এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৫১153600
  • দেশে সহজলভ্য ফুটির ইংরেজি কি?
  • a x | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৪৮153599
  • হ্যাঁ J1-এ ডিফিকাল্ট। জে থেকে এইচে স্পন্সর করতে হবে কোম্পানীকে।
  • a x | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৪৬153598
  • খুঁটি নাই, হেড হান্টার আছে তো?
  • Ishan | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৪৫153597
  • স্যান কি আমাকে জিগালো? না পঞ্চাশ মাস নয়। দস্তুর মতো বছর। এ একেবারে আন্তর্জাতিক নিয়ম। শ্রী দীপ্তেন এ ব্যাপারে আরও ভালো বলতে পারবেন।
  • pi | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৪৩153596
  • পিপি, কিছুটা জানতাম, বাকিটা আরো বিস্তারিত জেনে আরো খারাপ লাগল। ঃ(
    তুমি টিচিং লাইনে চেষ্টা করে দেখেছ ?
  • san | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৪২153595
  • মাস?
  • Ishan | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৪১153593
  • দুঃখের গপ্পো করে কাঁদা পঞ্চাশের আগে নিষিদ্ধ। পঞ্চাশের পরেও কাঁদতে হলে সঙ্গে বোতল থাকা আবশ্যক।
  • | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৪১153594
  • পিপি এতোটা লড়াই করেছো। বাকি টাও পারবে। সব ঠিক ঠাক হয়ে যাবে। মন খারাপ করো না।
  • pipi | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৪০153592
  • হে হে অক্ষদা, সে দরজাতেও টোকা দেই নি ভেবেছ? খুঁটি, খুঁটি - আসল জিনিসটিই নেই। আর এদেশে J1 ভিসায় তো জাস্ট ইমপসিবল। তবে হ্যাঁ, জার্মানীতে থাকাকালীন ওখানকার বায়োটেকগুলোতে অ্যাপ্লাই করলাম না এটা মস্ত ভুল। আমার বেশ কয়েকজন কলিগ পটপট করে ঢুকে গেলঃ-(
  • a x | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৩৮153590
  • ঠিক আছে মিঠু।
  • a x | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৩৮153591
  • আর ঐ জার্মান গরমেন্টের এগেইন্স্টে কেসের জন্য কনগ্র্যা। বেশিরভাগ লোক তো ছেড়ে দেয় এসব।
  • a x | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৩৬153589
  • কখনও সময় সুযোগ হলে নিজের গপ্প বলব, তখন নাহয় গলা জড়িয়ে কাঁদা যাবে। কিন্তু এই সব না, এটা নিশ্চয়ই জান। তুমি ইন্ডাস্ট্রিতে অ্যাপ্লাই করেছ?
  • san | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৩৪153588
  • পিপির পোস্ট পড়ে মন খারাপ হয়ে গেল :-(
  • | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৩৩153585
  • সেই বইএর একখান প্রিন্ট আউট নিয়ে রেখেছিলাম অক্ষ, এখন বোধহয় কোনো নিরিবিলি জায়গায় ঘুমোচ্ছে- খুঁজে পেলে দেখে তোমাকে বলে দেবো।
    কুমড়ো ফুলের বড়ার জন্যে আগাম শুভেচ্ছাঃ)
  • pipi | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৩৩153586
  • ছোঃ আমি আর এখন রাগি নি। কেমন একটা তূরীয় দশায় উঠে যাচ্ছি ধীরে ধীরে।
  • a x | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:৩৩153587
  • পিপি ঃ-(
  • Ishan | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:২৯153584
  • পিপি কি রেগেমেগে আছে নাকি? আরও লেখো না। মুড আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে।
  • pipi | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:২৭153583
  • ইয়ে একটু বেশিই স্পেস খেয়ে ফেলেছি গুরুর পাতার। ক্ষ্যামাঘেন্না করে দেবেন। আর যাদের ইচ্ছে হবে না তারা ইঁদুরের ল্যাজ ধরে সুড়ুৎ করে বেরিয়ে যাবেনঃ-)
  • pipi | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:২৫153581
  • সাত-আট বছর দেশের বাইরে। নেটওয়ার্কের হদ্দমুদ্দ! কাউকেই বিশেষ চিনি না। এখানে ওখানে সিভি পাঠাই। ফোর্সড অ্যাপ্লিকেশনস। আর বিভিন্ন ল্যাবের দরজায় ঘুরি। দু চারজন বলে আচ্ছা সিভি পাঠাও। তারপর তারা আর রা-ও কাড়ে না। মেলের জবার দেয় না, ফোনও তোলে না। কেউ কেউ সরাসরি দু-চার কথা শুনিয়ে দেয়। একটাও পাব্লিকেশন নেই আর তুমি কিনা গরু খোঁজার স্বপ্ন দেখছ? তাও এমন ঝাঁ চকচকে হাইটেক গোয়ালে? এ যেন ভিখিরীর বিরিয়ানির স্বপ্ন দেখা। কেউ কেউ হেসে হেসে জুতো মারে - পিএইচডির সাট্টিফিকেটটা আসলি কিনা জানতে চায়। জার্মানীর মত দেশে, অমন একটা ইউনিভার্সিটি বিনা পাব্লিকেশনে আমাকে পিএইচডি ডিগ্রী দিল - সত্যি তো! লোকের সন্দেহ স্বাভাবিক।
    এদিকে সংসারে টানাটানি। ঘাড়ে বসে খাবার মত ঘাড়ও নেই। আর বাড়ীর লোক অন্যের ঘাড়ে ট্রান্সফার করার জন্য জ্বালিয়ে মারলে! সেখানেও রিজেকশন লেটারের ছাড়াছড়ি। একে তো বাড়ীর ফতোয়ার চোটে দিনে দুপুরে অন্ধকার তায় কলাটা মূলোটা যাও বা জোটে তারা বেশীরভাগ নাক সিঁটকে বলে এহ মেয়ের বয়েসটা বুঝলেন কি না বড্ডই বেশী! (ছেলের বয়স বুঝলেন কি না বেশী না এই চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ!)। কেউ বলে মেয়ের ভাই নেই (ভাই থাকলে কি গুষ্টিসুখ হয় তারাই জানে)। মেয়ে মাঝেসাঝে ড্রিংক করে? আরে অত আলট্রা মড মেয়ে আমাদের চাইনা বাপু। আর সবারই কৌতূহল এত বছর কেন 'বিয়ে হয় নি'। 'দোষটোষ' আছে নাকি। আর আগে কোন সম্পর্ক ছিল শুনলে তো পত্রপাঠ নাকচ - 'খুঁতো' মেয়ে না? তা ভাই এই তেত্তিরিশ চৌতিরিশেও অসূর্য্যমস্প্শ্যা হয়ে বসে থাকতে হবে এমন শর্ত আছে জানলে না হয় ন বছরেই গৌরীদানটা সেরে নিয়ে এতদিনে ফুটবল টিম নামিয়ে দিতাম!
    বাড়ীর লোক আর উপায় না পেয়ে তাদের যাবতীয় রাগ ঝাল মেয়ের উপরেই ঝাড়ে। সকল অপরাধের এই এক অপরাধী। তাদের আর দোষ কি। কন্যাদায়গ্রস্থ বাপ কি আর সাধে লিখেছে। সে মেয়ে যতই পড়ুয়ে লড়ুয়ে হোক আদতে সে একটি গলার কাঁটা। আর তাকে সময় মত উগরাতে না পারলে পাড়াপ্রতিবেশী গুষ্টির যে যেখানে আছে তারা ভালবেসে কাঁটাটা আরেকটু খুঁচিয়ে দিয়ে যায়। ব্যস। আর মেয়ের মায়ের হা হুতাশে তো পাথরও গলে যায়। লকার ভর্তি গয়না, মেয়ের গায়ে উঠল না। জামাইষষ্ঠীর আম জাম কোন জামাই খেল না। সবার বাড়ী বিয়ে-সাধ-অন্নপ্রাশন-পৈতে খেয়ে বেড়াতে হয়, এ বাড়ীতে সাধ-অন্নপ্রাশন তো দূর বিয়ের শাঁখটাও বাজল না। বড় চাকুরে হলেও না হয় গলা ফুলিয়ে লোককে বলা যেত ( প্রতিবেশী গুষ্টিকুটুমের চোখে ইর্ষার আগুনটুকু না দেখলে আর বেঁচে কি সুখ তোমরাই বল)। তা এ হাড়হারামজাদা মেয়েকে নিয়ে কি করা যায়।
    তো পূনর্মূষিক হওয়া ছাড়া আর তো কোন গতি ছিল না। মানে, পালানো ছাড়া।
    দেশের কোন গোয়ালে তো কিছু জুটল না কিন্তু বিদেশের বেশ কিছু জায়গা থেকে ডাক এসে গেল। তো সুইডেনে বড় ঠাণ্ডা, ওখানে যাব না। জার্মানী ফের? নাহ থাক। ফ্রান্স? ওবাবা! বড় রেসিস্ট জায়গা। আর ফের সেই ভাষার গারদ। প্লাস ফ্রেঞ্চ জিনিসপত্তরে একটু বদহজমের ধাত তো সেই কোন না ছুটবেলা থেকেই। অতএব? চল তাহলে পুকুরের ঐ পাশটাই একটু ঘুরে আসি।
    পুকুরের ঐপাশে বেশ কয়েকটা গোয়াল থেকে ডাক এসেছিল। কিন্তু সব ছেড়ে যে এই গারদে ঢুকব সে বিশুদ্ধ কপাল। ঐ কথায় আছে না আমি যাই বঙ্গে, কপাল যায় সঙ্গে?
    জোকস অ্যাপার্ট - ঢুকেছিলাম লোকটার পাব্লিকেশনের বহর দেখে। যে ল্যাব থেকে প্রতি মাস-দুমাসে একটা করে পেপার ছাপে তেমন মেশিনের উপর লোভ হয়েছিল খুব অস্বীকার করব না। আফটারল PUBLISH OR PERISH এর যে জগতে বাস করছি সেখানে পেরিশেবলের দলে তো অলরেডি পড়ে গেছি তা মনে হয়েছিল একবার একটা শেষ চেষ্টা করে দেখি না কেন। কুঁজোরও তো মাঝেসাঝে চিৎ হয়ে শুতে সাধ যায়, যায় না?
    কেন ছেড়ে দিচ্ছি না? কারণ দুটো পেপার আটকে রেখেছে আজ কত মাস। আজ নয় কাল করে নাকের ডগায় গাজর ঝুলিয়ে ঘুরিয়ে চলেছে। ছেড়ে গেলে জানি ওগুলোরও সেই শান্তিনিকেতনী হাল হবে।
    আর এমনিতেও সামনের মাসেই মেয়াদ ফুরোচ্ছে। মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে ঝেড়ে কাশে নি। পেপারও কোন জার্নালে কম্যুনিকেট করে নি। এরপর যা হবে তা খোদায় মালুম। আমিও আর এরপর অ্যাকাডেমিক্সে নেই (অবশ্য থাকার আর উপায়ও নেই)। ডাল-ভাতের ধান্ধায় দেখি আবার কোথায় ভাসতে হয়।

    *********************************************************
    অথ আম্রুকাণ্ড সমাপ্ত।
  • pipi | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:২৫153582
  • দমদি, হ্যাঁ আমি বেছে বেছে ভাল লোকজনের কাছেই কাজ করতে যাই বটে, ঠিকই বলেছ।
    সোসেন, হানু, অজ্জিত আর যারা যারা বলছ বা ভাবছ যে এ ল্যাব ছেড়ে দিচ্ছি না কেন.... একটু পিছিয়ে শুরু করি, কেমন? বোর হবে হয়তো। তা গুরুর পাতায় বোরিং জিনিসপত্তর তো অনেক কিছুই পড়, এটাও একটু ক্ষ্যামাঘেন্না করে না হয় পড়লে। আমিও একটু ভেন্ট আউট করে ভারমুক্ত হই আর কি।
    তোমরা পুরনোরা অনেকেই হয়তো জান যে শান্তিনিকেতনে এক প্রায়উন্মাদের ল্যাবে বেশ কিছুদিন পিএইচডি করার সৌভাগ্য হয়েছিল। আজ ফিরে দেখলে মনে হয় তিনি এই আমার বর্তমান বসের ডোপেলগ্যাঙগার নিযয্যশ। ঐ কুম্ভমেলা কেস আর কি। শেষমেষ যে সুস্থ শরীরে ওখান থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছিলাম এই-ই অনেক ভাগ্য বলে মানি। ল্যাব ছাড়ার খেসারত দিতে হল এই - আমার কাজ পাব্লিশ তো হল, কিন্তু আমার নাম ছাড়াই। ল্যাব ছাড়ার সময় খাতা পত্তর সবই জমা করে আসতে হয়েছিল। প্রমাণ করার উপায় ছিল না যে ওসব কাজ আমারই। আর থাকলেও, প্রমাণটা করতে যেতাম কার কাছে।
    তখন বয়স কম, রক্ত গরম। ভাবলাম কোই বাত নহি। অমন খান পাঁচেক পেপার পাব্লিশ করার ক্ষ্যামতা আছে যদি তেমন ভাল একটা ল্যাব পাই। নিজের উপর খুব ভরসা ছিল আর কি। ঐ যে বললাম - গরম রক্ত।
    গেলাম জার্মানী। পরীক্ষা টরীক্ষা দিয়ে পাসও করলাম। বলতে নেই জার্মান বস লোক খারাপ ছিল না। কিন্তু এমনই সে বিগশট যে তার দিন কাটে এ মহল, সে মহলে মিটিং করে আর দেশ দুনিয়া ঘুরে লেকচার দিয়ে। স্টুডেন্টগুলো সব এলের দড়ি, বেলের দড়ি। নিজে নিজে খুঁটে খাও। ভুল ধরিয়ে দেবার লোক নেই, দেখাবারও কেউ নেই। নিজের ভুল থেকে নিজে শিখে সতর্ক হও অ্যাণ্ড ট্রাই এগেইন। তাতে লাভ যাই হোক, ক্ষতিটা হল সময়ের অপচয়।
    সে সময় জার্মানীরই আরেকটি ল্যাব থেকে অফার পেয়েছিলাম। ফিল্ড পছন্দ না হওয়ায় আর ব্যক্তিগত কারণে সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেই। প্রথম বিগ মিস্টেক, আজ বুঝি। কিন্তু ঐ যে, জোশ তখনও ভরপুর!
    গণ্ডা খানেক প্রজেক্টে সময়, বুদ্ধি আর পরিশ্রমের অপচয় করে শেষমেষ একটি প্রজেক্ট ক্লিক তো করল। এইটি ছিল যাকে বলে বিগ রিস্ক প্রজেক্ট - কারণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের আরো কিছু ল্যাবে ঐ একই কাজ হচ্ছিল। সেটি ফিনিশ করে পেপারটি লিখে বসের টেবিলে দিয়ে তো প্রতীক্ষা। কোথায় বস! সে আজ কিয়োটো তো কাল কেন্টাকি! নয় নয় করে গড়িয়ে গেল পাঁচ-ছয় মাস। সে পেপার বসের টেবিলে ধূলো চাটতে লাগল। তাগাদা দিয়ে দিয়ে ক্লান্ত হয়ে তাগাদা দেনেবালারই লজা করতে লাগল ফলে সে তাগাদা দেওয়াই বন্ধ করে দিল। ফাইনালি একদিন সে ম্যানুস্ক্রিপ্টটি বসের টেবিল থেকে আমার টেবিলে এল একটি ছোট্ট নোট সহ - নট এনাফ মিট! ল্লেহ! মিট নেই তো বুঝলাম কিন্তু গত্তি লাগাতে গেলে আর কি কি করতে হবে সেটা বলবে কে!! কাকস্য পরিবেদনা! বস ফের বিশ্ব দুনিয়া পরিভ্রমণে বেরিয়েছেন। তো নিজের মগজে খুরপি চালিয়ে নিজেই ভেবেচিন্তে খেটেখুটে নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্টস প্ল্যান, ডিজাইন, এক্সিকিউট করে জিনিসপত্তর কিছুমিছু নামল। পেপারের গায়ে গত্তিও লাগল। বসও খুশি। ফাইনাল রিভিশন চলছে। এমনি এক খুশির দিনে সকালবেলায় ল্যাব গিয়ে দেখি লোকজন ফিউনরালে যোগ দিতে আসার মত মুখ করে ঘুরছে আর এমন করে আমায় দেখছে যেন ফিউনের‌্যালটা আমারই! হল কি!
    বিশেষ কিছু না। আমার ঐ কাজটি দাঁড়ি, কমা, পূর্নচ্ছেদ সহ কানাডার একটি ল্যাব আমাদের ফিল্ডের সবচেয়ে উঁচুর ধাপির একটি জার্নালে আমাদের আগেই ছেপে দিয়েছে! অর্থাৎ আমার হাতে পেন্সিলও নেই।
    বসের সাথে তিক্ততার সেই সূত্রপাত। আমার বক্তব্য - তুমি এত টাইম না নিলে কোনকালে ও জিনিস পাব্লিশ হয়ে যায়। তার বক্তব্য - তুমি এত সময় লাগালে কেন ফিনিশ করতে। চাপান উতোরের এক শেষ! সব তো হল কিন্তু এবার পিহেইচডিটি শেষ করি কি করে? যে জিনিস ছেপে বেরিয়ে গেছে অন্যের নামে সে জিনিস যে আমারই হাতে আমিও করেছি এ প্রমাণ করি কি করে? অতএব ফের লাগ কাজে। দেখ যদি শিলধোয়া জলেই কিছু হয়, বাটা না হয় নাই পাওয়া গেল (ঠাকুমার ঝুলির বুদ্ধু-ভূতূম দ্রষ্টব্য)।
    এরই মধ্যে চীনীম্যানদের একটি দল ঐ প্রজেক্টের উপর আরো কিছু কাজ ছেপে কফিনে শেষ পেরেকটিও পোঁতার ব্যবস্থা করে ফেললেন। অ্যাডভাইসারকে বাধ্য হয়ে পিএইচডি কমিটি মেম্বারদের ডিসক্লেমার দিতে হল যে এ কাজ, এ থিসিস আমারি। কোথাও থেকে টোকা নয়।
    এরই মধ্যে ডিপার্টমেন্ট থেকে বসকে চাপ দিতে লাগল এখনো কেন আমি পড়ে আছি। ভেটেরান বলে ভেটেরান - এ তো পুরো শিকড় বাকড় গজিয়ে যাবার অবস্থা! ফল হল এই - পট করে বস কনট্র্যাকটি শেষ করে দিলেন! নাও এবার নিজের ম্যাও নিজে সামলাও। কনট্রাক্ট নেই তো ভিসাও নেই। ভিসা নেই তো থাকাও নেই। লোটা-কম্বল বাঁধ এবার। তখন থিসিস লিখছি। জানতাম এ অবস্থায় দেশ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে ও থিসিস ইহজনমে রোদ্দুরের মুখ দেখবে না। কিন্তু থাকার উপায় কি? দুম করে একটা জার্ম্মানকে বিয়ে করে ফেলা? আইডিয়া মন্দ না, দু-একজন ভলান্টিয়ারও রেডি ছিল কিন্তু ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে ওদের এমন সর্বনাশের মুখে ঠেলে দিতে মন চাইল নাঃ-) আর থাকলেই তো হবে না, একটা ইনকামও তো চাই রে বাবা। মা অন্নপূর্ণার আশীর্বাদে আমার ভাঁড়ে যখন রেগুলার মা ভবানী বিরাজ করেন।
    উপায় একটা ছিল বৈ কি। জার্মানীতে পিএইচডি করনেবালাদের এমপ্লয়ী হিসেবেই দেখা হয়। কারণ তারা শুধু যে ট্যাক্স দেয় তা নয়, মাস মাস আন-এমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট স্কিমে টাকাও দেয়। অর্থৎ আমি আন-এমপ্লয়েড হলে ফের চাকরী পাওয়া অবধি গরমেন্ট আমায় খাওয়াবে। সে জন্যই টাকা দিয়েছি মাস মাস। কিন্তু এ দেশে যদি নাই থাকতে পেলাম তো আমার বেনিফিট পায় কে? ছুটলাম লেবার আপিস। আমার আনএম্প্লয়মেন্ট বেনিফিট দাও। তারা খেদিয়ে দিল! বলে আগে ভিসার ব্যবস্থা কর তারপর। গেলাম ভিসা আপিস - তারা ভাগিয়ে দিল এই বলে যে আগে লেবার আপিস থেকে আনএম্প্লয়মেন্ট বেনিফিট আর ওয়ার্ক পারমিট জোগাড় কর! পুউরো ক্যাচ 22!! সে ভাল দিন ছিল বটে। সকালে উঠে ভিসা আপিসে হাজিরা দিতাম। সেখান থেকে ভাগিয়ে দিলে যেতাম লেবার আপিস। সেখান থেকেও তাড়ালে ফিরে এসে থিসিস লিখন আর ল্যাবের কাজ। মাইণ্ড ইট - কনট্রাক্ট নেই, কিন্তু আমি কর্মযোগী তখনও নিজেরই উদ্যমে কাজ করে চলেছি। বসের অবশ্য তাতে আপত্তি ছিল না। এই করে করে দিন তো গেল, সন্ধ্যে হল অবস্থা। দিলাম ঠুকে কেস। সোস্যাল জাস্টিস কোর্টে। বাপু হে জার্মান সরকার, হয় আমার বেনিফিটস দাও আর নয়তো তো এই এতবছরে যত টাকা নিয়েছ সব ফেরত দাও। মামলার রায় বেরোল - কেমন একটা মিক্সচার মতন। হ্যাঁ আমার বেনিফিটস পাওয়াই উচিত কিন্তু ভিসার ব্যবস্থা আমাকেই করতে হবে আগে।
    আমার উকিল একটুও না দমে ফের ঠুকল মামলা আপার কোর্টে। এইবারে অন্ধ বিচার দেবী (মনের ভুলেই বোধহয়) পাল্লা আমার দিকে হেলিয়ে দিল!!
    হাতে এল এক বছরের ভিসা, এক বছর ধরে সরকারের আমায় খোরপোষ দেবার চিঠি, ওয়ার্ক পারমিট (ইয়েস, যেকোন জার্মান সংস্থায় চাকরীকরার কাগজ) আর রেসিডেন্সির অ্যাপলিকেশনের চিঠি!
    ধূর ওসব কে করে। ল্যাবের শিশি বোতল পাইপেটস দেখলে গা জ্বলে। ল্যাদ খেয়ে আর ঘুরে বেড়িয়ে কাটিয়ে দিলাম ছয় মাস। রেসিডেন্সির অ্যাপ্লিকেশন? ছোঃ! সারা জীবণ বিদেশে কাটাব নাকি? (বিগ মিসটেক নাম্বার টু)। সেইসব ভেবে কোন জার্মান কোংএ অ্যাপ্লাইও করলাম না। ছ মাস পরে দেখলাম ঐ ল্যাবের শিশি বোতলের জন্যই হতচ্ছাড়া মনটা কেমন আনচান করছে। সে সময় হল একটা মেজর অপারেশন। একা তার ঝক্কি সামলাতে সামলাতে আর ভাল্লাগ্ল না। নিজের দেশ, নিজের লোকজন, নিজের মাটি, রাবড়ি-ফুচকারা তো নিত্যি দিনই টুকি খেলে, ঠিক করে ফেললাম - এ পোড়ার দেশে আর নয়, মন চল নিজ নিকেতনে। গুটিয়ে বাটিয়ে চলে এলাম দেশে। মনগত ইচ্ছে দেশেই ডাল-রুটির একটা ব্যবস্থা করা। এত বড় দেশে আমার পাঁচ নম্বর জুতো রাখার একটু জায়গা কি আর হবে না?

    *******************************************************
    অথ জার্মান কাণ্ড সমাপ্ত!
  • a x | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:২৪153579
  • ও মিঠু, আমার কুমড়ো চারায় ছোট ছোট কুঁড়ি এসেছে অলরেডি। কুমড়োফুল ভাজার জন্য বসে আছি!
  • a x | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:২৪153580
  • কী নাম সেই বইএর?
  • | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:২২153578
  • প্রজেক্টের জন্যে লাইব্রেরি ঘেঁটে একটা অসাধারণ বই পেয়েছিলাম।
    নেটিভ আমেরিকানদের ভাষালিপি। একেকটা ছবি।
    প্রথম দিকে চিহ্ন গুলো বুঝতে সঙ্গে অনুবাদটা লাগে- একটু অভ্যাস হলে গেলে, প্রত্যেকটা রেখার টানে আলাদা গল্প।
  • a x | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:১৮153577
  • অ্যাঁ?
  • | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:১৫153576
  • যেমন কাল্লু না বলে শ্যামল দা বলে?
  • a x | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:১৩153575
  • রেড ইন্ডিয়ান বলনা, উহা এখন একটি রেসিস্ট টার্ম, ইন্ডিজেনাস বা নেটিভ অ্যামেরিকান বল।

    আর কী সুন্দর সুন্দর নাম হয় তো ওদের। ছোট্ট চড়ুই, রক্তিম মেঘ, কালো ঈগল।
  • | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:১২153574
  • এই তো বস,দিব্বি আছি। খাচ্ছি দাচ্ছি আর গাদা গদা গল্পের বই পড়ছি।
  • cm | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:১০153571
  • স্বপ্নটা দেখে তাৎক্ষনিক মেজাজটা ভারি খুশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এখন ভেবে দেখছি গোটা ব্যাপারটাই আসলে দুঃখের।
  • | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:১০153572
  • এইযে ব্রতীন, কি খবর?
  • C | ২৬ জুলাই ২০১৩ ২১:১০153573
  • সেই তো। স্টুডেন্টরা শুনে বললো "স্যর, আপনি ওখানেই রয়ে গেলেন্না কেন?"
    ঃ-)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত