এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • গোর্খাল্যান্ড ???

    Ananyo
    অন্যান্য | ০৪ আগস্ট ২০১৩ | ৪০৪৭৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ishan | ০৭ আগস্ট ২০১৩ ২১:৫৮616209
  • এটা অস্বীকার করার কোনো জায়গাই নেই, যে, তেলেঙ্গানার পরে পুরোনো দাবীগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়েছে। কিন্তু যেটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হল এগুলো সবই "পুরোনো" দাবী। "এবার গোর্খাল্যান্ডের দাবী দিগ্বিদিকে পরিব্যপ্ত হইয়া মহামারীর মতো নতুন নতুন সংক্রমণ তৈরি করবে, ক্রমে ক্রমে কলিকাতার বাবুগণ চার্নকল্যান্ড, উত্তরপাড়ার সিনেক্লাবের মেম্বাররা উত্তরাখন্ড এবং বনগাঁর লোকেরা সুন্দরপুর দাবী করিবেন" -- এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি দেখতে পাইনি। সেটাই চাইছি। গাণিতিক, যৌক্তিক, তাত্ত্বিক হোয়াটেভার।
    বলাবাহুল্য এখানে খবরের কাগজ দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। এএসডিসির কি ইতিহাস সেটা খবরের কাগজে লেখা নেই। খবরের কাগজ পড়লে মনে হওয়া স্বাভাবিক, যে, কোত্থাও কিচ্ছু ছিলনা। হঠাৎ ফুসকুড়ির মতো এএসডিসির দাবী বোধহয় গজিয়ে উঠলো।

    পুঃ কিন্তু শেষে খচে যাওয়া বিষয়ে হনু মতামত দিচ্ছে? :)
  • h | ০৭ আগস্ট ২০১৩ ২২:৩৬616210
  • টি, গুরু আপনার পোস্টে বেশ কয়েকটা বড় বড় ফাঁক। সেটা ইশানের পয়েন্ট করা উচিত ছিল। পরে এসে হয়তো করে দেবে।

    এক - ভারতীয়ত্ত্ব বিষয়টা বিতর্কিত এই কারণেই নয়, কারণ এঁরা রাজ্য চেয়েছেন, রাষ্ট্র চান নি। সাংবিধানিক সেট আপ এর মধ্যেই যা পাবেন বলে করছেন তাই চাইছেন। রাজ্যের আন্দোলন, শহর বা এলাকা নিয়ে মারামারি প্রচুর আগে হয়েছে। ১৯৫৫-১৯৬০ এই সময় টা জুড়ে মহারাষ্ট্র তৈরীর ইতিহাস টা এইরকম। এবং 'সাধা মানুষ' ইত্যাদি (পেন্ঢারকার এর আত্মজীবনীর ও এটাই নাম) দাবী অঞ্চল/ভাষা থেকে বৃহত্তর আইডেন্টিটি কে তখন ই নিয়ে গেছিল, তো এই সব থেকেই এই সব দাবী।

    দুই - সব সেপারেটিস্ট আন্দোলন এক গোত্রের না। এক রাজ্যের সবার আন্দোলন এক গোত্রের না। এমনকি একই সেপারেটিস্ট আন্দোলনের মধ্যেও প্রচুর ধরণের যুক্তি দাবী এইসব থাকে। দ্বন্দ্ব ও থাকে। ভারতীয়ত্ত্ব ইত্যাদি অ্যাবস্ট্রাক্ট কথা না বলে আপনি সেই দ্বন্দ্ব গুলোর কথাও বলতে পারেন। এই যেমন সিপিআর এম আর মদন তামাং দের সংগঠন, বা লেপচা পরিষদ, আদিবাসী পরিষদ(একাধিক) তাদের প্রত্যেকের বক্তব্য ই আলাদা। দেখতে হবে মিল আর অমিল গুলো কোথায়। এবং দেখলেই বেরিয়ে আসবে, যে প্রতিটা ব্যাখ্যার ই একটা ইতিহাস আছে। অনুন্নয়ন/ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এর সমস্যা ইত্যাদি যুক্তি কে একট বড় ন্যারেটিভ স্ট্রাকচার এর মধ্যে আনতে গেলে, একটা কমন আইডেন্টিটির খোঁজ এই সব আন্দোলন কারীরা করেই থাকে।
    তিন। দেখাই যাচ্ছে, রিজিওনাল ডিসপারিটি আছে, এবং তার ইমিডিয়েট রিমেডি হল রাজ্য, নির্মাণ, কারণ ঝট করে একটা সরকারী দপ্তর ইত্যাদি হচ্ছে, কিছু লোক চাকরী পাচ্ছে, স্টেট লিস্ট থাকার কারণে, কিছুটা এমপাওয়ার মেন্ট হচ্ছে। তো তার একটা ফেডেরাল অলটারনেটিভ দিন তাইলে। গ জ মু র কাছে রাজ্য গঠন পরবর্তী কর্মসূচী দাবী করুন, তারা রেসিজম করবে না প্লেজ করান, (মানে সরকার কে পরামর্শ দিন) কিন্তু মমতার খামখেয়ালিপনা আর সুবিধেবাদের দায়িত্ত্ব শুধু পাহাড় কেন কোন জায়গার সাধারণ মানুষ ই বা কেন নেবে। অসহায়তাটাও বুঝুন। একটা বড় পার্টির সংগে না থাকলে কারো দাবী পূরণ হচ্ছে না, এটা কি খুব সম্মানজনক কথা, বিশেষত সেই সব মননশীল জনতার কাছে, যাদের কাছে নিরপেক্ষতার দাবী ই সবচেয়ে বড় দাবী, রাজনীতির আঙিনায়?

    ঘ। গোর্খা দের উপরে এতো রেগে যাওয়ার কারণ কি বুঝলাম না, ধরুন কোরাপশন টাও যদি মোটিভেশন হয়, এমন তো নয়, মহান ভারত তা আগে মেনে নেয় নি, ঝাড়খন্ডে তো জাতি ভিত্তিক দাবী মেনেই নিয়েছে। নিয়ে গরীব মানুষের কোন হয়তো উপকার হয় নি, একটা নতুন কোরাপ্ট ক্লাস তৈরি হয়েছে। তো ফ্র্যাগমেন্টেশন এ এসব হবেই। জ্যাকব জুমা বা মুগাবে কোরাপ্ট বলে, তো আর অ্যাপারথাইড ফেরানো জায় না;-)

    যেসব দাবী আপাতোতো তুলছেন গো জ মু, এগুলো অন্যত্র সাকসেসফুল হয়েছে তাই তুলছেন। ল তে, প্রিসিডেন্স এর চেয়ে বড় আসে টা কি?
  • h | ০৭ আগস্ট ২০১৩ ২২:৩৭616211
  • হ্যা কারণ খচে যাওয়াটা আমার ল্যান্ড ;-)
  • s | ০৮ আগস্ট ২০১৩ ০৬:১৫616212
  • দার্জিলিং গোর্খাল্যান্ড হলে ইলেকশন কিরকম হবে? একটা লোকসভা সিট, ৭ টা বিধানসভা সিট, ১ টা পৌরসভা, ২ টো জেলা পরিষদ?
    সব বিধানসভা সিটও যদি গোজমু পায় আর সক্কলে মন্ত্রী হয়, তাহলেও মাত্তর ৭ জন মন্ত্রী রাজ্য চালাবে!!!
  • dd | ০৮ আগস্ট ২০১৩ ০৮:৩৮616213
  • পন্ডিচেরীতেও তো গর্মেন্ট চলে। কি ভাবে চলে কে জানে? সবাই বোধয় মন্ত্রী হয় আর প্রত্যেকের ২৫-৩০টা দপ্তোর হয়।

    টিএর ল্যাখাগুলো খুব শানদার হচ্ছে। আর্লি শৈশবে মিত্তিরদা এরম গুছিয়ে লিখতেন। বার্দ্ধক্যজনিত সমস্যায় হতোক্লান্তো হয়ে উনি রিসেন্টলি রিটায়ার করেছেন।
  • Ishan | ০৮ আগস্ট ২০১৩ ০৯:০২616214
  • হ্যাঁ, হনুকে সবকটাতে ক দিয়ে আরও একটা জিনিস যোগ করব।

    সমস্যাটা হচ্ছে, জাতিসত্ত্বাকে বাদ দিয়ে স্রেফ উন্নয়নকে মাপকাঠি ধরলে রাজ্যবিভাজনটা স্রেফ প্রশাসনিক একটা ভাগাভাগি হয়ে দাঁড়ায়। আর রাজ্যগুলোকে স্রেফ প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে দেখলে অ্যাকচুয়ালি ফেডারাল স্ট্রাকচারের প্রয়োজন থাকেনা। মোটামুটি অক্ষরেখা দ্রাঘিমা রেখা ধরে ভারতকে গোটা পঁচিশেক টুকরোয় ভাগ করে ফেললেই চলে। তারপর কো-অর্ডিনেট ধরে নামকরণ। আমি (০,০)র জম্মু শহরে থাকি বা, আমি থাকি (১০,০)র ইম্ফলে।

    ভারত রাষ্ট্র কিন্তু এই যান্ত্রিক বিভাজনকে কখনও আদর্শ ভেবে বা ভুল করেও অনুসরণ করেনি। সাম্প্রতিককালে উপমহাদেশের যে তিনটি বড়ো বিভাজন, সেগুলো হল ব্রিটেনের থেকে বিচ্ছিন্নতাপ্রাপ্তি, দেশভাগ, আর পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ হওয়া। লক্ষ্য করে দেখবেন, একটাতেও "উন্নয়ন" মূল ইস্যু ছিলনা। ভারত স্বাধীন হয়েছে আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে। টু-টুকরো হয়েছে ধর্ম/জাতিয়তার প্রশ্নে। পাকিস্তান দুটুকরো হয়েছে ভাষা/জাতির প্রশ্নে।

    ভারতবর্ষের ভিতরেও ভাগাভাগির প্রশ্নে "উন্নয়ন" নয়, সত্ত্বাই ছিল মূল মাপকাঠি, এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও। শুনলে আশ্চর্য হবেন, যে, আজকে আপনি যে লাইনে ভাবছেন, বহুকাল আগে পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত রূপকার বিধানচন্দ্র রায় সেই রাস্তায় অনেক আগেই হেঁটেছিলেন। তিনি "উন্নয়নের স্বার্থে" পশ্চিমবঙ্গ বিহার জুড়ে একটি সংযুক্ত রাজ্য তৈরির পরিকল্পনা প্রায় পাকা করে ফেলেছিলেন। চুইচুপি নয়, ঘোষিত ভাবেই। তখন "জাতিসত্ত্বা"র পক্ষে দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন বামপন্থীরা। এবং সমস্যাটি কিকরে মিটেছিল শুনলেও আশ্চর্য হবেন। ভারতবর্ষের তো গণভোটের ব্যবস্থা নেই। একটি বিধানসভা উপনির্বাচনকে তাঁরা বেসরকারী গণভোট হিসেবে দাবী করেছিলেন। সেই উপনির্বাচনের মূল ইস্যু ছিল বঙ্গ-বিহার সংযুক্তি। পক্ষে ছিলেন বিধান রায়, বিপক্ষে বামপন্থীরা। তা, ভোটে হেরে বিধানবাবু সেটাকে নিজের গণভোটের ফল হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন, এবং পরিকল্পনাটি বাতিল করেছিলেন।

    ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যগুলি তৈরি হবার উদাহরণ আর দিলাম না। শুধু এইটাই বলার জন্য। যে, অন্ততঃ বাংলায় এটা স্বীকৃত, যে, রাজ্যগুলি জাতিসত্ত্বার প্রতীক, স্রেফ প্রশাসনিক ইউনিট নয়। আর গণভোটও এমন কিছু নতুন কনসেপ্ট নয়। অফিশিয়ালি নাই বা হল।
  • PT | ০৮ আগস্ট ২০১৩ ১০:১৭616215
  • "পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ হওয়া। লক্ষ্য করে দেখবেন, একটাতেও "উন্নয়ন" মূল ইস্যু ছিলনা।"

    এই ছয়দফা দাবী মেনে নিলে হয়ত বাংলাদেশের সৃষ্টি হতনাঃ

    1.The constitution should provide for a Federation of Pakistan in its true sense based on the Lahore Resolution and the parliamentary form of government with supremacy of a Legislature directly elected on the basis of universal adult franchise.

    2.The federal government should deal with only two subjects: Defence and Foreign Affairs, and all other residual subjects should be vested in the federating states.

    3.Two separate, but freely convertible currencies for two wings should be introduced; or if this is not feasible, there should be one currency for the whole country, but effective constitutional provisions should be introduced to stop the flight of capital from East to West Pakistan. Furthermore, a separate Banking Reserve should be established and separate fiscal and monetary policy be adopted for East Pakistan.

    4.The power of taxation and revenue collection should be vested in the federating units and the federal centre would have no such power. The federation would be entitled to a share in the state taxes to meet its expenditures.

    5.There should be two separate accounts for the foreign exchange earnings of the two wings; the foreign exchange requirements of the federal government should be met by the two wings equally or in a ratio to be fixed; indigenous products should move free of duty between the two wings, and the constitution should empower the units to establish trade links with foreign countries.

    6.East Pakistan should have a separate militia or paramilitary force.

    এর সবটাই তো আর্থিক ও প্রশাসনিক দাবী। জাতিসত্বা নিয়ে একটি শব্দও নেই। একটি সারণীও দেওয়া আছে এই লিংকে। সেটা শুধুই অর্থবরাদ্দের বঞ্চনার হিসেব।

    http://en.wikipedia.org/wiki/Six_point_movement
  • aka | ০৮ আগস্ট ২০১৩ ১০:২৯616216
  • জাতিসত্তার আর একটি রূপ হল উগ্র হিন্দুত্ব বা আমরা বাঙালি।
  • T | ০৮ আগস্ট ২০১৩ ১১:১৩616217
  • দুটো কথা, এক, ভারতীয়ত্ব বলতে গিয়ে চেনা ছকের ক্রিকেট কি কার্গিল যুদ্ধান্মাদনার চেয়েও কিছু বেশীই বলতে চেয়েছি মনে হয়। দেশের প্রতি দায়িত্ব ভালবাসা ইত্যাদি সমস্ত কিছুই বাদ দিচ্ছি, কারণ এসবের আর কিই বা মেজার হতে পারে। তাহলে ভারতীয়ত্বর অর্থ বলতে সনাতন বক্তব্য বাদে বৈষম্যের অবলুপ্তি এবং তদজনিত কারণে ইন্সটিটিউশনের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাই আগে বলতে হয়। জাতি হিসেবে সহনাগরিকের সাথে সাম্যের ফারাক থাকলে সেই ফারাকের কারণ হিসেবে চেনা বালির বস্তা স্বরূপ রাষ্ট্রের ফাঁক ফোঁকর খোঁজাই খুব স্বাভাবিক। এবারে রাজ্য আগে নিশানায় আসবে না কেন্দ্র আগে সেটা পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষিতের উপর দাঁড়িয়ে। কোনো প্রান্তিক গোষ্টী ইত্যাদি, মেন্সট্রীম ভারতীয় সমাজের উত্থানপতনের সাথে টিউনিং এর পরেও, আলাদা জাতিসত্ত্বার দাবীর প্রতি সচেতন থাকে কি না সেইটেই একটু জানার ইচ্ছে ছিল।
    এখন দেখুন, এই পৃথক জাতির জন্য পৃথক উঠোন থিয়োরীর একটি ম্যাক্স ও মিন রয়েছে। এই ভূমিপুত্র কনসেপ্ট শুধুমাত্র রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অবধিই পৌঁছয়, আলাদা দেশ অবধি গড়ায় না, অন্ততঃ চটজলদি ইতিহাসের যা কিছু মনে পড়ছে। কারণ বিচ্ছিন্নতাকামীদের প্রত্যক্ষ্য দাবী যাই থাকুক না কেন, উন্নয়নের চ্যানেলটি সরাসরি কেন্দ্র থেকে তাদের মধ্যে বইবে এইটেই মূল দাবী থাকে। সেদিক দিয়ে দেখলে, এটিকে পৃথক জনজাতির আন্দোলনের চেয়েও উন্নয়ন মারফত প্রান্তিকতা বিসর্জনই মনে হয়। এইবার এই থিয়োরীর অ্যানোম্যালি থাকতে পারে, সে বলা পন্ডিতদের কাজ। সংবিধান সম্মতও হতে পারে, কিন্তু দেখুন, সনাতন ভারতীয়ত্ব কনসেপ্টের জন্ম তো বেশ আধুনিক কালের। তার আগেও নিশ্চয়ই এই পৃথক জাতিগুলোর অস্তিত্ব ছিল। এই বিপুল রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস বিষয়ে ভাসা ভাসা ধারণা থেকে যতটুকু মনে পড়ছে তার ভিত্তিতেই বলছি আর কি! তো, না ইনসাফির রেস্টোরেশন পয়েন্ট হিসেবে ইতিহাসের সেই ক্ষণজন্মা সময়কেই বা কেন ধরা হবে না। নৃতাত্তিক যাবতীয় বিষয় বাদ দিয়ে অন্য কোনও অ্যাঙ্গেল থেকেই কি এই বেসিক প্রশ্ন দাঁড়ায় না! এবার মনে হতে পারে যে তাহলে সেপারেট চ্যানেলটি কেন শুধুমাত্র জিটিএ জাতীয় কিছু হতে পারে, আলাদা রাজ্য কেন নয়! এবং এই মনে হওয়ার উত্তর স্রেফ আশঙ্কা! কারণ, এই পৃথক জাতিসত্ত্বার ভাবাবেগের নিয়ন্ত্রণটি কেউ যে অন্য উদ্দেশ্যে করবে না তা বলা মুশকিল।
    এইবার আমি শ্রী ডোনাল্ড নুথের একটি কোট উদ্ধৃত করব, যদিও ব্যাপারটি কিঞ্চিত মাধ্যমিকের ইতিহাসের উত্তরপত্রের ম’ত হয়ে যাচ্ছে, তবুও আর কি! উনি বলেছেন, এবং যেটি আমার ভীষণ মনে ধরেছে, সেটি হ’ল,প্র্যাকটিস সেরা তত্ত্ব গঠনে ইন্সপায়ার করে, এবং সেরা প্র্যাকটিস তৈরী করে থিয়োরী। এমনটা ধরে, ইদানীংকালের বহুচর্চিত ‘জাতি জনস্তত্বার দাবী উঠলেই আলাদা রাজ্য দিয়ে দাও’, সেটি বাদ দিয়ে জিটিএর পরিণামটা শেষ অবধি দেখলেই হ’ত না কি! জিটিএর মধ্যে মমতার খামখেয়ালীপনা ইত্যাদি যাই থাক, সেটির পরিমার্জন ও সংশোধন অবশ্যই সম্ভব ছিল। তা বাদ দিয়ে দুম করে, তেলেঙ্গানার পরদিন থেকেই জিটিএর অসারত্ব প্রমাণে জনতার উঠে পড়ে লাগা, স্রেফ সন্দেহের উদ্রেকই করে।

    এরপর শেষপাতে ছোট্ট করে গুঁজে দেব এই তথ্যটাও যে সম্প্রতি জিটিএর আমলাদের সাথে গুরুং এন্ড কোং এর মতান্তর চলছিল প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে। আমলাদের বক্তব্য ছিল, দাবী কখনো কখনো নিয়মকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই নিয়মের অপব্যবহার, ক্ষমতার প্রকাশ এবং সেইসঙ্গে ফের আলাদা রাজ্যের দাবী, এদের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে? থাকতেই পারে। কিছু কন্সপিরেসি থিয়োরী না হয় তৈরী হোক।
    এইসব প্রচুর টাইপ করে ও একটি বৃহৎ ঢেঁকুর তুলে আমি থিসিস লিখতে চললুম। চুলচেরা তর্ক চলতে থাকুক। তবে হেইচ (দাক্ষিণাত্যের দাক্ষিণ্যই মনে করুন) নামক গোলিয়াথ যে এই অধমের প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন এতে স্রেফ বিগলিতই হয়ে রামভুজের কাছে ধরণা দিতে যাচ্ছি মনে হয়।
  • Ishan | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ০৮:২৭616219
  • পিটিকে প্রথমে লিখি।

    চিনের মুক্তিযুদ্ধের যদি ইতিহাস পড়েন, একটি অনুরূপ চুক্তিসনদ পাবেন। চল্লিশের দশকে যখন জাপান চিনকে আক্রমণ করল, তখন মাও দাবী করলেন, জাপানের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্ট তৈরি করে করে গৃহযুদ্ধের ইতি ঘটানো হোক। চিয়াং-কাই-শেক তখন এরকম ছয় না আট দফা একটি সনদ দিয়েছিলেন। যার মধ্যে, যদ্দুর মনে পড়ছে, লালফৌজের স্বাতন্ত্র নষ্ট করা, "মুক্তাঞ্চল"গুলিকে মূল চিনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া ইত্যাদি ছিল। কেবল মাওপন্থীদের পেলে কেটে ফেলা হবে -- এইটা ছিলনা। তা, মাও সবকটিই মেনে নিয়েছিলেন। এবং জাপানের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্ট তৈরি হল। পরে এই ন্যূনতম শর্তে যুক্তফ্রন্টও চিয়াং-কাই-শেক মানতে পারেননি। ভেঙে দেন, এবং অতঃপর ক্রমে ক্রমে চিনে লালফৌজের শাসন তৈরি হয়।

    তা, পয়েন্ট হল, ওই ছয় না আটদফা সন্ধিপত্র পড়ে কেউ যদি ধারণা করেন, মাওপন্থীদের পেলে কেটে ফেলা হবেনা -- এইটাই চিনের কমিউনিস্ট পার্টির দাবী ছিল, তাহলে নেহাৎই ভ্রম হত। এবং যদি চুক্তিসনদটা পড়েন, আশ্চর্য হয়ে দেখবেন, ওতে জনগণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র কোনোকিছুরই উল্লেখ নেই। কিন্তু তার মানে কি এই, যে, ওইটিই চিনের পার্টির অ্যাজেন্ডা ছিল?

    তাই বলি, স্রেফ একটি দাবীসনদ পড়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বা স্বাধীনতার অ্যাজেন্ডা কি ছিল বুঝে নিতে গেলে ভারি বিপদ। রাজনীতির ভাষায় ওগুলিকে বলে ন্যূনতম সমঝোতাপত্র। আমি সরকারকে বললাম, অন্ততঃ আমাদের এইগুলি দাও। তাতেও রাজি না হলে, তবেই আমার অস্ত্রধরা ব্যাপক জনসাধারণের কাছে যৌক্তিকতা পাবে। এইটা একটা চেনা কৌশল। নতুন কিছু নয়।
  • Ishan | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ০৮:৫৭616220
  • এবং টিকে আরও একবার।

    আপনার বক্তব্যের প্রেমাইসটি আরও একবার ভেবে দেখুন। " কারণ বিচ্ছিন্নতাকামীদের প্রত্যক্ষ্য দাবী যাই থাকুক না কেন, উন্নয়নের চ্যানেলটি সরাসরি কেন্দ্র থেকে তাদের মধ্যে বইবে এইটেই মূল দাবী থাকে।" -- এটা পড়ে মনে হচ্ছে, ভারতবর্ষের "উন্নয়ন" হয় কেন্দ্রের পয়সায় এবং দাক্ষিণ্যে। যেটুকু যা পাওয়া যায় সেটুকু নিয়ে চলে রাজ্য বা হবু রাজ্যদের মধ্যে কামড়াকামড়ি -- এইটাই হল নতুন রাজ্য তৈরির দাবীর চালিকাশক্তি।

    অথচ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় "উন্নয়ন" কেন্দ্রের দাক্ষিণ্য নয়। যে এলাকা থেকে যতটুকু ট্যাক্সো পাওয়া যাচ্ছে, তার শেয়ার সেই এলাকার প্রাপ্য। সেটা কোনো দাক্ষিণ্য নয়। প্রাপ্য। এর উপরে আছে কেন্দ্রস্তরের যোজনা কমিশন। তাদের বরাদ্দের মূল লক্ষ্যটাই হল, দেশে "উন্নয়ন"এর সমতা বজায় রাখা। মানে ইনফ্রাস্ট্রাকচারের উন্নতি যেন তেলা মাথায় তেল ঢালায় রূপান্তরিত না হয়। দিল্লীই সবটা পেল, বা মহারাষ্ট্র আর পশ্চিমবঙ্গ বা মিজোরাম কিসুই পেলনা এরকম যেন না হয়।

    তা, এ নিয়ে আর নতুন কি বলব, এই মূল সূত্রটি বারবার ভায়োলেটেড হয়েছে। বামপন্থীরা এটা বারবার পয়েন্ট আউট করেছেন। অশোক মিত্তির এটাকে চমৎকার গল্প করে লিখেছিলেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে দিল্লী গিয়ে মিত্তির সায়েব যোজনা কমিশনের কর্তাকে বললেন, যতবার কলকাতা থেকে দিল্লী আসি, কী মনে হয় জানেন? মনে হয় অজ গ্রাম থেকে শহরে এলাম। সেই গপ্পো শুনে বিচলিত হয়ে না অন্যকিছু কারণে কে জানে সেবার যোজনা কমিশনে পশ্চিমবঙ্গের বরাদ্দ রেকর্ড বেশি হয়েছিল। কিন্তু স্বয়ং ইন্দিরা গান্ধী নাকি সেটা বাতিল করেন।

    এটা পড়া গপ্পো। সত্য মিথ্যা নিয়ে তক্কো থাকতে পারে। কিন্তু পর্যবেক্ষণটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই অসাম্য, ব্যালেন্সের অভাব, সর্বত্র। পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লী গেলে মনে হয় শহরে এলাম। বর্ধমান থেকে কলকাতায় এলে মনে হয় এটাই শহর। আগরতলা থেকে কলকাতা এলেও নির্ঘাত তাইই মনে হয় (আমি আগরতলা যাইনি হুতো কিংবা লামা বলতে পারবে)। যোজনা কমিশনের বরাদ্দ, বা মাশুল সমীকরণ নীতির ইতিহাসও দেখা যেতে পারে।

    এবার এই "অসাম্য" বা একদেশদর্শিতা, যাই বলুন, সেটা কেন? পশ্চিমবঙ্গে নাহয় বাম সরকার ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু আসাম? উড়িষ্যা? সেখানে কেন বরাদ্দ কম? ঐতিহাসিকভাবেই এই কেন্দ্রিকতার সঙ্গে "বড়দা" ভাষাগোষ্টীর একটা কো-রিলেশন আছে। হিন্দি যত রাজভাষায় পরিণত হয়েছে, দিল্লী যতই উন্নত হয়েছে, বরাদ্দের প্রশ্নে, গুরুত্বের প্রশ্নে বাকি এলাকাগুলি প্রান্তিকতায় ঢুকে পড়েছে। এবং এটা শুধু ভারতের চিত্র না। ধরুন সোভিয়েত ইউনিয়নে ইউক্রেন, একইরকমভাবে বড়দা রাশিয়া ভাষা-সংস্কৃতি-আধিপত্যের শিকার হয়েছে। অবিভক্ত পাকিস্তানের আমলে বাংলা। এটা শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্য না। ভাষা-সংস্কৃতি-আধিপত্য সর্বত্রই হাত ধরাধরি করে আসে। যেমন হাত-ধরাধরি করে থাকে রাজভাষা-রাজধানী-বলিউড।

    এটা শুধু অর্থনৈতিক আধিপত্য নয়। এটা জাতিগত আধিপত্য। গোটা দুনিয়াতেই এর বিরুদ্ধে ছোটো-ছোটো জাতিসত্ত্বাগুলি রুখে দাঁড়িয়েছে। নিজের ভাষার প্রশ্নে। নিজের সংস্কৃতির প্রশ্নে। এবং সঙ্গে অবশ্যই "উন্নয়ন" বিষয়ে নিজের ভাগ, নিজের প্রাপ্য বুঝে নেবার দাবীতে। অর অন্যদিকে "বড়দা"রা চিরকালই বলেছে, আরে ভাই ভাষা-টাষা কি, একটু রাশিয়ান বলোনা, একটু উর্দু শিখে নাও না, কি ওই একটা খুচরো ভাষা নিয়ে ফটরফটর করছ? আর টাকা? এসব ধান্দাবাজি, আসলে তো আমার টাকা নিয়ে কামড়াকামড়ি। হ্যাঁ, "আমার" টাকা। যেন ভিক্ষে দেওয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়টাকেই "উন্নয়নকেন্দ্রিক" করে ফেলা মানে আসলে "বড়দা" কেন্দ্রের আধিপত্যের পক্ষে বলা। আমি সেই দিকে নাই। আপনি এক্ষেত্রে কোন পক্ষে থাকবেন, সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে।
  • T | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ১১:২৬616221
  • হে ঈশান,

    আপনি বলছেন জাতিগত আধিপত্য। হিন্দীর রাজভাষায় পরিণত হওয়া, এবং দিল্লীর ক্রমাগত উন্নতির সাথে বাকি অঞ্চলের প্রান্তিকতার অন্ধকারে গুটিসুটি ঢুকে পড়ার কথাও বলছেন। কিন্তু দেখুন অ্যানোম্যালি বর্তমান। যেমন, মধ্যপ্রদেশ। তুঘলকীয় জমানায় নৈকট্যের আস্বাদ পাওয়া যে প্রদেশ দিল্লীর তুলনামূলক কাছে হওয়া সত্ত্বেও এবং ভাষার প্রশ্নে সমস্তরের বাসিন্দা হলেও উন্নয়নের নিরিখে নিশ্চয়ই দাক্ষিণাত্যের কাছে হার মানবে। নিম্নহিমালয়ের সামান্য নিচের বেঞ্চের ছাত্রদেরও দেখুন। বিহার, উত্তরপ্রদেশ। হিন্দীবলয় বা গোবলয় নামক হোমোজিনিয়াস ট্যাগ সত্ত্বেও এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায় দেখ। বিহার নিয়ে বাকী ভারত এই কিছুদিন আগে অবধিও হাসাহাসি করেছে। চোখ রাখুন গুজরাতের দিকে। তিনসুকিয়ায় ইন্দ্রপ্রস্থ স্থাপিত হলেও যে রাজ্য তাদের বানিয়াবুদ্ধির জোরে উঠে দাঁড়াতই। কারণ ঐতিহাসিক হলেও হতে পারে। আবার দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতি কেন্দ্রের বদান্যতার পিছনে কারণ খুঁজতে গোটা দশবারো গবেষণাধর্মী লেখাও নিশ্চয়ই খুঁজে পাওয়া যাবে, যার মধ্যে কিছু পরস্পরবিরোধী এলিমেন্ট থাকবেই। ফলে হিন্দী, দিল্লী ইত্যাদির ‘বড়দাত্ব’র সাথে আপনি প্রান্তিকতা তথা উন্নয়নের কোরিলেশন খুঁজলে অন্ততঃ ভারতের ক্ষেত্রে কোন গ্যালাক্সির সাইডভিউ মার্কা গ্রাফ পাবেন না। বরং থালার মতো কিছু একটা অবশ্যি পেতে পারেন।

    আপনি বলছেন, ভাষা সংস্কৃতির প্রশ্নে লড়াই। নিজের ভাষা বা সংস্কৃতির প্রশ্নে সারা পৃথিবীতে লড়াইয়ের নমুনা থাকলেও, আপাতত গোর্খাল্যান্ডের দাবী ঘিরে একটা দ্বিতীয় ১৯৭১ চলছে কি! হলুদ সবুজ পতাকা নিয়ে মহিলাদের প্যারেডের সাথে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ফোটোগ্রাফে খুঁজে পাওয়া সেইসব অসামান্য পদাতিকদের দাবীর সিমিলারিটি, আমি অন্ততঃ কিছু পাচ্ছি না। গুরুং সাহেব তো কোথাও শুনছি না যে চীৎকার করে বলছেন যে, বঙ্গগালীরা তাঁদের উপর ভাষা সংস্কৃতি চাপিয়ে দিচ্ছে। সদ্য অপসৃত কমরেডগণ সম্ভবতঃ এই ক্ষেত্রে চৈনিক পদাঙ্ক অনুসরণ করেননি। অবশ্য উচ্চ অক্ষাংশের লোকজন এটা ভালো বলতে পারবেন। তাছাড়া, জিটিএর মাধ্যমে বাঙালী ভাষা সাম্রাজ্যবাদ অবশ্যই রুখে দেওয়া যেত, নয় কি!

    আপনি বলছেন, উন্নয়ন কখনোই স্রেফ কেন্দ্রীয় দাক্ষিণ্য নয়। না, নয় তো। একশোবার নয়। যে এলাকা যতবেশী অবদান রাখছে, তাদের তত বেশী মালাই চমচম বরাদ্দ। কিন্তু যে এলাকা বেশী অবদান রাখতে পারছে না, তাদের উন্নতির সমতাও রাখা দরকার। এবং রাজ্যের হস্তিনাপুরের গজদন্তমিনারে চড়ে টর্চের আলো ফেললে পাহাড়ের কতটুকুই বা আলোকিত হয়। কেন্দ্রের বরাদ্দ অনুদান (কেন্দ্রীয় অনুদানই একমাত্র পয়সার থলি তা বলতে চাই না) একটি ইউনিফর্মিটি মেনে খরচ হলে এ আশঙ্কা দূরীভূত হয়। সেইকারণে আমি ডিস্ট্রিবিউটেড আর্কিটেকচারের সপক্ষে। তো, বক্তব্য এই যে, প্রশাসনিক প্রয়োজনে রাজ্য বিভাজন এই মূল সূত্রকে বা আর্কিটেকচারকে ভায়োলেট করে না। বরং রাজ্য বা রাষ্ট্র একটি নিরপেক্ষতা অ্যাট্রিবিউট ফ্রী তে পায়, কিন্তু উল্টোটা হলে হাজার হ্যাপা, এবং বেচারী মমতা কতবার হাওয়াই চটি পড়ে পাহাড়, সমতল, অসমতল, বনবাদাড় করবে বলুন দিকি!

    আপনি বলেছেন, রাশান দের কথা। ইউক্রেন ইত্যাদি অঞ্চলের কথা। এই ইতিহাস সম্পর্কে আমি একেবারে অজ্ঞ। রাশিয়া বলতে সর্বাগ্রে মনে আসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, স্ট্যালিনগ্রাদে দুটি সৈনিক পিছু একটি করে বন্দুক, বৈকানুর এবং প্রোটন রকেট। হ্যাঁ বলশেভিকদের খানিক আবছা ছবিও আসে, কিন্তু সত্যি বলতে কি এত ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে তর্কযুদ্ধ নামার মানে হয় না। কিন্তু একটু অন্য প্রসঙ্গ হলেও রাশিয়ানদের নিয়ে আমিও একটু দুপয়সা দেব না তা কি হয়! খুব সম্প্রতি কিছু গণিতজ্ঞ (আবার এই সম্প্রদায়ের কথা আসছে, কারণ এদের জাগতিক তুচ্ছ বিষয়ের উপরে উঠে বস্তু অবলোকন করার ক্ষমতা অবশ্যই ভেবে দেখার মতো) আঁক কষে দেখিয়েছেন, যে, মস্কোকে রাজধানী করার কারণ হিসেবে সুনির্দিষ্ট গাণিতিক তত্ত্ব রয়েছে। হাতের সামনে পেপারটা খুঁজে পাচ্ছি না, কিন্তু মোদ্দা প্রশ্নটা কানেক্টিভিটির এবং ইনফরমেশন ফ্লো এর। নইলে আশেপাশের শহরগুলি সেইসময় কিছুমাত্র দুয়োরাণী ছিল না। অবশ্যই এইসমস্ত থিওরীর আবিষ্কার হয়েছে অনেক পরে, এবং কি আশ্চর্য দেখুন, ডোনাল্ড নুথ যেমন বলেছেন বেস্ট প্র্যাকটিস থিয়োরীকে ইন্সপায়ার করে, প্রায় মিলেই যাচ্ছে একরকম। ঠিক এমনভাবেই আমি ভারতীয়ত্বের কথা বলেছি। যে ভারতীয়ত্ব প্রান্তিকতাকে বিসর্জন দেয় আরো বেশী প্রান্তিক প্রদেশগুলিকে মেনস্ট্রীমের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু পোটেনশিয়াল রিস্ক থেকে যায় কেন্দ্রীয় আগ্রাসন বা হিন্দী আগ্রাসনের, কিন্তু দাক্ষিণাত্য কি আমাদের আশা ভরসা যোগায় না! আসলে, প্রতিটি প্রান্তিক নোডের উন্নয়ন মারফত কানেক্টিভিটির আইজেনভ্যালুর মান আরো বাড়ালে একটা সমস্তত্ব ভাব আসে। সৃষ্টির গোড়ায় ভেজাল পড়ছে বলে হাঁউমাঁউ চীৎকার কমে, ভারতীয় ঘোড়া গা ঝেড়ে অশ্বমেধে বেরোয়। তো, জিটিএ নামক অপরিক্ষিত হাঁসটি যে স্রেফ শো পিস, তার মাধ্যমে যে এটা করা যেত না, এটা প্রথম চোটেই ধরে নেওয়া কি ঠিক হ’ল গুরুং এন্ড কোং এর?

    এইসব লিখে আমি কানখাড়া করে শুনলুম একটি ‘ঢঅঅঅং’ নামক বৃহত্ত গৎবাদ্য। এটি থিসিসের চেতাবনি। অতএব সটান চম্পট দিচ্ছি।
  • PM | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ১১:৩১616222
  • একটা ছোট্টো ইনপুট। যদ্দুর জানি ১৯৭০ এর সাইক্লোন আর মুজিবের প্রধান মন্ত্রিত্বের দাবী প্রত্যাখ্যানের আগে স্বাধীন বাংলাদেশের দাবী কখোনো ওঠে নি। এটা বোধ হয় ঐতিহাসিক সত্য। (ভুল বললে কেউ ধারিয়ে দিন প্লিজ)

    বাংলাদেশ ৭০-এর নির্বাচনের পরে সারা পাকিস্থান কে নিয়ন্ত্রন করার জায়্গায় ছিলো। দাবী ছিলো পাক প্রধান্মন্ত্রী হিসেবে মুজিবের প্রতিষ্ঠার। ইয়াহিয়া খানের "ইধার হাম-উধার তুম" ( জাতিগত আত্ম নিয়ন্ত্রন এর কাছাকাছি প্রস্তাব) মুজিব ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। সেদিন যদি মুজিব প্রধানমন্ত্রী হতেন ( যা তাঁর ন্যায্য পাওনা ছিলো), তাহলে আজ হয়্তো বাংলাদেশ হতই না।

    উন্নয়ন-ও একটা গুরুত্ব্পুর্ন বিষয় ছিলো। পূঃ পকিস্থানে বরদ্ব পঃ পাকিস্থানের ৪০% ছিলো। যার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ ছিলো।

    ভাষা আন্দোলন আর জাতিগত আত্মনিয়ন্ত্রন /স্বাধীনতা আন্দোলন আর উন্নয়নের দাবী গুলিয়ে ফেললে হবে না।

    সেক্ষেত্রে চীনের সাথে তুলনা অবান্তর।
  • h | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ১২:২৪616223
  • ইশান এর বক্তব্যে সহমত হতে পারছি না, লিঙ্গুইস্টিক বেসিস, পঞ্চাশের দশকে, অন্ধ্র রাজ্য গঠন আর মহারাষ্ট্র রাজ্য গঠন এ ব্যবহার করা হয়েছিলো। ধরে নেওয়া হয়েছিল এই ক্যাটিগরি ই সবচেয়ে কম বিপজ্জনক। ভাষাগত জাতিসত্ত্বা র আর্টিকুলেশন কে মান্যতা দেওয়া হচ্ছিলো যেমন ঠিক তেমনি আন্দোলন কারী দের মধ্যে একটু বৃহদর্থে, 'উন্ন্যয়ন' বা অর্থনইতিক সুযোগ এর ডাইমেনশন ছিল না সেটা বললে ইতিহাসের অপব্যাখ্যা হবে। মহারাষ্ট্র রাজ্য নির্মাণ প্রশ্নে তীব্রতম লড়াই টা হয়েছিল, বম্বের ভবিষ্যত নিয়ে।

    কে এম মুনসী, বুঝলি, জনসংঘের কে এম মুনসী, বলেছিলেন, ভাষাগত মেজরিটারিয়ানিজম এক বিচিত্র বৈষম্য তৈরী করে। আজকের টেলিগ্রাফে, মুকুল কেসভনের প্রবন্ধটায় তার উল্লেখ রয়েছে। এই (কে এম মুনসী আমার মনে হয় হিন্দু জাতীয়তাবাদী দের মধ্যে সবচেয়ে ইনটারেস্টিং ইনটেলেকচুয়াল, মাঝে মাঝেই হিন্দু মহাসভা র লোক দের বিগটেড বলে গাল পাড়তেন।) অবশ্যই এই সব কথা স্টেটাস কুয়ো র স্বপক্ষে বলা, কারণ মুম্বাই শহর টা 'ঘাটী' মারাঠী দের শিক্ষিত এবং কারখানার মালিক ধনী ব্যবসায়ী মানুষ মাত্রেই হজম করতে পারেন নি, সেদিক দিয়ে তাঁরা শোভা দে দের পূর্বসূরী। (আমার গল্প এসে যায় বড্ড, এটা তো সকলেই জানে, হাইট কেস হল, জিন্না এমনকি ৪৮ সালের সাক্ষাৎকারেও নাকি বলেছিলেন, তিনি রিটায়ার করে বম্বে তে মালাবার হিল প্লেজান্ট রোড এ পুরোনো বাড়ি তে থাকবেন, আফটার অল দ্যাট ঃ-)))))))))))))

    বরঞ্চ বলা যেতে পারে, অর্থনইতিক বৈষম্যের যে দৈনন্দিন ও নিদারুণ সত্য সেগুলি ই এই ধরণের সত্ত্বা নির্মাণের কাজে সাহায্য করে।

    হ্যাঁ তবে, ক্লিন্টন প্রদর্শিত পথে, আমি বলব না, পুরোটা 'ইট ইজ দ্য ইকোনোমিক স্টুপিড', হিউম্যান ডিগনিটি একটা বড় মাপকাঠি। তার মাপকাঠি আবার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ইন্ডেক্স, শিক্ষা সংক্রান্ত ইনডেক্স ইত্যাদি যেটায় আবার পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট লাগে, পলিসি প্রায়োরিটাইজেশন লাগে। এটা আমি লক্ষ্য করিনি তা না, আমি সরাসরি ই বলেছি, মুগাবে কোরাপ্ট হলেও, জিম্বাবাওয়ে থেকে রোডেশিয়া য় প্রত্যাবর্তন সম্ভব না। এবং আমি কখন ই বলব না, মধু কোডা কোরাপ্ট বলে, ঝাড়খন্ড রাজ্যে পজিটিভ ডিসক্রিমিনেশন বন্ধ হোক, তবে অবশ্যই বলবো, মধু কোডার শাস্তি হোক। হচ্ছেও।

    বিমল গুরুং রা ক্ষমতা চাইছেন দিল্লীর কাছে, কখনো কংগ্রেস কখনো বিজেপি র সংগে লবি করতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ কথা দিচ্ছেন, কেউ দিছেন না, কেউ নানা শর্ত চাপাচ্ছেন, এনাদের অবস্থাটা অশোক মিত্রের মতই। তাঁরা দেখছেন, কখনো এশিয়ান গেমস এর নামে, কখনো কমনওয়েল্থ গেম্স এর নামে প্রচুর ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে দিল্লী তে, অথচ অন্যত্র অন্ধকার। তো সেক্ষেত্রে ক্ষমতা কেন চাইবেন না। বিপদ একটাই তাঁদের রাজ্য গঠন পরবর্তী কর্মসূচী শূন্য, লো লেভেল পাবলিক সিভিল ওয়ার্ক্স ছাড়া কিসু পরিকল্পনাও নাই।
  • কৃশানু | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ১৫:৫৮616224
  • হানুদার লাস লাইন প্রসঙ্গে - এটাই কি ভারতের স্বাধীনতার বিরোধিতায় 'ভালো ইংরেজ'দের যুক্তি ছিল না?
  • h | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ১৬:৩৩616225
  • দেখো তুমি যদি কোনো স্পেসিফিক কনটেক্স্ট বা রেফারেন্স এর এই তথ্য পেলে, সেটা পরিষ্কার করে না জানালে, তার সংগে বিরোধিতা ব সহমত তো জানাতে পারি না। তবে তুমি নিজেই ই যদি ভালো ইংরেজ হয়ে থাকো, আরেকটু খোলসা করে বলো কি বলতে চাও।

    তবে আমার পরিষ্কার বক্তব্য হল, এই বিশদ প্রশ্ন আজ না হলেও কাল উঠবে, অ্যাকচুয়ালি অলরেডি উঠছে। মদন তামাং তুলেছিলেন, পি বি রাই রা তুলছেন। ইনফ্যাক্ট ওঁরা যে আলাদা মিছিল করছেন, বা করে থাকেন, তার মূল কারণ শুধুই আইকোনোগ্রাফি না, ডিটেল্ড কর্মসূচী তে মত পার্থক্য আছে বলে। মজার কথা হল, প্রচুর অ্যানিমোসিটির পরে, এখন এই যাত্রায়, বি গু রা এঁদের সাহায্য চাইছেন, কারণ তাঁরাও জানেন, শুধুই জাতি ভিত্তিক মেজরিটি, তাঁদের পোলিটিকাল অ্যাম্বিশন, গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে অন্তত রাখা সম্ভব হবে না।
  • h | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ১৬:৩৫616226
  • আমার একটা তথ্যগত ভুল স্বীকার করা উচিত। কে এম মুন্সী, কংগ্রেসে ই ছিলেন। তবে তখন অনেকেই কংগ্রেসে এবং অন্যত্র এক সংগে থাকার ঐতিহ্য ও ছিল।
  • h | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ১৬:৪৬616227
  • 'টি' এর বক্তব্যের, বিশেষতঃ শেষ পোস্টের প্রসংগে বেশি দূর আর গেলাম না। কারণ শেষ পোস্ট টির বক্তব্য অনুধাবন করা আমার সামান্যবুদ্ধি তে অসম্ভব।

    বিমল গুরুং দের রঙিন ছবি উঠছে বলে তাদের ক্রেডিবিলিটি কম, আর মুক্তিযুদ্ধের সেনা দের ব্ল্যা`ক অ্যান্ড হোয়াইট ছবি তে তার ঐতিহাসিক ক্রেডিবিলিটি বেশি, এটা যদি বক্তব্য হয়ে থাকে, তাহলে কি আর রাজনৈতিক আলোচনা করব।
  • de | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ১৯:৩৭616228
  • এটা তো টি বলেনি হানুদা -- একেবারেই না -- বরং যে বৈষম্য, অত্যাচার একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মোটিভেট বা ইন্সপায়ার করেছিলো গুরুংদের ক্ষেত্রে সেরকম বৈষম্য, অত্যাচার বা জাতিসত্ত্বার চুড়ান্ত অবদমন (বাকি রাষ্ট্রবাসীর দ্বারা) ধরণের কিছু ঘটেনি -- এটাই তো বল্লো।

    টি এর লেখা বেশ বুঝতে পারছি -- বরং গোর্খা জাতিসত্ত্বা ব্যাপারটা আসলে কি সেটাই পরিষ্কার নয় --

    ভাষাভিত্তিক জাতিসত্ত্বা নাকি সংস্কৃতিগত জাতিসত্ত্বা নাকি উন্নয়ন প্রশ্নে একাধিপত্য -- গো জ মো র লোকেদের কোনটা কাম্য? কিসের জন্য গোর্খাল্যান্ড চান তারা?
  • PT | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ২১:৫৬616230
  • Ishan

    "চিনের মুক্তিযুদ্ধের যদি ইতিহাস পড়েন,......"

    যখন চিন নিয়ে আলোচনা হবে তখন চিনের ইতিহাস নিয়ে লিংক দেব। আপাততঃ এটা ঐতিহাসিক সত্য যে পশ্চিম পাকিস্থান ঐ ছয়দফা দাবী মেনে নিলে হয়ত বাংলা নামক আলাদা দেশটির দাবী সেই সময়ে খুবই দুর্বল হয়ে যেত। এবং ঐ ছয়দফা দাবী-আবার বলি- জাতিসত্বা সম্পর্কে কোন প্রস্তাবই রাখেনি।

    আমার মনে হয় যে ভারতে যত অসাম্য বাড়বে এই জাতিসত্বা ইত্যাদির দাবী ততই বেশী মাথাচাড়া দেবে। মানুষ বোধহয় নিজেদের মত দেখতে নেতাদের দ্বারা প্রতারিত হতে বেশী পছন্দ করে। তাই আসল জায়গায় ঢুঢুরাম বনেই থাকে-বুঝতেও পারেনা।

    ভাগ হলেই যদি সব সমস্যা মিটে যেত তাহলে বিহারের উন্নতির জন্য স্বাধীনতার প্রায় ৬০ বছর অপেক্ষা করার পরে হঠাৎ নীতিশকুমারকে এত লাফালাফি করতে হত না। আর কি আশ্চর্য, এতদিন বাদে তৈরি বিহার-উড়িষ্যার দুটো IIT-রই ডিরেক্টরের চেয়ারে দুজন বাঙালীকে নিয়ে গিয়ে বসাতে হল!!
  • potke | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ২২:০৭616231
  • এবং দুজনের এগনেস্টেই ভিজিলেন্স কমিশন-ও বসাতে হল ঃ)
  • potke | ০৯ আগস্ট ২০১৩ ২২:০৮616232
  • যাগ্গে,টই বেলাইন করতে চাইনা, আলোচনা চলুক।
  • ranjan roy | ১০ আগস্ট ২০১৩ ০৩:২৩616233
  • চমৎকার আলোচনা চলছে,উৎসাহের সঙ্গে পড়ছি। থামাবেন না, প্লীজ!
  • h | ১০ আগস্ট ২০১৩ ০৮:০৬616234
  • চুড়ান্ত অবদমন বলতে তুমি কি কি বোঝাচ্ছো দে, সেটা পরিষ্কার করে না দিলে এই তুলনা সম্ভব না।
  • কল্লোল | ১০ আগস্ট ২০১৩ ০৮:৫৯616235
  • গোর্খাল্যান্ড দাবীর সূচীমুখটি কি?
    সুবাস-বিমল-রোশন-মদন সকলেই বলছেন "আমরা বঞ্চিত"। কথাটায় ভুল কিছু নেই। সামগ্রিকভাবে উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত, তার মধ্যে দার্জিলিংএর পাহাড় নানাভাবে বঞ্চিত। শিলিগুড়ির "উন্নয়ন" হয়েছে (যদিও এই উন্নয়নে আমি একমত নই, তবু তক্কের খাতিরে)। সেই উন্নয়নের লাভ পেয়েছে মূলত সমতলের বাঙ্গালীরা। এছাড়া পাহাড়ী মানুষেরা অর্থাৎ গোর্খা, লেপচা, ভুটিয়া, বাঙ্গালীদের কাছে অদ্ভুত তাচ্ছিল্য পেয়ে এসেছে, বাঙ্গালীদের কাছে, এরা সকলেই "নেপালী" ও "বাহাদুর"। এটা নিশ্চই একধরনের অবদমন।
    তাই যদি পাহাড়ের বাসিন্দারা (গোর্খা, লেপচা, বাঙ্গালী, মাড়ওয়ারী, বিহারী সকলকে নিয়ে) আলাদা হতে চায় তো তাতে আপত্তির কিছু থাকা উচিৎ নয়।
    আপত্তিগুলো কিন্তু আবেগজনিত। "বাংলা আবার ভাগ হতে দেবো না", "দার্জিলিং বাংলার মাথার মুকুট" ইঃ। আলাদা হলে পব কি হারাবে? প্রায় কিছুই না। ওখানকার বাঙ্গালীরা প্রাথমিকভাবে অসুবিধায় পড়বেন। আমরা-ওরা-র ধাক্কা আর কি। সেটা নিঃসন্দেহে খারাপ। কিন্তু পাওয়া যাবে রোজকার ঝামেলা থেকে মুক্তি। দার্জিলিং আলাদা রাজ্য হলে, সে রাজ্যের অর্থনীতির মঙ্গলের কারনেই চা শিল্পে জোর পড়বে। তাতে চা বাগানগুলোর হাল ফিরলেও ফিরতে পারে।
  • PT | ১০ আগস্ট ২০১৩ ০৯:৫০616236
  • দার্জিলিং মানব উন্নয়নের মাপকাঠিতে পব-র প্রথম চারটি জেলর মধ্যে চলে আসে। সেই তুলনায় বাঁকুড়া বা পুরুলিয়া একদম পিছনের সারিতে। গোর্খাল্যান্ডের সমর্থকেরা সেটা মেনে নিয়ে বক্তব্য রাখলে বুঝতে সুবিধে হয়।

    তবে তাচ্ছিল্য আর আর আবেগ মাপা যায় না। ভারতীয়রা সাধারণ ভাবে রেসিস্ট জাতি। মাছখেকো বাঙ্গালীদের হায়্দ্রাবাদে বাড়িভাড়া পেতে কিম্বা মুসলমান (বাঙ্গালী হলেও) কলকাতায় বাড়ীভাড়া পেতে ( ছাত্রদের পিজি সহ) কত অসুবিধে সেটা প্রায় সকলেই জানে। ভারতের মধ্যে মুসলমানদের একটা আলাদা রাজ্য করে দিলে কেমন হয়?

    কিছুদিন আগে একটা প্রশ্ন করেছিলামঃ কালো আর বাদামীর দেশ ভারতে অন্তর্দেশীয় বিমানে এত ফরসা চেহারার বিমান সেবিকাদের প্রাধান্য কেন? একজন অবিশ্যি বলএছিলেন যে সব (কালোরা) তো আর নন্দীতা দাস নয়!!!!!
  • dd | ১০ আগস্ট ২০১৩ ১১:১৩616238
  • "এছাড়া পাহাড়ী মানুষেরা অর্থাৎ গোর্খা, লেপচা, ভুটিয়া, বাঙ্গালীদের কাছে অদ্ভুত তাচ্ছিল্য পেয়ে এসেছে, বাঙ্গালীদের কাছে, এরা সকলেই "নেপালী" ও "বাহাদুর"। এটা নিশ্চই একধরনের অবদমন।" শ্রী কল্লোল উবাচ।
    তো বাঙালীরা সবাইকেই তাচ্ছিল্ল করে। "আমরা মারোয়ারীদের মেরো বলি পাঞ্জাবীদের পাঁইয়া"। এতো বহুদিনের সত্য। এনাদের আলাদা রাজ্য থাকলেও।

    তো এর জন্য আলাদা রাজ্যের দাবী কেনো?
  • PT | ১০ আগস্ট ২০১৩ ১১:৫৭616239
  • আবেগ! আবেগ! তোমার মস্তিষ্ক নাই বিমল?
  • কল্লোল | ১০ আগস্ট ২০১৩ ১২:০৭616242
  • ডিডি। আমার এছাড়া - টা খেয়াল কল্লে না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন