এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  নাটক

  • হীরকের রানী ভগবান (৪)

    s
    নাটক | ২৩ মে ২০১৬ | ১৩০৮৮৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • PT | ০৪ নভেম্বর ২০১৭ ১৩:৫০714138
  • মুকুল রায়ের কোন কথাটা বিশ্বাসযোগ্য কে জানে!! কিন্তু একটি বাক্য প্রণিধানযোগ্যঃ
    "বাংলায় ১৯৭২ থেকে ৭৭ -এর সিদ্ধার্থ রায়ের আমল ফিরে এসেছে৷ বিরোধিতা করলেই সিআইডি পিছনে লাগবে৷ "
    উত্তরসূরী যে পূর্বসূরীর রাস্তায় হাঁটবে একি কারো অজানা ছিল?
  • Ki | ০৪ নভেম্বর ২০১৭ ২১:২০714139
  • মুকুল দার কেরিয়ার
    এস এফ আই
    ক্ন্গ
    টি ম ছি
    এখ্ন
    বি জে পি
  • | ০৪ নভেম্বর ২০১৭ ২৩:৩৭714140
  • ফেসবুক ওয়াল থেকে #তাপস দার একাটা লেখা না দিয়ে পারলাম না ...

    ঋতিকা আমার ছাত্রী ছিল
    তাপস দাস

    ঋতিকা আমার কিশলয়ের চেয়ে বছর দু'একের বড়। আমার কন্যাসম। ওকে আমি স্কুলে পড়াতাম। ক্লাসে পড়া ধরতাম। পারতো না। মেধাবী ছিল না। আদিবাসী গরিব বাড়ির মেয়ে। ঋতিকা জীবন্ত ছিল। সবুজ ছিল। ফ্যাশন ড্রেস ছিল না। অনেক দিন হয়তো না খেয়েই আসতো, তাতে আবার ড্রেস! মিনি স্কার্ট পড়েনি কোন দিন। গতরাতে ঋিতিকাকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ তারপর খুন করে বারান্দায় ফেলে দিয়ে গেছে। কে করেছে জানি না। তবে নিশ্চিত ভাবে কোন পুরুষ করেছে। এমন ঘৃণ্য কাজ মানুষ করেছে। আজ সারাদিন ভেবেছি, ঋতিকাকে আমি চিনি না।আমার কেউ না।আমি ক্লাসে কোনদিন দেখিনি ওকে। শেষ পর্যন্ত ঋতিকা ছবি হয়ে সামনে দাঁড়ালো। ফুটফুটে নিটোল শুদ্ধ কিশোরী আমার মত কোন পুরুষের লোভে শেষ হলো।

    আমি বলছি না কে খুন করেছে। কারণ জানি না। কিন্তু জানি বৈকল্য, ভোগবাদ সমাজের পঙ্কিল আবর্তে খুনিদের জন্ম। যে ব্যবস্থা ধর্ষণকে নীরবে সমর্থন করে, যে কাঠামো ধর্ষিতাদের মূল্য নির্ধারণ করে তার মধ্যে প্রশ্রয়ে লুকিয়ে থাকে ধর্ষক।

    আমাদের রাজ্যে আগেও ধর্ষণ হয়েছে, পরেও হবে। প্রশ্ন হচ্ছে সচেতন সমাজ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। আদৌ ফেটে পড়ছে রাগে ঘৃণায়? দিল্লির নির্ভয়ার মত অচল করে দিয়ে রাষ্ট্রকে জানান দিচ্ছে যে ধর্ষণ একটি ব্যাধি। সমাজ তাকে সমর্থন করে না। না মুখ বুজে গা সওয়া ভাবে মেনে নিচ্ছে? আমাদের রাজ্যে চালচিত্র মেনে নেওয়া। একজন আদিবাসী অতি সাধারণ স্কুল ছাত্রীর জন্য মোমবাতি জ্বলবে ন। মোমবাতি না জ্বলাই ভালো। কারণ ওটা ভণ্ডামি।
    তাহলে আমি কী করবো? আমার হাতে আসুক একটা লিঙ্গছেদ যন্ত্র। পুরুষের লিঙ্গছেদ করে ফেলি। আমার ইচ্ছে করছে ডেডবডি মাঝ রাস্তায় ফেলে দিয়ে বিরসা মুণ্ডাকে ডেকে আনি। অথচ সবাই মেনে নিয়েছে। নেতা, দল সংগঠন রাজনীতি, সমাজনীতি, লোকাচার সবাই। হয়তো চাকরি বা পারিতোষিকে বাবা মাও মেনে নেবে। ঋতিকা ক্রমশ মিলেয়ে যাওয়া একটা সংখ্যা মাত্র। ঋতিকা আমার ছাত্রী ছিল। তাই আমার দায় তার কথা জানানো। জানাতে গিয়ে ভয় পেয়েছি। যদি লালবাজার ডেকে পাঠায়?

    মনে পড়লো আমি রায়গঞ্জে আদিবাসীদের সাথে মিছিলে হেঁটেছিলাম। ঋতিকার জন্যও কেউ মিছিলে হাঁটবে। এই মৃত্যুর জন্য দায়ী আমাদের মেনে নেওয়া প্রবণতা। মেনে নিয়েছে বলেই ধর্ষণ উত্তর সান্ত্বনা কুড়ি হাজার টাকা।
    ধনঞ্জয়ের ফাঁসি হয়েছিল। আমাদের মেনে নেওয়া ধনঞ্জয়কে সিনেমার চরিত্র করেছে।
    ঋতিকা আমার ছাত্রী ছিল। কোনদিন মিনি স্কার্ট উত্তেজক পোশাক পড়ে স্কুলে আসেনি। কারণ ছিল না। ঋতিকার মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়েছিল। শরীরে ঘাস পাতা লেগেছিল। আমি ঋতিকার কথা লিখছি, যদি কেউ তার জন্য আগুন জ্বালায়।
  • s | ০৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:৪৬714141
  • মুকুলকে জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ানোর জন্য বিজেপি কেন উঠেপড়ে লেগেছে? মুকুল সংগঠেনের কাজ করুক পিছনে, উনি কোনকালেই সুবক্তা বা স্টেজ পার্সনালিটি নন।
  • s | ০৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:৪৪714142
  • পুলিশ তিনো সব ভাগাভাগি করে খাচ্ছে। ব্যাগরা দিলেই অ্যারেস্ট।
  • PT | ০৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৫১714143
  • এর সঙ্গে এটাও থাকঃ
    .......বামফ্রন্ট আমলেও এক সময়ে শিক্ষক, ক্লার্ক, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। এবং সেই দুর্নীতিকে রোধ করতেই স্কুল সার্ভিস কমিশন তৈরি করা হয়। যাবতীয় স্থায়ী নিয়োগ পিএসসি ও এসএসসি-র মাধ্যমে শুরু হয়। তবে অঙ্গনকর্মী, আশা কর্মী, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক, প্যারা টিচার— এ সব বামফ্রন্ট আমলেও ছিল, যেখানে মূলত দলীয় কর্মীরাই প্রাধান্য পেয়েছিলেন। তফাত একটাই, সেখানে লক্ষ-লক্ষ টাকার লেনদেন ছিল না। এমনকী প্রতি বছর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কিছু সংখ্যক দলীয় কর্মীদের নেওয়া হত। কিন্তু এখনকার মতো এমন ঢালাও দুর্নীতি ছিল না।

    কৌশিক সরকার রঘুনাথপুর, পুরুলিয়া
    http://www.anandabazar.com/editorial/letters-to-the-editor-1.702346?ref=editorial-new-stry
  • j | ০৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:২৭714144
  • তিনো বাহুবলী - নকু জনতারও নয়নের মণি -নন্দীগ্রামের ডন আজ অনিচ্ছুক জমিদাতাদের ঝাঁটা মেরে তাড়াতে বলছেন !

    https://ebela.in/state/suvendu-adhikari-attacks-forward-block-mla-dgtl-1.702331?ref=hm-ft-stry

    "আলি ইমরান রামজ(ভিক্টর)- এর নেতৃত্বে বিক্ষোভে শামিল হন জমি রক্ষা কমিটির কয়েক হাজার কৃষক। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জমির ন্যায্যমূল্য না দিয়েই জেলা প্রশাসন বাইপাসের কাজ শুরু করেছে। তারই প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ আন্দোলন।"
  • PT | ০৬ নভেম্বর ২০১৭ ১৩:৪৮714145
  • কন্যাশ্রী কি তবে মায়া?
    "মেয়েদের সার্বিক পরিস্থিতি বিচারে দেশের ৩০টি রাজ্যের .........সবচেয়ে খারপ ফল করা রাজ্য গুলির মধ্যে রয়েছে খোদ দেশের রাজধানী দিল্লি, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ।"
    http://www.anandabazar.com/national/condition-on-women-position-of-west-bengal-is-very-poor-dgtl-1.702680?ref=hm-ft-stry-4
  • dc | ০৬ নভেম্বর ২০১৭ ১৭:৪৩714146
  • পিটিবাবুর পোস্টগুলো পড়ে কিন্তু সন্দেহ হয় দিদির এই একটা প্রোজেক্ট অন্তত সফল হয়েছে।
  • PT | ০৬ নভেম্বর ২০১৭ ২০:১৫714147
  • কি করে?
  • | ০৮ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:১০714150
  • যাই বলুন
    নচিকেতার কিন্তু বেশ দূরদর্শিতা ছিল সেই কবে বলে দিয়েছে
    আজকে যিনি তেরঙ্গাতে কাল ভক্ত রামের!
  • aranya | ০৮ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৪৬714151
  • তাপসের লেখাটা :-(((
  • aranya | ০৮ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৪৮714152
  • মেয়ে মানেই ধর্ষণের সামগ্রী, ছেলে মানেই সম্ভাব্য ধর্ষক - এমন একটা অবস্থায় পৌঁছেছে
  • pi | ১০ নভেম্বর ২০১৭ ১৯:২৯714154
  • অরুণাচলবাবুর কেসটা পারফেক্ট হীরকরাণীর মত হয়েছে।
  • রোবু | ১০ নভেম্বর ২০১৭ ১৯:৫১714155
  • Arunachal Dutta Choudhury suspended, allegedly for his facebook post.

    কী ছিল ডা অরুণাচল দত্তচৌধুরীর সেই ফেসবুক পোস্টে?

    ভয়ানক অপরাধমূলক সেই কথাগুলো এখানে বলি।

    এই সেই পোস্ট যার জন্য তিনি সাসপেন্ড হলেন।

    ===============

    #হাসপাতালের_জার্নাল

    যাহা বলিব সত্য বলিব
    অথবা
    কার্নিভ্যাল সমগ্রঃ-

    গত ৬ই অক্টোবর আমার অ্যাডমিশন ডে ছিল। সরকারি জেলা হাসপাতালে। ওয়ার্ডের নোটিসবোর্ডে আমার নাম Dr.A.D.C.
    সকাল ৯টা থেকে পরের দিন সকাল ৯টা অবধি যত রোগী/রোগিনী ভর্তি হবেন সব টিকিটে লেখা আমার নাম। অর্থাৎ এই রোগীদের ভর্তি পরবর্তী চিকিৎসা, রেফারেল, যদি মৃত্যু ঘটে সে'ই দুঃখজনক ঘটনা সব কিছুর জন্যই "আই উইল বি হেল্ড রেসপন্সিবল।"
    এই ২৪ ঘণ্টা কাটানোর পর সব মিলিয়ে আমার অবস্থা কেমন? শরীরের কথা থাক। মনের কথাটা বলি। উদাহরণ দিয়ে বলি। কিশোর বেলায় ঘুড়ি ওড়ানোর সময় ঘুড়ি যখন আকাশে আর লাটাই আমার হাতে সেই সময় উত্তেজিত থাকতাম খুব। কখন সুতো ছাড়ব, কখন টানব, ঘুড়ি কোন বাতাসে কোন দিকে গোঁত্তা খাচ্ছে … সে এক তুলকালাম অবস্থা। কিন্তু সেই ঘুড়িটা কেটে গেলে, মন নিমেষে উত্তেজনা মুক্ত। কাটা ঘুড়ির পেছনে দৌড়োনো স্রেফ অভ্যেস বশে। মন জানে, লাভ নেই। এখনও প্রায় সেই রকমই। ভর্তি রোগীর সংখ্যা অকল্পনীয় হওয়ায়, মনে আর কোনও চাপ নেই। অপরাধবোধ? তা' একটু রয়েছে বটে। আশা, প্রশাসকদের দেখে সেই লজ্জা আবরণটিও সরে যাবে।
    যখন আমার নামে ভর্তি হওয়া মানুষের মোট সংখ্যা পঞ্চাশ ষাট ছিল কয়েকসপ্তাহ আগেও জানতাম ঘুড়িটা উড়ছে। কান্নিক খাচ্ছিল… তবুও উড়ছিল। কিন্তু তার পরে এই জেলায় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জ্বর, সেই কারণে প্রচুর মৃত্যু, আর অকল্পনীয় মৃত্যুভয়।
    অথবা অন্য ভাবে বললে, ভর্তি রোগীর সংখ্যাটা যতদিন কম ছিল মানে কম বেশি একশ', জানতাম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করছি। আজ যখন সে সংখ্যা পাঁচশ'র আশেপাশে, জেনে গেছি যুদ্ধ অসম্ভব। বন্যার জল ঢুকে পড়েছে, এখন একমাত্র গতি ভেসে যাওয়া।
    ইতিমধ্যে কর্পোরেট হাসপাতালে জ্বরে মৃত্যুর কারণে ভাঙচুর মহামান্য মিডিয়া সাড়ম্বরে ছেপেছে। দেখিয়েছে।
    সেই মিডিয়া কিন্তু প্রান্তিক হাসপাতাল দেগঙ্গা বা রুদ্রপুর হাসপাতাল ছেড়ে দিন, এমন কী জেলা হাসপাতালে উঁকি দিয়েও দেখেনি। কাজ সেরেছে সম্ভবত স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসকদের সাথে কথা বলে, যাদের একমাত্র কাজই হচ্ছে তথ্য চেপে যাওয়া।
    যাই হোক, যা বলছিলাম, মেডিসিন ওয়ার্ডের মেঝে ছেড়ে উপচে ওঠা ভর্তি রোগীর ভিড় নেমে এসেছে হাসপাতাল বিল্ডিংএর অন্যান্য মেঝেতে, যেখানেই প্লাসটিক শিট পাতার সামান্যতম জায়গা রয়েছে, সে'খানে।
    পা রাখার জায়গা আক্ষরিক অর্থেই নেই। ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা? কেউ জানে না, শুধু কম্পিউটার জানে।
    সবার গায়ে জ্বর। অনেকের কাছেই বাইরের ল্যাবে করানো ব্লাড রিপোর্ট। সবারই এক আর্তি, রিপোর্টে ডেঙ্গু ধরা পড়েছে, অর্থাৎ এনএসওয়ান পজিটিভ আর প্লেট(পড়ুন প্লেটলেট) কমেছে। সবার বাড়ির লোকের দাবী, স্যালাইন দাও।
    সবাইকে সেই দিনের ভারপ্রাপ্ত ডাক্তার ইচ্ছে থাকলেও ছুঁয়ে দেখতে পারছে না। কারণ ত্রিবিধ। প্রথমত মোট রোগীর সংখ্যা, সম্ভবত পাঁচশ, একলা দেখতে হবে রাউন্ডে। দ্বিতীয়ত বেড হেডটিকিটের উল্লিখিত রোগীকে খুঁজে পাওয়া। কোন বারান্দার বা কোন ঘুপচির মধ্যে গাদাগাদি হয়ে রয়েছে সে হাজার ডাকাডাকি করেও পাওয়া যাচ্ছে না। তৃতীয়ত খুঁজে যদিও বা পাওয়া গেল, গায়ে গা লাগিয়ে শুয়ে থাকা মানুষগুলোর কাছে অন্যকে পায়ে না মাড়িয়ে পৌঁছোনো কার্যত অসম্ভব।
    জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসক অতি চালাকের মত বিবৃতি দিচ্ছে হাসপাতালে সব ব্যবস্থা(পড়ুন নির্ভেজাল অব্যবস্থা) রয়েছে। হাসপাতালের প্রশাসক অসহায়। অলিখিত নির্দেশ রয়েছে অব্যবস্থার কথা বা ছবি ঢাকতে হবে যে কোনও মূল্যে। তা' নইলে নেমে আসবে ব্যক্তিগত কোপ। আর তার নিজেরও আনুগত্য দেখিয়ে স্বাস্থ্যভবনের প্রসাদকণা পাবার আকাঙ্ক্ষা বড় কম নয়।
    আর আমি? একদিনে যার আন্ডারে ভর্তি হয়েছে কমবেধি পাঁচশ জন, সেই আমি অতিব্যস্ত আগামী এক দেড় দিনের মধ্যেই নমো নমো করে এ'দের জ্বর গায়েই বাড়ি পাঠিয়ে দিতে, কেন না পরের দিনের নতুন পাঁচশ জনের তো "সাব হিউম্যান তবু সব ব্যবস্থা থাকা" সরকারী হাসপাতালে জায়গা চাই। আক্রান্ত জনসমুদ্র ঝাঁপয়ে পড়ছে ইমারজেন্সিতে।
    এর মধ্যেই মারা যাচ্ছে জ্বরের রোগী। বুঝিয়েসুজিয়ে(প্রশাসনিক জবানে কাউন্সেলিং করে), কান্না মোছানোর চেষ্টা করছি। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ লিখছি…না না ডেঙ্গু নয়।
    এই রাজ্যে ডেঙ্গু হওয়া বারণ। এই অতি চালাক আমি… রক্তচোখের ভয়ে ভীত কেন্নোর মত সন্ত্রস্ত এই আমি অভাগার ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ লিখছি 'ফিভার উইথ থ্রম্বোসাইটোপিনিয়া'।
    আর রক্তচোখের মালকিন মালিকেরা তখন কার্নিভ্যালে কৃত্রিম একধরণের ঠোঁট প্রসারিত চালাক চালাক প্রায় অশ্লীল হাসির ভঙ্গিমায়, কখনও বিসর্জন দেখছে, কখনও দেখছে ফুটবলের কবন্ধ রাক্ষুসে মূর্তি।

    এর মধ্যে বলাই বাহুল্য জ্বর ছাড়া অন্যান্য রোগীরাও ভর্তি হয়েছেন মেডিসিন ওয়ার্ডে। মানে হার্ট অ্যাটাক, সেরিব্রাল স্ট্রোক, সিরোসিস, কাশি-বমিতে রক্তপাত, খিঁচুনি ইত্যাকার বহু দুর্ভাগা। তাঁদের দেওয়া সুচিকিৎসা(?)র কথা সহজেই অনুমেয়। আমার দেওয়া তথ্যের সমর্থনে রোগীদের দুর্দশার ছবি মোবাইলে তুলে সাঁটানোই যেত এই দেওয়ালে। কিন্তু মহামহিম স্থানীয় প্রশাসক কার যেন মোবাইল এই অপরাধে নাকি বাজেয়াপ্ত করেছেন। সরকারী গোপন তথ্য ফাঁস করা অপরাধ।
    একটা পুরোনো রাশিয়ান কৌতুকী মনে পড়ল।
    শিক্ষামন্ত্রীকে গাধা বলেছিল একটা লোক। বিচারে দু'দফায় জরিমানা হয়েছিল তার। প্রথম কারণ শিক্ষামন্ত্রীকে অপমান, দ্বিতীয় কারণ রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস।
    জানি না আমার এই লেখায় সেই গোপন তথ্য ফাঁসের অপরাধ ঢুকে গেল কিনা।

    প্রান্তিক ভোটার আপাতত জ্বরে কাঁপছে। কাঁপুক।
    মরে যাচ্ছে। যাক।
    অপ্রতিহত চলুক ভোগান্তি আর মৃত্যুর কার্নিভ্যাল।
    নিষ্ঠুর হলেও সত্যি, আবার ভোট এলে প্রসাদ কুড়োনো কম্মে খাওয়া ভাইবেরাদরদের হাত দিয়ে পাঠানো হবে ভিক্ষের অনুদান।
    মশা আর ভোট বেড়ে যাবে এ'ভাবেই… ফিবছর।
  • গোমড়াথেরিয়াম | ১০ নভেম্বর ২০১৭ ১৯:৫৮714156
  • গুল্প-সমগ্র
    - অরুণাচল দত্ত চৌধুরী

    "কোর্টে দেওয়া হলফনামা…
    ফালতু হাসির গল্প থামা
    জ্বরের কারণ পুজোয় নাকি
    বাইরে ঘুরতে গিসল মামা।

    'যাচ্ছিস যা লালপাহাড়ি,
    সঙ্গে কিন্তু নিস্ মশারি',
    পিসির হুকুম।( সেই যে পিসি,
    ভাইপোরা যার বদের ধাড়ি)।

    সেই মশারিই গেছিস ভুলে?
    ভিন রাজ্যের মশক ছুঁলে,
    ঘটার যে'টা ঘটল সে'টাই,
    ডেঙ্গি ছিল তাদের হুলে।

    কামড়াল তো, তার পরে কী?
    অবাক হয়ে সবাই দেখি
    সবার গাত্রে জ্বরের তাড়স।
    চেঁচায় পিসি রিপোর্ট মেকি।

    এই সে'দিনও ঢাক পিটিয়ে
    দিচ্ছিল এই বিকট ইয়ে
    হঠাৎ কেন ডেঙ্গি কথা
    করছে স্বীকার কোর্টে গিয়ে?

    জিভের গোড়ায় বেজায় মিথ্যে।
    ক্লাব অনুদান পাগলু নৃত্যে
    ভোটের হিসেব। আজকে বুঝি
    ভয় জেগেছে ও'টার চিত্তে?

    অন্য রাজ্যে ভ্রমণ পাড়ি,
    দেয় যারা সব দেগঙ্গারই?
    বাদুড়িয়ার বসিরহাটের?
    এ' গুল কি কেউ মানতে পারি?

    তার চাইতে বল্ না সোজা
    ইচ্ছে করেই চক্ষু বোজা
    কার্নিভ্যাল আর মেলায় খেলায়
    যায়নিকো রাজধর্ম খোঁজা।"
  • | ১০ নভেম্বর ২০১৭ ২২:০৬714157
  • তৃনমূল রিগিং করে জেতে @ মুকুল রায়

    মুকুল জনপ্রতিনিধি কেনাবেচা করতো @ পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    উফ কি শুনলাম ...
  • | ১০ নভেম্বর ২০১৭ ২২:১০714158
  • না গতকালকের এই কবিতার জন্য নয়, #হাসপাতালের_জার্নাল বলে একটা লেখা লিখেছেন ওটার জন্য।
    রইল এটাও
    http://pnachforon.blogspot.in/2017/11/blog-post_73.html?m=1
  • | ১০ নভেম্বর ২০১৭ ২২:২০714159
  • কবিতার ঠিক ওপরের পোস্টেই তো লেখাটা দেওয়া রয়েছে!! :-O
  • pi | ১০ নভেম্বর ২০১৭ ২২:৪২714161
  • সরকার ডেঙ্গু নিয়ে আর ইন জেনেরাল স্বাস্থ্য নিয়ে পুরোটা ডাক্তার রুগি লড়িয়ে দিয়ে বহুর ভুলভাল কাজ করল। এদিকে বলতেই গেলেই হুমকি দিচ্ছে। স্বাস্থ্য(অ)ব্যবস্থা বলে যে বইটা বেরোল এক হপ্তা আগে, সেটা নিয়েও ফেবুতে রীতিমত থ্রেট দিল, বলল রাস্তায় দেখে নেওয়া হবে, ডাক্তারদেরও। এরা সব প্রাইভেট নার্সিং হোমের দালাল, এইসব। অথচ বইয়ের বিভিন্ন লেখায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রাইভেটাইজেশনের বিরুদ্ধে, সরকারিভাবে সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারের দাবি মেটানোর কথাই বলা হয়েছে। সেসব না করে, সরকারি ব্যবস্থা অনেক শক্ত আর অল সবার জন্য না করলে কেবল প্রাইভেটের জন্য রেগুলেশন আক্ট আনলে, যাতে কিনা শতচ্ছিদ্র, কোন লাভ নেই, সেই কথাই বলা হয়েছে। কিন্তু কে শোনে কার কত্থা। ডাক্তার বনাম রোগির দিকে নজর ঘোরালে আর এখানে ওখানে তাপ্পিতুপ্পা দিয়ে গোড়ায় গলদ যতটুকু ঢাকা যায় আর কি। যায় কি আর !

    সেদিনের কনভেনশনে ডাক্তারদের বক্তৃতায় অনেক কিছুই শুনলাম। কোথাও খালি নেগেটিভ রিপোর্ট পাঠাচ্ছ্হে, মাইনাস করে বুঝে নিতে বলছে, কোনটা ডেঙ্গু পজিটিভ, তো কোথাও আবার খালি প্লেটলেট রিপোর্ট পাঠাচ্ছে, সেই থেকে বুঝে নিতে বলছে, এইসব।

    এবার দেশের বহুজায়গাতেই ডেঙ্গু বেড়েছে। নানা ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও তামিলনাRুতেও। কিন্তু এরকম ডাটা সাপ্রেস করার চেষ্টা বোধহয় আর কোথাও এমন নেই। আর হ্যাঁ, তানা র মত জনস্বাস্থ্য থাকলে কেস বা মৃত্যু আরো কম হত বলে মনে করি।
  • s | ১১ নভেম্বর ২০১৭ ০০:০৯714162
  • ইতিমধ্যে। মুষলপর্ব শুরু হচ্ছে।
  • | ১১ নভেম্বর ২০১৭ ১৪:৪৫714163
  • তাহলে
    ডেলোর কেলো
    মিথ্যা
    নয়!

    আর এ দিকে

    সবথেকে বড় প্রশ্ন হল, “বিশ্ববাংলা তুমি কার ? অভিষেক, রাজ্য সরকার নাকি মমতার ?”
  • | ১১ নভেম্বর ২০১৭ ১৪:৪৬714164
  • তথ্য যা বলছে
    সময়টা ২০১৩ সাল। ২৬ নভেম্বর। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের অধীনে থাকা অফিস অফ কন্ট্রোলার জেনেরাল অফ ট্রেড মার্কস অফ পেটেন্ট (Office of controller general of Trade Marks and Patents) দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। তাঁর আবেদন ছিল, বিশ্ববাংলা লোগো (যা রাজ্য সরকার নিজের ব্র্যান্ডিংয়ের কাজে লাগাবে বলে ঠিক করেছিল) যেন তাঁর নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
    কী লেখা হয় আবেদনপত্রে ?
    Proprietor name: Abhishek Bannerjee
    Status: single
    Address: 30B Harish Chatterjee Street
    Kolkata 75
    আবেদন করা হয়েছিল এই মাধ্যমে
    C.J Associate
    6A Kiron Shankar Roy Road, 2nd Floor
    Kolkata 1
    এই আবেদনপত্র নাকচ করে দেওয়া হয় ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ। আজ পর্যন্ত এই আবেদনকে অপোজ়ড (opposed) স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। একই দিনে একবার নয়, টানা আটবার এই আবেদন করেন অভিষেক।
  • রোবু | ১১ নভেম্বর ২০১৭ ১৮:৫৯714165
  • আপনিও আসুন,
    সকলকে আসতে বলুন!!

    আগামী মঙ্গলবার
    (১৪/১১/১৭)
    ডাঃ অরুনাচল দত্তচৌধুরীকে
    বেআইনি অপসারণ এর প্রতিবাদে
    ও স্বাস্থ্যের অধিকারের দাবিতে
    মিছিল ও বিক্ষোভ সভা।
    বিধাননগর (সল্টলেক) সেন্ট্রাল পার্ক,
    নেতাজী মুর্তি থেকে দুপুর একটায়
    মিছিল শুরু হয়ে স্বাস্থ ভবনের সামনে যাবে। অরাজনৈতিক এই মিছিলে আপনিও স্বাগত।
    আপনার সাথেই উক্ত মিছিলে
    উপস্থিত থাকবেন সমাজের সকল স্তরের
    প্রতিবাদী মানুষ।
    WBDF
  • | ১১ নভেম্বর ২০১৭ ১৯:৪২714166
  • s | ১১ নভেম্বর ২০১৭ ২২:৪৭714167
  • এদিকে কুনাল ঘোষ কাগজ কলম দেখিয়ে বলছে যে মুকুল থাকাকালীন পার্টী ফান্ডে কি কি ব্ল্যাক মানি ঢুকেছে (গৌতম দেবের কুপন পোড়ানো ইনক্লুডেড)।
  • | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ০০:২৫714168
  • কুনাল বাবুর নিজেই পোষ্ট করেছেন উনার ফে বু ওয়াল এ রইল ..
    শনিবার সাংবাদিক বৈঠক।
    মুকুল রায়কে অনুরোধ, তৃণমূল সংক্রান্ত কয়েকটি বিতর্কিত প্রসঙ্গের জবাব আপনি স্পষ্ট করে দিন। যেহেতু আপনি ছিলেন তৃণমূলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, দয়া করে এখন জবাব দেওয়ার দায়িত্ব পালন করুন।
    1) পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন মুকুলদা জনপ্রতিনিধি কেনাবেচা করতেন। মুকুলদা বলুন কেন করতেন, বিনিময়মূল্য কী ছিল?
    2) সিপিএমের গৌতম দেব তৃণমূলের বিরুদ্ধে কুপন কেলেঙ্কারির অভিযোগ করেন। মুকুলদা এখন ব্যাখ্যা করুন।
    3) চিটফান্ড কেলেঙ্কারি বললেই কেবল সারদা সারদা করা হয় কেন? রোজ ভ্যালি থেকে আইকোর, কেন এসব নাম আসে না? কেন অ্যালকেমিস্টের মালিককে সিবিআই, সিআইডি গ্রেপ্তার করে না, মুকুল রায় বলুন।
    4) তৃণমূলের আর্থিক হিসেবে 9 কোটি 18 লক্ষ 84 হাজার 115 টাকার বিতর্ক আছে। যেসব সংস্থা বা ব্যক্তি এই টাকা দিয়েছিল, সেখানে স্বচ্ছতা নেই। তদন্তের অবকাশ আছে। তার উপর তাদের খাতায় এই টাকার বড় অংশ ঋণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে এখন টাকা যদি তৃণমূল রাখে, তাহলে বিতর্কিত টাকার দায়ে পড়বে। অন্যথায় এখন টাকা ফেরত দিতে হবে। এটা রাজনৈতিক দলের পক্ষে বিপজ্জনক। তৃণমূল সমস্যায় পড়তে পারে। মুকুল রায় সেসময় দলে ছিলেন। ফলে কেন এমন পরিস্থিতি হল, মুকুল রায় ব্যাখ্যা দিন।
    আমার আরও বক্তব্য,
    মুকুল রায় বিজেপিতে যাওয়ায় দোষের কিছু নেই। রাজ্যে বামপন্থীরা এবং তৃণমূল, দুপক্ষই অতীতে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভোটে লড়েছে। এখন মুকুলদা গেলে দোষ কই? কিন্তু আমার প্রশ্ন এতদিন পর মুখ খুলছেন কেন মুকুলদা? আমার উপর যখন অত্যাচার চলছিল, তখন উনি কোথায় ছিলেন? কেন প্রতিবাদ করেন নি? আজ এখন কেন সরব? ওঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। কিন্তু কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যও আছে। উনি বিজেপি যোগ দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে ওঁর নতুন রাজনৈতিক জীবনে শুভেচ্ছা জানাই। তবে আমি তৃণমূলের পুরোন দিনের কর্মী বলেই এখনও মনে করি নিজেকে।
    এক প্রশ্নের জবাবে বলেছি- বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দক্ষ সংগঠক। তপন শিকদারের পর এত ভাল সংগঠক বিজেপি পায় নি। কিন্তু ওঁর ধর্মতলার সভার বক্তব্যের যে অংশ শুনলে মনে হচ্ছে ভুবনেশ্বর, পাটনা না যেতে চাইলে বিজেপিতে যেতে হবে, সেটায় ভুলবোঝাবুঝি হতে পারে। বিজেপি অন্য দল থেকে কাউকে নিতেই পারে। কিন্তু তার সঙ্গে তদন্তের সম্পর্ক মিললে মুশকিল। আমি তো সব তদন্তের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু এখন বিজেপির যদি অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়াটা দলে টানার অফারের মাপকাঠি হয়, সেটা দুর্ভাগ্যের। আমি দিলীপবাবুকে ফোন করে এবিষয়ে কথা বলব।
  • s | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:৪৬714169
  • ফেসবুকে জনৈক অভীক সরকারের লেখা।
    -------------------------------
    আমাদের বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের আর দশটা জিনিস থাক বা না থাক, বুদ্ধি বলে যে কিছু আছে এ অপবাদ কেউ দেবে না। ডাক্তার অরুণাচল দত্তচৌধুরী কাণ্ডে সদাশয় সরকার বাহাদুর সেটা একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।

    দাঁড়ান দাঁড়ান, দলমত নির্বিশেষে আমার দিকে আধলা ফুলের বাগান অথবা ঝাঁটার বোকে ছোঁড়ার আগে একবার পুরোটা পড়ে নিন প্লিজ।

    কি করেছিলেন ভদ্রলোক? ডাক্তার হওয়ার সুবাদে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতির অবর্ণনীয় দশা তুলে ধরেছিলেন। ইনি চাকুরীজীবন পার করে এসেছেন, এখন তাঁর পুত্রপৌত্রাদি নিয়ে নিশ্চিন্ত নিশ্ছিদ্র নিরন্তর অবসরসুখ উপভোগ করার কথা। তাও ইনি এখনও কাজ করে যাচ্ছেন, আমাদের মতন ফেসবুকে বুকনি-সর্বস্ব আর্মচেয়ার বিপ্লবে নিজেকে শামিল করেননি, নিজের সাধ ও সাধ্যমতো আর্তের সেবায় পরিশ্রম করে চলেছেন। যে ভীতিজনক পরিস্থিতি কলকাতা ও শহরতলিতে, মহার্ঘ হর্ম্যরাজি থেকে অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যে পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে রাজ্যসরকারের নাসিকাগ্র থেকে লেজান্ত অবধি গোবরাদি নানা পুরীষে মাখামাখি, সেই পরিস্থিতিতে নিজ কর্তব্য পালন করতে গিয়েই ভয়াবহ ডেঙ্গি পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছিলেন একটি পোস্টে। তাতেই বদলের মানদণ্ড পোহালে শর্বরী, দেখা দিল বদলাদণ্ডরূপে!

    আমাদের রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে উটপাখির খুবই মিল। বালিতে মুখ গুঁজে "না না, ও ডেঙ্গি নয়" বলে প্রাণপাত করে তারস্বরে চেঁচালেই ডেঙ্গিটা 'ফিভার উইথ থ্রম্বোসাইটোপিনিয়া' হয়ে যায় না, যেমন দামী প্যাস্টেলে ব্যাঙের পৌষ্টিকতন্ত্র আঁকলেই কেউ পাবলো পিকাসো হয়ে ওঠেন না, 'হাব্বা হুব্বা অম্বা' টাইপের প্রলাপ লিখেই কেউ সাহিত্যরথী হয়ে ওঠেন না!

    পুরো ব্যাপারটার মধ্যে এতো মোটাদাগের গা জোয়ারি মার্কা গুণ্ডামির ছাপ রয়েছে, যে চট করে লালুর বিহারের কথা মনে পড়ে যাওয়া বিচিত্র নয়। কোনও সুস্থ রাজনৈতিক বুদ্ধির মানুষ হলে তিনি সর্বসাধারণ্যে ঘোষণা দিতেন, " বন্ধুরা, রাজ্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর মোকাবিলা করি।" জনমত এতে শাসকের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হতো, "আহা, ওরা তো আর মশা আমদানি করছে না। চলো না, আমরাও চেষ্টা করি রাজ্যসরকারকে সাহায্য করতে।" ঠিক যে কারণে ভোটের আগে যুদ্ধ হয়, যাতে লোকে দেশ আর সরকারের মধ্যে গুলিয়ে ফেলে।

    সিপিএম এই কাজটা প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছিলো, নিজেদের যাবতীয় ব্যর্থতা, অকর্মণ্যতা নিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে জনগণের কাছে উপস্থিত হতো, কাল্পনিক 'কেন্দ্রের বঞ্চনা ' আর ' মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র ' নামের ভুতুড়ে কাকতাড়ুয়া দেখিয়ে। নইলে ' রক্ত দিয়ে গড়বো বক্রেশ্বর' মার্কা গালগপ্প এতদিন ধরে বাঙালিকে খাওয়ানো যে অতি উঁচুদরের জালিয়াতির চিহ্ন সে কথা অনস্বীকার্য। সেখানে আমাদের শাসকদল কি করলেন, না ডেঙ্গি যে হয়েছে, এই ব্যাপারটাকেই অস্বীকার করে বসলেন! গণ্ডমূর্খ আর কাকে বলে। এই যদি আশি কি নব্বইএর সিপিএম হতো, এতদিনে ডেঙ্গি নিবারণে কেন্দ্র কেন সাহায্য দিচ্ছে না, কি করে মশকনিধনদ্রব্যাদি প্রস্তুতিকারী কম্পানীগুলির কাছে কেন্দ্র সরকার বিকিয়ে গেছে এ নিয়ে মিছিল, হরতাল, সেমিনার, শ্বেতপত্র, স্ট্রিট কর্ণার, জাঠা ইত্যাদি অলীক কুনাট্যরঙ্গে নেচেকুঁদে একশা করে পাবলিককে ভুলিয়েই দিতো যে স্বাস্থ্য ব্যাপারটা আদতে রাজ্যের অধীনে পড়ে। এইধরণের গণসম্মোহন তৈরি করে পাবলিককে ভাঁওতা দেওয়া শিখতে তৃণমূলের আরও একশো বছর লাগবে।

    কিংবা কে বলতে পারে, হয়তো একশো বছরেও শিখবে না। আমার পরিচিত এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক সিপিএম জমানা আর তৃণমূল জমানার পার্থক্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, " তফাৎ শুধু এই যে সিপিএমের পেটে কিছু কালো কালির জল ছিলো।" অস্যার্থ, তাদের পেটে কিছু বিদ্যেবুদ্ধি ছিলো। এইরকমভাবে যাবতীয় অশিক্ষিত গুণ্ডামি আর গাম্বাটপনাকে সাব অল্টার্ন তত্ব, বা "বস্তির মেয়ের উত্থানের বিরুদ্ধে শিক্ষিত সমাজের গাত্রদাহ" বলে ঘোমটার আড়ালে খ্যামটা নাচের ঢালাও বন্দোবস্ত ছিলো না। কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা, আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সদাসর্বদাই ডিনায়াল মোডে আছেন! মাঝেমধ্যে তিনি " এ মশা কেমন মশা" টাইপের যা অদ্ভুতুড়ে যুক্তি দিচ্ছেন, শুনে সন্দেহ হয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ না অ্যলিস ইন ওয়াণ্ডারল্যান্ড? তার ওপর আজ দেখলাম কোথাও বিবৃতি দিয়েছেন, এই যে যুব বিশ্বকাপ ভালোভাবে সম্পন্ন হলো, কই সে নিয়ে তো কেউ কিছু বলছে না? আরে ধ্যার মশাই, আপনাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় কেন এনেছিলাম, সুস্থভাবে খেয়েপরে বেঁচেবর্তে থাকবো বলে না ফুটবল দেখবো বলে? কোনটা প্রায়োরিটি সেই বোধটাই কি আপনার নেই?

    অতএব সম্পূর্ণ অকারণে এই বৃদ্ধ চিকিৎসককে সাসপেণ্ড করে কি মোক্ষলাভ হলো সরকারের? এতে তিনি শহীদের মর্যাদা পেলেন, জনমানসে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করার আরেকটি কারণ খুঁজে পাওয়া গেলো। ডাক্তার অরুণাচল দত্তচৌধুরী ঘোর সিপিএম সমর্থক, সেটা তো তাঁর দোষ নয় মশাই! তিনি নাকি ফেসবুকে রাজ্যসরকারের বিরুদ্ধে লিখেছেন। সেটা কি তাঁর বাকস্বাধীনতার মধ্যে পড়ে না? সেরকম ধরলে তো গাঁ উজাড় হয়ে যাবে দাদা। বরং এইবার যাঁরা ওঁর লেখা পড়েননি, তাঁরাও পড়বেন। রাজ্যসরকার প্রকারান্তরে যে লেখা লেখার জন্যে ওঁকে শাস্তি দিলেন, সেই লেখাকেই এবার সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে দাবানলের মতো রাজ্যের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে পরতে সাহায্য করলেন! অবোধের গোবধে আনন্দ আর কি!

    আর সার্ভির রুলবুকের কথাই যদি বলেন, রাজ্যের প্রধানের পক্ষে তো প্রকাশ্যে ধর্মাচরণ করাও সংবিধানের নিষিদ্ধ, সেই কথাটা হিম্মত করে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ও বাকি মন্ত্রীদের বলতে পারবেন তো? আর আমাকে যদি প্রশ্ন করেন, " ভাই, তুমি তো কর্পোরেটে আছো। সোশ্যাল মিডিয়াতে তোমার কম্পানীর নিন্দেমন্দ করলে কি করে?" সবিনয়ে জানাবো যে, (১) সেসব ক্ষেত্রে কেবিনে ডেকে কড়কে দেওয়া হয়, কোনও কম্পানিই ছড়িয়ে ছত্রাখান করে না। (২) প্রাইভেট কম্পানি আর রাজ্য সরকারের মধ্যে অত সহজ সমীকরণ করবেন না প্লিজ। সেরকম হলে কাল থেকে রাজ্য সরকার শুধু প্রফিট দেখবে, আর দফতরে দেরিতে আসলেই আর তাস খেলতে দেখলেই ছপটি মারতে মারতে কান ধরে বাইরে বার করে দিয়ে আসবে। মানতে পারবেন তো?

    আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাচ্ছি যে আমি অরুণাচল বাবুর পাশে আছি। আমার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মত সম্পূর্ণ ভিন্ন, কিন্তু তাঁর মতামত জানাবার অধিকার রক্ষা করাটা আমার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। কারণ সুস্থ মতবিনিময় ও আলোচনার পরিসর ঘিরেই গণতন্ত্র অঙ্কুরিত হয়, এবং সেই গণতান্ত্রিক অধিকারের স্বার্থেই আমি তাঁর পাশে দাঁড়াবো। নইলে আমি জানি না, এই আক্রমণ কবে আমার ওপর নেমে আসবে। এখানে "ওদের সময় ওরা যে করতো" টাইপের যুক্তি অবান্তর। ওরা করতো বলেই না আপনাদের ক্ষমতায় এনেছি, না হলে ওদের আর আপনাদের মধ্যে তফাৎ কি রইলো? আর "চৌত্রিশ বছরে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য " ব্যবস্থা মার্কা কুযুক্তি দেবেন না, দোহাই লাগে। আপনারা বলছেন যে ডেঙ্গি হয়ইইনি..ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বেহাল কি না, তাতে কিছু এসে যায় না, তাই না? আর চৌত্রিশ বছরে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে কেন এই ভদ্রলোককে সাসপেন্ড করা হলো, তারও কোনও সদুত্তর আশা করি পারবেন না। সতর্ক ব্যাটিং করছেন করুন, দয়া করে হিট উইকেট হবেন না যেন।

    সিপিএমের দুর্ভাগ্য, তাদের একজন মমতা ব্যানার্জী নেই। মমতা ব্যানার্জীরও বড় দুর্ভাগ্য, তাঁর একজন অনিল বিশ্বাস নেই। তাঁর স্তাবকবৃত্তে কেউ বলার নেই যে তিনি বিচ্ছিরি লেখেন, জঘন্যতম আঁকেন। তাঁকে কেউ শুধরে দেওয়ার নেই যে ডহরবাবু বলে কেউ নেই, রাকেশ রোশন চাঁদে যাননি, বেলেঘাটায় মহাত্মা গান্ধীর অনশন ভাঙার সময় রবীন্দ্রনাথ বেঁচে ছিলেন না।

    আমাদের দুর্ভাগ্য তাঁকে বলে দেওয়ার কেউ নেই যে ডেঙ্গির মশা যখন কামড়ায়, তখন কিন্তু শাসক বিরোধী দেখে কামড়ায় না!
  • s | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৪৮714170
  • অন্য স্বাদের ফিশফ্রাই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন