
অকস্মাৎ আকাশ হইতে টুপ করিয়া কলিম খানের আবির্ভাব ঘটিল এই বঙ্গদেশে এবং তিনি নিত্যনতুন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে সুধীবৃন্দকে চমকে দিচ্ছেন, ব্যাপার এমন নয়। যাস্ক, পাণিনি ও অন্যান্য কোষকার, প্রাচীন ভারতবর্ষের ভাষা-বিষয়ক জ্ঞানভাণ্ডারের হোতা। নীরব নিষ্ঠায় একালে এঁদের অনুসরণ করেছেন 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' প্রণেতা হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কলিম খান এই সমৃদ্ধ কিন্তু বিস্মৃত জ্ঞানভাণ্ডারের যোগ্য উত্তরাধিকার। কিন্তু কলিম কেবল ভাষাতত্ত্ব নিয়ে থেমে থাকলেন না, পুনরুদ্ধার-করা শব্দতত্ত্ব নিয়ে ঢুকে পড়লেন প্রাচীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে। এই ঢুকে-পড়াটাই হয়ে গেল বিপজ্জনক। একে অন্তর্ঘাত হিসেবেই চিহ্নিত করা যায়। কেমন সেই অন্তর্ঘাত? উদাহরণ ইস্তেমাল করে দেখা নেওয়া যাক। ‘গো’ নিয়ে ইদানিং যথেচ্ছ গরু খোঁজা চলছে, আমরা এই ‘গো’ শব্দটি দিয়েই শুরু করতে পারি।
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর 'বঙ্গীয় শব্দকোষ'-এ 'গো' শব্দের ৪১টি অর্থ দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি অর্থ গরু। এছাড়া গো মানে বৃষরাশি, সূর্য্য, চন্দ্র, ইন্দ্রিয়, ঋষিবিশেষ, গায়ক, গৃহ, পৃথিবী, আকাশ ইত্যাদি। প্রথমেই গো শব্দের অর্থ দিয়েছেন বাক্যের সাহায্যে - যে যায়। কেবল গো-এর ক্ষেত্রে নয়, বেশিরভাগ শব্দের ক্ষেত্রেই তিনি বাক্য-অর্থ দিয়েছেন। তারপর দিয়েছেন তার অন্যান্য প্রতিশব্দ। কেন এমন করলেন তিনি? বর্তমানে চালু আমাদের কোনও বাংলা অভিধানে তো এই রীতি মানা হয় না! তাহলে?
‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’ মন্থন করে কলিম খুঁজে পেলেন এর উত্তর। এক্ষেত্রে হরিচরণ নিশ্চল নিষ্ঠায় অনুসরণ করেছেন আমাদের দেশের প্রাচীন বৈয়াকরণদের। তাঁর পূর্বসূরীদের। আমাদের দেশে শব্দের মানে শব্দের বাইরে ছিল না, ছিল শব্দের ভেতরেই। শব্দের ভেতর থেকে অর্থ-নিষ্কাশন একটি কৌশল, প্রাচীন ভারতে এই কৌশলের নাম 'নির্বচন'। শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করে যা করতে হয়। আমাদের বাংলা ব্যাকরণের সমাস ও তার ব্যাসবাক্য নির্ণয়ের মধ্যে যার কিছুটা ভগ্নাংশ এখনও রয়ে গেছে। শব্দের ভেতরের অর্থটিকে বাক্যের সাহায্যেই প্রকাশ করা হয়। বৌদ্ধযুগের 'অমরকোষ' এই কাজটি করেছেন নিখুঁতভাবে। পরে অন্যান্য কোষকারগণ এই রীতিই মেনেছেন।
সমাজের অগ্রগতির সঙ্গে বাচক-অর্থ বা অন্যান্য প্রতিশব্দের মাত্রা বেড়েছে, পেছনে পড়ে গেছে 'বাক্য-অর্থ'। হরিচরণও নিষ্ঠার সঙ্গে তাই করেছেন। শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করে যে বাক্য-মানে বেরোয় সেই বাক্যটি লিখেছেন। তারপর এক এক করে দিয়েছেন অন্যান্য বাচক-অর্থ বা প্রতিশব্দ। সেই প্রতিশব্দ প্রদানেও তিনি স্বেচ্ছাচারী হননি। ওই অর্থ তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন, সেইসূত্রও উল্লেখ করেছেন তিনি। কোনও অর্থই তাঁর স্বকপোলকল্পিত নয়। ভারতীয় উপমহাদেশে যত কোষগ্রন্থ ও অভিধান রচিত হয়েছিল, প্রায় সবগুলিই তিনি অনুসরণ করেছেন।
যাস্ক, পাণিনি, মুগ্ধবোধ, অমরকোষ, শব্দকল্পদ্রুম, মেদিনীকোষ ইত্যাদি সবই তিনি আত্মস্থ করেছিলেন। বেদ-পুরাণ-রামায়ণ-মহাভারত, সাংখ্য-যোগ-তন্ত্রবিষয়ক গ্রন্থাদি থেকে রবীন্দ্রকাব্য পর্যন্ত নানা গ্রন্থে শব্দসমূহের ব্যবহার অধ্যয়ন করে তিনি তাদের অর্থ সরবরাহ করেছেন। একটি শব্দের বহু অর্থ, আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি, তিনি কেবল সততার সঙ্গে তা লিপিবদ্ধ করেছেন।
হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগানোর মতো কলিম খান শব্দ ও তার শেকড় খুঁড়ে বের করতে চাইলেন ইতিহাস। একটি সচল ভাষা তো ধারণ করে ইতিহাস। গো শব্দের ৪১টি অর্থ তো একদিনে তৈরি হয়নি! সমাজবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা অর্থ। কয়েক হাজার বছরের ঐশ্বর্য এই অর্থভাণ্ডার। মহাপুরুষ হরিচরণ তাঁর বঙ্গীয় শব্দকোষে ৪১টি শব্দের পুরো তালিকাটাই লিপিবদ্ধ করেছেন। আর এইযুগের স্বেচ্ছাচারী অভিধানকারেরা 'গো'-এর ৪০টি অর্থ ফেলে কেবল 'গো মানে গরু' লিখে দিলেন। ছিঁড়ে ফেললেন আমাদের অসীম উত্তরাধিকারের সূত্রগুলো। কলিমের ভাষায়, একেই বলে 'বাপের নাম ভুলিয়ে দেওয়া'। এইভাবে আমরা নিজেরাই নিজেদের অ-নাথ করেছি, করে চলেছি।
আমরা যে হ্যাঁগো, ওগো, কীগো ইত্যাদি বলি কথায় কথায়, কেন বলি? এই ‘গো’টি কে বা কারা? এই গো মানে কি গরু? স্ত্রী স্বামীকে বলছেন, হ্যাঁগো আজ অফিস যাবে না? বা চাষি মাঝিকে বলছেন, ওগো তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে, বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে। এখানে গো মানে নিশ্চয়ই গরু নয়! স্ত্রী স্বামীকে বলছেন, ও গরু আজ অফিস যাবে না? বা চাষি মাঝিকে গরু বলে সম্বোধন করছেন, এমন নিশ্চয়ই নয়! তাহলে কী? হরিচরণ অনুসরণ করে কলিম বলছেন, এখানে গো মানে গামী, 'হে গামী'-অর্থে সম্বোধন করা হচ্ছে চলমান কারুকে।
যে যায়, সেই তো 'গো'। তার মানে, প্রতিটি গামী বা চলমান সত্তাই 'গো'। আমাদের পূর্বসূরী বাংলাভাষিগণ যে সমস্ত গামীকে গো শব্দে চিহ্নিত করেছেন, তার সংখ্যা তাই অনেক। সেগুলিকে বিচার করতে গিয়ে দেখা যায়, অতি উচ্চ মার্গের গামী যেমন রয়েছে, অতি নিম্ন মানের গামীও তেমনি রয়েছে।
কলিম নির্দিষ্ট করছেন, গো শব্দের সর্বোচ্চ অর্থ হল তত্ত্বজ্ঞান ( theoretical knowledge ) এবং সর্বনিম্ন অর্থ হল গরু (cow)। মাঝে রয়েছে অনেক প্রকার অর্থ; সেগুলির মধ্যে ‘হে গামী’ (হ্যাঁগো, ওগো) অর্থে শব্দটির ব্যবহার সর্বাধিক। দ্বিতীয় স্থান ‘পণ্য’ অর্থে গো শব্দটির ব্যবহার। কালীপ্রসন্ন সিংহ মহাভারত-এ বলছেন – ‘গো প্রভৃতি পবিত্রতা- সম্পাদক পদার্থসমূহের মধ্যে সুবর্ণই সর্ব্বশ্রেষ্ঠ।’ তার মানে, এক কালে গরু বিনিময়ের মাধ্যম বা মুদ্রা রূপে ব্যবহৃত হত। টাকা সচল হয়, অচলও হয়; সচল টাকা তো ‘গো’ হবেই। মুদ্রারূপে ব্যবহারের কারণে সেই গো-এর ব্যবহারের আধিক্য ছিল স্বাভাবিক।
ধরা যাক আরও দু'একটা শব্দ এবার, যেমন - গবেষণা। ছোটবেলায় সন্ধি করেছিলাম, গো + এষণা = গবেষণা। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের 'বাঙ্গালা ভাষার অভিধান'-এ দেখতে পাচ্ছি এষণা অর্থ ১. গমন বা ২. অন্বেষণ বা ৩. ইচ্ছা। গো যদি গরু হয় তাহলে কি গবেষণা মানে গরুর গমন বা গরু খোঁজা/অন্বেষণ বা গরু বিষয়ক ইচ্ছা বোঝাবে? তা তো বোঝায় না! গবেষণার অর্থ জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস দিয়েছেন, কোনও বিষয়ের তত্ত্ব নিরূপণার্থ অনুসন্ধান। ইংরাজিতেও বলে রিসার্চ, যেখানে সার্চ বা অনুসন্ধান শব্দটি আছে। নির্বোধ গো-রক্ষক কোনও সঙ্ঘ, স্নিফার সারমেয়র মতো ফ্রিজে গরু খুঁজতে পারেন, কিন্তু একজন পিএইচডি স্কলার নিশ্চয়ই পাঁচ বছর ধরে গরু খোঁজেন না! তাহলে এই ‘গো’ কী? এখানে খুব স্পষ্ট, গো মানে কেবল গরু নয়। তত্ত্ব-কথাও বোঝায়।
কিন্তু আমরা কিছুতেই বুঝব না, আমাদের বৈয়াকরণ ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিতরাও বুঝবেন না! তাঁরা গো অর্থ কেবল গরুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবেন। ফলত পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার সামলাতে না-পেরে আমরা আজ দীন ভিখারি। আর এই সুযোগ নিয়ে 'ধর্ম বেওসায়ী ভক্ত'বৃন্দ গো-রক্ষা বাহিনী গড়ে ফেলেছেন পাড়ায় পাড়ায়। গরু-খেকো যবন ও ম্লেচ্ছদের ঢিট করে, দরকার হলে খুন করে, গরুকুলকে রক্ষা করতে হবে!
যেমন গোবর্দ্ধন শব্দটি, যে বা যিনি গো-বৃদ্ধি করেন; অথবা, এখানে গো অর্থ পণ্য বা প্রোডাক্ট। গোবিন্দ = যিনি সর্ব প্রকারের গো-গণ বিষয়ে বিদিত। তিনি হলেন শ্রীকৃষ্ণ। গোবিন্দের সর্বোচ্চ অর্থ, যিনি তত্ত্বজ্ঞান-সমূহের রস দান করেন এমন এক বৃহস্পতি বা তত্ত্বদর্শী। গোবিন্দের সর্বনিম্ন অর্থ, যে রাখাল চাইলে ভাল দুধ জোগাতে পারে। কলিম তাই বলেন, গোবিন্দ'র গো কেবল গরু হলে অনর্থের আর সীমা থাকে না!
গোস্বামী শব্দের গো মানে কী? যাঁরা গো-গণের স্বামী তাঁরাই গোস্বামী। এখানে গো মানে তত্ত্ব। গোস্বামী শব্দের সর্ব্বোচ্চ অর্থ, যিনি মানবজাতির অর্জিত জ্ঞানসম্পদের মুকুটমণি তত্ত্বসমূহের অধিকারী। সর্বনিম্ন অর্থে, যিনি গরুসমূহের অধিকারী বা মালিক। গোস্বামী'র গো যদি গরু হয় তাহলে রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী কারা? গরুর পাইকার? আমাদের বঙ্গীয় ভাষাবিদেরা কী বলেন?
একই নিয়মে, অতএব, গোবর-গোমূত্র বলতে সে গরুর মলমূত্রই বোঝে, এবং যেহেতু প্রসাদ হিসেবে খাওয়ার নিদান আছে, সবাইকে তা খেতেও হবে! আমরা ভাবি, নিঃসন্দেহে ঐ গোবর-গোমূত্রের ভিতরে অলৌকিক শক্তি আছে। অতএব, গোপথ্যি ও পঞ্চগব্য নিয়ে শেষমেষ ‘রাজসূয় যজ্ঞ’ শুরু হয়ে যায়। শুরু হয় রামদেবের রমরমা। কলিম খান বিস্মিত হন, এ কেমন শাইনিং ইণ্ডিয়া, যেখানে লোকেরা গরুর মলমূত্র খায় এবং প্যাকেটে ও বোতলে ভরে লেবেল সেঁটে বিক্রি করে? মহিষ, গাধা, ছাগল, ভেড়া সকলের দুধ খায় এরা, মাংসও খায় কিন্তু তাদের মলমূত্র খায় না। ওদিকে গরুর দুধ ও মলমূত্র সবই খায় কিন্তু তার মাংস খায় না!
জ্ঞান ও জ্ঞানচর্চাকারীদের ভালোর জন্য বোঝাতে যে ‘গো-ব্রাহ্মণ হিতায়’ কথাটি বলা হত, এখন তার মানে দাঁড়িয়েছে, গরুর ও ব্রাহ্মণের ভালোর জন্য! যে ব্রাহ্মণ ব্রহ্মজ্ঞানের অধিকারী, ভারতবর্ষে যাঁর অর্জন বিশাল, ভাগ্য তাকে কিনা, নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাল গরুর সমান মর্যাদায়!
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গো-মাতা শব্দের অর্থ-বিপর্যয়। গো-মাতা তো সুরভি, বশিষ্ঠের কামধেনু নন্দিনীর মা। সে তো কেবল দুধ, মাখন, মণ্ডা, মিঠাই প্রসব করত না; অস্ত্রশস্ত্র এবং সৈন্যসামন্তও প্রসব করতে পারত। কেননা, নন্দিনী তো আসলে মহর্ষি বশিষ্ঠ পরিচালিত বিপুল বাহ্যসম্পদ উৎপাদনকারী এক বলিষ্ঠ সম্প্রদায়। গো-মাতার সে সব অর্থ আমরা স্রেফ ভুলে গেছি।
এখন গো-মাতা মানে যে-গরুর দুধ খাওয়া হয়। কিন্তু সমস্যা হল, যার দুধ খাওয়া হয়, তাকেই 'মাতা' বললে ছাগ-ভেড়া-গাধা-মহিষ-উট সবাইকেই 'মাতা' বলতে হয়; কেননা তাদের সকলের দুধও আমরা খাই। তাদের মাংস খেলেও তো 'মাতা'র মাংস খাওয়া হয়! না, সে সব যুক্তি-তর্কের অবকাশ নেই। ‘গো’ শব্দের অর্থকে শুধুমাত্র গরুতে স্থির করে নিশ্চল করে দিলে যে-যে দুর্গতি হওয়া সম্ভব তা সবই হয়েছে বা হয়ে চলেছে।
এইসব প্রশ্ন করলে আমাদের ভাষাত্ত্বাতিক পণ্ডিতরা নিশ্চুপ থাকেন। এড়িয়ে যান। যে মহাপুরুষ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মের সার্দ্ধ-শতবর্ষ পালন হল ২০১৭ সালে, তাঁর অভিধান সাহিত্য অ্যাকাডেমির সম্পদ হলেও, পণ্ডিতরা এই অভিধান পড়তে সরাসরি বারণ করেন। এক শব্দের বহু অর্থ তাঁরা মেনে নিতে পারেন না। অ্যাকাডেমিক জগৎ ছাত্রছাত্রীদের এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে। কারণ, এটা মেনে নিতে পারে না পুঁজিও। বাজারের দুনিয়ায় এক শব্দের বহুরৈখিক অর্থ হলে বড় গোলমাল। ক্রেতা-বিক্রেতা দুজনেই পড়েন বিপদে। ক্যাপিটাল তা মানবে কেন? তাঁর চাই এক শব্দের একটাই অর্থ।
বহুত্ব বা বহুরৈখিকতা পুঁজির পক্ষে বাধাস্বরূপ। ফলত, পুঁজির দালাল শিক্ষাকেন্দ্রগুলি হরিচরণকে ব্রাত্য করে রাখে। নমো-নমো করে জন্মের ১৫০ বছর তারা পালন করে বটে, তবে তা 'পূজা'র উদ্দেশ্যেই, তাঁকে অনুসরণের বিন্দুমাত্র আগ্রহ তাদের নেই। এক দেশ, এক জাতি, এক ধর্ম, এক আইনের ধারক-বাহকেরাও তাই চায়, বহুরৈখিক ভারতীয় সংস্কৃতি ধ্বংস হোক। পুঁজি, শিক্ষাকেন্দ্র আর মৌলবাদীদের এক নির্বিকল্প গাঁটবন্ধন গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে দাপাচ্ছে, হরিচরণের মতো মহর্ষির স্থান সেখানে কোথায়! কলিম খান এই অন্যায় গাঁটবন্ধনকে চিহ্নিত করলেন। ফলত, তাঁকেও ব্রাত্য করল অ্যাকাডেমি।
এই বিকারগ্রস্ত সময়ে কলিম প্রায়ই বলতেন, ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাত থেকে এই বাংলাকে রক্ষা করছে তিনটি শক্তি। কী সেই ত্রিশক্তি? বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, একটি সরোবর কত বড়ো ছিল, বোঝা যায় সেটি শুকিয়ে গেলে। আমরা সেই শুকনো সরোবরের তীরে দাঁড়িয়ে আছি এখন। ট্র্যাজেডি হল, এখনও বুঝতে পারছি না বা চাইছি না ক-ত জল ছিল একদা সেই সরোবরে। ভাষা ও সংস্কৃতির বিপুল উত্তরাধিকার হারিয়ে আমরা আজ ভিখারি। সুযোগ পেয়ে গো-রক্ষকদের তাণ্ডব তো চলবেই!
রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'সভ্যতার সংকট'-এ লিখেছিলেন 'অতীতের সঙ্গে ভারতের নৃশংস আত্মবিচ্ছেদ'। নৃশংস শব্দ ছাড়া এই আত্মবিচ্ছেদকে সত্যিই বর্ণনা করা যায় না। আমরা ঐশ্বর্যহীন হয়েছি স্বেচ্ছায়, ফলত প্রতি পদে পদে সহ্য করতে হবে 'মুর্খ ভক্ত'দের তাণ্ডব। কলিম-বর্ণিত ‘ত্রি’ফলা’র ফলাগুলো নষ্ট করেছি বা করে চলেছি অহরহ। নিজেদের শক্তিহীন করে শত্রুর সঙ্গে লড়াই করব কীভাবে?
ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই, কলিম খান যখন ক্রমশ প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন, চিরবিদায় নিলেন তিনি অকস্মাৎ। উপেক্ষা বা ব্যঙ্গ, এই সময় কোনও শস্ত্রই তাঁর দিকে না-ছুঁড়ে, তাঁর ভাবনা-ভুবনে সামান্য অনুপ্রবেশ করলে ক্ষতি কী? একটু চর্চা, ভাব-বিনিময় কি তর্কশীল বাঙালি করতে পারে না? অবশ্য বাঙালির সঙ্গে ‘প্রগতিশীল’ বা ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ খুব যায়, কিন্তু তর্কশীল? আপনি কী বলেন?
π | ২০ জুন ২০১৮ ১২:৩৬84404
ss | ২১ জুন ২০১৮ ০৪:৪৬84414
ss | ২১ জুন ২০১৮ ০৫:৫৫84410
h | ২১ জুন ২০১৮ ০৮:০০84411
Atoz | ২১ জুন ২০১৮ ০৮:১৬84415
h | ২১ জুন ২০১৮ ০৮:৩২84412
তাতিন | ২১ জুন ২০১৮ ০৯:৫৩84413
h | ২২ জুন ২০১৮ ০১:০৬84436
Atoz | ২২ জুন ২০১৮ ০১:০৭84417
i | ২২ জুন ২০১৮ ০১:১২84418
Atoz | ২২ জুন ২০১৮ ০১:১৬84419
h | ২২ জুন ২০১৮ ০১:৫১84420
h | ২২ জুন ২০১৮ ০১:৫৩84421
h | ২২ জুন ২০১৮ ০১:৫৫84422
h | ২২ জুন ২০১৮ ০২:০৪84437
dc | ২২ জুন ২০১৮ ০২:১৬84438
h | ২২ জুন ২০১৮ ০৩:০৫84423
modi | ২২ জুন ২০১৮ ০৩:২০84424
i | ২২ জুন ২০১৮ ০৩:৩৪84425
h | ২২ জুন ২০১৮ ০৪:২৫84426
Atoz | ২২ জুন ২০১৮ ০৫:৪৮84439
Atoz | ২২ জুন ২০১৮ ০৫:৫৭84440
modi | ২২ জুন ২০১৮ ০৬:০৭84427
h | ২২ জুন ২০১৮ ০৬:৩২84428
ss | ২২ জুন ২০১৮ ০৮:১২84429
i | ২২ জুন ২০১৮ ০৮:৩১84430
র২হ | ২২ জুন ২০১৮ ০৮:৫২84431
একক | ২২ জুন ২০১৮ ০৯:১৯84432
h | ২২ জুন ২০১৮ ০৯:৫৭84433
modi | ২২ জুন ২০১৮ ১২:৪৫84434