ভাত খেয়েছি, পেট ভর্তি, এখন হালকা চা চালাই। কী বলেন? আচ্ছা, ওই যে ধর্মেন্দ্র প্রধান মহাশয়, NEET-এর পেপার লিক করে দিনের পর দিন পার করছেন, অথচ পদে বসে আছেন মহারাজার মতো—এ ব্যাপারটা অনেকটা আমার চায়ের চুমুকের মতো প্রথম চুমুক: ‘জবাবদিহি’ মানে কি চায়ের বিল মাফ?
বলুন তো, আমরা চায়ের দোকানে বসে যদি ভুল করে ‘দুধ চা’-র বদলে ‘লেবু চা’ অর্ডার করি, আর দোকানদার ‘লেবু চা’-ই দিয়ে দেয়, দোষ কার? ওর, না আমার? আমার দোষ কারণ আমি বলিনি,। কিন্তু যদি দোকানদার কয়েকশো টাকার চা বানিয়ে ফেলে আর আমি টাকা দিতে না চাই, তাহলে তো দোকানদারকে ইস্তফা... ও মাফ করো, এই বললে ছেড়ে দেবে?
এই সরকারের ‘অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ কিন্তু এর চেয়েও কম। ২০১৪ থেকে দেখছি, NEET লিক হোক, UGC-NET বাতিল হোক, CBSE-র মার্কিং গোলমাল হোক—কোনো মন্ত্রী ইস্তফা দেন না। বলবেন, ‘স্যার, ইস্তফা দিলে তো সিস্টেমের দুর্বলতা স্বীকার করা হবে!’ আরে ভাই, সিস্টেম তো কাঁচা আমলা-পাকা আমলায় এমনিতেই ঢলে পড়ছে, কিন্তু এই স্বীকারোতি না করা যেন আমার সেই বন্ধু, যে বলে ‘আমি ফেল করিনি, সিস্টেম ফেল করেছে’।
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরালে যে ‘দায় নেই’-এর এই দেওয়াল ভেঙে যায়, তাই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। আরে, এত সাবধান! যেন চায়ের কাপে ইঁদুর পড়ে গেছে, কিন্তু আমরা বলছি ‘আরে, ইঁদুরটা ইচ্ছা করে সাঁতার কাটছিল, কাপ নষ্ট হয়নি!’
দ্বিতীয় চুমুক: ‘মোদিজি যে ফিল্মের হিরো, তাতে ভিলেনও হিরোকে বাঁচায়’
এখন মোদিজির কথা না বললেই নয়। তিনিই তো ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ করেন, ছাত্রদের বলেন ‘বাবা-মায়ের চাপ নিও না’। কিন্তু যখন এত বড় পেপার লিক হয়, তখন তিনি যেন হিমালয়ের ওপারে যোগাভ্যাস করতে চলে যান! আর ধর্মেন্দ্র প্রধান হচ্ছেন তাঁর সেই ডাবল (stunt double)। ডাবল মানে, বিপদ এলে তাকে সামনে দাঁড় করানো, কিন্তু পর্দা নামলে হিরো আসে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বাঁচিয়ে রাখার পেছনে সবচেয়ে হাস্যকর কারণ হলো ‘মোদির ব্যক্তিগত ইমেজ’। মানে, দাদা শিক্ষা ব্যবস্থার নাবিক, নৌকো ডুবছে, কিন্তু নাবিকের ক্যাপটা যেন ঝরে না পড়ে, সেজন্য ক্যাপটাকে সেফটিপিন দিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে। আসলে, প্রধানকে সরালে স্বীকার করতে হয়, ‘হ্যাঁ, আমার তত্ত্বাবধানেও সিস্টেম ফেল করেছে’—এটা তাঁদের ‘সব ঠিক আছে, স্যার’—এই ডায়লগের সাথে যায় না।
আমার তো মনে হয়, মোদিজি যদি ‘এক্স’-এ (ওহ, টুইটার) বলতেন, “পেপার লিক নতুন জেনারেশনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ!” তাহলেও হতো। কিন্তু তিনি নীরব। আর ধর্মেন্দ্র প্রধান সেই নীরবতার পাহারাদার। ওহে পাহারাদার, তুই থাক, না থাক—তোর হাতের কাজই হলো হিরোকে বাঁচানো। কিন্তু হিরো কিন্তু বলে, ‘আমি অমর, ডাবলকে ব্ল্যাকমেইল করো, ইস্তফা দিতে দেব না!’
তৃতীয় চুমুক: ‘ওড়িশা মানে ধর্মেন্দ্র, আর ধর্মেন্দ্র মানে ওড়িশা—বাপ রে, এত ওজন!’
এবার মজার ব্যাপার হলো ‘ওড়িশা ফ্যাক্টর’। ২০২৪-এ ওড়িশায় BJP-র জয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের বড় ভূমিকা আছে। তাই তাঁকে সরালে দলের ভারসাম্য নষ্ট হবে!
এই যেন আমার পাড়ার বাবুর সেই পুরনো গাড়ি। গাড়ি চলবে না, ধোঁয়া ছাড়বে, চাকা খুলে যাবে, কিন্তু বাবু বলেন, “গাড়িটা আমার ভাগ্যবান, এটা না চালালে আমার সকালের চা জমে না।”
এখানেও তাই। শিক্ষা মন্ত্রকের অবস্থা করুণ, কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরালে ওড়িশায় অস্থিরতা তৈরি হবে। মানে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দিয়ে ওড়িশার রাজনৈতিক থার্মোমিটারের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে!
আমি বলি, যদি শুধু ওড়িশার জন্যই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হয়, তাহলে ওড়িশার বিরোধী দলকে বলে দাও, “ভাই, তোমরা চুপ করো, আমাদের এখানে পেপার লিক মানে রেওয়াজ, আর ওড়িশা মানে তাঁদের উত্তরাধিকার!”। আরে, একটু হাসি নয়? একটা রাজ্যের দলীয় স্বার্থে গোটা দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা যদি ‘লটারি’ হয়, তাহলে তো ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘জাতীয় লটারি কমিশনার’ বানিয়ে দেওয়া উচিত!
চতুর্থ চুমুক: ‘বিরোধীদের জয়’ দিতে না চাওয়া—আমার দাদার ‘আমি হারি না’ মন্তব্যের মতো
আমার এক দাদা আছেন, দাবা খেলতে গেলে ম্যাচ জিতলে বলেন “আমি অসাধারণ”, আর হারলে বলেন “ওহ, আমি তো তোমাকে বুঝতে দিয়েছিলাম, আসলে খেলাটা বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করেছিল!”
ঠিক এই ডায়ালগই এই সরকার ব্যবহার করছে। বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠন রাস্তায় নেমেছে, আন্দোলন করছে, কিন্তু সরকার বলছে, “ইস্তফা দিলে তো বিরোধীদের ‘জয়’ হয়ে যাবে!”
আরে, ভাই, বিরোধীদের জয় মানে তো জনগণের জয়। তুমি জনগণের জয় দিতে চাও না, কিন্তু জনগণের কান্না তো রাস্তায় বয়ে চলেছে!
আমার মজার কথা হলো, এই সরকার ইস্তফা না দিয়ে যেন বলে, “আমরা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে উইকেট দিতে চাই না, বোলার ওভার করুক, রান যাই হোক, !”
তাই তাঁরা বলছেন, যতদিন এই আন্দোলন নেহাত গপ্পো না হয়ে ‘নেতাজি’ আকার না নেয়, ততদিন ধর্মেন্দ্র বসে থাকবেন। বসে থাকার সময় যদি চা খান, এক কাপ পাঠান আমাদেরও!
শেষ চুমুক: ‘রাজনীতি আর আদর্শ, দুটোই যেন চায়ের দোকানের বিড়ি-সিগারেট’
সত্যি বলতে কি, ধর্মেন্দ্র প্রধান থাকবেন কি যাবেন, সেটা আসলে শিক্ষার্থীদের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় না, কারণ পুরো সিস্টেমটাই যেন ‘লিকি’ (leaky)। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দশা এমন, যেন পুরনো টিনের চাল—বাইরে বৃষ্টি, ভেতরে ঝরনা। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধান হচ্ছেন সেই ছাদ ঠিক করার ‘মিস্ত্রি’, যিনি বলেন, “ছাদ ভাঙছে না, এটা ফেং শুই ঠিক করার জন্য জল পড়ছে।”
আমার মজার পর্যবেক্ষণ হলো, রাজনীতিতে ‘দায়িত্ব’ মানে আজকাল ‘বিড়ির পোঙ্গা ফেলার টাকা দিয়ে চা খাওয়া’—পকেটে থাকে, খরচা হয়, কিন্তু হিসেব কেউ জানে না। যতদিন জনরোষ ‘স্ট্রং’ না হয়, ততদিন ইস্তফা মানে শুধু ‘ওয়ার্ড প্রসেসিং’ খেলায় বাদ পড়া—যা তাঁরা খেলতে চান না।
চায়ের বিল:
কাপ শেষ। একটু সিরাপের মতো লাগছে এই যা। [চাওয়ালার বৌ নির্ঘাত একে ছেড়ে যাবে ]যা হোক
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বাঁচিয়ে রাখার মানে হলো—পুরো ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য একটা ডাস্টবিনের দরকার, আর সেই ডাস্টবিন হচ্ছেন তিনি। মোদিজির চশমা ঠিক রাখার জন্য, ওড়িশার ভোটের ভোটারদের খুশি রাখার জন্য, বিরোধীদের ডায়ালগ দেওয়ার জন্য—এঁকে এখন পদে রাখাই ভালো। কিন্তু আমরা চা খেতে খেতে মজা পাই, কেননা আসল ‘পেপার লিক’ তো আর থামছে না।
যতদিন এঁরা ইস্তফা দেবেন না, ততদিন —“দাদা, আরেক কাপ দাও, ইস্তফার চেয়ে চা বেশি গরম!”