আরেকটি জিনিস আমার বরাবরই মনে হয়েছে, যে সাম্যবাদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অবস্থান বা কোমও ধর্মের মেম্বারশিপও একটা বড়োসড়ো অন্তরায়। আমি য়িহুদি, তুমি জৈন, উনি হিন্দু, তিনি মুসলমান— প্রত্যেকের আলাদা ক্লাবের মেম্বারশিপ। একসঙ্গে বেঙ্গল ক্লাব, টলিক্লাব ও ক্যালকাটা ক্লাবের মেম্বার হওয়া যায়, ধর্মীয় মেম্বারশিপ ওভাবে হয় ই না।একসঙ্গে আমি দশটা দেশের নাগরিক হতে পারব, কিন্তু একই সঙ্গে দুটো ধর্মের মানুষ হিসেবে পরিচিত হতে পারব না। এগুলো চালু করাও যাবে না অদূর ভবিষ্যতে।
এথেইস্ট বা অ্যাগনস্টিক হওয়াটা অন্য ব্যাপার।
ধর্মীয় মেম্বারশিপ অনেকটা বিয়ে করার মতো, ডিভোর্স দিয়ে অন্য কারোকে বিয়ে করা যেমন।
আবার দ্বিতীয় যে পয়েন্টটা, সেটা ভাষা— অর্থাৎ মাতৃভাষা, সেটাও বিভিন্ন মানুষের আলাদা আলাদা ভাষাভিত্তিক পরিচয়। সকলের তো এক ভাষা নয়। জোর করে সকলের জন্য একটাই ভাষা চাপিয়ে দিলেও সমস্যা থেকে যাবে। ওর উচ্চারণ অন্য, তার ডায়ালেক্ট কেমন যেন বিচ্ছিরি শুনতে, এসবও অসাম্য তৈরি করে।
রোটি কাপড়া মকান অস্পতাল শিক্ষা, এগুলো বেসিক নীডস, কিন্তু সাম্য আলাদা জিনিস এবং ভয়ানক গোলমেলে।
এলজিবিটিকিউ+ রাই সাম্যের জন্য কেউ সামনাসামনি কেউ আড়ালে আবডালে থেকে লড়াই চাচ্ছেন, কিন্তু পাচ্ছেন কতটা? মেয়েরা সমান অধিকারের জন্য লড়তে গেলে তাদের মুখ বন্ধ করবার জন্য লোক কম পড়ে না।
তাই বলে কি সমান অধিকারের জন্য মানুষ লড়াই করবে না? সেটাও চয়েস, ব্যক্তিগত পছন্দ। কেউ চাইবে, কেউ চাইবে না।
আমাদের তরমুজ স্যার বয়সে নিতান্তই নবীন বলে মনে হয়, জীবনের অভিজ্ঞতাও তেমন গভীর নয় বোঝা যায়, উনি এই বিষয়টা নিয়ে পড়াশুনো করে ব্যাপক উৎসাহিত, সবই বুঝলাম। আরেকটু সময় যাক, অভিজ্ঞতা ও পড়াশুনোর মিশ্রণ একটু জারিত হোক, কিছুটা থিতোক, দুনিয়াটাকে আরও হাতে কলমে উনি বুঝতে থাকুন, তারপরে পরিণত মানের লেখা উনি এ বিষয়ে অবশ্যই লিখবেন বলে আশা রাখি।