এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • স্বামী বিবেকানন্দ ই: নির্মোহ (তিন)

    Samik
    অন্যান্য | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ | ৬৪৯৮৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৬:৫৪513717
  • সমাজ সংস্কার আর ধর্ম প্রসঙ্গে আলাসিঙ্গাকে লেখা এই চিঠিটা পড়ে নিন -

    DEAR ALASINGA,

    . . . Meddle not with so-called social reform, for there cannot be any reform without spiritual reform first. Who told you that I want social reform? Not I. Preach the Lord — say neither good nor bad about the superstitions and diets.

    Ever yours with blessings,

    VIVEKANANDA.
    19 W., 38 ST.,
    NEW YORK, 1895.

    "বাজে সমাজ সংস্কার নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করো না, প্রথমে আধ্যাত্মিক সংস্কার না হলে সমাজ সংস্কার হতে পারে না। কে তোমায় বললে আমি সমাজ সংস্কার চাই। আমি তো তা চাই না। ভগবানের নাম প্রচার কর, কুসংস্কার ও সমাজের আবর্জনার পক্ষে বা বিপক্ষে কিছু বল না।"
  • দীপ | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৭:১২513728
  • বাংলা লিঙ্কটির জন্য দুখে বাবুকে অসংখ্য ধন্যবাদ !

    কুমোর প্রসঙ্গে আলোচনা থেকে আরেকটু তুলে ধরছি -

    "জ্ঞানোন্মেষ হলেও কুমোর কুমোরই থাকবে, জেলে জেলেই থাকবে, চাষা চাষই করবে। জাত-ব্যবসা ছাড়বে কেন? 'সহজং কর্ম কৌন্তেয় সদোষমপি ন ত্যজেৎ'-এই ভাবে শিক্ষা পেলে এরা নিজ নিজ বৃত্ত ছাড়বে কেন? জ্ঞানবলে নিজের সহজাত কর্ম যাতে আরও ভাল করে করতে পারে, সেই চেষ্টা করবে। দু-দশ জন প্রতিভাশালী লোক কালে তাদের ভেতর থেকে উঠবেই উঠবে। তাদের তোরা (ভদ্র জাতিরা) তোদের শ্রেণীর ভেতর করে নিবি। তেজস্বী বিশ্বামিত্রকে ব্রাহ্মণেরা যে ব্রাহ্মণ বলে স্বীকার করে নিয়েছিল, তাতে ক্ষত্রিয় জাতটা ব্রাহ্মণদের কাছে তখন কতদূর কৃতজ্ঞ হয়েছিল— বল্ দেখি? ঐরূপ sympathy (সহানুভূতি) ও সাহায্য পেলে মানুষ তো দূরের কথা, পশুপক্ষীও আপনার হয়ে যায়।"

    ইতরশ্রেণী ও ভদ্রশ্রেণীর মধ্যে সম্পর্কের এই রাজনৈতিক পরামর্শে শ্রেণীবিভেদ ঘোচানোর কোন প্রয়াস দেখা যাচ্ছে না। উলটে শ্রেণীভেদের সপক্ষে প্রচ্ছন্ন সমর্থনই প্রকাশ পাচ্ছে।
  • দীপ | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৭:২৫513739
  • "তুই বামুন, অপর জাতের অন্ন নাই খেলি" - এই প্রসঙ্গে -
    http://www.dduttamajumder.org/baniorachana/node.php?khanda=9&pageno=150

    "শাস্ত্র বলেন, খাদ্য ত্রিবিধ দোষে দুষ্ট ও পরিত্যাজ্য হয়ঃ (১) জাতিদুষ্ট-যেমন পেঁয়াজ, রশুন ইত্যাদি। (২) নিমিত্তদুষ্ট-যেমন ময়রার দোকানের খাবার, দশগন্ডা মাছি মরে পড়ে রয়েছে, রাস্তার ধূলোই কত উড়ে পড়ছে। (৩) আশ্রয়দুষ্ট -যেমন অসৎ লোকের দ্বারা স্পৃষ্ট অন্নাদি। খাদ্য জাতিদুষ্ট ও নিমিত্তদুষ্ট হয়েছে কি না, তা সকল সময়েই খুব নজর রাখতে হয়। কিন্তু এদেশে ঐদিকে নজর একেবারেই উঠে গেছে। কেবল শেষোক্তি দোষটি-যা যোগী ভিন্ন অন্য কেউ প্রায় বুঝতেই পারে না, তা নিয়েই যত লাঠালাঠি চলছে, ‘ছুঁয়োনা ছুঁয়োনা’ করে ছুঁৎমার্গীর দল দেশটাকে ঝালাপালা করেছে। তাও ভালমন্দ লোকের বিচার নেই; গলায় একগাছা সূতো থাকলেই হল, তার হাতে অন্ন খেতে ছুঁৎমার্গী- দের আর অপত্তি নেই। খাদ্যের আশ্রয়দোষ ধরতে পারা একমাত্র ঠাকুরকেই দেখেছি। এমন অনেক ঘটনা হয়েছে, যেখানে তিনি কোন কোন লোকের ছোঁয়া খেতে পারেননি। বিশেষ অনুসন্ধানের পর জানতে পেরেছি—বাস্তবিকই সে-সকল লোকের ভিতর কোন-না-কোন বিশেষ দোষ ছিল। তোদের যত কিছু ধর্ম এখন দাঁড়িয়েছে গিয়ে ভাতের হাঁড়ির মধ্যে! অপর জাতির ছোঁয়া ভাতটা না খেলেই যেন ভগবান-লাভ হয়ে গেল! শাস্ত্রের মহান্ সত্যসকল ছেড়ে কেবল খোসা নিয়েই মারামারি চলছে।

    শিষ্য। মহাশয়, তবে কি আপনি বলিতে চান, সকলের স্পৃষ্ট অন্ন খাওয়াই আমাদের কর্তব্য?

    স্বামীজী। তা কেন বলব? আমার কথা হচ্ছে তুই বামুন, অপর জাতের অন্ন নাই খেলি; কিন্তু তুই সব বামুনের অন্ন কেন খাবিনি? তোরা রাঢ়ীশ্রেণী বলে বারেন্দ্র বামুনের অন্ন খেতে আপত্তি হবে কেন? আর বারেন্দ্র বামুনই বা তোদের অন্ন না খাবে কেন? মারাঠী, তেলেঙ্গা ও কনোজী বামুনই বা তোদের অন্ন না খাবে কেন? কলকাতার জাতবিচারটা আরও কিছু মজার। দেখা যায়, অনেক বামুন-কায়েতই হোটেলে ভাত মারছেন; তাঁরাই আবার মুখ পুঁছে এসে সমাজের নেতা হচ্ছেন; তাঁরাই অন্যের জন্য জাতবিচার ও অন্ন- বিচারের আইন করছেন! বলি ঐসব কপটীদের আইনমত কি সমাজকে চলতে হবে? ওদের কথা ফেলে দিয়ে সনাতন ঋষিদের শাসন চালাতে হবে, তবেই দেশের কল্যাণ।

    শিষ্য। তবে মহাশয়, এখন আমাদের কি করতে হইবে?

    স্বামীজী। ঋষিগণের মত চালাতে হবে; মনু, যাজ্ঞবল্ক্য প্রভৃতি ঋষিদের মন্ত্রে দেশটাকে দীক্ষিত করতে হবে। তবে সময়োপযোগী কিছু কিছু পরিবর্তন ক’রে দিতে হবে। এই দেখ না ভারতের কোথাও আর চাতুর্বর্ণ্য-বিভাগ দেখা যায় না। প্রথমতঃ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র- এই চার জাতে দেশের লোকগুলোকে ভাগ করতে হবে। সব বামুন এক করে একটি ব্রাহ্মণজাত গড়তে হবে। এইরূপ সব ক্ষত্রিয়, সব বৈশ্য, সব শূদ্রদের নিয়ে অন্য তিনটি জাত করে সকল জাতিকে বৈদিক প্রণালীতে আনতে হবে। নতুবা শুধু 'তোমায় ছোঁব না' বললেই কি দেশের কল্যাণ হবে রে? কখনই নয়।"

    - এইটুকু পড়ার পরে যদি কেউ বলেন স্বামীজি ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং জাতিভেদের সপক্ষে কোন কথা বলেন নি, তিনি খুব সত্যি কথা বলবেন কি?
  • dukhe | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৭:৪২513750
  • বেশ, তবে নয় আলাসিঙ্গাকে লেখা আরো কোটেশন দিই -

    "আমাদের কার্যের এই মূল কথাটা সর্বদা মনে রাখিবে—'ধর্মে একবিন্দুও আঘাত না করিয়া জনসাধারণের উন্নতিবিধান।' মনে রাখিবে, দরিদ্রের কুটীরেই আমাদের জাতীয় জীবন স্পন্দিত হইতেছে। কিন্তু হায়, কেহই ইহাদের জন্য কিছুই করে নাই। আমাদের আধুনিক সংস্কারকগণ বিধবা-বিবাহ লইয়া বিশেষ ব্যস্ত। অবশ্য সকল সংস্কারকার্যেই আমার সহানুভূতি আছে, কিন্তু বিধবাগণের স্বামীর সংখ্যার উপরে কোন জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে না; উহা নির্ভর করে—জনসাধারণের অবস্থার উপর। তাহাদিগকে উন্নত করিতে পারো? তাহাদের স্বাভাবিক আধ্যাত্মিক প্রকৃতি নষ্ট না করিয়া তাহাদিগকে আপনার পায়ে দাঁড়াইতে শিখাইতে পারো? তোমরা কি সাম্য, স্বাধীনতা, কার্য ও উৎসাহে ঘোর পাশ্চাত্য এবং ধর্মবিশ্বাস ও সাধনায় ঘোর হিন্দু হইতে পারো? "

    আরো কিলিয়ার ক'রে -

    "আমার উদ্দেশ্য এই যে, ভারতে বা ভারতের বাহিরে মনুষ্যজাতি যে মহৎ চিন্তারাশি উদ‍্ভাবন করিয়াছে, তাহা অতি হীন, অতি দরিদ্রের নিকট পর্যন্ত প্রচার করা। তারপর তারা নিজেরা ভাবুক জাতিভেদ থাকা উচিত কি না, স্ত্রীলোকদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাওয়া উচিত কি না, এ বিষয়ে আমার মাথা ঘামাইবার দরকার নাই। 'চিন্তা ও কার্যের স্বাধীনতার উপরেই নির্ভর করে জীবন, উন্নতি এবং কল্যাণ'। ইহার অভাবে মানুষ, বর্ণ ও জাতির পতন অবশ্যম্ভাবী।

    জাতিভেদ থাকুক বা নাই থাকুক, কোন মতবাদ প্রচলিত থাকুক বা নাই থাকুক, যে-কোন ব্যক্তি, শ্রেণী, বর্ণ, জাতি বা সম্প্রদায় যদি অপর কোন ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তার ও কার্যের শক্তিতে বাধা দেয় (অবশ্য যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ শক্তি কাহারও অনিষ্ট না করে) তাহা অতি অন্যায়, এবং যে ঐরূপ করে—তাহার পতন অবশ্যম্ভাবী।

    আমার জীবনে এই একমাত্র আকাঙ্ক্ষা যে, আমি এমন একটি যন্ত্র চালাইয়া যাইব—যাহা প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট উচ্চ উচ্চ ভাবরাশি বহন করিয়া লইয়া যাইবে। তারপর পুরুষই হউক আর নারীই হউক— নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য রচনা করিবে। "

    ঃ)
  • dukhe | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৭:৪৯513761
  • বিবুদা অনেক কিছুর স্বপক্ষেই অনেক পয়েন্ট দেখিয়েছেন। বিবেচক লোক ছিলেন, বাইনারিতে ভাবতেন না। সে আর কে কবে অস্বীকার করেছে?
  • লাটাই | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৭:৫০513772
  • মনে লিচ্চে আজ সন্ধ্যেটা এই গ্যালারিতেই কাটবে।
  • dukhe | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৮:০২513781
  • আরে না না, এক ম্যাচের রেকর্ডিং আর কবার দেখবেন?
  • দীপ | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৮:০৩513782
  • বেশ, সে নাহয় হল। কিন্তু তাতে তো আগের বলা কথাগুলো মুছে গেল না। এতো দ্বিচারীতা হচ্ছে! আর বিবেকানন্দ চরিত্রের এই বৈপরীত্যই ওই ফেসবুকের পোস্টারে ধরা হয়েছে। "পুরুষই হউক আর নারীই হউক— নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য রচনা করিবে" - অত্যন্ত মনোজ্ঞ আধুনিক মানসিকতার পরিচয়। কিন্তু পরক্ষণেই আবার বললেন - ‘প্রথমে সেই ভাবটাই উস্কে দিয়ে তাঁদের (হিন্দু নারীদের) character form করতে হবে – যাতে তাঁদের বিবাহ হোক বা কুমারী থাকুক, সকল অবস্থাতেই সতীত্বের জন্য প্রাণ দিতে কাতর না হয়। কোন একটা ভাবের জন্য প্রাণ দিতে পারাটা কি কম বীরত্ব?’ তাঁরা নিজেরাই যদি নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন তো আপনি মশাই তাঁদের ক্যারেক্টার ফর্ম করার কে?

    অন্যত্র - "...আমার ইচ্ছা কতকগুলি ব্রহ্মচারী ও ব্রহ্মচারিণী তৈরী করব। ব্রহ্মচারিণীরা মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার করবে। কিন্তু দেশী ধরনে ঐ কাজ করতে হবে। শিক্ষিতা ও সচ্চরিত্র ব্রহ্মচারিণীরা ঐ সকল কেন্দ্রে মেয়েদের শিক্ষার ভার নেবে। পুরাণ, ইতিহাস, গৃহকার্য, শিল্প, ঘরকন্নার নিয়ম ও আদর্শ চরিত্র গঠনের সহায়ক নীতিগুলি শিক্ষা দিতে হবে। ছাত্রীদের ধর্মপরায়ণ ও নীতিপরায়ণ করতে হবে, কালে যাতে তারা ভাল গিন্নি তৈরী হয়, তাই করতে হবে। ঐ সকল মেয়েদের সন্তানসন্ততিগণ পরে ঐ সকল বিষয়ে আরো উন্নতিলাভ করতে পারবে।" - অর্থাৎ চরিত্রগঠনটা ওনার মনমত হতে হবে। নইলে তাঁরা আদর্শ চরিত্রবতী বলে সমাজে সমাদর পাবেন না।

    একবার বলছেন "এ দেশের (আমেরিকা) স্ত্রীদের মত স্ত্রী কোথাও দেখিনি … এরা কেমন স্বাধীন। এদের মেয়েরা কি পবিত্র। ২৫-৩০ বছরের কমে কারুর বিয়ে হয় না। আর আমরা কি করি? আমার মেয়ের ১১ বৎসরে ‘বে’ না হলে খারাপ হয়ে যাবে! আমরা কি মানুষ?।" আবার পরক্ষণেই গণেশ ঊল্টিয়ে - "ওদেশে (পাশ্চাত্যে) মেয়েদের দেখে আমার অনেক সময় স্ত্রীলোক বলেই বোধ হত না – ঠিক যেন পুরুষ মানুষ। গাড়ী চালাচ্ছে, স্কুলে যাচ্ছে, প্রফেসরি করছে। একমাত্র ভারতবর্ষেই মেয়েদের লজ্জা, বিনয় প্রভৃতি দেখে চক্ষু জুড়ায়।" - এ কি রকম ইয়ার্কি হচ্ছে?
  • দীপ | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৮:১৫513783
  • সোমনাথ মীরশ্যাম পাইপের ঘটনা উল্লেখ করেছেন এবং নানাভাবে প্রমান করার চেষ্টা করেছেন যে ঐ পাইপ বিবেকানন্দ নিজের ব্যবহারের জন্য নয়, উপহার হিসেবে কিনেছিলেন। পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত করছি -

    http://www.dduttamajumder.org/baniorachana/node.php?khanda=6&pageno=413

    " গতকাল ১৩ ডলার দিয়ে একটা পাইপ কিনেছি-দোহাই, ফাদার পোপকে কথাটি ব'লো না যেন। কোটের খরচ পড়বে ৩০ ডলার। খাবারদাবার ঠিকই মিলছে......এবং যথেষ্ট টাকা। আশা হয়, আগামী বক্তৃতার পরেই অবিলম্বে ব্যাঙ্কে কিছু রাখতে পারব।
    ...সন্ধ্যায় এক নিরামিষ নৈশভোজে বক্তৃতা দিতে যাচ্ছি!
    ঠিক, আমি নিরামিষাশী...কারণ যখন নিরামিষ জোটে, তখন তাই আমার পছন্দ। লাইম্যান অ্যাবট—এর কাছে আগামী পরশু মধ্যাহ্ন-ভোজের আর একটি নিমন্ত্রণ আছে। সময় মোটের উপর চমৎকার কাটছে। বস্টনেও তেমনি সুন্দর কাটবে আশা হয়—কেবল ঐ জঘন্য, অতি জঘন্য বিরক্তিকর বক্তৃতা বাদে। যা হোক, ১৯ তারিখ পার হলেই এক লাফে বস্টন থেকে...চিকাগোয়,...তারপরে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেব, আর টানা বিশ্রাম—দু-তিন সপ্তাহের। তখন গ্যাঁট হয়ে বসে শুধু গল্প ক'রব—আর পাইপ টানব।"

    মেরী হেল'কে লিখছেন -
    http://www.dduttamajumder.org/baniorachana/node.php?khanda=8&pageno=92

    "আর শোন, যে আমাকে সাড়িয়ে তুলেছে, সে ধূমপান করার উপর জোর দিচ্ছে। অতএব বেশ ক'রে পাইপ টানছি এবং তার ফল ভালই হয়েছে। সোজা কথায়, স্নায়ুদৌর্বল্য ইত্যাদির সব কিছুর কারণ হ'ল অজীর্ণতা, তা ছাড়া কিছুই না।
    আমি আবার কাজেও নেবে গেছি। কাজ, কাজ–তবে কঠিন কাজ নয়; কিন্তু আমি গ্রাহ্য করি না, এবারে কিছু টাকা করতে চাই। মার্গটকে এ কথা জানিও, বিশেষ ক'রে পাইপের ব্যাপারটা।"

    তা'হলে? পাইপটা কার? স্বামীজির, নাকি ফাদার পোপের?

    অন্য এক চিঠিতে লিখছেন - "নিউ ইয়র্কে আমার যে ১০০০ ডলার আছে, তা থেকে আমি মাসে মাসে ৯ টাকা করে পাব; তখন আমি একখন্ড জমি কিনব যা থেকে ৬ টাকা আয় হবে এবং পুরাতন বাড়িটি থেকেও ৬ টাকা পাওয়া যাবে। আমি, আমার মা, দিদিমা, ভাই, মাসিক ২০ টাকা আয়ের উপর নির্ভর করে আমাদের স্বচ্ছন্দে চলে যাবে।" আবার এই ইনিই শিষ্যের সামনে জ্ঞান দিচ্ছেন - "সন্যাসীর টাকার কথা ভাবা ও টাকা পাওয়ার চেষ্টা করা আত্মহত্যার সামিল।" চমৎকার!
  • লাটাই | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৮:২১513785
  • এতদ্বারা প্রমাণিত হইল স্বামীজি রোবট ছিলেননা।
  • pi | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৮:৩১513786
  • 'দু-দশ জন প্রতিভাশালী লোক কালে তাদের ভেতর থেকে উঠবেই উঠবে। তাদের তোরা (ভদ্র জাতিরা) তোদের শ্রেণীর ভেতর করে নিবি।'

    এই কথাটা অস্বস্তিকর।
  • PT | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৮:৩২513787
  • "কুমোর কুমোরই থাকবে, জেলে জেলেই থাকবে, চাষা চাষই করবে।"-নিয়ে এত সমস্যা কেন? গত ৪-৬ বছর ধরে পণ্ডিতেরা এবং বিপ্লবীরা তো আমাদের এটাই বোঝালেন যে সিঙ্গুরের চাষীর চাষীই থাকা উচিৎ। কভু শ্রমিক হওয়া কিম্বা ড্রাইভার হওয়া উচিৎ নয়কো!!
  • pi | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৮:৩৯513788
  • এখানেও এনে ফেলেচেন ! যাগ্গে।
    আজ্ঞে, 'জ্ঞানোন্মেষ হলেও কুমোর কুমোরই থাকবে, জেলে জেলেই থাকবে, চাষা চাষই করবে। জাত-ব্যবসা ছাড়বে কেন? 'সহজং কর্ম কৌন্তেয় সদোষমপি ন ত্যজেৎ'-এই ভাবে শিক্ষা পেলে এরা নিজ নিজ বৃত্তি ছাড়বে কেন? জ্ঞানবলে নিজের সহজাত কর্ম যাতে আরও ভাল করে করতে পারে, সেই চেষ্টা করবে।' ... একথায় কোন অস্বস্তি নাই তো ! বিলক্ষণ ক দিতে, পারি। অস্বস্তি তার পরের অংশটুকুকে নিয়ে, সেটাই বলেছি।

    আর আপনি ফ্রেজিং টা অন্যরকম করেছেন। কথাটা বলা হত, চাষীর ছেলে চাষীই কেন থেকে যাবে, এ জায়ীত মন্তব্যকে কাউণ্টার করতে। যে, চাষীর ছেলে চাষী হলেই বা অসুবিধে কী !
  • PT | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৮:৪৬513789
  • না এনে উপায় কি? বিবেকানন্দকে সমকালীন করতে হবে না?
  • b | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৮:৫২513790
  • প্রথম বুজী ছিলেন দেখছি।
  • pi | ১৩ জুলাই ২০১৩ ১৮:৫৬513791
  • ঃ)
  • তাতিন | ১৩ জুলাই ২০১৩ ২০:২৭513792
  • যে কোনও সিস্টেম, একটা পর্যায়ে এসে ইনহিউম্যান মনে হলেও, তার দুচারটে ভালো জিনিস তো থাকতে পারে। যেমন দাস ব্যবস্থা,; বাজার ব্যবস্থায় একজন না খেতে পেয়ে মরলে কারও কিছু হয় টয় না। কিন্তু দাস ব্যবস্থায় দাস না খেতে পেয়ে মরলে (শাস্তি নয়, এমনি দারিদ্র জনিত অনাহার) দাসমালিকের কড়া শাস্তি হতো। নতুন ব্যবস্থাটা বেটার হলো নিশ্চয়ই, কিন্তু খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে পারল না। সে প্রসঙ্গে কার্লাইল দাস ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন।
    এরকম কিছু আস্পেক্ট তো থাকতেই পারে বর্ণাশ্রম যেটা হাজার বছর ধরে যেটা প্রোভাইড করেছিল।
  • PT | ১৩ জুলাই ২০১৩ ২১:৪৫513793
  • কেন "এখানেও এনে" ফেললাম?

    অমন "বুজি" (b-এর মতে) অরও দু-এক পিস জন্মালে (বা এক্ষেত্রে আরও লম্বা সময় বাঁচলে) দেশের উপকার হত। জামসেদজি টাটাকে কেমন বোঝালেন বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার কথা-তাতেই না ব্যঙ্গালোরে IISc-র সূচনা হল। কে জানে সমকালীন হলে এইসময়ের পন্ডিত আর বিপ্লবীদের তোয়াক্কা না করে হয়ত নাতি-টাটার কানে "কুমন্ত্রণা" দিতেন ন্যানোর মত আরও কতকগুলো কারখানা করে ফেলার জন্য!!

    এই চিঠি অনেকেই পড়েছেন। তবু আরেকবার তুলে দিতে ভাল লাগলঃ

    Esplanade House, Bombay.
    23rd Nov. 1898

    Dear Swami Vivekananda,

    I trust, you remember me as a fellow- traveller on your voyage from Japan to Chicago. I very much recall at this moment your views on the growth of the ascetic spirit in India, and the duty, not of destroying, but of diverting it into useful channels.

    I recall these ideas in connection with my scheme of Research Institute of Science for India, of which you have doubtless heard or read. It seems to me that no better use can be made of the ascetic spirit than the establishment of monasteries or residential halls for men dominated by this spirit, where they should live with ordinary decency and devote their lives to the cultivation of sciences –natural and humanistic. I am of opinion that, if such a crusade in favour of an asceticism of this kind were undertaken by a competent leader, it would greatly help asceticism, science, and the good name of our common country; and I know not who would make a more fitting general of such a campaign than Vivekananda. Do you think you would care to apply yourself to the mission of galvanizing into life our ancient traditions in this respect? Perhaps, you had better begin with a fiery pamphlet rousing our people in this matter. I would cheerfully defray all the expenses of publication.”

    With kind regards, I am, dear Swami

    Yours faithfully,
    Jamshedji Tata
  • লাটাই | ১৩ জুলাই ২০১৩ ২১:৫৭513794
  • চোখে আঙুল দাদার ৬ঃ৩২ pm বেশ। সত্যি আমরা সবসময় সৎ বিচার করিনা।
  • প্রেমনাথ | ১৩ জুলাই ২০১৩ ২২:৩৩513796
  • দীপ, ঃ-)
    বিবেকানন্দ মিঃ হেল কে মীরশ্যাম পাইপ কিনে প্রেজেন্ট করেছিলেন মানে কি এটা বোঝায় যে বিবেকানন্দের নিজের কোনো পাইপ ছিল না, বা বিবেকানন্দ ধূমপান করতেন না? মুক্তমনাদের যুক্তিবোধ ও তো দেখছি প্রশংসনীয়।

    "একবার বলছেন", আর "পরক্ষণেই" -এর মধ্যের সময় গ্যাপটা এবং দুসময় কাদের কাদের কোন কথাটা বলছেন এটা বোঝাটাকেই "কনটেক্সট' বলে। আপনি শিবু Date:13 Jul 2013 -- 03:06 AM এর লিংক থেকে যে পাতাটা খুলছে সেখানে Somnath Date:20 Jan 2012 -- 12:51 AM লেখাটা পড়ে নিতে পারেন। সোমনাথের পক্ষ থেকে এটুকুই।

    পাই,
    ব্র্যাকেটের মধ্যের কথাবার্তা সবসময় অরিজিনাল টেক্সট-এ না ও পাওয়া যেতে পারে। এ সমস্ত বক্তার ইন্টারপ্রিটেশনের ব্যপারে একটু নিজে চেক করে নেওয়া ভালো। আর চেক করার সময় কম থাকলে যেখানে যে যা লিখছে শুদ্ধু সেটুকু পড়েই নিজের মতামত গড়ে না তোলাই ভালো। এবং যেখানে যে যা মিসকোট হাফকোট করে লাইক সংগ্রহের আত্মপ্রসাদ পেতে চায়, এই ফেসবুক-ট্যুইটার-প্রবল যুগে সে সমস্ত প্রত্যেকটি বালখিল্যতার অর্বাচীনতা প্রমাণ করার চেয়েও জরুরী কাজ মানুষের থাকা উচিত বলে আমার মনে হয়।
  • Sibu | ১৩ জুলাই ২০১৩ ২২:৩৮513797
  • আমার মনে হয় না আমি বিবেকানন্দ সম্পর্কে ইন্টারেস্টেড হব। আমি জাস্ট রেফারেন্সটা দিয়ে দিয়েছিলাম।
  • বিপ | ১৩ জুলাই ২০১৩ ২২:৪৪513798
  • বিবেকানন্দ নিয়ে লেবু কচলিয়ে লাভ আছে ? উনিও জানতেন এবং মিশনের অনেক সন্নাস্যী একমতঁ হবেন তিনি হিন্দু ধর্মের সব থেকে বড় মার্কেটিং গুরু। মার্কেটিং করতে প্রোডাক্ট নিয়ে আমরা সব সময় এমন ভাবে কথা বলি, যাতে উপস্থিত শ্রোতাদের মনে লাগে। ফলে অডিয়েন্স অনুযায়ী বিবেকানন্দ ঝেড়েছেন। এই জন্য তার কথার মধ্যে অসংখ্য স্ববিরোধিতা দেখা যাবে। কাজে মধ্যেও যাবে। ক্ষেত্রীর মহারাজের কাছে সব সময় অর্থ চেয়েছেন অথচ এই মহারাজদয়ের শোষন এবং ব্যভিচারের ব্যাপারে তিনি জানতেন না ? স্বামী ব্রহ্মানন্দ জানতেন। প্রতিবাদ ও করেছেন। বিবুদা তাকে ধমকে দিয়েছিলেন মহৎকার্যের জন্য।

    যদি সন্নাসী জীবনের বিশুদ্ধতা খুঁজতে হয় তাহলে সেটা স্বামী ব্রহ্মানন্দের মধ্যে খোঁজ। বিবুদা হিন্দু ধর্মের গ্রেটেস্ট মার্কেটিং গুরু-মার্কেটিং করতে গেলে শ্রোতাদের মনভেজাতে অনেক কিছু বলেছেন-তার কতঁটা তিনি মন থেকে বলেছেন, আর কতটা মন ভিজিয়ে টাকা তোলার জন্য বাধ্য হয়েছেন-সেই দুঃখটা তার লেখার মধ্যেই পাবে।
  • দীপ | ১৪ জুলাই ২০১৩ ০৩:০৬513799
  • প্রেমনাথ, পাইপটি যে মিঃ হেল-এর জন্য ছিল - এর প্রমাণ কোথায়ে পেয়েছেন জানালে উপকৃত হই। যদিও একটা সামান্য পাইপে কি আর এসে যায়? ১০০০ ডলারের হিসাবটা কেউ দিতে পারলে আরো খুশী হতাম।

    "একবার বলছেন", আর "পরক্ষণেই" -এর মধ্যের সময় গ্যাপটা এবং দুসময় কাদের কাদের কোন কথাটা বলছেন এটা বোঝাটাকেই "কনটেক্সট' বলে - ঠিক বলেছেন। কিন্তু সময়-সুযোগ-অডিয়েন্স বুঝে গিরগিটির মত রং পাল্টানটাকে কি বলে? বিপ যা লিখেছেন সেটাই তো সত্যি। মুশকিল হল, অনেকেই এই স্ববিরোধিতাটা বুঝতে পারছেন অথচ প্রাসংগিকতার প্রশ্ন এনে এড়িয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, পাঠকের দৃষ্টিভংগীরও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। "কুমোর কুমোরই থাকবে" উক্তির পুরো কন্টেক্সট্‌টাই তো তুলে ধরা হয়েছে। অনেকেই তার মধ্যে জাতিভেদের অস্বস্তিকর ছায়া দেখতে পেয়েছেন; আবার অন্যেরা এর মধ্যে বৈদিক বর্ণাশ্রমের সুফল জাহির করে তাকে জাতে তোলার চেষ্টা করছেন!

    দুখে লিখেছেন - "বিবুদা অনেক কিছুর স্বপক্ষেই অনেক পয়েন্ট দেখিয়েছেন। বিবেচক লোক ছিলেন, বাইনারিতে ভাবতেন না। সে আর কে কবে অস্বীকার করেছে?" - এইটাই আসল কথা। স্বপক্ষে-বিপক্ষে যা বলেছেন সেটা মেনে নিয়ে চেপে গেলেই আর বিতর্ক থাকে না। তা না করে যদি শুধু ভালটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাই আর মন্দটার বেলায় গান্ধীজির বাঁদর হয়ে যাই, তা হলেই পব্লেম। আরে বিবুদাও তো মানুষ ছিলেন না কি? আর মানুষ মাত্রেই ভুল হয় - Man is mortal. কিন্তু মাথার পেছনে ঐশ্বরিক আলোর ছটা দেওয়ার চেষ্টা করলেই বিতর্ক হবে, আর যুক্তিবাদের জবাবে ছটাবাদীরা 'কনটেক্সট' 'কনটেক্সট' বলে হুড়োহুড়ি করবেন।
  • প্রেমনাথ | ১৪ জুলাই ২০১৩ ১০:০৯513800
  • প্রমানপত্র এখানের প্রথম পাতার রেফারেন্সে না পড়তে চাইলে আরেকটু ডিটেলসে মুক্তমনায় স্ববিরোধী বিবেকানন্দ – কিছু সমালোচনার জবাবে-র নিচে কমেন্টে পাবেন। রচনাবলীর ইংরিজি টেক্সট পাইপ দিয়ে সার্চ করলেও অনেক কিছু পাবেন। আপাতত লেবুর তিক্ততার প্রতি এর বেশি আকর্ষণ বোধ করছি না। নমস্কার।
  • দীপ | ১৪ জুলাই ২০১৩ ১৪:১৯513801
  • প্রথম পাতায় শংকরের যে রেফারেন্সটা আছে সেটায় ব্র্যাকেটের মধ্যের কথাটা লেখকের - সুতরাং ওটা নিচ্ছি না। ওটা অরিজিনাল চিঠিতে নেই। ইংরাজী ওয়েবসাইটের চিঠির রেফারেন্সটার জন্য ধন্যবাদ। ওখানে আবার পাইপের ব্যাপারটা ফুটনোট দিয়ে ব্যাখ্যা করা আছে। বেশ। বাংলা ওয়েবসাইটে ওই চিঠিটা পাওয়া যাচ্ছে না। আরও দু-একটা চিঠি পাচ্ছি না। বাংলা ওয়েবসাইটটি কি অসম্পুর্ণ? আমার হাতের কাছে বইগুলি নেই, তাই মিলিয়ে দেখতে পারছি না। :(

    http://www.ramakrishnavivekananda.info/vivekananda/volume_9/letters_fifth_series/025_mother.htm

    যাই হোক, ১৩ ডলারের পাইপ নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। তার থেকে ঢের বেশী গন্ডগোলের বিষয় পড়ে আছে হিন্দুত্ববাদের মার্কেটিংয়ে, নারীর চরিত্রগঠনে, বিদ্যাসাগর, ঠাকুর পরিবার ও পাশ্চাত্যশিক্ষার বিরোধিতায়, ; আর এই পাইপের ধোঁয়ায় সেই আলোচনাগুলো ইতস্ততঃ লঘু হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। 'তাদের তোরা তোদের (ব্র্যাকেটের কথা বাদ দিলাম) শ্রেণীর ভেতর করে নিবি' - এই কথার পরে ক্ষত্রিয় বিশ্বামিত্রকে ব্রাহ্মণ বানিয়ে ক্ষত্রিয় শ্রেণীর আনুগত্যলাভের উদাহরণ - মোহাবিষ্টরা এতে আপত্তির কিছু দেখতে পান না। গত ১৫০ বছর ধরে পান নি। মনে হয় আগামী ১৫০ বছরেও পাবেন না।

    বিপ্লববাবুর শুরু করা টইটা পড়লাম। মুক্ত-মনাতে যা লিখেছিলেন (২০১২-০১-১৫ ০৯:০১:০৫) তার কপিই মনে হল। অভিজিৎ রায় এবং অপার্থিব জামানের লেখা মুক্ত-মনাতে পড়েছি অনেকদিন আগেই। সেখানেও স্বপক্ষে বিপক্ষে মন্তব্য এসেছে অনেক। এই সবগুলো লেখারই মূল উৎস নিরঞ্জন ধর ও রাজাগোপাল চট্টপাধ্যায়ের গবেষণা, যার ভিত্তিতে ওই সময়ের আজকাল পত্রিকায় পাঠকদের পত্রবিতর্ক (পরবর্ত্তীকালে রাজেশ দত্ত কর্ত্তৃক সংকলিত)। বলতে বাধ্য হচ্ছি, বিবেকানন্দবাদীদের বিরোধিতাটা কিন্তু সব জায়গাতেই একই প্যাটার্ণের। প্রথমে অবিশ্বাস - 'কোথায়ে বলেছেন? বিশ্বাস করি না। রেফারেন্স দিন।' রেফারেন্স দেওয়ার পরে - 'অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী। মিসকোট! হাফকোট!' ফুলকোট দেওয়া হলে - 'আঊট অফ কন্টেক্সট!' কন্টেক্সট সমেত বিস্তারিত আলোচনার পরে - 'আহা...কখন বলেছেন, কাকে বলেছেন সেটা তো দেখতে হবে!' স্থানকালপাত্রের নিরিখেও না উৎরালে - 'শিষ্যের মানসিকতার উপযোগী করে বলেছিলেন।' তাতেও প্রমাণ না হলে - 'ও সব বক্তিমে তো ওনার লেখা নয়। কে কখন কি ভেবে নিজের কথা জুড়ে দিয়েছে তার কি ঠিক আছে?' এবং সবশেষে - 'উনি তো অন্যত্র এর ঊল্টোটাও বলেছেন।' এই শেষ কথাটাতে কিন্তু যুক্তিবাদী শিবিরও একমত। বিবেকানন্দের নেগেটিভ উক্তিগুলি তুলে ধরার কারণই হল ওনার চরিত্রের এই স্ববিরোধটা গোচরে আনা। স্ববিরোধ তো যেকোন চিন্তাশীল মানুষের পক্ষেই স্বাভাবিক। বিদ্যাসাগর, রবি ঠাকুর, সুভাষ বোস - এঁদের চরিত্রে কি স্ববিরোধ নেই? তবে বিবেকানন্দের ক্ষেত্রে স্ববিরোধটা মাঝে মাঝে মাত্রাতিরিক্ত রকমের প্রকট ও অস্বস্তিকর। কখনও কখনও তা দ্বিচারিতার পর্যায়ের। যার মূল লুকিয়ে আছে তাঁর বিভিন্ন ধর্মীয় কলাকৌশল বা স্ট্র্যাটেজির গভীরে। বিবেকানন্দকে জ্যোতির্ময় গোলকে ঢুকিয়ে তাঁর চরিত্রের এই দিকটাকে আড়াল করার চেষ্টা অবশ্যই অন্যায় - 'চিন্তা ও কার্যের স্বাধীনতার উপরেই নির্ভর করে জীবন, উন্নতি এবং কল্যাণ' - where is freedom of expression if it does not include the license to offend? লেবু হয়তো আরেকটু তেতো হল...তা হোক গে।
  • আচ্ছা | ১৪ জুলাই ২০১৩ ১৯:২৭513802
  • বেশ, না হয় বিবেকানন্দ বেশ কিছু ভুলভাল বা স্ববিরোধী কথা বলেছেন। তো, সেই সমালোচনার শেষে কি আশা করছি? এই সমালোচনা কি কোনও পজিটিভ দিকে নিয়ে যাচ্ছে, না কি এও গুরুর অনন্ত ভাটের টপিকের মধ্যে একটা? যাঁর মধ্যে যা পজিটিভ তাই নিন না। নিরন্তর নেগেটিভ আলোচনায়, আরও একটু পিছন দিকে এগনো ছাড়া প্রাপ্তি তো কিছু নেই। না কি আছে?
  • দীপ | ১৪ জুলাই ২০১৩ ২৩:৪৯513803
  • যদি বলেন গুরুকে মহাপুরুষ বানিয়ে মন্দিরে বসিয়ে বা তাঁর ছবি দেওয়ালে লটকে তাঁর স্তবস্তুতিতে মজে থাকলে সামনের দিকে এগোনোর সুবিধা হবে, তাহলে সম বিষম কোন আলোচনাই দরকার নেই। কিন্তু যদি ভাবেন পজিটিভ দিকটা নিয়ে এগোব, আবার নেগেটিভ দিকটা থেকেও মানুষটাকে এবং তাঁর সময়টাকে বুঝতে চেষ্টা করব, তাহলে সমালোচনার প্রয়োজন আছে বইকি। আর তাছাড়া আলোচনা হচ্ছে বিবেকানন্দর অন্তর্নিহিত নেগেটিভত্ব নিয়ে; আলোচনাটা নিজে কেন নেগেটিভ হবে?
  • বীপ | ১৫ জুলাই ২০১৩ ০০:২৩513804
  • বিবুদা মানুষকে অনুপ্রানিত করেছেন ভাল কাজের জন্য। এটা বিরাট কাজ। ভারতীয় দর্শনকে চিনিয়েছেন। সেটাও বড় কাজ।

    কিন্ত তার নিজের রাজনৈতিক, সামাজিক, ঐতিহাসিক ধারনাগুলি ঠিক ছিল না-তার বয়স কমছিল- ইউরোপেও তিনি জন্মান নি যে মার্ক্সের মতন বিধগ্ধ দার্শনিক সার্কেল বা জ্ঞানের সান্নিধ্যে আসবেন। এইসব ব্যাপারে তার জ্ঞান ছিল ভীষন অগভীর এবং তার কারন মূলত তিনি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র থেকে দূরে ছিলেন। ইউরোপে জন্মালে অন্য বিবেকানন্দকে পেতাম আমরা। তার তুখোর মেধা প্রশ্নাতীত।

    অধিকাংশ বাঙালীর দর্শন এবং ইতিহাসে বেস বেশ খারাপ। ফলে তাদের কাছে মার্ক্স, লেনিন সব এক। লেনিনের লেখা দার্শনিক দৃষ্টীতে অপেশাদার লোকেদের লিফলেট-সেখানে মার্ক্সের প্রতিটা বাক্যে পভীর দর্শনচিন্তার ছাপ পাওয়া ্যায়। দর্শন নিয়ে প্রাথমিক জ্ঞান থাকলেও বোঝা যায় লেনিনের লেখাতে মার্ক্সের লেখার মতন সলিড ডিফেন্স নেই।

    বিবেকানন্দের লেখার সাথে লেনিনের অনেক মিল আচে। এরা বিরাট ভক্তকুল বানিয়েছেন। কারন ওদের দুজনার লেখাতেই সেই ঝলসে দেওয়া অনুপ্রেরনার ব্যাপারটা ছিল। কিন্ত তাদের লেখা, থিওরী -দার্শনিক এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টীতে কোনদিন ই প্রথম শ্রেনীর বা মূল ধারার বলে মর্যাদা পাবে না,
  • Sibu | ১৫ জুলাই ২০১৩ ০০:৫৩513805
  • বিবুদা ভারতীয় দর্শন কেমন চিনিয়েছেন? বেদান্ত-দর্শন চিনিয়েছেন বল্লে ঠিক হত না?
  • আরে | ১৫ জুলাই ২০১৩ ০৬:২৫513807
  • সেটাই তো প্রশ্নঃ "বিবেকানন্দর অন্তর্নিহিত নেগেটিভত্ব" নিয়ে আলোচনায় কি লাভ? ওনাকে তো আর বদলে দেবার কোনও সুযোগ নেই। উনি যা বলার বলে গেছেন। এইবার আপনেরা গুণীজনেরা ন্যাজা-মুড়ো বাদ দিয়ে যা নেবার নিন না!!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন