এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • অকচলিত

    h
    অন্যান্য | ১২ অক্টোবর ২০০৯ | ১৯৭৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • h | ১২ অক্টোবর ২০০৯ ১৬:২১419584
  • অকচলিত - এক
    পৌষ মেলায় বেড়াতে এসছি। মায়ের হাত ধরে। বয়স অনূর্ধ পাঁচ। একজন দাদু সে¾ট্রাল আপিসের নতুন বাড়ির সামনে প্রতি বছর বেহালায় রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজাতেন। নোটেশন শিট রাখার স্ট্যান্ডে ঝোলানো থলিতে পয়সা পড়তো। তো সে সময়ে, আমার এসরাজ অভ্যস্ত কানে, বেহালা -ই তখন বিকল্প। গান ছাড়া একটাই যন্ত্রে রবীন্দ্র সঙ্গীত তখন বেশি শোনা যেত না। গ্রামোফোনশোবিত সুখী গৃহকোণ নিয়ে কাব্য করে গেছেন বাঙালী কবি। তো বালিগঞ্জের বাইরে গ্রামোফোন-ই বা কটা বাড়িতে তখন ছিল। অধ্যক্ষ্য মশায়ের বাড়িতে তখনো পিয়ানো শোনা হয় নি। অতএব দাদুর বেয়ালা, আর আচার বা বন্দুক ফাটানোর বাজেট থেকে বিবেকের চাপে আলোড়িত হয়ে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের দশ বিশ পয়সা, দাদুর ফাঁকা ফাঁকা রোগা রোগা ময়লা মত ঝোলায়। তো সেবার দাঁড়িয়ে কিছু একটা শুনছি, দুপুরের দিকে, হয় ঐ 'শীতের বনে কোন সে কঠিন' অথবা 'ভালবাসি ভালবাসি' ঠিক মনে নেই, এমন সময়, হঠাৎ এক এস ইউ সি আই মাসি মাকে এসে ধরেছেন, কৌটয় কিচু দিন। তখন এমার্জেন্সী হবে হবে, বোলপুর সিউড়ি পানাগড় এলাকায় বিল্পব স্তিমিত হলেও, নির্বাপিত নয়, তাছাড়া সংসদীয় লড়াই-ও কড়া ধাতের। বিভিন্ন কাকু জেঠুরা আসছেন বাড়িতে, প্রায় যখন তখন, সাংঘাতিক চেঁচামেচি হচ্ছে বাড়িতে প্রায়-ই। তার মধ্যে এস ইউ সি আই কাকুরাও ছিলেন বোধ হয় কেউ কেউ। নাও থাকতে পারেন, মনে নেই। প্রচুর চেচামেচির পরেও, কিন্তু যাওয়ার সময় বা আসার পরে, সব ডিনোমিনেশনের কাকু পিসি মাসি রাই, একবার আমার চুলটা ঝাঁকিয়ে দিতে, বা একবার একটু নীচু হয়ে খবর নিতে ভুলছেন না, আমি জেগে থাকলে অন্তত: কখনো ইগনোর্ড হচ্ছি না। অতএব, মা-ও সকলের সঙ্গেই পরিচিত। কিন্তু যে দিদি/মাসি টাকা চাইছে, কৌটো ঝাঁকিয়ে, সে অপরিচিত। শুধু চাঁদা তুলবে, বইয়ের স্টল চালাবে বলেই হয়তো এসেছে মেলায়, অন্য কোন জায়গা থেকে।

    তো তাকে মা কাটাবেন কী করে। সম্ভবত: পয়সাও নেই, আর জেলখাটা সিটু দাদাদের বোন আর সোশাল সাইন্টিস্ট পাঠকের বৌ হিসেবে কাটাতে হয়তো হবেই। মেয়েদের বিশেষত: নতুন মায়েদের আলাদা রাজনীতি, তহ্‌কনো আসেনি, প্যারিস থেকে যাতায়াত তখনো সহজ নয়। তো মা বল্লেন, আসলে হাজবান্ড এখনো আসেন নি, অপেক্ষা করছি। পরিবার ও পারিবারিক অর্থনীতি কে বামেরা বেশি নাড়ান নি কোনদিন। এই অব্যর্থ উত্তরে, দিদি-মাসি বিদেয় হলেন।

    আমারো শেখা হল, শীতকালে বাবার নাম একটু বদলে যায়, হয়ে ওঠে, হাজব্যান্ড দাশগুপ্ত। বিশেষত: পেছনে বেহালা যদি বাজে। আইডেন্টিটি র প্রশ্ন যে অতি -স্পেসিফিক, এই শিক্ষার প্রথম পাঠ-ও ঐ সেদিন। দাদু বাজাচ্ছিলেন, গুল অ্যালাউ করলে, তোমারি নাম বলবো, বলবো নানা ছলে।

    চলবে?
  • sumeru | ১২ অক্টোবর ২০০৯ ১৬:৩৪419595
  • চুপচাপ লিখে যাও।
  • dd | ১২ অক্টোবর ২০০৯ ১৬:৩৭419606
  • হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ। চলবে চলবে।

    আচ্ছা হেথায়,এই চত্বরে এসিউসি কেউ আছেন ? ঐ দলের দু তিনজন নীচুতলার কর্মী আমার ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। এখন আর যোগাযোগ নেই।

    রাজনীতি ও প্রায় আনন্দমার্গের মতন একটা কাল্ট। আমার কাছে বিস্ময়কর লাগতো তখন। এখনো। প্রায় ১০০% একনিষ্ঠ কর্মীদের দল। কিন্তু টিঁকে আছে,সে ও তো প্রায় পঞ্চাশ বছর হয়ে গ্যালো।

    র বাবু, আপুনি কিছু জানো ?
  • Arpan | ১২ অক্টোবর ২০০৯ ১৬:৩৯419617
  • যদুপুরে আমার এক মাস্টারমোশায় আছেন। যোগাযোগ লাগবে?
  • dd | ১২ অক্টোবর ২০০৯ ১৬:৪৫419628
  • ন্যা:। অতো ধক নাই, অন্য কেউ লিখলে ভাল্লগ তো। বরম হনুর ল্যাখা আর কয়েক প্রস্থ হয়ে যাক।
  • rokeyaa | ১২ অক্টোবর ২০০৯ ১৬:৫৯419639
  • অপ্পনদার কি টুকুন স্যারের সাথে যোগাযোগ আছে?
  • Arpan | ১২ অক্টোবর ২০০৯ ১৭:১৪419650
  • একআধবার দেখা হয়েছিল। মেল-টেলে যোগাযোগ নেই।
  • d | ১২ অক্টোবর ২০০৯ ২০:৪৪419658
  • আবার জিগায়?! চালাও চালাও।

    তুমি মাইরী টই খুলে তারপর কেটে পড়ো, শেষ করো না। আমি এরপরে একটা নতুন টই খুলে তোমার খোলা মরা-টইয়ের লিস্টি করে রাখব।
  • I | ১২ অক্টোবর ২০০৯ ২২:০৬419659
  • ঐ "গুল অ্যালাউ করলে'- টা ব্যাপ্পক।
  • saikat | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১০:৫১419585
  • কিন্তু জানা কথা যে হনু এ লেখা লিখবে না, কারণ এতে 'বিতর্কের' জায়গা নেই। :-)
  • h | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১০:৫৪419586
  • বহুৎ ইয়ে। আমাকে প্রকারান্তরে ঝগড়ুটে বললো :-))))) কুচুটে বলেনি, মোটা বলে। ডিসপ্রোপোরশনেট শোনাতো। সাইজ ডাজ ম্যাটার। হাহাহাহাহাহাহাহা :-)))
  • tkn | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১২:০০419587
  • এদিকে, লেখাটা আটকে গেল...
  • h | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১৫:৫১419588
  • অকচলিত -২

    বহুদিন আগের কোন এক বছরের সেপ্ট বা অক্ট। লে পারী তে হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। নিজেকে নীরদ মজুমবার বা পরিতোষ সেন মনে হচ্ছে। কখনো কখনো মনে হচ্ছে আহা আমি যেন সেই নেরুদা যাদের ফ্রাংকোর অত্যাচার থেকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন তাদের কেউ বা কখনো নিজেকে স্ট্রেট ঐতিহাসিক মার্ক ব্লখ এর ছাত্র বলে মনে হচ্ছে, বা ধরুন সাœÑর উপন্যাসের কম্যুনিস্টি কেউ, যেন এলুয়ার সম্পাদিত লে ইউমানিতে বিক্রি করতে বেরিয়েছি। আবার মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে, আমি সেই লে মিজারেবল এর ব্যারিকেড গুলোর কেউ একটা, যে নায়িকাকে গোপনে ভালোবাসবে যে যেকোনো মুহুর্তেই দেশ কাল পাত্রর বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে, হঠাৎ হয়ে যাবে, লুত্রেকের ছবির লম্পট মদ্যপ গুলোর কেউ একটা, যাদের বগলে সবসময়েই, কোন না কোন টুপিতে ঝকমারী পালক গোজা সুন্দরী।

    এগুলোর কোনটাই না মনে হওয়ার কোন কারণ নেই, ফ্যাক ফ্যাক করার কিছু হয় নি, তখন আমি সিরিয়াসলি রোগা ছিলাম। আমার বৌ, যে বেচারি, ১৯৯০ এর দশকে দিন সাতেক আমারে ভালো দেখতে বলে মনে করেছিল, তখন আমি মেনলি অশোকের পানের দোকানের সামনে, বা বিভিন্ন কালচারাল সেন্টার, যথা গোর্কি সদন তথা মোক্ষ ম্যুলর
    ভবন ইত্যাদির সামনে দাঁড়িয়ে সাইড প্রোফাইল দিতুম। থোবড়ার অধিকাংশ তাই নন্দিনীর রাজা ছিল। বাকিটা ফোনের গলা। তো সেই সাত দিনের মধ্যেই
    ইতিহাস এত বৈপ্লবিক গতিতে এগিয়ে যায়, যে বলতে নেই, দুজনেই বুঝতে শুরু করি, প্রজাপতি জিনিসটা দেখা আর বওআ ঠিক একই রকম হাল্কা না। তো আমার বৌ তদ্দিনে অলরেডি অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও অদৃষ্ট, কপাল, আনন্দময়ী মা এসব প্রায় প্রত্যেকটাই মেনে নিয়েছে, অথচ বয়স বেশি বলে যখন তখন স্মরণীয় বাবাদের ডাকতে পারছে না। তো যাক সে কথা। মোদ্দা হল, আমার বৌ তখনো আমাকে এখনকার তুলোনায় অনেক বেশি সুন্দর দেখতে মনে করতো। রিলেটিভিটি, হা: কি কল করেচে কোম্পানী।

    তাছাড়া প্রথম প্রথম প্যারিসে গেলে ওরকম একটু হয়। সবে রদাঁ মিউজিয়াম দেখে বোমকে আছি, এমন সময়ে লুভে র স্টপ এসে গেল। দু দিন ধরে সে চঙ্কÄরে ঘোরে খেয়ে আছি, এমন সময় দেখলাম, মিউজিও দি অর্সি।
    সেখানে সেদিন বড় হল ঘরটাতে ঢুকে কয়েক পিস অ্যান্টিকোয়ারিয়ান মুর্তি ছিল, আর শিল্পিদের ঘরে ঢুকে প্রথম ছবিটা লুত্রেকের। ঝুম বরাবর গানটা মনে পড়ছে। অমিতাভের মাথার পালক মুকুট টা? ঐ স্টাইলের
    একটা টুপি ওয়ালা মহিলার ছবি আছে মনে পড়ছে? সেই ব্রাউন পেপারের উপরে আঁকা অসা ছবি। বহুদিন আগে রুপা থেকে বার করা মপাসাঁ দাদুর ছোটো গল্প কালেকশনের মলাটে লুত্রেকের একটা ছবি ছিল,
    নাম অবভিয়াসলি ভুলে গেছি, সেই ছবিটও দেখলাম। নি:শ্বাস নিতে পারছিনা। বৌ একটু অবাক হয়েছে, এ মালের আবার আর্টে কবে ইয়ে হল। সারাজীবন তো নন্দনের বাইরে পত্রিকা পড়ে নি, বিচ্ছিরি সিপিএম, তার আবার এত শত ছবি টবি কবে হল। তো লিটেরালি ওভারহেল্‌ম্‌ড অবস্থায় বেরিয়েছি রাস্তায়, এইবার লেফট ব্যাংকের সব মিথিকাল জায়্‌গা গুলোয় যাবো, সোর্বোন ক্যাম্পাস দেখবো, ইত্যাদি।
    এত খুশি হয়েছি, যে বার খেয়ে বউকে শ খানেক ফ্রাঁ খচ্চা করে গোটা কতক পোস্টার কিনে দিয়েচি, আবার নেকু করে জিজ্ঞেস করেচি, স্যান্ডুইচ খাবে? বউ অবভিয়াসলি আর নিতে পারে নি, বলেছে, এইখানে একেকটা মিনিমাম ২৫ ফ্রাঁ দাম, ইয়ার্কি?
  • h | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১৫:৫৭419589
  • যাই হোক, তো বেরিয়েছি। নদীতে একটা টুরিস্ট বোটের ছাদে কতগুলো ফুট ফুটে বাচ্চা হাত নাড়লো, এক বিশালাকায়, কালো লোক, স্যাক্স বাজাচ্ছিল, অনেক্‌ক্ষণ শুনলাম, তার পরে কী মনে হল, একটা পাঁচ পাউন্ডের নোট ছিল মানি ব্যাগে দিয়ে দিলাম, সে মাথা নাড়লো মৃদু, মনে মনে হেবি পুলক, সে সময়ে আমার পেট থিয়োরীর কাছাকাছি আবার আসছি, আফ্রিকার জ্যাজে সুর গুলো মেনলি স্মৃতি নির্ভর, আমেরিকার জ্যাজে বর্তমান-ই শেষ কথা, ইত্যাদি, টোটাল দু পয়সা।

    এমন সময় বৌ, গুঁতো দিলো, হায় প্যারিসে কত ভাগ্যবান পুরুষ কত কী পেয়েছে সঙ্গিনীদের কাছে, আমি শুধু গুঁতো পেলাম। নিজের গ্রাম সাইডের কপাল নিয়ে যখন আবার মেলংকালি তে মজবো মজবো করছি, এমন সময়ে দ্বিতীয় গুঁতো, ঐদিকটা দ্যাখো।
    বাঁদিকে তাকিয়ে দেখি, বিশাল বিশাল মিছিল। যা মালুম পেলাম, গ্রীনেরা, ট্রেড ইউনিয়নেরা, শান্তি আন্দোলনের আর প্যালেস্তাইন সলিডারিটি ফ্রন্টের বিভিন্ন ভাঙাচোরা রা মিছিল শুরু করবেন বলে, তেড়ে বক্তৃতা করছেন। আমার বাপু,
    ধর্মতলা আর ইউ এস এম্বাসি শিক্ষিত চোখ, সুভাষ্‌দার ট্রেনিং, দেখেই বল্লাম, মিনিমাম দেড় লাখ। বৌ রা জেনেরালি, যেকোনো উত্তেজনার মুহুর্তে, যেটা করে সেটা করলো, ভুরু কুঁচকিয়ে বল্লো, ধুর আন্দাজে বলে দিল। লাইফে কোন সম্মান পেলাম না, জীবন থেকে কিচুই পেলি না রে মধু ইত্যাদি।

    তো বেশ ফরাসীরা মিছিল করছে, ভালো কথা, সেতো করবেই, হার্বার্ট মার্কুজের শিষ্য এরা। এমনিতে শাটের শেষের দিক-কার প্যারিস নিয়ে আমার উৎসাহ কম।
    কারণ দুটি। প্রথমটি বেম্মো বাল্যকাল। লোকে বার্তোলুচি প্রদর্শিত পথে স্বপ্ন দেখবে, এই ব্যাপারটা সম্পর্কে একটা অসোয়াস্তি, শীতকালে দুপুরে চান মিস করলে যেমন হয়, বোকা বোকা ভাব।
    তার উপরে মারকিউজ হল গিয়ে নকুদের দুষ্টু ছোটকা। অতএব বাই ডেফিনিশন শত্রুপক্ষ। তবু ঠিক-ই আছে, ওয়াইন হয়েছে আর্ট হয়েছে, নাইট ক্লাব হয়েছে, কাফেতে বাছুর গরু কালো কফি, সিগারেট মায় অ্যাভিনিওতে লিটল ম্যাগ অব্দি হয়েছে, একটু রিভলুশন না হোক ছোটো করে মিছিল অন্তত হবে না? তাই কখনো হয়। প্যাকেজ ডিলে কম পড়বে। পারী বলে কথা। হঠাৎ কানের কাছে দুদ্দাড় শব্দ, কতগুলো মুখ রুমাল দিয়ে ঢাকা, পুঁচকে বয়সী কিন্তু চেহারায় ইয়া ইয়া টিনেজার কতগুলো দুদ্দাড় করে দৌড়চ্ছে, আর চেয়ার চুঁড়ে ছুঁড়ে কাফের আর দোকানের কাচ ভাঙতে ভাঙতে এগোচ্ছে।
    কারো কারো হাতে লাঠি, তারা গাড়ির কাচ ভাঙছে, দুপাশ দিয়ে দৌড়ে আসছে, তো আমি ভাই, অভ্যস্ত, অনেক এসব খেলা ভাঙার খেলা দেখেছি, বয়সকালে, বৌকে বোল্লাম ফুট পাথে যেয়ো না,
    পার্ক করা কোন ভ্যানের পাশে দাড়াও, জার সামনের কাচ ছাড়া কাচ নেই। বৌ দেখলাম ভ্রু তুল্লো না, তো আমার ছাতি অপ্প হলেও বাড়লো, নিজেদের মধ্যে বলেই বলছি! তো বেশ দাঁড়িয়ে আচি, চার পাশে মিনিট পাঁচেক মড় মড় মড়াৎ ঝন ঝন এসব চলছে।
    ইতিমধ্যে রায়ট পুলিশ নামলো, ফুল গিয়ারে, ভাই আমি মামা খোঁচানো বাঙালী, ঐ হুমদো হুমদো ফুল গিয়ারের রায়ট পুলিশ, ও সব সচিত্র পবন্ধ ছাড়া কোথাও দেখিনি, তো তাড়া আরম্ভ হল, মিনিট দেড়েক তাদের সারীর উপরে দু চারটে কাফের চেয়ার উড়ে এসছিল।
  • h | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১৬:০০419590
  • এর পরে শুরু হল ধীর গতির চার্জ, ব্যাটন পড়তে থাকলো, তার পরে ফুল চেজ। আমি তো মেনলি সিনেমা দেখছি, শুধু ভাবছি, গায়ে যেন মলোটোভ না পড়েন এসে, রাশান উপন্যাস ছাড়া আর প্রায় সব-ই বেশ খারাপ। তো যাই হোক, লড়া লড়ি চলছে, কয়েকটা ছেলে গলি দিয়ে পালালো, অ্যানাউন্সমেন্ট হল একবার, যা বুঝলাম, মেনলি মিছিলের অর্গানিসার রা পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে বলছে, আর বাচ্চাদের মারামারি থামাতে বলছে। ইত্যাদি। এইবার মিছিল এগোতে আর্ম্ভ করেছে, গান হচ্ছে।
    উপর থেকে, ধরুন কোন বাড়ির ঝোলা বারান্দা থেকে, দুশ্যাম্পের বারান্দার মত বারান্দা, দেখলে মনে হবে, সামনের খন্ড যুদ্ধটা যেন মিছিলের রাস্তা পরিষ্কার করতে করতে এগোচ্ছে। হঠাৎ একটা চেয়ার জাস্ট বৌ এর মাথার উপর দিয়ে এসে, পেছনের কাচ ভাঙলো।
    বৌ-এর হাইট নিয়ে এক কালে কত কী বলেছি, একবার বলেছিলাম, সিনেমা হলে জলচৌকি নিয়ে যেতে, ইত্যাদি, তার হাইট নিয়ে মাইরি প্রচন্ড গর্ব হতে লাগলো।
    সে শিল্পা সেটি বা নিকোলে কিডম্যান দের লাইন নিলে, নিজের বে করা বৌ এর মাথাটি, কাখের ভাঙা কাচের মধ্যে পড়ে থাকতো, এমনিতে আমি যে সামলাতে পারতুম তাও নয়, তার পরে আর দেরী নয়, ধরগো তুই হাতে হাতে ধরগো। সামনে মিলন স্বর্গ বলতে সুধু মেট্রো-য় নেবে যাবার গেট।
    দৌড় দৌড়, মিছিলের ট্রিবিউটারি গুলোর ফাক দিয়ে দিয়ে দৌড়। রোগা ছিলাম, বৌ আমার নবরতন কুল, কন্টি পেছনে বলে জাচ্ছে, আ: হাত ছাড়ো দৌড়িও না, দৌড়চ্চো কেন, আস্তে আস্তে চলো, তার মেন কারণ কুল, না নার্সারী থেকে লেবু রেসের অন্তস্পর্শী ক্রম সেটা ইতিহাসের পাতায় তেমন পরিষ্কার নয়।

    মেট্রো র প্লটফর্মে নেমেও ঘুরে ঘুরে দেখছি, মুশকো কেউ, বিরোধী বা রাষ্ট্র আসছে কিনা, যেই আসুক ভাই, রোগা যেন হয়, হে ঠাঅকুর।
    ওদিকে মুখে বলছি, হাঁপানি টা লুকোতে লুকোতে, এস্টিমেট টা কিন্তু খারাপ করি না, লাখ দেড়েক মিনিমাম। পুনরায় ভ্রুকুঞ্চন, এবং ম্যাপ চর্চান্তে আজ্ঞা, রুজভেল্ট এভেনিউ হয়ে শাঁজ এলিজ। একটা চেঞ্জ।

    বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে প্রত্যাবর্তন, কারণ খন্ডযুদ্ধের বর্তমান হজম হল কিনা বোঝা যাবে রাতে ঘুমোলে, ডিপেন্ডিং অন দু:স্বপ্ন'স কনটেন্ট। বার্তোলুচিটা কি আলু কি আলু তদুপরি ডাঁহা গুলবাজ।
  • dipu | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১৬:১৫419591
  • হেব্বি! গুচ্ছ!
  • tkn | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১৬:২৪419592
  • ওয়াহ্‌হ
  • r | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১৭:০২419593
  • ব্যাপক। :-))
  • Arpan | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১৭:০৮419594
  • :-))
  • Blank | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১৭:১৩419596
  • ব্যপক জমেছে
  • a x | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ২০:৪৬419597
  • চলতে থাক - গুচ্ছ লাগছে।
  • h | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ২০:৪৭419598
  • হয়তো আরো ভুল আছে, সন্দেহ হচ্ছিল, তবে কনফার্ম করতেই বেরিয়ে পড়লো। ওটা এলুয়ার সম্পাদিত নয় লুই আরাগঁ 'পরিচালিত' ল'ইউমানিতে(l'Humanite) হবে।
  • Indranil | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ২১:৩৬419599
  • বোধি,

    ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লেখাগুলো কে এক জায়গায় করে রেখো। পরে এক সঙ্গে কোর্লে একটা ভালো জিনিস দাড়াবে।
    দারুণ হচ্ছে।
  • Ishan | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ২১:৫৯419600
  • বোধি না শোনে ধর্মের কাহিনী। :)
  • Tim | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ২২:৩০419601
  • উত্তাল, অসা, গুচ্ছ.... বিশেষণ ফুরিয়ে আসছে। লেখা যেন না ফুরোয়। :)
  • Paramita | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ২২:৫৬419602
  • ইউনিক..
  • AB | ১৪ অক্টোবর ২০০৯ ০২:০৪419603
  • h-এর যে কোনো লেখাতেই একটা নৈর্ব্যক্তিক নিরাসক্তি খুঁজে পাই - অসাধারণ লাগে....

    উফ: এইসব কঠিন কঠিন শব্দ লিখতে গিয়ে কি-বোর্ড ঝনঝন করে উঠ্‌ল
  • pi | ১৪ অক্টোবর ২০০৯ ০৭:৩৮419604
  • গুচ্ছ লাগছে পড়তে।
  • pragati | ১৪ অক্টোবর ২০০৯ ১৫:৪৬419605
  • 'বেল লেত্র' এর একটি মনোরম গুচ্ছ, চমৎকার বাঁধন।
    বোধি, লিখতে থাকুন।
  • Du | ১৪ অক্টোবর ২০০৯ ২৩:৩৯419607
  • উত্তম, সূর্যসেন, ঘোড়াগুলি --- লেখা যেন না থামে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন