এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • স্বামী বিবেকানন্দ ই: নির্মোহ (তিন)

    Samik
    অন্যান্য | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ | ৬৪৯৮৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dd | ১৫ জুলাই ২০১৩ ০৮:৩৬513808
  • এবারে সব টই বাদ দিয়ে দেবার দময় হোলো। ক্যানো না "লাভ" কিছু নেই। মোদীই বোলুন বা তৃণমুল বা রবি ঠাকুর - কাকেই বা বদলাতে পারছেন হেথায় ফুট কেটে ?

    তো এবার চুপ করেই থাকুন সবাই।
  • :-) | ১৫ জুলাই ২০১৩ ০৮:৪৭513809
  • নাঃ ডিডি, হল না!
    মোদী বা তৃণের সময় (বা, দময়) এখনো আছে। রবি ঠাকুর-এর নেগেটিভত্ব আলোচনার দিন গিয়াচে। মুড়ি মিছরি একদর করলে হবা?
  • dukhe | ১৫ জুলাই ২০১৩ ০৯:১০513810
  • দীপ 02:19 PM যে চিঠির রেফারেন্স দিয়েছেন, ওটা বাংলা ওয়েবসাইটে নয়, রচনাবলীতেই এখনো অবধি নেই। সবগুলোর অনুবাদ এখনো হয়নি, কাজ চলছে।

    পাইকে বলার - বিবুদা বর্ণাশম এবং জাতিভেদ নিয়ে বিস্তর ভেবেছিলেন। উনি বলেছেন - বিদুর শূদ্র ছিলেন, তাকে ক্ষত্রিয়রা নিজেদের গোষ্ঠীতে নিয়ে নিল, তাতে শূদ্রদের কী লাভ হল? বিদুরের প্রজ্ঞা কি তাদের সাহায্য করল? ইত্যাদি। বিষয়টা এত জটিল এবং বহুমাত্রিক যে এটাকে পুরোপুরি বুঝে ওঠা রীতিমত চর্চার বিষয়। উদ্বোধনের প্রস্তাবনার লেখাটা পড়ে দেখতে পারো।

    বাকি তর্কে আবার ঢুকে লাভ নেই। কী হ'লে কী হ'ত ইত্যাদি স্পেকুলেশন অর্থহীন লাগে। ইউরোপ তো এখনো অবধি আমাদের কোনো বিবেকানন্দ দেয়নি। ভদ্রলোক এক কথা সবাইকে বলতেনও না। একই ভাষণ শুনে কেউ প্রশংসা করেছেন, কেউ আপত্তি তুলেছেন। তাতে সরাসরি বলেছেন - "তাহলে ওটা তোমার জন্য নয়।" এই প্লুরালিটির চর্চা আমাদের রোগা পেটে হজম নাই হতে পারে, সেটাকে উনি পাত্তাও দিতেন না। নিন্দাবাদের উত্তরে ভদ্রলোক বলেছিলেন - "দেখুন, আমি যা, তা আমার কপালে লেখা আছে। যদি না পড়তে পারেন, দুর্ভাগ্য আপনাদের, আমার নয়।"
  • dukhe | ১৫ জুলাই ২০১৩ ১০:২৭513811
  • দীপ Date:13 Jul 2013 -- 04:54 PM এর পোস্টে আলাসিঙ্গাকে লেখা চিঠি তুলে দেখাতে চাইছিলেন বিবেকানন্দ সমাজ সংস্কারে উৎসাহী ছিলেন না। উত্তরে দুখের Date:13 Jul 2013 -- 05:42 PM এর পোস্টে আরো কিছু কোট তুলে ব্যাপারটা কিলিয়ার করার চেষ্টা হয়। যেখানে বিবুদা লোককে জাগাতে চাইছেন এবং বলছেন সমাজের সংস্কার হবে কিনা সেটা লোককে ঠিক করতে দাও, কিছু চাপিয়ে দিতে যেও না।

    কিন্তু হায়, দীপ তার ভিত্তিতে 6:03 PM গতে সিদ্ধান্ত করলেন এটা দ্বিচারিতা। দ্বিচারিতায় গভীর বিশ্বাসী মানসিকতায় এটাই হয়তো প্রত্যাশিত। যুক্তিবাদীদের এই যুক্তিকে পাত্তা না দেওয়ার রীতিরেওয়াজ দেখে দেখে দুখেরও প্রবল হাই ওঠে।

    অবশ্য এমনিতেও ওঠে। তায় সোমবারের সকাল। এবার তুলে নে মা।
  • দীপ | ১৫ জুলাই ২০১৩ ১৬:৪৬513812
  • ২২শে জানুআরি, ১৮৯৮ খৃঃ। ১০ই মাঘ শনিবার।

    প্রশ্ন। মহাশয়, majority-র (অধিকাংশের)কিন্তু এ মত নয়।

    স্বামীজী। Majority (অধিকাংশ) তো fools (নির্বোধ), men of common intellect(সাধারণবুদ্ধিসম্পন্ন); মাথাওয়ালা লোক অল্প। এই মাথাওয়ালা লোকেরাই সব কাজের সব department-এরই (বিভাগেরই) নেতা। এদেরই ইঙ্গিতে majority (অধিকাংশ) চলে। এদেরই আদর্শ করে চললে কাজও সব ঠিক হয়। আহাম্মকেরাই শুধু হামবড়া হয়ে চলে, আর মরে। সমাজ-সংস্কার আর কি করবে? তোমাদের সমাজ-সংস্কার মানে তো বিধবার বিয়ে আর স্ত্রী-স্বাধীনতা বা ঐ রকম আর কিছু। তোমাদের দুই-এক বর্ণের সংস্কারের কথা বলছ তো? দুই-চার জনের সংস্কার হল, তাতে সমস্ত জাতটার কি এসে যায়? এটা সংস্কার না স্বার্থপরতা? নিজেদের ঘরটা পরিষ্কার হল, আর যারা মরে মরুক।

    প্রশ্ন। তা হলে কি কোন সমাজ-সংস্কারের দরকার নেই বলেন?

    স্বামীজী। দরকার আছে বইকি। আমি তা বলছি না। তোমাদের মুখে যা সংস্কারের কথা শুনতে পাই, তার মধ্যে অনেকগুলোই অধিকাংশ গরীব সাধারণদের স্পর্শ করবে না। তোমরা যা চাও, তা তাদের আছে। এজন্য তারা ওগুলোকে সংস্কার বলেই মনে করবে না। আমার কথা এই যে, শ্রদ্ধার অভাবই আমাদের মধ্যে সমস্ত evils (অনর্থ) এনেছে ও আরও আনছে। আমার চিকিৎসা হচ্ছে রোগের কারণকে নির্মূল করা—রোগ চাপা দিয়ে রাখা নয়। সংস্কার আর দরকার নেই? যেমন ভারতবর্ষে inter-marriage (অন্ত-র্বিবাহ) টা হওয়া দরকার, তা না হওয়ায় জাতটার শারীরিক দুর্বলতা এসেছে।

    ২৪শে জানুআরি, ১৮৯৮। ১২ই মাঘ, সোমবার।

    ‘ভিন্ন জাতির সহিত আমাদের কিরূপে আদান-প্রদান হ’তে পারে?’

    স্বামীজী। বিধর্মী জাতিদের ভেতর আদান-প্রদান হবার কথা আমি বলি না। অন্ততঃ আপাততঃ তা সমাজ-বন্ধনকে শিথিল করে নানা উপদ্রবের কারণ হবে, এ কথা নিশ্চিত। জানো তো ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-'ধর্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্ণং' ইত্যাদি; সমধর্মীদের মধ্যেই বিবাহ-প্রচলনের কথা আমি বলে থাকি।

    প্রশ্ন। তা হলেও তো অনেক গোল। মনে করুন আমার এক মেয়ে আছে, সে এদেশে জন্মেছে ও পালিত হয়েছে। তার বিয়ে দিলুম এক পশ্চিমে লোকের সঙ্গে বা মাদ্রাজীর সঙ্গে। বিয়ের পর মেয়ে জাময়ের কথা বোঝে না, জামাইও মেয়ের কথা বোঝে না। আবার পরস্পরের দৈনিক ব্যবহারাদিরও অনেক তফাত। বর-কনে সম্বন্ধে তো এই গন্ডগোল; আবার সমাজেও মহা বিশৃঙ্খলা এসে পড়বে।

    স্বামীজী। ও-রকম বিয়ে হতে আমাদের দেশে এখনও ঢের দেরী। একেবারে ও-রকম করাও ঠিক নয়। কাজের একটা secret(রহস্য) হচ্ছে—to go by the way of least possible resistance (যতদূর সম্ভব কম বাধার পথে চলা)। সেইজন্য প্রথমে এক বর্ণের মধ্যে বিয়ে চলুক। এই বাঙলা দেশের কায়স্থদের কথা ধর। এখানে কায়স্থদের মধ্যে অনেকে শ্রেণী আছে—উত্তররাঢ়ী, দক্ষিণরাঢ়ী, বঙ্গজ ইত্যাদি। এদের পরস্পরের মধ্যে বিবাহ প্রচলিত নেই। প্রথমে উত্তরাঢ়ী ও দক্ষিণরাঢ়ীতে বিবাহ হোক। যদি তো সম্ভব না হয়, বঙ্গজ ও দক্ষিণরাঢ়ীতে বিবাহ হোক। এইরূপ-যেটা আছে, সেটাকেই গড়তে হবে, ভাঙার নাম সংস্কার নয়।

    প্রশ্ন। আচ্ছা না হয় বিয়েই হল, তাতে ফল কি? উপকার কি?

    স্বামীজী। দেখতে পাচ্ছ না, আমাদের সমাজে এক এক শ্রেণীর মধ্যে একশ'বছর ধরে বিয়ে হয়ে এখন ধরতে গেলে সব ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে হতে আরম্ভ হয়েছে। তাতেই শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে যত রোগও এসে জুটেছে। অতি অল্পসংখ্যক লোকের ভেতরে চলাফেরা করেই রক্তটা দূষিত হয়ে পড়েছে। তাদের শরীরগত রোগাদি নবজাত সকল শিশুই নিয়ে জন্মাচ্ছে। সেইজন্য তাদের শরীরের রক্ত জন্মাবধি খারাপ। কাজেই কোন রোগের বীজকে resistকরবার (বাধা দেবার)ক্ষমতা ও-সব শরীরে বড় কম হয়ে পড়েছে। শরীরের মধ্যে একবার নূতন অন্যরকম রক্ত বিবাহের দ্বারা এসে পড়লে এখনকার রোগাদের হাত থেকে ছেলেগুলো পরিত্রাণ পাবে এবং এখনকার চাইতে ঢের active(কর্মঠ)হবে।

    প্রশ্ন। মেয়েদের মধ্যে অনেক সংস্কার দরকার।

    স্বামীজী। ঐ-রকম শিক্ষা পেলে মেয়েদের problems(সমস্যাগুলো)মেয়েরা নিজেরাই solve (মীমাংসা) করবে। আমাদের মেয়েরা বরাবরই প্যানপেনে ভাবই শিক্ষা করে আসছে। একটা কিছু হলে কেবল কাঁদতেই মজবুত। বীরত্বের ভাবটাও শেখা দরকার। এ সময়ে তাদের মধ্যে self-defence (আত্মরক্ষা) শেখা দরকার হয়ে পড়েছে। দেখ দেখি, ঝাঁসির রানী কেমন ছিল!

    প্রশ্ন। আপনি যা বলছেন, তা বড়ই নূতন ধরনের; আমাদের মেয়েদের মধ্যে সে-শিক্ষা দিতে এখনও সময় লাগবে।

    স্বামীজী। চেষ্টা করতে হবে। তাদের শেখাতে হবে। নিজেদেরও শিখতে হবে। খালি বাপ হলেই তো হয় না, অনেক দায়িত্ব ঘাড়ে করতে হয়। আমাদের মেয়েদের একটা শিক্ষা তো সহজেই দেওয়া যেতে পারে। হিন্দুর মেয়ে-সতীত্ব কি জিনিস, তা সহজেই বুঝতে পারবে; এটা তাদের heritage (উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্তি জিনিস) কিনা। প্রথমে সেই ভাবটাই বেশ করে তাদের মধ্যে উস্কে দিয়ে তাদের character form(চরিত্র তরী) করতে হবে—যাতে তাদের বিবাহ হোক বা তারা কুমারী থাকুক, সকল অবস্থাতেই সতীত্বের জন্য প্রাণ দিতে কাতর না হয়। কোন-একটা ভাবের জন্য প্রাণ দিতে পারাটা কি কম বীরত্ব? এখন যে-রকম সময় পড়েছে, তাতে তাদের ঐ যে ভাবটা বহুকাল থেকে আছে, তার বলেই তাদের মধ্যে কতকগুলিকে চিরকুমারী করে রেখে ত্যাগধর্ম শিক্ষা দিতে হবে। সঙ্গে বিজ্ঞানাদি অন্য সব শিক্ষা, যাতে তাদের নিজের ও অপরের কল্যাণ হ’তে পারে, তাও শেখাতে হবে; তা হ’লে তারা অতি সহজেই ঐ-সব শিখতে পারবে এবং ঐরূপ শিখতে আনন্দও পাবে। আমাদের দেশে যথার্থ কল্যাণের জন্য এই-রকম কতকগুলি পবিত্রজীবন ব্রহ্মচারী ব্রহ্মচারিণী দরকার হয়ে পড়েছে।

    প্রশ্ন। ঐরূপ ব্রহ্মচারী ও ব্রহ্মচারিণী হলে দেশের কল্যাণ কেমন করে হবে?

    স্বামীজী। তাদের দেখে ও তাদের চেষ্টায় দেশটার আদর্শ উলঠে যাবে। এখন ধরে বিয়ে দিতে পারলেই হল!—তা ন-বছরেই হোক, দশ-বছরেই হোক! এখন এ-রকম হয়ে পড়েছে যে, তের বছরের মেয়ের সন্তান হলে গুষ্টিশুদ্ধর আহ্লাদ কত, তার ধুমধামই বা দেখে কে! এ ভাবটা উলটে গেলে ক্রমশঃ দেশে শ্রদ্ধাও আসতে পারবে। যারা ঐ-রকম ব্রহ্মচর্য করবে, তাদের তো কথাই নেই-কতটা শ্রদ্ধা, নিজেদের উপর কতটা বিশ্বাস তাদের হবে, তা বলা যায় না!
    -------------------

    "সমাজের সংস্কার হবে কিনা সেটা লোককে ঠিক করতে দাও, কিছু চাপিয়ে দিতে যেও না।" - বলছেন, অথচ নিজেই কৌশলে প্রথমে ব্রহ্মচর্য্য, সতীত্ব দিয়ে চরিত্রের বীজ বপণ করতে পরামর্শ দিচ্ছেন। To go by the way of least possible resistance - এই ট্রেড সিক্রেটটাই বিবেকানন্দের সাফল্যের পিছনে মূলমন্ত্র। কন্টেক্সটের ভয়ে পুরো আলোচনাটাই ছেপে দিলাম, টাইমস্ট্যাম্প সমেত। বিদ্যাসাগর মশায়ের সাথে বিরোধটা এখানে স্পষ্ট - বিধবাবিবাহ এবং নারীস্বাধীনতাকে বিবেকানন্দ গুরুত্ব দিতে চান নি কারন ওনার ধারণা ছিল এটা সমাজের উচ্চবর্ণের মহিলাদের সমস্যা, এতে দেশের মেজরিটির কোন উপকার হবে না। "বিধবাবিবাহ—আন্দোলনে শতকরা সত্তর জন ভারতীয় নারীর কোন স্বার্থই নাই। আর সর্বসাধারনকে বঞ্চিত করিয়া যে-সকল ভারতীয় উচ্চবর্ণ শিক্ষিত হইয়াছেন, তাঁহাদেরই জন্য এ ধরণের সকল আন্দোলন। তাঁহারা নিজেদের ঘর সাফ করিতে এবং বৈদেশিকগণের নিকট নিজদিগকে সুন্দর দেখাইতে কিছুমাত্র চেষ্টার ত্রুটি করেন নাই। ইহাকে তো সংস্কার বলা যাইতে পারে না। সংস্কার করিতে হইলে উপর উপর দেখিলে চলিবে না, ভিতরে প্রবেশ করিতে হইবে, মূলদেশ পর্যন্ত যাইতে হইবে। ইহাকেই আমি ‘আমূল সংস্কার’ বা প্রকৃত সংস্কার বলিয়া থাকি। মূল দেশে অগ্নিসংযোগ কর, অগ্নি ক্রমশঃ ঊর্ধ্বে উঠিত থাকুক, এবং একটি অখণ্ড ভারতীয় জাতি গঠিত হউক।" সেই অখন্ড ভারতীয় জাতি যে বৈদান্তিক হিন্দুত্বের আদর্শে উজ্জীবিত হইবে তাহা বলাই বাহুল্য।
  • দীপ | ১৫ জুলাই ২০১৩ ১৭:০১513813
  • দ্বিচারীতা কেন বলেছি তার অনেকগুলো উদাহরণ 13 Jul 2013 -- 06:03 PM -এর পোস্টেই লিখেছি। আর নতুন করে কি বলব?

    "কতকগুলো চাষার ছেলেমেয়েকে একটু লিখতে-পড়তে শেখাও ও অনেকগুলো ভাব মাথায় ঢুকিয়ে দাও–তারপর গ্রামের চাষারা চাঁদা ক'রে তাদের এক একটা নিজেদের গ্রামে রাখবে। 'উদ্ধরেদাত্মনাত্মানং' (নিজেই নিজেকে উদ্ধার করবে)-সকল বিষয়েই এই সত্য। We help them to help themselvs(তারা যাতে নিজেই নিজেদের কাজ করতে পারে, এইজন্য আমরা তাদের সাহায্য করছি)। ঐ চাষারা ডাল দিচ্ছে-ঐটুকু হচ্ছে আসল কাজ। ওরা এখন বুঝতে পারবে নিজেদের অবস্থা, উপকার এবং উন্নতির আবশ্যকতা, তখনই তোমার ঠিক কাজ হচ্ছে জানবে। তা ছাড়া পয়সাওয়ালারা দয়া ক'রে গরীবের কিছু উপকার করবে-তা চিরন্তন হয় না এবং তার আখেরে উভয় পক্ষের অপকার মাত্র। চাষাভূষো মৃতপ্রায়; এজন্য পয়সাওয়ালারা সাহায্য ক'রে তাদের চেতিযে দিক -এই মাত্র! তারপর চাষারা আপনার কল্যান আপনারা বুঝুক, দেখুক এবং করুক। তবে ধনী-দরিদ্রের বিবাদ যেন বাধিয়ে ব'সো না। ধনীদের আদতে গাল-মন্দ দেবে না।-স্বকার্যমুদ্ধরেৎ প্রাজ্ঞঃ(প্রাজ্ঞ ব্যক্তি নিজের কার্য উদ্ধার করবে)। তা ছাড়া ওরা তো মহামূর্খ-অজ্ঞ ওরা কি করবে?"
  • কৃশানু | ১৫ জুলাই ২০১৩ ১৭:১৪513814
  • ৪:৪৬ এর ফার্স্ট প্যারা পরেই আটকে গেছি গুরু। বিবাদ তাহলে জ্যোতিবাবু আর প্ররাচৌ - দুজনেরই গুরু?
  • dukhe | ১৫ জুলাই ২০১৩ ১৮:২৫513815
  • মাইরি, এই লাইনে এগোলে বলতে হয় বিদ্যাসাগর 'কৌশলে' বিধবাদের বিবাহবন্ধনেই ঠেলে দিচ্ছেন, বিবাহ ছাড়া মেয়েদের তিনি কোনো হিল্লে দেখেন না।

    এসব প্রলাপকে হুঃযাঃ ক'রে উড়িয়ে দেওয়াই যথার্থ।
  • PM | ১৫ জুলাই ২০১৩ ১৯:৪৬513816
  • কৌতুহল বসতঃ
    "স্বামীজী। দেখতে পাচ্ছ না, আমাদের সমাজে এক এক শ্রেণীর মধ্যে একশ'বছর ধরে বিয়ে হয়ে এখন ধরতে গেলে সব ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে হতে আরম্ভ হয়েছে। তাতেই শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে যত রোগও এসে জুটেছে। অতি অল্পসংখ্যক লোকের ভেতরে চলাফেরা করেই রক্তটা দূষিত হয়ে পড়েছে। তাদের শরীরগত রোগাদি নবজাত সকল শিশুই নিয়ে জন্মাচ্ছে। সেইজন্য তাদের শরীরের রক্ত জন্মাবধি খারাপ। কাজেই কোন রোগের বীজকে রেসিস্তকরবার (বাধা দেবার)ক্ষমতা ও-সব শরীরে বড় কম হয়ে পড়েছে। শরীরের মধ্যে একবার নূতন অন্যরকম রক্ত বিবাহের দ্বারা এসে পড়লে এখনকার রোগাদের হাত থেকে ছেলেগুলো পরিত্রাণ পাবে এবং এখনকার চাইতে ঢের অ্তিভে(কর্মঠ)হবে।"

    এই ধারনা বিবেকনন্দ পেলেন কি করে ১০০ বছরের-ও আগে? তখন তো ক্রোমোসম, জিন কিছুই আবিষ্কার হয় নি। মেন্ডেলিফ বা অন্য কেউ কি এ বিষয়ে কিছু বলেছিলেন ঐ সময়ে?
  • PM | ১৫ জুলাই ২০১৩ ১৯:৪৭513152
  • দীপ কি সমালোচনার- ছলে আমাদের বিবেকানন্দের বানী ও রচনা পড়াবার প্রকল্প নিয়েছেন নাকি ঃ)
  • b | ১৫ জুলাই ২০১৩ ২০:৪১513153
  • দীপবাবু, আপনার ৫ঃ০১ এর পোস্টে তো বিবেকানন্দের বাস্তব বুদ্ধি-র পরিচয় দেখছি। নিম্নবর্গের লোকেরা নিজের উদ্ধার নিজেরাই করবে, বারে থেকে চাপানো সল্যুশনে নয়, এ তো এক্কেবারে ঠিক কথা।আর ধনী দরিদ্রের বিবাদ উজিয়ে তোলা? মিশন যেখানে মোটামুটি ডোনেশনের উপরে নির্ভরশীল, সেখানে ধনীদের চটালে চাঁদা আসবে?

    যেনারা মাঠ ময়দানে নেমে কাজ করেন, তেনাদের এরকম প্র্যাকটিস করতে হয়। লেনিনের নিউ ইকনমিক পলিসি, দেং এর মুক্ত বাজার, রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতকে কলকাতা ইউনিভার্সিটির আওতায় আনা, সবই এর উদাহরণ। কেউ বলবেন প্র্যাগমেটিজম, কেউ বলবেন দ্বিচারীতা, ওনার গুরু বেঁচে থাকলে বলতেন পাটোয়ারী। তবে দুটোর মধ্যে একটা কোথাও লাইন টানতে হয়। সেটা অস্পষ্ট।

    আর হ্যাঁ। বিবেকানন্দ কিছু কিছু বাঙালী ভদ্রলোকীয় বায়াস, অন্ধত্ব ও গোঁড়ামী এড়িয়ে যেতে অসমর্থ হয়েছিলেন। তা সবাই কি সব পারে? আর ওনার নিজস্ব বৌদ্ধিক বিবর্তন অসম্পূর্ণ ছিলো, অকালপ্রয়াণের দরুণ। ঠাকুরবাড়ির কৃতী সন্তানটির মত ৮০ বছর বাঁচলে হ য় ত অন্য এক ছাঁচ্ভাঙা বিবেকানন্দকে দেখতাম। তবে সে এক অলীক কল্পনার বিষয়।

    পি এসঃ আমি মিশন বা বিবেকানন্দের ভক্ত নই।
  • দীপ | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০২:১৮513154
  • ধনীদের চটালে চাঁদা আসবে না সেটা বিবুদা ছোটোবেলাতেই বুঝে গিয়েছিলেন। রামকৃষ্ণের প্রয়াণের পরে ভক্তদের জন্য মঠ স্থাপিত হয়েছিল বরাহনগরে - যার সমস্ত খরচা বহন করতেন দুই অবস্থাপন্ন গৃহী ভক্ত - বলরাম বসু ও সুরেশ মিত্র। ১৮৯০ সালে এনারা দু'জনেই মারা যান। মঠের ব্যয়ভার চালানোর জন্য অর্থের সংকট দেখা দেয়। ১৮৯১ সালে বিবেকানন্দ পর্যটক সেজে ভারত ভ্রমণে বেরন। প্রায় দু'বছর ধরে চলা এই পদযাত্রায় বিবুদা অনেকগুলি হিন্দু রাজ্যের রাজন্যদের শরণাপন্ন হন। নিরঞ্জন ধরের 'বিবেকানন্দ অন্য চোখে' বইতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আছে।

    খেত্রীর মহারাজার গল্প আর নতুন করে বলার কিছু নেই - তিনি বিবিমীষানন্দকে বিবেকানন্দ বানালেন, শিকাগোযাত্রায় স্পনসর করলেন, এবং ভুবনেশ্বরী দেবী যতদিন বেঁচে ছিলেন, তাঁকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে গেছেন। রাজা কেন এসব করলেন - তাঁকে পাগলা কুকুরে কামড়েছিল নাকি অন্য কিছু - সে ব্যাপারে নিন্দুকেরা অনেক কিছু বলে থাকে - সে যাক গে। আমাদের যেটা বিবেচ্য বিষয় সেটা হল ঐ 'ওঠ জাগো' টাইপের ফাঁকা বুলিগুলি। বিবুদা নিজেও জানতেন যে এইসব সামন্ততান্ত্রিক রাজাদের দাক্ষিণ্যেই মঠ-মিশনের অন্নসংস্থান হয়, তাঁদের বিরুদ্ধে ইতরজাতিকে খ্যাপানো তাঁর পক্ষে আত্মহত্যার সামিল। তাই যখনই তাঁর শিষ্যরা ছোটলোকদের উপকার করতে গেছে, তিনি তাঁদের নিরস্ত করতে গেছেন "সমাজের সংস্কার হবে কিনা সেটা লোককে ঠিক করতে দাও, কিছু চাপিয়ে দিতে যেও না" - এইসব ভুজুং দিয়ে। একবার ভেবে দেখুন তো, যে শিক্ষার কথা উনি বলছেন, যা পেয়ে নিম্নবর্গের মানুষ ও মেয়েরা স্বনির্ভর হবে, সেই শিক্ষার ব্যাপারে উনি কি কি উদ্যোগ নিয়েছিলেন?

    মঠ ও মিশন যেটা করে গেছে এবং এখনও করে থাকে সেটাকে বাংলা ভাষায় বলে চ্যারিটি। শুধু চমকপ্রদ বৈপ্লবিক অর্থহীন বাণী! নীচ দরিদ্র অজ্ঞ মূর্খ ভারতবাসীর জেগে ওঠার জন্য কোন কার্যকর পন্থা বিবেকানন্দ বাতলে যাননি। আলাসিংগার চিঠির উদাহরণটা আগে দিয়েছি, যেখানে উনি চ্যারিটির বাইরে বেরিয়ে সমাজ-সংস্কার করতে গিয়ে বিবুদার ধমক খেয়েছেন। একই ঝাড় খেয়েছিলেন স্বামী অখণ্ডানন্দ - মহুলাতে যখন বিবুদার পারমিশন ছাড়া গ্রামে গ্রামে গরীব ঘরে চাল বিতরণ করছিলেন, তখন স্বামীজি তার সমালোচনা করে বলেছিলেন – ‘চাল বিতরণে শক্তিখরচ করে কি হবে, যদি কোন প্রচারকার্যই না হয়?’ ১৮৯৭ সালে স্বামী অখণ্ডানন্দের উদ্যমে অনুষ্টিত হল রামকৃষ্ণ মিশনের প্রথম দুর্ভিক্ষ-সেবাকার্য। অত্যন্ত সফল এই সেবাকার্যের খবর পেয়ে বিবুদা আলমোড়া থেকে লিখলেন "ঐ যে কাজ, অতি অল্প হলেও ওতে বহরমপুর একেবারে কেনা হয়ে গেল—এখন যা বলবে, লোকে তাই শুনবে। এখন 'রামকৃষ্ণ ভগবান' লোককে আর বোঝাতে হবে না। তা নইলে কি লেকচার কর্ম—কথায় কি চিঁড়ে ভেজে? ঐ রকম যদি দশটা district পারতে, তা হ'লে দশটা কেনা হয়ে যেত। অতএব বুদ্ধিমান, এখন ঐ কর্মবিভাগটার উপরই খুব ঝোঁক, আর ঐটারই উপকারিতা বাড়াতে প্রাণপণে চেষ্টা কর। কতকগুলো ছেলেকে দ্বারে দ্বারে পাঠাও—আলখ জাগিয়ে টাকাপয়সা, ছেঁড়া কাপড়, চালডাল, যা পায় নিয়ে আসুক, তারপর সেগুলো ডিষ্ট্রিবিউট করবে। ঐ কাজ, ঐ কাজ। তারপর লোকের বিশ্বাস হবে, তারপর যা বলবে শুনবে। কলিকাতার মিটিং-এর খরচ-খরচা বাদে যা বাঁচে, ঐ famine-এতে পাঠাও বা কলিকাতার ডোমপাড়া, হাড়িপাড়া বা গালিঘুঁজিতে অনেক গরীব আছে, তাদের সাহায্যে কর—হল্-ফল্-ঘোড়ার ডিম থাক্, প্রভু যা করবার তা করবেন।"

    "ভাগলপুরের যে কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলছি,সে কথা বেশ - স্কুলের ছেলেপুলেকে চেতনা ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের misson হচ্ছে অনাথ, দরিদ্র, মূর্খ, চাষাভূষোর; আগে তাদের জন্য ক'রে যদি সময় থাকে তো ভদ্রলোকের জন্য। ঐ চাষাভূষোরা ভালোবাসা দেখে ভিজবে; পরে তারাই দু-এক পয়সা সংগ্রহ ক'রে নিজেদের গ্রামে মিশন start করবে এবং ক্রমে ওদেরই মধ্য হ'তে শিক্ষক বেরুবে। ...চাষাভূষো মৃতপ্রায়; এজন্য পয়সাওয়ালারা সাহায্য ক'রে তাদের চেতিযে দিক -এই মাত্র! তারপর চাষারা আপনার কল্যান আপনারা বুঝুক, দেখুক এবং করুক। তবে ধনী-দরিদ্রের বিবাদ যেন বাধিয়ে ব'সো না। ধনীদের আদতে গাল-মন্দ দেবে না। স্বকার্যমুদ্ধরেৎ প্রাজ্ঞঃ (প্রাজ্ঞ ব্যক্তি নিজের কার্য উদ্ধার করবে)। তা ছাড়া ওরা তো মহামূর্খ-অজ্ঞ, ওরা কি করবে?...জয় গুরু জয় জগদম্বে, ভয় কি? ক্ষেত্রকর্মবিধান আপনা হতেই আসবে! ফলাফল আমার গ্রাহ্য নই, তোমরা যদি এতটুকু কাজ কর, তা হইলেই আমি সুখী। বাক্যি-যাতনা, শাস্ত্র-ফাস্ত্র, মতামত-আমার এ বুড়ো বয়সে বিষবৎ হয়ে যাচ্ছে।" - ১৯০০ সালে অখন্ডানন্দকে লেখা চিঠি, ক্যালিফর্নিয়া থেকে।
  • দীপ | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০২:৩৭513155
  • PM, কন্টেক্সটবাদীদের ভয়ে ওটা করতে বাধ্য হলাম। নইলে আবার মিসকোট-হাফকোট পরে ঘুরে বেড়াতে হত।
    ঐ সময়ে ক্রোমোসোম-জীন ইত্যাদির ধারণা না থাকলেও ভাই-বোনের বিয়ে থেকে যে অসুস্থ সন্তান হতে পারে - এই জ্ঞান মানুষের ছিল। তবে এই জ্ঞান অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত - এটা খুব একটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। লক্ষ করুন উনি 'দূষিত রক্ত'র কথা বলেছেন।

    "এই লাইনে এগোলে বলতে হয় বিদ্যাসাগর 'কৌশলে' বিধবাদের বিবাহবন্ধনেই ঠেলে দিচ্ছেন, বিবাহ ছাড়া মেয়েদের তিনি কোনো হিল্লে দেখেন না" - দুখে, যাচ্চলে, বিবুদাও তো এই রকম কি একটা বলেছিলেন না? দাঁড়ান, খুঁজে দেখে বলছি।
  • অসা | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৫:৫৬513156
  • অসা, অসা Date:16 Jul 2013 -- 02:18 AM-টা জাস্ট অসা। ইস্পেশালি "বিবিমীষানন্দ"-টা। আমি মোসাই আপনাকে শুধু ছোত্তো একটি হ্রস্ব-ই কমিয়ে, "বিবমিষানন্দ" নাম দিলুম। এই খাতিরে, বিবেকানন্দ যেসব কাজ করে যান্নি, সেগুলি আপুনি ঝট করে সেরে দিন্না। লিস্টি তো বানিয়েই ফেলেচেন, বেশী সময় লাগবে না। পিলিজঃ-)
    আর যদি না করা কাজের অ্যাডভেঞ্চার নেবার ইচ্ছে না থাকে (আপনি মহাপুরুষ, ইচ্ছে করলে সবই পারেন। তবে ইচ্ছে নাই করতে পারে), তালে নিদেন আপনার "সাজান" পর্যটক "বিবিমীষানন্দ" যা যা করেচেন, শুধু সেটুকুই রিপিট করে দিন। দেশটা বেঁচে যাবে দাদা!
  • ranjan roy | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৬:১১513157
  • ১)
    ওই যে ক্লোজ কমিউনিটির মধ্যে ম্যারেজের ফলে পুরুষদের বংশগত হিমোফিলিয়া নামক অসুখটি হয় ( অর্থাৎ সামান্য দাড়ি কাটতে রক্ত বেরোলেও বন্ধ না হতে পারে!) আর তার ক্যারিয়ার মেয়েরা হয় এগুলো ইউরোপ অনেক আগেই ধরতে পেরেছিলো, জিন, ডিএন এ আবিষ্কারের অনেক আগে।
    [ আর আমি জেনেছিলাম দশবছর বয়সে, প্রহেলিকা সিরিজের হেমেন্দ্রকুমার রায়ের লেখা (বিমল-কুমার সিরিজ নয়) একটি ডিটেকটিভ গল্প পড়েঃ)))]
    ২)
    দীপের দেওয়া রেফারেন্সগুলো আগ্রহের সঙ্গে দেখছি।
    কিন্তু এর ফলে সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ আমার থেকে দূরে রইলেও মানুষ বিবেকানান্দ অনেক কাছের হয়ে যাচ্ছেন, এমনকি ওঁকে বেশ ভাল লাগছে।
    লাগছে এই কারণে যে দীপের উদ্ধৃতিগুলো থেকে একটা ছবি ফুটে উঠছে।
    একটা মানুষ চারদিকের পরিবেশ দেখে বিচলিত, নিজের মত করে পথ খুঁজছে। এদিকে অকালে পিতৃহীন, বড় পরিবার পালনের দায় মাথায়। ধার-দেনা, মামলা-মোকদ্দমায় ব্যতিব্যস্ত।
    গুরু ধরে অধ্যাত্মের পথে মুক্তির একটা মডেল ভাবলেন। প্রয়োগ করতে গিয়ে পসে পদে বাধা।
    ফলে কম্প্রোমাইজ, path of least resistance অবলম্বন। আমেরিকা-ইউরোপে ভ্রমণ কিছু জিনিস নতুন ভাবে ভাবতে বাধ্য করছে, কিন্তু এতদিনের অর্জিত সংস্কারে ঘা পড়ছে।
    তাই স্ববিরোধিতা। আদর্শের সঙ্গে বাস্তববুদ্ধির। পুরনো চিন্তার সঙ্গে নতুন প্রজ্ঞার। সংস্কারের সঙ্গে মুক্তবুদ্ধির।

    ৩)
    এই স্ববিরোধিতার প্রভাব থেকে কোন কর্মযোগীই মুক্ত হতে পারেন না
    i) মার্ক্সের কথন অনুযায়ী প্রফিট-ডিভিডেন্ডের ভিত্তি মজুরের সারপ্লাস লেবারের মালিক কর্তৃক আত্মসাৎ করা।
    কিন্তু নিজের ও পরিবারের ক্ষুণ্ণিবৃত্তির জন্যে মার্ক্সকেও শেষ বয়সে নির্ভর করতে হয়েছে এংগেলসের পাঠানো কাপড়ের কলের শেয়ারের মালিক হিসেবে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ডের টাকার, অর্থাৎ মজুরের উদ্বৃত্ত শ্রমের শোষণের ওপর।
    ii) লেনিনকেও "ইসক্রা" পত্রিকা চালাতে শিল্পপতি সাশা মরোজভের ডোনেশনের ওপর বিশেষ নির্ভর করতে হয়েছিল।
    উনি সেই অস্বস্তি কাটাতে মরোজভকে মহিমামন্ডিত করলেনঃ
    সাশা মরোজভ এমন এক বুর্জোয়া যে নিজের শ্রেণীর ওপর বীতশ্রদ্ধ।
    [ এটা আমার মাইরি সিপিএম সার্কেলে টাটাকে মহিমামন্ডিত করতে গিয়ে টাটার সাম্রাজ্যে
    একশ বছরেও কখনো স্ট্রাইক হয় নি, শ্রমিক ছাঁটাই হয় নি গোছের ঢপের সমতূল্য মনে হয়,ঃ)))]

    সেই হিসেবে মঠ ও পারিবারিক ব্যয় চালাতে ব্যতিব্যস্ত বিবেকানন্দ যে খেতরি ও অন্যান্য মহারাজাদের দিকে ঝুঁকবেন এতে অবাক হই না।
    ৪)
    আলোচনার দরকার আছে। মূল্যায়ন মানেই ঐতিহাসিক ব্যক্তিটির তাঁর সময়ের ও আজকের নিরিখে ব্যক্তিত্বের সত্ত্বঃ-রজঃ-তমঃ সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ বড় চিত্রটি দেখার জন্যে। কিছু কিছু অস্বস্তিকর হলেও।
    আসলে বাম-ডান, নেগেটিভ-পজিটিভ তো একটার সাপেক্ষে আর একটা কে চিহ্ণিত করা মাত্র। সে রবীন্দ্রনাথ-বিবেকানন্দ-মার্ক্স-জ্যোতি বসু, যিনিই হোন।
    যদি আমরা তাঁদের লাল শালুতে মুড়ে চন্দন লাগিয়ে তাকে তুলে রেখে দিতে চাই তো কোন কথাই নেই।

    কিন্তু আমরা তো আমাদের আজকের জীবনে ওঁদের প্রাসংগিকতা বুঝতে চাই, ওঁদের শিক্ষা মানে ওঁদের সমস্যা থেকেও শিক্ষা নিতে চাই। হ্যাঁ, ওঁদের দ্বিচারিতা থেকেও।
    তাই চাইব যে আলোচনা চলুক।

    ডিঃ আমি আদৌ মিশনের শিক্ষা পদ্ধতিকে আদর্শ মনে করি না।
  • ;-) | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৬:২৪513158
  • কোন্‌ শিক্ষা পদ্ধতিকে আদর্শ মনে করেন যদি জানাতেন !
  • ranjan roy | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৭:২৭513159
  • নেতি নেতি করে খুঁজছি, কোন রেডিমেড উত্তর নেই আমার কাছে।
    তবে এখন অব্দি রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা-চিন্তাই তুলনামূলক ভাবে উন্নত মনে হয়।
  • cm | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৭:৪১513160
  • যেমন রুগী তেমনি ওষুধ। এসব প্রশ্নের ওরকম উত্তর হয় না।
  • ... | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৭:৪৫513161
  • অনুভব করেচি, তাই বলচিঃ
    ইতি ইতি করে খুঁজুন। সুবিধে হবে। নেতি নেতি বড় কঠিন পথ। আমার-আপনার মত গো-মুখ্যুদের জন্য নয়।
  • ranjan roy | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৭:৫০513163
  • ইতি আর নেতি একই কয়েনের দুটো পিঠ মাত্র। বিশুদ্ধ ইতি ও বিশুদ্ধ নেতি বলে কিছু হয় না। আপনি যেই একটি সেট এর মধ্যে ইতি বলে কিছু মেম্বারকে খুঁজে পেলেন, তক্ষুণি আপনি,ipso facto,বাকি মেম্বারকে রিজেক্ট করলেন, অর্থাৎ নেতি করে দিলেন।
    এটা আমার anubhabঃ))))
  • ... | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৭:৫৮513164
  • এবং ভুউউউউউউউউল অনুভবঃ-)))
    [ভুউউউউউউউউল-এর ঋণস্বীকার অভ্যুর নরেন্দ্রপুরের গপ্প]
    যাগ্গে, বিশুদ্ধ ইতিতে যেতে হবে না। অশুদ্ধতেই হবে। এই সব বক্কিবাজি যতক্ষণ চলছে, ততক্ষণ কোনও বিশুদ্ধতেই আমরা কেউ নেই।
    আগে, এইটুকু মানি যে আমার চিন্তা-ক্ষমতার থেকেও ভালো কিছু হতে পারে, তাপ্পর না হয়...
  • b | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৮:২২513165
  • হ্যাঁ সেই ভালো। আমরা বরং কর্তার ভূতের কথা শুনি।
  • বিপ | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৮:২৮513166
  • আমি বহুদিন আগে শ্রদ্ধাবাসর বলে একটা প্রবন্ধ লিখেছিলাম। কেন লিখেছিলাম?

    আমি আমেরিকান বা বৃটিশদের মধ্যে অতীতের চরিত্র নিয়ে এত আদিখ্যেতা দেখিনি। জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রহাম লিংকন, জেফারসন এদের নিয়ে আমেরিকাতে কোন আদিখ্যেতা নেই। জেফারসনের মতন রাজনৈতিক পন্ডিত খুব কম জন্মেছে-অথচ যেহেতু তিনি দাস রেখেছিলেন [ যদিও দাস প্রথা সমর্থন করেন নি], আমেরিকাতে তার অফিসিয়াল বায়ো শুরু হয়, তার দ্বিচারিতা দিয়ে।

    বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ-এদের নিয়ে বাঙালীর চূরান্ত আদিখ্যেতা এই জন্য বাঙালী নিঃস্ব। একজন আমেরিকান বর্তমান নিয়ে ভাবে, ভবিষ্যত নিয়ে ভাবে। বাঙালী মজে থাকে ঐতিহাসিক মিথিকাল চরিত্রে। ফলে বাঙালীর মধ্যে জ্যোতিবোস, মমতা ব্যার্নারজির মতন চূড়ান্ত নিকৃষ্ট নেতা নেত্রীরা "জননেতার" স্থান নেয়।

    আমেরিকাতে শুনি নি কেও আব্রাহাম লিংকনের আদর্শে কাজ করতে নেমেছে। আমেরিকানদের এই ধরনের অনুপ্রেরণার দরকার হয় না কারন তারা বর্তমান এবং ভবিষ্যত নিয়ে ব্যস্ত। একটা রক্ষনশীল সমাজ অতীতে থাকতে চায় এখানেও-কিন্ত তারা টি পার্টির মতন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠি। আর আমাদের গোটা বাংলাটা হচ্ছে টিপার্টির মতঁন রক্ষনশীল।
  • dd | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৮:৩০513167
  • দীপ যেসব লেখা খুঁটে খুঁটে টইতে তুলছেন তাদের অনেকগুলই কখনো পড়ি নি,শুনিও নি।

    এখোন পড়ে বিবেকানন্দের উপর আরো শ্রদ্ধা বেড়ে গেলো। ১০০প্লাস বছর আগেও এক নিতান্ত কাঁচা তরুনের কি অদ্ভুত আধুনিক চিন্তা ছিলো। ট্যাকটিক্যাল ক্ষেত্রে উনি ম্যাকিয়াভিলিয়ান ছিলেন বা গোদা বাংলায় যাকে বলে প্র্যাগমাটিস্ট। তাই একই সাথে তাত্ত্বিক আর সাংঘটনিক নেতা - দুটই হতে পেরেছিলেন। খুব সাকসেসফুলি।

    মুষ্কিল হয় ওনাকে মনে মনে অবতার বানিয়ে দিলে - তখোন আর ওনাকে একজন মানুষ হিসেবে চিন্তা করা যায় না। এই প্রসংগে সদা সর্বদা খ্যাল রাখবেন অমৃতবাণী (শ্রদ্ধা ইস ডিফারেন্ট ফ্রম ভক্তি। ভক্তি মানে হচ্ছে আনুগত্যের ব্ল্যাংক চেক। সেখানে সর্বাদাই গদগদ ভাব। )
  • Sibu | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৮:৫১513168
  • আম্রিকানরা লিংকনেরে পাত্তা দেয় না? এই যে পলিটিকো ওবামার লিংকন ভক্তি নে মন্দ কথা কয়েছে।

    http://www.politico.com/story/2013/06/obamas-lincoln-delusion-92314.html
  • dukhe | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৯:১০513169
  • বিপের এই জাতিগত হীনম্মন্যতাকে বিবুদা বরাবরই হ্যাটা দিয়ে গেছেন। কী আর করা।
    আর মাইরি, অল্পবিদ্যাকে অল্পবিদ্যা বললে, হাফকোটকে হাফকোট বললে, আউট অফ কনটেক্সটকে আউট অফ কনটেক্সট বললে ঠোঁট ফোলালে কীই বা সান্ত্বনা দিই?
    বিবুদা বিবাদের চেয়ে সমন্বয়ে আস্থা রাখতেন - এ আর কী নতুন কথা?
  • ... | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৯:৩৮513170
  • অবশ্যই শ্রদ্ধা ভক্তির থেকে অনেক, অনেক আলাদা এবং আরও গভীর অনুভূতি। যে ভক্তির প্রাথমিক উচ্ছ্বাসটুকুতেই পৌঁছাতে পারে নি, সে আবার শ্রদ্ধা সম্পর্কে বুঝবে কি? দূর, দূর, যত্তসব!
  • b | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৯:৪৮513171
  • ড্ট বাবুকে ক এর পরে ক। ভক্তি মানেই তো অন্ধ। তার অ্যান্টিডোট জ্ঞান, বিচার বিবেচনা প্রসূত জ্ঞান। বিবেকানন্দ বলে গেছিলেন।
  • :-) | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৯:৫০513172
  • শ্রদ্ধা আর ভক্তি কেস টা ডিডি আট বছর আগে বালাতে লিখলে একটা বাজে তক্ক কেমন গোড়াতেই ছেঁটে যেত।

    বিপকে বলার কিছুই নেই, তবু একটু ক্লু দিই। একটা জাতির ইতিহাস গৌরব বা অতীত আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা বা সেখান থেকে প্রেরণা পাওয়ার জন্য আদৌ একটা শেকড় থাকা প্রয়োজন। আমেরিকার ও একটা বেশ গৌরবময় অতীত ছিল (আশা করি এটা সম্বন্ধে জানেন), যেটাকে রেড ইন্ডিয়ানদের অসভ্যতা বলে মুছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান আমেরিকার ইতিহাস একটা ছিন্নমূল জাতের ইতিহাস। এর ছিন্ন শিকড় এখন সেই ইওরোপে যাকে সে পরিত্যাগ করেছে। ফলে এই জাতিটি বর্তমানে বাঁচে। এইভাবে ভাবলে কিছুটা সুবিধে হতেও পারে।

    রঞ্জনদা কি রবি টেগোরের ব্রাহ্ম স্কুল অব থটে সাবস্ক্রাইব করছেন? মুক্তমনাতে কিন্তু রবি টেগোরের নির্মোহ ব ও বিদ্যমান। দীপ বা বিপ লিং দিত পারবেন।
  • :-) | ১৬ জুলাই ২০১৩ ০৯:৫২513175
  • ভক্তি জ্ঞান আর কর্ম নিয়ে ভাটাচ্ছেন ভাটান, রাজযোগ এনে ফেললেই শিবুদা চটে উঠে ধুয়ে দিয়ে যাবেন। সাবধান করে রাখলাম।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন