এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বইপত্তর

  • কাগুজে গুরুর বইমেলা অভিযান - ২

    Samik
    বইপত্তর | ২১ নভেম্বর ২০১১ | ৫১০৮৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aranya | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২৩:১৮502748
  • বইমেলায় এমন একটা দিন মিস করলাম। কল্লোল-দা, রঞ্জন-দা, গুরু-র আর সবাই, জয়া মিত্র, মহীনের ঘোড়ারা, ও:ফ, বড় দু:খ :-(।

    ইন্দোকে একটা নোবেল-টোবেল কিছু দিলে হয়, কি অদ্ভুত ভাল যে লেখে !
  • aranya | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২৩:৩২502749
  • এইসব পড়ে আমার দু:খে প্রায় কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে। পাই-এর মত হুট করে দেশে চলে গেলে হত। আপিস/কাজ আর ভাল্লাগে না, লালপাহাড়ীর দেশে মানে বইমেলায় গুরুর স্টলে যেতে ইচ্ছে করে।
  • kallol | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০০:০৭502750
  • সকলকে অজস্র ধন্যবাদ। এমন একটা সন্ধ্যা ফিরে পাবো, ভাবিনি। প্রায় এক যুগ আগে ফেলে আসা সময়, ঐ যেমন ঈশান লিখেছে আর বাপি গেয়েছে - সময়, কোন সময়, হায় সময়, সময় গুনছিলাম / পথে, কোন পথে, হায় পথে, উধাও চলছিলাম......... ঠিক তেমন করেই উধাও চলা আবার এই সময়। তখন ময়দানী বই মেলা শাসন করতো কিছু ঝাঁকড়া চুলো গিটার আর দোতারা। আর ছিলো তাদের পোষা তিন কুত্তা - ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ড।
    আজ প্রথম৫ মিলন মেলার বইমেলায়। ঢুকে ইস্তক মন খারাপ। মেলার চেনামুখ হারিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে দিঘীটি। হৈ হৈ আছে হুল্লোড় নেই। গিটার আর দোতারা ঘিরে আছে আলোর বৃত্ত আর টিভি চ্যানেল। খুঁজে পেলুম গুরুস্থান। রঞ্জন, শমিক, সুমেরু এবং ঘনাদা। ঘনা-রঞ্জনকে গান শোনাতে শোনাতে গান ঘিরে ভিড় ভিড় ভিড়। কুত্তা তিনটের গন্ধ সংকেত পাঠাচ্ছে মগজের ধুসর অংশটিতে। এর মধ্যে পাই ও অন্যান্যরা। ঘনা গাইছে ফেলে আসা গান। সাথ সঙ্গতে টেবিল রঞ্জন হয়ে বাজছে।
    এই সব ক করতে অমিত, কেয়া, মোহিত - গন্ধ তীব্র হচ্ছে। চোখে দেখতে পাচ্ছি তাকে। চন্দন এলো, ৭ পরেই গুড়গুড়ি.......সংখ্যায় বাড়ছে গিটার। টেবিলের উল্টো দিকে এক ফালি ধুলোট জমি। গান বসে পড়েছে ধুলোয়, গান চলছে ধুলো মেখে, লাফিয়ে পার হচ্ছে এক যুগ। হাসন রাজা, লালন, মহীনে ধুলোমাখামাখি হোলি। বসন্ত কবে ফুল ফোটার তোয়াক্কা করেছে, ফুলেরাও বা পাত্তা দিয়েছে কবে বসন্তকে। শতফুল বিকশিত হচ্ছে বেপরোয়া, বসন্ত ছেয়ে যাচ্ছে তোয়াক্কাহীন। বইমেলার ভুগোল পাল্টে যাচ্ছে, পাল্টে যাচ্ছে সময়। ঠিক সেই সময় সাত মাস বিছানা থেকে উঠতে না পারা বাপি....... মহীনের আদি ঘোড়া তাপস দাস। সময় পরিসর সব গুলি মারা গেলো, সব সব। ফিরে আসবো মাগো কেঁদো না ফিরে আসবো। গন্ধ জড়িয়ে গেছে ফুসফুসের প্রতিটি কোনে, হৃদ্‌কমলের অন্তস্থলে, রক্তের প্রতিটি কণায়। এলো রঞ্জনপ্রসাদ জনহীন জাতীয় সড়ক থেকে ন্য বাপির সামনের আসনে। গান তখন বলতে চাইছিলো - আমি নীল সায়রে ডুব দিয়েছি / অতলে তার তল নাই / কোন বা ডুবে পাবো সে তল / ডোবাও ও গোসাঁই / আমায় ডোবাও ওগো সাঁই............... গানের সারা শরীর জুড়ে তখন মেঘমল্লারের তান, উমর ঝুমর বরসে জিয়া তরসে......... তির তির তির
  • achintyarup | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০০:৩৩502751
  • কালকে শালা ধরবই কুত্তাগুলোকে
  • I | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০১:২৩502752
  • জ্জয়গুরু ! এনজয় গুরু !

    কল্লোলদা'র বইটা কিছু একটা না পেলে বহুত খার খেয়ে যাবো মাইরি।
  • siki | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:১৫502753
  • ৮৫ নং থেকে আজকের ছবি। লিং ওপরে দেওয়া আছে।

    আজও লেখার সময় পেলাম না। তবে আজকের সন্ধ্যে আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
  • pi | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০২:৫৮502754
  • না:, আজকের সন্ধে লিখে বোঝাতে পারবো না। ঘোলও না, সে ছানার জল হয়ে যাবে। যারা মিস করলে, মিসই।

    তবে কাল আর আজ ভয় হচ্ছিল, বুঝিবা উদ্বোধনের আগেই এই চটির প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায় !
  • pi | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:০০502755
  • আমার আজকের আরেকটা পাওনা জয়াদির সাথে জমিয়ে গপ্পো সপ্পো।
  • r2h | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৩:১৪502759
  • দু:খ করে আর কি হবে। কত কিছুই তো হলো না।
  • kallol | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৮:৪৬502761
  • শ্রীপর্ণা, অনমিত্র-র লিংএ কিছু দেখাচ্ছে না।
  • siki | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৯:২৭502762
  • কী লিখি? কোথা থেকে শুরু করি? প্রতিটা দিন এত ইভেন্টফুল যাচ্ছে যে আমি এইবারে গুলিয়ে ফেলেছি কবে কী হয়েছিল আর কবে কী হয় নি।

    পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকেই চেষ্টা করি শুরু করার। সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ি থেকে। কথামতো বালিহল্ট থেকে রাজদীপ আমায় পিক-আপ করে নিল, নিউটাউনের ভেতর দিকে ধাঁ করে পৌঁছে গেলাম বইমেলা, শেষদিকে অবিশ্যি ইউ টার্ন খোঁজার জন্য তিন কিলোমিটার এক্সট্রা চলতে হয়েছিল, সে অন্য কথা।

    ঢোকা মাত্র সারপ্রাইজ চলছে পরের পর। এক একটা মুখ আসছে আর বলছে আমি এই, আমি ঐ। যে মানুষগুলোকে কেবল লেখার মাধ্যমে চিনি, তারা সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে, আবার নতুন করে চিনছি তাদের। স্যান এল, একটুখানি দর্শন দিয়ে আবার পালিয়ে গেল কোথায়। স্যানটা আরও মিষ্টি গুবলুগাবলু হয়ে গেছে।

    হটাৎ, একটা চ্যাংড়া মত লোক এসে ভুরু নাচিয়ে আমায় বলল, কীরে, চিনতে পারছিস? আমি তো হাঁ। কে বট হে তুমি? আমার গোদাস্মৃতি খুব খারাপ। নম্বর মনে রাখতে পারি, লোকের মুখ আর নাম মনে রাখতে পারি না। হঠাৎই মনে হল এই মুখ আমি দেখেছি, তবে সেটা একটা বালক-বালক মুখ ছিল, লোক-লোক নয়। তবে এই ক বছরে কি আর বয়েস বাড়ে নি ইন্দোদাদার? দ্বিতীয় অ্যাটেম্পটে তাই চিনতে আর পবলেম হল না। আত্তিরদিদিকে অবশ্য চিনতে এতটুকুও কষ্ট হয় নি।

    এরপর ম্যাক্সিমিন। এমন কেতা মেরে সামনে এসে দাঁড়ালেন, আমি তো প্রথমে ভেবেছিলাম নিশ্চয়ই কোনও নামী লেখিকা টেখিকা হবেন। তারপরে পরিচয় দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন। অনেকক্ষণ গল্প হল, অনেক গল্প, অ্যাজ ইউজুয়াল পোচুর ভাট বকলাম দুজনেই :)

    সুমেরুর কথা আলাদা করে না বললে মেলার কিছুই বলা হয় না। অত্ত বিজি শিডিউলের মধ্যে সময় করে আসছে, টেবিলে ফুল লেবার দিচ্ছে। হাঁকছে, চেঁচাচ্ছে, লোকজনকে রাস্তা থেকে পথ ভুলিয়ে ঠেলে দিচ্চে গুরুর টেবিলে। থেকে থেকে বইমেলার ন্যাকা ন্যাকা গান ছাপিয়ে উদাত্ত স্বরে ছড়িয়ে পড়ছে সুমেরুর গলা, "ঘুঁটে ঘুঁটে, ঘুঁটে নিয়ে যান, টাটকা ঘুঁটে, ছোটোদের হাম্বা, ছোটোদের পিপিপি, ছোটোদের বাদ্যকর। অতএব সিকিই বা থেমে থাকে কেন, সে-ও শুরু করল ছড়া কাটতে ... মুগুর ছাপ অজন্তা, কিনতে আসছে কজন তা? জয় গুরু, পাঁচ টাকা থেকে শুরু, তিরিশ টাকায় শেষ, আহা বেশ বেশ বেশ। হাতে না নিলে রস লাগবে না, হাতে নিয়ে দেখুন, উল্টে দেখুন, কিছুই পাল্টায় নি।

    আর গতকাল? দোসরা ফেব্রুয়ারি? আগের রাতে ছিলাম সুমিত সান্যালের বাড়িতে। নারকোলের বড়া এবং ইলিশ মাছের ঝালটাই বিশেষ করে মনে আছে, বাকিগুলো আর লিখলাম না। ও হ্যাঁ, গরম রসগোল্লা আর নলেন গুড়ের নরম সন্দেশ মেনশন না করলে ঠাকুর পাপ দেবেন। তো, গতকাল আমি আর সুমেরু পৌঁছে গেছিলাম সবার আগে, দোকান খুলে বসতেই এসে হাজির রঞ্জনদা, এবং তার কিছুক্ষণ পরেই, গিটার নিয়ে হাজির কল্লোলদা।

    আর কি বসে থাকা যায়? পাশের টেবিলের ভদ্রলোক তখনও আসেন নি, তাই চেয়ার আর টেবিল দখল করে গান শুরু হল, আমার হৃদয় ভেঙে টুকরো করে ছড়িয়ে দেব তারায় তারায়। ভালো থাইকো বন্ধু আমার এমন বিজনে।

    সেই শুরু। ভিড়? সেই যে দুপুর থেকে ননস্টপ ভিড় শুরু হল, কাল দোকান বন্ধ করার পরে আবার সুটকেশ খুলে গুরু বেচতে হয়েছে, চটি বেচতে হয়েছে। তুলকালাম কাণ্ড। কত লোক চেনে আমাদের, ক-ত লোক। কৌরবের বারীন ঘোষাল দুদিন ধরে চক্কর কাটছিলেন আর আমাকে বার বার জিজ্ঞেস করছিলেন, তুমিই সৈকত তো? গুরুর সম্পাদক, যে দিল্লিতে থাকে? লে হালুয়া।

    রঞ্জনদাকে বসিয়ে রেখে সুমেরু আমায় ডেকে নিয়ে গেল। আমাদের স্টলের থেকে জাস্ট দুহাত দুরে একটা ল্যাম্পপোস্টের তলা তখন দখল নিয়েছেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী, কেসি পাল। সূর্য পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করে। বই ১ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা। অদ্ভুউত টেনাসিটি ভদ্রলোকের। আজও তাঁর কথা শুনতে ছেলেপুলে ভিড় করে। অনেকেই মজা করে টন্ট টিটকিরি করে, সে আলাদা কথা, কিন্তু কলকাতা শহরের এক অন্যতম আইডেন্টিটি হয়ে গেছেন এই কেসি পাল। কেসি পালের দেওয়াল লিখন ছাড়া আমাদের ছোটোবেলার হাওড়া স্টেশন, ভাবাই যায় না।

    (চলবে)
  • CB | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৯:৪০502763
  • মানে কে সি পাল কে দেখা গেল, এক্ট চবি এক্ট চবি
  • CB | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৯:৪২502764
  • ** একটা ছবি, একটা ছবি
  • siki | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৯:৫২502766
  • কেলোদা।

    এমন অমায়িক মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। আমার মতন পুঁচকে লোককেও উনি কিছুতেই "আপনি' ছাড়া সম্বোধন করবেন না। এদিকে আমার আবার সবাইকে তুমি বলা অভ্যেস। বাধ্য হয়ে আমাকেও আপনি-তে শিফট করতে হল। প্রথমে ভাবছিলাম, মজা করে বোধ হয় এমন বিনয় করছেন। তারপরে দু-কথা হতেই দেখি, না তো, মানুষটি তো সত্যিই আদ্যোপান্ত বিনয়ী। অদ্ভূত ভালো মানুষ একজন। আড়ালে থাকতে ভালোবাসেন, সামনে আসেন না, কিন্তু খাটুনি যা খাটার খেটে দেন। হুই পার্কিং লট পজ্জন্ত সুটকেশ বয়ে নিয়ে যাওয়া, এবং সেখানে বই ভরে সেই সুটকেশ ভিড়ের মধ্যে দিয়ে গড়াতে গড়াতে নিয়ে আসা গুরুর টেবিলে, কেলোদা নইলে সম্ভব হত না।

    ঝুমঝুমি।
    ঝুমঝুমি আমায় বাচ্চা ছেলে টেলে কীসব লিখে গেল বটে, কিন্তু ঝুমঝুমি নিজে যে কেমন খুকি খুকি দেখতে, সে আমার পিকাসার ছবি দেখলেই বুঝবেন। বইমেলা থেকে পাঁচ মিনিটের দূরত্বে বাড়ি, পাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য পরশু অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু পাই এসেছিল অনেক দেরিতে। দেখা হয় নাই। চুপটি করে দাঁড়িয়ে থেকে বাকি সব্বার সঙ্গে অলাপ করস্ল, আমাদের জন্য কফি এনে দিল, যাবার সময় প্রায় ফিসফিস করে আমায় কয়ে গেল, "আমার আসল নাম কিন্তু ঝুমঝুমি নয়।' আমি একগাল হেসে বললাম, ভাগ্যিস বললে। আসল নাম নিয়ে আমার কী হবে? ঝুমঝুমি নামটাই যথেষ্ট, তোমায় দেখলাম, আলাপ হল, আর কী চাই?

    আমার ফেসবুক বান্ধবী কিঙ্কিনী লাজুক মুখে এসে চটি কিনল, আমার বইতে সই নিল, তারপরে যখন বললাম ফটো তুলব, আরও লজ্জা পেয়ে রাজি হয়ে গেল।

    বইমেলার একটা থিম সং করেছে, কলকাতাআআআ, বইমেলাআআআআ। অতি জঘইন্য।

    সন্ধ্যে ছটায় কাব্লিদা কারাগারের বান্ডিল নিয়ে আসবে, এদিকে তার আগেই তিরিশ চল্লিশ কপি কারাগার শেষ। চটি পড়তে পারছে না, হু-হা উড়ে যাচ্ছে। পাশের একচিলতে জমিতে চেয়ার পেতে কল্লোলদা গিটার হতে জমিয়ে ফেলল ভিড়, কোথা থেকে এসে হাজির ঘোড়ার দল, মহীনের ঘোড়ারা। সে বিবরণ তো সৈকত দিয়েইছে। একটা কথা বলি, এই বইমেলায় মহীনের ঘোড়াগুলির অপ্রকাশিত অপ্রচলিত একটি সিডি বেরিয়েছে (কোথায় অপ্রচলিত? বেশ কিছু গান তো আমি শুনেছি), তাতে কল্লোলদার লেখা গানও আছে। তবে সে যাই হোক, সীন তখন জমে ক্ষীর। লোকে লোকারণ্য লিটিল ম্যাগের সামনের রাস্তা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, হ্যান্ডিক্যাম, বাড়িয়ে ধরা সাউন্ড ক্যাচার, সামনে ছোট টেবিলে গুরুর চটিরা, সামনে বসে মহীনের গানেরা একের পর এক, গীটার, হাততালি আর গলা। এরই মধ্যে এক ফাঁকে জয়া মিত্র এসে কল্লোলদার কারাগার বইয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে গেলেন। না, গেলেন বলছি কেন, উনি তো পুরোটাই ছিলেন আমাদের সাথে।

    তবে, বইমেলায় এবারে সুপারহিট খোঁড়া বাদশা। আড়াইশো এমএলের জলের পাউচ, সৌজন্য কলকাতা পুলিশ। ছোটো ছোটো কিয়স্ক, তার সামনে অগুনতি লাল ঢাকনাওলা নীল ড্রাম, তার ভেতর চোলাইয়ের পাউচের মত জলের পাউচ, অসংখ্য। সুমেরু যাচ্ছে, পাউচ নিয়ে আসছে "খোঁড়া বাদশা খোঁড়া বাদশা' করতে করতে। খোঁড়ার নামে বইও বেচা হচ্ছে। আমার ৭০, খোঁড়া বাদশার আত্মজীবনী। :) সুমেরু জাস্ট একঘর।

    দুই একজন ক্রেতার কথা না বললে সম্পূর্ণ হয় না। পরশু এক মহিলা এসে খোঁজ করলেন, মেয়েদের শ্রুতিনাটকের কোনও বই পাওয়া যায় কি? আমি তো না করে দিলাম, কিন্তু সুমেরু তার হাতে বাড়িয়ে দিল একটি পূর্ব প্রকাশিতের পর।

    এক বাচ্চা এসে আমায় জিগালো, দাদা, এই পূর্ব প্রকাশিত খণ্ডটা কোথায় পাওয়া যাবে? মানে, এটা তো দ্বিতীয় পর্ব, তাই না?

    আরেক ভদ্রলোক দুপুর দুপুর এলেন, একশো টাকার বই কিনলেন, তারপরেই ঝুলে পড়লেন, ওনাকে টেন পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট দিতেই হবে। কেন দেব না আমি? উনি নাকি পাতিরামে গিয়ে দশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্টে গুরুর বই কেনেন। বইমেলয় বসে ডিসকাউন্ট ছাড়া বই দেবার সাহস আমার হয় কী করে? ইত্যাদি। ইত্যাদি।

    শেষমেশ যখন দেখলেন আমি ভবি ভুলছি না, উনি রাগ করে দীপ্তেন্দার বইটা ফেরত দিয়ে নব্বই টাকার বিল করলেন। :( তারপরে কাগজের প্যাকেট কেন দিচ্ছি, কাপড়ের ব্যাগ কেন দিচ্ছি না, তাই নিয়েও বিস্তর রাগ করে অবশেষে চলে গেলেন।

    এই সব। আজই আমার শেষ দিন। বইমেলায়। কালকের রাজধানীতে ফেরত আবার দৈনিক গতানুগতিকতায়। শ্রাবণীও কাল ফিরে যাবে। রোববার তো বইমেলার শেষদিন।

    ও হ্যাঁ, কাল রঞ্জনদা পার্টি দিল, ফিশ ফিঙ্গার আর মোমো। সুমিত ডাক্তার এনেছিলেন সন্দেশ, জয়া মিত্রও মিষ্টি এনেছিলেন।
  • s | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৯:৫২502765
  • গতকাল কি দেখলাম-শুনলাম, সে লিখে বর্ণনা করব সেই ক্ষমতা আমার কলমের নাই কাজেই সেই চেষ্টাও করলাম না। কল্লোলদা নিজে খানিকটা লিখেছে, সৈকতও খানিকটা। বাদবাকি যাঁরা দেখেন-শোনেন নাই, তারা সত্যি সত্যিই মিস করলেন। একজন লিখতে পারত, সে আমাদের ইন্দোদাদা, কিন্তু সে কাল ছিল না, আরেকজনও পারত, কিন্তু সে আজকাল কলম তুলে রেখেছে।

    কিছু ভিডিও তুলেছি, কিন্তু সে একেবারেই পাতে দেওয়ার যোগ্য নয়, কাবলিদা ঠিকই বলেছে, আমি অযোগ্য বউ, কাজেই.. একটু সময় লাগবে, কিন্তু যা হয়েছে, যেটুকু হয়েছে, আপলোড করে দেব। গোটা সময়টুকু সেই আরেকজন অডিওতে ধরে রেখেছে, নিশ্চয়ই শোনাবে।
  • siki | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৯:৫৫502767
  • CBর জন্য আলাদা করে কেসি পাল।







  • siki | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ০৯:৫৭502768
  • লিংগুলোয় https আছে বলে হাইপারলিংক এল না। কপি করে পেস্ট করে দেখতে হবে।
  • siki | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১০:০০502770
  • শেষ হয়ে হইছে না শেষ।

    কাল আত্তিরদিদি আমার থেকে ডায়েটিংয়ের টিপস নিয়েছে। কী করে আমার মত ছিলিম থাকা যায়।

    আরও গল্প আছে। সময়সুযোগ মত বলব।
  • siki | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১০:৩৬502771
  • কিছু পোস্টারসমূহ।



    আরও আসবে, আজ রাতে।
  • Ghanada | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১১:৩২502772
  • ভেসে আসে কোলকাতা
    কুয়াসা তুলিতে আঁকা
    শহরতলীর ভোর মনে পড়ে
    এই প্রবাসের ক্যালেণ্ডারের পাতাই
    শুধু ঝরে
    বুকের ভেতর ট্রামের ধ্বনি বিবাগী সুর গড়ে
    কোলকাতা! ও কোলকাতা!
    কথা ও সুর :- বুলা ( মহীনের ঘোড়াগুলি)
  • pi | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১১:৩৯502773
  • আরে আমিও টিপস দিয়েছি। আর জয়াদিও এক মোক্ষম টিপস দেচে। সে এক দারুণ গপ্পো।
  • kumu | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:২০502774
  • সিকির চোখ দিয়ে দেখে গেলাম।

    কাল কল্লোলদা ও অন্য দের শুভেচ্ছাও জানিয়েছি সিকির ফোনে।জামাইবাবুর শুভেচ্ছাও রেখে গেলাম সকলের জন্যে।
  • pi | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৩২502775
  • জামাইবাবুর তো এবার নিজের লেখার কথা ! নইলে কুমুদির কপালে ....
  • CB | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৩৩502776
  • সিকি কে অনেক অনেক ধন্যবাদ। কেন জানি না ভদ্রলোক কে দেখে একটু মন খারাপ হয়ে গেল। মানে এক লড়ে যাচ্ছেন কিনা।
  • kumu | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৪৬502777
  • জামাইবাবু অত্যন্ত গভীর জলের মাছ,তবে পাইএর সাতে ঐ অল্প সময়েই ওনার বেশ বন্ধুত্ব হয়েচে।আপাতত তিনি মুম্বাই গেছেন।
  • kiki | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১৯:২২502778
  • :(
  • raatri | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২০:৪৪502779
  • ২৬ তারিখ ঠিকঠাক 'অনুধাবন' করে উঠতে পারিনি কেসটা।হাজার হাজার বায়না আর লক্ষ লক্ষ গজ লজ্জা নিয়ে তিনি সাথে ছিলেন কিনা!তারপর কী সব যেন লিখেছিলাম।তাই নিয়ে বাচ্চারা কি হাসাহাসিটাই কর্লে!!পরশু গিয়ে খুব খুউব আমোদ পেয়েছি।তাই তো এখন রোজ রোজ যেতে ইচ্ছে করছে।যখন,যেমন,যেভাবে পারি।চাগ্রিবাগ্রি-ছানাপোনা শিকেয় তুলে।

    নাহ!তাই কি হয় বাবাজী??রোজ-ই শেষবেলায় গিয়ে পৌঁছুচ্ছি।যখন দলে দলে মানুষ বাসামুখী,তখন এক মন আনন্দ আর এক দেহ ধুলো নিয়ে হাজির হচ্ছি।গলায় কাশি,ব্যাগে অ্যান্টিবায়োটিক।লোকসমাজে বিশেষ যাই না,চিনি মামু-মামী,সাম-সুম,পাইমতী আর কাবলিদাকে।দমদিদি আর ওমনাথকেও।আলাপ হল সিকি, সুমিতদা,রঞ্জনদা,শ্রাবণী,রাজদীপ,কল্লোলদা,ঘনাদা-এদের সাথে।অনেককে কান ঘেঁষে মিস করেছি।

    সামরানদি যেমন শুধু হেঁটে হেঁটেই ঝরিয়ে ফেলে বয়স,অবহেলে,আমি-ও অবলীলায় ফিরছি আমার মেয়েবেলায়-অপার বিস্ময় আমাকে জড়িয়ে ধরছে।আমি শুষে নিই ঐ সার বেঁধে বসে থাকা ছেলে-মেয়ের দলের সব-ভোলা হাসি।আমি বসে পড়ি পোট্রেট আঁকিয়ে মানুষটির সামনে।আমি পট-শিল্পীদের কাজ দেখি দু-দন্ড।আর দূর থেকে আসা ছেলে-মেয়েদের পাশে বসে খাই টিপিন-বাক্সোর টিপিন,একটু পেছন দিকে,ঘাসে কাগজ পেতে।কখনো প্রেমিকের হাত ধরে হেঁটে যাই লাজ-ছোঁয়া মুখে।কখনো হাত বাড়াতে চাই,পারি না 'আমার যৌনতা'র দিকে।আমি গান গেয়ে উঠি,শরীর দুলেও উঠতেও পারে ছন্দে।আমি অনেক সেলিব্রিটিকেও চিনতে পারি না,কে জানে তারা কারা।আমি কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করি বা পালাই।অনেককে চিনতে পারি,তাতেই বা কী!!তারা তো আমায় চেনে না।যাকে দেখতে ইচ্ছে হয় তাকে দেখি খানিক।আজ দুপুরে গিয়ে তো আরো নেশা!!কি রং এই রোদ্দুরের!!আমি ক্যমেরা বাগাই আর জ্বলে যায় আমার চোখ,আমার ছবি নয়।আমি প্রেমে পড়ে যাই।আমি একা বসে রই এলোচুল।আমি গীটারে বাজাই বিরহ।আমি বাড়ি ফিরি না,আমি বাড়ি ফিরি না।
  • S | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ২২:০৪502781
  • আহা..
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন