


তাহলে দেখা যাচ্ছে, যৌন চক্র অন্তত বছর তেইশ ধরে চলছে, যদি সূত্রের খবরে আস্থা রাখতে হয়। নতুন কী বেরোলো তাহলে বর্তমানে? তিনটে নতুন জিনিস পাচ্ছি। ১। শিয়ালদহ আদালতের নির্দেশে তদন্তে নেমে আর জি করের হস্টেল থেকে পর্নোগ্রাফির শ্যুটিং সংক্রান্ত ট্রাইপড, লাইট রিফ্লেক্টার সহ নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করেছিল সিআইডি। এমনকী সিআইডি তার রিপোর্টে লিখেছিল, যৌনকর্মী ভাড়া করে এনে শ্যুটিং হতো সেখানে। ২। সে বছরের ১২ নভেম্বর সাংবাদিক সম্মেলন করে সরাসরি এসএফআই নেতাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনেছিলেন (মৃতর মা ) সবিতাদেবী। তাঁর অভিযোগ ছিল, ‘কলেজ ব্যাগের নাইলনের স্ট্র্যাপ দিয়ে ওকে ঝোলানো ছিল। মুখের মধ্যে ঠেসে রুমাল গোঁজা ছিল। দরজা খোলা। এভাবে কেউ আত্মহত্যা করে? ঘটনার পরদিন ২৬ আগস্ট চিৎপুর থানায় এফআইআর করি এবং তদন্তকারী অফিসারদের সমস্ত বিষয়টি জানাই। এরপর সুবিচারের জন্য কলেজ প্রিন্সিপাল, পুলিস কমিশনার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও বারবার প্রার্থনা জানিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর (প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য) অফিস থেকে পাঁচবার আমার জমা দেওয়া আবেদনপত্র হারিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পেলাম না।’ ৩। যেটা বিস্ফোরক, সেটা হল, সেই সময় যিনি আরজি করে এস এফ আই এর নেতা ছিলেন, তাঁর নাম সুবর্ণ গোস্বামী। ... ...

এসজি (SG): চার্জশিটের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০২৪। সিজেআই (CJI): (নির্দেশ দেন) সিবিআই কর্তৃক জমা দেওয়া ১৫ অক্টোবরের ৫ম স্ট্যাটাস রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এ পর্যন্ত হওয়া তদন্তের ভিত্তিতে ৭ অক্টোবর তারিখে সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে বি.এন.এস এর ধারা ৬৪, ৬৬ অনুযায়ী অপরাধের জন্য একটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এ.সি.জি.এম. শিয়ালদাহের একটি আদেশ অনুযায়ী মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিচার বিবেচনার শুনানির তারিখ ৪ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। সিজেআই: সিবিআই এর রিপোর্টে বলা হয়েছে অন্যান্য অভিযুক্তদের ভূমিকা সংক্রান্ত চার্জশিট এখনও তদন্তের বিষয়। সিবিআই কিছু পক্ষ থেকে সংযোগও পেয়েছে, সেগুলোও সিবিআই পর্যালোচনা করছে। ... ...


কাল কিঞ্জল নন্দর বক্তব্য নিয়ে খুব হইচই হয়েছে। ট্রোলও হয়েছে। কিন্তু ওই একই প্রেস রিলিজে পরিচয় পাণ্ডাও কিছু বক্তব্য রাখেন, কেন তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এই নিয়ে। সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংক্ষেপে, ব্যাপারটা এই, যে, তাঁরা কিছু দাবী রেখেছিলেন। সরকার একটি চিঠি দিয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে উনি জানাতে চান, যে, এই আন্দোলন কেবল কয়েকটি রেস্টরুম, কয়েকটি সিসিটি ক্যামেরার আন্দোলন নয়। এটি সামগ্রিক ভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে পরিবর্তন এবং শুদ্ধিকরণের আন্দোলন। এটাকে এরকম ভাবে ছোটো করে দেবার কোনো মানে হয় না। এছাড়াও বলেন, দশ দফা দাবী থেকে তাঁরা নড়বেন না, এবং সরকার কোনো সদর্থক ইচ্ছা দেখায়নি এই দশ দফা দাবীকে নিয়ে। এবং তিনি নিজেও অনশনে যোগ দেন। শুনে সবই মিলিয়ে নেওয়াটা আমার স্বভাব। দশ দফা দাবীটা জানতাম। সরকারের চিঠিটাও দেখলাম, পাবলিক ডোমেনেই আছে। পরিচয় নিজের দশ দফা দাবী বা সরকারের চিঠি, কোনোটাই পড়েছেন কিনা জানিনা, তবে বিশেষ খাটাখাটনি না করেই দাবী এবং সরকারি প্রত্যুত্তরের তালিকাটা বানিয়ে ফেলা গেল। সেটা নিচে দিলামঃ ... ...

সময়টা বড় অদ্ভূত। গোলমেলেও বটে। একই সঙ্গে একদল মানুষ দেদার উৎসবে মেতেছে আর অন্যদল বলছে এ বড় সুখের সময় নয়। বাঙালির সেরা দুর্গোৎসবের চৌকাঠ পেরিয়ে এবার আসছে কার্নিভাল। ঠিক হয়েছে জেলা সদর চুঁচুড়ার বদলে এবার কার্নিভাল হবে মহকুমা সদর শ্রীরামপুরে। আর এতেই আপত্তি তুলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন শ্রীরামপুরের নাগরিক সমাজের একাংশ। ... ...

সাংবাদিকতা আগে দুরকম হত। এক, সূত্র উল্লেখ করে খবর পেশ করা। সেখানে সূত্র যদি বলেন সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে, তো দায় সূত্রের। আরেকটা হত সূত্রের নাম উল্লেখ না করে খবর দেওয়া। সেক্ষেত্রে সাংবাদিকরা পরিবেশনের দায় নিজের কাঁধে নিতেন। এবং অসম্ভব সতর্কতা অনুসরণ করতেন। ওয়াটারগেট থেকে স্নোডেন অবধি, এরকম নানা বিস্ফোরণ আমরা দেখেছি, কোনোটাই মিথ্যা বলে দেখা যায়নি। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে তিন নম্বর একটা সাংবাদিকতা আমরা দেখেছি। সূত্র উল্লেখ না করে সম্পূর্ণ গুল দিয়ে দেওয়া। সুধীর চৌধুরি বলেছিলেন মোদীর নতুন নোটে চিপ লাগানো আছে, যা স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। রীতিমতো গ্রাফিক টাফিক দিয়ে। নিঃসন্দেহে, সেটা ডাহ মিথ্যা। এবং এই করে সুধীর চৌধুরি সাংবাদিকতার জগতে একটা নতুন দিগন্ত খুলে দেন। শুভাশিস ঘটক, যদি কোনো ব্যাখ্যা না দেন, তো তিনিও ওই হল অফ ফেমে জায়গা পেতে চলেছেন। ... ...

এগুলো সবাই জানেন, তবু রেকর্ডের স্বার্থে লেখা যাক। দশ দফা দাবী নিয়ে জুডাদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছিল সাগর দত্তে গোলমালের পর। তারপর সেই কর্মবিরতি তুলে নেওয়া হয় এবং আমরণ অনশনের ডাক দেওয়া হয়। প্রথমে ছ জন শুরু করেন অনশন। আরজি করের কেউ ছিলেন না। পরে অনিকেত মাহাতোও যোগ দেন। রিলে অনশন হচ্ছে কিনা এই নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ছিল। কিন্তু জুডারা জানিয়েছেন, আদৌ রিলে না, টানা এবং আমরণ অনশন চলছে। ... ...

ভেবে আশ্চর্য লাগছে, অভিজ্ঞ ডাক্তাররা এটা এতদিনে টের পেলেন। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যখন সিবিআইকে এক কথায় তদন্তভার দিয়ে দেবার আবেদন করলেন, তাঁরা আপত্তি করেননি। সিবিআইয়ের কাছে আপডেটের দাবীটুকুও করেননি। বরং 'সূত্র' বলে যে আজগুবি জিনিসগুলো ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোকে ব্যবহার করেছেন (এমনকি এই লেখাতে বিষাণ নিজেও সম্পূর্ণ অসমর্থিত গুজবকে নিজের সন্দেহের কারণ বলে দাবী করেছেন)। এবং সিবিআইকে বস্তুত কোনো চাপ কখনও দেননি। যতগুলি মিটিং-মিছিল বড় ডাক্তাররা করেছেন , তার মধ্যে কেবল একটি সিবিআইয়ের কাছে কিছু পেশ করেছেন। তাতে আদৌ কিছু দাবী আছে কিনা জানা নেই, কারণ, লাইভ ইত্যাদি ছেড়েই দিন, দাবীপত্রটুকুও তাঁরা জনসমক্ষে আনেননি। ছোটো ডাক্তাররা একবার সিজিআই এর সামনে কিছু বক্তব্য রেখেছেন। কোনো ডেপুটেশন দেননি, এমনকি বক্তব্যেও কার্যত সিবিআইয়ের নামোল্লেখ করা হয়নি। এখনও যে অনশন চলছে, তার দাবীতে যদিও সুবিচার, দাবী করা হয়েছে, কিন্তু সেটা সিবিআইকে আদৌ জানানো হয়েছে বলে জানা নেই, পুরোটাই চলছে রাজ্য সরকারের সঙ্গে। ... ...

যে চার্জশিট সিবিআই এর তরফ থেকে দাখিল করা হয়েছে, এটা তার সারসংক্ষেপ। পরিশিষ্টে বাজেয়াপ্ত জিনিস ইত্যাদির বহু তালিকা থাকে, সেটা বাদ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকাতেও একই রকম নানা নাম ইত্যাদি থাকে, তাও বাদ। মাঝের অংশটুকু, যেখানে আসল বিবৃতি আছে, সেটা পুরোটাই আছে। কিন্তু হুবহু না। পয়েন্টগুলো হুবহু আছে, যদিও ক্রমিক সংখ্যাটা আসল চার্জশিটে ১৬ থেকে শুরু, এখানে সেটা ১। এছাড়াও লোকজনের লম্বা পদমর্যাদা ইত্যাদির বিবরণ বাদ। আইনী ধারা গুলো বাদ। পড়তে যাতে সুবিধে হয়। লম্বা প্যারাগ্রাফের সারসংক্ষেপও করা হয়েছে। মোট কথা হচ্ছে, পড়ে বুঝবেন ঠিকই, কিন্তু আসল আইনী পরিভাষা দেখতে গেলে আসল নথিটা দেখতে হবে। সেটাও পরে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। পড়তে গিয়ে কিছু তথ্যপ্রমাদ নজরে পড়েছে। সঞ্জয় রায়ের জন্মসাল দু জায়গায় দুরকম আছে। একজন ডাক্তারের নামের বানান ভুল আছে। ব্যাকরণ ভুল ধরছিনা। কিন্তু এই দুটো জরুরি বিষয়ে অমনোযোগের চিহ্ন। ... ...


আদর আহ্লাদ ভালবাসা বোঝানো - দিব্যি তো এসব দিয়েই ঠাসা ছিল। ভালো কথা কানে ঢুকলো না। তাই শুধু শেষের একটা লাইনে গিয়েই যতো সব গোলমাল, হুমকি সংস্কৃতি ..... থ্রেট কালচার? তা যদি সত্যি হয় তবে বলতে হয় রাজনীতির গোড়ার কথাই হল থ্রেট কালচার। রাষ্ট্র বিজ্ঞানী এলান বল লিখেছেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন, তারা সবাই তার নিজস্ব মতে, পথে অন্যকে প্রভাবিত চালিত করতে চায়। এই প্রভাবিত করার সামর্থ্য দুই রকম। প্রথমত অনুনয়, বিনয়, বুঝিয়ে বলা, এটা দেব, ওটা দেবো, পাইয়ে দেবো, খেতাব দেবো, পুরস্কার দেব, এমন কত কিছু। এতে যদি কাজ না হয়, তার জন্য থাকে তিরস্কার, হুমকি, একটু ভয় দেখানো, হালুম, ফোঁসস। এই গোটাটা মিলেই একটা রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বাবা বাছায় কাজ না হলে ফোঁসস করা। কথা হলো পুরস্কার আর তিরস্কারের অনুপাতটা কেমন থাকবে। কারণ আল্টিমেটলি সব রাষ্ট্রের শেষ অস্ত্র ফোঁসস করা। ... ...

সুপ্রিম কোর্টের শুনানি হয়েছে আজ। তার তিনটে জিনিস অদ্ভুত। এক, গত তিনটে শুনানিতে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে নানা চাপান-উতোর শোনা গেছে। ফুটেজ কতটা দেওয়া হয়েছে, সাতাশ মিনিট না পুরোটা। টুকরো দেওয়া হয়েছে না গোটা। সেই নিয়ে গোটা বঙ্গদেশ উত্তাল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এই শুনানিতে বিষয়টাই পুরো গায়েব। নিশ্চয়ই মিটে গেছে বিষয়টা। কিন্তু গোটা দেশ শুনানি শুনছে, শেষমেশ কী দাঁড়াল বলার প্রয়োজন বোধ করলেন না কেউ। ... ...

আজকের শুনানির দুটো কৌতুহলোদ্দীপক জায়গা। এক, গত তিনটি শুনানি ধরে সিসিটিভি সাতাশ মিনিটের নাকি পুরো আছে, এ নিয়ে প্রচুর জল্পনা শুনেছি। আজ সেটা ভ্যানিশ। আশা করি বিভ্রান্তি মিটেছে, কিন্তু পাবলিককে জানানোর কোনো প্রয়োজন কেউ বোধ করেননি। দুই, জুনিয়ার ডাক্তারদের আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার সারাক্ষণ বলে গেলেন জু-ডা রা সমস্ত এসেনশিয়াল সার্ভিস পালন করছেন (যার মধ্যে আইপিডি এবং ওপিডি অন্তর্ভুক্ত)। এটা কি ডাক্তাররা জানেন? নাকি জেনে বুঝেই এইরকম কৌশল নেওয়া হয়েছে। যা হোক, এই হল আজকের মোটামুটি অনুলিপি। হুবহু শব্দ ধরে ধরে নেই। মোটামুটি ভাবানুবাদ আছে। কানে শুনতে শুনতে লেখা। ফলে একটু আধতু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। ... ...

আবার খান দুই বিপদ সংকেত। গত দুদিনে 'ফাঁস' হয়েছে কিছু চাঞ্চল্যকর নথি। ময়নাতদন্তে অনিয়ম নিয়ে চাপান-উতোর চলছিলই। কেন আরজিকরে, নিয়মমাফিক হয়েছে কিনা ইত্যাদি। 'ফাঁস' হওয়া নথি থেকে দেখা যাচ্ছে, আরজি করেই ময়নাতদন্তের দাবী জুনিয়ার ডাক্তারদের এবং নির্যাতিতার বাবার। আরজি করের অধ্যক্ষকে উদ্দেশ্য করে জুনিয়ার ডাক্তারদের পক্ষ থেকে লেখা ওই চিঠিতে হলা হচ্ছে, তাঁরা যে জিনিসগুলি চান বা সহমত পোষণ করছেন, তা হলঃ ১। জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আরজি করেই ময়নাতদন্ত হবে। ২। পুরো প্রক্রিয়াটির ভিডিওগ্রহণ হবে। ৩। টিমে একজন ময়নাতদন্ত শল্যচিকিৎসক এবং অন্তত দুজন মহিলা শল্যচিকিৎসকের উপস্থিতি থাকবেন। ৪। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত চাই। ৫। চারজন মহিলা জু-ডা উপস্থিত থাকবেন ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ায়। এতে সই করেছেন মৃতার বাবা, সঞ্জীব মুখার্জি (সম্ভবত 'কাকা'), এছাড়াও জুনিয়র ডাক্তাররা (তাঁদের তরফে কারা পড়া যাচ্ছেনা)। এই চিঠি দেওয়া হয় বিকেল ৩ঃ৫৫ তে। চিঠিতেই সময় উল্লেখ করা আছে। ... ...

আর জি কর, এনআরএস এসব তো বড় বড় ক্ষেত্র। চন্দননগর মহাকুমার ছোট হাসপাতাল। সেখানে নামি দামি ভালো মেডিসিনের ডাক্তার আসেন। কিছুদিনের মধ্যেই মারধর খেয়ে চলে যায়। কেউ থাকেন না। তালিকায় নামিদামি ডাক্তার আছেন। ডক্টর জেএন নসিপুরি, ডক্টর এস ডি রায়, ডক্টর অলোক ঘোষ, ডক্টর সুজিত মিত্র, কে নেই তালিকায়। এরা কেন থাকেন না? কেন এদের মার খেতে হয়? কারণ এলাকায় এক বা একাধিক ডাক্তার আছেন, হাসপাতালে ভালো মেডিসিনের ডাক্তার এলে তাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়। তাই এরা কোন না কোন ইস্যুতে এদের ওপর হামলা চালায়। এটারই চরম রূপ ছিল রানাঘাটে ডাক্তার চন্দন সেনের খুন হওয়া। মনে রাখবেন এসব আশি নব্বই এর দশকের কথা। তখন বাম শাসন, আর চন্দননগরে দুজন মন্ত্রী, শ্রী রাম চট্টোপাধ্যায় ও শ্রী ভবানী মুখোপাধ্যায়। আমরা দেখেছি তখন নেতা ডাক্তার অঞ্জন পান, ডাক্তার অমিত পান, ডাক্তার তাপস সেন। কাকে দূরে পাঠাতে হবে, কাকে কাছে আনতে হবে জানতেন তাপস সেন।কথায় কথা বাড়ে। অসুস্থ অবস্থায় একবার চন্দননগরের এক নেতা ডাক্তার কে দেখাচ্ছি। কদিন পর জেলা অফিসে গেছি। নেতা মহিতোষ নন্দী বললেন, তুমি আর ডাক্তার পাওনি, অমুকে পার্টি করে, নেতাগিরি করে, ও ডাক্তার না। ওর বউ ডাক্তার। এই সব নেতারা আই এম এ চালায়, একে বসায় ওকে দাঁড় করায়। ... ...

গতকাল সিবিআই অভিজিৎ মণ্ডল এবং সন্দীপ ঘোষকে শিয়ালদা কোর্টে হাজির করে। নজিরবিহীনভাবে আদালতেই বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীরা। বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তদের তরফে কেউ মামলা লড়বেন না। সেই ইস্যুতেই এদিন বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীদের একাংশ। এরপর সিবিআই-এর আইনজীবী ‘ইন ক্যামেরা’ শুনানির আবেদন জানায়। সিবিআই-এর আইনজীবী বলেন, আদালতের ভিতরে যেভাবে বিক্ষোভ হচ্ছে, এটা বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা। অভিজিৎ মণ্ডলের আইনজীবী জামিনের আবেদন জানান। তিনি সওয়াল করেন, পুলিশের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে গ্রেফতারের আগে অনুমতি চাওয়া হয়নি। সাতবার নোটিস পেয়েই হাজিরা দিয়েছেন তিনি, দুবার মৌখিকভাবে ডাকা হয়েছে, তখনও গিয়েছেন। কোন গ্রাউন্ডে গ্রেফতার, তা এখনও জানানো হয়নি। সিবিআইএর আইনজীবী জানান, তাঁরা সন্দেহ করছেন, টালা থানায় সাক্ষ্যপ্রমাণ বদলে দেওয়া হয়েছে, রেকর্ড নষ্ট করা হয়েছে ( রিমান্ড কপিতে কী লেখা আছে জানা যায়নি, এটা আইনজীবীর বক্তব্য)। তিনি জামিনের বিরোধিতা করেন। ... ...

ভারতের প্রধানমন্ত্রী যেমন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, তেমনই ভারতের এজেন্সিই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা। এতদিন দেখে-দেখে যা বুঝেছি, ওরা প্রথমে কাউকে গ্রেপ্তার করে। তারপর বলে ৯০ দিন বাদে চার্জশিট দেব। নব্বই দিন শেষ হলে আরও ছমাস চায়। ছমাস শেষ হলে কিছু একটা জমা করে বলে সাপ্লিমেন্ট দেব পরে। তারপর কোনো একদিন সপ্লিমেন্ট দিয়ে বলে, এতে কিছু বোঝা যাচ্ছেনা। আরও কাগজ চাই। সব শেষ হলে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, প্রমাণটা কই, তখন তারা বলে, ওটা তো মিডিয়া থেকে টুকেছিলাম। ... ...

আর জি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সাক্ষী থাকল এক অভুতপূর্ব আন্দোলনের যা আমার মতে, রাজনীতির পুরনো ছক ভেঙ্গে দিয়ে তৈরি করেছে এক নতুন, বিকেন্দ্রীকৃত রাজনীতি। সেই রাজনীতির নির্মাণে প্রযুক্তির ভূমিকা এবং সমাজে সেই রাজনীতির প্রভাবকে ক্ষমতা-তত্ত্বের লেন্সে দেখার একটি প্রয়াস। ... ...