানার প্রয়োজন নেই – শুধু জীবনের প্রতি, আশেপাশের সবকিছুর দিকে নজর দিলেই অনুভব যায়। অর্ধনারীশ্বরে ঈশ্বর অর্ধেক পুরুষ অর্ধেক নারী। গজলে পুরুষ কবিরা যে সাকির আরাধনা করেন তারা বালক। বাউলেও বলেছে নিতাইও নাকি আধেক পুরুষ, আধেক নারী। একই ভাবে হরিহরের ধারণা গড়ে উঠেছে ভারতীয় সাহিত্যে। ভগবৎ পুরাণে, বিষ্ণু মোহিনী রূপ ধারণ করে দৈত্যদের অমৃত পান থেকে বঞ্চিত করেন। শিব মোহিনীর প্রতি আকর্ষিত হন। তাঁদের একটি সন্তান জন্মায়। তাঁর নাম আয়াপ্পা। পরে শিব আবার নতুন করে বিষ্ণুকে মোহিনী রূপ ধারণ করতে অনুরোধ করেন। তাঁর ইচ্ছে তিনি নিজের চোখে এই রূপ পরিবর্তনটি দেখবেন। এই গল্পতে যদিও বিপরীতগামিতার কথা পাচ্ছি, আসলে এটি সমকামিতার অন্য রূপ। পুরাণে বলা হচ্ছে ব্রহ্মাণ্ডে শিবের যৌন কামনা জাগাতে পারেন একমাত্র বিষ্ণু। তাই থেকে হরিহরের ধারণার জন্ম।

    আয়াপ্পা জন্মের গল্পে পাচ্ছি মোহিনীরূপী বিষ্ণুর দ্বারা শিব উত্তেজিত হলে শিব এবং মোহিনীর ঔরসে যে সন্তান জন্মায় তিনিই দেব আয়াপ্পা। মোহিনীকে আলিঙ্গন করার সময় কামোত্তেজিত শিবের বীর্য স্খলন হয়। সেই বীর্য থেকে আয়াপ্পার জন্ম। এই গল্পেরই অন্য একটি স্থানীয়(দক্ষিণ ভারতীয়) সংস্করণে পাই, পাণ্ড্য রাজা রাজশেখর সেই শিশুকে দত্তক গ্রহণ করেন। সেই গল্পে আয়াপ্পাকে অযোনিজাত বলা হচ্ছে। অর্থাৎ যিনি যোনিদ্বারা জন্মগ্রহণ করেন নি। হরিহর পুত্র আয়াপ্পা, অপূর্ব বীরে রূপান্তরিত হলেন।

    তামিল মহাভারতে বলা হচ্ছে, বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণ দৈত্যদের ভোলাতে মোহিনী রূপ ধারণ করেন। কৃষ্ণ বার মোহিনীরূপে ইরাবন(ইরাবন = ইরাবন্ত = আরাবন, মহাভারতের চরিত্র। অর্জুন নাগ রাজকন্যা উলুপির সন্তান। তিনি তামিল সমাজ কুট্টানটাবর(Kuttantavar)এর প্রধান আরাধ্য দেবতা। এবং ভারতের বিশাল দ্রৌপদী (আরাবানের বিমাতা, অর্জুনের অন্য স্ত্রী) সমাজের(কাল্ট) অন্যতম অন্যতম প্রধান চরিত্র। দক্ষিণ ভারতে ইরাবন, আরাবন নামে গ্রাম দেবতারূপে পুজিত হন। তিনি হিজড়া(দক্ষিণ ভারতে আলি সমাজ) সম্প্রদায়ের দেবতা। মহাভারতে ১৮ দিনের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে নিহত হন। অন্য এক বিশ্বাসে বলা হয় কুরুক্ষেত্রে পাণ্ডবদের বিজয়ের জন্য আরাবন, দেবী কালির সামনে আত্মাহুতি দেন)কে বিবাহ করেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে আরাবানের মৃত্যুর পর কৃষ্ণ মোহিনীরূপে দুঃখ প্রকাশ করেন। আরাবানের বিবাহ আর মৃত্যুকে দক্ষিণ ভারতের হিজরারা থালি উৎসবের মাধ্যমে পালন করেন। ১৮ দিনের এই উৎসব শেষ হয় হিজড়াদের বুক চাপড়ানি, আচার নৃত্য, চুড়ি ভাঙা এবং সাদা কাপড় পরে আরাবানের সমাধির দেয়নের মাধ্যমে।

    শুধু দেবতাই নয়, যৌন রূপান্তর, বিপরীত সাজ আর ক্লীবলিঙ্গ আর বৃহন্নলাদের উদাহরণ পাই প্রখ্যাত পৌরাণিক চরিত্রগুলোর মধ্যে। যেমন মহাভারতের শিখণ্ডী। পাঞ্চালের দ্রুপদ রাজার কন্যা। শিখণ্ডিনী নামে স্ত্রীরূপে তাঁর জন্ম। পূর্বজন্মে শিখণ্ডীর নাম ছিল অম্বা। ভীষ্মকে না পেয়ে বহু কঠোর আরাধনা করে অম্বা ভীষ্মের মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিজের পরজন্মকে বেছে নেন। তিনি দ্রুপদ রাজের বংশে জন্মান শিখণ্ডীরূপে। দৈববাণী শুনে দ্রুপদরাজ শিখণ্ডীকে পুরুষরূপে প্রতিপালন করতে থাকেন। বিয়ের রাতে তাঁর স্ত্রী তাঁকে মহিলারূপে আবিষ্কার করে লাঞ্ছনা করলে, তিনি জঙ্গলে পালিয়ে যান। জঙ্গলে এক যক্ষ শিখণ্ডীর সঙ্গে লিঙ্গ পরিবর্তন করে। শিখণ্ডী ফিরে এসে, বৌ, সন্তান নিয়ে সুখী বিবাহিত জীবন যাপন করেন। ভীষ্মের সঙ্গে যুদ্ধের ইতিহাস সকলের জানা। যুদ্ধে ভীষ্ম শিখণ্ডীকে পূর্ব জন্মের অম্বা হিসেবে চিনতে পারেন। কোনও মহিলার সঙ্গে তিনি যুদ্ধ করবেন না, এই ধর্ম-প্রতিজ্ঞায় ভীষ্ম অস্ত্র নামিয়ে রাখলেন। অর্জুনের বাণে নিহত হয়ে ইচ্ছামৃত্যু বরণ করেন। জাভা গল্পে শ্রীখণ্ডী (শিখণ্ডীর সে দেশের নাম) পুরুষ নন। মহিলা। কিন্তু চরিত্রে পুরুষের সমান। অর্জুনের স্ত্রী। শিখণ্ডীর মৃত্যুর পর তার পুরুষত্ব যক্ষের দেহে ফিরে যায়।

    উর্বশীর শাপে অর্জুন এক বছর ক্লীবলিঙ্গ ধারণ করবেন। এক বছরের অজ্ঞাতবাসে লুকিয়ে থাকার সময় এই অভিশাপ বর হয়ে ওঠে। মৎস্য রাজ বিরাটের রাজত্বে বৃহন্নলা নামে, মহিলা সাজেন অর্জুন। তাঁর সুদৃঢ় লোমশ হাতে বিরাট রাজার কন্যা উত্তরাকে নৃত্য গীত, বাদন শেখান। অর্জুন যখন মৎস্যরাজ বিরাটের (একমাত্র মৎস্য বংশীয় রাজা যিনি কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে পাণ্ডবদের পক্ষ গ্রহণ করেন, অন্য মৎস্য রাজা কৌরব পক্ষে সামিল হন) সামনে উপস্থিত হন, তখন রাজা ভাবতেই পারেন নি যে তাঁর সামনে যিনি দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি অর্ধনারী। তাঁর জীবনে তিনি এমন কোনও মানুষকে তিনি দেখেন নি, যিনি সুগঠিত কিন্তু চরিত্রে প্রকৃতি(নারী)সম্ভবা। তাঁর হাত দর্শনে বিরাটরাজ আন্দাজ করলেন অর্জুন অবশ্যই অপ্রতিদ্বন্দ্বী ধনুর্ধর হবেন। উত্তরে অর্জুন বললেন, যে তন্ত্রটি তিনি বাজাতে পারেন, সেটি একমাত্র বীণার তার। তাঁর দক্ষতা পরখ করার পর অর্জুনকে বিরাট রাজের নানান সংস্কৃতি পটীয়সী মহিলাদের সামনে আবারও সংস্কৃতির এবং নতুন করে যৌনতারও পরীক্ষা দিতে হল। নিজের নাম বললেন বৃহন্নলা। ভারতীয় প্রথা অনুযায়ী তিনি যদি শুধুই একজন নপুংসক হতেন তাহলে তাঁর অণ্ডকোষ পরীক্ষা করত পুরুষেরা, মহিলারা নন। কন্যা উত্তরাকে বিরাট রাজ অর্জুনের প্রশংসা করে তাঁকে রানীর মর্যাদা দিয়ে অন্তঃপুরে রাখার নির্দেশ দেন। বিরাটরাজ বৃহন্নলাকে প্রকৃতি(স্ত্রী)রূপেই দেখছেন। তিনি বৃহন্নলাকে উপহাস করেন নি, বা পুরুষের পরিধেয় পরার নির্দেশও দেননি। অর্জুনকেকে তাঁর প্রকৃতি অনুযায়ী রাজবংশে গ্রহণ করেছেন। পদ্মাপুরাণে অর্জুন মহিলাতে রূপান্তরিত হয়ে, কৃষ্ণের সখীদের সঙ্গে নৃত্য করেন।

    ইলা। বৈবস্বত মনু আর শ্রাদ্ধার ছেলে এবং মেয়ে, ইক্ষ্বাকু(সৌর বা অর্ক বংশের প্রতিষ্ঠাতা)র ভাই, সূর্যের নাতি/নাতনি। রামায়নে, লিঙ্গপুরাণে ইলা বহ্লিক(পামির/হিন্দুকুশ এলাকা – উত্তর আফগানিস্তান, আমুদরিয়ার কাছে) রাজা হন। তিনি শিকারে গেলে বিশেষ কারণে শিব তাঁকে অভিশাপ দেন। পার্বতী সদয় হলে তিনি এক মাস পুরুষ এক মাস স্ত্রী বেশে রূপান্তরিত হতে পারতেন। পুরুষ বেশে তিনি সুদ্যুম্ন আর স্ত্রী বেশে তিনি ইলা। ইলা চন্দ্র বা সোমবংশের প্রতিষ্ঠাতা। ইলার বুধের সঙ্গে বিবাহ হয়। সন্তানের নাম হয় পুরুরভ(চান্দ্র বংশের প্রথম রাজা)। পুরুরভর জন্মের পর তিনি পুরুষ দেহ ধারণ করে তিন সন্তানের পিতা হন।

    দেবতাদের মধ্যে সমযৌনতা খুব একটা অপ্রচলিত নয়, যদিও অনেক সময় এগুলি সঙ্গমের চিত্র বহন করে না, বরং আচারে প্রকাশ পায়। অগ্নি অন্য দেবতার বীর্য গ্রহণ করে। যদিও তিনি স্বাহার স্বামী, তিনি সোমের(চাঁদ) সঙ্গে রমণ করেন, কেননা তিনি মুখ দিয়ে পৃথিবীর উৎসর্গ স্বর্গে বসে পান করেন। হিন্দু শাস্ত্র বলে এটি আসলে মিথুন ভঙ্গিমা, যেখানে অগ্নির মুখ যোনির কাজ করে। রামায়ণ আর শৈব পুরাণে যখন পার্বতী আর শিব উপগত হন, তখন দেবতাদের আশঙ্কা হল এই অনন্ত কাল ধরে চলা সঙ্গমে বিশ্বে প্রলয় আসন্ন। এবং তাঁরা বিশ্ব পিতামাতার মিলনে বাধা দান করে। উচ্ছ্রিতদণ্ড রাগান্বিত শিব স্বর্গে উপগত তাঁর অস্খলিত বীর্য কোনও দেবতাকে ধারন করার নির্দেশ দিলে, অগ্নি সেই বীর্য ধারণ করে পান করেন। তবে কথাসরিৎসাগরে বলা হয়েছে শিব অগ্নিকে এটি পান করতে বাধ্য করেন। বেদে মিত্রা আর বরুণের বহু অন্তরঙ্গতার গল্প রয়েছে। ভগবৎপুরাণে এদের দুজনের এক অযোনিসম্ভূত সন্তানের কথা বলা হয়েছে। বরুণের বীর্য বল্মীক স্তুপের ওপর পড়লে বাল্মিকির জন্ম হয়। উর্বশীকে দেখে মিতা এবং বরুণ বীর্য স্খলন করে জলে পড়লে অগস্ত্য আর বশিষ্ঠ্যর জন্ম হয়।

    বাঙলায় কৃত্তিবাস রামায়ণে সূর্য বংশের অন্যতম প্রধান রাজা দিলীপের মৃত্যু হলে শিব দুই বিধবা রাণীকে পরস্পরের সঙ্গে উপগত হওয়ার নির্দেশ দেন। একটি হাড়হীন শিশুর জন্ম হয়। পরে অষ্টাবক্র মুনির বরে শিশুটি পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়ে ওঠেন। নাম হয় ভগীরথ – যে দুটি ভাগে জন্মেছে। ত্রয়োদশ শতকের কাশ্মীরী পুঁথি, জয়দ্রথের হরচরিতাচিন্তামনিতে, পার্বতীর মাসিক নিঃসরণ গঙ্গায় ধুতে ধুতে সেই জল পার্বতীর হাতি মাথা সহচরী মালিনী গলার্ধকরণ করেন এবং মালিনীর ঔরসে হাতিমাথা গণেশের জন্ম হয়। অর্থাৎ গণেশের জন্ম পুরোটাই মহিলা সংসর্গে। শৈব পুরাণে বলা হয়েছে পার্বতী স্নান করতে গেলে মাটির গণেশকে পাহারায় বসিয়ে যান যাতে কেউ না এসে পড়ে। শিব আসলে মাটির গণেশ বাধা দেয়। শিব তাঁর মাথা কাটেন। পরে জুড়ে দেন।

    কথাসরিৎসাগরে এক মহিলা অন্য মহিলাকে সম্বোধন করছেন স্বয়ম্বর সখি। আমরা জানি স্বয়ম্বর মানে শুধুই দুটি লিঙ্গের বিয়ে নয়, নিজে নিজের প্রেমাস্পদকে বেছে নেওয়ার অধিকার।

    ভারতীয় শাস্ত্রে প্রায়শঃ তৃতীয় লিঙ্গে(প্রকৃতি)র উল্লেখ পাই। নারদ স্মৃতি, বা সুশ্রুত সংহিতায় মহিলা চরিত্রের পুরুষ বা পুরুষ চরিত্রের মহিলার উল্লেখ পাই। সমকামী পুরুষকে মহিলা চরিত্রের পুরুষ বলা হয়েছে। কামসুত্রে সরাসরি বলা হয়েছে, ক্লীবলিঙ্গের মানুষের দ্বৈত সত্তা থাকে। ভারতীয় সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের অবস্থান রয়েছে নিজেদের মত করে। ভারতে হিজড়া, আলি, কোটি – নানান ধরণের সমাজ রয়েছে, নিজেদের পঞ্চায়েত রয়েছে। ভারতের সমাজে দুটি পুরুষের মধ্যে যৌনতাকে মিলন বা সঙ্গম হিসেবে দেখা হয় না।

    আমরা যেন মনে রাখি, কোম্পানি আমলে আইন করে তৃতীয় লিঙ্গকে বিনাশ করার চেষ্টা হয়। আমরা দেখেছি অস্কার ওয়াইল্ড জেলে গিয়েছেন। বরং যাকে আমরা রক্ষণশীল ভারত বলে দেগে দিয়েছি, সেই ভারতে হিজড়েরা নিজেদের মত করে সামাজিক সম্মান লাভ করতেন। আজও করেন। শিশু জন্মালে এদের আশীর্বাদ অবশ্যই প্রার্থনীয়। হাজার হাজার বছর ধরে ভারতীয় সমাজে তৃতীয় প্রকৃতি নিজেদের মত করে অবস্থান করত। অন্ততঃ ভাজপার আর বামপন্থী আমল ছাড়া হাজার হাজার বছর ধরে হিজড়া বা সমকামিদের নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে নি।

    রুথ বিনীতা লাভ রাইটসে স্পষ্ট বলছেন বর্তমান কালে হাজারো সমলিঙ্গে বিয়ের উদাহরণ। গ্রামে দুই মহিলার বিয়ে বন্ধ করতে পুলিস এলে স্থানীয় এক মহিলা বলেন বিয়ে হল দুটি হৃদয়ের মিলন। কে বলেছে দুটি আলাদা লিঙ্গ হতে হবে? New America Media, News Feature, Sandip Roy লিখছেন ব্রাহ্মণদের মধ্যে সমলিঙ্গে বিবাহের কথা। কেউ নিদান দিচ্ছেন পূর্বজন্মে ঠিক ছিল, কেউ বলছেন চিত্তের মিলনের কথা। আসলে ধর্ম শাস্ত্রে তৃতীয় প্রকৃতিকে শাস্তি দেওয়ার বিধান নেই। পুরুষের দেহে নারী প্রকৃতি বা উলটো ধরণের মানুষদের জোর করে বিবাহ দেওয়া হত না (তৃতীয় প্রকৃতিঃ পিপল অব থে থার্ড সেক্সঃ আন্ডারসট্যান্দিং হোমোসেক্সুয়ালিটি – অমর দাস উইলহেম)।


    বেদ অনুযায়ী সূর্য, জুপিটার, মঙ্গল পুরুষ, চন্দ্র, ভেনাস আর রাহু প্রকৃতি এবং মারকারি, শনি আর কেতু তৃতীয় বা লিঙ্গহীন নপুংসক(যৌনতারহিত, কিন্তু পুরুষ আর প্রকৃতি(নারী) এই দুই চরিত্র বিশিষ্ট) গ্রহ। শিশুদের যতদিন যৌনতাবোধ না জাগছে অথবা বয়ঃসন্ধিকালে না পৌঁছচ্ছে ততদিন তাদের নিয়ন্ত্রণ করবেন মারকারি। সুশ্রুত সংহিতায় পাঁচ প্রকার ক্লীবের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে ১) অসেক্য – যিনি পুরুষের বীর্য পান করে উত্তেজিত হন। ২) সৌগন্ধিকা – যিনি অপরের লিঙ্গের ঘ্রাণে উত্তেজিত হন। ৩) কুম্ভিকা – যিনি পায়ু সঙ্গমে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ৪) ইরশ্যকা – অন্যদের যৌন ক্রীড়া করতে দেখে ঈর্ষায় যৌন উত্তেজনা বোধ করেন। ৫) শন্ধা – যার প্রকৃতি(নারী)র মত চরিত্র। প্রথম চার প্রকার ক্লীব পুরুষের বীর্য পান করে যৌন উত্তেজনা বোধ করে। শব্দকল্পদ্রুমে শন্ধার ২০টি আলাদা প্রকার উল্লেখ করা হয়েছে। সুশ্রুত এবং চরক সংহিতাতে লিঙ্গ জন্মের ১০টি কারণ বর্ণনা করা হয়েছে - ১) সুকর্ম, ২) কাম, ৩) সংস্কার, ৪) বিকর্ম, ৫) শুক্রবালা, ৬) মিথুনবিধি, ৭) পৌরুষ, ৮) দোষ, ৯) প্রকৃতি, ১০) দৈব।

    এর পরে অন্য কোনও প্রবন্ধে ব্রিটেন এবং ভারতের ঔপনিবেশিক আমলে এঁদের অবস্থা খুঁজে দেখা যাবে। তত দিনে আমরা আবারও নিজেরা নিজেদের মধ্যে ঢুকে নিজেদের দেখার চেষ্টা করি।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • অন্য যৌনতা | ০৮ জুলাই ২০১৩ | ৬০৪৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • তাতিন | ০৯ জুলাই ২০১৩ ০২:৩৭77557
  • পুরাণ থেকে ভার্বাটিম মানে বের করতে গেলে ব্রহ্মার স্ত্রী সরস্বতী আবার ব্রহ্মার পুত্রী সরস্বতী হওয়ায় ইন্সেস্ট প্রচলিত ছিল এরকম মানে হয়ে যায়। ইরাবানের কেসটা বাদ দিয়ে প্রায় সর্বত্র সেইটা হচ্ছে। মোহিনী রূপ বিষ্ণুকে দেখে যদি শিব উত্তেজিত হন, তাহলে সেটা সমকামই কেন হতে হবে? নারী ভেবে উত্তেজিত হচ্ছেন এরকম ও হতে পারেন।
    এই কষ্ট করে করে ভারতীয় ঐতিহ্যে হোমোপনার দৃষ্টান্ত খুঁজে বের করার চেষ্টা গুরুর পাতায় ভীষণ রিপিটেটিভ হয়ে যাচ্ছে, স্পেশালি উদাহরণগুলো গত তিন চার বছর ধরে একই চলছে।
    বরং রোমক ও গ্রিক সাম্রাজ্যে সমকামিতা, মুসলিমদের মধ্যে গেলমান রাখার ঐতিহ্য, ইলতুৎমিস কুতুবুদ্দিনের প্রেমিক ছিলেন কিনা এসব নিয়ে গবেষণাধর্মী লেখা আসতে পারে।
  • | ০৯ জুলাই ২০১৩ ০৩:১৭77549
  • রেফারেন্স ছাড়া লেখাটা অসম্পূর্ণ। রামায়ণ মানে কোন রামায়ন? একবার কৃত্তিবাসী রামায়ণের উল্লেখ দেখছি একবার তামিল ত্রামায়ণ। তামিল মহাভারতের কি একটাই ভার্সান? যদি তাও হয় তবু লেখক ঠিক কোন বইটিকে রেফার করেছেন সেটা টীকায় থাকা দরকার। 'পুরাণে বলা হচ্ছে' মানে কোন পুরাণে?

    রেফারেন্স ছাড়া লেখাটা 'ব্যাদে সব আছে' গোছের হয়ে গেছে।
  • | ০৯ জুলাই ২০১৩ ০৩:১৯77550
  • আমার মন্তব্যে 'একবার তামিল ত্রামায়ণ' অংশটি বাদ দিয়ে পড়তে হবে। ওটা কোত্থেকে জুড়ে গেছে।
  • sosen | ০৯ জুলাই ২০১৩ ০৪:১৪77551
  • অত্যন্ত সুপারফিসিয়াল লেখা। শিশু জন্মালে হিজড়াদের আশীর্বাদ প্রার্থনীয়, যাতে শিশু তাঁদের মত না হয়। হিজড়া সেই আশীর্বাদের উপর নির্ভরশীল একটি পেশার নাম, তৃতীয় লিঙ্গের নিজস্ব অবস্থানের জন্য কোনো সম্মানার্হ স্থান নয়। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত প্রান্তিক সমাজ কোনো ভাবে তৃতীয় লিঙ্গের অবস্থানকে উপরে তুলে আনেনা।
    লেখাটিতে কোনো গবেষণার আলো খুঁজে পেলাম না। বহু প্রাচীন মাতৃতান্ত্রিক সমাজে, যৌনতা পাপ, ও নারীত্ব গ্রহণীয় এই সংস্কার থেকে পুরোহিত ও পূজারীদের কাসট্রেসন করা হত। দ্য গ্রেট মাদার -কনসেপ্ট এ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সামাজিক উচ্চাসনে রাখার কথা জানা যায়। ভারতবর্ষেও এই ধরনের অনেক উদাহরণ আছে, যখন হিজড়া পেশা চালু হয়নি, এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ মূল যৌনতার স্রোতেই ছিলেন, কোনো প্রান্তিক সমাজে নয়। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন দেশানুগামী ট্রেন্ড নয়, বরং পৃথিবীব্যাপী একটা সামাজিক স্রোত, যখন যৌনতাকে বিষমকামিতা দিয়ে ডিফাইন করা শুরু হয়। এইভাবে ব্যাদে সব আছে দিয়া ইহার এনালিসিস সম্ভব না। কোনো নূতন থিওরি তৈরী করতে গেলেও "আমরা জানি " বলে শুরু করা যায়না, প্রভূত রেফারেন্স দরকার। দমদির সাথে একমত।
  • Born Free | ০৯ জুলাই ২০১৩ ০৬:৩৭77558
  • লেখাটি ভালো তবে রেফারেন্স না থাকায় অসুবিধে হছে। আমার মনে হয় কেউ আগ্রহী হলে রুথ ভানিতা-র কুঈরিন্গ ইন্ডিয়া, দেবদত্ত পত্তনায়ক-এর কিছু লেখা এবং শকুন্তলা দেবী-র ওয়ার্ল্ড অফ হমসেক্সুয়াল্স রেফার করতে পারেন।
  • ন্যাড়া | ০৯ জুলাই ২০১৩ ০৬:৪৪77559
  • সত্যজিতের যৌন সংস্করণ কাকে বলে?
  • Born Free | ০৯ জুলাই ২০১৩ ০৬:৫০77560
  • গুরুর পুরনো সংখ্যা থেকে কপি পেস্ট।

    ‘সমকামিতা’র যে ধারনাটা আমরা আজকে দেখি তা কিন্তু প্রাচ্য হোক বা পাশ্চাত্য, খুব একটা পুরোনো নয়। ইন ফ্যাক্ট, ‘হোমোসেক্সুয়ালিটি’ এই শব্দটাই আধুনিক সময়ের সৃষ্টি। উনিশ শতকের আগে গে, বাইসেক্সুয়াল, স্ট্রেট, এইভাবে যৌনতাভিত্তিক ভাগ করার কোনও চেষ্টা দেখা যায় নি। কিন্তু, তার অর্থ এই নয় যে সমলিঙ্গে যৌনতা সমাজে আগে ছিল না। উদাহরন হিসেবে আরিসস্টটল বা প্লেটোর কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু ওনারা নিজেদেরকে সমকামি বলে চিহ্নিত করার কথা ভাবেন নি। অতএব, প্রাচীন ভারতে সমকাম/সমপ্রেম ছিল কি না জানার জন্য ভারতীয় সাহিত্যে ‘সমকামি’ শব্দ দিয়ে কন্ট্রোল এফ মেরে লাভ নেই।
    ধরুন, আজ থেকে হাজার বছর বাদে এই বিচারসভা আবার বসেছে। সেদিনের বিচার্য বিষয়, ২০০৯ সালে বঙ্গদেশে সমকামিতা ছিল কি না। সাক্ষ্যপ্রমান বলতে সিনেমা, গান আর সাহিত্য। কি দেখা যাবে? সিনেমায় সমকামিতা বলতে, “যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল”-র একটি দৃশ্য, “নীল নির্জনে”-র আভাসমাত্র আর ‘বং কানেকশন”। তার মধ্যে বং-এর পটভুমি আমেরিকা অতএব বাদ, ‘বৃষ্টি’তে দুই নারীর মধ্যে একজনের প্রেমিক বিদ্যমান, অতএব সেটি নিখাদ সমকামিতা নয়, হাতে রইল পেন্সিল। আসা যাক সাহিত্যে। তিলোত্তমার ‘চাঁদের গায়ে চাঁদ’ আর কমলকুমার মজুমদারের একটি ছোটগল্প, আমার গল্প শেষ। আর আছে কি? আমার জানা নেই। গান? নৈব নৈব চ। তাহলে হাজার বছরের পথের শেষে বসা বিচারসভা কি সিদ্ধান্তে আসবেন? ২০০৯ সালের বঙ্গদেশে সমকামিতা ছিল না। তাতে যদি কেউ প্রশ্ন তোলেন, যে সময় বাংলা সিনেমায় অন্তরমহল তৈরি হচ্ছে, বা অনেক আগেই ‘বিবর’, ‘প্রজাপতি’, ‘একটু উষনতার জন্য’ বা ‘দ্বিখন্ডিত’ লেখা হয়েছে, সেই সময় সমকামিতা বিষয়ে বাংলা সংস্কৃতি জগত নীরব কেন, কি উত্তর দেব?

    তাই লিখিত সাহিত্যে সেইভাবে সরাসরি নেই তাই প্রাচীন ভারতে সমকামিতা ছিল না, এই সিদ্ধান্তে পৌঁছন বোধ হয় ঠিক হবে না। আমাদের অনেক কিছুই বিটুইন দা লাইন পড়তে হবে বা সারকামস্টান্সিয়াল এভিডেন্সের ওপর নির্ভর করতে হবে।
  • ranjan roy | ০৯ জুলাই ২০১৩ ০৬:৫৯77561
  • তাতিন,
    বাংলা অনুবাদে ছোটবেলায় পড়া একটি গ্রীক কবিতা, দেবরাজ জিউসকে উদ্দেশ্য করেঃ
    " স্বর্ণকেশী সে বালক গানুমেদে নামে
    তুমিও তো করেছ প্রণয়,
    আর কথা নয়।"

    হনু,
    হিন্দিবলয়ে শবনম মৌসী, কমলা মৌসী ইত্যাদি হিজড়ে নেতারা রীতিমত বিধানসভা নির্বাচন জিতে বিধায়ক হয়েছেন। কিন্তু প্রাথমিক উৎসাহ-উত্তেজনার পরে কিছুই করতে পারেন নি।
    না, এঁরা কোন সরকারী বা বেসরকারী চাকরি করেন না। বিয়ে বাড়িতে মুজরো করা এখনো এদের একটা ভালো রোজগার। আর নিয়মিত কর্পোরেশন থেকে খবর নিয়ে নববিবাহিত বা নব জাতকের ঘরে গিয়ে আশীর্বাদের বদলে প্যসা চাওয়া।
    আমার বিয়েতেও এরা ভোপালে হটাৎ এসে "ডাফলিওয়ালে ডাফলি বাজা" বলে নাচগান করেছিল মনে আছে।
  • ppn | ০৯ জুলাই ২০১৩ ০৭:১২77562
  • সত্যজিতের যৌন সংস্করণ মাথার ওপর দিয়ে গেল!
  • j | ০৯ জুলাই ২০১৩ ০৮:৫৭77552
  • "আজও করেন। শিশু জন্মালে এদের আশীর্বাদ অবশ্যই প্রার্থনীয়"

    লেখা- গবেষণা এবং নিজস্ব মতামত তার স্বপথে চলুক

    লেখককে শুধু বলব "শিশু জন্মালে এদের আশীর্বাদ অবশ্যই প্রার্থনীয়" এইটার গ্র্রাউন্ড রিয়েলিটি একবার চেক করে নেবেন, কিরকম পৈশাচিক গুন্ডাবাহিনী নিয়ে এরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রমণ করেন, স্থানীয় থানা-পুলিশ-প্রশাসনকে যোগাযোগ করলে কোনও হেল্প তো দুরের কথা, যেসব বাঁকাচোরা কমেন্ট শুনতে হয় - সেগুলো একবার এইসব সুইপিং /কল্পনাউদ্ভুত স্টেটমেন্ট দেওয়ার আগে একটু ভেবে নেবেন।
  • siki | ০৯ জুলাই ২০১৩ ১০:০৪77553
  • সঠিক কথা।

    আবার উত্তর ভারতে এদের উপস্থিতি খুব শুভ মানা হয়। সন্তান জন্মের সময়ে তাই হিজড়েদের কেউ ফেরায় না, হিজড়েরাও তাই পরিস্থিতির সুযোগ উঠিয়ে যা খুশি তাই চায়। দাবিদাওয়াগুলো মোটামুটি পঞ্চাশহাজার টাকা থেকে শুরু হয়। দিতে না পারলে কী কী উপায়ে তারা প্রতিবাদ জানায়, সে নিয়ে আর নতুন করে কিছু লেখার নেই।

    শুধু সন্তান জন্ম নয়, বিয়েতেও এখানে হিজড়ে ডাকা হয়। তারা এসে নাচগান করে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করে গেলে নবদম্পতি সুখে থাকবে, এ রকম একটা বিশ্বাস কাজ করে এখানে।
  • siki | ০৯ জুলাই ২০১৩ ১০:০৬77554
  • লেখক মনে হয়, যেটা বলতে চেয়েছিলেন, যে আজকের জগতে আমরা তৃতীয় লিঙ্গকে যেভাবে প্রান্তিক করে রাখি, প্রাচীন ভারতের সমাজব্যবস্থায় সেভাবে তারা প্রান্তিক ছিল না, বরং দিব্যি মেনস্ট্রিমে মিশে ছিল।

    এটাই মোদ্দা কথা। সেটা লিখতে গিয়ে লেখক একটু আবেগাপ্লুত হয়ে গেছেন জায়গায় জায়গায়। তা বাদ দিয়ে, ঠিক আছে।
  • তাতিন | ০৯ জুলাই ২০১৩ ১০:৪৬77563
  • লেখক বোধহয় sexy version-এর বাংলা করতে গ্যাছেন
  • h | ০৯ জুলাই ২০১৩ ১২:২৬77555
  • কিন্তু উত্তর ভারতে হিজড়ে রা খুব সম্মানে আছে সিকির দেওয়া উদা হরণে প্রমাণিত হচ্ছে না। হিজড়ে রা সফট ওয়ার কোং এ চাগরি, সুপ্রীম কোর্টে ওকালতি করছেন কিনা, বা অন্তত নিয়মিত করছেন কিনা জানতে চাই। সরকারী চাকরী পাচ্ছেন কিনা তাও জানতে চাই।
  • h | ০৯ জুলাই ২০১৩ ১২:৩০77556
  • কিন্তু ঋতুপর্ণ সনাতন সমাজ কে বা বেদ কে আক্রমণ করেছেন কিনা জানি না, সমসাময়িক সমাজকে ও আক্রমণ বিশেষ করেন নি, নিজের কথা বা সমমনষ্ক দের কথা বলেছেন, তাও অল্প কিছুটা।
    আমি যেটা বুঝতে পারছি না, এটা ঋতুপর্ণ র কোন কাজটির সমালোচনা, নাকি জেনেরাল ইমেজ এর সমালোচনা।
  • sosen | ১০ জুলাই ২০১৩ ০১:৫৬77571
  • হ্যঁা, সেরকম-ই। তো এই আলাদা হয়ে থাকার ব্যাপারটা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। তৃতীয় লিঙ্গের সমানাধিকারের জন্য লড়াই যখন করব, তখন সংরক্ষণ চাইব কি না। দ্বিতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রেও এই খটকা আমার আছে। এক দিক দিয়ে দেখলে মনে হয় যেহেতু একটা পিছিয়ে পড়া অবস্থান আছে, তাই প্রান্তিক সমাজের জন্য সাময়িক সংরক্ষণ জরুরি। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই মনে হয় সমান-অধিকারের লড়াই, ডিফাইনড রোলের বিরুদ্ধে লড়াই, এর তাহলে সত্যি-ই কোনো যাথার্থ্য রইলো? হিজড়া পেশাটি সম্পূর্ণ ভাবে তাঁদের-ই অবমাননাকর একটি পেশা। অথচ এই পেশাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাঁরা সম্পূর্ণ মাত্রায় উদ্যোগী। এই সমাজকে প্রান্তিক রেখে দিয়ে অধিকারের লড়াই, এই অবস্থানটা আমার কাছে ধোয়াটে, সে সাপেক্ষে আমার নিজের অবস্থান-ও।

    হিজড়া ও রূপান্তরকামী মানুষেরা তো একই নন। এবং সমকামিত্বের সাথে এক ব্র্যাকেটে রাখলেও এঁদের সমস্যাগুলো আলাদা, তাই এভাবে জেনারালাইজ করার মানেই হয়না। এরকম বলতে পারি, যিনি পুরুষ হতে চান, নারী দেহে থেকেও, তিনি তো পুরুষ-ই। তিনি পুরুষের লাইনে দাঁড়াতে পারেন। এবং উল্টোটা। কিন্তু তারপরেই তো সেই অমোঘ প্রশ্ন, লিঙ্গ বিচারকে যদি কোনকিছুর মাপকাঠি হিসাবে না ধরতেই চাই আমরা, কেন সক্ষম নারী ও পুরুষের দুটি লাইন থাকতে হবে? একটি লাইন হতে পারেনা কি? কেন হবে না?

    এই রকম প্রশ্ন, যাকে আমি ধন্দ বলছি। উত্তর পরিষ্কার নয় আমার কাছে।
  • তাতিন | ১০ জুলাই ২০১৩ ০২:০৩77572
  • পৃথিবীর প্রায় সমস্ত ফেসিলিটিই ডমিনেটিং মেইনস্ট্রিমের জন্য সংরক্ষিত। ফলে বাকি সবরকমের সংরক্ষণ আসলে এক্সিস্টিং সংরক্ষণটাকে নাকচ করবার পন্থা।
  • sosen | ১০ জুলাই ২০১৩ ০২:২১77573
  • হুম, সেকথা তাতিন মন্দ বলেনি। কিন্তু তা-হলেও, ধন্দ কাটেনা।
  • সে | ১০ জুলাই ২০১৩ ০৩:৫৭77574
  • লিঙ্গভেদে দুটি লাইন সম্ভবত সব দেশে নেই। পৃথিবীর অনেক দেশেই একটি লাইন (ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা লাইন) বাসে ট্রামে ট্রেনেও বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ছাড়া সব সীটই সাধারনের জন্যে। ভারতবর্ষে চিত্রটা অন্যরকম। আলাদা লাইন রাখতে হয়। আলাদা সীট, মহিলা কামরা, রেল স্টেশনে আলাদা বুকিং কাউন্টার থাকে। টয়লেট অবশ্য সবদেশেই দুরকম নারী ও পুরুষের জন্যে আলাদা।
    আলাদা লাইন কেন রাখতে হয়? সম্ভাব্য উত্তর ঃ অনেকেই শারীরিকভাবে দুর্বলকে সাহাজ্য করে এগিয়ে আসে না। গর্ভবতী স্ত্রীলোক, ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে মা, এরা জেনারাল লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। জনসংখ্যা বেশি ভীড় বেশি। ধাক্কাধাক্কি হয়। ভীড়ের "সুযোগ" পেয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা হয়।

    এবার আসি ফর্ম ফিলাপের ক্ষেত্রে sex: M or F প্রসঙ্গে।
    এরই বা কি দরকার? খুব বেশি কায়িক পরিশ্রমের কাজ বাদ দিলে মানুষটির সেক্স মেল কি ফিমেল তাতে কিছু এসে যায় কি?
    অবশ্যই এসে যায়। ফিমেল হলে ম্যাটার্নিটি লীভ থাকবে, বাড়ীর কাজের চাপ থাকবে, মহিলাটিকে সবরকম কাজে পাঠানো যাবে না। থাকবে "নিরাপত্তার" প্রশ্ন। সর্বোপরি পুরুষতন্ত্রের অভিবাবকত্ব।

    এত সব নিয়ম তো রাতারাতি পাল্টাবার নয়। "তৃতীয় লিঙ্গ" যদি আরেকটি লাইন চেয়ে থাকে অন্যায্য তো কিছু চায় নি।
  • sosen | ১০ জুলাই ২০১৩ ০৪:২৪77565
  • তাতিনকে অনেকগুলো ক। এবং আমার ব্যক্তিগত মতামত এই, (এক) যে উপযুক্ত রেফারেন্স ও মৌলিক মতামত ছাড়া এই লেখাটার উপযোগিতা শূন্যের কাছাকাছি। তাছাড়া ভারতীয় ঐতিহ্যে সমকামিতার প্রচলন ছিল, সেটা পুরাণে গিয়ে দেখতে হবে কেন? ইতিহাসে দেখা সম্ভব নয়?
    (২) আজকের দিনে কোনো কিছুর অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমুক ব্যাদেও ছিল, অতএব মানতে হবে, এইটা খুবই অসঙ্গত যুক্তি পরম্পরা।
    (৩) সমকামিতা এবং হিজড়াবৃত্তি এক নয়। দেশে সরকারী চাকরি কেন, যে কোনো চাকরি করতে গেলেই ফিমেল বা মেল এ টিক মারতে হয়। মধ্যবর্তী যৌনতার মানুষরা পুরুষ বা নারী না সেজে কোনো চাকরিতে ঢুকতে পারেননা, এবং পরবর্তীকালে ধরা পড়লে কি অবস্থা হয়, পিঙ্কি-কেসে দেখা গেছে। হিজড়াবৃত্তি একটি অন্যায় পেশা, সবদিক থেকেই, যাকে অবিলম্বে তুলে দেওয়া উচিত। এক-ই সঙ্গে, কাজের ক্ষেত্রে যাতে ডিসক্রিমিনেষণ না থাকে সে ব্যবস্থা-ও নিতে হবে। কে নেবে, সেইটা মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত।
    (৪) প্রসঙ্গত, ঋতুপর্ণর মৃত্যুর পর তৃতীয় লিঙ্গের আলাদা লাইন করে দেখতে চাওয়ার দাবি নিয়ে আমি ধন্দে। মেইনস্ট্রীমে যাঁদের মেলাতে চাই, তাঁরা আসলে কি চান? সংরক্ষণ? বিভিন্ন হিজড়াদের সাথে কথা বলার অভিজ্ঞতার ফসল, তাঁরা তাঁদের বৃত্তিকে জিইয়ে রাখতে চান। এই বৃত্তি তাঁদের ঢাল ভারতীয় সমাজে। যদিও আমার স্যাম্পল সাইজ ছোট, তবু মনে হয়েছে তাঁরা একটি সমান্তরাল সমাজ চান। যে দাবিকে সমর্থন করা যৌক্তিক কি অযৌক্তিক জানিনা। ধন্দে।
  • | ১০ জুলাই ২০১৩ ০৪:৩৩77566
  • 'হ' এখানে ঋতুপর্ণর উল্লেখের প্রাসঙ্গিকতা বুঝতে পারে নি। এটাকে বাংলা ব্লগোমন্ডলের ভাষায় বলে হিট খাবার উপায়। একটা ব্লগের নাম এবং শুরুর দিকে এমন কিছু জুড়ে দাও যা দেখে চটজলদি বেশ কিছু লোক আকৃষ্ট হয়ে পড়ে ফেলবে, পড়ে প্রশংসাই করুক বা গালি দিক, ততক্ষণে ব্লগে ভালমত হিট তো হয়েই গেছে। :-)

    তা এই প্রবন্ধেও লেখক তাইই করেছেন। এখনও লোকে ঋতুপর্ণ?অকে নিয়ে কথা বলছে, কাগজপত্রে লেখালিখি চলছে এই বেলা ওঁর নাম ব্যবহার করলে লোকে অন্তত একবার উল্টে দেখবে আর কি।
    :-)
  • sandipan | ১০ জুলাই ২০১৩ ০৫:১২77575
  • লেখাটি প্রাচীন সাহিত্যে সমকামিতা/তৃতীয় লিঙ্গের উল্লেখ/গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে। এই নিয়ে আগে অনেক লেখা হয়েছে ঠিকই। তার মানে এই নয় যে আর কিছুই লেখা যাবে না। আর সমস্ত লেখাতে যে মৌলিক গবেষণা থাকতেই হবে এমন তো কোন কথা নেই। সে তো এখানে লেখা/আলোচনা হয় এমন বিষয় নিয়েই আগে অন্য জায়গায় লেখা/আলোচনা হয়েছে। এটা ঠিকে যে রেফারেন্সের তালিকা থাকলে ভালো হত। আর গবেষণাধর্মী অনেক লেখাতেই অনেক ভুলভাল লেখা হয় - সম্পর্কহীন অনেক ব্যাপার নিয়ে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে তত্ত্ব করার চেষ্টা করা হয়। আর প্রাচীন সাহিত্যের মধ্যে থেকে কেউ যদি কিছু উদাহরণ খুঁজে বার করেন তাহলে সেই লেখাকে অকারণ ধুলিস্যাত করার ও কিছু নেই।
  • sandipan | ১০ জুলাই ২০১৩ ০৫:২২77576
  • গুরুতো কোনো অ্যাকাডেমিক জার্নাল নয়। ফলে সমস্ত লেখার (প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা ইত্যাদির) উপযোগিতা খুঁজতে গেলে মুশ্কিল।
  • ranjan roy | ১০ জুলাই ২০১৩ ০৭:৫৮77567
  • সোসেনকে অনেকগুলো ক।
  • সে | ১০ জুলাই ২০১৩ ০৮:০৮77568
  • "Comment from sosen on 10 July 2013 09:54:30 IST 125.241.111.85 (*) #
    (৪) প্রসঙ্গত, ঋতুপর্ণর মৃত্যুর পর তৃতীয় লিঙ্গের আলাদা লাইন করে দেখতে চাওয়ার দাবি নিয়ে আমি ধন্দে। মেইনস্ট্রীমে যাঁদের মেলাতে চাই, তাঁরা আসলে কি চান? সংরক্ষণ? "
    এমন মনে হচ্ছে কেন একটু বুঝিয়ে বলুন। তাহলে দুটো লাইন ই বা থাকবে কেন সেটাও বলুন।
    একবার লিখলেন "(৩) সমকামিতা এবং হিজড়াবৃত্তি এক নয়। দেশে সরকারী চাকরি কেন, যে কোনো চাকরি করতে গেলেই ফিমেল বা মেল এ টিক মারতে হয়।"
    স্ববিরোধিতা হয়ে গেল না কি?
  • sosen | ১০ জুলাই ২০১৩ ১০:২০77569
  • দুটো লাইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আমার ধন্দ।
    পরের টা কেন স্ববিরোধিতা, বুঝি নাই।
  • মৌ | ১০ জুলাই ২০১৩ ১১:০৩77570
  • তাতিন দার সাথে সম্পূর্ণ সহমত। ধর্মীয় সাহিত্যর সাথে তুলনা করে সকামিতা বিশ্লেষণ করা বা, সমকামিতা (তথাকথিত) নর্মাল না অ্যাবনর্মাল অ্যাক্ট কি'না তা বিচার করা তেমন ভাবে গ্রহণযোগ্য না। আবার স্ববিরোধীতা করে বোলব সমকামিতার প্রসঙ্গ উঠলে ''বিদেশী কালচার, ওয়েস্টার্ন ডিজিস...'' ইত্যাদি রব যখন ওঠে, তখন এই ধরণের উদাহরণ আপনা-আপনি চলে আসে।

    সত্যজিতের যৌন সংস্করণ'' বুঝলাম না। কোন সত্যজিৎ ! মানিক দা !! উনি কি করেছিলেন !!

    @সোসেন দি, তৃতীয় লিঙ্গ কোন লাইনের থেকে আলাদা লাইন চেয়েছিল? মানে, আমি যতদূর শুনেছি, সেখানে দুটি লাইন ছিল- পুরুষদের আর নারীদের। ওখানের পুলিশ/ভলেন্টিয়াররা তাদের মহিলাদের লাইনে দাড়াতে বলে। তখন তারা বলেছিল, তারা পুরুষ না নারী না, তাই পুরুশ-নারী লাইনে না দিয়ে তাদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে/পরিচয়ে আলাদা লাইন দিতে।
  • rivu | ১০ জুলাই ২০১৩ ১২:৪৬77564
  • রেফারেন্স দিলে লেখাটা আরেকটু ভালো হত। আমার মনে হয়েছে যে লেখকের প্রমাণ করার ছিলো যে প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে সমকামী ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে। সেটা তিনি করার চেষ্টা করেছেন, যদিও কয়েকটা জায়গায় আরেকটু স্পেসিফিক রেফারেন্স দেওয়ার প্রয়োজন ছিলো। বিষ্ণুর মোহিনী রূপ কেন সমকামিতার উদাহরণ হবে, বুঝিনি। বেশ কয়েকটি উদাহরণে পাচ্ছি ছেলে থেকে মেয়ে বা বিপরীত রূপান্তরের গল্প। কিন্তু সমলিঙ্গের দুটি মানুষএর প্রেম বা যৌন সম্পর্ক প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে এসেছে কিনা, সেটা বুঝতে পারিনি।

    লেখকের কাছে কিছু প্রশ্ন ছিলো। প্রাচীন ভারতে ক্লীবলিঙ্গ, হিজরা বা সমকামী মানুষ জন, তাঁরা কিভাবে ছিলেন? মানে আজকের ভারতে যে সামাজিক অসুবিধা গুলো সমকামী মানুষজনকে ফেস করতে হচ্ছে, সেগুলো কি প্রাচীন ভারতে ছিলোনা? এগুলো কি মেকলের আইন পরবর্তীকালে গড়ে ওঠে? আর রিতুপর্ণকে টেনে আনার কারণ কি উনি সমকামিতার সংস্কৃত ডিসকোর্সে আলোকপাত করেননি বলে?
  • সে | ১১ জুলাই ২০১৩ ০৪:৪২77577
  • একদম। এখানেতো কী লেখা হচ্ছের বদলে কে লিখছে সেটাই মুখ্য। তাই রেফারেন্সিং।
  • sandipan | ১১ জুলাই ২০১৩ ০৭:৫৯77578
  • গবেষণার পদ্ধতি হিসেবে লেখকের অ্যাপ্রোচ - প্রাচীন সাহিত্যে উল্লেখ থেকে সমাজের অবস্থা বোঝার চেষ্টা - বেশ প্রচলিত অ্যাপ্রোচ। এই একই অ্যাপ্রোচ অমর্ত্য সেন একাধিক প্রবন্ধে ব্যবহার করেছেন - "But it would be a mistake to think that vocal leadership by
    women is completely out of line with anything that has happened in
    India’s past. Indeed, even if we go back all the way to ancient India,
    some of the most celebrated dialogues have involved women, with the
    sharpest questionings often coming from women interlocutors. This
    can be traced back even to the Upani.sads – the dialectical treatises that
    were composed from about the eighth century BCE and which are
    often taken to be foundations of Hindu philosophy." । এই প্রবন্ধ পড়ে আমার মোটেও এটা মনে হয় নি যে এতে গবেষণার নামগন্ধ নেই। বরং একটি সৎ প্রচেষ্টা মনে হয়েছে।
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন