

ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণ মানে সে তো আমার আপনারই টাকা ! এখনো কতদিন নিশ্চিন্তে ঘুমাবেন ! ... ...

নতুন চীনা জিপিটি ডিপসিকের আবির্ভাবে আমেরিকার টেক মার্কেট কিভাবে টলোমলো হয়ে গেছে। জিপিটির পেছনে এত খরচা কি যুক্তিযুক্ত ? ... ...

ভারতে ধনী দরিদ্রদের ফারাক ক্রমশ বাড়ছে। ... ...


দুইজন সাদা পোশাকের পুলিশ আমাকে আর জি কর হাসপাতালের একটি হলে নিয়ে যান। সেখানে একজন আইপিএস অফিসার ছিলেন এবং আজ আদালতে প্রদর্শিত সিসিটিভি ফুটেজ (Mat Exbt. LVII) আমাকে দেখানো হয়। আমি ওই ফুটেজে নিজেকে শনাক্ত করি। এরপর আমাকে সেই কক্ষে বসতে বলা হয় এবং পরে দুই সাদা পোশাকের পুলিশ আমাকে নিয়ে যান। বাইরে এসে দেখি একটি প্রিজন ভ্যান এবং অনেক মিডিয়া ও লোকজন জড়ো হয়েছেন। এটি ০৯.০৮.২০২৪ তারিখের রাত। আর জি কর থেকে আমাকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় আমার ফোন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। ... ...


দর্শনের মতো বিজ্ঞানও, পরিবর্তনের মধ্যে এক স্থির ধাত্রস্বরূপ কল্পনা করে এই নিয়ত-পরিবর্তনশীল জগতের ধারণার থেকে নিস্তার চেয়েছে। রসায়নে সম্ভবত এই চাহিদার উত্তর পাওয়া যায়। দেখা গেল, যে আগুন ধ্বংস করে বলে ভাবা হত, তা আসলে কেবল পুনর্গঠন করে: মৌলগুলি নতুন করে যুক্ত হয় ঠিকই, কিন্তু অগ্নিসংযোগের আগে যে পরমাণুটি ছিল, অগিনির্বাপনের পরেও সেটিই থাকে। স্বভাবতই, প্রস্তাব এল, যে পরমাণু অবিনশ্বর, ভৌত জগতে সব পরিবর্তনই আসলে স্থায়ী পরমাণুগুলির পুনর্বিন্যাস। তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার হওয়া অবধি—যখন কিনা দেখা গেল যে পরমাণুও ভাঙা যায়—এই ধারণাটি টিকে ছিল। ... ...

একটি বাংলা কবিতার প্রায় প্রবাদে পরিণত হওয়া কিছু পংক্তি, একটি হোয়াটস্যাপ স্ট্যাটাস এবং সেই সূত্রে শিল্পে সমকালীনতা এবং চিরন্তনতার টানাপোড়েন নিয়ে কিছু ভাবনা। ... ...

গুরুচণ্ডালীতে ধারাবাহিক ভাবে আমার ইহুদি রসিকতা যখন প্রকাশিত হচ্ছিল, সেটি পড়ে আমেরিকার একটি শহরের রামকৃষ্ণ মিশন আমাকে এক অনুরোধ জানান – ইহুদি রসিকতা বইতে যেমন কথাচ্ছলে ইহুদি জীবন, ধর্ম, রীতি নীতির সঙ্গে পরিচয় করানোর কাজ করে চলেছিলাম, ঠিক তেমন ভাবে কি ইহুদি ধর্ম শিক্ষার কয়েকটি মডিউল বানিয়ে দিতে পারি ? তাঁরা মিশনে নানান ধর্মের সঙ্গে আপামর জনতার, যাকে বলে লে ম্যান, তাদের পরিচয় করিয়ে থাকেন, ক্লাসরুম স্টাইলে। বিশ্বের প্রধান ধর্মগুলির মূল বাণীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ব্রিটেনের স্কুলে আবশ্যিক ধর্মশিক্ষার ক্লাস হয় ( রিলিজিয়াস এডুকেশন )। বরানগরের স্কুলে হতো না। ইহুদি রসিকতা লেখা সময়ে এবং পরে জুডাইজমের মডিউল তৈরি করার সময়ে যেমন জেনেছি, শিখেছি অনেক, তেমনি আমার মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছিল : আব্রাহাম ইহুদির আদি পিতা, ঈশ্বরের আদেশে নতুন বাসস্থান হেবরন অবধি পৌঁছুলেন, ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার জন্য টেম্পল মাউনটে আপন পুত্র আইসাককে বলি দিতে প্রস্তুত হলেন ( হিব্রু পেশাত, বিশ্বাসের পরীক্ষা )। কিন্তু তাঁর ধর্মাচরণের বিধি কি ছিল ? আব্রাহামের অনেক বছর বাদে, মোজেসের দশ আদেশ পাওয়ার আগে পর্যন্ত ইহুদির ধর্ম আচরণের রেওয়াজ কি ছিল? হিব্রু বাইবেলে যার উল্লেখ আছে, টেন কমান্ডমেনটস ছবিতে সিনাই পাহাড়ের নিচে যাদের সোনার বাছুর পুজো করতে দেখেছি, তাঁরাও তো আব্রাহামের বংশধর ! জানতাম এক দল মানুষ সিনাই পাহাড়ের নিচে মোজেসের বাণী শুনে ইহুদি হলো, পৃথিবীতে এমন ঘটনা নাকি আগে বা পরে কখনো ঘটেনি। এর সত্যতা মেনে নেওয়া শক্ত। আমরা জানি তাঁদের লম্বা নাক নিয়ে যতোই ঠাট্টা চালু থাকুক না কেন, ইহুদি কোন বিশেষ জাতি নয়, তাঁদের নানা বর্ণ, চেহারা। ইসরায়েলে ইথিওপিয়ান, ভারতীয় ইহুদির সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। এঁদের পূর্ব পুরুষ কি সিনাই পাহাড়ের পাদদেশে ছিলেন যেদিন মোজেস দশ আদেশ পাঠ করছিলেন ? তা নিশ্চয় নয়, কালে কালে এই ধর্ম প্রসারিত প্রচারিত হয়েছে, সেটা কি ধর্মান্তকরণের বলে ? রোড টু দামাস্কাস, সলের (পরে পল) ধর্মান্তকরণের ফেবল আমাদের জানা, কিন্তু জুডাইজমে কনভার্শনের গল্প কোথায়? মোজেসকে ইহুদিরা হত্যা করেছিলেন কিনা সেটি তর্ক সাপেক্ষ কিন্তু হিব্রু বাইবেল এটা তো মানে যে নিতান্ত সুস্থ দেহের একজন বলশালী নেতা কানানের দুয়োর অবধি এসে অকস্মাৎ মারা গেলেন – কেস অফ রিজনেবল ডাউট ? অনুতাপ থেকেই কি সেই গুরুর শিক্ষা মাথায় তুলে নেওয়া হলো ? শিলারের ভাষায়, কোন চিরন্তন সঙ্গীত প্রথমে গভীর জলে ডুবে যায়, তাকে আমরা হারিয়ে ফেলি, পরে খুঁজে পেয়ে মাথায় করে রাখি ? কেন ক্রিস্টিয়ান হোলি কমিউনিয়নে রুটি ও লাল মদ, প্রভুর দেহ ও রক্ত – কীসের প্রতীক ? গুরুহত্যার? নিরাকার একেশ্বরবাদের উত্তরসূরি ক্রিস্টিয়ান ধর্মে কেন এতো মূর্তি, ছবি, আচার আচরণ, প্রতীকের ছড়াছড়ি ? অথচ পরবর্তী আব্রাহামিক ধর্ম, ইসলাম সে সব এমন ভাবে বর্জন করেছে যে ফ্রয়েড তাকে জুডাইজমের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বলেছেন। মনে হয় আমার কৌতূহলের কিছু উত্তর এবং তাঁর সঙ্গে ভাবনার খোরাক মোজেস ও একেশ্বরবাদ এই বইতে পেয়েছি। ... ...

রবীন্দ্রনাথের 'ওগো নদী আপনবেগে পাগলপারা' গানটি নিয়ে একটি নিবিড় আলোচনা। ... ...



বৃন্দা গ্রোভার এবং তাঁর বাহিনী তিলোত্তমার বাবা-মার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। কাল এই মামলা তাঁরা ছেড়ে দিয়েছেন। বিকাশ ভট্টাচার্যের পর এই দ্বিতীয় আইনজীবী। বিকাশকে বাবা-মাই সরিয়েছিলেন বলে শোনা গিয়েছিল, এক্ষেত্রে পাওয়া গেছে বৃন্দার একটা বিবৃতি। পুরো বিবৃতিটা মিডিয়ায় নেই। ব্যক্তিগত সূত্রে পাওয়া। টুকে রাখলাম। খুব বড় ব্যাপার নয় বলে আর ডাবলচেক করিনি। ... ...


নির্বাচনী বন্ডের যে ডেটা প্রকাশিত হয়েছে তা নিয়ে আমি আর মৈত্রীশ-দা (মৈত্রীশ ঘটক, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স) বেশ কিছুদিন ধরে নাড়াচাড়া করছি। ইতিমধ্যে আমরা এই ডেটা নিয়ে লিখে ফেলেছি তিনটি লেখা -- দুটি বাংলা, একটি ইংরিজি। বাংলা লেখাদুটি বেরিয়েছে এই সময় সংবাদপত্রে এবং অনুষ্টুপ শারদীয়াতে। ইংরিজি লেখাটি ইন্ডিয়া ফোরামে। এর মধ্যে অনুষ্টুপের প্রবন্ধটি দীর্ঘতম এবং আমাদের মতে তার বিশ্লেষণটি এই তিনটি প্রবন্ধের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত এবং গভীর। সেই প্রবন্ধটিই আমরা আরেকবার আমার এই ব্লগের মাধ্যমে আন্তর্জালে রাখলাম মূলত তাঁদের জন্য যাঁরা অনুষ্টুপের শারদীয় সংখ্যাটি সংগ্রহ করতে পারছেন না। লেখাটি বেশ দীর্ঘ, আমার অনুরোধ ধৈর্য ধরে পুরো লেখাটি পড়বেন। পড়লে, আমার বিশ্বাস, ভারতের অর্থনৈতিক রাজনীতি নিয়ে চিন্তার খোরাক পাবেন। ... ...

ধরা যাক দুজন লোক - রামবাবু আর শ্যামবাবু ফরেন ট্যুর সেরে দেশে ফিরছেন। দুজনের লাগেজে দুটি আইডেন্টিকাল অ্যান্টিক দ্রব্য। ফিরে দেখছেন এয়ারলাইন্সের বদান্যতায় ওদের দুজনের-ই অ্যান্টিক চোট পেয়েছে। এয়ারলাইনের ম্যানেজার ক্ষতিপূরণ দিতে চান, কিন্তু তাঁর আবার ঐ বস্তুটির দাম কত সেই নিয়ে কোনো ধারণা-ই নেই আর দুজনকে দাম জিজ্ঞেস করতে মোট্টে চান না, কারণ জিজ্ঞেস করলে নির্ঘাত বাড়িয়ে-চাড়িয়েই বলবে দুজন। এই অবস্থায় ম্যানেজার বাবু একটা জটিল স্কিম বা খেলা মাথা থেকে বের করলেন। খেলাটা এই রকম : রাম আর শ্যাম দুজনকেই একটা চিরকুটে ২ থেকে ১০০-র মধ্যে একটা পূর্ণসংখ্যা লিখতে হবে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা বারণ। যদি দুজনেই এক-ই সংখ্যা লেখেন, ম্যানেজার ধরে নেবেন ঐটিই সঠিক দাম, আর সেটাই হাতে ধরে দেবেন। যদি দুজনে আলাদা আলাদা সংখ্যা লেখেন, তাহলে, ম্যানেজার ধরে নেবেন যে কম লিখেছে সে-ই সত্যি বলেছে, অর্থাৎ সে যেটা লিখেছে সেটাই, মানে সেই লোয়ার ভ্যালুটাই আসল দাম, আর অন্যজন ঠকানোর চেষ্টা করছে। এবার ঐ ম্যানেজার রাম-শ্যাম দুজনকেই ঐ দামটা (লোয়ার ভ্যালু) তো দেবেন-ই, কিন্তু একজনকে অল্প পুরস্কার আর অন্যজনকে শাস্তি। যিনি কম লিখেছেন তাকে দেবেন ঐ লোয়ার ভ্যালুর থেকে ২টাকা বেশি, আর যে বেশি লিখেছেন তাকে দেবেন ঐ লোয়ার ভ্যালুর থেকে দুটাকা কম। অর্থাৎ, যদি রাম চিরকুটে লেখে ৪৬, আর শ্যাম লেখে ১০০। তাহলে ম্যানেজার রামকে দেবেন.৪৬ + ২ = ৪৮, আর শ্যামকে দেবেন ৪৬ - ২ = ৪৪। এবার গপ্পো হচ্ছে যে সত্যিকারের খেলা-টা খেলা হলে রাম আর শ্যাম কী লিখতো? আপনি-ই যদি এইরকম সিচুয়েশনে পড়েন, আপনি-ই বা চিরকুটে কী লিখবেন? ১৯৯৪ সালের পেপারে কৌশিক বাবু দেখিয়েছিলেন যে এইরকম গেমের "লজিক্যাল" সলিউশন দুজনের-ই ২ লেখা। গেম থিওরির ভাষায় বললে এই গেমের ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম একটাই, এবং সেটা ঐ (২,২)। মানে রাম-ও দুই, শ্যাম-ও দুই। ... ...

কেন্দ্রীয় সংস্থায় স্বজনপোষণ বা দুর্নীতির অভিযোগ করলে কী হয়? একটা হাতে-গরম উদাহরণ হল খড়গপুর আইআইটি। এর প্রথম অংশটা মিডিয়ায় বেরিয়েছে, যে, আইআইটির বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইআইটির শিক্ষক সংগঠন "অভূতপূর্ব স্বজনপোষণ"এর অভিযোগ এনেছিল। তাঁরা ধর্ণায় বসেননি, কোনো রাজনৈতিক বা অদলীয় জমায়েতও করেননি, খুবই নিয়মতান্ত্রিকভাবে চিঠি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ মন্ত্রককে। নতুন ডিরেক্টর নিয়োগ হবে সামনের জানুয়ারিতে, তিনি যেন যোগ্য হন, এই ছিল আবেদন। ... ...

•আব্রাহাম থেকে মোজেস অবধি ইহুদি একাধিক দেবতার পুজো করেছে। দশ আদেশের পয়লা নম্বর - “তোমার সামনে আমি বাদে কোন ঈশ্বরের স্থান নেই”। এই প্রথম একেশ্বরবাদের পাঠ। বাইবেলকে মাথায় রেখে ফ্রয়েড বলছেন, “ বিশ্বাসী মানুষেরা দুঃখ পাবেন এই ভাবনার বশে ধর্ম পুরাণ আখ্যান রচয়িতারা তার্কিক যৌক্তিকতা থেকে অনেক দূর দিয়ে হেঁটেছেন : উদাহরণ – পারস্পরিক আচার আচরণ ও দায়িত্ব বেঁধে দিয়ে উর গ্রামে পাত্রিয়ারক আব্রাহামের সঙ্গে ঈশ্বরের যে মৌখিক চুক্তি (কভেনানট ) হয়েছিল তার কয়েকশ বছর বাদে কেন সিনাই পাহাড়ে তাঁকে আবার আত্মপ্রকাশ করে নতুন বিধান দিতে হলো ? সেটি তো বহুদিন আগেই আব্রাহামকে দিয়েছিলেন! সোনার বাছুর পুজো দেখে কেন মোজেসকে ঈশ্বরের আদেশের ট্যাবলেট ভেঙ্গে দিয়ে বলতে হলো, তোমরা ঈশ্বরের আইন ভেঙ্গেছ! ... ...

কোথা থেকে শুরু করা যায় বলা মুশকিল। ময়নাতদন্ত নিয়ে এত জলঘোলা হয়েছে, সেখান থেকেই শুরু করা যাক। ১১ই সেপ্টেম্বর আনন্দবাজারে নীলোৎপল বিশ্বাস লিখেছিলেন "মৃতার 'পোশাক রহস্য'"। প্রথম পাতার নিচে বড় হেডলাইন ছিল, যার মোদ্দা কথা হচ্ছে, ময়নাতদন্তে মৃতার নিম্নাঙ্গের অন্তর্বাস গায়েব। মাসদুই পরে ১৯শে নভেম্বর আদালত জানাচ্ছেন, যে, ডাক্তার অন্তরা বর্মনের সাক্ষ্যে প্রমাণিত, যে, নিম্নাঙ্গের পোশাক বিলক্ষণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ফলে ওগুলো গায়েব-টায়েব হয়নি। সহজেই আন্দাজ করা করা যায়, আলাদা করে জমা করার জন্য ময়নাতদন্তে ওটার উল্লেখ নেই। যেকোনো অপরাধ-সাংবাদিকেরই এইটুকু জানা উচিত। নইলে বলতে হবে তিনি সাংবাদিকতা নয়, স্বপনকুমারের মতো রহস্য-রোমাঞ্চ লিখছেন। ... ...