এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বাকিসব   নেট-ঠেক-কড়চা

  • বিদ্রোহ চারিদিকে বিদ্রোহ আজ - জুলাই ২০২৬

    লেখকের গ্রাহক হোন
    বাকিসব | নেট-ঠেক-কড়চা | ২৩ জুলাই ২০২৬ | ৬০৯ বার পঠিত
  • এই টইটায় লিঙ্কগুলো জড়ো করবো। GenZ ফেসবুক ব্যবহার করেই না। ইন্সটা আর ট্যুইটারে আপডেট পাচ্ছি মূলত। পরে কী হবে জানি না, কিন্তু যেভাবে স্নোবলিং এফেক্টে ছড়িয়ে গেছে বিদ্রোহ তার কিছু নমুনা থাক এখানে।
     
    অ্যাডভোকেটরা এগিয়ে এসেছেন কেস লড়তে
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • Fake news busted (Republic) | ২৫ জুলাই ২০২৬ ০২:৩৩748130


  • https://www.altnews.in/based-on-viral-fake-letter-republic-news-18-claim-jamaat-e-islami-support-to-cjp/

    Based on viral fake letter, Republic, News 18 claim Jamaat-e-Islami support for CJP

    A news bulletin from media outlet #Republic on July 21 claimed that Bangladeshi Islamist political party, Jamaat-e-Islami, had openly expressed support for the Cockroach Janta Party (CJP) protest in Delhi’s Jantar Mantar on July 20, further linking it to an alleged “anti-India toolkit”.
    “Was this a coordinated effort by this anti-India toolkit..?” asks the reporter in the bulletin, referring to the youth-led protests, alleging that the same “toolkit” was employed during #ShaheenBagh, Red Fort, and other protests. Additionally, the anchor claims that CJP “goons” and “hooligans” attacked police personnel, resulting in injuries to several “innocent” officers.
    The bulletin cites an alleged “letter” or a “formal note” from the Jamaat-e-Islami supporting the students protesting in India. An image purportedly showing the “letter” dated July 21, 2026, allegedly issued by the #Jamaat-e-Islami, claiming their support for the student movement in India, has been widely circulated on social media.
    Media outlet #News18 published an article with the viral image of the letter titled ‘Bangladesh’s Jamaat-e-Islami Sent ‘Support Letter’ To Delhi Protesters? Exclusive From Intel Sources’. “Agencies are verifying the authenticity of the letter, but officials underline that any involvement of foreign political or ideological groups warrants close scrutiny,” read the strapline of the report.
    Similarly, NewsX in their bulletin amplified the viral image to claim that the CJP protest had international links to it.
    On July 21, several pro-BJP X handles shared the letter claiming Jamaat’s support to the CJP. Among them are Megh Updates (@MeghUpdates), The Jaipur Dialogues (@JaipurDialogues), Kreately.in (@KreatelyMedia), and Rishi Bagree (@rishibagree), and others.
    #FactCheck: The viral letter is fake. It has several inconsistencies including the word 'Bangladesh' misspelt and a logo mismatch. Besides, Jamaat-e-Islami itself clarified that the letter was forged. AI detection tools indicated a 99% chance of the document being AI generated.
    Channels like Republic, News 18 and News X ran reports based on a fake letter without any verification whatsoever.

    Read the full fact check by Ankita Mahalanobish on our website. Link in comment.
    #AltNews #AltNewsFactCheck #altnewsanalysis #altnewsreport #altnewsinvestigation #informationjustice #propaganda #godimediaindia #republic #ArnabGoswami #cjpprotest
  • ইন্সটা বনাম হোয়া | ২৫ জুলাই ২০২৬ ০৬:২২748132
  • https://www.thehindu.com/news/national/the-whatsapp-generation-made-todays-bjp-the-instagram-generation-is-challenging-it/article71256849.ece

    "The only tool that the state has to tame a generation that its parents cannot is brute force. Brute force may succeed in the geographic and social peripheries of the nation, but in the heartland, things are more complicated.
     
     
    "The WhatsApp generation were Hindutva natives while the Instagram generation is insurrectionary. The BJP has had the toolkit to tame the WhatsApp universe and make it dance to its tune; in the Instagram universe, the BJP is like a deer in the headlights, left with nothing other than brute force in response.

    "Parents who have sent a message to their kids on WhatsApp and noted that they don’t even see it will recognise a disconnect. Then they discover that their kids these days communicate on Instagram, Snapchat, etc. The parents then set out to find their children on Instagram — but more often than not, they just cannot even find them. That is the disconnect between the WhatsApp generation and the Instagram generation. That is the disconnect that is mirrored in the disconnect between the BJP-controlled Indian state and the country’s youngest generation."
  • অরিন | ২৫ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪৭748133
  • ভালই হয়েছে। ওয়াটসযাপ কাকুরা যতদিনে ইনস্টা আয়ত্ত করবেন. জেন জি ডিসেম্ট্রালাইজড অ্যাপ চলে যাবে।
    সুতরাং।
  • | ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৫:০২748134
  • | ২৫ জুলাই ২০২৬ ২০:১১748137
  • আরো কটা পোস্টার
     




  • মার বনাম হিউমার | ২৬ জুলাই ২০২৬ ১০:০৩748138
  • মার বনাম হিউমার!

    জেন জির বিক্ষোভ আন্দোলনের স্লোগান, রসবোধ, ক্যাচলাইন, শব্দের খেলা চোখ টেনেছে সবারই। মতে মিলুক, না-মিলুক, জেন জির রসবোধ, খিল্লি-খিস্তিকে বুঝতে গেলে তাদের জীবনযাপন, পছন্দ-অপছন্দের বিষয়গুলো ছানবিন করতে হবে। জেন জি বেড়ে উঠেছে ইন্টারনেট নিয়েই। ভুললে চলবে না, পুরোনো প্রজন্ম দৈনন্দিন জীবন থেকে রাজনীতির কাঁটা সযত্নে বেছে রাখত। নতুন প্রজন্মের ফোনে মিম, পারিবারিক ছবি আর রাজনীতির সহাবস্থান চলে। স্মার্টফোন যবে থেকে এসেছে, মানুষের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সবচেয়ে বড় দলিল এই যন্ত্রটাই। স্মার্টফোন ছিল বলেই এমন সব মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়েছে, যা হয়তো হারিয়েই যেত। কারও মতে, জেন জি-র জীবনটাই বড় খিল্লি, তাই তাদের প্রতিবাদে এই খিল্লি সহজাতভাবেই এসেছে। কেউ বলে জেন জির হাস্যরসকে নির্লিপ্তি ভাবাটা ভুল। উদ্দেশ্য আসলে ঠিক উল্টো।
    নতুন প্রজন্মের তৈরি করা প্রতিটা খিল্লি, শব্দের খেলার মধ্যে লুকিয়ে আছে তাদের গ্লোবাল পরিচয়, দেশ-বিদেশের সিনেমা, সিরিজ, মাঙ্গা, অ্যানিমে নিয়ে প্রগাঢ় জ্ঞান। সেই সঙ্গে দিশি পপুলার কালচারকেও ব্যবহার করা।
    আবার অস্বীকার করার জায়গা নেই, নতুন প্রজন্ম অনেক বেশি ঘাড়ত্যাঁড়া, কিছু ক্ষেত্রে স্বার্থপরও বটে। ওদের জন্য কেউ কনসিডার করেনি, ওরাও কারও জন্য করে না। এ দায় কার? আবার নতুন প্রজন্ম অনেক বেশি টেকনিক্যাল। বাতিকগ্রস্ত বা কুসংস্কারাচ্ছন্নও নয় তারা।

    আমি বিশ্বাস করি হিউমারের কোনও প্রজন্ম হয় না। হাস্যরস চিরকেলে, যুগে যুগে শুধু নিজেদের মতো চেহারা বদলে নেয়। যন্তর মন্তরে প্রচণ্ড নজর টেনেছে একের পর এক ক্যাচলাইন, রসিকতা আর গোদা কথায় ‘খিল্লি’। ভোটে, বিক্ষোভে এমন রসিকতা কি খুব পুরনো কিছু? ক্যাচলাইন ছাঁকার ব্যাপারে আমাদের প্রজন্ম নবারুণ ভট্টাচার্যকেও পেয়েছে, আবার রোদ্দুর রায়কেও। কলকাতার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের প্রজন্ম দারুণ কিছু পোস্টার, ক্যাচলাইন দিয়েছিল সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের বিরুদ্ধে- ‘ভিসি তুমি দুষ্টু লোক/ তোমার মাথায় উকুন হোক।’ কিংবা তুলে ধরেছিল গন্ডারের ছবি। তাতে দেখা যায়, সেই গন্ডার গোদা-পা জোড় করে বলছে, আপনাকে প্রণাম ভিসি স্যর।
    আমাদের প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরাই (জেন জি নই আমরা) প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে পপুলার কালচারকে হাতিয়ার করে স্লোগান দিয়েছিল- ‘প্রশাসন তুমি জুন আন্টির থেকেও খারাপ!’
    এ জিনিস যুগে যুগে হয়েছে। ছয়ের দশকে যুক্তফ্রন্টের বিরুদ্ধে কংগ্রেস স্লোগান দিয়েছিল ‘যুক্তফ্রন্টে কী পেলাম/ গুলি-বুলি-লাল সেলাম।’ বাম শিবিরও পাল্টা দিয়েছিল ‘আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে/ সেন প্রফুল্ল, ঘোষ প্রফুল্ল, আর অতুল্য নাচে।’

    যন্তর মন্তরে জেন জি-র ‘উগ্র’ খিল্লি অনেকেই পছন্দ করেননি। হাস্যরসের নামে বেয়াড়াপনা, অশ্লীলতা বরদাস্ত করাটাও ঠিক নয়। অস্বীকার করলে অন্যায় হবে, খিল্লির মাত্রা ছাড়িয়েছেন অনেকেই, তবে বেশ কিছু নির্মল হাস্যকৌতুকে মানুষ হেসেছেও বিস্তর। প্রশংসা করেছে ছোটদের তুমুল রসবোধের। যেমন এক তরুণী স্যানিটারি প্যাডে পোস্টার সাঁটিয়েছেন-’কোশ্চেন যেভাবে লিক হচ্ছে, আমার প্যাডও অত লিক হয় না।’ আবার গব্বর সিংয়ের ডায়লগ ধার করে কেউ লিখেছেন, ‘কিতনে লিক থে?’ কেউ স্লোগান দিয়েছেন, ‘এই বিক্ষোভ তো আমাদের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা!’ কেউ বলেছে, ’নিজেদের বল (বহুবচন) নিয়ে খেলুন, আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়।’ কেউ সাদা কাগজ তুলে বলেছেন, ‘আসলে যা পেলাম’। অসামান্য ‘পান্‌’ ব্যবহার করেছেন একজন- ‘NEETFLIX: re-exam in every season’। আবার ‘ব্লিঙ্কইট’-কে ভেঙিয়ে কেউ বানিয়েছেন ‘লিকইট, ইন্ডিয়া’জ ফাস্টেস্ট ডেলিভারি সার্ভিস : কোশ্চেন পেপারস’। ‘হেরাফেরি’-র পরেশ রাওয়াল মিশে গিয়েছেন ডোরা দি এক্সপ্লোরার,আয়রনম্যান, স্পাইডারম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকাদের সঙ্গে। কেউ রিল বানালেন ‘আমি প্রতিবাদ করতে যাচ্ছি। এই আমার পোশাক। বন্ধুরা, এবার যাই ক্যাল খেতে।’ একজন ধোঁয়া দেখে বলেছেন, ‘আমি যমুনাপাড়ের ছেলে, আমাকে এসব দ্যাখাচ্ছ!’
    এক তরুণী শান্তভাবে লিপস্টিক ঠিক করতে করতে বলেছেন, নিজের রূপ দেখাচ্ছি, কারণ ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। আবার কেউ বলেছেন, কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়া-জ্বালা কোনও নতুন রান্নার রেসিপি হলে মন্দ হয় না। কেউ বলছেন, পুরো একটা প্রজন্মকেই কি আপনারা গ্যাসলাইট করতে পারবেন? ‘গ্যাসলাইট’ কী? কাউকে কৌশলে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করা। কেউ একজন ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলে বা ভান করে অন্য মানুষের মনে নিজের বিচারবুদ্ধি,স্মৃতিশক্তি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে। এর ফলে এর শিকার ধীরে ধীরে নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে পুরোপুরি ওই মানুষটার ওপরই নির্ভর করতে শুরু করে। ১৯৪৪ সালের ‘গ্যাসলাইট’ সিনেমা থেকে কথাটি এসেছে। সিনেমায় এক স্বামী তার স্ত্রীর মাথায় এই সন্দেহ ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল যে সে পাগল হয়ে যাচ্ছে, যাতে স্বামী সহজে স্ত্রীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
    আবার জনপ্রিয় মোবাইল গেম ‘সাবওয়ে সারফার্স’কে টেনে খিল্লি উড়িয়েছেন কেউ কেউ। এই গেম অন্তহীন। খেলোয়াড়কে পুলিশের হাত থেকে দৌড়ে পালাতে হয়। এই দৌড়ের শেষ নেই। কেউ টিপ্পনি কেটেছেন, ‘আমার প্রাক্তনও আমায় এতটা অবহেলা করে নি!’

    জেন জির কাছে ইন্টারনেট ছাড়া এক মুহূর্তও চলা অসম্ভব। এই তরুণদের হাত ধরেই জন্ম নিয়েছে নতুন নতুন সব মজার ‘অকথ্য’ ভাষা ও স্ল্যাং। এ ধরনের স্ল্যাং মোটামুটি পাঁচ রকম- একদম নতুন ও সৃজনশীল শব্দ, একটু মজা বা টিপ্পনি, পরিচিত কোনও শব্দকেই একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা, কয়েকটি শব্দের প্রথম অক্ষর নিয়ে তৈরি সংক্ষিপ্ত শব্দ বা অ্যাক্রোনিম এবং বড় কোনও শব্দকে কেটে ছোট করে নেওয়া। যেমন, ‘omgosh’ এসেছে ‘oh my gosh’* থেকে,’cuz’এসেছে ‘because’ থেকে, ‘delulu’এসেছে ‘delusional’থেকে। এভাবে ছেঁটে নেওয়াকে বলে ক্লিপিং। ফিলিপিন্সের জেন-জি তরুণরা খুব বলে 'forda ferson'। ‘forda’ হল 'for the', 'ferson' এসেছে 'person' থেকে।
    আগে একচেটিয়াভাবে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভে ব্যবহৃত হত গাই ফক্সের মুখোশ। রাজা প্রথম জেমসের নিপীড়ন থেকে সাধারণকে রক্ষা করার জন্য গাই ফক্স ও তাঁর সঙ্গীরা লন্ডনের পার্লামেন্ট ভবনের নীচে প্রচুর পরিমাণ বারুদ মজুত করেছিলেন। কিন্তু ধরা পড়ে যান, মৃত্যুদণ্ড হয়। এই গাই ফক্স মুখোশই পরে হয়ে ওঠে বিক্ষোভের আইকন, প্রতীক। এমনকী চরমপন্থীদের কেউ কেউ গান্ধীজির ছবির হাতে গাই ফক্সের মুখোশ ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
    ‘মানি হাইস্ট’ ওয়েব সিরিজের জনপ্রিয়তার পর বিক্ষোভের প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সালভাদর দালির মুখের আদলের অদ্ভুত মুখোশ।
    হালে আফ্রিকা থেকে এশিয়া জুড়ে জেন জি বিক্ষোভে বেশ কিছু নতুন প্রতীক দেখা গেছে। বিক্ষোভের ইস্যুগুলো আলাদা, কিন্তু হাতে হাতে ফিরেছে কালো রঙের একটা পতাকা, তাতে আঁকা খড়ের টুপি পরা একটা হাসিমুখের কঙ্কাল। নীচে একজোড়া হাড়ের ক্রস চিহ্ন।
    নেপালের ক্ষুব্ধ তরুণদের জমায়েতেও এই কঙ্কাল হাজির ছিল। ইন্দোনেশিয়া,ফিলিপিন্স, মাদাগাস্কার,মরক্কোর বিক্ষোভেও এই পতাকা উড়েছে। ‘ওয়ান পিস’ নামের একটি জাপানি অ্যানিমে ও মাঙ্গা সিরিজ থেকে কঙ্কালবাবাজি এসেছেন। খড়ের টুপিপরা একদল জলদস্যুর টিম রয়েছে তাতে। মাঙ্কি ডি লুফি চরিত্রের নেতৃত্বে তারা নিপীড়কদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। লুফি অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায় না। যেখানেই যায়, অত্যাচারী শাসক বা দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তির কবল থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করে। মাদাগাস্কারবাসী প্রতীকটিকে সামান্য পরিবর্তন করে কঙ্কালের মাথায় বেতসিলেও জাতিগোষ্ঠীর ‘সাত্রোকা’ বালতি টুপি পরিয়ে দিয়েছিলেন।
    ২০০৫ সালে কার্টুনিস্ট ম্যাট ফুরি তাঁর ‘বয়েজ ক্লাব’ কমিক সিরিজে সৃষ্টি করেছিলেন ‘পেপে দ্য ফ্রগ’-কে। সবুজ রঙের ব্যাঙ। শুরুর দিকে নানা আবেগ-অভিব্যক্তি প্রকাশ করার সাধারণ ইন্টারনেট মিম হিসেবেই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটের বিভিন্ন ফোরামে এই চরিত্রটির ব্যবহার বদলে যেতে শুরু করে। ২০১০-এর মাঝামাঝি সময়ে উগ্রবাদী ও শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীরা পেপেকে নিজেদের রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ও বদ এজেন্ডা প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ২০১৬ সালে আমেরিকার নির্বাচনে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ একে ঘৃণার প্রতীক বা হেট সিম্বল হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এমনকি বিরক্ত ও হতাশ হয়ে এর স্রষ্টা ম্যাট ফুরি কমিকের পাতায় পেপেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলেও ঘোষণা করেছিলেন।
    ‘পেপে দ্য ফ্রগ’-এর সবচেয়ে বড় মোড় ঘোরে ২০১৯ সালে। হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী গণআন্দোলনে তরুণ বিক্ষোভকারীরা একে লুফে নেয়। মার্কিন রাজনীতির উগ্র ডানপন্থী বা বর্ণবাদী ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত না থাকায় হংকংয়ের যুবসমাজ এই চরিত্রটিকে মজার, সহজবোধ্য ও বন্ধুভাবাপন্ন ম্যাসকট বা প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে। হলুদ রঙের হেলমেট পরা, মুখে মাস্ক আঁটা কিংবা প্রেসের কোট পরিহিত নানা ভঙ্গির পেপেকে তারা সরকারবিরোধী প্রতিবাদের ভাষা বানিয়ে নেয়। হংকংয়ের সেই আন্দোলনের পরই মূলত আন্তর্জাতিক মঞ্চে পেপে দ্য ফ্রগ নতুন রূপ পেয়েছিল। উগ্র ডানপন্থীদের রাজনৈতিক কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে এখন এই ব্যাঙ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, একতা ও প্রতিবাদের এক ডিজিটাল প্রতীক, বিশ্বের নানা প্রান্তের তরুণদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বার বার ফিরে আসে আজ।
    আরও একটা বিষয় অত্যন্ত জরুরি। ইদানিংকালের সিংহভাগ জেন জি বিক্ষোভের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে জড়িয়ে আছে ইন্টারনেট। কোনও সরকার সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষমতা বুঝল। বুঝে পৌছেও গেল বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের কাছে। তৈরি হল বড় বড় আইটি সেল, তাবড় অনলাইন বাহিনী, ট্রোল সৈনিক। ঢালা হল প্রচুর টাকা। সরকারের হাতিশাল, ঘোড়াশালে আলো করে রইল তাবড় সব নেটপ্রভাবী। ঘটনাচক্রে পাশাপাশি এমন একটা প্রজন্ম তৈরি হয়ে গেছে যারা ইন্টারনেট দিয়েই ব্রেকফাস্ট সারে। যাদের ঘাড়ে চেপে সরকার চলতে চায়, বেঁকে বসল সেই ডিজিটাল প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাই। ক্ষমতাসীনাদের নিয়ে লাগাতার এমন সব খেয়ালি মিম তৈরি করতে লাগল, যাতে ক্ষমতার মনে হল এরা তো ঘেঁটে দিচ্ছে! ক্ষমতাশালীর নিজস্ব ভাড়াটে ক্যামেরাবাহিনীর সামনেই তারা সরাসরি খিল্লি উড়িয়ে দিল। এতে তো শাসকদের তৈরি করা ন্যারেটিভও গেল গুলিয়ে।
    কেউ যদি এক যুগ আগে বসে ভাবে, সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে সবার মনস্তত্ত্বকে নিজেদের ছাঁচে গড়ে তুলব, এটা ভাবেনি একদিন তাদেরই সেই নিজস্ব অস্ত্র অন্যভাবে ফিরে আসতে পারে। জেন-জি ভারী ইশতেহার বা পুঁথিগত বয়ান বোঝে না, ওদের রোজকার স্ক্রিনটাইম, ওদের গান, ওদের ইনস্টাগ্রামের স্টোরি ওদের প্রতিদিনের খিল্লিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। ক্ষমতা ওদের ওপর চড়াও হলে বাড়িতে ফিরে ওরাই চোখের জল মুছতে মুছতে খিল্লি করে দেয় সবটা। কী-ই বা করবে আর!

    পাথরের দুর্বলতা হল তার গায়ে ছিটকে এসে লাগা উপহাস!
     
    -অন্বয় গুপ্ত
  • মার বনাম হিউমার | ২৬ জুলাই ২০২৬ ১০:০৫748139







  • - অন্বয় গুপ্ত
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন