এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • হাঁড়ি কড়াই | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২৩:২২312299
  • প্যানজার তো জর্মন।
  • হাঁড়ি কড়াই | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২৩:২২312300
  • না, অপূর্ব ঘোষ খুব নামকরা হলেও রেকো করবো না। আমরা একবার গেছিলাম - ডাক্তার অবধি পৌঁছনোর আগে বেশ কয়েকজন আধ-ডাক্তার পেরোতে হবে, তাপ্পর তিনি দেখবেন। ততক্ষণে পিছনে আরো চারজন এসে দাঁড়িয়ে যাবে। কিন্তু সেগুলো কমন ব্যাপার।

    আমার এক বন্ধুর মেয়ের লিউকেমিয়া ধরা পড়েছিলো একেবারে শেষ স্টেজে - তার আগে অবধি তার অ্যালার্জী আর পেটের অসুখের চিকিৎসা হয়েছিলো, সামান্য ব্লাড টেস্টও করাতে বলেনি। যখন ব্লাড টেস্ট হয় তখন হিমোগ্লোবিন ৪-এর মত। ডাক্তার অপূর্ব ঘোষ। ২০১১-র কথা, কাগজে বেরিয়েছিলো।
  • সে | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২৩:২০312298
  • পানৎসার মানে ট্যাঙ্ক। :-)
  • Phutki | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২৩:১৫312297
  • আরেকজন আছেন। অপূর্ব ঘোষ। আমার প্রত্যক্ষ্য অভিজ্ঞতা নেই।কিন্তু এই মুহুর্তে ইনি খুব ভরসাযোগ্য শুনেছি।
  • avi | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২৩:১৪312296
  • ধন্যবাদ ডিডি। আসলে একটা সাইটে পড়্লাম ১৯৫৪তে নাকি Kampfpanzer Indien-Projekt 714 নামে এক প্রোজেক্ট ভারতে হবার কথা হয় যাতে প্যানজার আর টি ৩৪ মিশিয়ে এক উন্নততর ট্যাঙ্ক বানানো হবে। পুরোটাই হয়্তো সোভিয়েত প্ল্যান, তাও তখনকার ভারত নাত্সী ট্যাঙ্ক বানাবে দেখে কেমন অবাক হলাম। পরে অবিশ্যি এটা বাস্তবায়িত হয় নি।
  • Phutki | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২৩:০৯312295
  • টি, যাদবপুরে অরুণালোক ভট্টাচার্য। আমি পপিন্স কে এনাকেই দেখাই।
  • cb | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২২:৫৪312294
  • দিলীপ সাহা, খিদিরপুর। ধন্বন্তরি
  • T | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২২:১১312293
  • থ্যাঙ্কিউ অর্পণদা।
  • dd | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২২:০৭312292
  • ইন্ডিয়ান ট্যাংক তো ছিলো শেরম্যান আর সেঞ্চুরিয়ন। কিছু পিটি৭৬। ঐ একই ট্যাংক পাকিস্তানেরো ছিলো। প্যাটন ট্যাংক আসায় হুলুস্থুলু পরে গেছিলো। সবাই ভেবেছিলো ঐ ট্যাংক দিয়েই যুদ্ধ জিতে যাবে।

    সংখ্যাতেও খুব কম।দিন পনেরোর বেশী যুদ্ধ করবার দম কারুরই ছিলো না। গোলা বারুদ স্পেয়ার - সবেতেই টানাটানি।
  • Arpan | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২২:০২312290
  • আমার মেয়েকে কলকাতায় গেলে একজনকে দেখাই, পাড়াতুতো দাদা। তবে ভালোই ভিড় হয়।
  • T | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২১:৫৭312289
  • একটু দরকার...কলকাতায় ভালো চাইল্ড স্পেশালিস্ট ডাক্তার কে আছেন? স্পেসিফিক্যালি পেটের প্রব্লেমের জন্য। মানে আমি গুগুল করে কিছু নাম পাচ্ছি, কিন্তু কেউ কিছু সাজেস্ট করতে পারবেন? আগাম থ্যাঙ্ক্যু।
  • Arpan | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২১:৫৫312288
  • এনডিটিভিতে এসেছে।
  • hu | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২১:২২312287
  • আমি এই প্রশ্নটাই শমীককে করছিলাম। বাংলা কাগজে কিছুই দেখলাম না। টিভিতে নিউজে আসছে?
  • pi | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২১:১৬312286
  • আর এই খবরটা সেভাবে কভারড হচ্ছে ? ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় তেমন কিছুই দেখলাম না। বিশেষ করে বাংলায়। এমনিতেও খবরটা দুদিন আগের।
    হয়তো এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক হইচই হলে তবে টনক নড়বে।
  • pi | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২০:২৮312285
  • ওকে, থ্যাঙ্কু। আমার এখানে খুলছে না। ভাবলাম, এটার মত তুলে নিল নাকি ?
    http://www.guruchandali.com/default/2014/05/10/1399676580000.html

    এই এম এল এ ভদ্রলোকের মনে কে ঘৃণার বীজ পুঁতেছিলেন জানা নেই, কিন্তু ইনি যে অনেকের মনে পুঁতেছেন ও পুঁতছেন, সন্দেহ নাই।

    একটা প্রশ্ন ছিল, নিরামিষাশী হিন্দুদের ব্যঙ্গ করা কি খুব চালু ব্যাপার ? বা গো ভক্ষণ করে তাই নিয়ে গোমাতা উপাসক হিন্দুদের উত্যক্ত করা ? সেই ইয়ং বেঙ্গল ট্র্যাডিশন এখনো চলিছে ? করলে কারা করেন ? নাস্তিক ( জন্মসূত্রে) হিন্দু না মুসলিম, খ্রীস্টানরা ?
  • avi | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২০:০২312284
  • ভারতের ট্যাঙ্ক নিয়ে একটু জানতে চাই। সোভিয়েত ছাড়া আর কোনো দেশের কাছে কি হাত পাততে হয়েছিল আর্লি ৫০এ? অর্জুনের পূর্বসূরী কারা?
  • avi | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৯:৫৭312283
  • গুরুতে বন্দুকের ওপর একটা টই ছিল, ট্যাঙ্ক বা অন্য অস্ত্রশস্ত্রের ওপর আছে? ডিডির ট্যাঙ্ক নিয়ে লেখাটা ছাড়া?
  • 0 | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৮:৫৪312282
  • ...the Bharatiya Janata Party's (BJP) former MLA from the area, Nawab Singh Nagar, visited the area and condoled the incident - but defended the accused.
    “The incident is truly unfortunate but, if the allegation that the accused ate beef is true, the family simply brought what happened to it upon itself,” he said.
    “The boys caught are probably innocent and have been framed by the local police who are in cahoots with beef smugglers,” he added.

    more - http://www.thehindu.com/news/national/other-states/fragile-calm-in-dadri-after-man-was-lynched-for-eating-beef/article7707129.ece
  • apps | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৮:৩৯312281
  • "...
    Meanwhile, ex-BJP MLA Nawab Singh Nagar has made some controversial remarks. Nagar claimed that 'there was no conspiracy' and that the lynching was because of 'excitement' on the part of the mob. He went on to add that 'eating cow meat is wrong.'

    Tension prevailed in the area after around 200 persons attacked the residence of one Iqlakh after rumours spread in the village that a cow has been slaughtered on Monday night, police said today.

    The mob allegedly beat Iqlakh to death while his son Danish was critically injured in the attack and is undergoing treatment at a hospital, they said. There were also reports that trouble started on rumours that the victim had consumed beef. But there was no confirmation.

    Giving details of the incident, Jaan Mohammad, a relative of the victim said, "An announcement was made at a local temple that a cow has been slaughtered here, following which a large number of people attacked our family." As the rumours spread, villagers blocked a highway in Bisrakh area yesterday demanding death penalty for those involved in the slaughter. When police tried to control the mob, clash ensued in which one person identified as Rahul Yadav was shot at.

    Superintendent of Police (Rural) Sanjay Singh said that police has been deployed in the area and an FIR has been filed against 10 people for attacking the family, six of whom were arrested. District Magistrate of Gautam Budh Nagar NP Singh said there have been protests by villagers demanding action against those involved in the slaughter of a cow.

    A magisterial inquiry has been ordered into the incident, he said.

    He also instructed the District Magistrate and Senior Superintendent of Police, Noida to provide full protection to the family of the victim."
  • apps | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৮:৩৩312280
  • হ্যা খুলল তো!

    কী ভুলভাল রে ভাই!!!
  • apps | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৮:১৭312278
  • আমি সাত আট মাস আগে কৌশিক গাঙ্গুলির টেলি দেখলাম একটা. ইউটিউবেই. শেষকৃত্য. হেব্বি মেলো. কিন্তু দেখতে মন্দ লাগেনি.
  • সে | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৫:৩৯312277
  • চূর্ণী।
  • kd | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৫:৩৩312276
  • এই টেলিফিল্মের মেয়েটি কে?

    ETV Banglaয় "শুধু তোমারই জন্য" সিরিজে "ঠিকানা"
  • de | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৫:২১312275
  • সে - খুবই ঠিকঠাক লেখেছেন!
  • apps | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৫:০৭312273
  • কলকাতায় সরকারি দফতরের কিন্তু হাল সেই এক. 2টো থেকে 3:30টে টিফিন. তারপর নম: নম: গন্ধেশ্বরী কাজ. তারপর ভাগলবা. গত দশ বছরে কিচ্ছু বদলায় নি.
  • cb | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৫:০৩312272
  • সে একেবারে সবকিছু দেড়েমুশে লিখে দিয়েছেন
  • সে | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৪:৫৮312271
  • পোলিটিক্যালি কারেক্ট থেকে সব কথা বলা সম্ভব নয়। গুরুতেই সময় বিশেষে বাঙাল-ঘটি খুনসুটি হয়। এখন শিক্ষিত সমাজে সেটা নেহাৎই মিষ্টি মিষ্টি খুনসুটি। কিন্তু চল্লিশ বছর আগে তা ছিলো না। বিদ্বেষ অন্য আকারে ছিলো। যে ছেলেটির কথা আগের পোস্টে লিখলাম, সে কিন্তু বেশ শিক্ষিত ঘরের ছেলে। বাবা তার নামকরা লেখক ছিলেন। কী এক কারণে বলেছিলাম যে রাজাবাজারে খুব ভালো গোরুর কাবাব পাওয়া যায়। শুনে সে বলল, তার ঘৃণা হয় একথা শুনতে। আরেকটু আলোচনার পরে মুসলমান বিদ্বেষের আসল কারণ সে ব্যক্ত করল। দেশ বিভাগের জন্যে এদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, প্রায় এক কাপড়ে জমি জিরেত ছেড়ে রিফিউজি হয়ে এসেশে আসতে হয়েছে, এখানেও অবজ্ঞা মিলেছে কারণ স্থানীয় ঘটিদেরও এদের ঠাঁই দিতে হয়েছে সমাজে ও সম্পদে ভাগ দিতেও হয়েছে। তারাও বাঙালদের ভালো চোখে দেখত না। এই সমস্ত অবজ্ঞা ঘৃণা তখন রিফিউজিদের মুসলিম বিদ্বেষী করে তুলেছিলো। তারাও নিজেদের সন্তান সন্ততিদের এই বিদ্বেষ শিখিয়ে গেছে। তা চলেছে বংশ পরম্পরা ধরে। স্থানীয় ঘটিদের মনেও মুসলিম বিদ্বেষ ছিলো, কারণ দেশ বিভাগের ফলে তাদের সম্পদেও ভাগ পড়েছে। রিফিউজি কোটায় তখন ইস্কুলে ছাত্র ভর্তি হওয়া, আলাদা রেশন, চাকরি ক্ষেত্রেও কোটা এ সমস্ত ছিলো। অনেক অনেক বছর ধরেই ছিলো। সব রাগ গিয়ে পড়েছে মুসলমানদের ওপরে। সেটা কখনো সরাসরিভাবে চোখে পড়েছে, কখনো বিদ্বেষ প্রবাহিত হয়েছে পরবর্তে প্রজন্মের শিক্ষায়। গুরুচণ্ডালীতে যে সমস্ত এনলাইটেণ্ড মানুষজন লেখেন, তাঁরা হয়ত এসবের বাইরে, কিন্তু তাঁরা তো সকলে নন। কাজেই খুনোখুনি হচ্ছে যেটা সেটা ঘৃণার ফসল। একে অন্যকে ঘৃণা তার পাল্টা ঘৃণা, তার বদলে আরো ঘৃণা।
    এবার বীফ খাওয়াটাও একটা ব্যাপার। কোলকাতার পাড়ায় পাড়ায় মাটন মুর্গীর দোকান পাবেন, বীফ পাওয়া যায় হিন্দু পাড়ায়? ওপেনলি বীফ কিনে উৎসব বাড়ীতে সকলকে খাওয়াতে পারবেন? পারবেন না। এমনকি সত্তর আশির দশকে আমাদের সমাজের এনলাইটেণ্ড হিন্দুরাও গোপনে বীফ খেতেন বাড়ীতে। গোরুর কিমা আনা হোতো। কারণ? হাড়গোড় থাকলে বাড়ীর বাসন মাজার ঝি সেটা দেখেই বুঝে নেবে। আর পাঁচটা বাড়ীতে রটিয়ে দেবে, চাকরি ছেড়ে দেবে। আর বাসন মাজার ঝি পাবেন না। সে ও তো একপ্রকার একঘরে হবার মতো।
    নব্বইয়ের দশকে আমি বস্তিতে থাকতাম, কোলকাতাতেই। মাংসের কিলো তখন একশ চল্লিশ টাকা। কিনবার সঙ্গতি ছিলো না। বীফ কিমা কিনতাম ত্রিশ পঁত্রিশ টাকা কিলোয়। লুকিয়ে রাঁধতাম। হিন্দু পাড়া বলে কথা। অত লাল রঙের মাংস, কিমার রং ও লাল। তড়িঘড়ি ভেজে নিতাম, তখন কেউ উঁকি মেরে দেখলেও টের পেত না। শুধু বিষ্যুদবারে ঐ মাংস আনতাম না, তাহলে ধরা পড়ে যেতে পারতাম। নিজে খাচ্ছি সেটা নিজস্ব ব্যাপার, কিন্তু অন্যের ধর্মবিশ্বাসে বা কুসংস্কার যেটা অ্যাপ্লিকেবল, তাতে "আঘাত" করলে ওখানেই হয়ত খুন বা রেপ হয়ে যেতে পারতাম। গনধোলাইও হতে পারত। তখন তো রমরমে বামফ্রন্ট গর্মেন্ট। সবাই সিপিয়েম, সবাই কমুনিস্ট।
    আমার বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে নিউমার্কেটে বীফ কিমা কিনছি, মেয়ে জিগ্যস করে, এটা কীসের মাংস মা? আমি কী বলব ভাবছি, দোকানী তার আগেই উত্তর দেয়, খাসি, বড়া খাসি।
    ও! খাসি? তাহলে ঠিক আছে। মেয়ে নিজের মনেই বলে ফেলে। তার বয়স তখন পাঁচ। কিন্তু পারিপার্শ্বিক থেকে তখনই তার সামাজিক শিক্ষা হয়ে গেছে, গোরু খেতে নেই। গোরুর মাংস খারাপ জিনিস। এই মনোভাব তার মন থেকে দূর করতে আমায় অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। সমস্ত শিক্ষা তো মুখে বলে বলে বা জোর করে শিখিয়ে হয় না। আশেপাশে যেমন দেখে শোনে, সেটা অনেক বেশি করে অ্যাবজর্ব করে শিশুমন। তা মনের ভেতরে গেঁথে যায়।
    যদি ছোটোবেলা থেকেই দেশ বিভাগের জন্যে ঘড়বাড়ী জমিজিরেত ফেলে আসবার আক্ষেপ বাব দাদাদের মুখে শুনতেই থাকে, মা দিদিমার মুখে ক্রমাগত আক্ষেপ, আহা কী ছিলো, কত সুন্দর দেশ ছেড়ে এলাম এক কাপড়ে, গোলাভরা ধান গোয়ালে গোরু, কত বড় বাড়ী, - সবই সত্যি, কিন্তু তার মূলের কারণ? মুসলমানরা ঘর দখল করে নিলো, জবরদখল, হিন্দু মেয়েদের টেনে নিয়ে যেত, জোর করে বিয়ে করত, ঘর জ্বালিয়ে দিতো, ওরা গোরুর মাংস খায়, এই সমস্ত তথ্য কেবল ঘৃণার জন্ম দেয়, আর বিদ্বেষ হিংসা।
    একটা গোপন সত্য আজ বলি। হিন্দু মুসলমান নয়। খুব ছোটোবেলায় যীশুর গল্প পড়েছি। সেই নির্মম ক্রুসিফিকশানের গল্প। কোন বই সে নাম মনে নেই। কিন্তু বড্ড করুণ গল্প, বিশেষ করে যীশুর ওপরে হওয়া ইহুদীদের অত্যাচার। সবশেষে লেখা আছে যীশু বললেন, ঈশ্বর, এরা জানেনা এরা কী ভুল করছ, তুমি এদের ক্ষমা কোরো। পড়ে চোখে জল আসে যেমন, তেমনি রাগ হয়, ঘৃণাও হয়। শেষ লাইনটা যীশু বললেন বটে, তবে উনি খুব ভালো লোক ছিলেন বলেই। কিন্তু আমার মনে ইহুদীবিদ্বেষ তৈরী হয়ে যায়। ঐ বয়সেই মনে মনে ভাবি, খৃষ্টান ধর্ম খুব ভালো, ইহুদীরা পাজি শয়তান, হিংস্র, বর্বর। একদিন বলেই ফেলি বাবাকে, ইহুদীরা কি এখনো আছে? আছে। ওদের সবাইকে খৃষ্টান করে দেওয়া যায় না? বাবা চমকে উঠে জিগ্যেস করে, কেন বাবা? না, মানে তাহলে সবাই ভালো হয়ে যাবে। বাবা আমায় বোঝায় যে এভাবে হয় না। সব মানুষকে সব ধর্মকে ভালোবেসো। এ পৃথিবীতে সকলের বেঁচে থাকার অধিকার আছে। গরীবের আছে বড়োলোকের আছে যেমন, তেমনি আছে সব ধর্মের সব রঙের মানুষের। তবু আমার মন খচ্‌খচ্‌ করে। বইয়ে এত নিপুণতার সঙ্গে যীশুর ওপরে হওয়া অত্যাচার ডেস্‌ক্রাইব করেছিলো, তবু ইহুদীদের কোনো শাস্তি হবে না? ওদের মেরে ফেলল না কেন পরে খৃষ্টানরা? এই সমস্ত ভয়ঙ্কর চিন্তা শিশুমনে আসে। মেরে ফেলাটা যে কতটা ভয়ঙ্কর তা তো তখন বুঝবার ক্ষমতা ছিলো না। বাবা তখন খুব সরল করে বিশ্বযুদ্ধের গল্প শোনায়। মেরে ফেলাটা ঠিক নয়। মেরে ফেললে, পাল্টা খুনও ঠিক নয়। যদিও সমস্তটা বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না, তবু বুঝি যে ঐ বয়সেই এই আলোচনা, এই বুঝিয়ে বলার দরকার ছিলো। যে গোরু খায়, তাকে যেমন ঘৃণা করব না, তেমনি যে নিরামিষ খায় তাকেও বিদ্রূপ করবার মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই। অথচ হামেশাই তো এসমস্ত হচ্ছে। যে যেখানে দলে ভারী। গোরু খেয়ে নিরামিশাষীদের চমৎকার বিদ্রূপ করা হয়, বিভিন্ন দেশে অনেক মুসলমানকেই তা করতে শুনেছি, দেখেছি। দেশেও এন্‌লাইটেণ্ড হিন্দুসমাজ এসব করে থাকেন। ঘৃণার বীজ এভাবেই পোঁতা হয়ে যায়। তার এক্‌স্ট্রীম প্রকাশ মব যখন খুন করতে তেড়ে যায়। প্রাণে মেরে দেয়। কেউ কথার খোঁচায় ঘৃণা প্রকাশ করে, কেউ খুনোখুনি করে। খুন করাটা অবশ্যই খুবই নিকৃষ্ট অপরাধ, কথার খোঁচার সঙ্গে খুনের তুলনা হতেই পারে না, একশবার হাজারবার মেনে নিচ্ছি। কিন্তু ঘৃনা তো ঘৃণাই। তার আউটকাম একেকভাবে হচ্ছে। পারবেন কি বাড়ীর নিরামিশাষী বিধবা ঠাকুমা দিদিমাকে গোরু নয়, পর্ক নয়, খাসির মাংস খাওয়াতে, তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে? বা তাকে ওপেনলি বিদ্রূপ করতে? না পারাটাই স্বাভাবিক সহবৎ শিক্ষা থেকে আসে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত