এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • কথার কথা এক 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ জুলাই ২০২৬ | ৬৪৫ বার পঠিত
  • কথার কথা

    এক

    আলাপ

    ছয়ের দশকে গ্লোব সিনেমায় একাধিকবার সাউন্ড অফ মিউজিক ছবিটি দেখে দুটি জার্মান শব্দের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল - ফ্রয়লাইন ও আউফ উইডারজেন। কয়েক বছর বাদে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া আমাকে ফ্রাঙ্কফুর্ট ব্রাঞ্চে বদলির হুকুম দেবার সময়ে বড়ো কর্তারা আমার জার্মান বিদ্যের দৌড় ধর্তব্যের বিষয় বলেই মনে করেন নি। আমি সেই সামান্য শব্দবল, প্রভূত শঙ্কা এবং মা কা আশীর্বাদ নিয়েই দমদম থেকে হাওয়াই জাহাজে উঠে পড়েছি; জার্মানি গিয়ে বাকিটুকু শিখে নেওয়া যাবে। স্টেজে মেরে দেওয়াটা বাঙালির সনাতন অভ্যেস।

    অনেক বেড়া ডিঙ্গিয়ে, প্রচুর হোঁচট খেয়ে যতদিনে মনে হল ভাষাটা মোটামুটি আয়ত্ত হয়েছে, ব্যবসা বাণিজ্যে পথে ঘাটে পাবে চেনা অচেনা মানুষের সঙ্গে বিয়ার ওয়াইন বায়ার্ন মিউনিক ফ্লেন্সবুর্গের স্বর্ণকেশীর সঙ্গে ব্যাভেরিয়ান ব্লন্দিনির পার্থক্য হেন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অবলীলাক্রমে যোগ দিতে পারি, প্রেম নিবেদন ও গ্রহণ করতে পারি, এমন সময়ে জানা গেল ফ্রাঙ্কফুর্টের বন্ধনকাল এবারের মত নয়, চিরতরে শেষ হতে চলেছে। আবার পশ্চিমে একটি দ্বীপের পানে পাড়ি। ধরে নিয়েছি পৃথিবী যখন গোল তখন পশ্চিম মুখে যেতে থাকলে একদিন পুবের কলকাতা ঠিক পৌঁছে যাবো। কম্পাসের মাপে ভুল থাকলেও,জেনোয়ার সেই নাবিকের তত্ত্বটি আজও খাটে।

    ডিঙ্গা ভাসাও, চ্যানেলে, সাগরে।

    ফ্রাঙ্কফুর্ট এসেছিলাম আপনি আর কোপনি নিয়ে। এবার গাড়ি সমেত পুরো সংসারের বাসন কোসন ঝাড়ু ঝাঁটা বই পত্র একটি বিশাল ট্রাকে তুলে দিয়ে স্ত্রী কন্যা সহ গ্যাটউইক বিমান বন্দরে যেদিন নামলাম, জানতাম শুধু যে রাস্তার বাঁ দিকে গাড়ি চলে তাই নয়, ভাষার সমস্যাও এ দেশে নেই। ঝরিয়া বঙ্গ বিদ্যালয়ে বড়ো সার, বনবিহারি সরকার, নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দিরে হেড সার, দিনেশ মজুমদার ইংরেজি ভাষাটা কান মূলে শিখিয়েছেন, হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষায় অক্ষর বা লেটার সহ উচ্চ বর্গে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমি কি ডরাই সখি এ দীন ইংরাজি ভাষায়?

    ডোভার বন্দরে জাহাজ থেকে নেমে হাঙ্গেরিয়ান জর্জ মিকেশের যেমন, চল্লিশ বছর বাদে গ্যাটউইক হাওয়াই আড্ডায় নেমে আমারও তেমন অভিজ্ঞতা হলো - ইংরেজি জানি এই ভুলটা ভাঙতে মাত্র ঘণ্টা খানেক লাগে।

    কয়েক বছর আগে ইংল্যান্ড ঘুরে গিয়েছি একা, দরিদ্র টুরিস্ট বেশে, সে যাত্রায় আমার ওপর কারো দায়িত্ব ছিল না। হাতে ম্যাপের অভয় কবচ, প্রশ্ন সীমিত - কোথায় বাসের ট্রেনের টিকিট, খাবার মেলে। একবারে না বুঝলে দু বার জিজ্ঞেস করেছি। কারো সঙ্গে গল্প গুজবের প্রশ্ন ওঠে নি। এখন সপরিবারে লন্ডন পৌঁছে বুঝলাম কল মিস্ত্রী, মুদি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, মেয়ের পাঠশালা, টিউবের সিজন টিকিট, টেলিফোনের লাইন, স্থানীয় ডাক্তারখানায়, পৌরসভায় নাম লেখানো, ড্রাইভিং লাইসেন্সের অনুবাদ তথা নবীকরণ সর্বত্র সকল কাজের ভাষাটা দেশ থেকে চিনে আসি নি। হ্যাঁ, চোদ্দ বছর বয়েসে বীণা সিনেমায় টেন কমান্ডমেনটস দেখেছি, মোজেসের লাঠিকে সাপ বানানো, সাগর চিরে পার হওয়া মনে আছে । জেমস বন্ড,কাম সেপ্টেম্বর, মাই ফেয়ার লেডি ইত্যাদি ছবির পর্দায় ঘটনার ঘনঘটা দেখেছি, কিন্তু বেশির ভাগ সংলাপ আমার কাছে প্রলাপ থেকে গেছে।

    গৃহকোণেও সমস্যা দেখা দিল ; ফ্রাঙ্কফুর্ট পর্বে আপার হ্যান্ড ছিল আমার। প্রাক্তন স্ত্রীর জার্মান জ্ঞান ঢু ঢু,বাংলাটা মোটামুটি, এক গুরুজনকে বলেছিলেন আমি আপনাকে খুব শ্রাদ্ধ করি। দু বছর বয়েসে তিনি ইংল্যান্ডে আসেন, এখন গোলডারস গ্রিনে পুনরায় পদার্পণ করেই ফিশ ব্যাক টু দি ওয়াটার সুলভ আনন্দ অনুভব করতে লাগলেন। আমার ইংরেজি শুনে করুণা বশত সংশোধন করেন অথবা দোকানে বাজারে আমার বরানগরী জুবানকে ভদ্র ইংরেজিতে অনুবাদ করে সেলস পারসনকে বুঝিয়ে দেন। আমি পড়লাম ফাটা বাঁশের মাঝখানে।

    এই সঙ্কট থেকে মুক্তি আজও মেলে নি। অনেক বছর বাদে আর্সেনাল বনাম এভারটনের খেলা দেখতে গিয়েছি লিভারপুলে; পুত্র ইন্দ্রনীলকে কেবলই জিজ্ঞেস করতে হয়েছে, হ্যাঁরে, উনি কি বললেন ? এভারটনের তৎকালীন হোম গ্রাউনড গুডিসন পার্কে গিয়ে ইন্দ্রনীল বলেছিল, গালি গালাজগুলো অনুবাদ করতে বোলো না যেন।

    এই বিভূঁইতে আগমনের ঠিক চারদিন বাদে, ৩১শে জানুয়ারি সিটি ব্যাঙ্ক লন্ডনে আমার প্রথম হাজিরা। ভাবলাম– চাকরি টিকবে তো ?

    আজ ভারতের সেন্ট স্টিফেন্স, সন্ত জেভিয়ার, লা মার্টস, ক্যালকাটা বয়েজ, লয়োলা স্কুল কলেজে শিক্ষিত যুবক যুবতীরা ইংল্যান্ডে আমেরিকায় গিয়ে এহেন সঙ্কটের সম্মুখীন হন না ; তাঁরা তাঁদের বিদ্যাভ্যাস ও সামাজিক মাধ্যমের নিয়মিত সদ্ব্যবহারের কারণে আধুনিকতম বাক্যাংশ, টার্ন অফ ফ্রেজের সঙ্গে সম্যক পরিচিত। সেগুলি ব্যবহার করেন অবহেলে, চোস্ত উচ্চারণে। চল্লিশ বছর আগের আমার সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলির কাহিনী তাঁদের কাছে বাতুলতা শোনাবে।

    ঝরিয়া, বরানগরে যে ইংরেজি শিখেছি সেটি আমার পূজনীয় শিক্ষকদের মানভূম তথা কুমিল্লা জিলার উচ্চারণ দোষে দুষ্ট কিন্তু সেখানে লদ্ধ ব্যাকরণজ্ঞানের জন্য আমি আজীবন গর্বিত। বিলিতি পাবলিক স্কুলে পড়া আমার তিন ছেলে মেয়েকে বহু বার বলেছি তোমাদের অ্যাকসেন্ট উচ্চ মার্গের, কষ্টে সৃষ্টে তার খেই ধরতে হয় কিন্তু গ্রামারের কিসুই জানো না।

    পেয়েছি একটা বিচিত্র উত্তর, ‘ ইংরেজি তোমার তৃতীয় কিন্তু আমাদের প্রথম এবং মাতৃভাষা ! সেখানে অত আইন মানার প্রয়োজন নেই’। বর্তমানে কিংস কলেজে পাঠরতা ছোট মেয়ে মায়ার এম এ ক্লাসের ডিসারটেশন পড়তে গিয়ে ভুলে ভরা পাঙ্কচুয়েশন চোখে পড়েছে ; নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দিরে ক্লাস টেনের এসেতে কমা কোলনের এমন দুর্ব্যবহার দেখলে নগেন বাবু সার বেঞ্চে দাঁড় করিয়ে রাখতেন।

    জোড়

    সমস্যাটা কোথায় ?

    পয়লা নম্বর – উচ্চারণ। গয়েথে ইনসটিটুটের সৎসঙ্গে যে জার্মান শিখেছি সেটি হানোভার গোয়েটিংগেনের উচ্চতম সৌকর্যের চৌবাচ্চায় চোবানো; মামেকং শরণং ব্রজ ! নিন্দিত নরকে থেকে যায় আলট নুরনবেরগিশ, বায়ারিশ, শোয়েবিশ সহ অন্তত দুশোটি আঞ্চলিক ডায়ালেকট।

    জার্মানির প্রথম কয়েক বছর ঘর সংসার নেই আছে ছাড়া গরুর স্বাধীনতা। ভোজনং এবং কখনো শয়নং অবধি যত্র তত্র। হাটে বাজারে, ফ্রাঙ্কফুর্ট জাকসেনহাউসেনের পাবে, মাইন্তসের ঊনটার হাউসে, মিউনিকের শোয়াবিংগের সঙ্গী সাথিরা আমার হোখ ডয়েচের তোয়াক্কা করে নি। তারা আপন পাড়ার জার্মান বলেছে। কখনো আটকে গেলে বুঝিয়ে দিয়েছে; এই বিষয়ে সমগ্র জার্মান মহিলাকুলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা অপরিসীম, টুটা ফুটা জার্মানের ভেতরে হৃদয়ের যে কথাটি আমি বলিতে ব্যাকুল সেটি চিনে নিয়ে সযত্নে আমাকে ভাষা নদী পার করিয়েছেন। হাইলব্রনের গ্রাতসিয়া কুরতস বলেছিল, হোখ ডয়েচ জানো, সেটা আমাদের সকলকে টেলিভিশনে রোজ শুনতে হয় ; তোমার বাক্যি লোকে কষ্ট করে হলেও বুঝে নেবে।

    লন্ডনে এসে জানলাম গয়েথে ইনসটিটুটে শেখা হাই জার্মান আমাকে যে প্রবল আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল, সেটির অধিকার এখানে আমার নেই। ব্যাকরণ নয়, বচনের গোড়ায় গলদ। মুখ খুললেই আমার ইমিগ্রান্ট পরিচয় ঘোষিত হতে থাকে।

    লন্ডনে অনেক যুগ ধরে বিভিন্ন উচ্চারণের যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চালু আছে ক্রমশ সেটি আবিষ্কার করে অবশ্য নিজের হীনমন্যতাকে নির্বাসন দেওয়া গেলো একদিন। আইরিশ, ওয়েলশ, স্কটিশ, ককনি, জরডি যখন বাজারে জলচল, নানা উচ্চারনের বিবিধের মিলন মহান, তখন আমার বরানগরের ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে সঙ্কুচিত হবার কোন কারণ নেই, অপর পক্ষ বুঝতে পারলেই হল ! চল্লিশ বছর কেটে গেলো, জানি অব তক ঠিক সে নহি নিকলতি । অ্যাকসেন্টেই লোকের মালুম হয় আমার আদি পাসপোর্ট কোন দেশের – তবে সেটা আমাকে আর কখনো বিব্রত করে নি। আমার যেমন বেণী তেমনি রবে।

    পাঁকে ফেলেছে দুসরা নম্বর –শব্দের চাতুরী। চেনা শব্দ চেনা মুখ চেনা চেনা হাসিমুখ কিন্তু কখন কোন স্টেশনে তাদের বনাতের রং বদলে গিয়েছে তার সুলুক সন্ধান পাই কই ? কথা এক, অর্থ অন্য ? প্রচলিত বাক্যাংশ তাদের তাৎপর্য বদলায় ( টার্ন অফ ফ্রেজ)। কোনো বুক অফ ইউজফুল ফ্রেজেস অ্যান্ড ইডিয়মসে তার বিস্তারিত টীকা টিপ্পনী মেলে না, কোন টেক্সট বুক নেই, থেকে থাকলেও খুঁজে পড়ার সময় নেই। ইউ টিউব অনেক দূরে। দৈনন্দিন ব্যবহারে, লোক মুখে সেগুলি চিনে নিতে হয়। জানি উচিত প্রয়োগে কথ্য বাচন ভঙ্গি বর্ণময় হয়ে ওঠে, সমাজে লোকে সম্মতি সূচক মাথা নাড়েন; কখনো বলেন, ওয়েল, দ্যাটস ক্লেভার !

    ইংল্যান্ডে ইউরোপে কলেজ ইউনিভারসিটির ছুটির সময়ে আমাদের ব্যাঙ্কে ইন্টার্নের ভিড় , কোন বড়ো সায়েবের চেনা জানা বা কোন কাস্টমারের ছেলে মেয়েকে উপরোধে অনুরোধে দেড় দু মাসের জন্যে রাখতে হতো। এই সামান্য সময়ে তারা কি যে শিখবে কে জানে তবে তাদের জীবনপঞ্জি বা সি ভিতে সিটি ব্যাঙ্ক বা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কের দোরগোড়া পেরিয়ে ফাইল পড়ার সার্টিফিকেটের নাকি বিশেষ মূল্য আছে। ২০১২ সাল অবধি তাদের কোন স্টাইপেনড দেবার বাধ্য বাধকতা ছিল না, কোন কোন সময়ে আমার দফতরে এক সামারে জনা চারেক হাজিরা দিয়েছে, বসতে দেবার জায়গা জুটত না।

    সরকার বাহাদুর একদিন বেগার খাটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন, ইন্টার্নদের সপ্তাহে তিনশ পাউনড দিতে হবে। তৎক্ষণাৎ এই অবৈতনিক বিদ্যালয়ের দরোজা বন্ধ হবার জোগাড়। সেই সঙ্গে কমপ্লায়েন্স দফতর জানালো এই ইন্টার্নশিপ দেবার নাম করে কোন কাস্টমারকে অন্যায় সুযোগ সুবিধে দেওয়া যাবে না, সেটা স্বজন পোষণ, দুর্নীতি, ভ্রষ্টাচার। ইন্টার্নের সাপ্লাই লাইন কমতে থাকে।

    ইন্টার্নশিপের স্বর্ণ যুগে আমাদের মুশকিল ছিল উৎসুক বালক বালিকাদের কিমিতি সারাদিন ব্যস্ত রাখা যায়। এই দেড় দু মাসে কোন কাজ তারা শিখবে, আমার অফিসে কারই বা সময় আছে অর্থকরী ডিল ফেলে রেখে এদের অ্যাভারেজ লাইফ অফ এ লোন বোঝানোর। বরং হাতে ফাইল ধরিয়ে দিয়ে বলা হতো, পড়ো,শেখো। এদের সঙ্গে আমি নিয়ম করে গল্প গুজব করেছি, কোন মিটিঙে নিয়ে গেছি। সেথায় চুপ করে বসে শুনবে কিছু। কে জানে এদেরই মধ্যে কেউ কোনদিন আমাদের অফিস অলঙ্কৃত করবে ! কলেজ ইউনিভারসিটি দূরের কথা, টেনে টুনে মাধ্যমিক মাত্র পাস করে ভবিষ্যতের ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রী জন মেজর একদা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কে সাময়িক শিক্ষণ নিয়েছিলেন।

    বায়ার এ জি কোম্পানির সূত্র ধরে ডুসেলডরফের হাইনরিখ হাইনে ইউনিভারসিটিতে অর্থনীতির (ফোলকসভিরটশাফট ) ছাত্র মাথিয়াস এসেছে সামার ইন্টার্ন রূপে।

    লন্ডন চেম্বার অফ কমার্সের বর্ষীয়ান প্রধান ক্রিস ফিনডলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার হবে; মাথিয়াসকে সঙ্গে নিয়ে গেলাম সেই মিটিঙে, ব্যাঙ্কের ছ তলায় (সেখান থেকে টেমসের শোভা অতি মনোরম)। ব্যাঙ্কের ক্যান্টিনের লোক চা কফি ও রূপোর কেটলিতে গরম জল সাজিয়ে দিয়ে গেছে। মাথিয়াসকে বললাম, তুমি আমাদের সেবা করো দেখি। এমন একটা জরুরি কাজ পেয়ে সে মহা উৎসাহে জেনে নিল কে চা বা কফি চায়। এবার চিনি দেবার পালা। মাথিয়াস আমাদের অতিথিকে জিজ্ঞেস করলো, হাউ মেনি সুগার, সার ? ওয়ান ?পক্বকেশ ক্রিস অত্যন্ত বিনয়ের সহিত বললেন, ইফ ইউ উইল বি সো কাইন্ড।

    চিনির কিউব তোলার ছোট্ট রুপোলী আংটা সহ মাথিয়াসের ডান হাত তখন মৃণাল সেনের আকাশ কুসুম ছবির ফ্রিজ শটের আকার ধারণ করেছে ; তার মুখে দ্বিধা দ্বন্দ্ব। ক্রিস কি বলছেন? হ্যাঁ অথবা না ? তাকে ইঙ্গিতে বোঝালাম একটা চিনি দাও ক্রিসের পেয়ালায়। ক্রিস বিদায় নিলে পর মাথিয়াস বললে, অনেক ধন্যবাদ। আমি বুঝতেই পারছিলাম না উনি কি চান। তাকে বললাম, বৎস (মাইন ইউঙ্গে), ইফ ইউ উইল বি সো কাইন্ড মানে যে সম্মতি, হ্যাঁ, সেটা জানতে আমার বিশ বছর লেগে গেছে।

    জার্মান অফিসে অধস্তনকে ডেকে অথবা তার টেবিলের সামনে গিয়ে বলা যায়, এটা যেন দু ঘণ্টার মধ্যে আমার সইয়ের জন্য তৈরি থাকে। সিটি ব্যাঙ্কে প্রথম বস জো ম্যাকিইয়েভিতস আমাকে প্রথমেই সহজ সুরে বুঝিয়ে দিয়েছেন ঐ জার্মান স্টাইল এ দেশে চলে না, বিনীত ভাবে কাজ আদায় করতে হবে। সদ্য ৩৩৬ নম্বর স্ট্র্যানড অফিসে কাজে যোগ গিয়েছি ( কি আশ্চর্য সমাপতন, কলকাতা স্টেট ব্যাঙ্কে আমার শেষ অফিসের ঠিকানা ছিল এক নম্বর স্ট্র্যানড রোড !) আমার এক কাস্টমারের ভীষণ তাগাদা, তার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি চাই পরের দিন। সেই দরখাস্ত প্রসেস করার কাজ ছ ফুট লম্বা, স্পোর্টিং চেহারার এক যুবকের, তার নাম রিচার্ড। তার ডেস্কে গিয়ে বললাম এটা করে দেবে, তাড়া আছে। রিচার্ড বললে, লিভ দিস উইথ মি। সুদর্শন যুবক, তায় সায়েব, বললে আমার হাতে ছেড়ে দিন। এর পর ভাবনার কি থাকতে পারে। খুশি হয়ে নিজের অফিসে ফিরেছি কিন্তু মন খুঁত খুঁত করছে। বিকেল বেলা কি যেন মনে হল একবার দেখি কাজ কতদূর এগুলো।

    তিন তলায় রিচার্ডের আসন শূন্য। তার পাশের ডেস্কে বসে শার্লি ওয়াগহর্ন । সে জানালে লাঞ্চের পর রিচার্ড ইন্টার ব্যাঙ্ক ক্রিকেট খেলতে গেছে ফিন্সবেরি স্কোয়ারে, আজ আর ফিরবে না। কোনমতে শার্লিকে বাবা বাছা করে কাজ উদ্ধার করতে হল।

    মরাল অফ দি স্টোরি - লিভ দিস উইথ মি মানে আমি সে কর্ম অদ্য অথবা কল্য সম্পন্ন করিতে পারি নাও পারি, মেরি মরজি। চান্স নেওয়াটা আপনার ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয়।

    পরে যেমন জেনেছি ‘ইয়োর ফাইল ইজ রিসিভিং আওয়ার অ্যাটেনশন’ কথাটার সরল অর্থ হল আপনার বছর খানেক আগে লেখা চিঠিটা সবে মাত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। ‘দিস ওন্ট টেক এ মিনিট টু গেট ব্যাক টু ইউ’ মানে আগামী সপ্তাহ নাগাদ জবাব মিললেও মিলতে পারে। বস যখন বলেন আই হিয়ার ইউ, তার অর্থ আমার এতো খেটে খুটে বানানো প্রোপোজালটি তাঁর মোটেও পছন্দ নয়, পণ্ড শ্রম।

    ঝালা

    ইংরেজির ভাণ্ডারে বিবিধ রতন এবং তার শোভা দেখে মাথা ঝিম ঝিম করছে। এমন সব শব্দের দেখা পাই, অবস্থান ও প্রয়োগ বিচারে যাদের অর্থ বদলে যায়। ভাষা এক জীবন্ত প্রাণী; একই শব্দ, ফ্রেজ ব্যবহারের গুণে আনে নতুন ব্যঞ্জনা। যতদিন না জনসনের বসওয়েল বা সুনীতি চাটুজ্যের মতন কোন মনীষী অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফ ফাইনান্সিং পারলান্স নামক একটি থান ইট প্রস্তুত করছেন ততদিন এই শব্দ সম্ভারের কপি রাইট বিতর্কিত থেকে যাবে, কেবল মাত্র ওয়াল স্ট্রিট বা লম্বারড স্ট্রিটকে সেটি দেওয়া যাবে না। কিন্তু মেনে নিতেই হয় এই জিতা জাগতা জুবান একদিন ব্যাঙ্ক, ষ্টক মার্কেট, আই টি এবং কর্পোরেট মহলের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে ঢুকে পড়েছে জেনটেলমেন্স ক্লাবে, হাউসেস অফ পার্লামেন্টে, এম সি সি প্যভিলিয়নের হর্ম্য মণ্ডিত হলে। প্রতি বছর কনসাইজ অক্সফোর্ড ডিকশনারির কাজ বাড়ে।

    আজকের সামাজিক মাধ্যমের গতি তীব্র ও ব্যাপ্তি বিশাল হলেও দেশ ভেদে ইংরেজি ভাষার শব্দ চয়নে ও অর্থে বিস্তর ফারাক থেকে গেছে।

    যেমন আমাদের পাস আউট।

    পাসিং আউট অর্থ গ্র্যাজুয়েশন, যেমন পাসিং আউট প্যারেড ; তার অর্থ শিক্ষা সম্পূর্ণ করা প্রাক্তনী। কিন্তু কোন মানুষকে পাস আউট বললে ইংরেজের বা আমেরিকানের কাছে বোঝাবে সে মাতাল বা বেএক্তেয়ার ; হি হ্যাজ পাসড আউট মানে সে কোন পরীক্ষা পাস করে নি, মদ্যপান অথবা গঞ্জিকা সেবন করে বেহোশ হয়েছে।

    প্রেসিডেন্সি ও কাঁটাকলের অর্থনীতির কৃতী ছাত্র এবং স্টেট ব্যাঙ্কে আমার সমসাময়িক ( পরে ডেপুটি এম ডি ) অভিজিৎ দত্তের কাছে শুনেছি একটি আবেগময় বক্তৃতায় তৎকালীন অধ্যক্ষ ড: সনত বোস বলেছিলেন, মেনি ব্রিলিয়ানট স্টুডেন্টস হ্যাভ পাসড অ্যাওয়ে ফ্রম দি প্রেসিডেন্সি কলেজ। আরেকজন ছাত্র টেস্ট পরীক্ষায় ‘অ্যাপিয়ার ‘ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় তাঁকে ড: বোস বলেন, দেন ইউ ক্যান ডিসঅ্যাপিয়ার।

    ছোট বেলায় বাবার কাছে গল্প শুনেছিলাম - রাশিয়ান রাজসভায় কোনো পারিষদ একটা অচেনা শব্দ ব্যবহার করেছেন; জার আলেকজান্দার বললেন এটা তো চিনি নে, এলো কোথা হতে ? সূত্র সন্ধান করে জানাও ‘। বাবা বলেছিলেন এর নাম রুটস, চিনতে না পারলে মূলের খোঁজ করো। এই সদ্ভাবনা আমার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে তিনি পরলোকে প্রস্থান করেছেন কবে। শাস্তি পাচ্ছে আমার ছেলে মেয়েরা। তাদের উৎপাত করি- বলো দেখি এটা কোত্থেকে এলো? না, জানি না বললে চলবে না। ফাঁকি দিয়ে হলেও স্কুলে খানিক ফ্রেঞ্চ জার্মান শিখেছো, এবার ভাবো !

    বাতিক যায় না মলে !

    বিদেশি শব্দ আত্মসাৎ করায় ইংরেজের জুড়ি নেই – চেক রোবোট, পোলকা, প্র্যাম রাশিয়ান ম্যামথ, ওল্ড নর্স ব্যাগ ব্যান্ড বার্থ এগ, ইদিশ ড্রেক, বেগল, সুইডিশ মোপেড, জার্মান কিন্ডার গারটেন, শাদেনফ্রয়ডে, গ্রিক হিউবরিস – তালিকা অতি দীর্ঘ। কিন্তু আজকের মুখর ইংরেজি ইডিয়ম শুধু অন্য ভাষা থেকে ধার নিয়ে নয় ( লোন ওয়ার্ডস ) নিজের ভাষার ওপরেই খোদকারি করে।

    মনে রাখা ভালো হলিউড যেদিন ‘সবাক’ হল, চিত্রনাট্যকারের সংলাপে স্থান পেলো নিউ ইয়র্কের লিটল ইতালি, ব্রঙ্কস, লন্ডনের ইস্ট এন্ডের, লিভারপুল ডকের মানুষের মুখের ভাষা। চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তার কারণে সেটি গেল বিশ্বময় ছড়ায়ে।

    মার্গারেট মিচেলের গন উইথ দি উইন্ড বইতে উত্যক্ত রেট বাটলার তাঁর বাড়ি এবং পত্নীকে ত্যাগ করে যখন চলে যাচ্ছেন, রোরুদ্যমানা স্কারলেট ও’হারা বললেন, হোয়ের শ্যাল আই গো, হোয়াট শ্যাল আই ডু। দরোজা দিয়ে বেরিয়ে যাবার সময়ে এক মুহূর্ত থেমে রেট বাটলার বলেছিলেন, ‘আই ডোন্ট গিভ এ ড্যাম ‘। ছবির অন্যতম চিত্রনাট্যকার সিডনি হাওয়ার্ড একটিমাত্র শব্দ জুড়ে দেওয়ার ফলে আজ দুনিয়ার সবচেয়ে পরিচিত, ব্যবহৃত ফিল্মি পাঞ্চ লাইন হলো

    ফ্র্যাঙ্কলি মাই ডিয়ার, আই ডোন্ট গিভ এ ড্যাম।

    হনোলুলু থেকে হন্ডুরাস অবধি মানুষ এই বাক্যাংশ বহুবার বলেছেন, বলবেন !

    এ ব্যাপারে অবশ্য আমি গ্রাউচো মার্কসকে গুরু মানি।

    সকাল বেলা রাস্তায় বেরুতেই একজন জিজ্ঞেস করেছে, হাউ ডু ইউ ডু ? তার উত্তরে গ্রাউচো বললেন, হাউ আই ডু ইট, ইজ মাই বিজনেস। অথবা ধরুন হর্স ফেদারসের সেই কড়া জবাব, আই নেভার ফরগেট এ ফেস, বাট ইন ইয়োর কেস আই উইল বি গ্ল্যাড টু মেক অ্যান একসেপশন। নীতিবাগীশ গ্রাউচো বলেন,দোজ আর মাই প্রিন্সিপলস। বাট ইফ ইউ ডোন্ট লাইক দেম, আই হ্যাভ আদারস।

    ক্যাসাব্লাঙ্কা ছবির কিছু অনন্য ওয়ান লাইনার স্মরণ করুন –

    চিত্রনাট্যে ছিল না কিন্তু হারিয়ে যাওয়া প্রিয়তমাকে পুনরায় দেখে রিক রূপী হামফ্রি বোগারট যোগ করে দিলেন, ‘ অফ অল দি জিন জয়েনটস ইন অল দি টাউন ইন অল দি ওয়ার্ল্ড, শি ওয়াকস ইন টু মাইন ‘।

    প্রিয়তমের সঙ্গে শেষ বিদায়ের ক্ষণে ইলসা বললেন, চলে যেতে বলছ কিন্তু আমাদের প্রেমের কি এই শেষ ?হোয়াট অ্যাবাউট আস ? রিক বললেন, উই উইল অলওয়েজ হ্যাভ প্যারিস!

    ভালবাসার দিনগুলির স্মৃতি থেকে যায় ; বাকি জীবন একত্রে না কাটালেও।

    ফরাসি পুলিস চিফ রেনে চোখের সামনে বোগারটের গুলিতে জার্মান মেজরকে নিহত হতে দেখে তাঁর বাহিনীকে আদেশ দিলেন, ‘মেজর স্ট্রাসার হ্যাজ বিন শট, রাউনড আপ দি ইউজুয়াল সাসপেকটস’। এটি আজ ইংরেজি ভাষায় সাদরে গৃহীত শব্দ বন্ধ।

    তবে সাতের, বিশেষ করে আটের দশকের ফাইনান্স জগতের হঠাৎ আলোর ঝলকানি উত্তরোত্তর ধনী করেছে ইংরেজি শব্দকোষকে, একদিন কনসাইজ অক্সফোরড ডিকশনারি ( সি ও ডি ) খাতির করে তাকে জাতে তুলেছে। ইন্টারনেটের অভ্যুত্থান পরিচিত জনতার সরণিতে নিয়ে এলো ব্যান্ডউইডথ, ওয়েভলেংথ, রিবুট, অফ লাইন ; সমাজ মাধ্যম যোগ করেছে মিম, হ্যাশ ট্যাগ, ট্রোল ভাইরাল এবং আরও অনেক।

    আজকে যারা মুম্বাই সিঙ্গাপুর লন্ডন নিউ ইয়র্কের কর্পোরেট জগতে বিচরণ করেন, বেঙ্গালুরু সিয়াটল পালো আলতো থেকে আটলানটা অবধি আই টি জগতকে আলোকিত রাখেন, তাঁরা অবশ্যই এই ক্রমবর্ধমান শব্দ ভাণ্ডার ও তাঁর দৈনন্দিন ব্যবহারের বিষয়ে সবিশেষ ওয়াকিবহাল আছেন। তাঁদের কাছে আগাম আন্তরিক ক্ষমা চেয়ে নিয়ে আমার চার দশকের কর্ম জীবনে প্রতিদিনের কাজে, কাজের আলোচনায়, ব্যবসায়িক ই মেলে, বসের শ্রী মুখে, লন্ডন ইস্ট এন্ডের গলিতে, ফুটবলের মাঠে, ফোনালাপে, পাবের আড্ডায়, চলার পথে অযাচিতে অজান্তে যা পেয়েছি, ক্রমশ বিবর্তিত হতে দেখেছি তাকে আম জনতার আসরে আনবার উদ্যোগে এই আলাপ জোড় ঝালার পর্ব।

    বাংলা সাহিত্যের ক্লাসে অর্থ বিস্তার পড়েছি ; যেমন গঙ্গা একটি নদীর নাম, তা থেকে পেয়েছি গাঙ, গ্রামের এলে বেলে জলধারাকে সে নামে ডাকা যায়। হয়তো এমনটা ঘটেছিল শিল্প বিপ্লবের আমলেও। গত চার দশকে তারই পুনরাবৃত্তি দেখি, অর্থনীতিক, বাজারি জগতে। সেখান থেকে উদ্ভূত শব্দ অথবা বাক্যাংশ চালু হল মুখে মুখে।

    তারই গৎ পরের পর্বে।

    পরিশেষে

    একাকি কথকের এ নহে তো আসর ; তাই পাঠকের সক্রিয় সংযোজনা, পরামর্শ, সম্যক এবং যে কোন আলোচনা একান্ত প্রার্থনীয়।

    পুঃ

    দয়া করে অবধান করুন এটি সপরিবারে পড়বার সিরিয়াল, ডব্লিউ টি এফ মানে ওয়েডনেসডে থারসডে ফ্রাইডে, অন্যটি নয়।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৩ জুলাই ২০২৬ | ৬৪৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • | ০৩ জুলাই ২০২৬ ২৩:৫১741594
  • ইংরিজি বেশ গোলমেলে ভাষা। ভাগাড়পাড়া ইস্কুলে পড়া আমি যখন চাকরির খোঁজে মরীয়া তখন স্পোকেন ইংলিশ শিখবো বলে ভর্তি হলাম গোলপার্ক রাকৃমি ইন্সটিটিউড় অব কালচারে। তো যেখানেই সুযোগ পাই দু চারটে ইংরিজি শব্দ বাক্যাংশ জুড়ে দিই। প্রথম সেমের ক্লাস যিনি নিতেন তাঁর উচ্চারণ মুগ্ধ হতে শুনতাম। নকল করার চেষ্টাও করতাম যথাসাধ্য। তো এরকম একদিন লোকাল ট্রেনে ফিরছি হাওড়া থেকে। দরজার কাচেই দাঁড়ান। তখন লেডিস কম্পার্টমেন্টে যারা টিকিট কাটতেন না তাঁরা মেঝেতে বসতেন। সরে বসতে বা উঠে দাঁড়াতে বললেই টিকিট কাটি নি সীটে বসি নি তাহলে আবার অত কথা কিসের গা বলে একেবারে ধুয়ে দিতেন। এক মাসি আমায় বললেন একটু সরে দাঁড়াও ত মেয়ে, হাওয়া পাচ্ছিনি একেনে। আর আমি কায়দা মেরে সেই শিক্ষিকার নকলে যেই বলেছি শ্যুওর - ওরে বাবারে মারে সেজপিসিরে সমস্ত মাসি একেবারে রে রে করে তেড়ে উঠেছে। সে আমায় প্রায় চলন্ত ট্রেন থেকেই ছুঁড়ে ফেলে দেন তাঁরা। নেহাৎ সূচীভেদ্য ভীড় ছিল তাই আর ফেলতে পারেন নি।
     
    ২০০৮ সাল, তখনো সেই সাব প্রাইম লেন্ডিঙের বোমটা ফাটে নি।
  • | ০৪ জুলাই ২০২৬ ০০:০৪741595
  • ধুর আগেই পোস্ট হয়ে গেল।
    ২০০৮ সাল, তখনো সেই সাব প্রাইম লেন্ডিঙের বোমটা ফাটে নি। পুণেতে EDS এর হয়ে ABN AMRO ব্যাঙ্কের এশিয়ার ৭ খানা দেশের ভিসা আর মাস্টার কার্ডের সিকিউরিটি কম্পলায়েন্সের দেখভাল করি। প্রায় সবকটা দেশের সকাল হয় আমাদের থেকে আগে, আমরা যখন সকাল ৮.৩০ এ কনকলে মিটিঙে ঢুকি তখন অনেকেরই প্রায় একবেলা কাজ করা হয়ে গেছে।
     
    তা এরকম এক মিটিঙে ঢুকেছি আমি আর আরো জনা তিনেক পুণে থেকে, চেন্নাই থেকে জনা পাঁচেক আর অন্যান্য দেশ থেকে বাকীরা। গুড মর্ণিং হ্যানো ত্যানোর পরে অস্ট্রেলিয়া থেকে রজার চেন্নাইয়ের কার্তিককে জিজ্ঞাসা করল 'সো ক্যার্তিক হোয়াজ দেয়া ইন ইওর প্লেট ট্যুডে। ১ সেকেন্ডের নীরবতা। তারপরই উত্তর ভেসে এলো 'কাড়ড রাইস্যা ইয়ান্ড পিইকল।' তারপর পাক্কা ৩৭ সেকেন্ড গোটা কনকল জুড়ে হিরন্ময় নীরবতা। ভাগ্যিস ফোনে একটা মিউট বাটন থাকে। আমরা যা হেসেছিলাম...
  • অরিন | ০৪ জুলাই ২০২৬ ০২:১৯741596
  • সে আপসকে কপা যাবে, উই আর লাইক দ‍্যাট ওনলি।
    আমরা পোস্টপোনের উল্টো প্রিপোন বলি, আর তারপরে বিদঘুটে উচ্চারণ।
    আমাদের ছোটবেলায় সুবোধ সেনগুপ্তের (? ঠিক বললাম) সংসদ বাংলা-ইংরিজি অভিধান পাওয়া যেত, সেখানে কিন্তু ইংরিজি শব্দগুলোর ঠিক ঠিক উচ্চারণ দেওয়া থাকত।
     
    বিলেত আমেরিকা ছাড়াও অন‍্যত্র লোকে ইংরিজি বলে। ভারতীয় ইংরিজি এখন তো মনে হয় ইংরিজির স্বীকৃত variant তাই না?
  • অরিন | ০৪ জুলাই ২০২৬ ০২:২০741597
  • সে আপসকে কপা যাবে == সে আর কি করা যাবে
  • হীরেন সিংহরায় | ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৪:৪৭741598
  • শ্রীমতী দ

    আমার অফিসের ফাইনানশিয়াল মার্কেটসের বেলজিয়ান হেড জঁ মিশেল দুত্রেমঁ হনর, হাউয়ার উচ্চারণ করতেন কিন্তু আমাকে হীরেন বলেছেন। আমাদের ফ্রান্সের গ্রামের প্রতিবেশী মসিও দুকোপিনি সর্বদা বলেন ইরেন, ইটলার ! জার্মানি ও হল্যান্ডের পশ্চিম পাড়া থেকে নৌকো বেয়ে চ্যানেল পেরিয়ে যারা এই দ্বীপে বাসা বাঁধেন তাঁদের মুখের ভাষা, ওল্ড ইংলিশ, ছিল ফোনেটিক, আপনি তুমি সর্বনাম ছিল। সেটাই ইংরেজির চর্যাপদ। ভাইকিংদের ওল্ড নর্স একান্ত ফোনেটিক কিন্তু স ভ্যালেরি সুর সম থেকে যেদিন রাজা গিওমের নরমানরা তাঁদের অফোনেটিক (!) মুখের ভাষা নিয়ে ইংল্যান্ড ভূখণ্ডে পা রাখলেন, সেদিন ইংরেজি চিরতরে হারাল তার ফোনেটিক চরিত্র। আমার দেখা ইউরোপে ইংরেজি এবং ফরাসি এই দুটি মাত্র ভাষা ফোনেটিক নয়,লোক ডেকে জানতে হয় এর উচ্চারণ কি হবে। ফরাসি আটটা অক্ষর দিয়ে লেখে chateaux, মুখে বলে শাতো। ইংরেজ লেখে garage তার উচ্চারণ শুনেছি গ্যারেজ, গারাজ, গারাশ। ইস্ট লন্ডনের ক্যাব ড্রাইভার এইচকে রাখে নিঃশব্দ ! কোনো দেশ বিজয় করে তার ভাষার ওপরে অস্ত্রোপচারের এহেন দৃষ্টান্ত বিরল শ্যাম এবং কুল ( পড়ুন ইংরেজ ও ফরাসি ) রাখতে গিয়ে যে কোন শব্দের প্রতিশব্দ সবচেয়ে বেশি আছে ইংরেজিতে। ইংরেজ আমাদের ওপরে তার ভাষা চাপিয়েছে কিন্তু হিন্দি বাংলা গ্রামারে হাত দেয় নি। ইউরোপে এর একমাত্র উদাহরণ নরওয়ে, যেমন নরওয়েজিয়ান বলে ঠিক কোন ভাষা নেই- তিনশো বছরের রাজত্বকালে ডেনিশরা তাঁদের মুখের বুলিকে সে দেশের বুলি বানিয়েছেন ( বুকমাল) ইবসেন তাতেই লিখেছেন নাটক। নু নরস্ক বলে একটা প্রতিবাদী ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার সম্মান দিয়ে সরকার মাত্র গোলযোগ বাড়িয়েছেন ! বুকমালে দেশের নাম Norge নু নরস্ক Noreg

    আপনি কিন্তু আরেকটা আলোচনার বিষয় খুললেন- সিউর শব্দটা বাংলায় অন্য অর্থ বহন করে,অস্ট্রেলিয়ানের প্লেট এবং কার্তিকের প্লেট অন্য বাসন কোসন ! কপিল দেব একবার বলেছিলেন সিডনিতে এক সাঙ্গাবিক তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, হ্যাভ ইউ কাম টু ডাই ? বিনীত জাঠ যুবক জবাবে বলেন, নো উই হ্যাভ কাম টু প্লে ক্রিকেট।

    এর ইউরোপীয় ভার্শন নিয়ে দারুণ আড্ডা দেওয়া যাবে। ধন্যবাদ !
     
  • হীরেন সিংহরায় | ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৪:৪৮741599
  • শ্রী অরিন

    ধন্যবাদ।
    ভারতীয় ইংরেজিতে শব্দ ব্যবহারের আলাদা তৌর তরিকা গড়ে উঠেছে। যেমন ইয়োর গুড নেম, স্মল স্মল থিংগস, আউট অফ স্টেশন, ইট ইজ ফর ইউ ওনলি, আই অ্যাম নট আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইউ।
    ইংরেজি ভাষা ভাষীর গুনতিতে আমেরিকার পরেই ভারতের স্থান, তৃতীয় স্থানে নাইজেরিয়া। দুনিয়াতে ভারতীয় ইংরেজি তার নিজের জায়গা করে নিয়েছে ; চেতন ভগতের নাম ইংল্যান্ড সুইডেন আমেরিকায় পরিচিত না হলে তাঁর কিছু আসে যায় না। এক কোটির বেশি বই বিক্রি হয়েছে ভারতে। অমিতাভ ঘোষ বিক্রম শেঠ অবশ্য ইংরেজিতে লিখে বিশ্বময় পরিচিত।
     
  • খগম | ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৫:০৬741600
  • "ইংরেজি ভাষা ভাষীর গুনতিতে আমেরিকার পরেই ভারতের স্থান, তৃতীয় স্থানে নাইজেরিয়া। দুনিয়াতে ভারতীয় ইংরেজি তার নিজের জায়গা করে নিয়েছে"
     
    বেড়ে লিখেছেন মশাই, প্রজনন ক্ষমতা যখন তুলনামূলক গুরুত্ব নির্ধারণ করে, তখন এমনমনে হয় বটে।
  • হীরেন সিংহরায় | ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৬:২৪741601
  • ঠিক বোঝা গেল না। প্রজনন ক্ষমতায় চিন কিছু কম নয়! নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা ২৪ কোটি, রাশিয়ার জনসংখ‍্যা ১৫ কোটি ব্রাজিলের ২২ ! ইংরেজি শিক্ষার প্রসার বিবেচ্য বিষয়, কেবল জনসংখ্যা নয়
  • Debanjan Banerjee | ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৮:১৭741602
  • যথারীতি অসাধারণ হলো হিরেনদা l অনেক অনেক অজানা তথ্য পেলাম l ইংরাজি ভাষা নিয়ে আমার নিজের একটা অভিজ্ঞতা l চাকরীজীবনে ফ্রেশার থাকবার সময়ে বা তার পরে বহুবার কর্পোরেটে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে আমি চাকরীটা আদৌ পাবো কিনা সেনিয়ে এই কথাটা বহুবার শুনেছি, "we will get back to you" যার মানে হলো আর এই চাকরীটা হবেনা অর্থাৎ বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বেনা কখনোই l পুনশ্চ : শাদেনফ্রয়ডে আর হিউবরিস এই কথা দুটা ভালো লেগেছে খুবই আমি এদের ব্যাবহার করবার একটা যুৎসই জায়গা খুঁজছি আমার খেরোর খাতা লেখা গুলোতে l এগুলোর ঠিক বাংলা কি হতে পারে একটু বলে দেবেন ? হিউবরিস এর সঙ্গে নেমেসিস্ বলে আরো একটা গ্রিক শব্দ এসেছে ইংরেজিতে l এদুটির মানে কি মোটামুটি একই ?
  • খগম | ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৯:২৩741603
  • "ঠিক বোঝা গেল না। প্রজনন ক্ষমতায় চিন কিছু কম নয়! নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা ২৪ কোটি, রাশিয়ার জনসংখ‍্যা ১৫ কোটি ব্রাজিলের ২২ ! ইংরেজি শিক্ষার প্রসার বিবেচ্য বিষয়, কেবল জনসংখ্যা নয়"
     
    একটা সহজ হিসেব।
     
    আপনার কথামত ইংরেজী শিক্ষার প্রসারই যদি ধরতে হয়, তাহলে জনসংখ‍্যার কত শতাংশ ইংরিজি বলতে পারে তাই দিয়ে বিচার করুন, দেখবেন United Kingdom এর ৯৮% মানুষ ইংরিজি বলে, তারপর আয়ারল‍্যাণ্ড ৯৭% এর কাছাকাছি, এরকম আরো কতগুলো দেশ আছে, আমেরিকায় ৯৫% লোক ইংরিজি বলে। নাইজেরিয়ায় ৬০ শতাংশ আর সেখানে ভারতে মেরেকেটে ২০ শতাংশ।
     
    আর তা যদি না ধরেন, আর বলেন মোট কজন ইংরিজি বলে তাই দিয়ে ইংরিজি বলার প্রসার মাপবেন, তাহলে ঐ কোন দেশের লোকের কত বাচ্চা পয়দা করার ক্ষমতা, তাই দিয়ে ইংরিজি শিক্ষার প্রসার মাপছেন।
     
    উইকিপিডিয়া দেখুন
     
  • হীরেন সিংহরায় | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৪:৩৮741608
  • ধন্যবাদ, দেবাঞ্জন

    ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করি।

    প্রথম রাউনডে স্কটল্যান্ডের ছিটকে যাওয়াতে ইংরেজের যে আনন্দ হলো তাকে বলি শাদেনফ্রয়ডে, অপরের দুর্ভাগ্যে অপার আনন্দ . আজ রাতে মেক্সিকোর কাছে ইংল্যান্ড হারলে ফ্রান্স ঠিক সেটি অনুভব করবে, শাদেন ( ক্ষতি ) ফ্রয়ডে ( আনন্দ)।

    হিউবরিস, নেমেসিস দুটোই গ্রিক শব্দ, ইংরেজিতে বহুল ব্যবহৃত, অর্থ আলাদা।

    হিউবরিস- অতি দর্প, আমি সব জানি। যেমন জার্মান কোচ নাগেলসমান বলেছিলেন তাঁর টিমের প্রস্তুতি প্রশ্নাতীত, ফল হবে আশাতীত।কিন্তু আমরা জানি, জার্মানি বিদায় নিয়েছে। জ্ঞানের, শক্তির অনাবশ্যক আস্ফালন।

    নেমেসিস- শেষ মুহূর্তের গোলে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে ঘোর কাটতেই পরের রাউনডে উঠে নরওয়ে দেখে তার পরবর্তী প্রতিপক্ষ ব্রাজিল করাল দন্ত বদন করে দাঁড়িয়ে আছে ! বাঘের দেখা মেলে যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। ভবিতব্য। হয় ভগবান, কপালে কি এটাই ছিল !

    We will get back to you মানে যেটা বলেছেন, ঠিক তাই ; চাকরিটা হবে না। আমরা ব্যঙ্গার্থে বলে থাকি যখন কেউ বলে Don’t call us. We will call you তার মানে কাজটা হবার নয়।
     
  • Dolon | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৫:২৭741611
  • NHS এ কাজ করার করার সূত্রে প্রথম দিকে। নার্স রা রোগী দের বলতেন "do you want to spend a penny?" . আসল ব্যাপার টা হলো গয়নাইকোলোজি examination এর bladder খালি করে আসা . অনেক বার ভেবেছি হিসি করার সাথে সাথে পেনি কেন খরচ করতে বলছে ? মাথামুন্ড বুঝিনি . জিজ্জ্গেস করতেও পারিনি .
    তারপর ছেলেরা স্কুল থেকে একদিন নিয়ে এলো মজাকরে ইতিহাস পড়ানোর বই horrible হিস্ট্রি series.
    পড়ে জানলাম রানী ভিক্টোরিয়া এর বিজ্ঞান পিপাসু পতিদেব রাজকুমার আলবার্ট এক সায়েন্স এক্সেসিবিসন কোরেছিলেন হাইড পার্কে। সেখানে প্রথম উদ্ভোধন হয় " flushing water closet" কমোডের। তার আগে বাড়ি বাড়ি ছিল "piss pot", রাতের কম্মো পরের দিন সকালে বাইরে ফেলে আসা।
    লোকেরা এক্সজিবিশন দেখতে এসে এক পেনি খরচ করে সেই ফ্লাশ দেওয়া হিশিখানাকে ব্যবহার করে আনন্দ পেতো.
    বোঝো কান্ড!
  • হীরেন সিংহরায় | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৫:৪০741612
  • ঠিক! আমিও এ দেশে এসে ঐ spending a penny শুনে অবাক হয়েছি, বিশেষত যখন এসেছি তখন পেনি আর চালু কারেন্সি অবধি নয় ! পরে এটাই নবরূপে দেখলাম- কোথায় গেছিলেন? উত্তর to check the plumbing ! যেখান থেকে জল নিষ্ক্রমণ হয়! টয়লেট পরিব্রাজকের রিপোর্ট।
  • Dolon | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৫:৪১741613
  • অবশ্য যে নার্স রা বলতো তারাও কিন্ত আসল ব্যাপারটা জানে না। একটু পরেরদিকে সিনিয়ার হোয়ে ভাষার কারিকুরি গুলো একটু সরগোড় হয়ে যাবার পর যখন নার্স দের আড্ডায় যোগ দিতে থাকলাম তখন জিগ্গেস করলে তারা ও বলতেপারেনি, দু একজন ​​​​​​​ব্যতিক্রম ​​​​​​​ছিল .
    আর ​​​​​​​একটা ​​​​​​​হলো " I will sort you out", সবাই ​​​​​​​সবাইকে ​​​​​​​উদ্ধার ​​​​​​​করতে ​​​​​​​ব্যস্ত। ​​​​​​​আসলে ​​​​​​​বাগাড়ম্বর, কেউই ​​​​​​​বেশিরভাগ সময় ​​​​​​​কিছু ​​​​​​​করতে ​​​​​​​চায় না বা পারেনা। কিন্তু ​​​​​​​বলতে ​​​​​​​ছাড়বে ​​​​​​​না। ​​​​​​​যারা ​​​​​​​শুনছে ​​​​​​​তারাও ​​​​​​​জানে ​​​​​​​তাড়াতাড়ি ​​​​​​​কিছু ​​​​​​​হবার ​​​​​​​নয়, কিন্তু ​​​​​​​শুনে ​​​​​​​শান্তি ​​​​​​​আরকি। ​​​​​​​
     
  • Dolon | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৬:০২741614
  • আর একটা মনে পড়েগেলো। এটা আমার নিজের লজ্জার ইতিহাস.
    তখন জুনিয়ার ​​​​​​​ডাক্তার, রাতে Consultant ke ফোন করে কি কি করেছি তার ফিরিস্তি দিলাম। কনসালটেন্ট বললেন " ব্রিলিয়ান্ট জব " যার আসলমানে হলো " ঠিকাছে, মোটামুটি চলবে ", এরা সবই একটু সুপারলেটিভ e বলে সেটা তখনো জানিনে।
    সে যাই হোক, তারপর তিনি যোগ করলেন " I would add a CT scan to it". আমি তো মহাখুশি, সব তো করেই ছি, consultant সকালেএসে শুধুএকটা CT স্ক্যান অ্যাড করবেন।
    সকালে ওয়ার্ড রাউন্ড এ এসে তিনি CT স্ক্যান রেজাল্ট দেখতে চান। আমার তখন একগাল মাচ্ছি .
    থতোমতো hoye জিগানু " তবেযে তুমি বললে।....ইত্যাদি ".
    তা তিনি সবারসামনে "অকমান " করেননি। পরে আলাদা ডেকে বোঝান . তখন বুঝিনু যে বিলিতে বস যখন বলেন " I would" তার মানে হলো " you should".
  • Ranjan Roy | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৬:১১741615
  • দাদা
    এই জন্মে আর শুদ্ধ উচ্চারণ করে ইংরেজি বলা হয়ে উঠল না l
    কিন্তু sequence of tense, quasi passive verb, cognate object, gerund, verbal noun --- এসব নিয়ে কেউ ভুল বের করে দেখাক দিकि !
     
    কেউ myself Mr. So and so বললে বিনীত ভাবে বলি-- myself হল reflexive pronoun. আদৌ personal pronoun এর জায়গা নিয়ে বাক্যের সাবজেক্ট হতে পারে না l
    সেই বরাহনগর স্কুল l
     
    কিন্তু subtitles ছাড়া কোন সিনেমা দেখতে পারি না আজও l বৌ মেয়ে হাসে, হাসুক গে l
    ওরা কি জানে causative verb ? Instead of আর in lieu of কখন ব্যবহার করা হয়?
     
    কিন্তু বুকের মধ্যে চিন চিন করে---- নামাজ আদা হইলো না আমার !!
  • হীরেন সিংহরায় | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৬:৪২741616
  • শ্রীমতী দোলন

    এই আরেকটা খেই ধরালেন ! আজকাল এ দেশের ট্রেনে টিউবে শোনা যায় এবং শুনে অসম্ভব বিরক্তি লাগে - বেওয়ারিশ কিছু দেখলে আমাদের জানাবেন, আমরা তার হল করব See it, say it, sorted ! এই সর্ট করার ভেতরে যে আরেক ছল আছে বুঝতে সময় লেগেছে, We will sort it out মানে এর একটা ব্যবস্থা করা যাবে কিন্তু I will sort him out মানে ব্যাটাকে দেখে নেবো ! লাল বাতি জ্বলে ওঠে যখন বস বলেন, You sort it out !

    I would মানে ইউ শুড এই চক্করে আমিও পড়েছি! বর্তমানে তার অন্য রূপ বেশি চালু দেখি - If I were you / In your place I would এগুলো বোঝা যায় কিন্তু বস যখন বলেন How are we doing তার মানে আমরা মিলিতভাবে নয়, এই আমি কোন ঘোড়ার ঘাসটা কাটছি ? একে গৌরবার্থে বহু বচন ভাববার ভুল করেছি কখনো।
     
  • হীরেন সিংহরায় | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৬:৪৯741617
  • প্রিয় ভ্রাতঃ রঞ্জন

    হক কথা টুলো পণ্ডিত, ধুতি পরা দিনেশ মজুমদার সার বরানগরের দশ টাকা মাসিক বেতনের ইশকুলে যে গ্রামার শিখিয়েছেন তার জোরে করে খেলাম। প্রভূত অর্থ অপব্যয়ে পাবলিক স্কুলে পড়া ছেলে মেয়েরা cognate object, gerundial infinitive ছেড়ে দাও এই সামান্য principal clause subordinate clause বোঝে না। বলে এটা তাদের ভাষা, মেরি মরজি। হলফ করে বলতে পারি তুমি আমি লন্ডন টাইমসের প্রথম পাতায় প্রত্যহ পাঁচটা ভুল দেখাতে পারি।

    কিন্তু ঐ উচ্চারণ ! ইসিলিয়ে মার খা গয়া হিন্দুস্তান।
     
  • অরিন | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৬:৫৬741618
  • Sort কথার যে কত বৈচিত্র। ঐরকম আরেকটা হাড় হিম করা কথা হল, "We need to talk", মানে যাকে বলা হচ্ছে তার সাংঘাতিক গোলমেলে কিছু হয়েছে।
  • Dolon | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৭:১১741619
  • ঠিক হীরেনবাবু,
    Sort এর নানা ​​​​​​​চক্কর ​​​​​​​আছে।
    Allergy আছে ​​​​​​​কিনা এর ​​​​​​​উত্তর ​​​​​​​এক ​​​​​​​গতে ​​​​​​​বাঁধা " not that i know off"
    কেউ yes কি No সহজ ​​​​​​​ভাবে ​​​​​​​বলবে ​​​​​​​না। ​​​​​​​আরে ​​​​​​​তোমার এলার্জি ​​​​​​​এর ​​​​​​​উত্তর ​​​​​​​তুমি ​​​​​​​জানবে ​​​​​​​না ​​​​​​​তো ki পাশের ​​​​​​​পাড়ার ​​​​​​​বদ্যিবুড়ি জানবে !
    আজ ​​​​​​​কাজ ​​​​​​​এসে ​​​​​​​শুনছি ​​​​​​​সবাই ​​​​​​​কাঁদুনি ​​​​​​​শুরু ​​​​​​​করে ​​​​​​​দিয়েছে ​​​​​​​ইংলান্ড ​​​​​​​কি ​​​​​​​করে ​​​​​​​বিশাল ​​​​​​​উঁচু ​​​​​​​স্টেডিয়াম ​​​​​​​এ ​​​​​​​কম ​​​​​​​অক্সিজেন ​​​​​​​এ ​​​​​​​বল ​​​​​​​পেটাবে ​​​​​​​কাল। ​​​​​​​বদমাইশ ​​​​​​​মেহিকান ​​​​​​​রা ​​​​​​​জোর ​​​​​​​করে ভৌগোলিক সুবিধা নিয়ে ​​​​​​​এনাদের ​​​​​​​ছেলে ​​​​​​​গুলো ke হারিয়ে ​​​​​​​দিলো ​​​​​​​বলে। সেই ​​​​​​​১৯৬৬ ​​​​​​​এর ​​​​​​​গন্ধ ​​​​​​​আজও চলেছে ​​​​​​​।...যাই ​​​​​​​হোক ​​​​​​​জিতলে ​​​​​​​ভালো, নাহলে ​​​​​​​সোমবার ​​​​​​​অর্ধেক ​​​​​​​লোকজন ​​​​​​​শোকগ্রস্থ ​​​​​​​হয়ে ​​​​​​​অফ ​​​​​​​সিক ​​​​​​​করবে
  • হীরেন সিংহরায় | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৭:২৬741620
  • শ্রীমতী দ

    আপনি নির্ঘাত জানেন কিন্তু আম জনতার সুবিধার্থে আপনার পুরনো ব্যাঙ্কের বিষয়ে একটি ট্রিভিয়া ছড়ানোর লোভ সম্বরণ করতে পারছি না।

    Algemene Bank Nederland ও Amsterdam Rotterdam Bank মিলে যখন নতুন ব্যাঙ্ক গঠিত হল তার নতুন নাম কি হতে পারে এই নিয়ে ভোটাভুটি হয়েছিল। সেই সময়ে রিস্কের কর্তা, পরে সিনডিকেশনের হেড Ronald de Leew ( আপনি নাম শুনে থাকবেন, কত যে গল্প বলার আছে ) ABN AMRO এই চার অক্ষর মিলিয়ে একজন প্রস্তাব করেন নাম হোক ROB A MAN .
     
  • | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৭:২৯741621
  • হা হা বেশ হবে। ইংল্যান্ডের ফুটবল টিমটাকে দুচক্ষে দেখতে পারি না। সাপোর্টারগুলো অসভ্য গুন্ডা দেশে দেশে গুন্ডামি করে বেড়ায়।
  • | ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৭:৩৯741623
  • ROB A Man শুনেছি। laugh
    আমি মাত্র ৯ মাস ছিলাম EDS এ। তারপরেই টেলেকম ডোমেনে শিফট করে বাকী জীবন ওইতেই কেটে গেল।
     
    অস্ট্রেলিয়ানদের মাইট'এ আমি থমকেছিলাম। কলেজবেলায় আমার হেব্বি বাগানের শখ ছিল। ১৭ রকমের গোলাপ আরো নানা ফুল। তা মাইট বলতে আমি জানি রেড মাইট, স্পাইডার মাইট, রাসেট মাইট ইত্যাদি দৃশ্য ও অদৃশ্য গোলাপের শত্রুদের। অস্ট্রেলিতান মাইট এদিকে পরম বন্ধু।
     
    নাম নিয়ে আমার যা দুর্গতি হয়েছে চিরকাল। অবশ্য বাঙালিরাই আমার নামটা উচ্চারণ করতে পারে না। বেশীরভাগ মানুষ য় কে ম'এর আগে নিয়ে আসে।
  • Ranjan Roy | ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৫:২৪741631
  • Hiren da
    60 এর দশকের শেষে সিপিএম ও সিপিআই ভাগাভাগি হলে ছাত্র ও যুব সংগঠনে সিপিএম নেতা ছিলেন দীনেশ মজুমদার l
    উনি সাদা শার্ট ও ধুতি পরতেন এবং বরাহনগর er কোন স্কুলে হেড মাস্টার ছিলেন l
     
    উনিই কি আপনার মাস্টার মশাই? By any chance?
  • হীরেন সিংহরায় | ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৮:৩৪741633
  • না ভাই, রঞ্জন। তিনি অন্য দিনেশ মজুমদার, ঢাকার বরানগরের সঙ্গে সম্পর্কিত নন, অত্যন্ত অল্প বয়েসে (৪৩) চলে গেছেন। আমার সার কুমিল্লা জিলার এবং রাজনীতি থেকে অনেক দূরের এক প্রনম্য মানুষ। বাকিটা মিলে যায়, ধুতি এবং সাদা শার্ট। সঙ্গে বেত, কঠোর শাসন, কখনো ‘ইউ আর ডিটেএইনড মাই বয়েজ ‘ ( চোখ বন্ধ করলে এখনো যেন শুনতে পাই )। সিম্পল লিভিং হাই থিঙ্কিং।
     
  • সমরেশ মুখার্জী | ০৬ জুলাই ২০২৬ ২৩:৪০741641
  • আপনার লেখাতেই পড়েছি, ফরাসি‌রা ফোনোটিক উচ্চারণের তেরোটা বাজিয়ে - অধিকাংশ শব্দে একগাদা অক্ষর ঢুকিয়ে - তার অধিকাংশই আবার উচ্চারণ না করে ভাবসংক্ষেপে সিদ্ধহস্ত। যেমন
     
    Rendezvous - রাঁদেভু,
    Mitterrand - মিতেরোঁ
    Versailles - ভার্সাই
    Champagne - শ্যাম্পেন
    ইত্যাদি
     
    আপনার এই লেখায় দেখলাম প্রতিবেশী ব্রিটিশ‌রা‌ও কম যায় না। বরং উল্টোদিশায় বিশারদ। তাই ফরাসি‌রা যেমন শব্দের মধ্যে এন্তার অযথা অক্ষর ঢুকিয়ে উচ্চারণের যাতা করেছে, এনারা আবার একটা সিম্পল YES বলতে - সাড়ে তিন কিমি লম্বা সুপার বাসুকি গুডস ট্রেনের মতো - “ইফ ইউ উইল বি সো কাইন্ড” গোছের ছটি শব্দের ভাব সম্প্রসারণে দক্ষ।
     
    বলিহারি! crying
     
     
  • MANJIRA | ০৭ জুলাই ২০২৬ ২০:৫৫741648


  • সম্বুদ্ধ ও সহকর্মীদের কনফারেন্স কল দ: পূ: এশিয়ার একটি দেশের একটি ক্লায়েণ্ট দলের সঙ্গে।

    ক্লায়েণ্টের চাহিদা: কোনও একটি এঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইনের কাজ তাদেরকে তিন দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। ওদিকে এ পক্ষের মত-- যে কাজটা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে হলে অন্তত সাত দিন সময় দরকার। এই আলাপ আলোচনার মধ্যেই এ পক্ষের প্রজেক্ট ম্যানেজার (বয়স্ক ভদ্রলোক) ক্লায়েণ্টদের বোঝানোর জন্য বলে বসলেন, "You see, at the end of the day, we want to deliver a good job."
    অপর পক্ষে হঠাৎ সম্পূর্ণ নীরবতা। কিছুটা খুকখুক হাসির সাথে নিজেদের মধ্যে কথোপকথন...... তার পরেই, ও পক্ষের টীম লীডারের গলা ভেসে এল....."No, No, we dont want end of today! We want it within three days, so take your time!"

    এবার এ তরফে সম্পূর্ণ নীরবতার পালা।



    আর এক বার I এবারের মীটিং মুখোমুখি--- ঐ একই দেশের সঙ্গে।

    আলোচনা চলাকালীন, কোনও একটি পয়েন্টে জোর দেওয়ার জন্য এ পক্ষের এক এঞ্জিনীয়ার তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন "So the bottomline is....." বাক্যবন্ধটি দিয়ে। মীটিং এর শুরুতেই সবাইকে এক পাতার একটি মীটিং এজেন্ডা দেওয়া হয়েছিল। এই ভদ্রলোকের কথা শেষ হওয়া মাত্র দেখা গেল অন্য তরফের প্রতিনিধিরা কাগজটি তুলে ধরে অত্যন্ত খুঁটিয়ে নীচের লাইনগুলি পড়ার চেষ্টা করছেন... তাঁদের মুখে চোখে যুগপৎ বিরক্তি ও বিস্ময়ের অভিব্যক্তি।
     
  • হীরেন সিংহরায় | ০৮ জুলাই ২০২৬ ০১:৪৭741651
  • একাকি কথকের নহে এ বাচন এটি প্রমাণ করে আশাতীত ভাবে আসর জমিয়ে তোলার জন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। এগিয়ে যাবার ক্লু পেলাম শ্রীমতী দর কাছে ( অন্য ভাষীদের উচ্চারণ শিউর ) এবং শ্রীমতী দোলনের কাছে বাক্যাংশের অন্য অর্থ ( স্পেনড এ পেনি), নট দ্যাট আই নো অফ, এমনি যে কতো আছে। এ নিয়ে লেখা যাবে, আপনারা যোগ দিতে থাকুন।

    একেবারে চমকে দেওয়ার জন্য সমরেশকে ধন্যবাদ ! আটটা শব্দ লিখে ফরাসি তিনটে উচ্চারণ করে বলে আমরা তাদের ঠ্যাং ধরে টানি কিন্তু ছটি শব্দ খরচা করে ইংরেজ যে একটা শব্দ জানাতে চায় ( ইফ ইউ উইল বি সো কাইন্ড মানে ইয়েস, হ্যাঁ ), এটা আগে কখনো ভাবি নি সমরেশ ! সাবাস ! Notwithstanding দিয়ে শুরু করে
    তিনবার হ্যাভিং রিগারড টু, ইন কনসিডারেশন অফ দি ফোরগোয়িং দিয়ে একটা গোটা প্যারাগ্রাফ লিখে কিছুই না বলা একমাত্র ইংরেজের সাজে। তারাপদদার লাইন চুরি করে বলতেই হয়

    দাঁতাল শুয়োর নিয়ে খেলা করা একমাত্র তোমাকে, তোমাকেই মানায়
    বন্ধঘরে চকচকে আয়নার সামনে পরিতৃপ্ত তারাপদ রায় !

    মঞ্জিরা, এ দেশে আসার আগে অবধি ‘ at the end of the day ‘ শুনি নি, প্রথমে মনে হয়েছে এ কি দিনের শেষে ঘুমের দেশে ? আশ্চর্যের বিষয় অনেক ইংরেজি বাক্যাংশের মতন এটি কিছু ইয়োরোপীয় ভাষায় ঢুকে পড়েছে, এমন কি জার্মান বন্ধুদের এবং টি ভি তে আকছার বলতে শুনি ‘আম এন্ডে ডেস টাগেস’ – একই কথা। Bottom line প্রথম পেলাম চল্লিশ বছরে আগে সিটি ব্যাঙ্কে এসে, আক্ষরিক অর্থে হিসেব নিকেশের শেষ কথা। কিন্তু কি দুর্নিবার বেগে ট্রেনে বাসে, বসার ঘরে সেটা ঢুকে পড়েছে ! এর সঙ্গে অবিশ্যি small print খুব চলছে, যা এসেছে ইন্সিউরেন্স পলিসির অ্যানেকশচার থেকে।

    সকলকে আবার ধন্যবাদ, দলে দলে যোগ দিন। ফলস্বরূপ একটি ‘আধুনিক ইংরেজি ভাষা ও বাক্যাংশ পরিচিতি ‘ গোছের একটি হ্যান্ডবুক রচিত হতে পারে !


     
  • হীরেন সিংহরায় | ০৮ জুলাই ২০২৬ ০৩:৩২741652
  • সরি বলতে চেয়েছিলাম ফরাসি লেখে আটটা অক্ষর, উচ্চারণ করে তিনটের।
  • অরিন | ০৮ জুলাই ২০২৬ ০৪:২৯741653
  • "সকলকে আবার ধন্যবাদ, দলে দলে যোগ দিন"
    হীরেনবাবু আপনার যোগ দেবার উদার আহ্বান দেখে মনে হল, কয়েকটি "দোখনো" (মানে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের NZ) ইনজিরির কিছু নমুনা পেশ করি,
    - এখানে যেমন সায়েব ভাল লাগলে বলে "sweet as", এর সঙ্গে মিষ্টির বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।
    - পরেরটা শুধু NZ নয়, তামাম ইংরেজি কইয়ে দুনিয়ায় বিস্তর চলে, "dressed to the nines", মানে আমরা চলতি বাংলায় যাকে বলি "মাঞ্জা দিয়ে পোষাক পরা" (বুঝে নিন) | তার উৎস মিলিটারির 99th Wiltshire Regiment থেকে যাদের তরবারী জগৎবিখ্যাত |
    - আরেকটি, "Yeah Nah", এটি ক্লাসিক অস্ট্রেলিয়/কিউয়ি স্ল্যাং, এই বছর সম্ভবত OED তে প্রবেশাধিকার পেয়েছে, মানে নিমরাজির না
    - "She'll be right", আমি প্রথমবার শুনে ভেবেছিলাম, কোন ভদ্রমহিলার কথা বলা হচ্ছে, পরে বুঝলাম, "সব ঠিক হয়ে যাবে" অর্থে বলা হচ্ছে |
     
    কিউয়ির দেশে প্রথম দিন বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছি, এক সায়েব হন্তদন্ত হয়ে ফুটপাথ দিয়ে আসছেন, আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন, "ইণ্ডিয়ান থাই খাবে"? আমরা তো অবাক, সায়েব বলে কি? প্রথম দিনই অচেনা লোকের এ কি আতিথেয়তা রে বাবা, শ্যাম দেশের খাবার খাওয়াতে চায়? তা তো নয়, বুঝলাম সায়েব জানতে চাইছে কোথায় "Indian Take Away" (Take == থাইক, সায়েব T কে থ দিয়ে উচ্চারণ করে, তাই থাই, বাকীটা মিলেমিশে আমাদের কানে "থাই খাবে" হয়েছে) |
    "তোমার ভাষা বোঝার আশা দিয়েছি জলাঞ্জলি", গুরুবাক্য কী আর বৃথা?
     
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন