এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  নাটক

  • চাগ্রীর গপ্পো

    সে
    নাটক | ১৩ নভেম্বর ২০১৪ | ৩০৮৩৭ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কল্লোল | ১৭ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:৩৭652417
  • উইন্ডসর বার। ওঃ কতোকাল আগেকাত কথা মনে পড়িয়ে দিলেন সে। ১৯৯৬ থেকে ২০০০।
    উইন্ডসর বারটা উঠে গেছে। আমার খুব প্রিয় জায়গা ছিলো। আমি অবশ্য দিনের বেলায় যেতাম। কাছেই আমার অপিস ছিলো।
    খুব ভালো লাগতো চিনা মাটির বাসন ভাঙ্গা দিয়ে করা মেঝে আর দেওয়াল। আর মাথা উপর ছাদটা সরিয়ে নেওয়া যেতো। অনেকটা দোকানের সামনের ঝাঁপের মতো। তারপর সিঁড়ি দিয়ে দুধাপ উঠে মাথার উপর ছাদওয়ালা বসার জায়গা। দেওয়ালে ওমর খৈয়াম-সাকি টাইপের বিচিত্র ম্যুরাল। একবার ঐ ম্যুরালটা আবার নতুন করে করার জন্য একজন শিল্পী এসেছিলেন। বিকেলের দিকে অপিস কেটে যেতাম। তখন একেবারে স্ল্যাক পিরিয়ড চলে বারগুলোতে। শিল্পীকে ডেকে নিলাম টেবিলে। ওঁর সেদিনের কাজ শেষ। তাও মালিকের অনুমতি নিয়ে আমার সাথে বসলেন। প্রচুর আড্ডা হলো। উনিই বক্তা আমি শ্রোতা। প্রচুর ছবি দেখেন ভদ্রলোক। ওঁর সাথে অদ্ভুত মিলে গেলো গণেশ হালুই নিয়ে। আমারও খুব প্রিয় শিল্পী। ভদ্রলোক খুব দুঃখ করতেন। উনিও আর্ট কলেজের ছাত্র, কিন্তু পয়সার ধান্দায় লেগে পড়তে হয়েছিলো, তাই শেষ করতে পারেন নি। যেমন হয় আরকি।
    খুব পুরোনো বার। মালিক সম্ভবতঃ পার্সি। তখন যিনি বসতেন তিনি থার্ড জেনারেশন। আমাদের বয়সী। ওনার বাবাকেও দেখেছি, মাঝে মাঝে আসতেন।
    এখন একটা আখাম্বা অপিস বাড়ি উঠেছে - কুৎসিত।
    এটার উল্টোদিকে একটা নবাব বাড়ি ছিলো। খুব সুন্দর ছিলো বাড়িটা। বাড়ি না বলে ছোট প্রাসাদ বলাই ভালো। ঐ নবাবদের ঘাটশিলায় একটা গেস্ট হাউস ছিলো। ওখান থেকে বুক করা যেতো। সেটাও খুব সুন্দর। একবার গেছিলাম।
    আশা কবি ঘেঁটে দিলাম না। উইন্ডসর বার পড়ে আর সামলাতে পারলাম না।

    সে, বসে আছি। তারপর?
  • সে | ১৭ নভেম্বর ২০১৪ ১৩:৫১652428
  • বাস ছুটে চলেছে রাতের রাস্তায়। পেছনের দিকের লেডিজ সীট প্রায় ফাঁকা। ভালো হাওয়া আসছে জানলা দিয়ে। বসে বসে আবার ঘুমিয়ে না পড়ি, অবশ্য কন্ডাক্টর জানে কতদূর যাবো। ঘুমিয়ে নেওয়াও যায়। এক ঘুম দিলে ক্ষতি কী? একঘুম বা দুঘুম। নাঃ জেগে থাকাই বরং ভালো। একেই আমি ক্লান্ত তায় মাতাল। অবশ্য খুব কিছু ক্ষতি কি আর হবে?
    হি'জ ফ্যাট অ্যান্ড স্ক্যান্ট অফ ব্রেথ। হি টা কে বদলে শী করে নিলে কেমন হয়? হবে না। শীদের হাতে তলোয়ার থাকে না। বাট শী'জ ফ্যাটটা এক্ষেত্রে মিলে যাবে। গরমে ঘামে চ্যাটচ্যাট করছি। তবে দম এখনো বেরোয় নি। আরো দম নিচ্ছি।
    এখন আবার নতুন করে সব প্ল্যান করতে হবে।
  • সে | ১৭ নভেম্বর ২০১৪ ১৫:৫৬652439
  • বাস থেকে নেমে আবার বাস বদল করে ফের নেমে এবার শুধু হাঁটতে হবে।
    অনেক রাত হয়ে গেল। সব কিছু শান্ত, আলো কম, আওয়াজ কম। আমি রাস্তা মনে করে করে হেঁটে চলেছি। বেশ খানিকটা চলবার পরে একটা পুকুর, তার মানে ঠিকই যাচ্ছি, আরেকটু হেঁটে একটা ছোটোমতো মাঠ, সেখানে একটাও ঘাস নেই, শুধু ধুলো আর ধুলো।
    এইখানটায় যদি অনেক গাছাপালা থাকত? বা একটা বাঁশঝাড়?
    তারপরে বৈশাখের এমনি এক রাতে সেখানে ক্রেনিয়াস গ্রহ থেকে অ্যাং এসে ল্যান্ড করত। এইসমস্ত চিন্তা আরকি। কোনো কন্‌স্ট্রাক্‌টিভ কিছু মাথায় আসছে না।
    আচ্ছা মনে করা যাক অ্যাং যদি এসেই পড়ে, তবে কিছু একটা তো সে আমায় দিয়ে যাবেই। অনেকটা শক্তি। যাকে বলে ক্ষমতা। সেই ক্ষমতা দিয়ে শক্তি দিয়ে কী করব সবার আগে? অনেক টাকা বানিয়ে ফেলব? তারপরে সেই টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনব? না ফ্ল্যাট কেন, গোটা একটা বাড়ি, ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি, তাজবেঙ্গলে খানাপিনা? আসার পথে বাস থেকে দেখছিলাম ইন্দ্রপুরীর মতো ঝলমল করছে তাজ। রাত যতো বাড়বে তত ব্রাইট দেখাবে। ওসব হোটেলে কোনো ক্লোজিং আওয়ার নেই। সব রাউন্ড দ্য ক্লক। কোথায় ঐ ভাটিখানার মতো উইন্ডসর, কোথায় তাজ। তাজে টেবিল বুক করে বেস্ট খাবার অর্ডার করব। বাকার্ডি দেখাচ্ছে। কুকুরের মতো পা চাটছে তন্দুরী চিকেন খাবে বলে। ওয়াক থুঃ!
    দামী গাড়ী থেকে নামব, সঙ্গে থাকবে প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড। গ্রুপ ফোর না কী বলে যেন? সেই গ্রুপ ফোর। আর্মড গার্ড। তারপরে সেই গার্ডদের সঙ্গে নিয়ে আমি ঢুকে যাবো কম্পাউন্ডের ভেতরে।
    না তাজ নয়, হোটেল নয়। আমি দেখতে পাচ্ছি একটা বাড়ি, লাল রঙের, তিনতলা। গেটে দারোয়ান আমাদের দেখে সরে দাঁড়ালো, আমরা গটগট করে হেঁটে চলেছি ভেতরে। বাড়িটার ভেতরে একটা মাঠ, সবুজ মাঠ। সেই মাঠ পেরিয়ে আরেকটা বাড়ি আরো কীসব যেন রয়েছে। স্বপ্নটা এই অবধিই থাকুক এখন। আমার বড্ড জল তেষ্টা পাচ্ছে।
  • de | ১৭ নভেম্বর ২০১৪ ১৮:০০652450
  • একসাথে পড়ে ফেল্লাম - দারুণ হচ্ছে!
  • Tim | ১৭ নভেম্বর ২০১৪ ১৮:০৩652461
  • এটা খুব ভালো হচ্ছে।
  • সে | ১৭ নভেম্বর ২০১৪ ১৮:৪৩652472
  • শনিবার সকালে ঘুম ভেঙ্গে মনে হলো আজ অফিসে না গেলে কেমন হয়?
    এত জঘন্য লাগছে এই চাকরীটা করতে, তবু বেরোনোর কোনো পথ পাচ্ছি না। অন্য চাকরী কে দেবে আমায়? কোথায় খুঁজবো? জনে জনে? প্রতিটি অফিসে গিয়ে গিয়ে?
    তড়াক করে লাফিয়ে উঠে তৈরী হয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
    হ্যাঁ আজ অফিসে যাবো দেরি করে, তার আগে চাকরি খুঁজবো। ঐ ঘিঞ্জি মধ্য কলকাতা আর না। একটা পছন্দের লোকেশান খুঁজে নিই আগে। ঘুরে ফিরে চলে যাই বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে। এই রাস্তাটার নাম করেছে প্রমথেশ বড়ুয়া সরণী। এইরকম রাস্তায় যদি আমার অফিস হোতো? শান্ত সুন্দর। আওয়াজ ধোঁয়া মানুষের চিৎকার সবই কম। আবার গাছও রয়েছে।
    লাভলক্‌! লাভলক্‌!
    চেঁচিয়ে ওঠে কন্ডাক্টার।
    নামবো নামবো।
    আরে আট্টু আগে বলবেন তো! এই লাবিয়ে দে। আ আ স্তে লেডিস্‌!

    রাস্তায় নেমে বেশ ভালো লাগে। এখন একটা একটা করে অফিস খুঁজে দেখবো। ঐতো সামনে একটা হলদে রঙের বাড়ী। লোহার গেট। গেট দিয়ে বেরিয়ে গেল দামী সাদা গাড়ি। ঢুকি এখানে?
    দারোয়ানকে বলি- ভেতরে যাবো।
    চলে যান ঐ সিঁড়ি দিয়ে উঠেই বাঁদিকে কাচের ঘর, ওটাই রিসেপশান

    বাহ্‌! কেউ বাধা দিলো নাতো।

    রিসেপশানে বসে আছেন এক ভদ্রলোক। ছেলে রিসেপশানিস্ট! তার সামনে আবার একটা প্রকান্ড ইপিয়েবিয়েক্স মেশিন।

    হ্যাঁ বলুন?
    আমি এসেছিলাম একটা চাকরির ব্যাপারে, মানে যদি কোনো ওপেনিং থাকে। আমি ..

    ভদ্রলোক হাঁ করে বিমর্ষ মুখে তাকিয়ে থাকেন আমার দিকে। তারপরে বলেন,
    আপনাকে আজকে আসতে বলেছে সাহেব?
    না।
    দাঁড়ান জেনে নিচ্ছি।

    উনি ফোন করেন ভেতরে কোথাও। আমি অনেকটা দূরত্ব রেখে দাঁড়াই পোর্টিকোর কাছে।

    শুনুন। এদিকে।
    হ্যাঁ বলুন।
    সাহেব তো আজ সময় দিতে পারবেন না, আপনাকে মঙ্গলবার আসতে বলেছে। এই ধরুন এরকম সময়ে? দশটা, সাড়ে দশটা?
    এই সামনের মঙ্গলবার?
    হ্যাঁ তিরিশে এপ্রিল।
  • সে | ১৭ নভেম্বর ২০১৪ ১৯:১৪652483
  • বেকবাগানের মোড় অবধি আমি যেন উড়ে চলি। উঃ! এই সামনের মঙ্গলবার আমার ইন্টারভিউ। ইপিয়েবিয়েক্সটা আরেকবার ঝালিয়ে নিতে হবে। স্যালারী কত চাইব সেটাতো বুঝতে পারছি না। আমার খরচ অবশ্য তেমন বেশি নয়। তবে সেই দিনটার জন্যে টাকা জমাতে হবে।
    ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ি, গাদা গাদা ভোগের জিনিস, লোভীর মতো খাওয়া - এসব অনেক দেখা হয়ে গেছে। ওসবে আর কোনো টান অনুভব করিনা।
    অফিসে যাই একবার। মাস তো শেষ হতে চলল। কামাই করলে মিস্টার ভৈশ যদি আবার মাইনে থেকে টাকা কেটে নেয়। বারোটার আগেই ঢুকে পড়বো অফিসে। একদিন লেট হলে কিছু বলবে বলে মনে হয় না।
    কী অদ্ভুত, চব্বিশ ঘন্টার ওপরে কিছু খাইনি তবু খিদে পাচ্ছে না।

    অফিসের মুখটায় দেখলাম সেই মেরুন ফিয়াট। তার মানে ভৈশ্‌ ভেতরেই আছে। পুষ্পিতা সীটে নেই। আমাদের অফিস ঘরে ঢুকে দেখলাম সবাই কেমন যেন চুপচাপ।
  • b | ১৭ নভেম্বর ২০১৪ ১৯:৪৪652494
  • ক্লিফ হ্যাঙ্গারগুলোতে ঝুলিয়ে কেটে পড়বেন না মাইরি।
  • de | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ১৩:২১652505
  • টেনশন হচ্চে যে!
  • মোহর | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ১৬:০৬652517
  • তাপ্পর??
  • ranjan roy | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ১৬:২৯652528
  • সে,
    তারপর?
  • সে | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ১৭:০২652539
  • ওরা ভেবেছিলো আমার কোনো দুর্ঘটনা হয়েছে, আর কিছু নয়। চিন্তিত ছিলো, ভয় পেয়েছিলো, তাই অমন থমথমে পরিবেশ।
    হঠাৎ অফিসঘরে প্রবেশ করায় ওরা তখনো বিশ্বাস করতে পারেনি যে ওটাই আমি।
    দশ পনেরো সেকেন্ডের নীরবতার পরে ভিকি চেঁচিয়ে ওঠে, "দিদি"!
  • সে | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ১৭:৪২652550
  • এরপরে পরিস্থিতি সাধারন হয়ে যায়। মিস্টার ভৈশ্‌ এমন ভাবে কাজে মনোনিবেশ করে যেন কিছুই হয় নি, ভিকাস আড়চোখে আমায় ফলো করতে থাকে যেটা বুঝতে কোনো ই অসুবিধে হয় না। এবং পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে ভিকিও ফাইল গোছানোর কাজে লেগে যায়, লাঞ্চের অর্ডার নিতে ভৈশের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে গা মুচড়ে দাঁড়ায়।
    আমিও স্বাভাবিকভাবে আমার টেবিলে আমার নিজের জায়গাটা বুঝে নিই।

    ওয়ালেট থেকে টাকা বের করে ভিকিকে খাবারের অর্ডার দিয়ে মিস্টার ভৈশ আমাকে তলব করেন।

    ইয়ু শুড নট ডু লাইক দিস্‌!

    এই কথার কোনো উত্তর হয় না। আমি প্রতীক্ষা করি পরবর্তী কিছু বাক্যের, যেটার শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন থাকবে।

    হোয়াট আর ইয়ু আপ টু, হাঁ?

    এবারে প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে, কিন্তু প্রশ্নটা বুঝতে পারছি না।

    নো, টেল মী! ডু ইয়ু থিঙ্ক ইউ ক্যান কন্টিনিউ লাইক দিস?

    এটারই বা কী উত্তর দেবো? অবশ্য মালিক নিজেই এর উত্তর দেয়।

    নো আই শুড নট অ্যালাও সাচ্‌ থিংস্‌!

    আড়চোখে দেখি ভিকাস দেখছে ব্যাপারটা, দেখে মনে হচ্ছে মুখে একটা সিরিয়াস ভাব এনে ফেললেও আদতে সে খুব এনজয় করছে এই নাটকটা। ভিকি নেই। সে তো দৌড়ে বেরিয়ে গিয়েছে এস্‌প্ল্যানেডের মোড় থেকে মিঠাই পুরী আনতে।

    ইয়ু ক্যানট ডু হোয়াটেভার ইউ ওয়ান্ট! আন্ডারস্টুড?

    কী বলব? আন্ডারস্টুড বলব? কিন্তু কী এমন অপরাধ করেছি সেটাই তো ক্লীয়ার হচ্ছে না। তাই তখনো চুপ করে থাকি।

    তুম্‌ লেড়কিলোগোকো না এহি এক প্রবলেম হ্যায়। ইয়ু থিংক, ইউ আর ভেরী স্মার্ট। অ্যান্ড ইউ ডু অল স্টুপিড থিংস।

    তারপরে ভিকাসের দিকে তাকিয়ে, অল্প হেসে নেয় ভৈশ্‌।

    নো। রিয়েলি! আই রিয়েলি মীন ইট্‌!

    তারপরে চলে থাকে বিরাট লেকচার।

    মেয়েদের ধারনা তারা খুব চালাক। আরে বাবা, অত রাতে ঐ যে খুব সাহস দেখিয়ে চলে যাওয়া হোলো, তার কন্‌সেকোয়েন্স্‌ গুলো ভেবে দেখেছো? অ্যাকসিডেন্ট হতে পারত। হুঁ, সিম্পল রোড অ্যাক্সিডেন্ট। সব কিছুর একটা জায়গা আছে। মহল আছে। সিচুয়েশন বুঝে কাজ করতে হয়। স্থান কাল বুঝে। একটা ট্যাকসি নিয়ে নিলে কী মহাভারত অশুদ্ধ হোতো? কোলকাতার সব ট্যাক্সি ড্রাইভারই খারাপ? অ্যাটলিস্ট সেফলি ঘরে পৌঁছবার গ্যারান্টি থাকত। তা নয়, ঝাঁসি কি রানি চলল মিডনাইট ক্যালকাটা এক্স্‌প্লোর করতে। ডু ইয়ু নো হাউ ডেঞ্জারাস ইট ইস ফর ইয়াং গার্লস লাইক ইউ? গড গেভ ইউ ওন্‌লি বিউটি, বাট নো ব্রেইন। উপরতল্লা খালি হ্যায়। রাবিশ্‌!

    এইভাবে চলতেই থাকল, চলতেই থাকল, যতক্ষন না সন্তোষ ফিরে আসে।

    তারপরে, সন্তোষ যখন প্লেটে করে খাবার সাজিয়ে মালিকের সামনে রাখল, ভৈশ আবার ডাকল আমাকে। কাম্‌, হ্যাভ সাম...

    আই জাস্ট হ্যাড মাই লাঞ্চ বিফোর কামিং।

    আর ইউ শিওর?

    ইয়েস।

    ভৈশ খেতে থাকে আমি আমার টেবিলে এসে সেই রাইটিং প্যাডটা খুঁজতে থাকি।
  • ঐশিক | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ১৮:১৭652561
  • দারুন লাগছে কিন্তু
  • Tim | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ১৮:৪৫652572
  • হেব্বি ঃ-)
  • সে | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ২০:১০652583
  • সব কাগজপত্র আছে, কিন্তু রাইটিং প্যাডটা নেই। সবই তো থাকে টেবিলের ওপরে। কোনো দেরাজ তো নেই আমার। কোথায় গেল প্যাডটা কে জানে।

    দেড় দিনের ওপরে খাইনি আমি। অবশ্য যদি ঐ দুগ্লাস লেমনেড মেশানো মদটা না ধরি হিসেবের মধ্যে। মাথাটা সবসময় ধরে থাকে। এত গরম পড়েছে। গরম তো লাগেই, তার ওপর কেন জানিনা মনে হয় জ্বর জ্বর লাগছে। পেটে একটা ব্যাথা ব্যাথা ভাব। হাতের আঙুলগুলো সবসময় ঠান্ডা মতো হয়ে রয়েছে।
    প্যাডটা কি তবে ঐ আলমারীতে রেখেছিলাম? লাস্ট কবে লিখেছি? মনে করতে চেষ্টা করি।
    মাথার যন্ত্রনাটা এত বেড়ে যাচ্ছে যে চোখ খুলে রাখতে ইচ্ছে করছে না।
    অফিসঘরের এই টিউবলাইটের আলোয় কেমন যেন চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে।

    বাড়ী চলে যাব? বলব গিয়ে যে শরীরটা ভালো লাগছে না, তাই ছুটি চাই?

    ভৈশ টেলিফোনে কথা বলছে। মনে হয় কাস্টমার। খুব ইয়েস স্যার ইয়েস স্যার নো প্রবলেম স্যার ওকে স্যার করছে।
    ফোনটা হয়ে যাক, তারপরে বলব।
    কিন্তু ফোন চলতে থাকে একটার পরে একটা। তারপরেই ভিকাসকে কীসব কাজ দেয়, ফাইল লাও, কীসব পেমেন্ট ভাউচার পোস্টডেটেড চেক বুকিং ক্যানসেলেশান এইসব নিয়ে ঘ্যানঘ্যান, আবার ফোন, তারপরেও কীসব যেন, তারপরে একটা লোক এলো, লোকটার মুখটা ঝাপসা মতো লাগে। হাবিব নাম বোধহয়।
    আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে ভৈশের দিকে এগোই কারন এভাবে চলে থাকলে তো চলতেই থাকবে। কিন্তু কী যেন প্রশ্নটা ছিলো? স্যালারী কত দেবে সেইটে? নাকি অন্য কোনো প্রশ্ন? প্রশ্নটা মনে পড়ছে না।

    লোকটা কীসব ব্যবসার কথা বলে যাচ্ছে, খালি যেটু কানে ঢুকছে, প্যায়সা প্যায়সা প্যায়্সা প্যায়্সা।

    আমি লোকটার টেবিলের দিকে এগোতে থাকি।

    ইয়েস। ওয়ান্ট টু সে সামথিং?
    মে আই লীভ নাও?
    নাও? আভি? ইট'স জাস্ট ফোর।

    তারপরে হাবিবের দিকে তাকিয়ে, স্যাটার্ডে চার বজ গিয়া, ব্যাস, কাম করানা মুশকিল হ্যায়। দিস ইজ ওয়েস্ট বেঙ্গল।

    হাবিব লোকটাও মিটমিট করে হাসে।

    তারপরে হাবিবের সঙ্গে আমায় ইন্ট্রোডিউস করিয়ে দেয়।
    হী ইজ মাই ফ্রেন্ড। হাবিব। ইন লেদার বিজনেস। বহৎ বড়া ফ্যাক্টরী আছে।

    হাবিব তাড়াতাড়ি বাধা দেয়, নো নো। আয়াকচুয়ালি আই সাপ্লাই লেডিজ শুজ ফর বাটা।
    বাটা?
    ইয়েস, মারি ক্লেয়ার শুজ। লেডিজ শুজ। মাই ফ্যাক্টরী ইজ নিয়ার বাই।

    ভৈশ হাবিবকে থামিয়ে দেয়। আমার দিকে ফিরে বলে, ওয়াই ইউ ওয়ান্ট টু গো নাও? ইয়ু কেম অ্যাট টুয়েল্‌ভ।
    অ্যাকচুয়ালি আয়াম নট ফিলিং ওয়েল।
    নট ফিলিং ওয়েল? হোয়াই?

    তারপরে হাবিবের দিকে তাকিয়ে, সুন্‌, পার্ক স্ট্রীট চল্‌। নট নাও ইয়ার! ছে বজে নিকাল্‌তে হেঁ।

    তারপরে ওয়ালেট থেকে দুশো টাকা বের করে আমার হাতে দেয়।
    ইফ ইউ আর নট ফিলিং ওয়েল ইউ শুড সী অ ডক্টর। ইয়ে প্যায়সা রাখো। গো ফর চেকাপ। সাদার্ণ ইন্‌ভেস্টিগেশন। মালুম হ্যায় কাঁহা? ইট্‌স্‌ নীয়ার টু বালিগাঞ্জ ফাঁড়ি।
    ভৈশ আমাকে ডিরেকশান দিয়ে দেয়।
    উধার যাকে ব্লাড টেস্ট করাও, অ্যান্ড সাম আদার রুটিন টেস্ট্স। অ্যান্ড দেন গো টু এ বিউটি পার্লার। ডু সাম ফেশিয়াল। অ্যান্ড শো মী অল দ্য বিল্‌স্‌। অভি যাও।
  • s | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ২০:৩৭652594
  • সে র গপ্পো পড়ে ভীষণ রাগ জমা হতে শুরু করছে। মনে হচ্ছে ভৈষের গালে সপাটে একটা থাপ্পড় মেরে দি। নিজের জীবনের ভৈষদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
  • সে | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ২০:৪৩652605
  • অফিস থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে শরীরটা কেমন হালকা মতো লাগছে।
    যদিও শনিবার। যদিও ঐ লেবরেটরী শনিবার কতক্ষন খোলা থাকে জানিনা, তবুও চলেছি।
    দুটো বাস বদল করে পৌঁছলাম সাদার্ন ইন্‌ভেস্টিগেশনে। গিয়ে বললাম টেস্ট করাব।
    কী টেস্ট করবেন?
    রুটিন টেস্ট
    এভাবে তো হয় না। কোনো ডাক্তার পাঠিয়েছেন কি?
    না।

    ক্যাশিয়ার কাম রিসেপশনের ভদ্রলোক খুব বিরক্ত হন।

    এই বাপি, এদিকে দ্যাখ তো কী চাইছেন।

    হ্যাঁ বলুন।
    রুটিন ব্লাড টেস্ট করাবো।
    কেন? কোনো অসুখ করেছে আপনার। কোন ডক্টর পাঠিয়েছেন?
    ডক্টর নয়, আমি নিজেই এসেছি।
    ও। কোনো প্রবলেম আছে আপনার?
    কত টাকা লাগবে টেস্ট করাতে?
    সেটাতো কোন টেস্টটা করাবেন তার ওপরে ডিপেন্ড করছে। আচ্ছা আপনি বসুন ওখানে।

    পেটে ভীষন ব্যাথা করছে। আশেপাশেও লোকে বসে আছে টিনের চেয়ারে, কেউ রিপোর্ট নিতে এসেছে, কেউ টেস্টের জন্যে।
    আমি ওখানেই জিরোতে থাকি।
    তারপরে একসম আমাকে ডাকে। টাকা জমা দিই। ওরা রিসিট দেয়। রক্ত নেয়। তারপরে বলে কাল তো বন্ধ, আপনি পরশু আসুন এরকম সময়।
    পরশু?
    হ্যাঁ সোমবার।

    একশ পঁয়্তাল্লিশ টাকা খরচ হয়ে গেল। রিসিট আছে। ওটাই প্রমাণ। এখন ফেশিয়াল করাতে হবে। গড়িয়াহাট চলে যাই। ওখানে কত দোকান, ওখানে বিউটি পার্লার পেয়ে যাবো।
    ফেশিয়াল করাতে বলল কেন? আমার মুখটাকি খুব বাজে দেখতে হয়ে গিয়েছে?
  • সে | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ২১:২৩652616
  • শনিবারের সন্ধ্যেয় গড়িয়াহাটের মোড়ে রাস্তা পার হবার উপায় নেই।
    বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হেঁটেই এলাম, কিন্তু ক্রমশ ভীড় এত বাড়ছে যে ফুটপাথে হাঁটার জায়গা নেই। রাস্তা ক্রস করে গোলপার্কের দিকটায় যাবো, ওদিকে বিউটি পার্লার আছে। প্রিন্স।
    রাস্তাটা কোনোমতে ক্রস করে গড়িয়াহাট বাজারের সামনেটায় গিয়ে পড়ি।
    আর তখনই কে যেন ডাকে আমার নাম ধরে।
    ভুল শুনলাম নাকি? কে ডাকবে আমাকে এখানে? কে চিনতে পারবে এই অজ্ঞাতবাসে?
    আবার ডাকে।
    নাঃ ভুল তো শুনিনি।
    আমার সামনে এক লম্বামতন ভদ্রলোক। কাঁচাপাকা চুল। চোখে চশমা।
    স্যার আপনি?
    পা ছুঁয়ে প্রণাম করি। ইনি ক্লাস ইলেভেনে আমাদের কো অর্ডিনেট জিওমেট্রি পড়াতেন। অজয় নিয়োগী।
    এতদিন পরেও আমায় চিনতে পারলেন কীকরে?
    বাঃ। তুমি তো আমার ফেভারিট স্টুডেন্ট ছিলে।
    কেমন আছো? কী করছ? কোথায় থাকো? সল্টলেকে?
    সল্টলেকে কেন বললেন?
    আজকাল যার সঙ্গে দেখা হয় সেই শুনি সল্টলেকে বাড়ি করেছে। তাই। তা কোথায় আছো তুমি?
    আমি কোথাও নেই স্যার।

    ভীড়ের মধ্যে দিয়ে আমি পালিয়ে যাই হকার দোকান বুলভার্ড ভেদ করে।
  • সে | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ২২:১১652628
  • প্রিন্সের সামনে দুজন লোক সাধাসাধি করে তাদের বিউটি পার্লারটাতেই যাবার জন্যে। দেখি একটার জায়গায় দুটো বিউটি পার্লার পাশাপাশি। প্রিন্স ও নিউ প্রিন্স। কাল রাতে ছিলো কেনিলওয়র্থ ও নিউ কেনিলওয়র্থ। তারা অবশ্য মুখোমুখি। এরা পাশাপাশি।
    প্রত্যেকেরই দাবি যে তারটাই আসল প্রিন্স। কি মুশকিল! দুলালের তালমিছরির মতো বিউটিপার্লারেও এবার ফোটো ও সই মিলিয়ে নেবার পালা?
    এদের টানা হেঁচড়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে একটায় ঢুকলাম।
    ঢুকেই সামনে ছেলেদের ব্যবস্থা। সেটা পেরিয়ে একটা দরজা দিয়ে অন্দরমহলে যেতে হবে। মেয়েদের রূপচর্চা ওখানেই হচ্ছে। কিন্তু সেখানে কাস্টমার প্রায় কেউই নেই। একজন ভদ্রমহিলা মাথায় কলপ লাগিয়ে বসে আছেন। আয়না দিয়ে আমার দিকে কটমট করে তাকালেন।
    অ্যাপ্রন পরা দুজন কর্মী আমার দিকে ধেয়ে এলেন।
    কী করাবেন? ফেসিয়াল, পেডিকিওর, ম্যানিকিওর, স্যাম্পু, হেনা, আইব্রো, কী করাবেন?
    ফেশিয়াল করতে কত পড়বে?
    শুদু ফেসিয়াল করাবেন না ব্লিচ্‌? জোলেন করে দিই?
    জোলেন?
    ওটা একটা ব্লীচ মতো। খুব পরিস্কার হয়ে যাবে স্কিনটা। ফর্সা লাগবে।
    কত দাম?
    এই রেট চার্টটা দেখা না এনাকে।
    বসুন এখানে।

    রেট চার্ট দেখে বুঝি ষাটের কমে কোনো ফেশিয়াল নেই। ষাট টাকা হয়ে যাবে। ভৈশের টাকা থেকে রয়েছে পঞ্চান্ন, আমার সঙ্গেও আছে কিছু। কিন্তু রিসিট চাই।

    দাঁড়ান, একমিনিট। আমার কিন্তু রিসিট চাই।
    রিসিট? মানে বিল?
    হ্যাঁ। বিল দেবেন তো?
    এখন তো দেরি হয়ে গেছে, দোকান বন্ধ করবার টাইম তো,যে বিল করে সে চলে গেছে। আপনি বসুন।

    বিলের লোককে পাওয়া যায় না। আমি উঠে আসি। ওদের কিছু কথা কানে যায়।

    বিল চাইছে। কেমন ছিটিয়াল না মেয়েটা?
  • সে | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ২২:৩৬652639
  • বিউটিপার্লারের ভেতরটায় এয়ারকন্ডিশনিং ছিলো, বাইরে বেরিয়েই আবার আগুনের হলকা লাগে গায়ে। পেটের যন্ত্রনাটা এত বেশি হচ্ছে যে দাঁড়াতে পারছি না। বাথরুমে যেতে পারলে ভালো হোতো। বাড়ী অনেক দূর। এর আগেই কোনো বাথরুমে যেতে হবে। কী করব?
    কোনো রেস্টুরেন্টে ঢুকব? ঢুকে একটা কিছু অর্ডার দিয়ে বাথরুমটা ব্যবহার করব বরং।
    একটু এগিয়েই পেয়ে যাই বেদুইন। ভালোই হলো।
    সামনের দিকটায় রোল কাবাব এসব সেঁকছে, আমি ভেতরে চলে যাই। এতক্ষনে বুঝতে বাকি নেই যে অবিলম্বে একটা বাথরুম খুঁজে না পেলে মানসম্মান থাকবে না।
    একটা টেবিলের সামনে গিয়ে চেয়ার টেনে বসতে না বসতেই এসে যায় ওয়েটার। হাতে ধরিয়ে দেয় মেনু কার্ড।
    কী অর্ডার করবেন?
    আচ্ছা একটা কোল্ড ড্রিঙ্ক হবে?
    হবে। তার আগে খাবার কি নেবেন বলুন।
    বলছি। আগে একটা পেপসি দিন।

    আমার ঘেমো পোশাক আশাক দেখেই বোধহয় ওয়েটার সম্মান দেয় না।

    শুধু কোলড্রিঙ্ক এখানে দেওয়া হয় না। আগে কিছু একটা খাবার অর্ডার না করলে আমরা কোল্ড ড্রিঙ্ক দিই না।

    আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে?
    আমি উঠে আসি। দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাই। বেরোনোর পরে দেখি বাঁহাতে বাইরে এদের টয়লেট। আর কোনো হেজিটেশন নয়, সোজা দরজা টেনে ঢুকে পড়ি টয়লেটে।
    বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ভেতরের দিকটা তখন ভেসে যাচ্ছে রক্তে।
  • সে | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ০১:৩৭652650
  • সোমবারে ভৈশ আসতেই তার হাতে ধরিয়ে দিই রসিদ ও বাকি টাকা।

    সো? হোয়্যার ইজ দ্য রিপোর্ট?
    রিপোর্ট আজ দেবে।
    গুড।
    একটা কথা ছিলো। সেটা হচ্ছে আমার স্যালারীটা কত হবে সেটা তো এখনো জানিনা।
    হুঁ, ইয়েস, গুড পয়েন্ট। তুমি কী মনে করো? কতো দেওয়া যায় তোমাকে? ইউ হ্যাভ নো প্রিভিয়াস এক্‌স্পেরিয়েন্স অ্যান্ড আই অ্যাম স্টিল বিল্ডিং মাই বিজনেস। ইট্স্‌ এ স্টার্টাপ কম্প্যানী। উঁ? টেল মী হাউ মাচ ডু ইউ ডিসার্ভ?
    জানিনা।
    ইয়ু ডোন্ট নো? দেন লেট মি ডিসাইড। সন্তোষ! পানি পিলাও।

    জানা হয় না। মনটা উদ্বেগে ভরে থাকে। মাইনেটাতো দরকার। কালকে তিরিশ তারিখ, মাসের শেষ।

    তিরিশ তারিখ! কালতো মঙ্গলবার। কাল যে আমার ইন্টারভিউ! কাল তবে অফিসে আসবো না। ছুটি চেয়ে নিলে দেবে না লোকটা। কিন্তু কাল না এলে মাইনে নেবো কেমন করে? ইন্টারভিউ হয়ে গেলে আসব। দেরি করে আসব। যদি ইন্টারভিউ ভালো হয়, যদি ইপিয়েবিএক্সটা গুছিয়ে উত্তর দিতে পারি তাহলে ছেড়ে দেবো এই চাকরি।
    যদি না পাই কাল চাকরি তাহলে আবার খুঁজতে হবে প্রত্যেকটা অফিসে।
    লিখবার জন্য হাতটা নিশপিশ করছে কিন্তু রাইটং প্যাডটা হাওয়া। খুঁজতে হবে।
    একবার পুষ্পিতার সঙ্গে দেখা করতে পারলে ভালো হোতো।

    লাঞ্চের আগেই ভৈশ বেরিয়ে গেল। ভিকাস সকাল থেকেই বাইরে গেছে অফিসের কাজে। ভিকি বলল দিদি পগার কবে পাবো? স্যার কিছু বলল? ফার্স্ট মে কি ছুটি দেবে?
    ফার্স্ট মে ছুটির দিন। ছুটি দেবে না কেন?
    মালুম নেহি।

    ভিকি আমি একটু ফোন করি পুষ্পিতাকে। তুই দরজায় নজর রাখ।

    হ্যাঁ বলো। তোমার সঙ্গে তো অনেকদিন দেখা হয় না।
    বলছি কি, তুমি কি কোথাও খোঁজ টোঁজ নিয়েছিলে?
    ও! তোমার চাকরির ব্যাপারে?
    হ্যাঁ
    কয়েকটা জায়গায় খবর নিয়েছি। কিছু নেই গো এখন। তুমি নিজে খুঁজছ তো? দ্যাখো। ঠিক পেয়ে যাবে।
    ঠিক আছে।
    দাঁড়াও দাঁড়াও। তুমি টাইপিং জানো তো? স্পীড কতো?
    টাইপিং জানি না।
    একদম না?
    না।
    তাহলে তো একটু টাফ হয়ে যাবে। চিন্তা কোরো না। রাখছি।

    মনে ভয় ধরে যায়। কাল যদি টাইপিং জিগ্যেস করে?

    ভৈশ সেদিন আর ফেরেনি। সাতটা অবধি অপেক্ষা করে আমরা অফিস বন্ধ করে বেরিয়ে যাই। কাল যে আমার ইন্টারভিউ সেটা কাউকে বলি না। ভিকিকেও না।
  • সে | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ০২:০৪652661
  • হলদে বাড়িটায় পৌঁছে গেলাম দশটার অনেক আগে। সাড়ে নটাতেই পৌঁ্চেছি ঐ পাড়ায়, তাই ফুটপাথ ধরে কিছুক্ষন হাঁটাহাঁটি করি, শেষে ঢুকেই পড়ি বাড়িটার মধ্যে।
    রিসেপশানের ভদ্রলোক গল্পের বই পড়ছিলেন। আমাকে দেখে বললেন, ও, আপনি এসে গেছেন?
    সময়ের আগেই পৌঁছেছি সেটা সম্ভবত ওঁর খেয়াল নেই।
    ফোন করলেন যথাস্থানে।
    আপনার নামটা কী?
    নাম বললাম।
    তিনি আমার নাম জানিয়ে দিলেন ফোনে, তারপরে বললেন, ঐ দেখুন সোজা সিঁড়ি চলে গিয়েছে। তিনতলায় বাঁহাতে প্রথম ঘর।
    কী নাম সায়েবের?
    নাম বলে দিলেন। এও বললেন যে উনি এই কোম্পানীর মেজোসাহেব।

    সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেলাম তিনতলায় মেজোসায়েবের ঘরে।

    খুব অল্প কথা হোলো।

    মেজসায়েব বললেন, নীচে যাকে দেখছেন রিসেপশনে, তাকে আমরা আর রাখতে চাই না। লোকটা একদম এফিশিয়েন্ট নয়। সেইজন্যেই লোক খুঁজছিলাম।
    আমি তো অবাক। এরা লোক খুঁজছিলো? আমি না জেনেই... যদিও সেটা মুখে প্রকাশ করলাম না।
    তবে আপনার সঙ্গে কথা বলে আপনার যোগ্যতা দেখে ভাবছি ঐ রিসেপশানে আপনাকে দেওয়া যাবে না।
    আমি দম বন্ধ করে তাকিয়ে আছি মেজসায়েবের মুখের দিকে।
    আপনি অফিসের ভেতরেই কাজ করুন। কাল পরশু তো ছুটি আছে আমাদের। সোমবার জয়েন করতে পারবেন কি?
    পারব। (আমার গলা ধরে গেছে)।
    আজ্ঞে?
    পারব। সোমবার পারব।
    হ্যাঁ, সোমবার মানে ছ তারিখ। আমাদের কিন্তু সপ্তাহে ছদিন অফিস। সকাল নটা থেকে সাড়ে ছটা, কিন্তু লাঞ্চে আড়াই থেকে তিনঘন্টার ছুটি। দুপুরে আমরা সব বাড়িতে খেতে যাই কিনা।
    ধন্যবাদ।
    হ্যাঁ, সোমবার নটা নাগাদ চলে আসুন, অ্যাপ্লিকেশান লেটার সেদিনই লিখে দেবেন।

    বিশ্বাস হতে চায় না ঘটনাটা।
    লাফাতে লাফাতে নামি সিঁড়ি দিয়ে।
    রিসেপশানে দাঁড়িয়ে খাতায় সই করতে হবে। ভদ্রলোক আমার হাসিমুখ দেখে মুষড়ে পড়েন।
    কী? চাকরি হয়ে গেল?
    গেল। তবে অফিসের ভেতরে। তিনতলায়।
    এবার হাসিফোটে ভদ্রলোকের মুখে। বিষন্নতার হাসি।
    আপনার চাকরি আমি খাবো না।
    হ্যাঁ আপনি খাবেন না, কিন্তু অন্য কেউ খাবে। আমি আপনাদের দোষ দিই না। কবে থেকে জয়েন করছেন?
    সোমবার থেকে।
    সময় পেলে আসবেন নীচে, একজন কথা বলবার লোক পাওয়া গেল।
  • কল্লোল | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ০৬:১৮652672
  • এই মানুষটা গল্পের খনি বললেও কম হয়।
    কিন্তু তাপ্পর?
  • rivu | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ০৬:৫০652683
  • পড়ছি।
  • rivu | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ০৬:৫৯652694
  • আরেকটাও কথা লিখে যাই, বেশ তিরতিরে একটা ভয় চারিয়ে যাচ্ছে ভেতরে।
  • ranjan roy | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:০৩652705
  • উঃ, পাগল করে দিচ্ছে! ফিরে যাচ্ছি প্রায় দু'দশক আগের কোলকাতায়।
  • ranjan roy | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:০৪652716
  • রিভু,
    একদম তাই!
  • aranya | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ০৯:৪৮652727
  • সেশ অব্দি দেখা যাবে ভৈশ দিব্যি ভাল লোক - এমনও কি সম্ভব?
    অসাধারন হচ্ছে লেখাটা
  • de | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ১২:৫৮652739
  • আমার খুব ইচ্ছে করে সে র সামনে বসে স অ ব গপ্পোগুলো শুনি -

    সে র লেখায় একটা গন্ধ আছে - অভিজ্ঞতা প্রচুর কিন্তু তার ভারে জীবনের গপ্পোগুলো ভয়ে নুয়ে থাকে না -

    আরো লিখুন - আপনি এক্কেবারে আলাদা - অন্যরকম!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন