এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বইপত্তর

  • কাগুজে গুরুর বইমেলা অভিযান - ২

    Samik
    বইপত্তর | ২১ নভেম্বর ২০১১ | ৫১০৭৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • s | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ ০৯:৫৪502649
  • মন্দ লোকে যতই মন্দ কতা বলুক না কেন, বয়েস যে বাড়ছে সেটি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি কিন্তু গুরু-র এমনই টান যে দরশন বিনে স্বস্তি নাহি, অতএব..

    একখানা নদী এবং দেড়খানা শহর পেরিয়ে কিভাবে গুরুদর্শন করতে হচ্ছে সে শুধু ভগা জানেন, শুধু এটুকু জানাই, একজন শুভাকাঙ্খী নিশ্চিত খবর দিয়েছিলেন, বাতানুকুল বাস নাকি টোল হইতে মেলা অব্দি প্রতি কুড়ি মিনিট অন্তর নাকি আধঘন্টায় দুখানা করে যাচ্ছে, আমার সঙ্গে সেই বাসওয়ালাদের কি শত্রুতা সেও ভগা জানেন, আমি তাহাদের দর্শন একটিবারের তরেও পাই নাই। সে বাসের অপেক্ষায় টোলে, ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে থেকে থেকে থেকে পুড়ে কয়লা হয়ে অবশেষে সেই বাসের আশা ছেড়ে দিয়ে কাবলিদার শরণাপন্ন হয়েছি, তাঁর সঙ্গেই যাব এবং তাঁর সঙ্গেই ফিরব, গাড়ি চেপে। মিলনমেলা হইতে ডিএলখানের মোড় অব্দি যে মহাসমুদ্র পাড়ি দিতে হয়, সেটুকু কাবলিদাই পার করিয়ে দেবে এই ভরসায়।

    মেলায় কাল ভীড় তো ছিল তবে সে বই কেনার নয়, বেড়ানোর। লোকে কত আর ভিক্টোরিয়া, চিড়িয়াখানা বা সিটিজেন্স পার্কে বেড়াবে, মেলা চলছে, সেখানে দিদি ডেয়ারম ডেরাম জলের ব্যাগ দিয়ে পুলিশ বসিয়ে দিয়েছেন, মাঝে মধ্যে এক-আধদিন নাহয় চার টাকার চা দশটাকাতেই খাওয়া হল, কাজেই চলো মিলনামেলা, সেখেনে বইমেলা হচ্ছে!

    কাল ছিল বাঙালীর ভ্যালেন্টাইন ডে। কাল সকল নারীর অঙ্গে শাড়ি, সকল নারী কাল ফুল ফুল রাইকিশোরী। হাসি হাসি সব মুখ, উড়ু উড়ু চোখ, সঙ্গীর দিকে কখনও আড়চোখে মৃদু হাসি তো কখনও নিষ্পলক গভীর চাহনি।

    সুন্দরী নারীদের নাকি ঠান্ডা লাগে না বা শীত লাগে না। সে অবশ্য আমি হররোজই দেখছি আর কাল তো বিশেষ দিন। যদিও সেই কবে থেকে শুনে আসছি মাঘের শীতে বাঘ পালায়, কিন্তু মাঘের এই তের তারিখেই বঙ্গদেশের খামখেয়ালি জলবায়ুর কল্যাণে বাঘকে মিলনমেলায় ছেড়ে দিয়ে শীত নিজেই পালিয়েছে কাজেই নানান রঙের শাড়িতে, গয়নায়, পাঞ্জাবীতে, চাদরে সব ঝলমলে, রঙীন। মনে মনে সবাই বোধ হয় কইছিল, বসন্ত বাতাসে সই গো..

    তো শীতকে হটিয়ে দিয়ে যিনি এলেন তিনি বাংলাদেশের এক সব্জে রঙা বাঘ। এই বাঘ আবার লেখেন এবং সেই সব লেখাপত্তর নিয়ে বইও ছাপা হয়। তো গুরুচণ্ডা৯ও ছাপলো তাঁর লেখা, বই হল, সেই বইয়ের দরশন পেতে শীতকে তাড়িয়ে বাঘ হাজির মিলনমেলায়।

    বাত্রুমের সমুখে খানিকটা সবুজ, খানিকটা বাঁধানো আল, সেই সবুজে কেউ কেউ বসে ময়দানের স্মৃতিচারণ করেন। কাল সেখানে আমিও ছিলাম, তাতিন আর বাঘের সঙ্গে, কী নাকি এক বিশেষ বস্তুর স্বাদ নিতে, ঘাবড়াইবেন না, নিষিদ্ধ কিছু নয়। সেখানে এক কবির সঙ্গে সাক্ষাৎ হইল, নাকি তিনি গদ্যকার ছিলেন? ভাবে-হাবে তো কবি-ই মালুম হইল, তার ফান্ডা- এদেশে প্রকাশ্যে সিগু খাওয়া অপরাধ, চুমু খাওয়া নয়। বেশ খানিক্ষণ চুপচাপ থেকে শোনার পরে তাতিন আমাকে বাঘের মোড়কবিহিন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের কথা বলে আমাকে সেখান থেকে আখরিক উঠেই টেনে তুলে আনল! আমি আবার গুরু সন্দর্শনে, স্‌ৎসঙ্গ-এ। এই স্‌ৎসঙ্গ শব্দটি নতুন শিখেছি, কোথা থেকে শিখেছি সেটি বলব না।

    বুড়ো হাড় না দেয় বসতে, না দেয় দাঁড়াতে। এমতাবস্থায় মামী তার মুখের হাসিটি অন্য কোথাও রেখে এসে বেশ ভারিক্কি মুখে প্রায় একা একাই গুরুকে সেবা দিয়ে গেল শুরু হইতে শেষ অব্দি। মামু এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াল, তাতিন মাঝে মাঝেই কারও একটা প্রক্সি দেওয়ার চেষ্টা করে গেল, আমাদের ওমনাথ বিশালবপু একখানা ব্যাগ ভর্তি করল মেলা ঘুরে ঘুরে, জ্বীনি যথারিতি কখনও টেবিলের সামনে তো কখনও এপ্রান্ত হইতে ঐ প্রান্ত করে বেড়াল গোছা গোছা বই হাতে। সুমিত ডাগদারও স্‌ৎসঙ্গ করল সন্ধে অব্দি। আরও অনেক কিছুই নিশ্চয়ই ঘটেছে, ঘটতে বাধ্য, সেই সমস্ত বন্ননা ঘটনার সাক্ষীরা দিন। আমি বিদায় লই।
  • siki | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ ১০:২৮502650
  • সিকি ব্যাংডেলে পৌঁছে গেছে। একটু ফ্রেশ হয়ে শ্যাম্পু করেই আবার হাওড়ার টেরেনে চেপে বসছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছচ্ছি, তবে প্রথম দিন তো, খুঁজেপেতে কখন পৌঁছব জানি না। হারিয়ে গেলে কেউ অমায় ফোং করে হদিস দিয়ে দিও।

    পটাশম্যাম ফোন করেছিলেন। কাল বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ উনি স্টলে আসবেন এক ঘণ্টার জন্য।
  • pi | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ ১০:৪৮502651
  • সুমিতদা, অন্যান্যরাও অনেক সেবা দিয়ে গেছেন।

    আগের দিনের দুটো বিশেষ বিশেষ সংবাদ বাদ গেছে। সেসব পরে।
  • kd | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ ১২:৪৫502652
  • কয়েকটা আলোচাল, পিপিপি আর ৭০ খুঁজে পেয়েছি, নিয়ে যাচ্ছি। উল্লুক আর ল্যাল্যা আর আছে কিনা দেখতে হবে - কিছু ম্যাগ সেল্ফের ওপরথাকে, শংকর আসা অবধি অপেক্ষা করতে হবে।
  • s | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ ১৩:০৩502653
  • ইন্দোদাদা ভাল, ইন্দোদাদার দোস্তূ ভাল।
    সুমিত ডাগদার প্রায় রোজ গুরুসেবা দিয়ে যায়, চণ্ডালদিগের রোগ-ব্যাধির ডাগদারের সন্ধান দ্যায়, এমনকি সেই সব ডাগদারগো লগে কতা কইয়া টাইমও ফিক্স করিয়া দ্যায়। সক্কলের লগে হাসিমুখে কতা কয়, সক্কলের কতা শোনে। খুব ভাল ছেলে।

    কেলো কৌশিকদাদা। তিনিও খুব ভাল। দিন কতক কলকেতার বাইরে ছিলেন বলে আমাদের লগে সাক্ষাৎ হয় নাই। কাল এসেছিলেন ভাগ্নেদের মেলা দেখাতে, একটু ব্যস্তই ছিলেন, আজ আবার আসবেন কথা দিয়ে গেছেন।

    আরও অনেকে এসেছেন, তাঁদের কারও কারও সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, কারও সঙ্গে হয় নাই, তাই সক্কলের নাম কইতে পারছি না, গুরু-আসনের দশ দিশার চাপ সামলে যে যতটুকু পারছেন গুরুসেবা দিয়ে যাচ্ছেন আন্তরিক গুরুপ্রেমে। গতকাল কল্লোলদার এক বান্ধবী এসেছিলেন, তাঁর নাম মনে করতে পারছি না, জ্বীনি কথা কইছিল তার সঙ্গে, তিনি শুধু কারাগার নিতেই এসেছিলেন, জ্বীনি আরও কিছু বই-ম্যাগ বোধ হয় ধরিয়ে দিল। কবি সুমিত ঘোষাল এসেছিলেন, নতুন কী বেরিয়েছে জেনে নিয়ে বললেন, পরে আসছি, এসে নেব। তাঁকে বলা হল, প্রতিবারেই এই একই কথা বলে কেটে পড়ো, এবার অন্তত কিছু নাও! দু দুজন সুন্দরি মহিলার সম্মুখে এইভাবে লজ্জিত হতে রাজী নন বলে একখানা হুজুগে গুরু কিনতে গিয়ে আরও কিছু বই কিনেই ফেললেন তিনি।

    লেখালেখি-র খোঁজ করতে এসে না পেয়ে একজন বেরিয়েই যাচ্ছিলেন, তাঁকে বলা হলো, আমাদেরগুলূ একটু দেখুন, বললেন, হ্যাঁ দেখেছি, বললাম, শুধু দেখলে হবে? কিনুন, পড়ুন। শুধু নিজেদের পত্রিকা পড়লেই হবে! আমরাই লিখব, আমরাই পড়ব, তবে অন্য পত্রিকা কি করে চলবে? সম্পাদকের ভাষণ থেকে জাস্ট ঝেড়ে দেওয়া কতা:-))

    এই রকম ছোটো খাটো কত কী যে ঘটে, ঘটেই যাচ্ছে রোজ, কেউ সেসব শোনাচ্ছেই না, জ্বীনির কাছে একপিস ওজনদার গপ্পো আছে, সেও শোনায় না:-((

    ইশেন বোধায় আজ কাবু, খবরে তেমনি প্রকাশ। সিকি ভুত লোকাল টেরেনে।
  • siki | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ ২১:৩৩502654
  • বইমেলায় আরো একটা দিন শেষ হল।
  • raatri | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ ২১:৫৩502655
  • কেমন গেল??স্টল তো আজ বারোটায় খোলা হয় নি,দুটো নাগাদ খুলেছে।সুমেরু টুপি মাথায় আর শমীক ছিলো।তারপর??
  • pharida | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ ২১:৫৪502656
  • এবার কেউ ছবি তোলে না কেন?
  • siki | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ ২১:৫৬502657
  • হ্যাঁ, সুমেরু আর আমি যখন পৌঁছলাম তখন প্রায় বেলা দুটো বাজে। তবে খুব বেশি দেরি হয় নি, কারণ বইমেলায় তখনই সবে লোক ঢুকছে এবং অন্যান্য স্টল খুলছে।

    সারাদিনে বেশ ভালোই বিক্রিবাটা হয়েছে। কিছুকিঞ্চিৎ ছবিও তুলেছি, কিন্তু আজ আমি ড্যাম টায়ার্ড, কাল সকাল সকাল উঠে বসে লিখব, ছবিও আপলোড করে দেব। অবশ্য পাই আমার থেকে আরো বেশি ছবি তুলেছে।
  • siki | ২৯ জানুয়ারি ২০১২ ২২:২৬502659
  • আর্সালান থেকে বিরিয়ানি নিয়ে আসা হয়েছিল, এইমাত্র পেটপুরে সেবা সেরে উঠলাম।

    সদা এসেছিল, গান্ধী এসেছিল, সইকত দ্বিতীয় এসেছিল।

    এদিকে করসেবা দিয়েছিল সিকি, সামরান, ঈপ্সিতা, মামু, কাবলিদা, সুমেরু, ব্যাং, মিঠু, সুমিত। ও হ্যাঁ, মাঝে কেলোবাবু এসে দর্শন দিয়ে গেলেন।
  • Nina | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ০২:২৮502661
  • পাই
    সবুজের চটিখানই চাই চাইইইই
  • aranya | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ০৭:৩৩502662
  • দুধের স্বাদ ঘোলে মিটছে ভালই। জনগণ করসেবা দিচ্ছে, আবার দূরের মানুষদের জন্য রিপোর্ট লিখছে - হ্যাটস্‌ অফ।
  • siki | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ০৮:০০502663
  • সক্কাল সক্কাল লিখতে বসে পড়লাম।

    এমন ডেডিকেশন যদি অন্তত দশ পার্সেন্টও চাকরিতে দেখাতে পাত্তুম, তা হলে হয় তো এতদিনে প্রোমোশন পেয়ে বিল গেটস হয়ে যেতুম।

    সকালে দুরন্ত এক্সপ্রেস ছিল দুঘণ্টা লেট। টুক করে বাড়ি পৌঁছলাম যখন তখন বাজে পৌনে দশটা। হাল্কা করে জিরিয়ে চান করে শ্যাম্পু মেখে (দাড়িটা আর কামানোর চাপ নিই নি) রেড্ডি হয়ে আবার ব্যান্ডেল লোকালে যখন চাপলাম তখন বেলা সোয়া বারোটা। এদিকে আমি সকালে বাত্তুমে ঢুকে গামছা পরেছি থেকে কেবলই হুমেরুর ফোন, সে আমার সঙ্গে আসবে। হাওড়া স্টেশনে নেমেই যেন ওকে কল করি।

    তো হাওড়া ঢুকলাম সোয়া একটায়, সেখেন থেকে টেসকি নিয়ে হুমেরুকে ফোন করাতে বলল যে সে বিদ্যেসাগর সেতুর টোল প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে।

    হাওড়ার ভেতর দিয়ে তো কখনও যাই নি, দেখলাম স্টেশন থেকে একটু এগোতেই একটা ঘ্যামা মল্‌ হয়েছে, তাতে ম্যাকডি খুলেছে। বাকি হাওড়া যেমন ছিল তেমনই আছে (যেন আমি এর আগে কত্তো হাওড়া দেখিচি)।

    বিদ্যেসাগর সেতুর চূড়োও দেখি নি, সামরানের ফোন এল, শমীক, সুমেরুকে দেখতে পেলে না, আগে ওর একটা ফটো নিও, তরপরে ওকে বসতে দিও। -- তা সামরান যে মিথ্যে কিছু বলে নি সে তো আপনারা ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন। সুমেরু পুউরো ম্যাকাও পাখি সেজে এসেছিল।

    সুমেরু আর আমি মেলায় পৌঁছলাম যখন তখন বাজে বেলা দুটো। ঢুকেই এত বই আর বিজ্ঞাপনের ভিড়ে ল্যামপোস্টের গায়ে যে স্টিকারটির দিকে আমার প্রথম নজর গেল, সেটি হল কেসি পালের। সূর্য পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করে। তিনটে ভাষায় আলাদা আলাদা লিফলেট করে লাগানো পোস্টের গায়ে। দেখে যারপরনাই খুশি হলাম। তব্যে? কেসি পাল না থাকলে কলকাতাকে কলকাতা বলে মনেই হয় না।

    এর পর? দোকান খুলতেই হুড়মুড়িয়ে বিক্রি শুরু হল। সস্‌সোতি পুজোর বিসজ্জোন সেরে দেবীরা এসে পড়েছেন বইমেলায়, সকলেই যে মুকুতাহারে শোভিত হচ্চিলেন এমনটি নয়, অনেকেই টেরাকোটাও পরেছিলেন :)

    তেমনই এক দেবী স্টলে বসামাত্র পুরুষসঙ্গীটিকে নিয়ে এসে শুধোলেন, আপনাদের এখানে মেয়েদের শ্রুতিনাটকের বই পাওয়া যায় না? সুমেরু প্রায় তাকে পিপিপি গছিয়ে দিচ্ছিল, নেহাত দেবী শেষমুহূর্তে সন্দেহ করলেন বলে শেষমেশ আর কিছু কিনলেন না।

    তাতে অবিশ্যি আমাদের বিক্কিরি আটকে থাকে নি।
  • siki | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ০৮:১৩502664
  • তারপরেই পাই এল খানিক বাদে, পৌনে চারটে নাগাদ। মাঝে কেলোদা এসে বই-টই রেখেই ধাঁ করে চলে গেলেন, ভালো করে আলাপ করার সময়টুকু দিলেন না।

    এদিকে বই হু হা বিক্রি হচ্ছে, সুমেরু সিলিপ কাটছে, আমি সিলিপ কাটছি, আর কাউক্কে খুচরো দিচ্ছি না। পাঁচ টাকার বড়ই আকাল, দোকানে গেলে দোকানদার আমাদের টফি ই: দেয়, আমরা ধরিয়ে দিচ্ছি একটা করে উচ্ছেদ গুরু। আর থেকে থেকে হাঁক পাড়ছি, জয় গুরু, মাত্র পাঁচ টাকা থেকে শুরু।

    কল্লোলদার ছোটোবেলার, স্কুলজীবনের এক বন্ধু এলেন, দিলীপ রায়। এখন ব্যাঙ্গালোরেই থাকেন। আজীবনের বাউন্ডুলে মানুষ। অনেকক্ষণ রইলেন আমাদের স্টলে, তাঁকে কল্লোলদার একটা বই প্রেজেন্ট করা হল গুরুচন্ডালীর তরফে। খুব খুশি। শেষে চলে যাচ্ছেন যখন, তখন হাঁটতে হাঁটতে আমি আর পাই শুনলাম তাঁর যৌবনের কীর্তিকাহিনি। পায়ে হেঁটে গেছিলেন কলকাতা থেকে নাথু লা পাস। মালগাড়ির ইঞ্জিনে চেপে ঘুরে বেড়িয়েছেন আসাম। এমনি আরও কত অভিজ্ঞতা। মানুষটির এখন হাঁটতে কষ্ট হয়। এক্সিট গেট থেকে অনেকটা দূরে আমরা তখন, উনি আর হাঁটতে পারলেন না, বসে পড়লেন সাইডে। জনৈক কপু তখন যে কী হেল্প করলেন কী হেল্প করলেন, কী বলব। সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন গেট পর্যন্ত, মোবাইলে ফোন করে গেটে ইনফর্ম করে দিলেন ট্যাক্সি পেলে যেন দাঁড় করানো হয়, বাইরে নিজেদের চেয়ারে বসতে দিলেন এবং ট্যাক্সি থামিয়ে দিলীপবাবুকে ট্যাক্সিতে তুলেও দিলেন। পাই অভিভূত হয়ে সেই কপুর ছবি তুলে রেখেছে। পাই পরে পোস্ট করবে হয় তো।

    ফিরে এসে শুনলাম, দু এসেছিল। চলে গেছে। দেখা হল না।

    তারপর? সন্ধ্যে হল, অনেকেই এল, ও হ্যাঁ, মামু যখন এϾট্র নিল, দেখি মামুর হাতে একটা বোতল, তাতে ঘোলা জল। আমি তো সাদা বাদে যে কোনও রঙের জলকেই সন্দেহের চোখে দেখি, এ কী ব্যাপার, এইসব নিয় পোকাশ্যে বইমেলার মতন সঙোসকিতিক জায়গায় ...?

    মামু আশ্বস্ত করল, ওটা ওআরএস, মামুর পৈটিক গোলযোগ হইয়াছে অল্প করে। তবে সন্ধ্যে হতেই মামু একদম চাঙ্গা হয়ে গেল ভিড় এবং বিক্রির বহর দেখে।

    ****************************

    ক্যালেন্ডার আর মুখোশ নাকি একেবারে শেষ। আমার নিজের জন্যও কোনও কপি পাই নি।
  • kallol | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ০৮:৫৫502665
  • ওরে! আমার জন্য এক্কপি উচ্ছেদ রাখিস। গতবারেও পাইনি।
  • pi | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ১২:১৪502666
  • উচ্ছেদ রিপ্রিন্ট হয়েছে এবার। অতএব চিন্তা নাই :)

    মুখোশ, ক্যালেন্ডারও আরো ক্রমে আসিতেছে।

    কালকের কথা লেখার সময় আর এখন নাই। তবে সুমিতদা যা হেল্পিয়েছে সেটা লেখাই বাহুল্য।
  • kd | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ১৩:৪৪502667
  • আমার কাছে বাহন ইস্যু আর নেই - স্টক শেষ।
  • Ishan | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ২২:৩২502668
  • আজকের হাইট হল, ইমরান খানকে আটকাতে গিল্ড নাকি গোটা বইমেলার লাইট নিভিয়ে দিয়েছিল। মানে, ইমরান খান প্রেস মিটে পাঁচ মিনিটের জায়গায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট নিয়েছিলেন, তাই গোটা বইমেলার আলো নিভিয়ে গিল্ড ব্যবস্থা নিয়েছে। :)
  • I | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ২৩:২৬502670
  • হুঁ। দেখলাম। ত্রিদিব চট্টো নাকি তারানন্দের সাংবাদিককে দেখে মাৎ মাৎ করে তেড়ে গেছিলেন-আমি আলো নিবিয়েছি বেশ করেছি। আপনার কি মশায়?

    কিন্তু আজকের আপডেটের কী হল?
  • Ishan | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ২৩:৩০502671
  • আজ তো আমি যাই নাই। যারা গেছে তারা দেবে। তবে খপর আজও ভালই। :)
  • tatin | ৩০ জানুয়ারি ২০১২ ২৩:৩১502672
  • সে একদিক থেকে ভালো, ভুলভাল কাজে এনার্জি নষ্ট না করা
  • kc | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ ০০:১০502674
  • টেষ্ট
  • ttn | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ ০০:১০502673
  • মানে, ত্রিদিবের কথা বললাম আর কি
  • siki | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ ০০:৪০502675
  • ধুত, কত কী লিখলাম, সব এক ফুঁয়ে হারিয়ে গেল, আমারই ভুলে এসকেপ মেরে দিয়ে সব উড়িয়ে ফেল্লাম।

    কাল সকালে লিখব।
  • r2h | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ ০১:২৯502676
  • http://www.aajkaal.net/archive/report.php?hidd_report_id=167208..."লিলি হালদারের বই "আমার সত্তর' '...- একই নামে অন্য বই? চন্ডাল লেখকদের কপিরাইট ইত্যাদি থাকেনা?
  • siki | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ ০৮:৫৭502677
  • যা দেখছি, আমি না লিখলে বাকি চণ্ডাল কেউ আপডেট পাবে না।

    বইমেলা ডায়েরি, ৩০-০১।

    আগের রাতে হল্ট করেছিলাম কাব্লিদার বাড়িতে। আরসালানের বিরিয়ানি দিয়ে রাতের খাওয়াটা সেরে টেরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকাল সকাল ঘুম ভেঙে কাব্লিদার সঙ্গে বসে বসে ল্যাদ খেতে খেতে এন্তার ভাট হল। কতকাল বাদে যে এরকম একটা কাজকম্মোবিহীন সোম্বারের সকাল কাটালাম, মনে করতে পারছি না।

    এগারোটা নাগাদ সুমিত সান্যালের ফোন পেয়েই তিড়িং বিড়িং করে চান কত্তে চলে গেলাম। রেডি হয়ে বগলে সেন্ট ঘাড়ে পাউডার মেখে চলে গেলাম পিজি। সুমিত সেখান থেকে নিয়ে গেল জীশান। নস্টালজি, নস্টালজি। লাস্ট এখানে খেয়েছিলাম সেই ২০০০ সালে। আবার খেলাম পেট পুরে বিরিয়ানি। সুমিতের জন্মদিনের খাওয়া।

    সেখান থেকে সো-জা বইমেলা। বইমেলা তখন খুলেছে, লোকজন ঢুকছে ভালোমত। দড়িদড়ার বাঁধন খুইলে টেবিল সাজিয়ে যেই ক্যামেরাটা বের করলাম, অমনি দেখা গেল ব্যাটারি শেষ। আমার ক্যামেরায় কাল কোনও ছবিই ওঠে নাই। তবে চিন্তার কিছু নাই, অন্যদের ক্যমেরায় ছবি আছে।

    কাল পুরো দিল্লি চলে এসেছিল বইমেলায়। তিনটে নাগাদ দেখি প্রতিচ্ছায়াখ্যাত নয়ডার শ্রাবণী। তার পাশেই দেখি স্যান। অনেকদিন পারে স্যানকে দেখে যে ক্ষী আনন্দ হল, ক্ষী বলব। কিন্তু ভালো করে দুটি কথা কইবার আগেই তারা ঝটপট ভিড়ে কোথায় হারিয়ে গেল "আসছি' বলে।

    বিক্রিবাটা ভালোই জমে উঠেছে তখন পটাশম্যাম এলেন, সঙ্গে মিস্টার অধিকারী। মিস্টার অধিকারী এমন মজলিশি মানুষ, কী বলব, তাঁকে গুরুতে লেখাবার কড়ার করিয়ে নিয়ে ছাড়া হল, ও হ্যাঁ, তার মধ্যে উনি গুনগুনিয়ে আমায় একটু গানও শোনালেন, আমার কানে যা বুঝলাম, মিস্টার অধিকারীর গানের গলাটি বেশ সুন্দর। সেটা পটাশম্যামকে বলতে উনি কেমন বেগুনী হয়ে গেলেন। কে জানে, পুরনো কোনও স্মৃতি জেগে উঠল কিনা।

    দিলীপবাবু ছিলেন দুপুর থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত। এই বয়েসে অশক্ত শরীর নিয়ে উনি যেভাবে গুরুচণ্ডালীদের সঙ্গ দিচ্ছেন, দেখবার মত।

    মামু কাল আসে নাই, সুমেরু আসে নাই। আমি, সামরান, মিঠু, পাই, আর সুমিত সান্যাল। জন্মদিনের অনারে পটাশম্যাম সুমিতকে চটি গিফট কল্লেন। মানে, গুচ-র চটি। আর গরম গরম সিঙাড়া এনে খাওয়ালেন সব্বাইকে।

    প্রবীরেন্দ্র সেনগুপ্ত, যাঁর লেখা এবারের হুজুগে গুরু সংখ্যায় বেরিয়েছে, তাঁর বোন এসেছিল, সবকটা বই চটি কিনে নিয়ে গেল। কন্যেটিকে দেখে আমার কেন জানি না সেই ইলেভেন টুয়েলভের এক ধূসর হয়ে আসা মুখ স্মৃতিতে চলে এল।

    আর? আর কী? সোয়া আটটায় মেলা থেকে বেরিয়ে বাস ধরে হাওড়া, ট্রেন ধরে ব্যান্ডেল, এবং হেঁটে বাড়ি। কটায় পৌঁছলাম জানেন পঞ্চাশ কিলোমিটার রাস্তা? সোয়া তিনঘন্টা। রাত সাড়ে এগারোটায় ঢুকলাম ঘরে।

    ধন্যি পশ্চিমবাংলা।
  • siki | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ ১০:৫৯502678
  • বাকিরা কেউ কিছু ল্যাখে না কেন?
  • lcm | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ ১১:৫২502681
  • ছোট এস-এর অ্যালবামে একটা বই দেখলাম - পাইয়ের জীবন। পাই এত চটপট আত্মজীবনী বের করে ফেলল!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন