এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • পায়ের তলায় সর্ষে - টুক করে বিষ্ণুপুর

    Ben Arfa
    অন্যান্য | ২১ আগস্ট ২০১২ | ৬৬১৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Indra | ২১ আগস্ট ২০১২ ১৭:৫০569210
  • ওখানে টেরাকোটা কিছু ভলো কাজ আছে। যেমন কালীয় দমন, জটায়ু হরণ, বলী রাজার গল্প, রাব্ণ। পন্খের দারুন কাজ।
  • kumu | ২১ আগস্ট ২০১২ ১৭:৫৮569211
  • আমিও আছি,গাড়ী/ড্রাইভার দরকারে ভাড়া করব।তবে,ঐ,দশদিন ছুটিই পাব কিনা সন্দেহ।আর কোন অসুবিধা নাই।
  • Ben Arfa | ২১ আগস্ট ২০১২ ১৮:০১569212
  • নিজের গাড়ি নিজে চালানোর লোক এত কম কেনে?
  • Ben Arfa | ২১ আগস্ট ২০১২ ১৮:০৩569213
  • মানে বলতে চাইছি ড্রাইভার নিয়ে যাওয়াই যায়, কিন্তু নিজে ড্রাইভ করার রোম্যান্সটা মিস্‌ করবে...
  • sosen | ২১ আগস্ট ২০১২ ১৮:০৬569214
  • হুউম! পিঠের মাসল ছেঁড়া লোককে ওসব কথা কৈতেও নাই। পাপ লাগে।
  • 4z | ২১ আগস্ট ২০১২ ১৮:১০569215
  • নাঃ, এই মুহুর্তে দেশে গিয়ে গাড়ি চালানোর মত কনফি নেই :(
  • Ben Arfa | ২১ আগস্ট ২০১২ ১৮:১১569216
  • আরে ধুর, আমার বাঁ হাঁটুর দুটো লিগামেন্ট ছেঁড়া, তাই নিয়ে ক্লাচ-ব্রেক-ক্লাচ-ব্রেক করে যাচ্ছি তো!
  • Rit | ২১ আগস্ট ২০১২ ১৯:৫১569217
  • ডিসেম্বরে হলে আমি আছি অজ্জিত দা। বৌ সমেত। তবে গাড়ি নেই। আর ঐ ফুটো নয়া পয়সা আম্রিগার ডিএল। ওতে এখানে গাড়ি চালানোর সাহস পাবো না। এবার নেবে কিনা বল। ঃ)
  • PT | ২১ আগস্ট ২০১২ ২০:৫০569218
  • রাসমঞ্চের খ্যাতি বহিরঙ্গের অলংকরণের জন্য অতটা নয় - যতটা গঠনের জন্য। এই মন্দিরে একই সঙ্গে পিরামিড, বাংলা চাল আর ইসলামিক ঢঙের দরজা একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে।
  • শ্রাবণী | ২১ আগস্ট ২০১২ ২১:৪২569220
  • অজ্জিতের ছবিগুলো দেখে মন খারাপ হয়ে গেল, ঠিক এরকমই ছিল আমাদের মন্দির......যাদের উৎসাহ ছিল তারা সবাই বাইরে বেরিয়ে আসায় আর যাদের দায়িত্বে ছিল তাদের অজ্ঞতায়, রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে একদম নষ্ট হয়ে গিয়ে এখন টেরাকোটার ওপর সিমেন্ট বুলিয়ে পুরো একখানা সাধারণ মন্দিরের চেহারা নিয়েছে। দেখলেই মন খারাপ হয়ে যায়! পুরনো দিনে সেভাবে ফোটো তুলেও রাখিনি কেউ, শেষ আমি হ্যান্ডিক্যামে তুলে রেখেছিলাম, ন দশ বছর আগে। কোন একটা সাইটে একবার পঃ বঙ্গের টেরাকোটা মন্দিরের লিস্টে আমাদের বাড়ির মন্দিরের নামও দেখলাম!:(
  • pipi | ২১ আগস্ট ২০১২ ২২:২৬569221
  • আচ্ছা অজ্জিত, এই যে তুমি গাড়ী নিয়ে হরদম ড্রাইভ করতে বেরিয়ে যাও তো রাস্তা গুলো চেনো কি করে। মানে, পঃ বঙ্গের মধ্যে কোথাও যেতে গেলে কোন রাস্তায় ড্রাইভ করতে হবে এটা জান কি করে? জিপিএস?
  • | ২১ আগস্ট ২০১২ ২২:৩০569222
  • গুগলকাকু বলে দেয়। তাছাড়া টিম বিএইচপি থেকেও দিয়ে দেয়।
  • Ben Arfa | ২১ আগস্ট ২০১২ ২২:৩৮569223
  • পিপি - গুগুলে মোটামুটি ওভারভিউ পাওয়া যায়, তবে তার চেয়ে TeamBHP অনেক বেশি রিলায়েবল। আর আমার কাছে Eicher-এর স্ট্রীটম্যাপ আছে - যদিও সেটা ইউকে বা ইউরোপের ম্যাপের মত ডিটেইলড নয়, তবুও ওভারভিউ মেলে। সবচেয়ে বড় ভরসা রাস্তার লোক আর মাইলস্টোন;-)
  • Ben Arfa | ২১ আগস্ট ২০১২ ২২:৪০569224
  • Rit ইয়ানি কেজিপির প্রফেসর তো? ;-)

    কয়টা লোক আর কয়টা গাড়ি আর কয়টা ডেরাইভার সেই হিসেবটা করতে হবে আগে।
  • গান্ধী | ২১ আগস্ট ২০১২ ২২:৪৩569225
  • রিতদা/অজ্জিদদা

    আমার মত গাড়ি ছাড়া, ড্রাইভিং না জানা জনতাকে নিয়ে যাওয়া যাবে?
  • Rit | ২১ আগস্ট ২০১২ ২২:৪৮569226
  • অজ্জিত দা,
    হাঁয়েস। ঃ)
    হিসেব টা করে বল। ডিসেম্বর ফ্রী। পুজোর ৯ দিন ও ফ্রী (২০-২৮)। মানে এখনও পুজোর প্ল্যন করে উঠতে পারিনি।

    গান্ধী,
    আমিও তোর দলেই। আম্রিগার ডিএল টা অচল পয়সা এখানে।
  • 4z | ২১ আগস্ট ২০১২ ২২:৪৯569227
  • আচ্ছ যারা যারা ড্রাইভারের ভরসায় গাড়ি নিয়ে যেতে চাইছে (যেমতি আমি), তাদের বলি সবাই আলাদা গাড়ি আর ড্রাইভার না করে স্কর্পিও জাতীয় একটা বড় গাড়ি আর ড্রাইভার নিলে তো হয়। অবশ্য তার আগে বল ডিসেম্বর না জানুয়ারি। ডিসেম্বর হলে আঁমি খেলবঁ নাঁ।
  • Ben Arfa | ২২ আগস্ট ২০১২ ১১:০৬569228
  • আমাদের তো অনেক অঙ্ক রে ভাই - ছেলের ইস্কুল, মেয়ের ইস্কুল, আপিসে ছুটির অ্যাপ্লিটা যত কমদিনের হয়...
  • de | ২২ আগস্ট ২০১২ ১১:১৬569229
  • আমাকে গাড়ি ভাড়া করতে হবে -- মুম্বই থেকে গাড়ি নিয়ে যাওয়া একটু চাপ হয়ে যাবে ঃ)) তবে ঐ ছুটি -- ওটাই একটু প্রবলেম -- মেয়েটার এতো পরীক্ষা থাকে -- তবুও একটু আগে থেকে জানলে ব্যবস্থা করতে পারি --
  • san | ২২ আগস্ট ২০১২ ১২:২৫569231
  • আমি আমি।
  • sosen | ২২ আগস্ট ২০১২ ১২:৩৪569232
  • চন্দ্রবিন্দু কি করে লিখতে হয়? মীনাক্ষী এত গুলো চন্দ্রবিন্দু কি করে লিখল? ভূতেদের জন্য কি আলাদা ফোনেটিক ল্যানগুয়েজ?
  • 4z | ২২ আগস্ট ২০১২ ১৬:৫৮569233
  • বেড়াতে যাওয়ার লিস্ট থেকে সোনালীর নাম কাটা গেল।

    ও অজ্জিতদা,

    ২৩ আর ২৬ দুদিন ছুটির সঙ্গে এদিক ওদিক করে আর কটা দিন অ্যাড করা যাবে না? অবশ্য বাচ্ছদের ইস্কুলের ছুটি ম্যানেজ করা টাফ জানি।
  • গান্ধী | ২২ আগস্ট ২০১২ ১৮:২৯569234
  • `N চন্দ্রবিন্দু ঁ
  • kumu | ২২ আগস্ট ২০১২ ২৩:৪৩569235
  • কলকাতায় নিজের গাড়ী কই?একখানা ছিল, সে বেচে দেয়া হয়েচে।
    একখানা বড় গাড়ী নিলে মচৎকার হবে।
  • sosen | ২৩ আগস্ট ২০১২ ১১:৪৩569236
  • তুলে দিলাম। দুটো পেলান ই বেশ।
    আর বড় গাড়ি নিলে মচতকার হবে। হবেই।
    অজ্জিত্বাউ, জানুয়ারী তে করুন পিলিজ। বহুদিন, মানে ইস্কুলের পর আমি আর ফর্জী একসাথে কোথাও ঘুরতে যাইনি। আমি একা। ফর্জী বোধহয় চারজন।
  • Ben Arfa | ২৩ আগস্ট ২০১২ ১১:৪৬569237
  • এইটা নয়, বেড়ানোর প্ল্যানের একটা আলাদা টই ছিলো।
  • শ্রাবণী | ০৪ অক্টোবর ২০১২ ১১:৪৪569238
  • এটা যদিও বিষ্ণুপুরের সর্ষের টই তবু আমি এটাতেই লিখছি, একশ আটটা সর্ষের টইয়ে নতুন করে আর খুললাম না।..........
    তাছাড়া আমার নেহাতই দেশী সর্ষে, রাই মেশানো আর আমি সর্ষে লেখায় পটু নই, ইদানীং (এককের কচ্ছপ নয়) আর লেখা হয়না এটা লিখছি হুচি বলেছিল বলে!
  • শ্রাবণী | ০৪ অক্টোবর ২০১২ ১১:৫৫569239
  • *****************সর্ষে - মাইসোর, কুর্গ**********

    দেওয়াল জোড়া কাঁচের জানালা দিয়ে অপলকে তাকিয়ে থাকি বাইরে, পাহাড় জঙ্গল ভেদ করে অবিরল ধারায় ঝরে চলেছে বৃষ্টি। কত রকমের গাছ চারদিক থেকে ঘিরে আছে জায়গাটাকে, ছোট জড়ানে লতা, আকাশছোঁয়া মহীরুহ। সেসব গাছের ডাল পালা পাতা নানা রঙের, তবে সব রঙ ছাপিয়ে উঠেছে শুধু সবুজ আর সবুজ। নানা ধরণের সবুজ, হাল্কা, গাঢ়,কাঁচা, হলদে নীলচে সবজে সবুজ। আজ প্রকৃতির মূল গায়ক যেন সেই আর বাকী রঙ যত, তারা সঙ্গতকারী।
    যার যতটুকু যেভাবে থাকলে আসর সম্পূর্ণ হয় শুধু সেইটুকুই থাকা, ফাঁকে ফোকরে, ফুলে ডালে। দেখে মনে হয় এই প্রকৃতিকে বর্ষায় যেমন মানায় তেমনটি যেন আর কোনো কিছুতে নয়। ভিজে সিক্ত বসনে খোলতাই রূপের অহংকারে মটমট গাছপালা, নানাধরণের ডাক,আওয়াজ বলে দেয় যে আশেপাশের জীবজগত পুরো পাগল এই রূপে। আমরা মনুষ্য জাতির দুই প্রাণী অবশ্য একেবারে চুপ, বাক্যিহারা, সে শুধু প্রকৃতির রূপ দেখে মুগ্‌ধতায় নয়। বৃষ্টিধারার থেকে শুরু করে, যেখানে যত চেনা অচেনা শব্দ সব ভালোকরে দেখেশুনে, চিনে নিতে থাকি নীরবতার আতসকাঁচে।

    দিল্লী থেকে ভোরের ফ্লাইটে ব্যাঙ্গালোর। সব ঠিকঠাক, এমনকী অন্যান্য বারের মত শেষ মূহুর্ত অবধি ব্যাগের এখোপে ও চেনে এটাওটা গোঁজাগুঁজির পালা বাকী না রেখে আদর্শ গোছানের মত আগের রাতেই সব ঠিক করে রেখেছিলাম। খানিকটা সময় বাকী থাকতে থাকতেই এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছেছি, পনেরই আগস্টের রাস্তা বন্ধ ও বাড়াবাড়ি চেকিং পার করে। সিকিউরিটির ঘেরাটোপ পেরিয়ে নির্দিষ্ট গেটের লাউঞ্জে বসে বই খুলি, শুরু হল ছুটি!
    সঙ্গী একটু ব্যতিব্যস্ত টাইপের, বিশেষ করে স্টেশন এয়ারপোর্ট ইত্যাদি জায়গায় এলে ব্যস্ততা বাড়ে দেখেছি। বেশ বিরক্ত, ভাবখানা "এখন আবার বই খুলে বসলে কেন! সময় হয়ে এসেছে এমন সময়।" বারবার মনে করায় প্রতিবারের মত, "বোর্ডিংপাস টা হাতে রাখ"।
    আমার হেলদোল নেই, কাঁধে একখানা ছেলেধরার ঝোলা, তাকে এড়িয়ে কোনো কিছু এদিক ওদিক হবে এমন সম্ভাবনা কম। বোর্ডিংকল হল যখন, আমি তখনো বইয়ের পাতায়। ধাক্কা খেয়ে বই হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে ঝোলা খুলি,এ খোপ ও খোপ, কোথাও বোর্ডিংপাস নেই।
    ব্যস্তবাগীশ উনি ততখনে আগেই লাইন দিয়ে ওদিকে চলে গেছেন এবং রাজ্যের বিরক্তি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। লাইন পেরিয়ে আবার এদিকে এসে সাহায্যের হাত বাড়ানোর কোনো চেষ্টাই নেই। ঝোলা পুরো উপুড় হয়ে গেছে, যাবতীয় জিনিস এ চেয়ার ও চেয়ারে ছড়ানো। কিন্তু সেই সাত রাজার ধন এক মাণিকের দেখা নেই,বিপুল কনফির পাহাড় টলোমলো। লাইন শেষ, কাউন্টারের কর্মীরা সাগ্রহে তাকিয়ে বাধ্য দর্শকের মত, সি আই এস এফের বান্দার চোখে মুখে কিন্তু সন্দেহের ছায়া ঘনাচ্ছে। জল খুব সহজে বেরোয় না তাই চোখ শুকনো নাহলে অবস্থা প্রায় সেই পর্যায়ে।
    তবে হয়রানির কোটা তখনকার মত শেষ বলেই বোধায়, হাতের বইটা পাশে চেয়ারে রাখা ছিল, ব্যাগে সব আবার ঢুকিয়ে কেন সেটা হাতে তুলে নিতে গেলাম জানিনা। একটু জোরে বইটা তুলতে গিয়ে ঝাড়া লাগতেই বইয়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এল বোর্ডিংপাস, তখনকার মত হয়রানির পর্ব শেষ!
    আমার ধারণা নির্ঘাত অতবার "বোর্ডিংপাস হাতে রাখ" শুনতে শুনতে বোর হয়ে ওটা নিজেই আমার হাতের বইয়ে গিয়ে ঢুকেছিল, আমি পাত্তা দিচ্ছিনা দেখে!
  • শ্রাবণী | ০৪ অক্টোবর ২০১২ ১২:০৩569240
  • শুরুটা এমন বলে মন খুঁতখুঁত করেছিল কিছুক্ষণ। ব্যস এটুকুই, এরপরে আর কোনো কান্ড না ঘটিয়েই ব্যাঙ্গালোর এবং সেখান থেকে মাইসোরের পথে। ছুটির দিন, স্বাধীনতা উৎসব, সব মিলিয়ে চারধার পুরো পুজো পুজো, আবহাওয়াও সেই আশ্বিন শেষের না ঠান্ডা না গরম। আমাদের ঠিকুজী কুষ্ঠি জেনে নিয়েছিল প্রথমেই, ড্রাইভার আধা কানাড়া আর আধা ইংরেজীতে দায়িত্ব নিয়ে সব দেখাতে দেখাতে চলল, পুরো ট্যুরিস্ট মেজাজ।
    "কিতনে আদমী থে" এই সেই শোলের রামগড় ইয়ানি কী রামনগর,ছড়ানো ছিটোনো অনুচ্চ পাহাড়,উঁচু উঁচু পাথরের ঢিবি। ড্রাইভারের উৎসাহে জল ঢেলে আমার সঙ্গী জানালে যে সে কোনোদিন শোলে দেখেনি। শোলে দেখেনি এমন লোক ভূভারতে আছে নাকি? আমিও হাঁ করে শুনলাম, এখনো এত বছরেও কিছু অজানা রয়ে গেছে দেখছি!

    হাইওয়ে তে একটা জায়গায় থামা হল দুপুরের খাওয়ার জন্য। থালি নিয়ে আমরা হাসফাঁস করি, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আজ সবই স্পেশ্যাল, তাই আইটেমও বেশী বেশী। আহামরি কিছু নয়, তবে নিন্দেরও নয়, বিশেষ করে শুরুর পাতে ঘিয়ে ভাজা পোরনপোলি টাইপের একটা জিনিস তো বেশ ভালো খেতে। ফেলে ছড়িয়ে কোনোরকমে খাওয়া শেষ করে উঠি।
    চেন্নাপটনা থেকে ব্যাগ ভর্তি করে কাঠের খেলনা কিনত তারা, যখনই আসত।
    আজকের রকমারি দেশী বিদেশী ঝকমকে খেলনার সাথে তুলনা করে একটুও কম লাগেনা, ঐ রঙবেরঙের নানা রকমের নানা বয়সের জন্যে বানানো আমাদের দেশী কারিগরের হাতের কাজের নমুনাকে। আমারও খুব খুব ইচ্ছে করে নিতে,কিন্তু নিজেকে সামলাই। যাত্রাপথে ব্যাগ ভারী নিয়ে চলতে আমরা কেউই পছন্দ করিনা, তবু মনে ভেবে রাখি, ফেরার পথে ঝোলা ভরে নাহলেও কয়েকটা নিতেই হবে।

    মাইসোরে আমাদের আস্তানা হল, প্যালেস থেকে মিনিট দশেকের দুরত্বে, শহরের ভিড়ের বাইরে। খুব সুন্দর পরিবেশ, রিসেপশনে অভ্যর্থনায় অন্যান্যদের সাথে রোজি, পোষা দুধসাদা ম্যাকাও। ঘাড়ে চড়ে বসলেন এবং সব কথার জবাব দিল "হ্যালো হ্যালো" বলে।
    স্বাধীনতা দিবস বলে রিসর্টে যেমন বিশেষ অনুষ্ঠান ও খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা, তেমন প্যালেসেও দেখা যাবে আলোকসজ্জা, এমনিতে যা শুধু রবিবারে দেখা যায়। সন্ধ্যে সাতটার সময় রওনা দিলাম প্যালেসের উদ্দেশ্যে।
    বৃষ্টি পাইনি সারাদিন তবু সূর্যাস্তের পরেই বেশ নতুন শীতের দিনের মত ঠান্ডা, পৌঁছলাম যখন তখনও আকাশে হাল্কা আলো আছে, আর আছে ঘন কালো নীলের ক্যানভাসে সাদা ও কালো মেঘেদের দলবেঁধে আনাগোণা। একদিক থেকে শুরু করে এক এক করে সারা প্যালেসের আলো জ্বলে উঠল। নয়নাভিরাম দৃশ্য তো বটেই, বাতাসে শুধু "আহা, উহু" র সাথে ভাসে বিভিন্ন ক্যামেরার ক্লিকের শব্দ। তবে পাপী মন হিসেব করে কত বিদ্যুত খরচ হল এই এক ঘন্টায় ও এই স্বাধীনতা দিবসে সেই খরচে কত ঘরে আলো জ্বলতে পারত অথবা অন্য কিছু দরকারী জিনিস, খাবারের মত। অসংখ্য ছবি তুলে ফেরার সময় পাশের জনও বলে, "ক্যা ওয়েস্টেজ হ্যায়, ইয়েসব বন্ধ কর দেনা চাহিয়ে"!

    পরদিন মাইসোর ভ্রমণ। কখনো রোদ, কখনো হালকা দু এক পশলা, ঘুরঘুর করার জন্যে আদর্শ আবহাওয়া, প্রথমেই চামুন্ডি হিলস। সুন্দর পাহাড়ী রাস্তা,বর্ষায় সবুজ। দু একটি ভিউ পয়েন্ট আছে যেমন থাকে সব পাহাড়ী পথেই, সেখান থেকে মাইসোর শহর দেখা যায়। আদত বাসিন্দারা মাইসোরের রাজাদের নামে গদগদ হয়ে পড়ে, এ শহরের সব রাস্তা ঘাট ইত্যাদি তাদের পরিকল্পনায় তৈরী এবং সাজানো, সেজন্যে সুন্দর, চামুন্ডি হিলসের রাস্তাও তাই।
    পাহাড়ের ওপরে আছে চামুন্ডেশ্বরীর মন্দির, এও আদতে সেই দূর্গা। পাহাড়ের ওপরে মহিষাসুর রাজত্ব করত, তাকে হত্যা করে দেবী মাইসোরবাসীকে অসুরের কবল থেকে উদ্ধার করে। মাইসোর বা মহীশূরের নামও সম্ভবত মহিষাসুরের নাম থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়। দশেরা উৎসব মাইসোরের প্রধান উৎসব।
    মন্দিরে ঢোকার আগে আছে বিশাল মহিষাসুরের মূর্তি। মন্দিরটির স্থাপত্য প্যালেসের অন্যান্য মন্দিরের মত, রঙও এক। মন্দিরে এমনি দিনেই এত ভিড়, দশেরার সময় শুনলাম এর কয়েকশ গুণ বেশী ভিড় হয়ে থাকে। ড্রাইভার বিজয় আমাদের কথা দিল, যদি দশেরায় আসি সে সব ঘুরিয়ে দেখাবে। মন্দির একবার ছুঁয়ে তার আশেপাশে ঘুরে বেড়ালাম, ওপর থেকে মাইসোর শহর দেখতে বেশ লাগে। ফেরার পথে এক জায়গায় দুটি ছেলে টেলিস্কোপ নিয়ে বসে আছে, খুব ডাকাডাকি করল দশ টাকায় দৃশ্য দেখতে।
  • | ০৪ অক্টোবর ২০১২ ১২:০৮569242
  • এইজন্য আমি সবসময় বোর্ডিং পাস দিয়ে বুকমার্ক করি। :-)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন