এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | ১৫ মার্চ ২০১৫ ০৮:৫৯668400
  • "মানে, মৌলবাদীদের চিন্তা ভাবনাকে বাজারের অংশ করে দেওয়া হোক।"

    আমার মতো ঘোর ক্যাপিটালিস্টও এটা পড়ে একটু নড়ে বসলাম। বাজারের নতুন দিগন্ত! :d
  • Tim | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১০:১৪668401
  • "কিন্তু সাবক্লস জুড়ে দেওয়া হোক যে মানুষ ফানুষ মারলে পেছনে ডান্ডা ঢোকানো হবে।"

    ছিঃ শাক্যজিৎ। স্টেট ফান্ডেড ভয়োলেন্সকে ডেকে আনছেন? তাহলে আর বাজার করে কি লাভ? বরং সাবক্লসে আরো আরো আরো প্রিভিলেজ দিয়ে বোঝাতে হবে। মানুষ মারার পেছনে প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকার হাঁটু গেড়ে বসে আছে মনে, সেটা খামোখা জোর করে তাড়ানো যায়? গেছে? তাড়িয়ে কি লাভ? ধর্ষকাম, হত্যাবাসনা সবই পাশাপাশি ঘেঁষাঘেঁষি করে থাক না।
  • Tim | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১০:২৫668402
  • অর্পনের লিংকের প্রেক্ষিতেঃ খোলা পাতায় ছবি প্রকাশ করে সংবাদপত্র দুষ্কৃতিদের মব লিঞ্চিং এর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এইটা শাক্যজিতের তরফে প্রতিবাদযোগ্য হবে আশা করছি।
    কালকেই পড়ছিলাম পার্ক স্ট্রিট কান্ডের মূল অভিযুক্ত কাদের খান এখনও পলাতক। ভাগ্যিস ছবি সার্কুলেটেড হয়নি!
  • শাক্য | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১৩:২৩668405
  • হেট স্পিচ চলুক না ! প্রবলেম কি! মানুষ কোপালে ডান্ডা দেওয়া হবে। সেটা স্টেটের দায়ীত্ব।

    ইন দ্য লং রান এতে ক্ষতি কম হবে। স্টেটের পুলিশ প্রহরা লাগবে যাতে হেট স্পিচ শুনে লোকজন মানুষ না মারে। তাতে কিছু খরচ হবে। কিন্তু টাওয়ার ধ্বংস করা, একটা মসজিদ ভেংগে দেওয়া বা একটা লাইব্রেরী পড়ানোর থেকে ইন দ্য লং রান সেটা কম লস।

    এবার, এই মৌলবাদীদের এক্সিকিউশনের মধ্যে মানুষ মারা বা ঘরবাড়ি পোড়ানো ছাড়া সব পড়বে। ধরো কেউ বলল হেট স্পিচ দিয়ে লোক ক্ষ্যাপাবে। সরকার তাকে মাঠ দিল, মাইক দিল, লোক জড়ো করে দিল। কেউ বলল বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করবে। সরকার তাকে বলল যে ওটা করলে চাপ হয়ে যাবে, বরং একটা নকল বুদ্ধমুর্তি গড়ে দিচ্ছি, সেটাকে ডেমলিশ করো। এবার কে কত সুন্দরভাবে সেটাকে এক্সিকিউট করে, ডিনামাইট ফাটিয়ে না কি প্লেন থেকে বোমা ফেলে নাকি বাবরীর মতন। সকলে প্ল্যান জমা দেবে। টেন্ডার ডাকা হবে। বেস্ট প্ল্যান বা বেস্ট প্রাইসের ভিত্তিতে সেই গ্রুপের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে দায়ীত্ব। ইভেন্ট ঘোষনা করা হবে মিডিয়াতে। সেখানে কার্নিভাল হবে, লোকে টিকিট কেটে দেখতে আসবে এবং পকর্ন খাবে। সরকারের ঘরে দু পয়সা আয় হবে

    এবং এই মৌলবাদীদের একটা গ্রুপকে বলা হবে যে দেখো বাপু, তোমাদের সবরকম সুযোগ সুবিধে দিচ্ছি, ব্যাক করছি। তার বদলে তোমাদের দায়ীত্ব হবে অন্য কোনো এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ বাঁদরামো করলে তাদের কেলিয়ে সোজা করে দাও। নাহলে কিন্তু এই সব সুযোগ সুবিধে তুলে নেব।
  • শাক্য | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১৩:২৩668404
  • হেট স্পিচ চলুক না ! প্রবলেম কি! মানুষ কোপালে ডান্ডা দেওয়া হবে। সেটা স্টেটের দায়ীত্ব।

    ইন দ্য লং রান এতে ক্ষতি কম হবে। স্টেটের পুলিশ প্রহরা লাগবে যাতে হেট স্পিচ শুনে লোকজন মানুষ না মারে। তাতে কিছু খরচ হবে। কিন্তু টাওয়ার ধ্বংস করা, একটা মসজিদ ভেংগে দেওয়া বা একটা লাইব্রেরী পড়ানোর থেকে ইন দ্য লং রান সেটা কম লস।

    এবার, এই মৌলবাদীদের এক্সিকিউশনের মধ্যে মানুষ মারা বা ঘরবাড়ি পোড়ানো ছাড়া সব পড়বে। ধরো কেউ বলল হেট স্পিচ দিয়ে লোক ক্ষ্যাপাবে। সরকার তাকে মাঠ দিল, মাইক দিল, লোক জড়ো করে দিল। কেউ বলল বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করবে। সরকার তাকে বলল যে ওটা করলে চাপ হয়ে যাবে, বরং একটা নকল বুদ্ধমুর্তি গড়ে দিচ্ছি, সেটাকে ডেমলিশ করো। এবার কে কত সুন্দরভাবে সেটাকে এক্সিকিউট করে, ডিনামাইট ফাটিয়ে না কি প্লেন থেকে বোমা ফেলে নাকি বাবরীর মতন। সকলে প্ল্যান জমা দেবে। টেন্ডার ডাকা হবে। বেস্ট প্ল্যান বা বেস্ট প্রাইসের ভিত্তিতে সেই গ্রুপের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে দায়ীত্ব। ইভেন্ট ঘোষনা করা হবে মিডিয়াতে। সেখানে কার্নিভাল হবে, লোকে টিকিট কেটে দেখতে আসবে এবং পকর্ন খাবে। সরকারের ঘরে দু পয়সা আয় হবে

    এবং এই মৌলবাদীদের একটা গ্রুপকে বলা হবে যে দেখো বাপু, তোমাদের সবরকম সুযোগ সুবিধে দিচ্ছি, ব্যাক করছি। তার বদলে তোমাদের দায়ীত্ব হবে অন্য কোনো এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ বাঁদরামো করলে তাদের কেলিয়ে সোজা করে দাও। নাহলে কিন্তু এই সব সুযোগ সুবিধে তুলে নেব।
  • Arpan | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১৪:০৮668406
  • "এবং এই মৌলবাদীদের একটা গ্রুপকে বলা হবে যে দেখো বাপু, তোমাদের সবরকম সুযোগ সুবিধে দিচ্ছি, ব্যাক করছি। তার বদলে তোমাদের দায়ীত্ব হবে অন্য কোনো এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ বাঁদরামো করলে তাদের কেলিয়ে সোজা করে দাও। নাহলে কিন্তু এই সব সুযোগ সুবিধে তুলে নেব।"

    এটা নতুন কোন কনসেপ্ট না। ভালো তালিবান খারাপ তালিবান ইত্যাদি ভাগাভাগি হামিদ কারজাই থেকে আসিফ জারদারি সবাই করে এসেছে। তাতে করে পেশোয়ারে আর্মি স্কুলের ম্যাসাকার আটকানো যায়নি। ইন্টেলিজেন্সের কাছে ভালো তালিবানরা কোন আগাম খবরই দিতে পারেনি সেতো দেখাই যাচ্ছে। বরং নতুন করে জঙ্গীদের ফাঁসি দেওয়া ফিরিয়ে আনতে হয়েছে।
  • Tim | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১৪:১৯668407
  • ক, এটাই লিখতে যাচ্ছিলাম।

    আর সমস্ত স্টেটই ইরানের মত করে মৌলবাদীদের হাতে চলে গেলে কী হবে সেটাও জানার ইচ্ছে রইলো।
  • π | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১৪:২০668408
  • মডেলে অনেক ফ্যালাসি আছে শাক্য।
    হেট স্পিচে বলা হবে অন্য ধর্মের বা অবিশ্বাসীরদের ধরে ধরে কেটে ফেলো, মেরে ফেলো। তারপর বলা হবে, না এটা খালি বলার জন্য বলার হচ্ছে, আসলে মেরো না। সত্যি সত্যি মারার কিন্তু নিয়ম নেই ইঃ ই ঃ? তাহলে আর তাতে লোক খেপবে কেন ? আর সেটা যদি না বলে তাহলে তো সেটা মৌলবাদই নয়, তাই সেটা নিয়ে সমস্যাও নেই ঃ)
    যে বাদ বলছে আমরা বাদে আর সবাই বাদ, তা সে ধর্ম হোক কি রাজনীতি, সেই বাদ অন্য কোন কিছুর সাথে সহাবস্থান কীকরে করতে পারে, বাই ডেফিনিশন মৌলবাদ হলে পারেনা।

    হ্যাঁ, যেটা মনে করি, সেটা হল, হয়তো মৌলবাদীদের সাথে ডায়লগে যাওয়া সম্ভব, কতটা এফেক্টিভ ধন্দ আছে, কিন্তু সবরকম ভাবে সেটা বন্ধ করে দেওয়াও ঠিক মনে করিনা। কিন্তু সেই ডায়লগের লক্ষ্য তো মৌলবাদের মনোভাব পরিবর্তন করাই, তাকে ঐ মৌলবাদী ফর্মেই চলতে দেওয়া নয়। দিলে অন্য সবকিছুর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়।
  • Biplob Rahman | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১৪:৩২668410
  • "এদেশে মাদ্রাসা খুলতে অনুমতি নিতে হয় না, ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করলেও কোনও ক্ষতি নেই। জঙ্গী ভরণপোষনের সব ধরণের সহযোগিতা করে বদনাম কামানোর পরেও ইসলামী ব্যাংক রাষ্ট্রীয় বহু অনুষ্ঠানের স্পনসর হতে পারে! উল্টোদিকে শুধুমাত্র মুক্তবুদ্ধির চর্চা (ব্লগে লেখালেখির নামে যারা ধর্মকে ব্যঙ্গ করে, যুক্তিহীন গালাগালি করে তারা ব্লগার কিনা সন্দেহ আছে) করার কারণে সুব্রত শুভ, রাসেল পারভেজ কিংবা মশিউর রহমানকে গ্রেফতার হতে হয়। অভিজিৎকে হত্যার হুমকি দিয়ে রাখা হলেও রাষ্ট্র কিংবা প্রশাসনের তাতে কিছু যায় আসে না, অভিজিৎকে শেষমেষ খুন হয়ে যেতে হয়!"

    http://www.banglatribune.com/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8
  • π | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১৬:১১668411
  • ddt, ax কে একটা কথা বলার ছিল। হয়তো পড়েছ।
    'আমি নাস্তিক কিন্তু আমার আশেপাশের বহু মানুষ, কাছের মানুষ মুসলিম। তাদের উপর আমার রাগ বা ঘৃণা নেই, তাদের আনন্দে আমি আনন্দিত হই। প্যালেস্টাইন কিংবা কাশ্মীরে মুসলিম জনগোষ্ঠির উপর আক্রমণ হলে তাদের পাশে দাঁড়াতে কার্পণ্য বোধ করি না'
    এটাও অভিজিত রায়ের ই কথা।
  • শাক্যজিৎ | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১৭:৪৭668412
  • মৌলবাদের মনোভাব পরিবর্তন করার গুরুদায়ীত্ব তোমায় আমায় কে দিয়েছে? মানে, এই যে ইন্ট্রিনসিক অ্যাসাম্পশনটা, যে মৌলবাদ মানেই খারাপ, তাই তাকে পাল্টাতে হবে, এই খারাপ ভাল-র ধারণাটা ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া লাগে না? এর বদলে মৌলবাদকে একটা জীবন-দর্শন হিসেবে দেখলেই হয়। বড়জোর একটু একসেন্ট্রিক জীবন দর্শন (তাতেও আপত্তি আছে, কিন্তু তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম না হয়)। আসে পাশে নাগা সন্নাসী, পাগল-ছাগল, ক্রিমিনাল, রায়টিয়ার, পাগলাটে ট্রট, ব্যর্থ কবি, সেক্স অফেন্ডার, মাতাল প্রেমিক, অংক-পাগল অধ্যাপক, এরকম হাজার হাজার একসেন্ট্রিসিটি বিরাজমান, মৌলবাদীদের ধরলে সংখ্যাটা খুব বেশি বাড়বে না। মোদ্দা কথা হল, ইফ ইউ ক্যান নট কনভার্ট, দেন সাবভার্ট।
  • π | ১৫ মার্চ ২০১৫ ১৮:৪৪668413
  • এতে তো প্রশ্নের উত্তর পেলাম না।যে মৌলবাদ অন্য কারুর অস্তিত্বকেই স্বীকার করেনা, অন্যকে স্পেস দেয়না, তার সাথে সহাবস্থান কী করে সম্ভব ? মৌলবাদকে শুধু একটা এক্সেন্ট্রিক জীবনদর্শন হিসেবে দেখতে চাইলেই সে দিছে কই? এক্সেন্ট্রিসিটি তো অপরকে ধ্বংস করতে চায়না। মৌলবাদ চায়।
  • ranjan roy | ১৫ মার্চ ২০১৫ ২০:৩৬668414
  • মৌলবাদ= এক্সেন্ট্রিক জীবনদর্শন মাত্র?
    নাঃ, নেওয়া যাচ্ছে না।

    তুমি যদি রাস্তা দিয়ে ন্যাংটো হয়ে হেঁটে যাও, বিরক্ত হব; মুখ ঘুরিয়ে নেব।
    কিন্তু তুমি যদি রাস্তায় আমার কাপড় খুলে নিতে চাও তো প্রতিরোধ করব।

    শাক্য কি নিজের বিতর্কের লুপে ঘুরতে ঘুরতে একটি অ্যাবসার্ড, এক্সেন্ট্রিক অবস্থানে চলে যাচ্চেন?
    ভেবে দেখুন।
  • ... | ১৫ মার্চ ২০১৫ ২১:৫৩668415
  • শাক্যজিতের লেখা পড়ে হাসবো না কাদবো বুঝতে পারছিনা!
  • ranjan roy | ১৫ মার্চ ২০১৫ ২২:৪৫668416
  • আজ পাকিস্তানে একটি তালিবানিগোস্ষ্ঠীর আত্মঘাতী হামলায় চার্চে সাধারণ নাগরিক মারা গেছেন।
    একে কী বলব? এক্সেন্ট্রিজম?
  • শাক্য | ১৫ মার্চ ২০১৫ ২৩:৪১668417
  • কাল লিখব। বিশদে
  • adhuli | ১৬ মার্চ ২০১৫ ০২:৩১668418
  • যখন টই-তে তর্ক শুরু হয়, তখন শুরু তে আমরা যুক্তি কে দিফেন্দ করি, তারপর টই এগোতে থাকলে নিজেকে দিফেন্দ করাটা বেশি দরকার হয়ে পরে, যুক্তি চুলোয় যাক। তাই একবার যখন ফাবারী দের ভয়েস আমাদের কাছে না পৌছানোর দাবি এসেছে, সেটার তথাকথিত দাবিদার কে নিজের ইগো বাচাতে গেলে এখন তালিবান-দের মৌলবাদ আর আত্মঘাতী হামলা কেও শুধুমাত্র এক্সেন্ট্রিক জীবনদর্শন বলে চালানোর মত যুক্তি তুলতেই হবে। আফটার অল, I-me-myself- কান্ট বি রং।
  • SC | ১৬ মার্চ ২০১৫ ০৭:২৮668419
  • কয়েকটা কথা:
    ১) মৌলবাদ কাউকে স্পেস দেয় না, পাই দি বলল। সব মৌলবাদ এক নয়। কিন্তু সত্যিই কি মৌলবাদ বলছে কাউকে স্পেস দেব না? অনেক ক্ষেত্রে মৌলবাদ শুধুমাত্র বলে "আমাকে আঘাত কোরো না", তুমি নিজের স্পেসে থাক। তসলিমা, রুশদী, হুসেন, শার্লি হেবদো, এরস সকলেই অন্যকে "আঘাত" করেছেন, খুব deliberate একটা আঘাত করেছেন প্রফেট কে কোনো একটা ভাবে দেখিয়ে। সুতরাং, এদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়।

    ২) ফারাবীর মৌলবাদ খারাপ তা তো বোঝা গেল। বাকিরা কিরকম? নকশাল আন্দোলন নিয়ে তো বাঙালির মনে প্রচন্ড ভাবে সফট corner আছে। এরা ঠিক কিভাবে আলাদা? মাওবাদীরাও তো বলেন বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। কেউ কেউ পুলিশ দেখলে লাশ ফেলার কথা বলতেন। এরা সকলেই সশস্ত্র সংগ্রাম কে সমর্থন করতেন। ওরা যাদেরকে অপরাধী মনে করতেন, (এগেন ওরা মনে করতেন), তাদের ক্যাঙ্গারু করতে বিচার করেন। তাহলে এদের সাথে ফারাবীর পার্থক্য কেন? এদের জন্য তো বীরগাথা, মৃনাল সেনের ছবিতে মা কান্দে "সোমু ফিরে আয়ে", মহাশ্বেতা নভেল লেখেন, আহা রে, আদর্শবাদী বাচ্চা ছেলেগুলো প্রাণ দিল। তাহলে জানতে ইচ্ছে করে, সোমু বাচ্চা ছেলে, আর ফারাবী হচ্ছে একা যত নষ্টের গোড়া। মৌলবাদীদের condemn করলে শুধু ইসলাম কে condemn করলেই হবে তো? মাওবাদীদের সঙ্গে এদের আমি তো কোনো পার্থক্য করতে পারি না। এদের একটা আদর্শ আছে, আদর্শের জন্য প্রাণ দিতে পারেন, ভায়োলেন্স করেন আদর্শের জন্য। কিছু মানুষকে অপরাধী মনে করেন, তাদের শাস্তি দেবার জন্য হাতে বন্দুক তুলে নেন। সুসু পার্থক্য এইটুকুই, অতটা শিক্ষিত নন, একটু ক্রুদ। ওদের জন্য কাঁপা কাঁপা গলায় কবির সুমন গান ধরেন না, মানব বাবু মাওব্যাথীরা পথে হাঁটেন না, দুজন খানেক বুদ্ধিজীবী নাই ওদের মৌলবাদকে তত্ত্বে মুরে দেওয়ার মত। আর ওই মৃনাল মহাশ্বেতা টাইপ গুলো নেই, "সোমু ফিরে আয়ে" করে ওদের হয়ে নাকে কান্না গাবার মত। এই তো!
    সুদীপ্ত সেনের মত বলতে ইচ্ছে করে "ফারাবী বলুন, কিশেন্জি বলুন, জামা পাল্টে তো স্যার এক ই লোক।"
  • shatadal | ১৬ মার্চ ২০১৫ ০৭:৫০668421
  • মৌলবাদীরা বলে যে যার স্পেসে নিজের মত থাকুক সেটা একেবারেই সত্যি না। মুসলমান মৌলবাদীরা পৌত্তলিকদের/নাস্তিকদের কি পরিমান খারাপ কথা বলে সেটা আমরা অনেকেই জানি। অর্থাৎ ওনারা করলে লীলা, অন্যে করলে বিলা। একবার বলার চেষ্টা করে দেখবেন যে নাস্তিকদের কেউ গালাগালি দিলে তাকে শাস্তি দেওয়া উচিৎ।
  • ; | ১৬ মার্চ ২০১৫ ০৮:৩৭668422
  • এতো ঘাবড়াবার কি আছে। শাক্য এখন ওভারস্মার্ট ট্রোলিং মোডে। অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রামীণ সমাজ টমাজ আর উচ্চবর্ন হিন্দু টিন্দু নিয়ে একটা গরুর রচনা নামিয়ে ফেলেছিল। এখন নিজেও বুঝেছে ছড়িয়ে ফেলেছে। অগত্যা এবার খিল্লি মোড।
  • ranjan roy | ১৬ মার্চ ২০১৫ ০৯:০২668423
  • SC,
    সমস্ত মৌলবাদকে আমি একই রকম দেখি।
    সে ধার্মিক ( হিন্দু-মুসলিম-ক্রিশ্চান-বৌদ্ধ) হোক বা ভাষাবাদী ( অসমের বঙ্গাল খেদা আন্দোলন কারো মনে আছে?) অথবা রাজনৈতিক ( মার্ক্সবাদী/ মাওবাদী/আর এস এস/ইসলামিক)।

    সমস্ত মৌলবাদের কমন সূত্রঃ কেবল আমরাই জানি মানব সভ্যতার কোন যাওয়া উচিত। অন্যেরা নির্বোধ, তাহারা অন্ধকারের জীব। তাহাদের আলোকে আনা আমাদের কর্তব্য।
    যতক্ষণ আমরা মৌলবাদীরা ব্যাকফুটে থাকি, তখন যারা ক্ষমতায় আছে তাদের দিকে আঙুল তুলি। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে গলা তুলি।

    কিন্তু যেই আমরা ক্ষমতা পেলাম বা ক্ষমতায় আসার আভাস পেলাম বা সীমিত এলাকায় সমর্থন পেলাম--অমনি আমাদের দাঁত-নখ বেরিয়ে পড়ে। আমাদের ধর্ম, আমাদের রাজনৈতিক দর্শন সমগ্র মানবজাতির জন্যে একমাত্র দর্শন হয়ে পড়ে।
    খেয়াল করুন, কোন মৌলবাদই বহুত্ববাদী নয়। বহুত্ববাদী সংস্কৃতির সহাবস্থানে বিশ্বাসী নয়।
    সমস্ত মৌলবাদ বিরোধীদের ফিজিক্যালি এলিমিনেট করায় বিশ্বাসী, বিতর্কে বা মতের আদান প্রদানে নয়।
  • pi | ১৬ মার্চ ২০১৫ ১১:১৩668424
  • SC, আঘাত কোরোনা মানে কোনো সমালোচনা কোরো না ? যাঁদের নাম করলি, তাঁরা কেউই প্রফেটের ভক্তদের জানেপ্রাণেধনে মারতে বলেননি, তাঁরা ভক্ত থাকতে পারবেন না, এমন কোন দাবিদাওয়াও করেননি। সমালোচনা করেছেন। সেটা যদি নাই করা যায়, তাহলে আর স্পেস দেওয়া হল কী করে ?
    ভাবাবেগে আঘাত পড়ার পাল্টা যদি আসে প্রাণে মেরে ফেলা, সেই মৌলবাদকে তোরা কোন যুক্তিতে সমর্থন করছিস সেটা জাস্ট বুঝতেই পারছিনা।
  • Biplob Rahman | ১৬ মার্চ ২০১৫ ১৯:০০668425
  • SC

    আপনি ঠিকই বলেছেন, মাওবাদী আন্দোলন, আর ফারাবির আন্দোলন, দুটোই আদর্শভিত্তিক এবং সশস্ত্র। তবে খুবই নির্মম পার্থক্য এই যে, ফারাবির তালেবানি আন্দোলন হচ্ছে আসমানী কিতাব নির্ভর, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ প্রতিষ্ঠার। আর মাওবাদী আন্দোলন সাম্যবাদীতার।

    এখন তালেবান আন্দোলন, আর মাওবাদী আন্দোলনকে একই পাল্লায় বিচার করবেন কি না, সে দায় আপনার। তবে ফারাবির আন্দোলনের ম্যাজিক হচ্ছে, এক টিকিটে দুটি সিনেমার মতো। মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজী। আর মাওবাদী আন্দোলনে টিকিট একটি, সিনেমাও একটি। লড়াই, নয় মৃত্যু। [চোখ টিপি ইমো]

    আর ব্যক্তিগতভাবে আমি রঞ্জনদা'র সঙ্গে এ ক ম ত। তিনি বলছেন,

    "সমস্ত মৌলবাদকে আমি একই রকম দেখি। সে ধার্মিক ( হিন্দু-মুসলিম-ক্রিশ্চান-বৌদ্ধ) হোক বা ভাষাবাদী ( অসমের বঙ্গাল খেদা আন্দোলন কারো মনে আছে?) অথবা রাজনৈতিক ( মার্ক্সবাদী/ মাওবাদী/আর এস এস/ইসলামিক)।"
  • Biplob Rahman | ১৬ মার্চ ২০১৫ ১৯:০৩668426
  • #আপডেট:

    ইউকিতে অভিজিৎ
    এবার অনলাইন মুক্ত বিশ্বকোষ ইউকিপিডিয়ায় যুক্ত হয়েছে প্রয়াত বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের জীবন বৃত্তান্ত। ইংরেজী সংস্করণে দীর্ঘ জীবন বৃত্তান্তটিতে তার শিক্ষা জীবন, কর্ম, খুন, লেখালেখি ও তথ্যসূত্র স্থান পেয়েছে [http://en.wikipedia.org/wiki/Avijit_Roy]। ফেসবুক থেকে নেওয়া একটি আবক্ষ চিত্র যুক্ত হয়েছে নিবন্ধটিতে। জীবন বৃত্তান্তটি তৈরি করতে ব্যবহূত হয়েছে ৬১টি তথ্যসূত্রসহ অসংখ্য লিংক। এছাড়া এতে মেৌলবাদী হামলায় খুন হওয়া অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ এবং মৌলবাদী হামলার শিকার ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনের জীবন বৃত্তান্ত হয়েছে সংযুক্ত।
  • সিকি | ১৬ মার্চ ২০১৫ ১৯:১৫668427
  • ফারাবী আমার সাথে কমিউনিকেশন শুরু করেছিল এই ভাষায় - "আপনারা হিন্দুরা কী সব পুতুল পুজো করেন, ছুটো ছুটো বাচ্ছারাও সেসব দেইখা হাসে। ইসলামে আসেন, সত্যিকারের আল্লারসুলের সন্ধান পাবেন।"

    "আমি আপনাদের কালীঠাকুররে নিয়াও একটা ব্লগ লিখছি (সঙ্গে তার ব্লগের লিংক)"।

    এর পরেও কি SC বলবেন মৌলবাদীরা অন্য কাউকে স্পেস দেয়?
  • Biplob Rahman | ১৭ মার্চ ২০১৫ ১৪:২২668428
  • অভি দা ফারাবীকে নিয়ে ফেবুতে দু-একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। তার সবশেষ পোস্টটি এখানে:
    __
    Avijit Roy
    January 6, 2014 · Edited ·

    "ফারাবী নামে এক ডিজিটাল ফতোয়াবাজ আছে ফেসবুকে। অনেকে তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দিহান। একটা সময় সে কেবল বেছে বেছে মেয়েদের উত্যক্ত করতো, এর ওর কাছ থেকে টাকা পয়সা ধার চেত (আমার কাছেও বেশ কয়েকবার ম্যাসেজ দিয়েছিল ফেসবুকে টাকা পয়সা চেয়ে; একবার তো ১০০০০ টাকা চেয়ে বসল স্মার্টফোন কিনবে বলে; আরেকবার ম্যাসেজ দিয়েছিল পয়সাওয়ালা সুন্দরী মেয়ে আছে কিনা যাতে সে বিয়ে করতে পারে)। কিন্তু তার মূল পরিচয় হচ্ছে বিভিন্ন কায়দায় নাস্তিকদের খুনের হুমকি দেয়া। থাবা বাবার হত্যার পর সে ফতোয়া দিয়েছিল 'যে ইমাম থাবা বাবার জানাজা পড়বে তাকেও হত্যা করা হবে'। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল সে সময়। শুনেছি পুলিশের জেরায় নাকি প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলেছিল ফারাবী। যাহোক ফারাবীর অসংলগ্ন কথাবার্তা শুনেই হোক আর ভেজা প্যান্ট দেখেই হোক, একটা সময় জামিনে মুক্তি পেয়েছিল ফারাবী। এর পর থেকেই দেখছি তার ডিজিটাল ফতোয়ার দাপট বেড়ে গেছে। একবার দেখলাম নাট্যব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লিখেছিল - ' FDC এর এমনি এই পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় যদি দেশের আলেম উ-লামাদের কাছে ক্ষমা না চায় তাইলে এই পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও থাবা বাবার মত করুন পরিনিতি বরন করতে হবে।'

    "আজ দেখলাম পারভেজ আলমকে হত্যার ফতোয়া দিয়েছে এই ডিজিটাল জিহাদি। সে তার নোটে লিখেছে - 'এই পারভেজ আলম কে হত্যা করা বাংলার মুসলমানদের জন্য এখন ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।'

    "আমি জানি না পারভেজ তার হুমকিকে কতটুকু গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছে। সম্ভবত নেয়নি। তিনি নোটে লিখেছেন - 'ছেলেটিকে যদি কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি পাগলাগারদে প্রেরণ করতে পারেন তাতে ছেলেটির নিজেরই উপকার হবে।'

    "আমি দ্বিমত করব। ফারাবীকে মানসিক প্রতিবন্ধী ভাবার কোন অবকাশ নেই। সে উগ্র জিহাদী। ডিজিটাল ফতোয়াবাজ সে। আধুনিক রাষ্ট্রের আইন কানুন তোয়াক্কা করে মধ্যযুগীয় উগ্র বিশ্বাসের ভাইরাস-এর লালনকারী সে। এই ফতোয়াবাজকে গ্রেফতার না করা হলে এই আগাছা আর প্যারাসাইটের সংক্রমণ বাড়তেই থাকবে। এর শিকার হবে ব্লগের লেখক এবং অ্যাক্টিভিস্টরা।"

    https://www.facebook.com/Avijit.Roy.MuktoMona/posts/647171305339143
  • Biplob Rahman | ১৮ মার্চ ২০১৫ ১৯:৪৭668429
  • অভি দা খুব হবার পর একটি নতুন খবর:
    __
    The Moment Avijit was Killed:
    Lensman risked life to save Bonya

    Emran Hossain

    Photographer Jibon Ahmed recoiled in horror when Rafida Ahmed Bonya, who could barely stand on her feet due to excessive bleeding, stared at him as he stepped forward to help her.

    "Seeing her eyes radiating distrust and fear," recalled Jibon, "I thought as if I were a murderer."

    With a thumb cut off, hands slashed, and head crisscrossed with machete cuts, Bonya stood dazed as only moments ago some criminals, believed to be religious extremists, had attacked her and her secular writer husband Avijit Roy at Dhaka University's TSC around 8:45pm on February 26.

    “What's just happened here?” Bonya kept asking Jibon between breaths.

    Jibon, his head bent, was in a dilemma of getting involved in the matter or leaving the scene after taking a few snaps. Three to four of his colleagues, all of them happened to be near the scene, had already left as soon as their professional duty was done.

    The news Bonya was inquiring about then flashed in the air: “He has been hacked”.

    A few yards away, Avijit Roy was lying on the sidewalk: face down, in a pool of blood.

    "It was about this time Avijit's body began to shake violently,” recalled Jibon.

    Bonya rushed to her husband. Taking his head on her lap, she cried, “Avijit, let's go.”

    Jibon instantly clicked his camera thrice and rushed, elbowing his way through a more-than-150-strong crowd of onlookers including at least four policemen, to get a transport for taking the couple to a hospital.

    All but Jibon had either abandoned or did nothing for the dying couple, perhaps because they didn't want to shoulder any legal harassment or risk their lives by stepping against the attackers.

    Shariful Islam, reporter of a Bangla daily, with whose help outspoken writer Humayun Azad survived a similar attack in February 2004, had to appear before a court in connection with the case even last year.

    Probably that was why one of Jibon's colleagues called him a “fool” around 10:00pm that night. His decision to help them even sparked a debate on journalists' “ethics” for being personally involved in such a matter.

    Nonetheless, Jibon managed to take Avijit and Bonya to Dhaka Medical College Hospital eventually. He stuck to his decision even when Bonya started calling Jibon an attacker and kidnapper on the way to hospital.

    “She banged on the grille between the CNG driver and the passengers' seat, and pleaded, 'Please let me go. Don't kill me. Have I ever harmed you?'” Jibon said.

    “She would not believe me even after I showed her a cop following the CNG in a motorcycle or the hospital's signboard from distance.”

    Though humiliated at the DMCH emergency where journalists are not allowed to enter, not even in that condition he had arrived, Jibon is happy that Bonya is alive.

    News agency Banglar Chokh appointed Jibon, an HSC graduate, only six months ago. Before that, the youth who hailed from Khulna had spent two years in the Film Development Corporation as a still photographer.

    And he responded to the call of the moment very well.

    “I told them [journalists] that I decidedly ceased to consider myself as a journalist while helping the couple.

    “I was a journalist while clicking the camera. And then I became an ordinary human being.”
    http://www.thedailystar.net/backpage/lensman-risked-life-save-bonya-72243
  • বাড়ু | ১৯ মার্চ ২০১৫ ০৪:৩৯668430
  • বাংলা উইকিতে অভিজিৎ রায় সম্পর্কিত প্রবন্ধটা (https://bn.wikipedia.org/wiki/অভিজিৎ_রায়) দেখে ভালো লাগলো। কিন্তু ঐ প্রবন্ধের আলোচনা পাতায় (https://bn.wikipedia.org/wiki/আলাপ:অভিজিৎ_রায়) দেখতে পাচ্ছি কিছু উইকিপিডিয়ান আর্টিকেল অপসারণ কিংবা স্থানান্তরের পক্ষে জোর সওয়াল করছেন। বিষয়টা দেখে হতাশ হলাম। মতামত দেখে যা মনে হলো বাংলা উইকিতে খুব সম্ভবত ২০ তারিখের পর প্রবন্ধটা থাকবে না কিংবা স্থানান্তরিত হবে অন্য শিরোনামে।
  • SC | ২০ মার্চ ২০১৫ ০৯:২২668433
  • মৌলবাদ কাউকে স্পেস দেয় না, এই তো বক্তব্য? ঠিকই তো। মৌলবাদ দাবিও করে না যে ওরা সকলকে প্রচুর স্পেস দিচ্ছে।
    মৌলবাদ শবদটা একটু লোডেড শব্দ, ওটা ছাড়ুন। লিবারেল conservative অবধি থাক আলোচনা।
    প্রথমেই বলে রাখি আমি নিজে লিবারাল, বহুত্ববাদী, এবং ফ্রিডম অফ স্পিচ সম্পর্কে আমার পসিতীয়ন অ্যাবসলিউট। সব রিডিকিউল হেত স্পিচ সব এলাউ করতে হবে। কিন্তু পৃথিবীতে সকলে তো আমার মত ভাবে না। যারা ভাবে না, তাদেরকেও বোঝার চেষ্টা করা দরকার।

    পৃথিবীতে বহু traditional সমাজ আপনাদের (এবং আমার) মত লিবারাল বহুত্ববাদী নয়। কেন নয়? কারণ তারা বিশ্বাস করে, যে সমাজের কিছু নিয়ম আছে, কিছু আচার বিধি নিয়ম কানুন আছে। মরালিটি সম্পর্কে কিছু ধারণা আছে। তার বাইরে যাওয়া অপরাধ, কারণ সমাজ go as you like খেলা নয়, যে যে যার নিজের মত করে একটা যা ইচ্ছে করলো.।তাহলে সমাজের কাঠামোই ভেঙ্গে পড়বে। মৌলবাদ স্পেস দেয় না, এই হইচই তা তারা করছে, যারা এই অস্সুম্প্তীয়ন থেকে শুরু করেছে, যে ফ্রিডম অফ স্পিচ ই হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে প্রধান জায়গা। সকলকে নিজের মত করে বলার অধিকার দিতে হবে। তার কারণ আমরা সকলেই এই ধরনের সমাজে বড় হয়েছি, এবং সেই ধারণা আমাদের অবচেতনে ঢুকে গেছে।

    ইসলামিক সমাজে ফ্রিডম অফ স্পিচ সবচেয়ে fundamental ধারণা নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হচ্ছে, submission to allah। এইটে সবার আগে বুঝতে হবে। সমাজের নিয়ম কানুন সকলকে মানতে হবে, আল্লাহ র প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করতে হবে। আল্লাহ কে খিস্তি মারলে ঐরকম ফ্রিডম অফ স্পিচ কে একেবারেই মান্যতা দেয়া হবে না। আপনার সাথে ফারাবীর চিন্তার বেসিক তফাত এইখানেই। ফারাবী বিশ্বাস করে আল্লাহর প্রতি ভক্তিই হচ্ছে আধুনিক সমাজের সবচেয়ে সেন্ট্রাল জায়গা, আপনি মনে করেন মানুষের কথা বলার অধিকার। এই অধিকার ভিত্তিক আন্দোলন, তার ভিত্তিতে তৈরী রাজনীতি, এগুলো একেবারেই ওয়েস্টার্ন কিছু ধারণা। সব সমাজকে এই রাজনীতিটা মানতে হবে, এটাও এক ধরনের মৌলবাদ। আপনি যদি বলেন মৌলবাদী বাকিদের স্পেস দেয় না, তাহলে একটা conservative সমাজ কে বহুত্ববাদী ধারণা মানতে হবে, এই দাবিটা করে বহুত্ববাদিরা কিভাবে স্পেস দিচ্ছেন? তারা তো বলছেন সারা পৃথিবীটা ওদের মত হতে হবে, যেখানে সকলের মত প্রকাশের অধিকার তাই সুপ্রিম।
    যারা শুধু আল্লাহ কে সুপ্রিম বলে মানেন, তাদের জায়গাটা কোথায় তাহলে?

    এবারে পাই দি বলেছিল, রুশদী তসলিমা তো কাউকে জানে মারে নি, তাহলে এদেরকে কেন মারার হুমকি? রুশদী তসলিমা দুজনেই প্রফেট কে নিয়ে নোংরা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ গল্প লিখেছে। সেটা তো ব্লাসফেমি। যে সমাজ আল্লাহ কে চূড়ান্ত বলে মনে করে, সেই সমাজের কাছে কাউকে খুন করার চেয়েও বড় অপরাধ প্রফেট কে নিয়ে নোংরা মন্তব্য করা। প্রফেটের জন্য সেই সমাজ প্রাণ দিতে পারে। আমরা যারা খুব একটা ধার্মিক নই, যারা কোনো cause এর জন্যই প্রাণ দিতে যাব না, তাদের পক্ষে ধর্মের প্রতি এই ভক্তি তা বোঝা খুব মুশকিল। তখন আমরা অশিক্ষিত, brainwashed এসব বলে নিজেদের জাস্টিফাই করি। কিন্তু ধর্মের জন্য মানুষ যে আলোড়িত হয়, এটা নিয়ে দ্বিমতের খুব একটা জায়গা নেই মনেহয়।

    এই পৃথিবীতে লিবারাল বহুত্ববাদী ডেমোক্রেসি তে বিশ্বাসী আলোকপ্রাপ্ত রা যেমন আছেন, তেমনি conservative আছেন, মৌলবাদী যাদেরকে বলেন আপনারা তারা আছেন। উপরে শাক্যজিত লিকেচে দেখলাম, "মৌলবাদীদের মনের অন্ধকার ডান্ডা মেরে দূর করা যাবে না ইত্যাদি "। শাক্যজিত কি করে জানলো যে ওদের মনে অন্ধকার, আর আলোক্প্রাপ্তদের মনে আলো? আর দূর করার দায়িত্ব বা কে দিয়েছে বহুত্ববাদিদের? বহুত্ববাদিদের একটা মরাল সুপেরিয়রিটি র পসিতীয়ন আছে। আমরা তো ঠিক, এই অধিকার গুলি সমাজের মূল হব উচিত। ওগুলো অশিক্ষিত, brainwashed। তাই বুঝতে পারছে না। যাই, আমরা গিয়ে অন্ধকার দূর করি।

    এই অন্ধকার দূর করার তো অনেক চেষ্টা হলো। ওই সমাজগুলো আপনাদের জ্ঞানের আলো কি সত্যিই চেয়েছে? চেয়ে থাকলে এই অন্ধকার দূরীকরণের সবকটা মিশন এরকম দাহ ফেল কেন? সোভিয়েত রা তো আফগানিস্তান এ অন্ধকার দূর করেছিল। মেয়েদের অনেক বেশি "অধিকার" দিয়েছিল। তা তারা আবার অন্ধকারকেই বেছে নিল। ইরানে শাহও আলো দেখিয়েছিলেন, সেখানকার লোকেরাও আবার অন্ধকার খুঁজে নিলেন। খুব সম্প্রতি জর্জ ডাব্লু ইরাককে সেকুলার গণতন্ত্র শেখাতে গিয়েছিলেন। সেই প্রজেক্ট টা কেমন চলছে?

    তো কন্সের্ভাতিভে সমাজ গুলোকে মুচ্ছে ফেলার এই লিবারাল প্রচেষ্টা গুলো মুখ থুবরে পড়ার পরে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, এই সমাজে নিশ্চয় মানুষ তার নিজের মত করে বাঁচার জায়গা খুঁজে নিয়েছে। লিবারাল দের অযাচিত রিফর্ম কি তারা চায়? আর আল্লাহ কে বা যিশুকে রক্ষা করার তাদের অধিকারের উপরে কেন আমরা ফ্রি স্পিচের মৌলবাদকে চাপিয়ে দেব?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন