এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০৮ জুন ২০১৯ ১৫:৫৪410550
  • উঁহু পিটি এই দুটো এক লাগছে না ত। হ্যাঁ অপুর কাছে দুর্গা প্রধান নয়, সেই হিসেবে যদি প্রধান চরিত্র নয় বলেন তো সেটা একরকম পাঠ। পাঠক আমার কাছে দুর্গা অন্যতম প্রধান চরিত্র। অপুর কথায় পরে আসছি আগে দুর্গার কথা বলি। মুখচোরা অপু যেখানে আপনমনে আদাড়ে বাদাড়ে একটা পেঁপের ডাল হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দুর্গা সেখানে কোথায় নোনা, কোথায় কামরাঙা পেকে পড়ে আছে, সেইসব টুকিয়ে বেড়ায়, দলবেঁধে চড়ুইভাতিতে তার মহা উৎসাহ। ইন্দির ঠাকরুনের ভাষায় একজোড়া ঢেঁড়ি ঝুমকো হলে মুখখানায় মানায় বেশ। দুর্গাকে ঢেঁড়ি ঝুমকো কিনে দেবার কেউ নেই, হরিহরের সাধ্যের বাইরে। সর্বজয়া তাকে ভাল বৌ, অভাবের সংসারে মানিয়ে গুছিয়ে চলার মত বৌ এর ছাঁচে তৈরী করতে চায়। তার সুদূরের কল্পনা তাই রেলগাড়ী দেখা অবধিই পৌঁছায়, সেজ ঠাকরুনের বাড়ি থেকে, রাণুদের বাড়ি থেকে চুরি করে এনে লুকিয়ে রাখা সোনার টুকরো অবধি তার সাধ ছুঁতে পারে, কল্পনাও হয়ত অতটুকুই। কে জানে ঢেঁড়ি ঝুমকোর সাধ তার ছিল কি না? পাঠকের তা আর জানা হয় না নিশ্চিত করে। পোর্তো প্লাতার ডুবে যাওয়া জাহাজের ধনরত্ন আবিষ্কারের স্বপ্ন সে দেখার সুযোগ পায় নি। আর এই সব নিয়েই দুর্গা পাঠক আমার কাছে এক অন্যতম চরিত্র হয়ে থাকে। তখনকার দুর্গারা তাদের স্বপ্ন, কল্পনা, ভয় সব মিলিয়ে জ্বলজ্বলিয়ে ফুটে ওঠে চোখের সামনে। আরো কতবছর বাদে 'সুবর্ণরেখা সুবর্ণরেণু'তে পড়ছি বালক ললিনের ক্লাসে এসে লিখতে দিয়েছেন হেডস্যার - 'আ জার্নি বাই ট্রেন', লিখতে দিয়েই ক্ষান্ত হন নি কে কে রেলগাড়ি দেখেছে, কোথায় দেখেছে জানতে চান। ক্ষণিকের উত্তেজনায় ললিনও হাত তোলে। হেডস্যারের প্রশ্নের জবাবে জানায় 'সালুয়া' --- হো হো করে হেসে ওঠেন হেডস্যার - 'দূর বোকা ওখানে কোথায় রেলের রাস্তা'। ললিন বা অপু রেলগাড়ি পরে দেখেছে, চড়েছে। দুর্গা আর সে সুযোগ পায় নি।

    এবার আসি অপুর কথায়। অপু শুধু দুর্গা কেন, তার মায়ের কাছেও ফিরতে চায় নি তো। অপরাজিত'য় সর্বজয়ার মৃত্যুর পরে অপুর মনে হয় তার হাত পা থেকে একটা শিকলের বাঁধন খুলে গেল। সে তীব্রভাবে ফিরতে চেয়েছে নিশ্চিন্দিপুরে, মার্কেজের মাকোন্দোর মতনই অপুর নিশ্চিন্দিপুর। অপু এক চির উদাসীন ঘরছাড়া মানুষ যে আসলে কোথাওই সেভাবে ফেরে না। দুর্গা, সর্বজয়া এমনকি কাজলও তার কাছে মুখ্য নয়। একমাত্র লীলাই কিছুটা অপুর মত, অপুরই মত সেও স্বপ্ন দেখত দূরের অজানা জগতের, প্রকৃতির, যেখানে নোনাটা, কলাটা, সোনারূপো এসব তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, জার্নিটাই আসল। এই পথচলার আনন্দটুকুই যে অপুর জীবনের সারসত্য সেটুকুর ঈঙ্গিত থাকে ঐ 'প্তহের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন ---" অংশটায়। পথের পাঁচালি নামটাতেও কিছুটা। দেবদাস পারুর কাছে ফেরে ফিরতে চায় জীবিত বা মৃত। হয়ত এমনিই দেখতে চায় একবার, হয়ত পারুকে অনুতপ্ত দেখতে চায়, ধাক্কা দিতে চায়, হয়তবা দায়ী করে যেতেও চায়। কিন্তু স্পষ্টভাবে পারুর কাছেই যেতে চায়। অপুর কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই, নিশ্চিন্দিপুরও না। সেখানে একবার ফিরতে চায়, কিন্তু আমরা পরে দেখি এবং আভাস পাই সে জায়গা যেন অপুর জীবনের একটা ঘাট মাত্র, নৌকো করে ভেসে যেতে যেতে মাঝে মাঝে এসে ছুঁয়ে যাবে, দেখে যাবে রাণুদিকে, কাজলকে --- কিন্তু ঐ পর্যন্তই, ঘাঁটি গাড়বে না, স্থায়ী হবে না।

    একগাদা বলে ফেললাম, একেবারেই ব্যক্তিগত পাঠ অভিজ্ঞতা। আর একটাই কথা পথের পাঁচালির শেষ পাতার 'পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন ---' অংশটা আর একটু ছোট হতে পারত। একটু অনাবশ্যক বড় লাগে।
  • i | ০৮ জুন ২০১৯ ১৫:৫২410549
  • বড় এস ও খুব অন্যরকম এই আলোচনায়। এও এক প্রাপ্তি।
  • | ০৮ জুন ২০১৯ ১৫:৪২410548
  • টেস্ট
  • i | ০৮ জুন ২০১৯ ১৫:৩৮410547
  • আচ্ছা পিটি। অনেক ধন্যবাদ। আপনাকে এই ভাটিয়ালিতে একেবারে অন্যভাবে পাচ্ছি আমরা। ভালো লাগছে।
    পরে আবার কথা হবে নিশ্চয়ই।
  • S | ০৮ জুন ২০১৯ ১১:৩৫410546
  • আমার শ্রীকান্তের শুরুটাও বেশ কাঁচা লেগেছিলো সেই বয়সেও। যেখানে ভদ্রলোক বাংলার সবথেকে পপুলার আত্মজীবনীমুলক সাহিত্য সৃষ্টি করতে চলেছেন সেখানে ঐ "আজ জীবনের এই অপরাহ্ন বেলায়" টাইপের শুরুটা নাটকীয় এবং বেশ অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছিলো। কিশোর বয়সে পড়ার জন্য ঠিক আছে।

    আমি সাহিত্য টাহিত্য খুব কমই পড়েছি। সবই সেই কলেজবেলায় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু যেটুকু পড়েছি তাতে বেশিরভাগ বাংলা সাহিত্যের প্লট বড্ড সিম্পল মনে হয়েছে। সাবপ্লট কন্সেপ্টটাই প্রায় থাকেনা।
  • PT | ০৮ জুন ২০১৯ ১১:২২410545
  • i
    চমৎকার লাগছে আপনার মন্তব্যগুলো পড়তে। আমারও এসব ব্যাপারে বিশেষ দক্ষতা কিছু নেই। তবে JU-তে পড়ার সময়ে বন্ধু-বন্ধুনিদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা হত। তখন অবিশ্যি দেশে "মুখ চাই মুখ" পড়ছি আর ব্যাপক তক্কাতক্কি চলছে। আর অন্যরা যে অন্যভাবে ভাবছে সেটাও উপভোগ করতাম। এখনো করছি।

    তবু বলি, আমার কেমন যেন পদ্ধতিটা কাছাকাছি লাগল দুটো উপন্যাসের ক্ষেত্রেইঃ

    ""তাহারপর দাসী - চাকর মিলিয়া ধরাধরি করিয়া পার্বতীর মূর্ছিত দেহ টানিয়া আনিয়া বাটীর ভিতরে লইয়া গেল। পরদিন তাহার মূর্ছাভঙ্গ হইল, কিন্তু সে কোন কথা কহিল না। একজন দাসীকে ডাকিয়া শুধু জিজ্ঞাসা করিল, রাত্রিতে এসেছিলেন, না? সমস্ত রাত্রি!
    তাহার পর পার্বতী চুপ করিয়া রহিল।"
    (উপন্যাস এখানেই শেষ হতে পারত। সেটা না করে লেখক এর পরে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন।)

    "ওবেলা এক উঠান লোকের সম্মুখে বিনাবিচারে মার খাইয়াও তাহার চোখ দিয়া এক ফোঁটা জল বাহির হয় নাই কিন্তু এখন নির্জন ঘরের জানালাটাতে একা-একা দাঁড়াইয়া হঠাৎ সে কাঁদিয়া আকুল হইল, উচ্ছসিত চোখের জল ঝর-ঝর করিয়া পড়িয়া তাহার সুন্দর কপোল ভাসাইয়া দিতেই চোখ মুছিতে হাত উঠাইয়া আকুল সুরে মনে মনে বলিল-আমাদের যেন নিশ্চিন্দিপুর ফেরা হয়-ভগবান-তুমি এই কোরো, ঠিক যেন নিশ্চিন্দিপুর যাওয়া হয়-নৈলে বাঁচব না-পায়ে পড়ি তোমার-"
    (উপন্যাস এখানেই শেষ হতে পারত। সেটা না করে অপুকে, আমাকে, সবাইকে ঘরছাড়া করার দায়িত্ব নেন লেখক!!)

    পথের পাঁচালীর শেষের দুপাতায় দিদির জন্য মন কেমন করে না অপুর। আমার মনে হয়না দূর্গা এতটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র (মার্বেন না যেন)। অপুকে আচ্ছন্ন করে রাখে নিশ্চিন্দিপুর। "আজ কতদিন সে নিশ্চিন্দিপুর দেখে নাই-তি-ন বৎসর! কতকাল! সে জানে, নিশ্চিন্দিপুর তাহাকে দিনে-রাতে সব সময় ডাকে....."

    দেবদাস ফিরতে চায় পারুর কাছে, অপু চায় নিশ্চিন্দিপুরে ফিরে যেতে (নইলে সে বাঁচবে না!)। কি আশচর্য!!!

    তাই দুই লেখককই কথা শেষে পাঠকের ঝুঁটি ধরে নিজেদের ইচ্ছেমত ঝাঁকুনি দেন, দাগিয়ে দেন। আমরা এমনকি রেগে গিয়ে গাল দিলেও সেটা তাঁদের ইচ্ছেতেই দিই!!!
  • dc | ০৮ জুন ২০১৯ ১১:১১410544
  • ওবাবা সাউরনের স্পিরিট গুরুতে এসে জুটেছে নাকি? তা ড্যাগর ড্যাগরাথ এর জন্য তৈরি হচ্ছো তো ভাই? আর বেশী দেরি নেই কিন্তু!
  • lcm | ০৮ জুন ২০১৯ ১১:০৭410543
  • বই পড়ে কাঁদ কাঁদ অবস্থা আমারও হয়েছে, তবে সে সব অন্য বই, পরীক্ষার আগে সব কিছু একসঙ্গে বুঝে ফেলার জন্য যে পড়া
  • Sauron | ০৮ জুন ২০১৯ ১০:৫৯410542
  • এটা বেটার।

    Cold be hand and heart and bone,
    and cold be sleep under stone:
    never more to wake on stony bed,
    never, till the Sun fails and the Moon is dead.
    In the black wind the stars shall die,
    and still on gold here let them lie,
    till the dark lord lifts up his hand
    over dead sea and withered land.
  • dc | ০৮ জুন ২০১৯ ১০:৩৮410540
  • অ্যাঁ পথের পাঁচালিতে এরকম লেখা আছে নাকি? কিন্তু পথের ঠিক এরকম বর্ণনা তো টোলকিয়েন এর লেখাতেও আছে! তাহলে কি টোলকিয়েন পথের পাঁচালির থেকে টুকেছিলেন?

    এই যে টোলকিয়েনের লেখা একটা বর্ণনা, ছোটবেলায় এটা আমার খুব প্রিয় ছিলঃ

    Roads go ever ever on,
    Over rock and under tree,
    By caves where never sun has shone,
    By streams that never find the sea;
    Over snow by winter sown,
    And through the merry flowers of June,
    Over grass and over stone,
    And under mountains in the moon.
  • i | ০৮ জুন ২০১৯ ১০:৩৮410541
  • পিটি
    এই লাইনগুলিতে যাই থাকুক, দুর্গার মৃত্যুকে, তজ্জনিত শোক কে, অপু দুর্গার বিচ্ছেদকে দাগিয়ে দেওয়া নয়। আমার তাই মনে হয়।
    একটি লেখা কে এক এক পাঠক এক এক ভাবে গ্রহণ করেন। তাই আমি আমার নিজস্ব মত আপনার ওপর চাপাতে চাই না। এখানেই থামি আজ।
  • PT | ০৮ জুন ২০১৯ ১০:৩২410539
  • দাগিয়ে দেওয়া, যদি তাই বলতে হয়, পথের পাঁচালীতেও আছেঃ

    "পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন – মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে, ঠ্যাঙারে, বীরু রায়ের বটতলায় কি ধলচিতির খেয়াঘাটের সীমানায়? তোমাদের সোনাডাঙা মাঠ ছাড়িয়ে, ইছামতী পার হয়ে, পদ্মফুলে ভরা মধুখালি বিলের পাশ কাটিয়ে, বেত্রবতীর খেয়ায় পাড়ি দিয়ে, পথ আমার চলে গেল সামনে। সামনে, শুধুই সামনে….. দেশ ছেড়ে বিদেশের দিকে, সূর্যোদয় ছেড়ে সূর্যাস্তের দিকে, জানার গন্ডী এড়িয়ে অপরিচয়ের উদ্দেশ্যে….

    দিন রাত্রি পার হয়ে, জন্ম মরণ পার হয়ে, মাস, বর্ষ, মন্বন্তর, মহাযুগ পার হয়ে চলে যায়….তোমাদের মর্মর জীবন-স্বপ্ন শেওলা-ছাতার দলে ভরে আসে, পথ আমার তখনও ফুরোয় না…চলে ….চলে …চলে এগিয়েই চলে…

    অনির্বাণ তার বীণা শোনে শুধু অনন্ত কাল আর অনন্ত আকাশ….

    সে পথের বিচিত্র আনন্দ-যাত্রার অদৃশ্য তিলক তোমার ললাটে পরিয়েই তো তোমায় ঘরছাড়া করে এনেছি!…..

    চলো এগিয়ে যাই।"
  • i | ০৮ জুন ২০১৯ ১০:২৮410538
  • পিটি,
    কিঞ্চিৎ ব্যস্ত হয়ে পড়েছি, খুব বেশিক্ষণ লিখতে পারব না এই মুহূর্তে।
    সংক্ষেপে বলতে গেলে, রাশ তুলে নেওয়া শুধু কাঁদাবার জন্য নয়, তা বলতে চাই নি- এক্ষেত্রে, লেখক দেবদাসের সম্পর্কে পাঠককে আলাদা করে ভাবার কোনো সুযোগই দিতে চান না-আমার এইটাই মনে হয়েছে। দেবদাসের জন্য পাঠক কখন কাঁদবেন, কখন হা হুতাশ করবেন, কখনই বা ভাবতে বসবেন কী হওয়া উচিত ছিল/ কী হওয়া উচিত নয়-এর জন্য কোনো জায়গা শরত্চন্দ্র ছাড়েন নি। এইটাই রাশ তুলে নেওয়া - বা দাপট।

    আপনি কপালকুন্ডলা প্রসঙ্গ তুলেছেন,। বঙ্কিমচন্দ্র নিয়ে লিখতে গেলে ভাটিয়ালি তে আঁটবে না, তাই শুধুই কপালকুন্ডলার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের কথাই লিখছি। তদুপরি, সাহিত্য সমালোচনায় সেই অর্থে অধিকারী নই। সাহিত্যে কোনো রকম প্রথাগত শিক্ষা আমার নেই।কাজেই আমার বক্তব্য একজন সাধারণ পাঠকের সাধারণ কথা হিসেবেই গণ্য করবেন।

    দেখুন কপালকুন্ডলার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ শুরু হয়েছে কিং লীয়রের একটি লাইন দিয়ে-“Ingratitude! Thou marble-hearted fiend! ” যতদূর মনে পড়ে, কপালকুন্ডলার প্রতিটি পরিচ্ছেদই এভাবে কোনো একটি উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু আর শেষের লাইনে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা-এটাই এই উপন্যাসের স্টাইল। যেমন পরের পরিচ্ছেদই শুরু হয়েছে ডন যুয়ান দিয়ে, শেষ হয়েছে-'বোধ হয় যদি এরূপ নিয়ম না থাকিত, তবে সাংসারিক ক্লেশের অপ্রতিহত বেগ সকলে সকল সময়ে সহ্য করিতে পারিত না।' এটা একটা স্টাইল। রাশ তুলে নেওয়া নয়। বরং, এটা একটা খেলা কোনো কোনো পাঠকের ক্ষেত্রে যা সেই পাঠক লেখকের সঙ্গে খেলতে পারেন-পরিচ্ছেদের গোড়ায় উদ্ধৃতি পড়ে নিয়ে পরিচ্ছেদে কী আসতে চলেছে তা অনুমান করা-মানে পাঠকের স্বাধীনতা ( আমার গরুর রচনা আর কি)। দেবদাসের সমাপ্তিতে যে অর্থে রাশ তুলে নেওয়ার কথা বলেছি, এক্ষেত্রে তা বলতে পারব না, সে কথা খাটে না।
  • | ০৮ জুন ২০১৯ ১০:২১410537
  • না না আপনি একা নন। আমারও পায় নি। কোন লেখা পড়েই কান্না পায় নি।

    ইন ফ্যাক্ট আমার বিভুতিভুষণ পড়েও পায় নি। মন খারাপ হয়েছে কিন্তু কান্না টান্না না।
  • dc | ০৮ জুন ২০১৯ ১০:১৬410536
  • যা বুঝলাম, শরতবাবুর লেখা পড়ে একা আমারই কান্না পেতোনা।
  • | ০৮ জুন ২০১৯ ১০:০০410535
  • হ্যাঁ এই দাগিয়ে দাগিয়ে দেওয়াটাই সমস্যা লাগে আমার। শরতবাবু শুধু লিখেই ক্ষান নন শব্দগুলো যেন বোল্ড করে আবার তলায় কালো স্কেচপেন দিয়ে আন্ডারলাইন করে দেওয়া মনে হয়।

    বিভুতিভুষণেও বর্ননা অজস্র অগণিত বর্ননা। কিন্তু কোথাও ওই গিলিয়ে দেওয়া ব্যপারটা নেই।
  • PT | ০৮ জুন ২০১৯ ০৯:৩৭410534
  • "লেখক আবার রাশ তুলে নিলেন নিজের হাতে"
    সে কি শুধুই কাঁদানোর জন্য? নাকি লেখক আর নিরপেক্ষ নন। তিনি দেবদাসকে "পাপিষ্ঠ" আখ্যা দিতে চেয়েছিলেন?
    (এটা কিশোর বেলায় ভাবিনি। বুড়ো বয়সে নজর কাড়ল!!!)

    তবে এসব্লেখকের রাশ তুলে নেওয়া আগেও তো হয়েছে। "তুমি অধম বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন? "...ইত্যাদি।
  • S | ০৮ জুন ২০১৯ ০৯:০৩410533
  • দেবদাস পড়ে খুব বিরক্ত হয়েছিলাম। কাঁদিনি বোধয় একটুও। ভগবান বোধয় তারই প্রতিশোধ নিচ্ছেন। বাকি লেখগুলো পড়েও খুব কম জায়্গায় কেঁদেছি। তবে সেটা অন্য ব্যপারে। তবে ঐ এইখানে খুব একচোট কাঁদিতে হইবে টাইপের প্যারাগুলো তাড়াতাড়ি পার হয়ে যেতাম। কারণ কথাসাহিত্যিকের গল্প সেখানে থেমে গিয়ে কথা শুরু হয়েছে।

    অপু পড়েছি অনেক কম বয়সে। আর শুধুই কেঁদেছি। ছোটাইদির দেওয়া ঐ একটা লাইন পড়েই এখনো চোখটা জ্বলছে।
  • | ০৮ জুন ২০১৯ ০৮:৫৯410532
  • হঠাৎ এত শরৎ চর্চা ? অবশ্য এটা অনেকটা বিজেপির প্রচারের রামায়নের মত (সবসময় তুলসিদাসী না) সকলের পড়া বা শোনা বা অন্তত রামলীলে তে দেখা, তাই আলোচনায় কোন অসুবিধা হয় না, সকলেই সব জানে, শুধু নতুন আলোচনায় একটু নতুন করে পুরোনো সাইড নেওয়া ঃ-)))

    তবে সব ই প্রবন্ধ সম্ভাবনা, খুশির ঈদে এটুকুই পাওয়া। আমার এখন আর কাউকে প্রবন্ধ রিকোয়েস্ট করতে ভালো লাগে না, কারণ কেউ খেটে খুটে কিসু লিখতে রাজি না, আর লিখে যদি ফ্যালে, কেউ পড়বে না নিশ্চিত। প্রবন্ধ জিনিসটা পুরো মমতা ব্যানার্জির উচ্চ-শিক্ষাগত যোগ্যতার মত হয়ে গেল, কেবল ই সম্ভাবনা।
  • i | ০৮ জুন ২০১৯ ০৮:৫৫410531
  • দেবদাসের রচনাকাল ১৯০০, প্রকাশিত হয় ১৯১৭-নেটে তাই পেলাম। ১৯২৯ এ আম আঁটির ভেঁপু। তার শেষ অংশ মনে করুন; পাঠক এক্ষেত্রেও কেঁদেছেন এবং অপুর মতই সেই অশ্রু কোনো কোনো পাঠক বহন করেছেন সম্ভবত সারাজীবন -অথচ এ লেখায় দাগিয়ে দেওয়া কিচ্ছু নেই। এখানেও বর্ণনা আছে, অনেক শব্দ অনেক অক্ষর, অনেক লাইন-কিন্তু কোথাও সরাসরি পাঠকের অনুভূতি কন্ট্রোল করার ব্যাপারটা নেই। কোনো দাপট নেই। শুধু আছে-

    -অপু, সেরে উঠলে আমায় একদিন রেলগাড়ি দেখাবি?

    ব্যাস।
  • Tim | ০৮ জুন ২০১৯ ০৮:৪০410530
  • ভেবে দেখলাম এঁটুলির অ্যাঙ্গল থেকে কলোনি খুব সহজেই আনা যেত। পরের সংস্করণে যোগ করে দেব।
  • ন্যাড়া | ০৮ জুন ২০১৯ ০৮:৩৬410529
  • ওঁর/ওনার আলোচনা আমার আরেকজনের সঙ্গে আগে হয়েছিল। "ওনার" ব্যকরণগতভাবে শুদ্ধ না অশুদ্ধ তার নির্দিষ্ট প্রমাণ পাইনি। চলন্তিকায় "ওনার" না থাকলেও হরিচরণে আছে। আমার ধারণা ছিল ওনার > ওয়াঁর > ওঁর।
  • i | ০৮ জুন ২০১৯ ০৮:২৫410528
  • পিটি দেবদাসের ষোড়শ পরিচ্ছেদের শেষ লাইন কটি উদ্ধৃত করেছেন- শেষ প্যারাগ্রাফটি দেখুন-সরাসরি পাঠককে দুঃখ পাওয়ানো- সেই সব শব্দ ব্যবহার, সেই ভাবে লাইন সাজানো-যাতে পাঠকের চোখ ভরে জল আসে।
    অথচ দেখুন, যখন পার্বতী জিগ্যেস করছেন, রাত্রিতে এসেছিলেন, না? সমস্ত রাত্রি... এই খানে না বলা অনেক কিছু রয়েছে- অথচ এই লাইনের পরে, পাঠককে এতটুকু সময় না দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই লেখক আবার রাশ তুলে নিলেন নিজের হাতে- কলমের অসম্ভব দাপটে শেষ প্যারা লিখলেন। পাঠককে কাঁদিয়ে ছাড়লেন। এও কী সব লেখক পারেন? পেরেছেন? এও কবজির জোর-এও কলমের দাপট। আমাদের কারো কারো লেখার এই ধরণ পছন্দ নয়-কী আর করা যাবে?
  • dd | ০৮ জুন ২০১৯ ০৮:২৪410527
  • সে তো অনেকদিন আগের কথা, চল্লিশ বছর তো হবেই। বেশীও হতে পারে।সুনীল গাংগুলি তখন সনাতন পাঠক।

    প্রতিপাদ্যটি এই, রবি ঠাকুরের পরে বাংলা সাহিত্য একেবারে big leap'র জন্য রেডি ছিলো। কিন্তু মাঝ থেকে শরৎবাবু এসে পপুলার সাহিত্য লিখে স্রোত ঘুড়িয়ে দিলো। বাংলা সাহিত্য আবার ডোবায় ঢুকলো। না হলে বাংলা সাহিত্য ফরাসী সাহিত্যের সমতুল হতে পারতো।

    এই রকম সব কথা বার্ত্তা। লোকে বিলকুল চটে কাঁই হয়ে গেছিলো।

    (তবে আমার স্মৃতি এখন যেরকম বেসামাল ঐ লেখা হয়তো সন্তোষ ঘোষ লিখেছিলেন - সেও ও হতে পারে। মোটকথা কোথায় জানি পড়েছিলাম, কোনো বিখ্যাত লেখকই লিখেছিলেন)।
  • lcm | ০৮ জুন ২০১৯ ০৭:২৫410526
  • ছোটাই,
    তাই তো! আমিও তাই জানতাম, অথচ লিখেছি 'ব্যা'। দেখলাম গুগল লেআউট-এ লিখলে এটা হচ্ছে - byatha লিখেলে 'ব্যাথা' করে দিচ্ছে, অবশ্য সাজেশানের পুলডাউনে সেকেন্ড অপশন আসছে ঠিক বানান 'ব্যথা'। গুগলের বাংলা বানানবিধি তো বেশ ইয়ে।

    দু,
    হায়দার - দেখব। ওই সিনেমাতে বিশাল ভরদ্বাজের নিজে রগলায় গান আছে জানতাম না, ওটা আগে শুনতে হবে।
  • i | ০৮ জুন ২০১৯ ০৭:১৩410525
  • এলসিয়েম,
    ব্যথার আকার হয় না।
  • i | ০৮ জুন ২০১৯ ০৭:০৯410524
  • ইমোশন থাকা, বুক ফাটা দুঃখ, অচরিতার্থ প্রেম গল্পে থাকবে-কিন্তু সেই ব্যাপারগুলো যদি দাগিয়ে লেখা হয় /পাঠককে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়-এটা প্রচন্ড দুঃখের জায়্গা, কাঁদুন পাঠক কাঁদুন-তবে সেই গল্প শিল্পসম্মত নয়। কিন্তু পাঠকের এক বিশাল অংশ এই ধরণের লেখাই ভালোবাসেন-যেখানে পাঠকের নিজের অনুভূতি, ভাবনার জায়গা নেই, লেখকই কন্ট্রোল করছেন সব-দুঃখ হাসি কান্না বলে নয়, প্রতিটি লাইনই লেখক যা বলছেন সেটাই সব-নায়ক বাজারে গেলে-ঐ বাজারে যাওয়া আসার বাইরে কিছু নেই। বাজারে যাওয়ার পথে নায়কের মা কুকুর ছানা কুকুরদের সঙ্গে দেখা হয়ে যেতে পারে এবং সেখানে একটা নতুন গল্প জন্ম নিতে পারে- সে সম্ভাবনা পাঠকের মাথায় আসার জায়গাই নেই। অথচ এলেখাই জনপ্রিয়।

    শরৎচন্দ্রের লেখা আমার কাছে এই গোত্রের।
  • lcm | ০৮ জুন ২০১৯ ০৫:০৭410523
  • শরৎচন্দ্র ব্যাথাসাহিত্যিক
  • () | ০৮ জুন ২০১৯ ০২:৪৫410522
  • টিমের সামারিটা ভালো হৈছে। শুধু কলোনিটা ঢুকিয়ে দিলেই ‘দুদ্দান্ত’ বল্তুম।
  • Tim | ০৮ জুন ২০১৯ ০০:৫৯410521
  • কুকুরের ল্যাজতালির মধ্যে একটা প্যাথোস আছে। প্রায় দেবদাসের মতই, শুধু প্রচন্ড কিউট।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত