সোশ্যাল মিডিয়ায় বসে জ্ঞান দেওয়া আর নিত্য নতুন কনস্পিরেসি থিওরি খুঁজে বার করা খুবই সোজা। সিজেপি র মুখপাত্র রা নিজেরা কেন মার খেলোনা ইত্যাদি প্রশ্নে এই প্রোটেস্টকে লঘু করার চেষ্টা অত্যন্ত বিরক্তিকর। এরকম উপস্থিতি, এত লোকের, এটা একটা দুদিনের ভার্চুয়াল পার্টির পক্ষে করা সম্ভব নয়। এমনকি সবচেয়ে ধনী পার্টির মহামানবের র্যালিতেও আজকাল পয়সা দিয়েও লোক আনতে পারেনা।
এরকম একটা অর্গানিক প্রটেস্ট দিল্লি কোনোদিন দেখেনি। অভিজিৎ আশুতোষ এরা যে কোনোদিন বিদেশে গিয়ে কেরিয়ার বানিয়ে সেটল করতে পারে, সৌরভ একজন প্রতিষ্ঠিত আইনী জার্নালিস্ট। তারা আপের সঙ্গে ছিল এককালে। তাতে কী? আপের সঙ্গে সেই আমলে প্রচুর শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা সেসময় আপের আন্দোলনে শামিল হয়েছিল, আপ কে চিরাচরিত রাজনৈতিক দলের থেকে আলাদা মনে করে।
আন্দোলন কে করল, কারা এল, সেগুলোর থেকেও আজকে যা জরুরী তা হল কী কারণে আন্দোলন, একমাত্র সেজন্যেই এত লোক, এত ছেলেমেয়েরা কাল দিল্লি এসেছে, ইস্যু গুলো রিয়্যাল বলে।
সারা দেশ জুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার যা হাল তা যদি আগের আমলে হত, তাহলে আমাদের মত সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলেমেয়েরাও কোনোদিন উঠে দাঁড়াতে পারতাম না। সরকারি স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে, মিড ডে মিল প্রকল্প ধ্বংস করছে, ইউজিসি নিট কলেজ এন্ট্রান্স সবেতে ঘাপলা।.... শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলন অনেক আগে থেকেই হওয়া উচিত ছিল। সিজেপি এই শুরুটা তো করল। হিন্দু মুসলিম ধর্ম থেকে সরে এদেশে যে শিক্ষাও একটা ইস্যু হতে পারে হওয়া উচিত তা দেখিয়ে দিল।
কালকে পুলিশের বর্বরতা, বাচ্চা ছেলেমেয়েদের প্রতি যে নিষ্ঠুর আচরণ তাতেই বোঝা যায় যে সরকার কতটা মরিয়া, কী পরিণাম দুর্নিতী চলছে শিক্ষাক্ষেত্রে।
মার যারা খেয়েছে তারা বাচ্চা ছেলেমেয়ে, সীজনড প্রোটেস্টার বা পার্টির কর্মী রা জানে কী করে এগুলো এড়াতে হয়, কিন্ত এরা জানত না। ওয়াটার ক্যানন ছিল, তা না ব্যবহার করে প্রথমেই টিয়ার গ্যাস। তার কেমিকেল রিয়্যাকশন হয়ে গেছে লোকের হাতে। যারা হয়ত বাড়িতে বাবা মার হাতে মার খায়নি কখনো তারা এভাবে পুলিশের আর পুলিশ টিমের সাথে লুকানো আর এস এসের গুন্ডাদের হাতে নির্মম লাঠির বাড়ি খেলো।
জাস্ট ধিক্কার ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই এই প্রশাসনের জন্যে। আর যারা এখন এই দুনিয়ার কনস্পিরেসি থিওরি কপচাতে আসবে তাদের জন্যে কিছুই বলার নেই।