এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শাক্য | ০১ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:১৭668500
  • ীশানদা, আদিম সাম্যবাদ। বা রাহুল সংকৃত্যায়নের ভলগা থেকে গংগাতে যে প্রথম গপ্পটা ছিল প্রবাবলি 'রেবা' নাম দিয়ে। সেই সমাজটা ভাবো
  • Ishan | ০১ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:১৮668501
  • উফ অর্ধেক শব্দ হাওয়া। রিপোস্ট করলাম।

    হচ্ছে না হচ্ছে না। 'সাধারণ মানুষ' বলে আদিম পৃথিবীতে কিচ্ছু ছিলনা। তখন জোর যার মুলুক তার ছিল। 'সাম্য'এর তো গপ্পোই নেই। এইসব ধারণাগুলোই ক্ষমতা পরে বানিয়েছে। আদিম দুনিয়ায় সাম্য, স্বাধীনতা, সাধারণ মানুষ এসবের কোনো গপ্পোই নেই। ছিলও না। ইন ফ্যাক্ট আমি বা শাক্য যে ভাষায় কথা বলছি, আদিম পৃথিবীতে তার জাস্ট কোনো মানে ছিলনা।

    সাম্য স্বাধীনতা -- এগুলো পেতে গেলে ক্ষমতাকে দরকার। ক্ষমতাহীন পৃথিবী আর যাইহোক 'সাধারণ মানুষ'কে 'সাম্য' এনে দেবেনা। জঙ্গলের রাজত্ব ডেফিনিটলি আনবে, যেখানে 'স্টেট' নেই, খুব হাল্কা করে 'সমাজ' আছে। সেখানে অপরিচিত মানুষ মাত্রেই শত্রু, হয় খাদ্য নয় খাদক। আর পরিচিত মানুষ মাত্রেই হয় প্রভু নয় দাস বা শাসিত।
  • শাক্য | ০১ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:১৯668502
  • ঘুমোতে গেলাম। কাল বাকিটা। আর যদি ঘুম না আসে, তো গাঁজা খেয়ে ফিরব।
  • Ishan | ০১ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:২১668503
  • ধুর রাহুল সাংকৃত্যায়ন। ওগুলো গপ্পো। ওরকম নানা মিথ আমরা তৈরি করি। আদিম সাম্যবাদ সম্পর্কিত মিথ, বিজ্ঞান নিয়ে মিথ। বাস্তব হল, নিউটন মাধ্যাকার্ষণের চেয়ে বেশি সময় ব্যস করেছেন অ্যালকেমি নিয়ে 'রিসার্চে'। দেকার্ত ডাকিনীবিদ্যায় বিশ্বাস করতেন। আদিম মানুষরা অন্য দল দেখলেই তাদের উপর চড়াও হত, কারণ রিসোর্স কম ছিল।

    ওসব মার্কসিস্ট আদিম সাম্যবাদের গপ্পো দিয়ে কী হবে।
  • pi | ০১ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:২২668504
  • না, উত্তর পাইনি। লিখলাম তো কোন পোস্ট।

    আর তোর কথা বুঝছিনা। মব লিঙ্চিং তো তোর কথিত ইনোসেন্সের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতাই, তাহলে তাকে কেন গ্লোরিফাই করছিস ?
  • একক | ০১ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:৩৯668505
  • শাক্য শেষে সাম্যবাদে এসে তরী ভেরালি :( রামো:
  • দ্রি | ০১ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:৪৫668506
  • আচ্ছা, আদিম মানুষেরা কি করত না করত, এগুলো আপনারা বোঝেন কি করে বলুন তো?
  • Ishan | ০১ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:৪৮668507
  • জীবিত ও মৃত নৃতাত্ত্বিক উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, খুব সহজে এবং শর্টে বললে, ধরুন জারোয়াদের কাছ থেকে প্রাচীন সমাজ সংগঠন সম্পর্কে জানা যায়। এর বেশ কিছুটাই অবশ্য অ্যাপ্রক্সিমেশন।
  • একক | ০১ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:৪৯668508
  • যেভাবে আফ্রিকায় সেউফল আছে কিনা বোঝা যায় :) ত্বয়া তত্বেণ সংস্থিতা।
  • দ্রি | ০১ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:৫২668510
  • আর একটু কঠিনে এবং লংএ বললে?
  • Ishan | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ০০:২৬668511
  • পোবোন্ধো লেখানোর ছক। বেসিকালি পদ্ধতিটা একই। এমন কিছু জনজাতি নির্দিষ্ট করা হয়, যারা "উন্নতি"র একটি স্তরে আটকে গেছে। তাদের স্টাডি করে প্রাগৈহাসিক হালচাল ব্যবহার করা হয়। মর্গ্যান আমেরিকান জনতাজ্তিদের স্টাডি করেছিলেন, এঙ্গেলস সেই অবসার্ভেশনকে ব্যবহার করেছিলেন। তারার কয়েকশো বছর গেছে। আমি ইদানিং গাতিয়ে জেরাড ডায়মন্ড পড়ছি। সেগুলো গত দশ বিশ বছরের লেখা। সেখানে যা দেখছি, পদ্ধতিটা এখনও এক। কেবল "আটকে যাওয়া" টা নিশ্চিত করতে, প্রত্নতাত্বিক সাক্ষ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয় (কার্বন ডেটিং ইত্যাদি করে)। তারিখ নির্ণয়ের পদ্ধতি এখন অনেক সূক্ষ্ম এবং অ্যাকিউরেট হওয়ায় ফসিল ইত্যাদি প্রত্নতাত্বিক সাক্ষ্য নিএজেরাও এখন নানা কথা বলে। যেমন কবে চাষবাস শুরু হল, কবে অশুপালন। তার আগে গোষ্টীব্বদ্ধ জীবনে কতজন থাকত। ইত্যাদি। এগুলো ডায়রেক্ট প্রুফ। এর সঙ্গে নৃতাত্ত্বিক সাক্ষ্য, অর্থাৎ ঐ একটা স্তরে আটকে থাকা জনগোষ্ঠীকে মিলিয়ে নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়।

    এর খানিকটা প্রত্যক্ষভাবে জানা যায়। খানিকটা অ্যাপ্রক্সিমেশন।
  • দ্রি | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ০০:৩৬668512
  • আরেব্বাস, এ তো দারুণ ইন্টারেস্টিং!

    ফসিল আর কার্বন ডেটিং করে কেমন করে বুঝবে কবে চাষবাস শুরু হল?

    এটা কিন্তু তোমায় বলতেই হবে।
  • Ishan | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ০০:৫২668513
  • চাষ-বাস শুরু হবার কেসটা ভরি ইন্টারেস্টিং। জন্তুদের পোষ মানানোও।

    প্রথমে বস্তুটার জটিলতার দিকে তাকানো যাক। এত ছোটো করে লিখলে বিষয়টার প্রতি অবিচার হবে, তবুও। চাষবাস শুরু করার জটিলতা অকল্পনীয়। প্রথমত আমরা আজকে যে শস্যগুলো দেখি, সেগুলো আদিম যুগে একেবারেই এরকম ছিলনা। আজকের কুকুর বা আজকের ধান বা আজকের পায়রা, সবই সিলেক্টিভ ব্রিডিং এর ফল। ডারউইনের অরিজিন অফ স্পিসিসের প্রথম অধ্যায়ে এই প্রক্রিয়াটার দীর্ঘ বর্ণনা আছে। বস্তুত, ডারউইন এইটা থেকেই ন্যাচারাল সিলেকশানের আইডিয়ায় পোউছেছিলেন। তো, এই সিলেক্টিভ ব্রিডিং একটা কঠিন বিছয়। সেটা শিখতে হয়। কিন্তু তারও আগে, কীসের সিলেক্টিভ ব্রিডিং করব, সেটা আবিষ্কার করতে হয়। একটা উর্বর জঙ্গলে আপনাকে আমাকে ছেড়ে দিলে, সেখানে হাজার-হাজার ঘাসের দানা দেখে আমরা ব্যোমকে যাব। যেকোনো লোকই তাই হবে। তারপর র‌্যান্ডম চেষ্টা করে করে কোন বীজটা খেলেও খাওয়া যেতে পারে, আবিষ্কার করতে হবে। তারপর সিক্টিভ ব্রিডিং করতে হবে। তারপর নানারকম করে খাবার চেষ্টা চালাতে হবে (ধান বা গম কোনোটাই আমরা র ফর্মে খাইনা)।

    এবার, আইডিয়ালি, হাজার হাজার জিনিস নিয়ে এরকম করতে গেলে বহু বছর সময় লাগবে। এবং বহু বীজ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হবে। আন্দাজ করা যায় কয়েকশো থেকে কয়েক হাজার বছরের এফর্ট। এবং তার জন্য পরীক্ষাগার লাগবে। ফার্টাইল ক্রেসেন্টে এরকম বীজের সংগ্রহশালা পাওয়া গেছে (মনে নেই, সম্ভবত একাধিক)। তার কিছু জিনিস আমরা এখন খাই (ওরাও খেত), কিছু বীজ বাতিল হয়েছে, সেসবেরও ধাপে-ধাপে কিছু সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। সেসবের তারিখ বোঝা হয়েছে। এবং নানা সাক্ষ্য থেকে বাকিটা ব্যাক ক্যালকুলেশন।

    সংক্ষেপে এইটা চাষাবাদ। পশুপালন নিয়েও এরকমি রোমহর্শক গপ্পো আছে। কিন্তু এসব এত ছোটো করে বলার বস্তু না।
  • একক | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ০১:১৭668514
  • পুরো ইভোলিউশন তার এত্তা আরবানসেন্ট্রিক অল্টারনেটিভ থিওরি নাবাতে হবা :P
  • ranjan roy | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ০১:৪৯668515
  • ঈশান,
    জেরাড ডায়মন্ডের বইটি অতীব আকর্ষক। এক শ্বাসে পড়ার মত। কিন্তু কিন্তু-- একটা সভ্যতা কেন টিঁকে গেল অন্যটা কেন রইল না-- এ নিয়ে ভদ্রলোকের থিওরিগুলো কিছুটা একমাত্রিক ও সরলীকৃত নয়?
    অবশ্যি আমি শুধু ওঁর একটা বই, মানে সবচেয়ে সহজলভ্য ও জনপ্রিয় বইটাই পড়েছি।
    অন্য বইয়ের নাম দিও তো, পড়ে দেখার ইচ্ছে আছে।
  • Ishan | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ০২:১৯668516
  • আমি তো থিয়োরি নিয়ে লিখিনি। অবসারভেশন গুলো নিয়ে বললাম। মরগ্যান, লেভি স্ত্রাউস, ডায়মন্ড সবার থিয়োরিই একটু জল মিশিয়ে পড়া ভালো, এই আমার অভিমত। :-)

    তবে ডায়মন্ডের থিয়োরিটা আমেরিকা নিয়ে মোটের উপর ঠিকই লেগেছে। বাকি কেসগুলো সরলীকৃত। সে কেসগুলি বস্তুতই জটিল। উপনিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে যাচ্ছি বছরের পর বছর ধরে। এখনও তেমন আলোকিত হলাম না। নিজেকেই কিছু একটা নামাতে হবে এবার। :-)

    আর ডায়মন্ডের শিম্পাঞ্জি নাম দিয়ে দুইখান বই আছে। পুরো নাম ভুলে গেছি। সে না পড়লেও হবে।
  • দ্রি | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ০২:৩৭668517
  • দাঁড়াও, দাঁড়াও, ঈশেন। তোমাকে এখনও ছুটি দিইনি।

    ফার্টাইল ক্রেসেন্টে শস্যাগারের ফসিল পাওয়া গেছে? রিয়েলি? তার কার্বন ডেটিং হয়েছে? সে কত বছর আগেকার কথা? চাষবাস কি ঐ একটি জায়গাতেই শুরু হয়েছে? পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়নি শিওর? আরো একটু গল্প ছাড়ো তো। অনেক দিন না লিখে লিখে অলস হয়ে গেছ।

    আর আদিম মানুষ অন্য মানুষ দেখলেই তাদের ওপর চড়াও হত। এটা বুঝলে কিকরে? মাঝে মাঝে কোঅপারেটও করতে পারত।
  • Ishan | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ০৩:২২668518
  • শস্যাগার তো পাওয়াই গেছে। কিন্তু সে তো অনেক পরের কথা। ৮৫০০ বিসিরও পরে। কিন্তু এখন শস্যাগারের কথা বলছিনা। বলছি নানা বীজ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা। সেটা তার আগেই হবার কথা। কিন্তু এখানে তো বই নেই, তাই খুঁজে পাচ্ছি না। এবং সময় টাও পিনপয়েন্ট করে বলতে পারলাম না। পরে দেখে বলে দেব (আজকাল স্মৃতিশক্তি কমে আসছে)।

    চাষবাসের দুতিনটে জানা কেন্দ্র আছে। ফার্টাইল ক্রেসেন্ট একটা। চিন আরেকটা। অন্য জায়গায় যে শুরু হয়নি তার অবশ্য কোনো গ্যারান্টি নাই।
  • শাক্য | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ১৩:৩১668519
  • যাহ বাবা, কি নিয়ে কথা হচ্ছিল আর কোথায় চলে এল!

    তবে যে ডি বার্নাল মানলে, আগে চাষবাস এসেছে তার পরে পশুপালন
  • শাক্য | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ১৩:৩২668521
  • কারণ চাষবাসের শস্য দিয়ে পশুদের আকৃষ্ট করা হত, এরম একটা থিওরি আছে। লেভি স্ত্রাউস পড়িনি। ঈশানদা আরো কিছু লিখুক
  • Atoz | ০২ এপ্রিল ২০১৫ ২২:৩৪668522
  • কৃষি ও পশুপালন চালু হওয়া বিষয়ে বিস্তারিত শুনতে চাই।
    আদিম মানুষের বিভিন্ন ট্রাইবগুলো ক্যালাকেলি করতো না কোলাকুলি করতো-সেই বিষয়েও বিস্তারিত জানতে চাই।
    লিখুন, খুব ভালো হচ্ছে।
  • dc | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ০৮:৩৩668523
  • ওদিকে আল শাবাবের ভয়েস কেনিয়ায় এসে গেছে। কেনিয়ার সরকারের এই গ্রুপটাকে লেজিটিমাইস করে দেওয়া উচিত যাতে মেনস্ট্রিমে এসে কেনিয়ার সব স্কুলে গিয়ে গিয়ে গুলি চালাতে পারে। মাত্র একটা স্কুলে গুলি চালাল আর বাকিগুলোতে চালাল না, এরকম করলে সাম্যবাদ হয়না।
  • Ishan | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ০৮:৩৪668524
  • যে রেফারেন্সটা দেব বলে দেওয়া হয়নি। জায়গাটার নাম 'তেল আবু হুরেয়া'। ইংরিজিতেও দিয়ে দিই, Tell Abu Hureyra -- দরকার হলে কেউ নেট খুঁজে আরও কাজের জিনিস বার করলেও করতে পারেন। জায়গাটা ইউফ্রেটিস উপত্যকায়। বর্তমান সিরিয়ায়। সময়কাল ১০০০০ থেকে ৯০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ। তিনজন প্রত্নতাত্ত্বিক, গর্ডন হিলমন, সুসান কোলেজ আর ডেভিড হ্যারিস ওখানে বীজের স্তূপ আবিষ্কার করেছেন। "The scientists analyzed over 700 samples, each containing an average of over 500 identifiable seeds belonging to over 70 plant species. It turned out that the villagers were collecting a prodigious variety (157 species!) of plants identified by their charred seeds, not to mention other plants that cannot now be identified."

    এটাকে বীজের সংগ্রহশালা বলতে পারেন। ল্যাবও বলতে পারেন। যেখানে গাদা-গাদা বীজ জড়ো করা হয়েছিল, কোনটা কাজে লাগবে (খাওয়া যাবে), কোনটা যাবেনা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য। কারণ ওরা চাষাবাদ ওই সময়েই বা তার একটু আগে শুরু করেছিল।

    যেটা বললাম, তার খানিকটা যৌক্তিক অনুমান। বীজের সংগ্রশালাটা বাস্তব প্রমাণ। পরীক্ষা করা হত, এটা যৌক্তিক অনুমান। তবে এইটুকু নিশ্চয়ই করা যায়। কষ্ট করে হাজার-হাজার স্পিসিস ঘেঁটে তার মধ্যে ১৫৭ টা চেনা আর একগাদা অজানা বীজকে তো শর্টলিস্ট এমনি করা হয়নি।
  • একক | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ০৮:৪৪668525
  • হ্যা এইটার ছবি দেখেছি !
  • Ishan | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ০৯:১১668526
  • তো, যেটা বলছিলাম। ওইসব হাবিজাবি জিনে আর জড়াবনা, এইটা ছোটো করে ফিনিশ করে দিই।

    প্রাচীন মানুষ, যে চাষবাস শেখেনি, বা সদ্য একটু শিখেছে, তার কথা একবার ভেবে দেখুন। সে জেনেটিক্স জানেনা। ক্রস ব্রিডিং কারে কয় জানেনা। বীজ থেকে গাছ হয়, এইটা জানে। সেই বিজ্ঞানী মানুষ শতকের পর শতক ধরে হাজার হাজার প্রাচীন গাছের বীজ জোগাড় করছে। তার কিছু গাছ হচ্ছে। কোনো একটা ভ্যারাইটিকে সে বেশি করে এক্সপ্লোর করছে। খাবার চেষ্টা করছে। আবার চেষ্টা করছে। একদম নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা করছে। "এটা খাওয়া যাবেনা" এ বিষয়ে একদম নিশ্চিত হয়ে তারপর হাল ছাড়ছে। এবং এরকম চেষ্টা শয়ে শয়ে বীজ এবং তার হাজার হাজার ভ্যারাইটি নিয়ে চলছে। কী বিপুল নিরীক্ষা, কী বিরাট অধ্যবসায় ভেবে দেখুন। এবং সঙ্গে মনে রাখবেন, প্রতিটি পরীক্ষাই ১০০% অ্যাকিউরেট। কেন অ্যাকিউরেট? না যে কটা খাদ্যশস্য আমরা এখন খাই, তার সবকটাই খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আবিষ্কার। মোটামুটি খ্ড়ীষ্টপূর্ব ৫০০০ এর মধ্যে (এটা না দেখে লিখলাম, একটু এদিক ওদিক হতে পারে)। তারপরে মানবজাতি সারা দুনিয়া ঘেঁটেও আর কোনো প্রধান খাদ্যশস্য আবিষ্কার করতে পারেনি।

    একই জিনিস পশুপালনের ক্ষেত্রেও। সে ব্যাপারটাও ভারি ইন্টারেস্টিং। পশুদের ক্ষেত্রেও একই রকম ল্যাব পাওয়া গেছে। মোটামুটি একই সময়কালে (প্লিজ এইটা বিশ্বাস করে নিন, আর রেফারেন্স খোঁজাবেন না)। প্রশ্ন হল, ল্যাব কী দরকার। উত্তর হল বীজের ক্ষেত্রে যে কারণে দরকার সেই জন্যই। আজকের সব পোষ্য জন্তুই তখন আদিম ফর্মে। তার মধ্যে কোনটা পোষ মানবে, কোনটাকে ব্রিড করিয়ে ঠিকঠাক শেপে আনা যাবে কেউই জানতনা। ফলে সব রকম জন্তুর পূর্বপুরুষ ধরে পোষ মানানোর চেষ্টা হয়েছে। চিতা-টিতা অবধি। বহু বছর নানা চেষ্টা করে, ব্রিড টিড করিয়ে তারপর একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়েছে। এবং সেটাও ১০০% অ্যাকিউরেসিতে। ওই সময়কালের পরে পৃথিবীতে মানুষ নতুন কোনো পোষ্যজন্তু আবিষ্কার করেনি।

    এইটা যেজন্য লিখলাম, সেটা হল, পশুপালন আর চাষবাস মোটামুটি একই সময়, একই রকম অনুসন্ধিৎসার ফসল। কোনটা আগে কোনটা পরে লোকেট করা মুশকিল। পক্ষে বিপক্ষে নানা যুক্তি আছে। একটা হল ফুল স্কেলে চষ করা পশু ছাড়া অসম্ভব। কিন্তু ফুল স্কেলের আগে হাল্কা করে সম্ভব। অতএব চষ আগে, তারপর পশুপালন। উল্টোদিকের যুক্তি হল, শিকারী পোষ্য শিকারের কাজেও লাগে। অতএব চাষবাসের আগেই পশুপালন। আমার ব্যক্তিগত মত হল, ওই সময়টায় সবই এত পাশাপাশি, যে ঠিক কোনটা আগে কোনটা পরে পিনপয়েন্ট করা অসম্ভব। আর সব জায়গায় একই রকম ভাবে ব্যাপারটা ঘটেছে তা নাও হতে পারে। তবে এইটা আমার মতামত, রেফারেন্সহীন।

    আপাতত এই পর্যন্ত। প্রাচীন গোষ্ঠীর প্রকরণ নিয়ে পরে হবে।
  • একক | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ০৯:১৬668527
  • এই "একিউরেসি" কিভাবে এলো সেটা নিয়ে আমার একটা শিট সেন্ট্রিক থিওরি আছে। সবকিছুর মূলেই হাগা এই ধরে এগোনো। তুমি সিরিয়াস জিনিসপত্র নাবিয়ে নিলে, লিখবোখন।
  • sosen | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ০৯:৩৩668528
  • ঈশান যখন ডায়মন্ড পড়ছো, তখন ডায়মন্ডের ক্রিটিকদের-ও এর পরে পড়ে নিও। ভদ্রলোক চেরি পিকিং দোষে দুষ্ট এবং জিওগ্রাফিক ও অ্যান্থ্রোপলজিক্যাল ডেটারমিনিস্টিক লজিকের যে সিন্থেসিস করেন তার ফ্যাক্টশিটে প্রচুর ভুল। ইট্স নট রিয়েল সায়েন্স, তবে সুখপাঠ্য।ঃ)
  • Ishan | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ০৯:৫৫668529
  • এগুলোর খানিকটায় ডায়মন্ড আছে। বাকিটা অন্য জায়গা থেকে। ডায়মন্ডের ডিটারমিনিস্টিক লজিকে তো ঢুকিইনি। ওটায় আমার নিজেরও সমস্যা আছে খানিকটা। সেটাও অগেই লিখলাম। ক্রিটিকদেরও পড়েছি এবং পড়ছি। তবে তথ্যের গোলমাল আছে এরকম এখনও পড়িনি।

    তবে ইস্ট-ওয়েস্ট বা কলোনিয়াল/কলোনি এই সমস্যাগুলো ঠিক 'ন্যাচারাল সায়েন্স'এর বিষয় ও না। পমেরানজ থেকে পিকেটি, নানা ফিল্ডে লড়ে যাচ্ছেন। সবই অ্যাসিমিলেট করতে হবে আরকি।
  • hu | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১০:৩১668530
  • আমাদের এক কলিগ আছে তার কথা ভাটে লিখেছিলাম। জীবনের প্রথম কুড়ি বছর তার পশুপালন করে কেটেছে। গরম পড়লেই ওরা পুরো পরিবার তিয়েনশানের কোন উপত্যকায় ভেড়া নিয়ে চলে যেত। ঠান্ডা পড়া পর্যন্ত পাহাড়ে পাহাড়েই কাটত। জিজ্ঞেস করেছিলাম চাষবাস করতে কিনা। তো বলল এমন কি স্মল স্কেলেও চাষ করেনি কখনও। সারাদিন ভেড়া চরাত। শিকার করত। বেরি জাতীয় ফল-ফলারী সংগ্রহ করত। হার্ব খুঁজে পেলে চাইনিজ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসত। এভাবেই চলেছে। গরমের শুরুর দিকে খাদ্যশস্য যা কিছু নিয়ে আসত সেগুলো ফুরিয়ে গেলে শুধু মাংস আর ফল খেয়েই থেকেছে। এসব শুনে মনে হয় পশুপালন জিনিসটা চাষবাস নিরপেক্ষ ভাবেই থাকতে পারে। হয়ত ছিল।
  • dc | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১০:৩৪668532
  • আপনাদের গবেষনার চোটে মৌলবাদের ভয়েসটা যে পুরো চাপা পড়ে যাচ্ছে!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন