এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • এলেবেলে | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২৩:০৮421050
  • @?, সব কিছু এলেবেলে চামচে করে মুখে তুলে দেবে আর আপনি তা খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলবেন? আপনি চেষ্টাচরিত্তির করে দেখুন না যদি যুতসই কিছু পান। লিঙ্কটা কাদের সেটা আরেকবার দেখে নিন বরং।
  • abcd | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২২:৫৩421049
  • কুনও আফত্তি নাই।
  • | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২২:৫০421048
  • যা বলার বলা হয়ে গেছে।

    তাই ১০ঃ৩৫ এ জাস্ট পাস।
  • ? | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২২:৪৮421046
  • সবই বুঝলাম, শুধু বুঝছি না -
    শিকাগোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ Chicago Daily Tribune, Chicago Herald বা Chicago Inter Ocean-এ এমন কোনও কথা ছাপাই হয়নি। এমনকি আমেরিকার চারটি বিখ্যাত সংবাদপত্র New York Times, New York Herald, New York Daily Tribune ও Boston Evening Transcript-এ ১২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্মমহাসভা সম্বন্ধে অনেক খবর থাকলেও বিবেকানন্দের নামও উল্লেখ করা হয়নি, বক্তৃতার লিপি তো দূরের কথা। ১৮৯৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ‘দ্য নিউইয়র্ক হেরাল্ড’-এ ‘The doctrine of the Swami’ শীর্ষক বিবেকানন্দ সম্পর্কিত একমাত্র সংবাদেও এমন কিছু বলা হয়নি। স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দকে জানানো ‘দ্য নিউইয়র্ক হেরাল্ড’-এর ভূয়সী প্রশংসার কথা জানানো ‘কাল্পনিক’।ইন্ডিয়ান মিরর পত্রিকায়, বিবেকানন্দের মুখের ঝাল খেয়ে ত্রিগুণানন্দের লেখা চিঠি ছাপা না হলে শিকাগোয় বিবেকানন্দের জয়যাত্রার কোনো বেসিস থাকে না --- ইত্যাদি মহার্ঘ্য তথ্য এলেবেলে কোথা থেকে পেলেন। মানে এলেবেলে কার মুখের ঝাল খাওয়া পছন্দ করেন সেটাই বুঝতে চাই। লিংকে যে কটি প্রতিবেদন রয়েছে সেগুলই সমস্ত? নাকি সেখানে যেগুলি স্খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে শুধু সেটকুই আছে?
  • ? | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২২:৪৮421047
  • সবই বুঝলাম, শুধু বুঝছি না -
    শিকাগোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ Chicago Daily Tribune, Chicago Herald বা Chicago Inter Ocean-এ এমন কোনও কথা ছাপাই হয়নি। এমনকি আমেরিকার চারটি বিখ্যাত সংবাদপত্র New York Times, New York Herald, New York Daily Tribune ও Boston Evening Transcript-এ ১২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্মমহাসভা সম্বন্ধে অনেক খবর থাকলেও বিবেকানন্দের নামও উল্লেখ করা হয়নি, বক্তৃতার লিপি তো দূরের কথা। ১৮৯৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ‘দ্য নিউইয়র্ক হেরাল্ড’-এ ‘The doctrine of the Swami’ শীর্ষক বিবেকানন্দ সম্পর্কিত একমাত্র সংবাদেও এমন কিছু বলা হয়নি। স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দকে জানানো ‘দ্য নিউইয়র্ক হেরাল্ড’-এর ভূয়সী প্রশংসার কথা জানানো ‘কাল্পনিক’।ইন্ডিয়ান মিরর পত্রিকায়, বিবেকানন্দের মুখের ঝাল খেয়ে ত্রিগুণানন্দের লেখা চিঠি ছাপা না হলে শিকাগোয় বিবেকানন্দের জয়যাত্রার কোনো বেসিস থাকে না --- ইত্যাদি মহার্ঘ্য তথ্য এলেবেলে কোথা থেকে পেলেন। মানে এলেবেলে কার মুখের ঝাল খাওয়া পছন্দ করেন সেটাই বুঝতে চাই। লিংকে যে কটি প্রতিবেদন রয়েছে সেগুলই সমস্ত? নাকি সেখানে যেগুলি স্খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে শুধু সেটকুই আছে?
  • | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২২:৪৪421045
  • উরিত্তারা! এলেবেলে দেখি একইসাথে ভীমরুল আর মৌমাছির চাকে ঢিলিয়েছেন!
  • এলেবেলে | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২২:৩৫421044
  • গুরুর 'পুরনো'দের জন্য সব কিছুই তোলা থাক, গুরুর 'নতুন'দের তা নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। আমরা-ওরার টিপিক্যাল খাঁচা থেকে গুরুও বার হতে পারলনা শেষ অবধি! এই বুঝি গুরুর স্পিরিট!! তবে দল পাকানোটা চলছে পুরোদমে!!!

    আর হ্যাঁ, অদ্য রাত্রে এই 'সফড়ি' শিং ঘষে ফড়ফড়ানো শুরু করবেন MKG নিয়ে। তাতে আপত্তি আছে?
  • | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২২:১৮421043
  • পিএম, তুমি বিদ্যামন্দিরিয়ান
    হয়ে আগা গোড়া সেফ খেলে গেলে বস।

    আই টির ভাষায় " নট ডান"
  • abcd | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২১:৪২421042
  • :) ছাড়েন মহায়, বিবেকানন্দ নামের কালাপাহাড়ে অনেকেই শিং ঘষেছেন, শেষমেশ যা হওয়ার তাই হয়েছে। মজা নিন। এই যেমন আগামীকাল MKG নামক পাথরে, আবার কিছু 'সফড়ি' শিং ঘষে ফড়ফড়াবেন।
  • PM | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২১:৩৮421041
  • দুগ্গা দুগ্গা
  • | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২১:৩৪421040
  • পরশু বেড়াতে যাওয়া। বোনের ফ্যামিলি আমার ফ্যামিলি। মোট ৮ জন।

    হরিদ্বার/ হৃষীকেশ / যোশীমঠ/ বদ্রীনাথ/ চোপ্তা/ তুঙ্গনাথ/ চন্দ্রশীলা।

    মনে বেজায় ফূর্তি!!
  • | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২১:৩১421038
  • যাক কালকে
    ৪ টে থেকে ঠাকুর দেখতে যাওয়া। ক্লান্ত না হওয়া অবধি।
  • | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২১:৩১421039
  • যাক কালকে
    ৪ টে থেকে ঠাকুর দেখতে যাওয়া। ক্লান্ত না হওয়া অবধি।
  • | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২১:২৩421037
  • ১।
    বিবেকানন্দ র মূল্যায়ন করার মতো স্পর্ধা
    যোগ্যতা কোনটাই আমার নেই। এবং সে যোগ্যতা খুব কম লোকের আছেই বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

    ২। বিবেকানন্দ রচনাবলী থেকে ৩৩ টা বিতর্কিত বক্তব্য তুলে দিলে

    বা
    ৩।
    চিকাগো ভাষণের ১০৮/২১৬/৩২৪

    করলেও স্বামিজীর প্রাসঙ্গিকতা, গ্রহণযোগ্যতা, সাধারণ মানুষেরতাৃর প্রতি বিশ্বাড
    কোনটাই কমে যায় না।

    কাজেই এইসব করে কেউ যদি আত্মশ্লাঘা এবং আত্মপ্রসাদ লাভ করতে চায়, হি/ সি ইজ মোর দ্যান ওয়েলকাম
  • :) | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ২১:১৩421036
  • এলেবেলের প্রশ্নঃ যে বিবেকানন্দ ‘সর্বধর্মসমন্বয়’-এর সুর তুলে ধরার জন্য ‘বিশ্ববন্দিত’ হন সেখানে খ্রিস্টান মার্গারেট নোবল কিংবা মিস্টার সেভিয়ারকে কেন হিন্দুধর্ম গ্রহণ করতে হয়?

    নিবেদিতার চিঠিঃ Mrs. Muller severed her connections with Hinduism, returning to Christianity. It was news to me that any of us had left Christianity.

    তা রবীন্দ্রনাথ কি বলেন এ সম্পর্কে? একজন কিকরে খ্রিস্টান এবং হিন্দু হতে পারেন? তিনি নিজে কি হিন্দুধর্ম ছেড়ে ব্রাহ্ম হয়েছিলেন?

    "আমি হিন্দুসমাজে জন্মিয়াছি এবং ব্রাহ্ম সম্প্রদায়কে গ্রহণ করিয়াছি — ইচ্ছা করিলে আমি অন্য সম্প্রদায়ে যাইতে পারি কিন্তু অন্য সমাজে যাইব কী করিয়া? সে সমাজের ইতিহাস তো আমার নহে। গাছের ফল এক ঝাঁকা হইতে অন্য ঝাঁকায় যাইতে পারে কিন্তু এক শাখা হইতে অন্য শাখায় ফলিবে কী করিয়া?

    তবে কি মুসলমান অথবা খ্রীস্টান সম্প্রদায়ে যোগ দিলেও তুমি হিন্দু থাকিতে পার? নিশ্চয়ই পারি। ইহার মধ্যে পারাপারির তর্কমাত্রই নাই। হিন্দুসমাজের লোকেরা কী বলে সে কথায় কান দিতে আমরা বাধ্য নই কিন্তু ইহা সত্য যে কালীচরণ বাঁড়ুজ্যে মশায় হিন্দু খ্রীস্টান ছিলেন, তাঁহার পূর্বে জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর হিন্দু খ্রীস্টান ছিলেন, তাঁহারও পূর্বে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু খ্রীস্টান ছিলেন। অর্থাৎ তাঁহারা জাতিতে হিন্দু, ধর্মে খ্রীস্টান। খ্রীস্টান তাঁহাদের রঙ, হিন্দুই তাঁহাদের বস্তু। বাংলাদেশে হাজার হাজার মুসলমান আছে, হিন্দুরা অহর্নিশি তাহাদিগকে হিন্দু নও হিন্দু নও বলিয়াছে এবং তাহারাও নিজেদিগকে হিন্দু নই হিন্দু নই শুনাইয়া আসিয়াছে কিন্তু তৎসত্ত্বেও তাহারা প্রকৃতই হিন্দুমুসলমান।"
  • Point | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:৪২421035
  • তো, বিবেকানন্দের মিথ্যানির্মানের জন্য বঙ্গদেশের লোক ইন্রিজি শিখে উঠলো না, না কি দেশে বিগ্গ্যান শিক্ষার প্রসার হল না, না কি মেয়েগুলো র জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছিল?
  • এলেবেলে | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:৩০421034
  • মিশন তার তথাকথিত 'ভালো' ছাত্রদের মাথায় গজাল ঠুকে এই প্রোপাগান্ডাটাই চালায়! বোতীন আবারও তাহা প্রমাণ করিলেন!! অমন মিথ্যাবাদী যেন আগামী দুশো বছরে না আসে সেই প্রার্থনাই করব!!!

    আমেন।
  • | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:২৭421033
  • বিবেকানন্দ আমরা দুশো বছরে একটাই পেয়েছিলাম।

    হয়তো আগামী দুশো বছরেও আর একটা ও পাবো না।

    প্রত্যেক মানুষের মধ্যে কিছু স্ববিরোধ থাকে। সেটুকু বাদ দিয়েই সমাজ /
    দেশ গঠনে তার ভূমিকা দেখা উচিত।

    নেতাজী স্বামীজি র ভাবশিষ্য ছিলেন।

    কিন্তু কিছু ছিদ্রান্বেষী থেকেই যাবেন। কী আর করা?

    চিয়ার্স!!
  • এলেবেলে | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:১৮421032
  • @D লিখেছেন // এলেবেলে বিভিন্ন ফোরামে কাগজে শিকাগো বক্তৃতার ১০৮ করে যে যুক্তিটি দেন তার সারকথা রাজাগোপাল চট্টো মার্কিন কাগজে সে বক্তৃতা নিয়ে উচ্চবাচ্য দেখেননি। রাজাগোপাল দেখেননি, অতএব নেই। শিকাগো আর্ট ইনস্টিটিউটে ফুলারটন হলের বাইরে বিবেকানন্দের ছবি ও সেই বক্তৃতার প্লেক রাজাগোপাল দেখেছেন কিনা কে জানে।//

    আপনাকে তো কাল্টিভেট করতে হচ্ছে মশাই! সবই দেখছি জেনে ফেলেছেন এলেবেলের বিষয়ে। তো নিন কুইনাইন, বিরস বদনে গিলে ফেলে শান্তি পান আপনি এবং আপনার মতো অগণিত ভক্তবৃন্দ!!

    ১. ক) আসলে অলস, কল্পনাপ্রবণ বাঙালি যা জানে তা হল শিকাগোয় ১৮৯৩এ এক ধর্ম সম্মেলন হয়েছিল, সেখানে বিবেকানন্দ ‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স’ বলে ভাষণ শুরু করে প্রচুর হাততালি পেয়েছিলেন আর পেয়েছিলেন জগৎজোড়া খ্যাতি। অথচ এর চাইতে হাস্যকর দাবি আর কিছুই হতে পারে না। বাঙালি সেই সম্মেলনে অন্য ভারতীয় বা বাঙালি প্রতিনিধিদের নাম জানে না, বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতা পড়ে দেখার পরিশ্রম করে না এবং সমস্ত তথ্য যাচাই করে নেওয়ার সময় নষ্টও করে না।

    খ) শিকাগোতে বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলন বলে যেটি প্রচার করা হয় আদতে সেটি ছিল কলম্বাসের মৃত্যুর চারশো বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি বিশ্বমেলা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় কুড়িটি সভা বা সম্মেলনের। এটি যদি সত্যিকারের বিশ্ব ধর্ম মহাসম্মেলনই হয় তবে ইসলাম ধর্মের প্রতিনিধিরও সেখানে থাকবার কথা। অথচ ভারত থেকে কোনও মুসলমান প্রতিনিধি সেখানে যাননি।

    গ) অধ্যাপক নিমাইসাধন বসু ‘বিবেকানন্দ : প্রশ্ন ও প্রসঙ্গ’ গ্রন্থে লিখেছেন যে ধর্ম মহাসম্মেলন যে হচ্ছে এই সংবাদই অনেকে জানত না, এমনকি কলম্বিয়ান প্রদর্শনী দেখতে গিয়েও ধর্ম মহাসম্মেলনের কথা কেউ জানতে পারেনি। আমেরিকার বেশিরভাগ মানুষ ধর্ম মহাসম্মেলন সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানত না বা শোনেনি।

    ঘ) ১৮৯৩ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর শিকাগো ধর্মমহাসভার প্রথম দিনের অধিবেশনে অভ্যর্থনার উত্তরে স্বামীজি বলেছিলেন “সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের অন্তর্গত কোটি কোটি হিন্দু নরনারীর হইয়া আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ দিতেছি”। অর্থাৎ বহু ধর্মাবলম্বীদের দেশ ভারতের প্রতিনিধি হয়ে নয়, হিন্দুধর্মের একজন হিসেবেই নিজেকে প্রচার করেছিলেন তিনি।

    ঙ) ওইদিন একই বক্তৃতায় স্বামীজী বলেন, “যে ধর্ম জগৎকে চিরকাল পরমতসহিষ্ণুতা ও সর্ববিধ মত স্বীকার করার শিক্ষা দিয়া আসিতেছে, আমি সেই ধর্মভুক্ত বলিয়া নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি। আমরা শুধু সকল ধর্মকে সহ্য করি না, সকল ধর্মকেই আমরা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করি”। কিন্তু এই সম্মেলনেই আমরা দেখতে পাই তিনি অবলীলাক্রমে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মকে হিন্দু ধর্মের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, বেদসমূহকে ‘অনাদি ও অনন্ত’ বলেছেন এমনকী পূর্বজন্মের ওপরও আস্থা প্রদর্শন করেছেন। এই কি ‘সর্বধর্মসমন্বয়’-এর রূপ? আর যে বিবেকানন্দ ‘সর্বধর্মসমন্বয়’-এর সুর তুলে ধরার জন্য ‘বিশ্ববন্দিত’ হন সেখানে খ্রিস্টান মার্গারেট নোবল কিংবা মিস্টার সেভিয়ারকে কেন হিন্দুধর্ম গ্রহণ করতে হয়?

    ২. ক) প্রকৃতপক্ষে শিকাগো ধর্মসভার প্রথম বক্তৃতাটিতে স্বামী বিবেকানন্দ ঝড় তুলে দিয়েছিলেন বলে যে ধারণা আমাদের মধ্যে সুপ্রচলিত, তার অন্যতম ভিত্তি হল বিবেকানন্দ স্বয়ং এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রকাশিত বিবেকানন্দের জীবনী গ্রন্থগুলি। ১৮৯৩ সালের ২ নভেম্বর আলাসিঙ্গা পেরুমলকে বিবেকানন্দ লেখেন, "মজুমদার বেশ বলিলেন, চক্রবর্তী আরও সুন্দর বলিলেন। খুব করতালিধ্বনি হইতে লাগিল। তাঁহারা সকলেই বক্তৃতা প্রস্তুত করিয়া আনিয়াছিলেন। আমি নির্বোধ, কিছুই প্রস্তুত করি নাই। দেবী সরস্বতীকে প্রণাম করিয়া অগ্রসর হইলাম। ডক্টর ব্যারোজ আমার পরিচয় দিলেন। আমার গৈরিক বসনে শ্রোতৃবৃন্দের চিত্ত কিছু আকৃষ্ট হইয়াছিল, আমেরিকাবাসীদিগকে ধন্যবাদ দিয়া এবং আরও দু-এক কথা বলিয়া একটি ক্ষুদ্র বক্তৃতা করিলাম। যখন আমি ‘আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ’ বলিয়া সভাকে সম্বোধন করিলাম, তখন দুই মিনিট ধরিয়া এমন করতালিধ্বনি হইতে লাগিল যে, কানে যেন তালা ধরিয়া যায়। তারপর আমি বলিতে আরম্ভ করিলাম; যখন আমার বলা শেষ হইল,তখন হৃদয়ের আবেগে একেবারে যেন অবশ হইয়া বসিয়া পড়িলাম" (স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা, পত্রাবলী, ৭৪ সংখ্যক পত্র, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২৯৯)। সেই গ্রন্থগুলিতে আমরা এও পড়ি যে, ‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স’ বলে তিনি বক্তৃতা শুরু করলে শ্রোতৃমণ্ডলী তাঁকে উচ্চৈঃস্বরে ও করতালিতে বিপুল অভিনন্দন জানায় বলে ‘নিউ ইয়র্ক হেরাল্ড’-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের কথা যে শিকাগোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ Chicago Daily Tribune, Chicago Herald বা Chicago Inter Ocean-এ এমন কোনও কথা ছাপাই হয়নি। এমনকি আমেরিকার চারটি বিখ্যাত সংবাদপত্র New York Times, New York Herald, New York Daily Tribune ও Boston Evening Transcript-এ ১২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্মমহাসভা সম্বন্ধে অনেক খবর থাকলেও বিবেকানন্দের নামও উল্লেখ করা হয়নি, বক্তৃতার লিপি তো দূরের কথা। ১৮৯৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ‘দ্য নিউইয়র্ক হেরাল্ড’-এ ‘The doctrine of the Swami’ শীর্ষক বিবেকানন্দ সম্পর্কিত একমাত্র সংবাদেও এমন কিছু বলা হয়নি। শুধু আলাসিঙ্গা পেরুমলকে ভ্রান্ত তথ্য দিয়েই বিবেকানন্দ ক্ষান্ত হননি, ওই নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দকে ‘দ্য নিউইয়র্ক হেরাল্ড’-এর ‘কাল্পনিক’ ভূয়সী প্রশংসার কথা জানান তিনি। সম্ভবত তাঁরই নির্দেশে স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ সেই খবর ইন্ডিয়ান মিরর পত্রিকায় ২৭ ডিসেম্বর, ১৮৯৩ চিঠির আকারে ছাপেন এবং তারপর থেকেই শুরু হয় মিথ ও মিথ্যার এই সুপরিকল্পিত নির্মাণ।

    খ) বিবেকানন্দ সম্পর্কে কিছু বলতে গেলেই এক দল মানুষ তাঁকে 'আজকের প্রেক্ষিতে বিচার করুন' বলে ফতোয়া দেন! আজকের প্রেক্ষিত কী? কথামৃত-র বাণী সংশোধিত হয়েছে? বাণী ও রচনার? না হয়নি। র‍্যাদার সেই গিরিশ ঘোষের মদকে ‘ডি. গুপ্তের ঔষধ’ থেকে যে ভণ্ডামিটা শুরু হয়েছে তা ১০০ বছর পেরিয়ে রমরমিয়ে চলছে!!! আর চলছে বলেই বিবেকানন্দর চিঠি বাংলা এবং ইংরেজি ভার্সনে আলাদা হচ্ছে, কথামৃতর ডায়েরি মঠের জিম্মায় থাকছে, রামকৃষ্ণের মুখে 'শিবজ্ঞানে জীবসেবা' বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বিবেকানন্দ শিলা যে ধাপ্পা সেটা বলার মুরোদ তাঁদের হচ্ছে না।অত্যন্ত সংগঠিতভাবে নির্মল, নিষ্কলুষ ভাবমূর্তি তৈরির জন্য যা যা করা দরকার তার সমস্ত করা হচ্ছে।

    গ) ২৩ ডিসেম্বর ১৯৩৭ ( ৮পৌষ ১৩৪৪) বিমলাকান্ত রায়চৌধুরীকে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন — ‘আধ্যাত্মিক গৌরব আত্মায়, আধিদৈহিকে নয়। খ্রিস্ট সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে গিয়েছিলেন বিজ্ঞান এ কথা অস্বীকার করলেই যদি ভক্তের ভক্তি ক্ষুণ্ণ হয় তবে সে ভক্তি ছেলেমানুষী। আধুনিক কালে রামকৃষ্ণ পরমহংসকে ভক্তেরা ভগবানের অবতার বলে ধরে নিয়েছেন, তাই বলে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুঘটনা এবং তাঁর প্রতিদিনের দেহযাত্রায় অলৌকিকত্ব আরোপ করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। ... ছেলে ভুলিয়ে যে সব ভক্তের ভক্তি উদ্রেক করতে হয় তাদের ভক্তির কোনো মূল্য নেই’।

    সব শেষে মিশনের তথাকথিত 'সেবা' নিয়ে আবারও রবীন্দ্রনাথের স্মরণ নিলাম। কালান্তরের 'লোকহিত' প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন --- আমরা পরের উপকার করিব মনে করিলেই উপকার করিতে পারি না। উপকার করিবার অধিকার থাকা চাই। যে বড়ো সে ছোটোর অপকার অতি সহজে করিতে পারে কিন্তু ছোটোর উপকার করিতে হইলে কেবল বড়ো হইলে চলিবে না, ছোটো হইতে হইবে, ছোটোর সমান হইতে হইবে। মানুষ কোনোদিন কোনো যথার্থ হিতকে ভিক্ষারূপে গ্রহণ করিবে না, ঋণরূপেও না, কেবলমাত্র প্রাপ্য বলিয়াই গ্রহণ করিতে পারিবে।

    কিন্তু আমরা লোকহিতের জন্য যখন মাতি তখন অনেক স্থলে সেই মত্ততার মূলে একটি আত্মাভিমানের মদ থাকে। আমরা লোকসাধারণের চেয়ে সকল বিষয়ে বড়ো এই কথাটাই রাজকীয় চালে সম্ভোগ করিবার উপায় উহাদের হিত করিবার আয়োজন। এমন স্থলে উহাদেরও অহিত করি, নিজেদেরও হিত করি না।

    হিত করিবার একটিমাত্র ঈশ্বরদত্ত অধিকার আছে, সেটি প্রীতি। প্রীতির দানে কোনো অপমান নাই কিন্তু হিতৈষিতার দানে মানুষ অপমানিত হয়। মানুষকে সকলের চেয়ে নত করিবার উপায় তাহার হিত করা অথচ তাহাকে প্রীতি না-করা।
    এ কথা অনেক সময়েই শোনা যায় যে, মানুষ স্বভাবতই অকৃতজ্ঞ– যাহার কাছে সে ঋণী তাহাকে পরিহার করিবার জন্য তাহার চেষ্টা। মহাজনো যেন গতঃ স পনথাঃ– এ উপদেশ পারতপক্ষে কেহ মানে না। তাহার মহাজনটি যে-রাস্তা দিয়া চলে মানুষ সে-রাস্তায় চলা একেবারে ছাড়িয়া দেয়।

    ইহার কারণ এ নয় যে, স্বভাবতই মানুষের মনটা বিকৃত। ইহার কারণ এই যে, মহাজনকে সুদ দিতে হয়; সে-সুদ আসলকে ছাড়াইয়া যায়। হিতৈষী যে-সুদটি আদায় করে সেটি মানুষের আত্মসম্মান;– সেটিও লইবে আবার কৃতজ্ঞতাও দাবি করিবে সে যে শাইলকের বাড়া হইল।

    সেইজন্য, লোকহিত করায় লোকের বিপদ আছে সে-কথা ভুলিলে চলিবে না। লোকের সঙ্গে আপনাকে পৃথক রাখিয়া যদি তাহার হিত করিতে যাই তবে সেই উপদ্রব লোকে সহ্য না করিলেই তাহাদের হিত হইবে।

    যাঁরা মনে করেন এলেবেলে কেবল রাজাগোপাল চট্টোপাধ্যায়কে অ্যাপিল টু অথরিটি জ্ঞান করে এ ব্যাপারে, তাঁরা দয়া করে নীচে দেওয়া লিংকটা খুলে দেখুন। দুধদুধ-পানিপানি হয়ে যাবে।
    http://www.vivekananda.net/BooksBySwami/CompleteWorks/CV9/NewspaperReports.html#American
  • b | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৮:১৪421031
  • @পি এম, ছিলো। মহাভারতেই কোথায় যেন আছে ভীম তেড়ে সন্ন্যাসীদের গালাগালি দিচ্ছেন, ব্যাটারা বসে বসে খায় এই বলে। যদিও এটা কতটা প্রক্ষিপ্ত সেটা জানা যায় না। তবে মনে হয় লোকে ভগবান/জীবনের মানে খুঁজতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতো, এটা ভারতে বহুদিন ঘরেই চলতো।

    সন্ন্যাসকে ইন্সটিটুশনালইজড করেন সম্ভবতঃ বুদ্ধ, সঙ্ঘের মাধ্যমে।
  • মানিক | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৭:৫৯421030
  • এই রাকৃমি শব্দটা বদলানো যায় না? শুনলেই ফিতে কৃমি মনে পড়ে।
  • র২হ | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৭:১৪421029
  • উদয়পুরো ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে বলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট, সরকার বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্ট যাচ্ছে।
  • PM | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৬:৫২421028
  • বৈদিক এমনকি মহাভারতের যুগেও তো ব্রহ্মচর্য বা সন্যাস পালন করা আলাদা সম্প্রদায় ছিলো না। দুটৈ ছিলো একটা মানুষের ( পুরুষের?) লাইফ সাইকলের পার্ট। প্রতিটা মানুষের দুটোর ই এক্সপিরিএন্স থাকত। রাজা রাজরা রাও একটা সময়ের পরে বানপ্রস্থে যেতেন বনে সব ছেড়ে। কুন্তি মাদ্রী ধৃতরাষ্ট্র সকলেই গেছিলেন।

    গোটা জীবন ব্রহ্মচারী/ সন্ন্যাসী হিসেবে কাটানোর কনসেপ্ট কবে থেকে এলো ? খুব সম্ভবত শংকরাচার্য্যের পর থেকে

    মহাভারতে সবচেয়ে শ্রদ্ধ্যেয় ঋষি মুনিরা কেউ ই ব্রহ্মচারী নয়। বিশ্যামিত্র, পরাশর, অগস্ত্য, গৌতম, বশিষ্ঠ, ব্যাস, জমদগ্নি সক্কলে বৌ বাচ্ছা নিয়ে আশ্রমে শান্তিতে জীবন কাটিয়েছে।

    ভীষ্ম র অবিবাহিত ছিলেন সম্পুর্ন অন্য কারনে (ব্রহ্মচারী ছিলেন কি ? )। কিন্তু তাতে ব্রহ্মচর্যএর আলাদা কোনো গুনগান ছিল না। বরং ওটা চরম ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখা হয়েছিল।

    শুধু পরশুরাম আর দুর্বাসা বোধ হয় সেই অর্থে ব্রহ্মচারী ছিলেন। দুজনের কেউ ই সেই অর্থে নরমাল লোক নন ঃ)

    তো এই জীবন ভোর সন্ন্যাসি, ব্রহ্মচারী কনসেপ্ট এলো কোথা থেকে আর কবে থেকে ? ব্রহ্মচারী রা গৃহী দের থেকে সুপিরিয়র এই কনসেপট ই বা এলো কোথা থেকে। রামায়ন, মহাভারতে তো ছিলো না।
  • PT | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৪:০৮421027
  • b Date:01 Oct 2019 -- 09:56 AM
    ধন্যবাদ।
    তবে আশা এইটুকুইঃ " Before it is too late, the democracies might directly address their own critical vulnerability, the inadequacy of their citizens."
    কিন্তু সেটা কি এখনি শুরু হবে নাকি আরো দক্ষিণ দিকে যেতে হবে?
  • b | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:৫৪421026
  • আপনি অংকের ছাত্র হয়ে নেসেসারি অ্যান্ড সাফিসিয়েন্ট কন্ডিশন গোলানোর ফ্যালাসি ধত্তে পাল্লেন না? "কষ্ট কল্পনা" বলে দিলেন?
  • D | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১২:২০421025
  • এলেবেলে বিভিন্ন ফোরামে কাগজে শিকাগো বক্তৃতার ১০৮ করে যে যুক্তিটি দেন তার সারকথা রাজাগোপাল চট্টো মার্কিন কাগজে সে বক্তৃতা নিয়ে উচ্চবাচ্য দেখেননি। রাজাগোপাল দেখেননি, অতএব নেই। শিকাগো আর্ট ইনস্টিটিউটে ফুলারটন হলের বাইরে বিবেকানন্দের ছবি ও সেই বক্তৃতার প্লেক রাজাগোপাল দেখেছেন কিনা কে জানে।
  • র২হ | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৩৪421024
  • রবিবাবু ফ্রিম্যাসন গোষ্ঠীর লোক এইসব নিয়ে পড়ছিলাম, এমনি ফেসবুক পোস্ট, গুরুতর কিছু না। ফ্রিম্যাসনারির মিশর/ ভারতের যোগাযোগ নিয়ে গল্প গুলিও ইন্টারেস্টিং। ড্যানবাবু খুবই টানটান লিখেছেন, আমার মত লোকও ফিবোনাক্কি ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে বসেছিলাম। লাইনের লোকেদের কাছে ওসব খাজা হতে পারে অবশ্য, আমি নিতান্ত পাঁচপেঁচি লোকের কথা বলি আরকি। হুআ সুযোগ পেলে একটু ফিবোনাক্কি ঢুকিয়ে দিতেন।
  • S | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১০:৫৮421023
  • ব, আপনার কাছে যে ডেটা আছে তাতে এটা অবশ্যই প্রমাণিত হয় যে রামির ছাত্ররা প্রচুর পয়সা কড়ি দেন, সমাজের কাজে থাকেন। এবং সেটা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু তার থেকে এটা কখনই প্রমাণিত হয়্না যে "অন্য স্কুল/কলেজ এ ব্যাপারে রা কৃ মি র সাথে জাস্ট তুলনায় আসে না।" এবং আপনি এটাও ধরে নিচ্ছেন যে অনেকে লাখ লাখ মাইনে পেয়েও দশ হাজার টাকা দিতে নারাজ। এটাও তো হতে পারে যে তিনি আপনাকে হয়তো দেবেন না, কিন্তু নিজের পছন্দের জায়্গায় ডোনেট করেন এবং সেটা ফলাও করে বলতে চান না। তাছাড়া লোকে কিভাবে কোথায় সোসাইটিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে, সেটা মাপা বোধয় কখনই সম্ভব নয়।

    কে বেশি করলো, কে কম করলো এই তুলনাটাই তো ফিলানথ্রপির আইডিয়াটার বিরুদ্ধে।
  • রবীন্দ্রনাথ | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১০:৫৬421022
  • আজ বিশ্ব যতই আমাদের ঘরের আঙিনায় ঢুকে আসছে, আমরা ততই ঘরের কোণায় ঢুকে দোর দিচ্ছি। হোয়াটসঅ্যাপের বার্তাটুকু কোনক্রমে আমাদের মুঠোর মধ্যে এসে পৌঁছচ্ছে, সেই বার্তায় যেটুকু প্রকাশ পাচ্ছে তাকেই আমরা ভাবছি মহাবিশ্বের হাঁড়ির খবর, দু পা এগিয়ে গিয়ে কোনকিছু জানবার আর আগ্রহ করছি নে। মহাত্মা আমাদের আঙুলকে ডেকেছিলেন চরকা কাটার জন্যে, তাতে আমার বিলক্ষণ আপত্তি ছিল। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলুম চরকা কাটার যেটুকু শ্রম সে তো দূরস্থান, অন্তর্জালে অনুসন্ধান করার জন্য আঙুল নাড়ানোর সামান্য কাজটুকুও আমরা করে উঠতে পারছি নে।
    আধুনিক কালে ভারতবর্ষে ‌বিবেকানন্দই একটি মহৎ বাণী প্রচার করেছিলেন, সেটি কোনো আচারগত নয়। তিনি দেশের সকলকে ডেকে বলেছিলেন তোমাদের সকলেরই মধ্যে ব্রহ্মের শক্তি, দরিদ্রের মধ্যে দেবতা তোমাদের সেবা চান। বাংলাদেশের যুবকদের মধ্যে যেসব দুঃসাহসিক অধ্যবসায়ের পরিচয় পাই তার মূলে আছে ‌বিবেকানন্দে‌র সেই বাণী যা মানুষের আত্মাকে ডেকেছে আঙুলকে নয়।
  • S | ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১০:৩৯421020
  • "সেসব মিরাকেল গাঁজাখুরি হলেও ওনার সমাজ সেবাকে তো ছোট করা হয়না।"

    আসলে ছোটই করা হয়। বিবেকানন্দ এতো কাজ করলেন। তবু তাঁর নামে আজগুবি গল্প তৈরী করতে হল তাঁকে সেই ম্যান্টলে বসাতে। যেন তাঁর জীবনের কাজকম্ম, আত্মত্যাগ, তাঁর লেখাপত্তর যথেষ্ট ছিলো না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত