এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Apu | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:৪৫427261
  • আমি বেলুড়ে
  • S | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:৪২427259
  • বোতিন দা। আপনি কোথায় থাকেন?
  • Apu | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:৩৮427258
  • আরে তোমাদের মতো বয়েসে আমি প্রচুর ঘুমোতাম। এখন বয়েস হয়ে...... ঃ))))
  • PT | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:৩৭427257
  • দ্যাকো কান্ডো!! মোদিশাদের দেকে একোন ইন্দিরার কতা মোনে পোর্চে গো!! আমি সেই কব্বে থেকেই তো কংগেসের সঙ্গে যাওয়ার কত বোল্চি। এর্পোরে কি লোকেদের জোতি ব বুদ্দর কত মোনে পোর্বে নাকি?

    তার ওপরে এখন আবার শুনছি তাপসী মালিকের বাবা নাকি পাল্টি খাওয়ার মত কিসব বলছে......কেউ এই খপরের সত্যাসত্য কিছু জানে?
  • Apu | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:৩৬427256
  • আচ্ছা ঃ) ঃ)

    বেলুড় মঠে ২৮/২৯ ডিসেম্বর, স্বামীজির চিকাগো বক্তৃতার ১২৫ বছর উপলক্ষ্যে বিরাট জমায়েত। সারা ভারতের স্ব রা কৃ মি র কলেজ ছেলে পুলে রা আসবে। দারুন ব্যাপার
  • অরিন | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:৩২427255
  • "পোচুর ঘুম - ছুটির প্ল্যান"
    টোটাল। কাল থেকে আমারও তাই চলছে।
  • aranya | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:২৩427254
  • পোচুর ঘুম - ছুটির প্ল্যান
  • Apu | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:১৮427253
  • অরণ্য দা বড় দিনের ছুটি তে প্ল্যান কী?
  • Apu | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:১৬427252
  • Lungi এমনিতে
    ভালো। শুধু যদি খুলে যায়। একটা ই চাপ ...
  • Apu | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:১৪427251
  • এস কবে
    আড্ডা দেবে ?

    এই সুযোগে আলাপ হয়ে যাবে....
  • S | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:০৭427250
  • নেহাত খুব ঠান্ডা। নইলে লুঙ্গি পড়েই এবারে কোলকাতা ঘুরতাম।
  • অরিন | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৮:৩৭427249
  • এটাও থাক,
    “...
    Hegemony invades private space as well: my cousin in America would get home from work
    and lounge in a lungi –
    till his son grew ashamed
    of dad and started hiding the “ridiculous ethnic attire”
    It’s all too depressing
    But I won’t leave it at that
    The situation is desperate
    Something needs to be done
    I’ve decided not to
    take it lying down
    The next time someone insinuates
    that I live in an Ivory Tower
    I’ll proudly proclaim
    I AM A LUNGI ACTIVIST!
    Friends and fellow lungi lovers,
    let us organise lungi parties and lungi parades, let us lobby Hallmark and Archies
    to introduce an international Lungi Day
    when the UN Chief will wear a lungi
    and address the world
    ...”
    কাইজার হক (Ode to lungi)
    পুরোটা,
    https://journals.iium.edu.my/asiatic/index.php/AJELL/article/download/58/44/
  • অরিন | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৮:২৮427248
  • “এরকম জায়গায় মোদী থাকলে ...”
    মোদী যেতই না। এতবার তো আমেরিকা গেছে, কোনদিন দেখেছেন স্টিফেন কোলবেয়ারের শোতে? লোকটার করণ থাপারকেই হ্যাণ্ডেল করার মুরোদ নেই, (জল খেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল) তো ইন্দিরার লেভেল!
  • aranya | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৮:২৭427247
  • জোকস অ্যাসাইড, অর্জুন, খ এরা সব মিছিলে যাচ্ছে, খুবই খুশী হয়েছি।
    গুরু-র আরও মানুষজন যাচ্ছেন নিশ্চয়ই
  • শালা | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৮:০৮427245
  • ডিকটেটরদেরও কোয়ালিটি খারাপ হচ্ছে দিনকে দিন! ইন্দিরা গান্ধির ইন্টারভিউ দেখছিলাম। টাফ সিচুয়েশনেও কি শান্ত আর গ্রেসফুল! ঠান্ডাভাবে হেসে হেসে উত্তর দিচ্ছে। এরকম জায়গায় মোদী থাকলে জাস্ট হেগে ফেলত।

  • Apu | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৭:৪৩427244
  • Lungi আর বোধি দা- একটি নির্মোহ ব
  • aranya | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৭:২৬427243
  • লাইম লাইটে লুঙ্গি - এটা ক্যা-র একটা ভাল দিক।
  • Apu | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৭:২২427242
  • সুপ্রভাত গুরু
  • aranya | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৬:৫৭427239
  • বেশ ডায়েরী :-)
  • অরিন | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৬:৫০427238
  • মিকুর ডায়েরী
    ---------------

    মা আজকে আমাকে ঘরে আটকে দিয়ে ১০০ টা অঙ্ক করতে বলে গেল। কারা নাকি দরজা ঝাঁকাচ্ছে, আর আমরা নাকি কি গোলমাল করেছি, তাই। গোলমালটা বলছি।

    মাস ছয়েক হল আমাদের পাড়ায় দুজন মাঝবয়সী লোক এসেছে, একজনের ডাকনাম জগাই, আরেকজনের নাম মাধাই। লোকদুটোকে দেখে মনে হয় ওদের কোন কাজ নেই যদিও সব সময় সব জায়গায় মাতব্বরী করে বেড়ায়। জগাই বলে লোকটা দামী দামী জামাকাপড় আর সানগ্লাস পরে ঘুরে বেড়ায়, লোকটার একমুখ দাড়ি, আর কপালে একটা লাল তিলক, খসখসে গলায় কথা বলে। আর মাধাই বলে লোকটা পিপের মত মোটা, তার হাঁড়ির মত মুখ, টাক মাথা, ঢুলুঢুলু চোখ, একমুখ দাড়ি, সারাক্ষণ পান খায়, আর যেখানে সেখানে পানের পিক ফেলে। আমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার ধারে মাঠের পাশে একটা পুরনো বাড়ির একতলায় লোক দুটো আর আরো কয়েকজন রোজ সকালবেলা বসে থাকে, আর ওদের সঙ্গে আরো পাড়ার চার পাঁচজন লোক সারাক্ষণ ওদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়।বাবার কাছে সেদিন শুনলাম আজকাল আবার দুজনেই পাড়ায় নতুন কাউকে দেখলে নাকি বলে, তোমরা কি বেপাড়ার লোক, এখানে কেন এসেছ, যাও এখান থেকে, না হলে মার খাবে। আমাদের পাড়ায় প্রোমোটার বিকাশ কাকুর সঙ্গে লোকদুটোর দারুণ ভাব, যদিও মনে হয় না আর কেউ ওদের পছন্দ করে।

    তো সেদিন কি হয়েছে, বিকেলবেলা আমরা পাঁচজন মাঠে খেলতে গেছি, দেখি সেখানে জগাই মাধাই আর আরো কারা কারা আমাদের পাড়ার ইকবালকাকুর সঙ্গে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কি সব বলছে।ইকবালকাকু আমাদের পাড়ার পুরনো লোক, তাঁর স্টেশনারী দোকান আছে, তাছাড়া তাঁর বেলুন তৈরীর শখ, দারুন দারুণ বেলুন বানিয়ে আমাদের জন্মদিনে, পারটিতে আমাদের তাক লাগিয়ে দেন, ইকবালকাকুর ছেলে রফিক আমাদের ক্লাসেই পড়ে, আমাদের ক্লাসটিমের গোলকিপার।

    সেদিন দেখলাম মাঠে জগাই আর মাধাই ইকবালকাকুকে কি কারণে ধমকাচ্ছে, আর ইকবালকাকু হাতপা নেড়ে কি বলার চেষ্টা করছেন। আমাদের মধ্যে বিতান একটু ছেলেমানুষের মত আবদার করে, এসবের মধ্যে ইকবালকাকুকে বলল, “ও ইকবালকাকু, আমাদের সবাইকে একটা করে বেলুন দেবেন?” যেই না বলা, অমনি বলা নেই, কওয়া নেই, ইকবালকাকু কিছু বলার আগেই মাধাই বলে লোকটা বলে কি, “এ তু কৌন হ্যায় বে? কেয়া রে? বেলুন ফেলুন কুছ নেহি মিলেগা, চল ফোট।” একজন বড় মানুষের মুখে এরকম ইতর ভাষা শুনে আমার ভারি রাগ হয়ে গেল, আমি বললাম, “আপনি ওর সাথে ওরকম করে কথা বলছেন কেন?” আর যায় কোথায়। লোকটা রে রে করে তেড়ে এসে আমাকে হিন্দিতে যা তা করে কিসব বলতে লাগল, আর ওদের দলে বাবলু বলে একজন আমাদের দাসপুকুর বাজারে মাছ বিক্রি করে, আর পাড়ার জলসায় হিন্দি গান গায়, সে হঠাৎ আমার কান মুলে দিয়ে বলে কি “বেলুন ফেলুন কিচ্ছু পাবি না, যা ভাগ এখান দিয়ে”, আর কোথাও কিছু নেই, বিতানকে মারল ঠাস করে একটা চড়। আমাদের এমন অপমান লাগল আর রাগ হল কি বলব, কিন্তু কিছু বলতেও সাহস হল না, মারামারি তো দূরস্থান, ইস্কুল হলে মারামারি শুরু হয়ে যেত, এরা গুণ্ডা মনে হয়, এদের সবাই সমঝে চলে। কিছুই করতে পারলাম না, আর আমরা সবাই অপমানে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চলে এলাম। আমাদের যা বয়স, এ বয়সে এসব কথা অবশ্য বাড়িতেও বলা যায় না, হাজার হোক আত্মসম্মানের ব্যাপার। এর শোধ নিতে হবে। নেব কি করে?

    পরের দিন সকালবেলা ঘুম ভাঙল একটা হইচইতে। আমাদের এদিকটা এখনো মফ:স্বলের মত, অল্পস্বল্প বাড়ি উঠছে এদিক ওদিক, মাঝে মধ্যেই কিছু লোক সাইকেল রিকসা করে চীৎকার করতে করতে যায়, সেরকমই চীৎকার করছে কেউ। লোকটা বলছে “আসুন আসুন দেখে যান বেলুনের বাহার! স্বনামধন্য জগদীপ লাল আর মাধো দাসের বিশাল বেলুন-কীর্তি পানুবাবুদের মাঠে দেখে যান!”

    ও, এবার বুঝলাম। তার মানে জগাইয়ের ভাল নাম জগদীপ আর মাধাইয়ের নাম মাধো! বেলুন ওরা করেছে নাকি? ওটা তো কেউ তৈরি করে থাকলে ইকবালকাকু করেছেন। যাই হোক, বাড়ি থেকে ইস্কুল যাবার পথে বেরিয়ে দেখি সত্যি মাঠের ভেতরে দুটো বিচ্ছিরি দেখতে বিশাল কমলা রঙের (মা বলল ওটা অরেঞ্জ না, স্যাফ্রন রঙ) বেলুন দড়ি দিয়ে মাঠে একটা খুঁটির সঙ্গে বাঁধা, একটার মুখে জগাইয়ের ছবি, আরেকটাতে মাধাইয়ের ছবি দেওয়া। তাই জন্যে মনে হয় কালকে ইকবালকাকুকে ডেকেছিল! দেখে এমন গা জ্বলে গেল, যাই গিয়ে কাঁচি দিয়ে দড়িদুটো কেটে দিই, কিন্তু দেখলাম মাঠে জগাই মাধাইয়ের দলের লোকগুলো পাহারা দিচ্ছে, কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না, তার মানে আমাদের বিকেলের খেলারও বারোটা বেজে গেল। এমন রাগ হল কি বলব। ইকবালকাকুর দোকানটা দেখলাম এখনো খোলে নি, তালা দেওয়া। ইস্কুলে গিয়ে রফিককেও দেখতে পেলাম না। কাল রাত থেকে নাকি ইকবালকাকুর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, আর আজ সকাল থেকে রফিকদেরও কেউ দেখে নি।

    দুপুরে টিফিনের সময় আমরা পাঁচজন প্ল্যান করলাম বেলুনদুটোকে পিন ফুটিয়ে ফাটিয়ে দেব। কিনতু পিন ফুটিয়ে ফাটাতে গেলে তো বেলুনগুলোর কাছে যেতে হবে, এরকম সাত-পাঁচ ভাবছি, এমন সময় দেখি লানা আসছে। লানা’র সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই। লানাও আমাদের পাড়ায় থাকে, গৌরবকাকুর মেয়ে। ওদের বিশাল বাড়ি, গৌরবকাকুর বিশাল নাম। গৌরবকাকু দারুণ ভাল ডাংগুলি খেলতেন, একবার আমাদের পাড়ার হয়ে ইন্টার-পাড়া ডাংগুলি কম্পিটিশনে পার্ক-স্ট্রীটের সাহেব পাড়ার ছেলেদের প্রায় একাই হারিয়ে দিয়েছিলেন। জেভিয়ার্সের মাঠে খেলা হয়েছিল, আর ফাদারদের সামনে টেঁশোদের ইস্কুলে গৌরবকাকু গায়ের জামা খুলে এমন উড়িয়েছিলেন যে আমাদের বাবা-কাকা, ওদের বন্ধুরা সেই থেকে গৌরবকাকুকে দারুণ খাতির করে। গৌরবকাকু আমাদের পাড়ার ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। সবথেকে বাজে ব্যাপার, মাধাইয়ের একটা মহা চালিয়াৎ ছেলে আছে,কেটলির মত মুখ(আমরা পেছনে কেটলি বলি), সে আবার ওই ক্লাবের সেক্রেটারি! লানা হচ্ছে সেই গৌরবকাকুর মেয়ে,আমরা ছোট থেকে চিনি, আমাদের ইশকুলেই পড়ে। লানা এসে বলল, “এই তোরা কি করছিস রে?” আমরা বললাম। লানা বলল, “দ্যাখ, পিন ফুটিয়ে তো ফাটাতে পারা যাবে না, তার চেয়ে বাপি ইদানীং ইংল্যাণ্ড থেকে ফেরার পর আজকাল বাড়িতেই খুব ডার্ট খেলে, বাপির কাছে অনেকগুলো ডার্ট আছে,আজকে চেয়ে রাখব, ওইগুলোর দারুণ sharp end, ছুঁড়লে বেলুন ফাটতে বাধ্য। যদি কিছু করা যায়। কিন্তু হাত দিয়ে ছুঁড়তে পারবি না। তোদের কারো কাছে তীর ধনুক আছে?” বিতান আর রাঘব, দুই ভাই ওদের কাছে ধনুক আছে, তীর নেই। বাড়িতে দুজনে যেখানে সেখানে তীর ছুঁড়ত বলে মাসিমা একদিন রাগ করে ওদের তীরগুলো ভেঙে দিয়েছেন। ধনুকটা এমনিই পড়ে থাকে।

    আমরা মোটামুটি প্ল্যানটা এইরকম বানালাম: আমরা কাল একদম ভোরবেলা, আলো ফোটবার মুখে মাঠটায় চলে যাব, লানা গৌরবকাকুর ডার্ট, ওর কাছে একটা খেললা বন্দুক আছে, সেটা, রাঘব আর বিতান ওদের ধনুক দুটো নিয়ে আসবে, আমরা ডার্ট দিয়ে বেলুনগুলোকে ফাটিয়ে দেব।

    উত্তেজনায় সারারাত আমার ঘুম হল না, বারবার করে ঘড়ি দেখছি, সাড়ে চারটে বাজতে না বাজতেই খুব সাবধানে সদর দরজা খুলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। দুপা যেতেই দেখলাম লানা, রাঘব, আর বিতানও বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে। চারজনে মিলে মাঠে গেলাম। দেখি বেলুনদুটো পতপত করে উড়ছে, ধারে কাছে গুন্ডাগুলো নেই। এই সময়টা ফাঁকা থাকে। বিতান আর রাঘব লানার কাছ থেকে ডার্টগুলো নিয়ে পরপর মারতে শুরু করল, দুটো এদিক ওদিক পড়ে গেল, আর তিন আর চার নম্বরদুটো যাকে বলে ‘বুলস আই’! লাগার সঙ্গে সঙ্গে দুম করে আওয়াজ, বেলুন দুটো ফেটে পড়ে গেল, আর আমরা দে দৌড়। হাঁপাতে হাঁপাতে যে যার বাড়িতে ভাল মানুষের মত গিয়ে শুয়ে পড়লাম। কে কোথায় বেরিয়ে ছিল, কি করছিল খেয়াল করিনি।

    এর পর নাকি সাংঘাতিক ঝামেলা হয়েছিল। আওয়াজ শুনে জগাই আর মাধাই বেরিয়ে এসে যখন দেখেছিল বেলুনদুটো ফেটে গেছে, বেদম চটে ছিল তো বটেই, কিন্তু যারা ওদের দেখেছিল তারা বলেছিল, জগাই বলে লোকটা নাক হাউ হাউ করে কাঁদছিল। এই ঘটনার পরে দুজনেই কয়েকদিনের জন্য পাড়া থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ডার্টগুলো ছিল বলে গৌরবদার ওপর লোকের সন্দেহ হয়, যদিও গৌরবদা সবাইকে বলছিলেন, উনি কিচ্ছু জানেন না, খবরদার যেন ওনার মেয়ের ওপর সন্দেহ না হয়। আপাতত আমাদের ক’দিন ইশকুল যাওয়া বন্ধ। আমি তো ঘরে বন্দি। লানাও শুনলাম বাড়িতে বেজায় বকুনি খেয়েছে, তিন দিন খাওয়া বন্ধ, ঘরে বন্ধ করে রেখেছে। জগাই মাধাইয়ের চেলা চামুণ্ডারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আমাদের হাতে পেলে মার দেবে বলে।

    তো এই হচ্ছে গোলমাল। শুনলেন তো সব।
  • aranya | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৬:২৯427237
  • অভি-র দেওয়া লেখাটা ভাল
  • avi | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৬:১৯427236
  • এইটা ভালো লাগলো। লেখক কৌশিক ঘোষ।
    রিপাবলিকান টিভির অর্ণব গোস্বামী সিএএ নিয়ে তাঁর তীব্র আপত্তি সোচ্চারে জানিয়েছেন। অনেক বিজেপি বিরোধী এতে আপ্লুত, বলছেন–অর্ণব এতদিনে একটা সেন্সিবল কথা বললেন। অন্যদিকে অনেক বিজেপি-সমর্থক এতে চটে গিয়েছেন, বলছেন, এ অর্ণবের অনর্থক এলিটিজম। কিন্তু, আমরা খতিয়ে দেখব অর্ণবের দু একটি কথা এবং তারপর আমি আমার আশঙ্কা জানাচ্ছি। এর মধ্যে হয়ত লুকিয়ে রয়েছে বিজেপির ভবিষ্যৎ রণকৌশল।

    অর্ণব বারবার একটি কথা বলছেন, আমাদের ভারতবর্ষ, আমাদের ল্যান্ড, হঠাৎ করে এই সরকার বিদেশী হিন্দু নাগরিকদের প্রতি সদয় হয়ে উঠলো কেন? যদি কোনো সন্ত্রাসবাদী হিন্দুর ছদ্মবেশে সিএএ আইনের বলে এ দেশে ঢুকে পড়ে, তার দায় কে নেবে? দ্বিতীয়ত, এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকট, চাকরি নেই। আমাদের নিজেদের নাগরিকদের চাকরির সুরক্ষা নেই, আমরা বাইরের হিন্দু হোক, বৌদ্ধ হোক বা খ্রিস্টান, এই ঔদার্য দেখাতে যাব কেন? তৃতীয়ত, মুসলিমদের প্রতি ডিস্ক্রিমিনেশন, কিছুটা দায়সারাভাবে বলেছেন।

    এখানেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের বিভাজন-কৌশল। সিএএ, এনপিআর ও এনার্সি আসলে তিনটি পর্যায়ের একই কর্মসূচির রূপায়ণ, বহু আলোচিত একথা নিয়ে আজ আর বিতর্কের অবকাশ নেই। সিএএ থেকে মুসলিমদের বাদ রাখা হয়েছে, তামিলদেরও। এনার্সির পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে জানা গেছে যে বৈধ ডকুমেন্টের সামান্যতম ভুল যে কাউকে ডিটেনশন সেন্টারে ঠেলে দিতে পারে। তাছাড়া ১৯৫১ পূর্ববর্তী ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা বলে বলে সম্ভব নয়। সরকারপন্থীরা বলছেন, হিন্দুদের সিএএ নামক রক্ষাকবচ রয়েছে। আপনি সেক্ষেত্রে চিহ্নিত হবেন শরণার্থী হিসেবে।

    ঠিক এখানেই লুকিয়ে আছে বিপদ। ধরা যাক আপনি ডকুমেন্ট দিতে পারলেন না। বা কোনো ভুল হলো।আপনি শরণার্থী হিসেবে চিহ্নিত হলেন। কিন্তু কে আসল শরণার্থী এবং কে বাধ্যত শরণার্থী, এই ফারাক করা যাবে না। যে দেশের আপনি ছিলেন নিশ্চিন্ত ও বৈধ নাগরিক, আপনি সিএএ ও এনার্সির যৌথ আইনে শরণার্থী হয়ে গেলেন। পার্টিশন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকা হিদেবে বাংলায় এসবের প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। শরণার্থীর সংখ্যা হয়ত এই রাজ্যে একটা বড় অংশে থাকবে।

    এরপরেই প্রচারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে, আসল নাগরিক বনাম শরণার্থী এই দুই পক্ষের লড়াই। শরণার্থীরা মূল স্রোতের নাগরিক নয়, এই লাগাতার প্রচার হতে থাকবে। আমাদের অর্থনীতির মূল ক্ষতি শরণার্থীরা করছে, এমন প্রচারও চলবে। শরণার্থীরা আমাদের বার্ডেন, আমরাই মূল স্রোতের ভারতীয়–এমন লাগাতার প্রচার। কিন্তু সিএএর পূর্বে কেউ কাউকে একথা বলতেও পারতো না, চিহ্নিতও করতে পারতো না। বিভাজনের রাজনীতি যারা করে, তারা এর সুযোগে আরো বেশি লাভবান হবে। এমনিতেই আমার বরাবরই হিন্দু সংহতির ওপর আস্থা চিরকালই কম-কেননা, সংরক্ষিত জাতি(এসসি) ভারতীয় ধর্ম অনুযায়ী হিন্দুই, তবুও এসসি বনাম উচ্চবর্ণের হিন্দু-এই কার্ড কারা অতীতে খেলেছিল এবং দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করেছিল, আপনারা জানেন।

    রাজ্যে রাজ্যে এরপরে শুরু হতে পারে শরণার্থী খেদাও এমন উগ্র কোনো আন্দোলন। এমন প্রচার হওয়াও অস্বাভাবিক নয় যে, এই শরণার্থী আসলে বাংলার সমস্যা, এর দায় আমরা, মুলস্রোতের ভারতীয়রা নিতে যাবো কেন? এমনিতেই অর্থনীতি বিপন্ন, চাকরির বাজার খারাপ, সেখানে আমাদের সমস্ত চাকরি আসলে শরণার্থীরাই ছিনিয়ে নিয়েছে, এমন তত্ত্ব বাজারে নামতে কতক্ষণ? মজার ব্যাপার হবে এই যে, যাঁরা সকলেই আগে বৈধ নাগরিক ছিলেন, সিএএ এরপরে আপনাকে রাতারাতি শরণার্থী হিসেবে চিহ্নিত করবে। চিহ্নিত করবে আপনার অফিস কলিগ, আপনার সন্তানের ক্লাস মেট। এর প্রভাব, আবারও বলছি, সবচেয়ে বেশি পড়বে বাংলায়।

    অর্ণব গোস্বামীর আজকের হিংসুটে লজিক যেসব উদার বিজেপি সমর্থক গ্রাহ্য করছে না, তারাই আগামী সময়ে এর মূল প্রবক্তা হলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। মাস হিস্টিরিয়া চিরকালই অবুঝ ও অযৌক্তিক। সিএএ যাঁরা আজ সমর্থন করছেন তাঁরা আসলে মাস-হিস্টিরিয়া এই ব্যাধির আক্রান্ত রোগী। ভবিষ্যতে অন্য অবস্থান নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হবেন? বোধহয় না।
  • Atoz | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৬:১২427235
  • কয়েল লাগবে, মোশা তাড়ানোর কয়েল। কচ্ছপ ধূপ।
  • অরিন | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৬:১০427234
  • আর, দেশটাই যেখানে আক্ষরিক অর্থে গরুর গোয়ালে পরিণত হয়েছে, মোশার উৎপাত তো অবধারিত। এখন দেখার যে এই সব ধুনো-টুনো দিয়ে মোশা তাড়ানো যায় কিনা।
  • Atoz | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৫:০৫427233
  • আর নোটা নোটা করে লাফানো সেই নৈরাজ্যবাদীদেরই বা এখন কী বক্তব্য সেটাও একটা প্রশ্ন। নোটা নোটা করে করে তো এই হাল, মোশাদের হাতে পড়েছে দেশ।
  • Atoz | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৫:০২427232
  • সেই পাখিবাবুদের এখন কী স্ট্যান্ড, সে ই বা কে জানে!
  • Atoz | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৪:৪৬427231
  • আচ্ছা, সেই ব্রাত্যবাবুর কী হল? এঁর কথা উঠলেই ইচ্ছে সিনেমার সেই বিখ্যাত দৃশ্য মনে পড়ে, ব্রাত্য তাঁর সেই অনবদ্য গলায় বলছেন, "ধ্যাত্তেরি পাখি পাখি --- সক্কালবেলায় এই শুরু হয়েছে---প্রভু, মুক্তি দাও গো, মুক্তি দাও।"
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত