এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  নাটক

  • হীরকের রানী ভগবান (৩)

    সিকি
    নাটক | ১৪ জানুয়ারি ২০১৫ | ১৪৭১২৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সিকি | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১২:৩১660019
  • হুঁ, মার্কেটে প্রেডিকশন চলছে - ফ্লিপকার্ট আর স্ন্যাপডিলের ব্যবসাও বড় বাবলের আকার নিয়েছে - যে কোনও মুহূর্তে বার্স্ট করবে এইবারে।
  • dc | 132.*.*.* | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১২:৪৫660020
  • ফ্লিপকার্ট কিন্তু লাস্ট দুয়েক মাস হলো ডিসকাউন্ট কমিয়ে দিয়েছে। এখন যেগুলো দেয় সেগুলো স্রেফ কারসাজি, আসল দাম একই থাকে। চার-পাঁচ মাস আগে পর্য্যন্ত হুলিয়ে ফ্লিপকার্ট থেকে কিনেছি, তখন সত্যি সত্যি প্রচুর কম দামে পাওয়া যেত। ওয়ান বিলিয়ান সেল বলে একদিন ওরা যে সেলটা দিল, যাতে সারা দেশে হৈচৈ পড়ে গেল, সেটার পর থেকেই দেখছি ফ্লিপকার্টে আস্তে আস্তে দাম বাড়ছে। মনে হয় সরকার থেকে বাঁশ দিয়েছে। আর এখন ফ্লিপকার্টে আরেকটা চালাকি করেছে, ডেলিভারি কস্ট। আমি ফ্লিপকার্ট ফার্স্ট মেম্বার হয়েছিলাম, তখন বলেছিল ডাব্লু এস রিটেলে যা কিছু ডেলিভার করবে সেটা ফ্রি অফ ডেলিভারি চার্জ। অনেকদিন সেরকম ছিলও। এখন দেখছি অনেক প্রোডাক্ট আর ডাব্লু এস রিটেল ডেলিভারি করেনা, আর অন্যরা একশো থেকে দুশো টাকা ডেলিভারি চার্জ নেয়। ফলে দোকানের মতোই দাম পড়ে যায়।
  • সিকি | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১২:৪৯660021
  • হুঁ, এ রকম অনেক জিনিস আসছে, একটা প্রডাক্ট ডাব্লু এসে রিটেলে দাম ৭৫০ টাকা, ডেলিভারি চার্জ ০। একই প্রডাক্ট অন্য সেলারের কাছে ৭৩০ টাকা, ডেঃ চাঃ ২৫ টাকা। আরেকজন দিচ্ছে ৭১৫ টাকা, ডেঃচাঃ ৩৫ টাকা।

    এবার বসে যোগ বিয়োগ করে দ্যাখো কে পাঁচ টাকা বেশি দিচ্ছে কে কম দিচ্ছে।
  • Balsam Plumbs Pence | 125.*.*.* | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১৬:০৯660022


  • শুনে তারা লম্ফ দিয়ে উঠে
    চেঁচিয়ে উঠলো হা রে রে রে রে...

    কালকের ছবি।
  • d | 24.*.*.* | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১৬:৩১660023
  • O.o :-O
  • :) | 208.*.*.* | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১৬:৩৩660024
  • এত উত্তেজিত হবার কিছু নেই, পিটির হাতিও উড়তে পারে! :D
  • :) | 118.*.*.* | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১৬:৪৮660025
  • এটা কিন্তু অমি নই
  • Balsam Plumbs Pence | 125.*.*.* | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১৭:২০660026
  • এটাও থাক।

  • quark | 127.*.*.* | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১৭:২৫660027
  • এইডা হেব্বি হইসে!
  • d | 24.*.*.* | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১৭:৩৬660029
  • :-D হ্যাঁ
  • :) | 118.*.*.* | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১৮:৫৪660030
  • ভয়েস। পিটির পছন্দ হবে।

    মমতা কি কারও পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন?
    Submitted by Abdul.Gaffar.Ch... on Sun, 25/09/2011 - 12:01pm

    কলকাতার এক জাঁদরেল সাংবাদিক লন্ডনে এসেছেন বেড়াতে। আমি কলকাতায় গেলে তিনি আমার দেখভাল করেন। তিনি লন্ডনে এলে আমি তার দেখভাল না করি, অন্তত এক বেলা বাসায় এনে যদি না খাওয়াই সেটা ভদ্রতা হয় না। তাই একদিন তাকে হোটেল থেকে বাসায় নিয়ে এসেছি। তিনি দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডা দিয়েছেন। পারিবারিক কথা থেকে রাজনৈতিক আলাপ সবই হয়েছে।

    তাকে আমি জানিয়েছি, কলকাতা শহর সম্পর্কে আমি একটি তথ্য নতুন জেনেছি। তথ্যটি পুরনো। আমার জানাটা নতুন। তথ্যটি হলো, কলকাতা শহরের একটা বড় অংশ লন্ডনের মাটি দিয়ে তৈরি। কলকাতার সাংবাদিক চোখ কপালে তুলে বললেন, সেটা কি করে সম্ভব? বলেছি, সেকালের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুরনো দলিল-দস্তাবেজ থেকে এই তথ্যটা বেরিয়ে এসেছে। বেরিয়েছে বহুকাল আগে। আমি জানলাম বহু পরে। সেকালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সমুদ্রগামী জাহাজগুলো ছিলো কাঠের তৈরি। জাহাজগুলো মাল বোঝাই না থাকলে সাগর বক্ষে একটু ঝড় তুফান হলেই ভয়ানক দুলতো।

    একটু বেশি ঝড়ে কাত হয়ে ডুবে যেতো। নবাবি আমলের বাংলাদেশে এই জাহাজগুলো যেতো পণ্য বোঝাই করে স্বদেশে ফিরে আসতে। বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো পণ্য তাদের ছিলো না। ফলে লন্ডন থেকে মাটি বোঝাই করা হতো শূন্য জাহাজগুলোতে, যাতে সমুদ্র বক্ষে সেগুলোর ভারসাম্য বজায় থাকে। বাংলাদেশে গিয়ে লন্ডনের মাটি তারা কলকাতায় ফেলতো এবং বাংলাদেশি পণ্যে জাহাজ বোঝাই করে আবার ইংল্যান্ড ফিরে আসতো। কলকাতা শহর তৈরি হওয়ার সময় লন্ডনের এই মাটি রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যবহূত হয়েছে। ব্রিটিশ শাসকেরা পরবর্তীকালে কলকাতাকে গড়ে তুলেছিলো তাদের সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় মহানগরী হিসাবে।

    গল্পটি শুনে কলকাতার সাংবাদিক বন্ধু খুব খুশি হলেন। দুপুরে খাওয়ার পর তিনি একটু ভেতো ঘুমে যখন নির্মিলিত চোখ, তখন তাকে জিগ্যাসা করলাম, আচ্ছা, আমি যতোদূর জানি, মমতা ব্যানার্জি দুই বাংলার বাঙালিকেই অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাহলে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের এমন একটা ঐতিহাসিক মৈত্রী গড়ে তোলার সম্ভাবনাটিকে আকস্মিকভাবে ব্যর্থ করে দিলেন কেন? রহস্যটা কি?

    সাংবাদিক বন্ধু বললেন, তুমি এটা নিয়ে কিছু লেখালেখি করোনি? বললাম, প্রচুর করেছি। কিন্তু মমতার এই খেলার আসল রহস্যটা বুঝতে পারিনি। সাংবাদিক বন্ধু চোখ বন্ধ রেখেই বললেন, তিনি খেলেননি, তাকে দিয়ে খেলানো হয়েছে। বিস্মিত হয়েছি। বলেছি, মমতা ব্যানার্জিকে যতোটুকু জানি তাকে দিয়ে তার অমতে কোনো খেলা খেলানোতো অসম্ভব ব্যাপার। সাংবাদিক বন্ধু জিগ্যেস করেছেন, তুমি তাকে কতোটুকু চেনো? বলেছি খুব একটা চিনি তা বলবো না। তিনি যখন বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ব্যস্ত, তখন কলকাতার দৈনিক স্টেটসম্যানের সম্পাদক মানস ঘোষ তার সঙ্গে আমার একটা সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তিনিও রাজি হয়ে তার কালিঘাটের বাসায় আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়ায় যেতে পারিনি।

    সাংবাদিক বন্ধু বললেন, ‘তার সঙ্গে দেখা হলেই বুঝতে তিনি জেদি এবং সাহসী। কিন্তু কৌশলী নন। তিস্তার পানির ব্যাপারেও তিনি দিল্লির সঙ্গে বিবাদ করার সাহস দেখিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক করার ব্যাপারে কৌশলী হতে পারেননি। তিনি ফাঁদে পা দিয়েছেন।’

    ফাঁদটি কার, দিল্লির? মনমোহন সিংয়ের? জিগ্যাসা করেছি। কলকাতার সাংবাদিক বলেছেন, দিল্লির ফাঁদ বলতে পারো। তবে মনমোহন সিংয়ের নয়। তিনি ফেকেটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এই পদে বসার দক্ষতা, বুদ্ধি ও কৌশল কোনোটাই তার জানা নেই। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে সোনিয়া গান্ধীর হয়ে প্রক্সি দিচ্ছেন। নিজেই বলেছেন, রাহুল গান্ধী লায়েক হয়ে, নির্বাচনে জিতে এলেই পদটি তাকে ছেড়ে দেবেন।

    বলেছি, তাহলে ফাঁদটি কি সোনিয়া গান্ধীর? তিনিতো মাত্র ক’দিন হলো ঢাকা সফর করে গেছেন।

    সাংবাদিক বন্ধু যুক্তকর কপালে ঠেকিয়ে সোনিয়া গান্ধীকে একটা নমস্কার জানিয়ে বললেন, উহু, সোনিয়া গান্ধী নন। তিনিতো মহামানবী। রাজনীতিতে নেমেছেন। কিন্তু এতো নিচে নামতে পারেন না।

    আমার বিস্ময়টাকে তিনি আরো চাগিয়ে তুললেন। বলেছি, আমাকে এতোটা ধান্ধায় না ফেলে পরিষ্কার বলো, মমতার জন্য এই পাতা ফাঁদটি তাহলে কার? যদি ফাঁদটি দিল্লিরই হবে, তাহলে দিল্লিতে আর এমন কে আছেন, যিনি মমতার জন্য তার এই বিপুল জনপ্রিয়তার যুগে ফাঁদ পাতবেন?

    কলকাতার সাংবাদিক বললেন, তুমি আমাকে একটি সমস্যায় ফেললে।

    আমি যদি এখন তোমাকে নামধাম জানিয়ে মমতা ব্যানার্জি কার ফাঁদে পা দিয়েছেন তা বলি, তাহলে আমাকে প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। যদি প্রমাণপত্র দাখিল করতে না পারি, তাহলে দিল্লি এবং কলকাতা দু’ জায়গাতেই ক্ষমতাধরদের হাতে হেনস্তা হতে হবে। তোমাকে সত্যি বলি, আমার কাছে এর কোনো প্রমাণপত্র নেই। এটা আমার বিশ্লেষণ। তোমার মতোই আমার সাংবাদিক জীবন দীর্ঘকালের। এই দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতা দ্বারাই আমি ঢাকার তিস্তা-ফিয়াস্কো সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। সেটাই তোমাকে জানাতে পারি। তবে শর্ত, আমার নামধাম প্রকাশ করতে পারবে না। তুমি লিখবে, এই লেখার খারাপ-ভালোর দায়িত্ব তোমার।

    বলেছি, তথাস্তু। তবু তোমার বিশ্লেষণটা জানতে চাই। তোমার কাছ থেকে শোনা অতীতের অনেক ঘটনার বিবরণ সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এটা হলেও বিস্মিত হব না।

    কলকাতার সাংবাদিক বন্ধু বললেন, আমি দিল্লির সাউথ ব্লকে হর্সেস মাউথ থেকে জেনেছি, তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে ঢাকার বৈঠকে যে ঘাপলা হলো, তার পেছনে দিল্লির বর্তমান আমলাশাহীর কারসাজিতো আছেই, তবে তাদের খেলা সফল হতো না যদি প্রণব মুখার্জি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির জন্য ফাঁদ পাততে না পারতেন এবং মমতা তাতে পা না দিতেন।

    আমার বিস্ময় তখন আকাশচুম্বি। বলেছি, কোন্ প্রণব মুখার্জি? কলকাতার সাংবাদিক বলেছেন, ভারতের বর্তমান অর্থমন্ত্রী এবং তোমাদের কলিকালের সর্বজনীন প্রণব দা। যাকে তোমরা তোমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বন্ধু ও অভিভাবক বলে জেনে এসেছো।

    বলেছি, কিন্তু প্রণববাবু এ কাজটি করেছেন তার প্রমাণ? আর তিস্তা চুক্তি ভন্ডুল করার ব্যাপারে প্রণব বাবুর স্বার্থটাই কি? মাত্র কিছুদিন আগে তিনি নিজে ঢাকা গিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের উন্নয়ন চুক্তি করে এসেছেন! বন্ধু বলেছেন, ধীরে রজনী ধীরে। তোমাকে আগেই বলেছি, আমার কাছে কোনো প্রমাণপত্র নেই। এটা আমার স্পেকুলেশন বা অনুমান। আমার এই স্পেকুলেশন সঠিক হতে পারে, নাও পারে। তবে আমার সূত্রগুলোর খবর যদি সত্য হয়, তাহলে আমার অনুমান সঠিক হওয়ারই কথা।

    বন্ধু বললেন, তোমার আরও দু’টি কথার জবাব দেই। তিস্তা চুক্তি ভন্ডুল হওয়ার সব দোষ চাপানো হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ওপর। তিনি তাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের কিছু মানুষের কাছে জনপ্রিয় হলেও সারা ভারতেই সমালোচিত হচ্ছেন। মমতার বিপুল জনপ্রিয়তা দিল্লি এবং কংগ্রেস দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছিলো।

    কংগ্রেস এবং প্রণব বাবু যদিও ঠেকায় পড়ে মমতার তৃণমূলের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন, কিন্তু মনে-প্রাণে তারা কোনদিন তাকে পছন্দ করেননি। বামফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এতোকাল কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ন্যায্য আর্থিক দাবি-দাওয়া আদায়ে সাহস দেখাননি। কিন্তু মমতা কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েও সেই সাহস দেখাচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রণব বাবুর সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হতে মামতা দ্বিধা দেখাচ্ছেন না। এটাও প্রণব বাবুর শিরঃপীড়ার কারণ। তার স্বার্থ হলো, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা ব্যানার্জির বিরাট জনপ্রিয়তা ও প্রভাব নষ্ট করা। তিস্তা চুক্তিতে ঘাপলা বাধিয়ে এবং মমতার ঘাড়ে সেই দোষ চাপানোর ব্যবস্থা করে প্রণব বাবু তার সেই স্বার্থ ও উদ্দেশ্যই সম্ভবত পূর্ণ করতে চেয়েছেন। আর বাংলাদেশের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের উন্নয়ন-সাহায্য চুক্তি? তার কতোটা বাস্তবায়ন হবে বলে তোমরা আশা করো? বাংলাদেশে এই সেদিন খাদ্য সংকটের সময় প্রণব বাবুর পাঁচ লাখ টন পর্যন্ত চাল সস্তায় বাংলাদেশকে বিক্রি করার প্রতিশ্রুতির কথা তোমাদের মনে নেই?

    কলকাতার সাংবাদিক বন্ধু ‘ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের’ ব্লগে ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতের সাংবাদিক জ্যোতি মালহোত্রার একটি প্রতিবেদনের কথা তুলে বললেন, ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২ সেপ্টেম্বর ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে মমতার তৃণমূলের প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশকে তিস্তার ২৫ শতাংশ পানি দেয়া হোক। তাকে ধমকে ওঠেন প্রণব মুখার্জি। বলেন, এটা কেন্দ্রের বিবেচনার ব্যাপার। রাজ্যের নয়। তার এই ধমকে তৃণমূল নেতা ক্ষুব্ধ হন এবং মমতাকে বিষয়টি জানান। তার কথা, দিল্লি যদি সীমান্ত চুক্তি আগেভাগেই আমাদের দেখাতে পারে, তাহলে পানি চুক্তি দেখাতে সমস্যা ছিলো কোথায়? তাছাড়া ভারতের সংবিধান অনুযায়ী পানি সম্পদ রাজ্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বিষয়।

    দিল্লির কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গের পাওনা নিয়ে এমনিতেই মমতা সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী প্রণব বাবুর দর কষাকষি চলছিলো। ২ সেপ্টেম্বরের সভার ধমকা ধমকির ফলে তা তিক্ত মন কষাকষিতে পরিণত হয়। আমার কলকাতার সাংবাদিক বন্ধুর অনুমান হলো, প্রণব বাবু এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছেন। একদিকে মমতা ব্যানার্জিকে ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত করে তুলে তাকে ঢাকা বৈঠকে যেতে বিরত রেখেছেন। তিনি মমতা-চরিত্র জানেন। আত্মসম্মানে আঘাত লাগলে মমতা অনেক কিছুই করতে পারেন। অন্যদিকে ঢাকা বৈঠকে না যাওয়ার জন্য মমতার ঘাড়ে সব দোষ চাপানোর ব্যবস্থা করে ক্ষমতায় বসতে না বসতেই তার জনপ্রিয়তায় ধস নামানোর চেষ্টা করা। প্রণব বাবুদের হয়তো ক্যালকুলেশন, ঢাকা বৈঠকে না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মমতা কিছুটা সাময়িক জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব কমবে। দিল্লির উপর তার প্রভাব এবং দর কষাকষির শক্তিও কমবে। আপাতত: দিল্লির সেটাই কাম্য।

    কলকাতার সাংবাদিকের আরও ধারণা, মমতা ব্যানার্জি সম্পর্কে প্রণব বাবুদের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও হয়তো আছে। তাহলো ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাহারা। বামফ্রন্টকে কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে হটাতে পারেনি। প্রণব বাবু রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। মনে মনে একসময় হয়তো কংগ্রেসকে আবার রাজ্যে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা এবং নিজে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নও দেখেছেন। কিন্তু তার স্বপ্ন কখনো বাস্তব হয়নি এবং কোনোদিন বাস্তব হবে তার সম্ভাবনাও ছিলো না। প্রণব বাবু নিজেও কংগ্রেসের টিকিটে তার নিজের নির্বাচন কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হতে পারেননি। বামফ্রন্টের সদায়ক্ষতা ও ঔদার্যের ফলে এবার হয়েছেন। ফলে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের সহযোগিতার যুগে বামফ্রন্টের তুষ্টি সাধন করে চলাই ছিলো তার একমাত্র রাজনীতি।

    আমেরিকার সঙ্গে কংগ্রেস সরকারের পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের জোটবদ্ধতা ভেঙে গেলে প্রণব বাবু বিপদে পড়েন। কিছুদিন তার অবস্থা ছিলো ত্রিশঙ্কু মহারাজের মতো। না পারেন পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের বিরোধিতা করতে, না পারেন এতোকালের বৈরী মমতা ও তার তৃণমূলকে সমর্থন জানাতে। শেষ পর্যন্ত দিল্লির হুকুম তাকে শিরোধার্য করতে হয় এবং রাজ্যের গত সাধারণ নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের জোটকে সমর্থন জানাতে হয়। এজন্য তাকে রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতির পদ ছাড়তে হয় বটে, কিন্তু মমতার কাছ থেকে একটি সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হন। অর্থাত্ নিজের ছেলের জন্য তার নির্বাচন কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের বিরোধিতা ছাড়া নির্বাচিত হওয়ার ব্যবস্থাটি পাকা করেন।

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনে মমতা বিরাট বিজয় ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসেন। কংগ্রেস হয় তার ছোট এবং অনুল্লেখ্য শরিক। এটা দিল্লি বা প্রণব বাবু কারোই মনঃপূত হয়নি। তারা জানেন, মমতা দিল্লির দাস-মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা কখনো গ্রহণ করবেন না। প্রণব বাবু হওয়া দূরের কথা, তিনি সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ও হবেন না। পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ ও অধিকার তিনি ষোলআনা আদায় করতে চাইবেন। এই অবস্থায় মমতা ব্যানার্জিকে এখন দায়ে ঠেকে হজম করতে হলেও কখন সুবিধেমতো উগরে ফেলা যায় সেই চিন্তা দিল্লি এবং প্রণব বাবুদের হয়তো আছে। এখন রাজ্য সরকারের সূঁচ হয়ে ঢুকে যদি ভবিষ্যতে ফাল হয়ে বের হওয়া যায়, কংগ্রেসের পুরো রাজত্ব ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে ত্রিশ বছরেরও আগে হস্তচ্যুত পশ্চিমবঙ্গ আবার দিল্লির হাতে ফিরে যাবে এবং প্রণব বাবু আবার দিল্লি-নিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গের অঘোষিত ভাইসরয়ও হতে পারবেন। এটাই সম্ভবত: তাদের বর্তমানের আশা ও লক্ষ্য।

    কলকাতার সাংবাদিক বন্ধুর মতে, মমতা ব্যানার্জি সম্পর্কে প্রণব বাবুদের বর্তমানের কৌশলটি নিয়ে তার অনুমান যদি সঠিক হয়, তাহলে এই কৌশলটি প্রণব বাবুরা শিখেছেন বামফ্রন্টের কাছ থেকেই। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসী শাসনের শেষ জমানায় মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের মতো ছিলো অজয় মুখার্জির বাংলা কংগ্রেস। তারাও ছিলেন দিল্লির আধিপত্য-বিরোধী। বামফ্রন্ট নেতা জ্যোতিবসু এই বাংলা কংগ্রেসের সাহায্য নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতা থেকে কংগ্রেসকে হটান এবং বাংলা কংগ্রেস তখনকার রাজ্য নির্বাচনে সিপিএমের চাইতে কম আসন পাওয়া সত্ত্বেও অজয় মুখার্জিকে মুখ্যমন্ত্রীর আসন ছেড়ে দিয়ে নিজে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন। তারপর ধীরে ধীরে অজয় মুখার্জি ও বাংলা কংগ্রেসের অস্তিত্ব লোপ করে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের নিরঙ্কুশ রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। বামফ্রন্টের কাছ থেকে এই কৌশলটি শিখে প্রণব বাবুরা যদি মমতা ব্যানার্জি ও তৃণমূলের উপর তা এক্সপেরিমেন্ট করতে চান, তাহলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানোরই চেষ্টা করবেন। তবে সফল হবেন কিনা তা বলার সময় এখনো আসেনি।

    কলকাতার সাংবাদিক বন্ধুর বিশ্লেষণ শুনে মনে হয়েছে, তার বিশ্লেষণ সঠিক হলে মমতা ব্যানার্জি হয়তো একটি পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন। তিনি সাহসী কিন্তু কৌশলী হলে ঢাকা বৈঠকে আসতেন এবং তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছতেন। কিন্তু দিল্লি ও প্রণব বাবুদের উপর রাগ করে বা তাদের উস্কানির মুখে ঢাকা বৈঠকে না এসে তিনি দিল্লিকে সুযোগ করে দিয়েছেন তার ঘাড়ে একতরফা দোষ চাপানোর। এই পাতা ফাঁদ থেকে তিনি কিভাবে বেরিয়ে আসবেন এটা তার নিজের বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলের উপর নির্ভর করে।

    আমি কলকাতার বন্ধুকে বলেছি, মমতা ব্যানার্জিকে বর্তমানের পাতা ফাঁদ থেকে উদ্ধার করার ব্যাপারে ঢাকা এবং হাসিনা সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। নইলে মমতাকে স্কেপগোট করে এই ধরনের খেলা খেলার সুযোগ দিল্লি এবং প্রণব বাবুরা আরো গ্রহণ করবেন। তিস্তা চুক্তি সম্পর্কে বাংলাদেশের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারতকে তার নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে। ঢাকার উচিত হবে দিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টার পাশাপাশি মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার এবং তাকে উদ্ধার করার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
  • speculation | 24.*.*.* | ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ২৩:৪০660031
  • ভাট। গরু গাছে উঠে আকাশে উড়ে গেছে।
  • সাধে বলি Waste Bengal | 95.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ১০:০৪660033
  • কেন্দ্রের ভূমি-বিলের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার রাজপথে হাঁটবেন আগামী বুধবার, ৮ এপ্রিল।
    -খ্যাঁক! খ্যাঁক!

    তার আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে মহাজাতি সদন থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মহামিছিলের ডাক দিয়েছে বামেরা। প্রতিবাদের বিষয় হিসেবে তাতে পুরভোটে তৃণমূলের সন্ত্রাস থেকে শুরু করে গ্রামে বিদ্যুৎ-জলের অভাব, আলুচাষিদের আত্মহত্যা বা এসএসসি, টেট দুর্নীতি— সবই থাকছে।

    - খ্যাঁক! খ্যাঁক! খ্যাঁক!

    আবার মাস কয়েক আগে শহরে প্রতিবন্ধীদের মিছিলে পুলিশি লাঠিচালনার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার প্রতিবন্ধীরা আইন-অমান্য করবেন ধমর্তলায়।

    -খ্যাঁক! খ্যাঁক! খ্যাঁক! খ্যাঁক!
  • dc | 132.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ১০:১৩660034
  • কিন্তু এতোগুলো মিছিলের একটাতেও সিআইয়ের চক্রান্তের প্রতিবাদ করা হবে না? দুনিয়া জুড়ে সিআইয়ে যে চক্রান্ত করেই চলেছে, করেই চলেছে, তার বিরুদ্ধে পব তে প্রতিবাদ না হলে আর কোথায় হবে? হায় বামেরা আর সে বাম নেই!
  • SC | 34.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ১০:২০660035
  • পব তে একটা ইন্ডাস্ট্রি খুব ভালো চলবে। আন্দোলনের consultancy।
    শাসক দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গদিচ্যুত করতে চান? ফোন করুন বুদ্ধিজীবী সেলে।
    কলেজের কোনো অধিকর্তাকে তাড়াতে চান, ফোন লাগান কলরব consultancy তে।
    আন্দোলন organize করতে চান কোনো এক লবির হয়ে সরকার কে চাপ দেওয়ার জন্য। কলকাতা তে এরকম কয়েকটা স্টার্ট উপ খুলে দেওয়া যায়।
    একটা জিনিস কিন্তু মানতে হবে, আন্দোলন কি করে ক্রিয়েটিভ ভাবে করতে হয়, successfully করতে হয়, কলকাতার আন্দোলনকারীদের কাছে শিখতে হবে। টাটা হেন লোক, যে এত দেশে এত আন্দোলন সামলে ব্যবসা করে খাচ্ছে, তাকেও একদম নাস্তানাবুদ করে দিল।
    এটা তো সি ভি তে লেখার মত ব্যাপার।
    ব্যবসায়ী, স্কুল কলেজের অ্যাডমিন, কারখানার মালিক, এদের সকলের পিছনে কাঠি করার জন্য একটা consultancy খোলা যেতে পারে।
    ভাড়াটে আন্দোলনকারীও পাঠানো যেতে পারে অন্য রাজ্যে। বিভিন্ন প্যাকেজ। ডেমো থাকবে, কয়েক মাস আন্দোলন করবে। তারপরে এমনি প্যাকেজ, প্রিমিয়াম প্যাকেজ এ থাকবে বুদ্ধিজীবী, যারা গান গেয়ে কবিতা লিখে পুরো ব্যাপারটা আরো সরেস করে তুলবে। গোল্ড প্যাকেজ থাকবে অনশন, তারপরে থাকবে আলটিমেট প্যাকেজ, মাওবাদী পাঠিয়ে মুক্তাঞ্চল তৈরী করে দেবে তারা, প্রবল রাজনৈতিক প্রেসার এ ফেলে দেবে শাসক দলকে। চারটে হাবিজাবি এন জি ও পাঠিয়ে দেবে ফ্রন্ট লাইন এ।

    সবকিছুরই একটা বাজার আছে। এরা শুধু রোবটিক হ্যান্ড নিয়ে টেক স্টার্টআপ এর মধ্যে নিজেদের আটকে রেখেছে। থিঙ্ক আউট অফ the box।
    ইনভেস্টমেন্ট ই কি সব নাকি? ওয়ান ম্যান'স ব্যাগরা ইস another ম্যান'স গেইন। প্রতিদ্বন্দী কর্পোরেট গোষ্ঠিকে tight দেওয়ার জন্যও সার্ভিস থাকা উচিত। কিংবা সীমাবদ্ধ সিনেমার মত কর্পোরেট সমস্যা সমাধানের জন্যও একটা সার্ভিস থাকা উচিত। সেখানে বাংলা এখনো যে কাউকে বলে বলে দু গোল দিতে পারে।
  • dc | 132.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ১০:৪৭660036
  • SC অসাধারন সাজেশন দিয়েছেন! :d পব তে সত্যিই আন্দোলনের কোর কম্পিটেন্সি আছে। দশকের পর দশক ধরে আন্দোলন করে করে এক্সপার্টাইজ বানিয়েছে। ইরাক থেকে নিকারাগুয়া, ভিয়েতনাম থেকে বাবার নাম, পৃথিবীর সমস্ত সমস্যা নিয়ে ডেডিকেটেড আন্দোলন কর্মী একমাত্র এই পব তেই পাওয়া যাবে। আন্দোলন কনসাল্টেন্সি খুললে পব মালামাল হয়ে যাবে, আর কোন ইনভেস্টমেন্ট লাগবে না। উল্টে বিদেশী মুদ্রা আয় করতে দেশকে সাহায্য করবে। আর হ্যাঁ "চলছে না চলবে না" স্লোগানটা কপিরাইট করে নিতে হবে।
  • Q | 177.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২০:০৪660037
  • প্রশাসনকে দুশো বছরের পুরনো রাইটার্স থেকে নবান্নে নিয়ে যাওয়াটা পশ্চিমবঙ্গের কর্মসংস্কৃতি জন্য এক বিশাল কোয়ান্টাম লিপ।
  • শ্রী সদা | 212.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২০:৪৫660038
  • এস সি ঃ)
  • একক | 24.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২০:৫৫660040
  • এটা  তো    প্রাইভেট  প্রমোশন  মডেল  ।  কেও  ইনভেস্ট  করেনা  ইন্ডিয়াতে  ।ধুস  ।পিপিটি  হয়ে  পরে  আছে  ।
  • shatadal | 114.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২১:১১660041
  • সিঙুরে টাটার রিডিং ছিল জমি মালিকদের একটা অংশ প্রোজেক্টটাকে হোস্টেজ নিয়ে একটা এক্সর্বিটেন্ট টাকা আদায় করতে চাইছে। সেটা হয়তো খুব ভুল রিডিংও নয়। কেন না অনি্চ্ছুক চাষীর সংখ্যা খুব বেশী ছিল না বলেই কাগজে বলে।

    চাষীদের পক্ষে সেটা ঠিকই আছে, কেন না তারা তাদের ভাগ বাড়ানোর চেষ্টা করবেই। টাটাও হয় তো কিছু বেশী টাকা দিতেই পারত। কিন্তু সেটা করলে টাটার পক্ষে ঐ অঞ্চলে একটা খুব ব্যাড প্রিসিডেন্স তৈরী হত। কারনে-অকারনে লোকাল লোকজন কারখানায় তোলাবাজী করত। টাটা সেই জন্যই আপাততঃ সরে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।

    মমতা একজন স্যাভি পলিটিশিয়ানের যা করা উচিৎ তাই করেছে। ক্ষমতায় আসার জন্য সিচুয়েশন পুরোপুরি এক্সপ্লয়েট করেছে। এবং সেটা করেছে সবাইকে গর্ধভ বানিয়ে। সিপিএমকে তো বটেই, মিত্রপক্ষের যারা খুব আশায় ছিল তারা ক্ষীর খাবে, তাদেরও। এখন মিত্রদের কেউ কেউ আবার সিপিএমের ফেউ ধরে শোধ নেবার চেষ্টা করছে। কিন্তু আপাততঃ কোন আশা নেই।
  • পিটির খচ্চর | 87.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২১:১৫660042
  • আম্মো উড়তে পারি!
  • একক | 24.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২১:২৪660043
  • এইযে,পুরনো পিপিটি থেকে কিছু পেজ। ডিটেইল এবং গোছানো লেখাও আছে।এরকম ছ্যারাব্যারা না। ইভেন্ট ধরে ধরে টাকা ঢালা, কবি-সিঙ্গার কে প্রমোট করা, গান অবধি চুস করে দেওয়া, বিদেশে বসে দেশের কনসার্ন কে ভার্চুয়ালি নেতৃত্ব দেওয়া সব পারবেন। সোজা কথায় যদি ওহিও তে বসে মনে হয় ওমরপুরে সরকারী বাসের তলায় ছাগল চাপা পরার প্রতিবাদে রাইটার্সের সামনে একটা দেমনসত্রেষণ দরকার তাহলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে একটিভিস্ট-বুদ্ধিজীবি-গায়ক-বাদক সবাইকে নিয়ে ঝপাং করে নাবিয়ে দিন।







    কেও ফান্ডিং বের করতে পারলে করুন।
  • একক | 24.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২১:৩৩660044
  • এর বিটুবি,বিটুসী দুটো মডেল ই আছে। যারা যে কোনো ইভেন্টে গিয়ে এরকম শ্রম দিতে ইচ্ছুক তারা নিজেদের রেসুমে আপলোড করতে পারবে। পার আওয়ার রেট্ কোট করতে পারবে। রেগুলার ইনকামের একটা রাস্তা খুলে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে দারুন চলবে।
  • নির | 230.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২১:৫৩660045
  • সবারই মিছিল কোনো না কোনো কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে, তাই না? আর এটা তো জানাই যে মিছিল করা মানে রাস্তায় বেরোনো মানুষজনের কি চরম ভোগান্তি। তা এরকম করলে কেমন হয়, মিছিল করতে যাওয়া লোকজন তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসাবে সবাই মিলে কোনো জায়গায় কিছু গাছ লাগালো, অথবা কোনো রাস্তাকে একটু পরিষ্কার করল, ফুটপাথগুলোকে একটু মানুষের চলাচলের যোগ্য করে তুলল। এগুলোও তো মিডিয়া কভার করবে। রাস্তায় জ্যাম লাগিয়ে অসুবিধা করার চেয়ে এতে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি বেশি পাওয়া যাবে না কি?
    নাকি মানুষকে সমস্যায় ফেলার যে বিকৃত আনন্দ, যা একা একা করতে ইচ্ছা করলেও চক্ষুলজ্জায় আটকায়, কিন্তু একটা ছুতো করে কতকগুলো সাঙ্গোপাঙ্গ জোটাতে পারলে আর সেই বালাই থাকে না, সে কালীপুজোর রাতে লোকের বাড়ির উঠোনে চকলেট বোম ফাটানোই হোক, বা সিন্ডিকেটবাজি করে বেশি দামে ভেজাল ইট-সিমেন্ট কিনতে বাধ্য করা; এখানেও সেই মানসিকতাও কাজ করছে?
  • dc | 132.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২২:১৫660046
  • শতদলের পোস্টে প্রথম বাক্যে ভুল আছে মনে হচ্ছে, যার জন্য প্রথম আর তৃতীয় প্যারা পরষ্পরবিরোধী হয়ে গেছে।

    "প্রোজেক্টটাকে হোস্টেজ নিয়ে একটা এক্সর্বিটেন্ট টাকা আদায়" - এটা কখনো সিঙ্গুর আন্দোলনের লক্ষ্য ছিলনা। চাষীদের বেশী টাকা দিতে হবে, জমি অধিগ্রহনের জন্য যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের বেশী টাকা দিতে হবে, এই নিয়ে কেউ কোন আন্দোলন করেনি। আন্দোলনের ঘোষিত এইম ছিল অনিচ্ছুক চাষীদের চারশো একর ফেরত দিতে হবে। প্রথমত চারশো একর ফিগারটাই একটা ইনফ্লেটেড ফিগার, দ্বিতীয়ত হীরক রানী জানতেন যে ওভাবে চারশো একর ফেরত দেওয়া বাস্তবে সম্ভব না। উনি নিজে বা ওনার সাথে যারা আন্দোলনে ছিলেন তারাও বুঝেছিলেন যে উনি ক্ষমতায় এলেও সাথে সাথে চারশো একর ফেরত দিয়ে দিতে পারবেন না কারন সেরকম আইন নেই, কিন্তু উনি জানতেন যে মামলা মোকদ্দমা করতে করতে ইস্যুটা ধামাচাপা পড়ে যাবে। ইন ফ্যাক্ট টাকা আদায় করাই এইম হলে আন্দোলনটা টিঁকতো না কারন বুদ্ধবাবুও টাকার অংক নিয়ে নেগোশিয়েট করতে রাজি ছিলেন। সেই ভুল হীরক রানী করেননি, উনি এমন একটা অবাস্তব দাবী তুলেছিলেন যেটা কারুর পক্ষে মেটানো সম্ভব না। আর ওনার চারপাশে মিত্ররা সমাজবাদ, টাটা তাড়াও, হ্যানত্যান খিচুড়ি পরিবেশন করে দাবীটার অবাস্তবতা ঢেকে দিয়েছিল।

    হীরক রানী ক্ষমতায় আসার জন্য সিচুয়েশন পুরোপুরি এক্সপ্লয়েট করেছে এবং সেটা করেছে সবাইকে গর্ধভ বানিয়ে, এই ব্যাপারে একমত। এখন মেধা পাটকার উপদেশ দিতে গেলে সাড়া শব্দও পাওয়া যায়না।
  • dc | 132.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২২:৩০660048
  • এটা পড়ে দেখতে পারেনঃ

    The familiar political faces were missing when a group of protestors intercepted three busloads of engineers and staff of the Tata Motors plant near Gate No. 5 in Singur last Thursday evening. Told to stop attending duties at the plant — the "appeal" by the protestors sounded more like a threat — the staff stopped coming to the plant from the very next morning after the authorities, noting their predicament, decided to halt work. It now transpires that the protestors belonged to the West Bengal Khet Mazdoor Sangathan, an NGO which claims to be working for the rights of farmers and workers.

    Bose told The Indian Express that Banerjee consults them “every evening” on every matter. “She will not act without taking us into confidence. We have been able to impress upon Mamata Banerjee the need for such a mass movement against capitalism. She will never act without our consent,” he said.

    এই উদ্ভট কথাগুলো পড়লে বোঝা যায় আন্দোলনটার আসল উদ্দেশ্য ছিল প্রোজেক্টটা বন্ধ করা, আর্থিক দাবীদাওয়া আদায় করার কথা ভাবা হয়নি।

    http://archive.indianexpress.com/news/naxals-ngos-now-lead--mamata-agitation--she-won-t-act-without-our-ok-/355838/2

    https://maoistsinsouthasia.wordpress.com/2008/09/02/naxals-ngos-now-lead-mamata-agitation-%E2%80%98she-won%E2%80%99t-act-without-our-ok%E2%80%99/
  • shatadal | 15.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২২:৩০660047
  • dc আমি কিন্তু সিঙুর আন্দোলনের মোটিভ বা চাষীদের মোটিভ নিয়ে কিছু বলি নি। আন্দোলনের মোটিভ এখন খুবই পরিষ্কার, আপনি যা বললেন তাই। আর অনিচ্ছুক কোন চাষীকে আমি চিনি না। কাজেই তাদের আসল মোটিভ নিয়ে কোন কথা বলার বেসিস আমার নেই।

    আমি বলেছি টাটা প্রশাসন কিভাবে ব্যাপারটা দেখেছিল। সৌ/দুর্ভাগ্যক্রমে তাদের দিকটা আমি কিছু কিছু শুনেছি। সেখানে এত টাকা জলে দিয়ে অন্য কোথাও যাওয়া হবে, না টাকা বেশী দিয়ে আন্দোলন ভেঙে দেবার চেষ্টা হবে, সে আলোচনা হয়েছিল বলেই শুনেছি। এবং আমার সূত্রমতে প্রথম মত জেতে তার কারন ভবিষ্যতে তোলাবাজেদের সফট টার্গেট বলে চিহ্নিত হয়ে যাবার ভয়।
  • dc | 132.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২২:৩৫660049
  • shatadal টাটা প্রসাশন কিভাবে দেখেছিল বলতে পারবনা। তবে এটুকু জানি যে বিজনেস হাউসগুলোর নিজস্ব ইনটেলিজেন্সও অনেক থাকে। আর বড়ো বিজনেস হাউসগুলো সবসময়ে একটা লিমিটের পর "কাট ইয়োর লসেস অ্যান্ড কাম আউট" নীতিতে চলে। এমনও হতে পারে যে টাটা হয়তো বুঝেছিল যে ক্ষমতার পরিবর্তন হতে চলেছে, যার ফলে ভবিষ্যতেও পবর বিজনেস এনভায়রনমেন্ট খুব একটা সুখের হবেনা। সেইজন্য যতো ক্ষতিই হয়ে থাক, ভবিষ্যতে যাতে আরো বড়ো ক্ষতি না হয় সেইজন্য বেরিয়ে গেছিল। অবশ্যই এটা আমার স্পেকুলেশন।
  • potke | 126.*.*.* | ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ২২:৩৭660051
  • যাক, দাদারা আর সিঙ্গুর নিয়ে প্যাচাল পাইরেন না, গাদা গাদা ডকু/লিং ধেয়ে এল বলে!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন