তিনগোটা এস আই আর প্রক্রিয়াটা কি আশ্চর্যরকমের খামখেয়ালিপনা সেটা আজ ইলেকশন কমিশনারের বক্তব্য বা বিভিন্ন জেলাশাসকের দপ্তরের বক্তব্য শুনলে বোঝা যাবে।
কি কি বিচিত্র কারণে মানুষের নগরিকত্বকে নিয়ে সরকার সন্দেহ করতে পারে :-))
- মা এর বয়স আমার জন্মের সময় যদি পনেরো বা কম হয়। আহা তা যেন সাত কোটি লোকের মধ্যে কারো হতে পারে না আমাদের বাল্য বিবাহে চাম্পিয়ন দেশে।
- আমার দাদু দিদার বয়স যদি চল্লিশের কম হয়।
- বাবা বা মা র যদি পঞ্চাশ বছরের বেশি বয়সে আমার জন্ম হয়ে থাকে, বাবা মা যদি বেশি বয়সে সন্তান ধারণ করেন তাঁদের জানা উচিত ছিল সেটা সন্দেহজনক।
- আমার বা বাবার নাম যদি 2002 এ বা 2025 বানানে বা অসংখ্য সৃজনশীল ভুলের কারণে ম্যাচ না হয়। যেমন সিপিএম সম্পাদক সেলিমের নাম অনেক পরিশ্রম করে এস আই আর করেছে মহম্ম্দ সেলিম অবস্তি। টেলিগ্রাফের খবর।
- এছাড়া বিভিন্ন জীবিত ব্যক্তি মৃত হবেন, কারণ মৃত ব্যক্তিদের বাদ দিতে অল্প স্বল্প ভুল হতেই পারে। কিছু ভিডিও ইতিমধ্যেই আসতে শুরু করেছে, যেখানে প্রতিবেদন করতে গিয়ে লোকে বলছেন তারা নিজেরাই মৃত হিসেবে চিহ্নিত
- যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি বলা হচ্ছে তারা অন্য রাজ্য থেকে আসতে পারেনি বলে বাদ পড়তে পারে। বা এটাও কেউ দেখেনি যে অন্যত্র কেউ নাম তুলতে আদৌ পারছে কিনা। অথচ সব ডেটাই কমিশনের কাছে আছে।
যা দেখা যাচ্ছে এসআইআর কি নিয়মে হবে এই জেনে লোকের জন্মানো বা কাজ খুঁজতে যাওয়া উচিত। দাদু দিদিমা-দের বা বাবা মা-দের ও সে কথা মনে রাখা উচিত ছিল। :-))))আর নাম সৃজনশীল কারণে বদলে গেলে দায় মানুষের।
নির্বাচন কমিশনের কোনো গর্ব নেই। অ্যালগো বের করতে পারে জন্মমৃত্যুর রেজিস্টার দেখার কথা ভাবতে পারে না।
একদল মানুষ বলছেন, দ্য ওয়্যার রিপোর্ট ও লিখেছে, যে, মুসলমান দের মধ্যে 'নো ম্যাপিং' এর হার সবচেয়ে কম, অতএব বিজেপির উচ্চকিত সংখ্যালঘু আক্রমণের উদ্দেশ্য প্রতিহত হয়েছে। এটা মুর্খের মতো কথা, কারণ নাগরিকতার উপরে ভোটার তালিকার উপরে সম্ভাব্য আক্রমণ পদ্ধতি এখনো অনেক বাকি। দুঃস্থ, একবার শরণার্থী হওয়া মানুষ, এবং শুধু তারা নন, আশানুরূপ ভাবেই বিপদে থাকবেন।
সকলেই জানেন, রাহুল গান্ধীর প্রেস কনফারেন্স লোকের হয়তো সচেতনতা বেড়েছে, যে, ডেটা মেশিন রিডেবল না। পাতি পিডিএফ সার্চও ব্যর্থ হচ্ছে, সেটা সিকিউরিটি ফিচার হিসেবে হয়তো দাবী করা হবে, অথচ বাল্ক সার্চের কোনো উপায় চট করে নেই। বড় সংবাদ সংস্থা এমবেডেড রিপোর্টিং করবে এবং অতিচর্চিত ছাড়া সিস্টেমিক এক্সক্লুশন-এর প্যটার্ন সামান্য কোডিং করু বড় স্কেলে বের করার কোনো উপায় সহজ না, যদি না আপনাকে ভালোবেসে অ্যানোনিমাইজড ডেটা সেট দেয়।
রাজনৈতিক দল মাত্রেই মুর্খ। বিরোধী রাজনৈতিক দল মাত্রেই গন্ডমুর্খ। মহারাষ্ট্র আর কর্ণাটকে রাহুল গান্ধীদের ডেটা বিশ্লেষণ করতে সময় লেগেছিল, বিহারের বেলায় লাগেনি। আরো নানা সংস্থা কিছু তথ্য দিয়েছিল যেমণ নিউজ লন্ড্রি। যোগেন্দ্র যাদব-রা কিছু বিশ্লেষণ ভোটের আগে থেকেই দিচ্ছিলেন। বাংলায় এখনও অ্যানালিসিসের মনোপোলি মানুষের অধিকার হরণে আনন্দ পাওয়া কিছু সিনিকাল সংস্থার হাতে।
গণতান্ত্রিক অধিকার হারানোর এরকম পাবলিক উদযাপন স্বাধীনতার এত বছর পরে কল্পনাতীত, যেখানে কঠিন হিসেব কষে খুঁজে বেস ইয়ার বের করে মানুষকে বিপদে ফেলা হচ্ছে, এবং এটা এরপর থেকে প্রতিবারই বদলাতে পারে, কারণ সন্দেহই এখন দেশের ভিত্তি। এরপরে ডিনানসিয়েশন বা প্রতিবেশির ক্ষতি চেয়ে অতি উৎসাহী ব্যবস্থা গ্রহণ হয়ে উঠবে জাতীয় সংস্কৃতি।