এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • ধর্ষণের শাস্তি কি মৃত্যুদন্ড?

    s
    অন্যান্য | ১৮ ডিসেম্বর ২০১২ | ৬৯৭০৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:০৬581603
  • উফ! ওটা 'ক্যাস্ট্রেশান' হবে
  • Sibu | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:০৯581604
  • আনঅর্গানাইজড সফল বিক্ষোভ কথাটা আমার বিশ্বাস হয় না।
  • শ্রাবণী | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:৩০581605
  • লোকজনের মুড দেখে রাজনীতিকরা গিয়ে জুটছে মানে বিরোধীরা কিন্তু বিক্ষোভ ছিল এন জিও ইত্যাদি ও অনেকটাই কলেজ ইউনি ফেসবুক ইত্যাদি ......এখন সর্বস্তরের মানুষ জুটছে আস্তে আস্তে।
    কালকে আমাদের এখানে দেখেছি রাজনীতির নামে বা সেরকম লোকেদের উস্কানিতে বের হবার মত লোক নয়, যারা এসেছে।
    এছাড়া অনেকে তো বিজেপি রাজ্যগুলোর কথাও তুলছে, এম পি ছত্তিশগড় তখন তাদেরও চুপ থাকা ছাড়া উপায় নেই।
    কাল একজন বলল ইজিপ্ট না হয়ে যায়, ব্যাপারটা আলাদা তবু লোকে এভাবেই ভাবছে যে জনতা জেগেছে এই ইস্যুতে।
    কোনো রাজনীতি এটা করতে পারে এদেশে এখন বলে মনে হয়না।
    দিল্লীর লোকেদের এখন এভাবে নিজেদের ক্ষোভ জানানোর পন্থাটা আস্তে আস্তে খুব রপ্ত হচ্ছে, জেসিকা লাল, তারপরে লোকপাল নিয়ে আওয়াজ তুলে.....এরকম এখন থেকে হয়ত প্রায়ই হবে! দিল্লী তার এতদিনকার বদনাম ঘুচিয়ে ফেলবে মনে হয়!
  • pi | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:৩৪581606
  • কাফিলায় নীলাঞ্জনার লেখাটা পড়ো। অরাজনৈতিক থেকে রাজনৈতিক হবার ছবিটা কিছুটা আছে।
  • শ্রাবণী | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১২:০৭581607
  • হ্যাঁ, পড়লাম। সেটা তো আশ্চর্যের কিছু নয়, খুব স্বাভাবিক, এরকম একটা স্বতস্ফুর্ত, মাস মুড ক্যাপচার করতে তো রাজনীতিকরা চাইবেই....এগুলো থাকবে, তবু................এই তবুটাই, এই শুরুটা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লাগছে।

    আর একটা কথা লিখব ভাবছিলাম, আমার নিজের বা আমার চেনা কিছু লোকের একান্ত ব্যক্তিগত ভাবনা। আমি নর্থ ইন্ডিয়াতে বড় হয়েছি। চাকরি সংসার জীবনে আবার এখানে ফিরে এসেছি তাও নয় নয় করে বছর বারো হল। যস্মিন দেশে যদাচারের মত এখানের নিয়মকানুন মেনে নিয়েই থাকি। মহিলাদের সম্মান এদেশে নেই।
    তাই খুব স্বভাব বহির্ভূত একটা কঠিন আবরণে নিজেকে রাখতে হয়, সারভাইভালের জন্যে, নাহলে এখানে কেউ শুনবেনা। অফিসে সাবর্ডিনেট গোলমাল পাকাবে, সিকিউরিটীরা যেখানে পুরুষদের সেলাম ঠোকে আসতে যেতে মহিলা দেখলে মুখ কঠিন করবে, দোকানে বাজারে রাস্তায় সর্বত্র বাজে ব্যবহার পুরুষ দ্বারা। অনেক দিনের চেষ্টায় কিছুটা এদের নোয়ানো হয়েছে, কিছু জনকে বশ্যতা মানতে বাধ্য করতে পারা গেছে, কিছু জন তেমনই রয়ে গেছে।
    কিন্তু এইসব ঘটনার পরে মনে হচ্ছে আসলে তো এরা বদলায়নি, এদের ধারণাও, কারণ আসলে কেউ বদলায় না। তারমানে সবাই সুযোগের অপেক্ষায়, কখন আমাদের মতদের যারা ভাবে যে আমরা বেড়ে গেছি তাদের উচিত শিক্ষা দিতে পারবে।
    কত সিনেমা সিরিয়ালে তো হমেশা শোনা যায় মেয়েরা পায়ের জুতি, এই ভাষা। আগে হাসতাম যে এদেশে পুরুষেরা ছেলেমেয়েদের "আপ" করে কথা বলে আর মা বউকে "তু"। এখন আর হাসি পাচ্ছেনা।
    এখন যেদিকে তাকাই, যাকে দেখি, সেসবের জন্যে নিজের মধ্যে এক ঘন অবিশ্বাস টের পাই, ভয় হয়ত এখনো নয় তবু সেরকমই কিছু।
    মনে হয় আমরা এদের কারো থেকেই নিরাপদ নই, হয়ত বা।
    এটা একটা ভয়ঙ্কর ব্যাপার, এত অবিশ্বাস নিয়ে এত শঙ্কা নিয়ে মেয়েরা কী করে চলবে!:((
  • siki | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১৩:৩১581608
  • ক।
  • শ্রী সদা | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১৪:৫৯581610


  • ৩ আর ৪ নং পয়েন্ট দুটোর প্রয়োজনীয়তা বুঝিতে নারিলাম।
  • siki | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১৫:২৯581611
  • প্রটেস্ট ক্রমশ ভায়োলেন্ট হচ্ছে। অলরেডি পঁচিশ ছাব্বিশ রাউন্ড টিয়ার শেল ছোঁড়া হয়েছে। সাতটা মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হল।
  • s | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:৩৬581613
  • এইমাত্র মিছিলে হেঁটে এলাম। মেয়েটি আমাদের (দিল্লি) দ্বারকার - মহাবীর এনক্লেভ। শুক্রবার সন্ধের সময় এখানে মোমবাতি মিছিল অর্গানাইস করা হয়েছিল। সেক্টর ৪ থেকে ৬, ১০, ৫ হয়ে আবার সেক্টর ৪ য়ে। মেইন রোড বলে ব্যাপক জ্যাম হয়ে গেছিল। শুনলাম যে তাই পুলিশের লোকজন গতকাল মিছিল করার অনুমতি দেয়নি। আজকে পোস্টার, প্লাকার্ড নিয়ে মিছিল সারা দ্বারকা এলাকা চক্কর দিয়ে এল। লোকজন দেখলাম গাড়ী থামিয়ে, পার্ক করে কিছুটা মিছিলে হেঁটে আসছেন। আর স্লোগান উঠছে ইন্ডিয়া গেট, যন্তরমন্তরের মতো "We want Justice. We want Justice"।
    ভাবছিলাম, এই কি সেই দিল্লি যেখানে পাশের বাড়ীতে কিছু হলে প্রতিবেশী দেখতেও যায় না। কাজের মেয়েকে ঘরে বন্ধ করে ডাক্তার দম্পতি ব্যাঙ্ককে ছুটি কাটাতে যায়। কথায় কথায় যেখানে মা বহিন তুলে গালিগালাজ হয়।

    কি চায় জনতা?
    নানা লোকের নানা মত। একটি মেয়ে ভালো বলল। চাই, যে কোনো মহিলা সংক্রান্ত অপরাধের, সে ইভটিসিং হোক, বা আরও গুরুতর কিছু, যে কোনো থানা ১ ঘন্টার মধ্যে FIR নেবে, আর ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেফতার করবে। কোনো কম্প্লেন যদি কোনো থানা ফেরায় তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে হবে। চাই ১ মাসের মধ্যে চার্জশীট দাখিল হবে। আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোর্টে কেস ঊঠে রায় বেরোবে। চাই রেপের জন্য আরও কঠিন শাস্তি। আর এই রেপ কেসের জন্য চাই Capital Punishment। চাই মেয়েদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপত্তা।
    ইন্ডিয়া গেটে পুলিশ আর জনতার মধ্যে যখন খন্ডযুদ্ধ চলছে, তখন দ্বারকার এই শান্তিপূর্ণ মিছিলের জায়গা করে দেওয়া আর ট্রাফিক সামলানোর জন্য অনেক পুলিশ মোতায়েন ছিলো।
    অনেক সিনিয়র সিটিজেন হাঁটলেন এই মিছিলে। তরুণ তরুণীদের সাথে। স্লোগান দিতে দিতে গর্জে উঠলেন। সুমনের সেই লাইনটা মনে পড়ছিল, "হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে"।
  • s | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১৭:৪৯581615
  • ** গুন্ডাগিরি
  • শ্রাবণী | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১৮:২৩581616
  • জনতার প্রতিবাদ, ছাত্রছাত্রীদের, সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ, ছেলেমেয়েরা, স্টুডেন্ট, প্রফেশন্যাল......... তাকে ভাঙতে পুলিশ পারেনা যখন তখন এদের মধ্যে রাউডি, বদমায়েশ ঢুকিয়ে দেওয়া, মুখোশে, এটা খুব অস্বাভাবিক নয়........ক্যালকুলেটেড হলেও অবাক হবনা...............জনতার এই বিস্ফোটকে বদ্নাম করার অনেক চেষ্টা হবে.........তাই বলে যাই, প্রাউড অফ দিল্লীর মানুষ, আজকের যুগের ছেলেমেয়ে, মানুষ..........
  • ~ | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১৯:৩০581617
  • রাজছত্র ভেঙে পড়ে
    রণডঙ্কা শব্দ নাহি তোলে
    জয়স্তম্ভ মূঢ়সম অর্থ তার ভোলে ...
  • ranjan roy | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১৯:৪০581618
  • বিষম দুঃখে ব্রণের পিন্ড বিদীর্ণ হয়ে তার,
    কলুষপুঞ্জ করে দিক উদ্‌গার।
  • ranjan roy | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১৯:৪৩581619
  • পাই,
    কোলকাতায় কখন, কোথায়?
  • pi | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ২০:০০581620
  • রঞ্জনদা,

  • sosen | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ২০:১৭581621
  • পাই কি থাকছো? আমার তিনটেতেই একটা মিটিং আছে, সেরে যাব সম্ভবত:।
  • s | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ২০:৩৯581622
  • এই চিরশ্রী মজুমদার মহিলাটি অসাধারণ লেখেন। একদম একমত।
    http://www.anandabazar.com/23edit2.html
  • pi | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ২০:৪১581624
  • সোসেন, যাচ্ছি।
  • pi | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ২৩:১৫581625
  • লেখাটা ভাল লাগল।
  • sugato | ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ ২৩:৫৪581626
  • গনসম্মুখে হত্যা বা অপদস্থ করা মধ্যযুগে ছিলো বিচারের একটি প্রথাগত পন্থা। সমশোধনাগারের অভাবে, ও সামাজিক আইন ই ন্যায় বিচারের সুগঠিত ভাব্নার অভাবে, এটিই ছিল রাষ্ট্রের কাছে একটি সহজ উপায়। উপরন্তু, সামাজিক শোষণ ও উত্পিরণের বিরুদ্ধে পুন্জিভূত ক্ষোভকে একটি অভিমূখ দেয়া সম্ভব হতো এর ফলে।
    আধুনিক কালে, অন্তত তাত্ত্বিকভাবে, আইন ও ন্যায় মূলত অনূতাপ, সমশোধন ও প্রতিরোধেই মূল গুরুত্ব দেয়। আমাদের সমাজ বিচার হিসেবে য্ন্ত্রণাদায়্ক শাস্তির প্রথা বহুদিন হল ফেলে এসেছে কারণ এটাকে বর্বরতা হিশেবেই দেখা হয়।
    তবে খাপ ইত্যাদি 'বিচার' ব্যাবস্থায় আজ ও এই ধরণের আচরণ চলে। এর মূল কারন হলো যথার্থ বিচারব্যাবস্থার অভাব, আর হিঙ্গসাত্যক গণমত এবম রক্তলোলূপতা।
  • pi | ২৪ ডিসেম্বর ২০১২ ০০:৩৫581627
  • Join Protest March on 24 Dec to condemn the crackdown, shut-down of metro and buses, 144, highhandedness of govt and police - Continue the Struggle for Action Against Gender Violence and for Women's Freedom and Rights - Gather at Jantar Mantar at 1 pm tomorrow. AISA, AIPWA, RYA How dare they shut down public transport and put the city under 144??!!
    Also we need to take on the attempt by Sheila Dixit as well as some sections of the media (Zee, Times Now) to suggest that the entry of 'political groups' and 'unions' in the movement led to violence! I think the police and govt's high handedness above all was the factor in provoking a section of the crowd to adopt means that were unwise and ill-advised. In fact it was the 'political' (read the groups and individuals with a clear vision of the politics of gender discrrimination and violence - including various shades of Left/feminist/democratic etc) who gave an edge to the protest and were helpful in keeping it focussed!
    Let's all work together on how to continue the protest. Today was great because above all we addressed general people in the protest and deepened the discourse on gender justice. We should find ways to keep that up. We should keep the protest going and reassert the focus, but without separatism and 'preaching to the converted'... I'm sure we can all get together to do it as we did today! -- Kavita Krishnan
  • siki | ২৪ ডিসেম্বর ২০১২ ১০:৫২581628
  • এ এক অদ্ভুত ক্রেজ। দুই আলাদা আলাদা স্রোতের জল এসে মিশছে এক জায়গায়। একদিকে অসংখ্য স্কুল-কলেজ-পড়ুয়া তরুণ তরুণী, গৃহবধূ, কর্মরত মহিলা-পুরুষের দল, যাঁরা সত্যি সত্যি ভেতরের রাগঘেন্নালজ্জাভয়কষ্ট উগরে দিতে ভিড় করছেন রাজপথে, ইন্ডিয়া গেটে, অন্যদিকে, সমস্ত নেতৃত্ববিহীন আন্দোলনেই যা হয়ে থাকে, এই ভিড়ে নিজেদের "সুশীল" প্রতিপন্ন করতে ঢুকে পড়ছে একদল সেই ধরণের লোকজন, যারা এমনিতে ভিড়বাসে হাত এবং কনুইয়ের সদ্ব্যবহারে খুবই পটু, যারা এমনিতে ঘরের ভেতর বউকে মা-কে তুইতোকারি করেই কথা বলে, যারা সাধারণভাবে মেয়েদের সামনে থেকে খুবই সম্মান দিয়ে কথা বলে এবং আড়াল থেকে তাদেরই "সালী রান্ডী" বলে ডেকে তাদের ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স নিয়ে কাল্পনিক সুখসম্ভোগে মত্ত হয়।

    শনিবার যখন ইন্ডিয়া গেটে গেছিলাম, রাস্তায় যে ভিড় দেখেছিলাম, রাজপথে যে ভিড় দেখেছিলাম, সেটা ঠিক সাধারণ জমায়েতে দেখতে পাওয়া ভিড় নয়, যারা এমনিতে স্রেফ মজা করার উদ্দেশ্যে, ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে এবং টিভির ক্যামেরা দেখতে পেলে হাসিহাসি মুখে হাত নাড়ার উদ্দেশ্যে কোনও র‍্যালিতে জড়ো হয়। শনিবারের ভিড় ছিল স্পন্টানিয়াস, স্বতস্ফুর্ত, এবং যতগুলো মুখ দেখেছিলাম, প্রতিটা মুখ গনগন করছিল রাগের আঁচে। তাদের হাতে ধরা ব্যানার পোস্টারের সাথে মিলে গেছিল তাদের মুখের ভাব। এনাফ ইজ এনাফ, বাস ... অওর নহী।

    রাজপথের তিনটে ইন্টারসেকশনে তখন লাল সবুজ আলোরা জ্বলছিল, নিভছিল, এমনিই, কেউ পাত্তা দিচ্ছিল না তাদের। হায়েস্ট সিকিওরিটি জোন, ওখানে কেউ সাধারণত নিয়ম ভাঙার সাহস করতে পারে না, সেইখানেই দেখলাম কিছু ছেলে, বিনা হেলমেটে বাইকে সওয়ার হয়ে ফুলস্পিডে মাফলার উড়িয়ে রাজপথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত, মুখে ধূর্তের হাসি, চোখে শিকারীর দৃষ্টি। হবে না? কতশত সেক্সি মেয়ে এসেছে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, ঝারি মারার, হাত মারার এমন সুযোগ কি ছাড়া যায়?

    হয়েছে-ও তাই।

    কাল বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম বেলা সাড়ে এগারোটায়, কিছু কাজ ছিল। বেরিয়েই পড়লাম জ্যামে। আমার বাড়ির খুব কাছেই দিল্লি বর্ডার, ইউপি গেট। সেখানে প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা জ্যাম। প্রথমে ভেবেছিলাম সিগন্যাল খারাপ, তারপরে ভেবেছিলাম অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে হয় তো। প্রচুর পুলিশে ভর্তি ইউপি গেটের টি-ক্রশিং। কোনও রকমে পেরিয়ে ডানদিকে টার্ন নিতেই দেখলাম আরেক দৃশ্য। ডানদিকে টার্ন নিলেই শুরু হচ্ছে দিল্লি। গাজিপুর মন্ডীর ফ্লাইওভার দিয়ে শুরু দিল্লির এন্ট্রি। সেই ফ্লাইওভার পুরো সীল করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের গাড়ি দিয়ে, আর পুলিশ দিয়ে।

    চার লেনের রাস্তা, পেনাল্টি কিক নেবার সময়ে দেখেছেন তো ফুটবলাররা ছসাতজন কীভাবে পাশাপাশি গা ঘেঁষাঘেষি করে দাঁড়ায়? ঠিক সেইভাবে পঁচিশ তিরিশজন করে পুলিশ, হেলমেট-বুলেটপ্রুফজ্যাকেট-লাঠি নিয়ে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে, পুরো রাস্তাটা কর্ডন করে; পরপর তিন-চারটে লাইনে, সবশুদ্ধু একশো থেকে দেড়শো পুলিশ। তাদের পেছনে গাজিপুর মন্ডীর ফ্লাইওভার একেবারে শুনশান। ট্রাফিক ডাইভার্ট হয়ে চলেছে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে। অকথ্য জ্যাম।

    সেইসব জ্যাম পেরিয়ে যখন পরের ফ্লাইওভারের মুখে এসে পৌঁছলাম, তখন বুঝলাম কেসটা।

    ইউপি থেকে পালে পালে বাস-ভর্তি প্রোটেস্টার ঢুকছে দিল্লিতে। গন্তব্য রাজপথ, যেখানে কাল ভোর থেকেই লাগু হয়েছে ১৪৪ ধারা। বাসের ভেতরে, ছাদে ভর্তি লোকজন, হাতে জাতীয় পতাকা, জানলায় ব্যানার, বলাৎকারীয়োঁকো ফাঁসী দো, নারী কা অপমান, দেশ কা অপমান, ইত্যাদি। প্রায় চোদ্দ পনেরোটা বাস ভর্তি গ্রাম্য ইউপির লোকজন, যারা এসেছে আন্দোলনের আগুনে উত্তাপ সেঁকতে। অন্তত তাদের মুখচোখের হাবভাব দেখে তো তাইই মনে হল। না হলে তারা যে সব জায়গা থেকে বিলং করে, সেখানে মেয়েদের আরও-ই মানুষ বলে গণ্য করা হয় না, খাপের রাজত্ব চলে সেখানে। জাস্ট টিভিতে মুখ দেখানোর সুযোগ, আর এই ফাঁকে ছুটির দিনে দিল্লি, নিউদিল্লি ঘুরে নেবার সুযোগ পাবার আশায় লোকজন দলে দলে ছুটে এসেছে। তাই ইউপি গেটে ওই রকম পুলিশ প্রহরা, তাই ফ্লাইওভার ব্লকিং।

    না, কোনও পলিটিকাল পার্টির ব্যানার ছিল না।

    পরে টিভিতে দেখলাম সেইসব বাসগুলোকে, রেলভবনের সামনে। লোকজন লাঠি নিয়ে উন্মাদের মত ভাঙছে পুলিশের পিসিআর ভ্যান। পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটাচ্ছে। লাঠি নিয়ে পিটছে যাকে সামনে পাচ্ছে তাকে, কোনও বাছবিচার করছে না।

    কাল সন্ধ্যের মধ্যে সফলভাবে সবাইকে উচ্ছেদ করে দেওয়া গেছে। কাউকে মাফ করা হয় নি। সাধারণ মানুষ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী, মিডিয়া-পার্সন। কাউকে না। জলকামানের তোড়ে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা। সাংবাদিকদের গায়ে পড়েছে লাঠির আঘাত। পুলিশও মার খেয়েছে কম না। একজন কনস্টেবলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে, রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে।

    সব মিলিয়ে, স্বাধীনতার পরে, এই ধরণের বড়সড় রণক্ষেত্র দিল্লি দ্যাখে নি, রাজপথে। নর্থ ব্লকের মাথায় সাধারণ মানুষ শেষ ভিড় জমিয়েছিল ১৯৪৭ সালের পনেরোই আগস্ট। তারপরে, গত পরশু।

    বয়ানবাজি শুরু হয়েছে। শীলা দীক্ষিত, সন্দীপ দীক্ষিত, সুশীলকুমার শিন্ডে, মনমোহন সিং, রাহুল গান্ধী।

    লোকে এখন আর কারুর কথা শুনছে না।
  • Shola the Great | ২৪ ডিসেম্বর ২০১২ ১০:৫৫581629
  • সিরিয়াস ব্যাপারে একটা ফুট না কেটে পারলুম না। সিকির ফুটবল জ্ঞান অসামান্য। পেনাল্টি কিকের সময় ওয়াল তৈরী করে?
  • siki | ২৪ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:০২581630
  • আমি ফুটবলের ফ-ও জানি না। :) ওটা পেনাল্টি কিকের নয়? কখন করে তা হলে?
  • siki | ২৪ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:১১581631
  • আফটারমাথঃ

    ১। ছাব্বিশে জানুয়ারির প্যারেডের জন্য ব্যারিকেড বানিয়ে সাজানো হচ্ছিল রাজপথের দুধার। সমস্ত ভাঙচুর করা হয়েছে।

    ২। সমস্ত মিডিয়ার এন্ট্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়া গেট থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত।

    ৩। নটা মেট্রো স্টেশন সীল করে দেওয়া হয়েছে। মেট্রো চলছে। তবে ঢোকা বেরনো বন্ধ।

    ৪। সিকিনীদের অফিসের চার্টার্ড বাস আবার তুলে নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আশপাশের মেট্রো স্টেশনও বন্ধ। সিকিনী অবশ্য এখন দিল্লিতে নেই, তার কলীগদের চার পাঁচ কিলোমিটার দূরের মেট্রো স্টেশন থেকে হেঁটে পৌঁছতে হচ্ছে।
  • Shola the Great | ২৪ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:৩৩581632
  • ডিরেক্ট ফ্রীকিক
  • siki | ২৪ ডিসেম্বর ২০১২ ১১:৫০581635
  • ভালোই লিখেছে, তবে এই জায়গাটায় একমত নই।

    Do not forget that when Sushma Swaraj, the BJP leader made the disgusting comment ‘ uski zindagi maut se badtar ho chuki hai’ (‘her life is now worse than death’), in Parliament, she was actually endorsing the Patriarchal value system that produces rape.

    সুষমা মোটেই ঐ অ্যাঙ্গল থেকে কথাটা বলেন নি। আমি স্পীচটা শুনেছি। মেয়েটি, যদি বেঁচেও যায়, কোনওদিন নর্মাল লাইফ লীড করতে পারবে না। এখনও বোঝা যাচ্ছে না সে কোনওদিন শক্ত খাবার খেতে পারবে কিনা। সে সন্তানধারণের ক্ষমতাও সম্ভবত হারিয়ে ফেলেছে চিরদিনের মত। যেদিন সুষমা স্বরাজ স্টেটমেন্টটা দেন, সেসিনই কাগজে ডাক্তারদের এই সমস্ত কনসার্ন ছেপে বেরিয়েছিল। সুষমা তার পরিপ্রেক্ষিতেই বক্তব্যটা রেখেছিলেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন