এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • cb | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ২০:৫৩338759
  • দ দি কি পুনে তে??

    বাড়ির সামনে কি এক সতসঙ্গ না কি চালিয়েছে, মারা যাব নির্ঘাত এইবার। আপনাদের ওদিকে কি আওয়াজ গোয়িঙ্গ?
  • S | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১৪:০৪338758
  • সাধারণ এবং অসাধারণ বুদ্ধিতে যেটুকু বুঝেছিঃ ফ্লাইওভারের মুলতঃ দুটো কাজ। নেট লেনের সংখ্যা বাড়ানো। আর ক্রসিঙ্গে ট্রাফিক কমিয়ে সবদিকের ট্রাফিক চলাচলের স্পিড বাড়ানো। প্রথমটার উদাহরণ দিতে পারবোনা। দ্বিতীয়টার উদাহরণ হলো মুম্বাইয়ের ওয়েস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ে।

    এদিক ওদিক থেকে যেটুকু শুনেছি ফ্লাইওভার করে কোনো সমস্যাই লং টার্মে কমানো যায়্না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জ্যামের উচ্চতা বাড়ে বা অবস্থানের বদল হয়। রাস্তা বড় করার কোনো বিকল্প নেই।

    বড় পুরোনো শহরে সেটা একটু মুশকিল। তবে এখন কোলকাতায় অনেক জায়্গায় এমন কিছু ফ্লাইওভার হয়েছে যেগুলোর বদলে হয়তো রাস্তা বড় করা যেতো। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ইম্প্রুভ করতে হবে। গড়িয়া টালিগন্জ মেট্রো হয়ে ঐ রাস্তায় ট্রাফিক প্রচুর কমেছে। এছাড়া ট্রাফিক রুল খুব ভালো ভাবে ইম্প্লিমেন্ট করতে হবে। রাস্তার পাশে যত্র তত্র বাস, ট্যাক্সি, টেম্প দাঁড়িয়ে থাকে। এইবারে গিয়ে দেখলাম গাড়ি গুলো লেইন থাকা সত্ত্বেও না মেনে একে অন্যকে টেকওভার করে যাচ্ছে। ট্রাফিক সিগনালিঙ্গ সিস্টেম ইম্প্রুভ করতে হবে। বেশ কিছু রিঙ্গ রোড বা বাইপাস তৈরী করতে হবে। আর একটা ব্যাপার করতে হবেঃ শহরের যেখানে জ্যাম বেশি ট্রাফিক বেশি সেখানে টোল বসাতে হবে (নট লিটারালি); মানে স্পেশাল পার্মিট (এক্স্ট্রা পয়সা) না থাকলে ওখানে গাড়ি যাবেনা। ফলে অহেতুক কেউ ঐ রাস্তায় যাবেনা খুব দরকার না থাকলে। ফলে জ্যাম কমবে।
  • kc | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১৩:৫৫338757
  • সচ, এই বিষয়ে তোমার লেখাগুলো বেশ ভালো লাগছে। মন দিয়ে পড়ছি। গুছিয়ে সাজিয়ে একটা বুলবুলভাজার জন্য লেখা কর। অথবা ফেসবুকে একটা নোট লেখো।
  • sch | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১৩:৪৮338756
  • একটু পুরন ও খবর পড়ে দেখুন - এটা ১৮ ই নভেম্বর ২০১৫ র খবর
    http://www.telegraphindia.com/1151118/jsp/calcutta/story_53668.jsp#.VwDO5Zx97EY
    কোথায় র‍্যাম্প নামবে তখনো ঠিক হয় নি। অথচ কমপ্লিশান ডেট ঠিক।
    রিপোর্টের শেষে দেখুন
    "The revised plan would require a safety clearance from experts at Jadavpur University and the CMDA"

    যারা সেফটি ক্লিয়ারেন্সে ইনভলভড ছিল তারাই অনুসন্ধান করবে কেন ব্রীজ পড়ে গেল?
  • sch | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১৩:২৯338755
  • কতগুলো লিঙ্ক দিয়ে যাই - যদি ঠিক ঠাক জানার ইচ্ছে থাকে দেখতে পারেন একটু পড়ে

    এইটা হল কাজটার টেন্ডার নোটীশ
    http://www.dgmarket.com/tenders/np-notice.do?noticeId=3350266
    পরিষ্কার করে বলা আছে
    Construction of Vivekananda Road Flyover (Phase-I) on Turnkey Basis Under Jawaharlal Nehru National Urban Renewal Mission। Turnekey অর্থাৎ Design Built and Operate বেসিসে কাজটি হবে। এই কাজের কন্ট্রাক্টর সেই ডিজাইন করবে। আরো ভালো করে বলা আছে

    The selected bidder will be responsible for design and execution of the project as a Turnkey Contractor as well as carrying out Operation and Maintenance for an initial period of two years.

    কাজেই যারা বলছে যে কেন যে কন্ট্রাকটর তৈরী করেছে সে ডিজাইন করেছে এটা বে আইনি - তারা কন্ট্রাক্টের নেচারটাই জানেন না। DBOT ব্রীজ তৈরীতে খুব কমন একটা কন্ট্রাক্টিং প্রসিডীওর। এসব ক্ষেত্রে একটা কন্সয়ালটান্ট থাকে for review and approval of design. এক্ষেত্রে সেটা কেউ ছিল বলে মনে হচ্ছে না, KMDA নিজেই আপ্রুভিং authority ছিল। সেক্ষেত্রে দিজাইন বা প্ল্যানিং এর ত্রুটির দায় সমান ভাবে তাদের

    আর এইখানে JNNURM এর প্রগ্রেস রিপোর্টে লেখা আছে
    http://www.jnnurmwestbengal.gov.in/Others/qpr-uig_june09/projects/kmda_vivekanandaroadflyover_how_bridge_CR_Avenue.pdf

    কন্ট্রাক্ট আওয়ার্ড হয়েছিল 24.02.2009 তে - তখনো IVRCL কোথাও ব্ল্যাক্লিস্টেড ছিল্ না। প্রথম ব্ল্যাক্লিস্তিং হয় august,, 2009 . কাজেই ব্ল্যাকলিস্টেড কন্ট্রাকটরকে কাজ দেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা
  • pi | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১৩:১৪338754
  • কিন্তু এঁদের রাখবে কে ?

    শুনছি তো পিআইএল না হলে আলাদা কমিটি করার ব্যাপারে কিছু করাই যায় না। কিন্তু নিরপেক্ষ তদন্ত কেন সম্ভব না ?
  • sch | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১৩:০০338753
  • একজন ব্রিজ এক্সপার্টের CV রাখলাম এখানে - এই লোকটি কিন্তু কোনো সরকারের তোয়াক্কা করে না.
    http://www.itbhuglobal.org/chronicle/Dr.%20V%20K%20Raina_CV_2011.pdf
    এনাকেই নিতে হবে বলছি না - কিন্তু এই মাপের মানুষ দরকার কমিটিতে - যাদবপুর, শিবপুর আর আই আই টি কড়গপুর একদম না - তাদের পক্ষে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত করা সম্ভব না। আর এই সব অধ্যাপকদের প্রাক্টিকাল এক্সপিরিয়েন্স খুব খুব সীমিত।
    এরা কখনোই ইমপ্লিমেন্টেশান ইস্যু নিয়ে out of the box ভাবতে পারবেনা। এমন কি শ্রীধরণের মতো কাউকে এই কমিটির মাথায় রাখলে ভালো হয় - অন্ততঃ রিপোর্ট চাপতে পারবে না
  • Arpan | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১২:৩১338752
  • হাওড়া স্টেশন থেকে মানিকতলা আসতে গেলে ধরতে হয়।
  • cb | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১২:২৭338751
  • আমি আসলে একদম ভিসুয়ালাইজ করতে পারছি না জায়গাটা কোথায়, মানে ঐ অঞ্চলে যাতায়াত বেশ কম ছিল। মনে আছে একবার হাওড়া স্টেশন থেকে এসেছিনু, নাকি একবার বরানগর থেকে ফিরেছিলাম ট্যাক্সি করে খিদিরপুর, সে কি ঐ জায়্গা দিয়ে এনেছিল? একবার বাবাকে শুধোতে হবে

    কিন্তু ঐ ট্রাকগুলির ছবি মনে আছে আর একটা লম্বা বাজার, সরু রাস্তা
  • Arpan | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১২:১৬338750
  • আর অবশ্যই কিছু সিগন্যাল কাট ডাউন করা যেত, সিবি যেমনটি বললেন।
  • Arpan | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১২:১৪338749
  • পোস্তায় যেখানে সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে আর লোডিং-আনলোডিঙের কাজ চলতে থাকে ঐ জায়গাটা বোধহয় অ্যাভয়েড করা যেত।

    কিন্তু সঠিক ধারণা নেই ল্যাজা আর মুড়ো কোথায় কোথায় বসানো হত।
  • cb | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১২:১৩338748
  • মাঝখানের বিভিন্ন ক্রসিঙ্গের যান চলাচলের কিছু সুবিধা হতে পারত কি?

    বেসিকালি একটা হেভি কনজেস্টেড এলাকা, সমস্যার সমাধান কি করে যে সম্ভব কে জানে?
  • lcm | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৫৯338747
  • পচা মাংসের ভিন্ডালু
  • lcm | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৫৮338746
  • পাই-এর কোশ্চেনটা আমারও। ঐ জায়গাটা - জ্যামটা নীচ থেকে ওপরে উঠত। কারণ যেখানে গিয়ে ব্রীজটা শেষ হচ্ছে সেই জায়গাটায় কনজেশ্চন্‌ কমানো যাবে না, শুধু এক মাথা থেকে আর এক মাথা ওপর দিয়ে ছুটে গিয়ে আটকে যেতে হবে।
  • pi | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৪৩338745
  • আমার এটা নিয়ে খুব একটা আইডিয়া নেই, জানতে চাইছি। ঐ রাস্তায় উড়ালপুল কতটা জরুরি ছিল, মানে হলে কতটা কী সুবিধা হত, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দেখলাম। ঐখানটাতেই কি প্রচুর জ্যাম হয় ?
  • d | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৩৮338742
  • পোর্ক ভিন্ডালুর মতই হবে। তবে সিংহের মাংসের টেক্সচার বেশ রাফমত তাই মাংসট বরম মাটির নীচে ৩ দিন পুঁতে রেখে আগে একটু পচিয়ে নিও।
  • d | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৩৮338743
  • পোর্ক ভিন্ডালুর মতই হবে। তবে সিংহের মাংসের টেক্সচার বেশ রাফমত তাই মাংসট বরম মাটির নীচে ৩ দিন পুঁতে রেখে আগে একটু পচিয়ে নিও।
  • d | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৩৮338744
  • পোর্ক ভিন্ডালুর মতই হবে। তবে সিংহের মাংসের টেক্সচার বেশ রাফমত তাই মাংসট বরম মাটির নীচে ৩ দিন পুঁতে রেখে আগে একটু পচিয়ে নিও।
  • b | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:১৭338741
  • সিংহ তো ব্রতীন।
  • Abhyu | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫৬338740
  • সিংহের ভিন্ডালুর রেসিপি আছে কারো কাছে?
  • pi | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ০৯:৩৭338739
  • মেডিক্যাল কলেজ থেকে আরেকজনের আপডেটঃ

    'কয়েকটা কথা স্পষ্ট করা উচিত। কাল থেকে অসংখ্য লোক ফোন করেছেন, আমাদের হাসপাতালে (মেডিক্যাল কলেজ কলকাতা) ব্লাড ব্যাঙ্কে বহু লোক এসে রক্ত দিয়ে গেছেন। প্রেসিডেন্সি, যাদবপুরের ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পে বহু মানুষ ডোনেট করেছেন রক্ত। মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্কেও চলেছে রক্তদান।
    যারা আজ রক্ত দিলেন প্রত্যেক কে আন্তরিক ধন্যবাদ।

    সারাদিন ফেসবুক খোলার সময় পাইনি তেমন। খুলে দেখলাম অনেক কনফিউশন ছড়াচ্ছে। তাই ক'টা কথা বলে রাখি। পজিটিভ রক্তের ক্রাইসিস নেই। নেগেটিভ গ্রুপ গুলোর ক্রাইসিস ও মোটামুটি সামলে এসেছে। কিন্তু ব্লাড ব্যাঙ্কে নেগেটিভ রক্ত নেওয়া হবে। কেউ দিতে চাইলে আসতে পারেন। সোম বা মঙ্গলবার আসলে বেটার। গরমে এমনিতেই রক্তের যথেষ্ট আকাল থাকে। তো রক্তদান না করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু ইমারজেন্সি ক্রাইসিস খুব কিছু নেই।

    মঙ্গলবার মেডিক্যাল কলেজ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প ইতিমধ্যেই প্ল্যানড। যোগাযোগ -
    মেডিকেল কলেজ :
    দেবাশিস হালদার - 7501142813
    অনিকেত চ্যাটার্জি - 9614934407

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়:
    সৌগত সিনহা - 8906525136
    সৌমিত্র পতি - 8436198050'
  • pi | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ০৯:৩০338738
  • মেডিক্যাল কলেজের থেকে এক স্টুডেন্টের পোস্টঃ

    'ভালো কথাগুলো আগে বলি। তার একটা কারণ এই যে, আজ ভালো কথাগুলো খারাপ কথার থেকে সংখ্যায় বেশি।
    আর অন্য কারণটা হল, খারাপ কথাগুলো যেন সবার মাথায় থাকে। কেউ যেন এই খারাপ দিনগুলো ভুলে না যায়।

    তা, আগে ভালো কথা। কাল আর আজ মিলে আমার মন-বুক-পেট সব আশায় ভরে গেছে। এতো মানুষ এখনো ভাবেন! এতো মানুষ এখনো করেন! আমি অবাক হয়ে এই দুদিন শুধু দেখলাম, বিপদে মানুষ কীভাবে সব ভুলে একজোট হতে পারে।
    আমি ডাক্তার নই, পিজিটি নই, ইন্টার্ন তো নইই। কেবল একজন সাধারণ মেডিক্যাল স্টুডেন্ট, যে একটা ইঞ্জেকশন দিতেও জানে না। তবু কাল খবরটা শোনার পর কলেজে ছুটে গেছলাম একটাই আশা নিয়ে, যে আর কিছু না পারি লোকজনকে জলের বোতল এগিয়ে দেব, ফাইফরমাশ খেটে দেব!
    বস্তুত আমরা কয়েকজন তাই করেছি। ওখানে পৌঁছে, নেতা আর মিডিয়া যখন অনর্থক ভিড় করে অ্যাম্বুলেন্স আটকে বাইট দিচ্ছিল, তখন আমরাই খিস্তি মেরে তাড়িয়েছি ওদের। এমার্জেন্সির ভেতর থেকে ইন্টার্ন দাদা যখন এসে বললো পেশেন্ট আসতে পারছে না, তখন আমরাই হাতে হাত ধরে ব্যারিকেড করেছি। একটাও পলিটিশিয়ান বা মিডিয়ার গাড়িকে ঢুকতে দিইনি। পেশেন্ট, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী গাড়ি ছাড়া কিচ্ছু ঢোকেনি।
    তারপর, লোকজন এলে মিনিমাম সাহায্যটুকু করার আশায় নিজের নাম্বার ফেসবুকে দিলাম। তারপর থেকে প্রতি ১০ মিনিট অন্তর একবার করে ফোন বেজেছে! আমি অবাক! এখনো মানুষের পাশে এতো মানুষ দাঁড়ায়!! এই পলিটিকস-দোষারোপ-দলাদলির সময়েও এতো লোকের সাহায্য করার ইচ্ছে দেখে আমি অবাক হয়ে গেছি! সমস্ত বয়সের সমস্ত পেশার মানুষ শুধু ফোন করছেন আর জিজ্ঞেস করছেন, কখন আসবো? কোথায় যাবো? ফোনেও ওই উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর মানবিকতার ছোঁয়াটা বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্ট। আরজিকরের এক দাদা রাত ১২টার সময় গাড়ি করে আসতে চাইছিলেন ব্যারাকপুর থেকে!
    তারপর আজকের সকাল। সকাল থেকে ফোন কানে নিয়ে ছুটলাম ব্লাড ব্যাঙ্ক। ওখানেও প্রচুর ভিড়। নেগেটিভ পজিটিভ সবাই জড়ো হয়ে গেছেন। লম্বা লাইন, কারও কোনো বিরক্তি নেই।
    গেলাম যাদবপুর। আরেকবার চমকে গেলাম। শয়ে শয়ে লোক এসে গেছেন রক্ত দিতে। কেউ কেউ তিনঘন্টা চারঘন্টা ধরে না খেয়ে অপেক্ষা করছিলেন লাইনে। সবার বাইরের প্লাস্টিকের মুখোশটা খুলে যেন ভেতরের মানুষটা বেরিয়ে এসেছে।
    রুমেলিকা দি একা বিপি মেপে যাচ্ছে। ওকে একটু সাহায্য করে দিলাম, ছোটো মানুষ, সাহায্যের ক্ষমতাও ছোটো, তবু যা হয় আর কী!
    সব মিলিয়ে আমি ক্লান্ত হলেও খুব ফ্রেশ অনুভব করছি নিজেকে। সব আশা-বিশ্বাস-ভরসা ফিরে এলো মনে হুড়মুড়িয়ে। হবে হবে। সব সম্ভব।

    এবার একটু খারাপ কথাটা বলি।
    ওই, "এই দুর্দিনে অন্তত রাজনীতিটা ভুলে যান" এটা একটা খুব ভুলভাল কথা। এমার্জেন্সির সামনে দাঁড়িয়ে যখন টিএমছিপিকে রক্তদানের প্রতিশ্রুতির নামে নির্লজ্জ প্রচার করতে আর ফুটেজ খেতে দেখি, তখনও মনে মনে খিস্তি মারি। আবার, যখন সিদ্ধার্থইঁদুর রায় মৃত পেশেন্টকে নিয়ে ন্যাকামি করে বা দুর্জন চক্রবর্তীর গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেয়, তখন সেই একই খিস্তিগুলো মারি। শুধু মনে মনে করছি, কারণ এখন প্রায়োরিটি মানুষকে সাহায্য করা, খিস্তি মেরে তেমন লাভ কিছুই হবে না—নিজের মেন্টাল স্যাটিসফ্যাকশন ছাড়া।
    কিন্তু মলমল ঝাঁঝি কাল আরেকবার প্রমাণ করে দিল, ও মানুষের বাচ্চাই নয়। ডারউইনের বিবর্তনবাদ অনুসারে, প্রতিটি প্রাণী তার বর্গ, শ্রেণী বা গোত্রের প্রাণীর সঙ্গে সহমর্মিতা অনুভব করে, এই জোটবদ্ধতাই তাকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের উপযুক্ত করে।
    কিন্তু মলমল তো বোকাচোদার বাচ্চা! তাই ও বিবর্তনবাদ মানে না। তাই অসভ্য অভদ্র নির্লজ্জ ঝাঁঝি গেছল মানিকতলা, সেখানে এসএফআই পরিচালিত ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প বন্ধ করতে। শালা নিজে বোধহয় এক ভায়াল রক্ত টানতে পারবে না, কিন্তু চেয়ারে বসে মানুষজনের পেছন মারতে চলে গেছে মানিকতলা। আবার রক্ত দেওয়ার জন্য একজনকে গ্রেফতারও করেছে।
    কী বলব বলুন। আর খিস্তি দিচ্ছিনা। লিখতে গেলেই শুধু খিস্তি বেরোচ্ছে মাথা থেকে। আপনি সেগুলো মনে মনে দিয়ে নিন।
    তবে একটা কথা। এই ব্যাটাকেও কাল আমরা কনভয় নিয়ে এমার্জেন্সির সামনে ঢুকতে দিইনি। আমরা হাতে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, দেখি বিরাট স্পিডে ঝাঁঝির লালবাতিওলা গাড়ি আসছে। আমরা আটকালাম। একজন সিনিয়র জিজ্ঞেস করতে গেলো—জিজ্ঞেস করে জানাল মন্ত্রীর গাড়ি। আমরা কোনো পরোয়া করিনি। বনেটে দুটো থাপ্পড় মেরে বললাম, "গাড়ি ওদিকে পার্ক করুন। হেঁটে যান। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কিছু ঢুকবে না।" ব্যাটা ঝাঁঝি হেঁটে হেঁটে গেল শেষটায়।
    এই কাজটা করে যে কী সুখ পেয়েছিলাম! উফফ্!

    শেষ কথা। আগেরবার কলেজ ইলেকশনের শেষে বলেছিলাম, ঝাঁঝিকে ধরে কষিয়ে থাপড়ানো উচিত।
    এইসব শুভকাজ আর বেশিদিন বাকি রাখা যাবে না!

    শেষে একটা প্রয়োজনীয় কথা— ক্রাইসিস কিছুটা কমেছে। কিন্তু গ্রীষ্মের সময়ে এমনিতেই রক্ত কম থাকে, তার ওপরে এই ব্যাপার। তাই রক্তের ডিমান্ড আছেই। বিশেষত নেগেটিভ রক্ত।
    তাই, মেডিক্যাল কলেজে আমরা একটা ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের আয়োজন করেছি, মঙ্গলবার, ১১টা থেকে।
    যোগাযোগ —
    দেবাশিস হালদার- 7501142813
    অনিকেত চ্যাটার্জি- 9614934407

    ফোন বাজতে থাকুক।'
  • pi | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ০৮:৪৮338737
  • শুনলাম শুভম পত্রিকায় অমর মিত্রের 'আশালতা' বইটি নিয়ে আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকাটি কারো কাছে আছে বা সংগ্রহ করে পাতাটার ছবি একটু দিতে পারেন ?
  • pi | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ০৮:৪৩338736
  • ব্রিজ ফরেনসিক এক্সপার্ট ভিকিই রয়েছে। মানে বিক্রম। কিন্তু ও তো কাজ করতে চাইলেও পারবে না। এরকম ঘটনায় কোন নিরপেক্ষ তদন্ত বা সরকারের গড়ে দেওয়া কমিটির বাইরে আর কোন কমিটিই তৈরি করা যায় না? কোর্টের থ্রু দিয়ে না দিয়ে ?
  • Abhyu | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ০৮:১৪338735
  • আর ক দিন গেলেই ল্যাজসুদ্ধ বাঘকে মাপবে
  • Abhyu | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ০৮:১৩338734
  • ঠিকই
  • Arpan | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ০৭:৪২338733
  • সে বলতে চাইনি। বলেছিলাম সবারই নিজস্ব কিছু স্মৃতিমেদুরতা আছে। মধুদের আইএসাই মনে পড়ে, কারোর বা যাদপ্পুরের গাছতলা।
  • sinfaut | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ০৭:৪১338732
  • দরিয়া উচ্চতার নতুন মাপপদ্ধতি খুঁজে পেয়েছেঃ
    মাথার চুল খাড়া হওয়ার পর যত উঁচু হয় তার থেকে লম্বা না তার থেকে কম।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত