তরমুজবড় তাড়াতাড়ি সরলীকরণ করছেন।
আইনস্টাইন, হেগেল কান্ট, মার্ক্স, ব্রেখট সবাই পুঁজিবাদী সমাজে জন্মেছেন। নীলস বোর, ওপেনহাইমার এবং আজকের পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন ও চিকিৎসাবিদ্যার যত কিছু যুগান্তকারী আবিষ্কার সব পুঁজিবাদী সমাজেই হয়েছে।
তাহলে আপনার বক্তব্যের ভিত্তি কী?
পুঁজিবাদী সমাজে খালি টেকনোলজি নয়, বিশুদ্ধ জ্ঞান চর্চার জন্যেও আর্থিক বিনিয়োগ হয়।
২ বিজ্ঞান অবশ্যই যুক্তির সহায়তা নেয়, কিন্তু যুক্তি মানেই বিজ্ঞান নয়। কার্য কারণ সম্পর্ক মানেই বিজ্ঞান নয়, যদিও ওগুলো ছাড়া বিজ্ঞানের চর্চা অসম্ভব।
৩ সমস্ত দর্শনেই নিজস্ব যুক্তি আছে। প্রমাণ ও ভ্রান্তি/হেতু ইত্যাদির চর্চা আছে।
এমনকি বেদান্তেও আছে। নাগার্জুনের মাধ্যমিক দর্শনে আছে। ন্যায় দর্শনে আছে। বুদ্ধের প্রতীচ্যসমুৎপাদ তত্ত্ব ওনার দর্শনের কার্য ও কারণের যুক্তি পরম্পরা।
৪ মার্ক্সবাদও দর্শন। তাই তারও যুক্তি নিয়ে আলোচনা আছে। কিন্তু মার্ক্সবাদ একটি মতাদর্শ, যেমন হিন্দুত্ব একটি মতাদর্শ বা ইডিওলজি। কোন ইডিওলজি পুরোপুরি বিজ্ঞান পদবাচ্য নয়। দর্শন মানব বিজ্ঞানের একটি শাখা। অর্থনীতিও তাই। এগুলো আমাদের অমাজকে বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু বিজ্ঞান নয়।
৫ অন্তিম বিচারে মার্ক্সবাদও ধর্ম, নিরীশ্বরবাদী ধর্ম। যেমন হারারি বলেছেন--মার্ক্সবাদের সেক্রেড বুক আছে, প্রফেটও আছে। এবং তার ভক্তরা তার কোন উপপাদ্যকে ভুল বলে স্বীকার করতে চায় না।
৬ এংগেলস মার্ক্সের সমাজবাদকে তাঁড় সমসাময়িক অন্য সব সমাজবাদের তুলনায় বৈজ্ঞানিক বলেছেন --কারণ ওগুলো চিন্তাবিদের সদিচ্ছার ফল মাত্র-যেমন ফেবিয়ান ও ক্রিশ্চান সমাজবাদ। ওগুলো কাল্পনিক বা ইউটোপিয়।
কিন্তু মার্ক্সের সমজবাদের ধারনা ব্যক্তির শুভ চিন্তা নিরপেক্ষ, সাপেক্ষ নয়।
অর্থাৎ উনি দেখাতে চেয়েছেন (উৎপাদিকা শক্তি ও উৎপাদন সম্পর্কের দ্বন্দ্বকে ভিত্তি করে) সমাজবাদ মানব সমাজের ভবিতব্য, যা আপনার আমার চাওয়া না চাওয়ার উপর বা কারো হৃদয় পরিবর্তনের উপর নির্ভরশীল নয়। ভালো কথা।
তাতে মার্ক্সিজম বিজ্ঞান হয়ে যায় না।