
ন্যানো একটি গৃহপালিত গাড়ি। ইহার চারটি চাকা, একটি স্টিয়ারিং, একটি ইঞ্জিন। লেজ বা ডিকি নেই। বসার জায়গা চারজনের হলেও বসতে পারবেন মিনিমাম পাঁচজন জনতা, এই জন্য একে জনতার গাড়ি বলা হয়। জনতা মানে জনতা পার্টি নয়, জনতা মানে মুষ্টিবদ্ধ হাত। জনতা মানে গোবিন্দার ছবি। জনতা মানে রক্তের রঙ লাল, ওয়েভ লেংথ চারশো ন্যানোমিটার। জনতা মানে ক্ষমতা। জনতা মানে ইতিহাস। ... ...

একবার গুরুর পাতায় বার্ণিকের গপ্পো লিখেছিলাম। তাতে অনেক বার্ণিক ভক্ত ভারী উল্লসিত হয়েছিলেন। নবারুণের হাতে পড়লে বার্ণিকেরও ফ্যাতাড়ুদের মত বাংলাসাহিত্যের একটি আর্কিটাইপে পরিণত হবার গুণাবলী ছিল। কিন্তু সব শালা আজকাল হাল্লাক স্বার্থপর। নিজের ট্রেডমার্ক ছেড়ে ভগমানের ছিষ্টিকে প্রায়োরিটি দেবে, সে বান্দা গদাধর চাটুজ্জের পরে আর জম্মায় নি। সুশীল এবং জ্ঞানবান পাঠক খেয়াল করবেন, আমি এখেনে গদাধরকে এট্টু ঠেস দিলুম। ... ...

অর্ধেক আকাশ ঠিক কতটা, জানা বেশ মুশকিল। তবু তাকে অর্ধেক আকাশের মালিকানা দেওয়া হলো। যেমন ইন-ইয়াং চক্রটিতে দেখা যায়, আধাআধি কালো রঙের ইন-এর পাশে আধাআধি সাদা রঙের ইয়াং--দু'জনে সমতাবদ্ধ-- তেমন বলা হলো তাকে, 'তোমরাই তো ধরে রাখো অর্ধেক আকাশ'। ... ...

গতবছর মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্সের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস সার্কোজি, ডাকার বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ ছাত্রছাত্রীদের সামনে একটি বক্তৃতা দেন। সার্কোজির রাজনৈতিক জীবনে বিতর্ক কোনদিনই কম পড়ে নি। তিনি গৃহমন্ত্রী থাকার সময়ে, ফ্রান্সে কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসীদের সমাজের "জঞ্জাল' ( ' rabble, scum or riff-raff(English) / voyous, racaille(French) ' ) হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তখন ফ্রান্সে রাষ্ট্রপতি ছিলেন চিরাক। এই মন্তব্যের জেরে রাস্তায় প্রচুর হাঙ্গামা হয়। জ্বলন্ত বা পোড়া গাড়ির ছবি দেশ বিদেশের সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়েছিল। সেই নিয়ে নতুন করে বর্ণ সংক্রান্ত বিতর্ক শুরু হয়। ... ...

"আক্রমণই ক্ষমতার স্তম্ভ, প্রতিরক্ষা নয়" - হিটলার ১৯৪১ সালের বাইশে জুন - নাৎসী জার্মানী সোভিয়েত রাশিয়ার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। ইউরোপের অন্যান্য দেশে গত দু বছর ধরে যেমনটি যুদ্ধ হয়েছিলো এখানেও তার কোনো ব্যতিক্রম হলো না। বাঁধভাঙা বন্যার মতন নাৎসী বাহিনী এগিয়ে চললো। একের পর এক নগর তাদের হাতে। বছরও শেষ হলো না, প্রায় ৪৫ লক্ষ রাশিয়ান হতাহত হয়েছিলো। যুদ্ধের আকস্মিকতায় স্তালিন এমনই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে প্রথম এগারো দিন তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ছিলেন। ঐতিহাসিক জন এরিকসনের মতে স্তালিনের স্নায়ু বিপর্যয় হয় এবং তিনি ক্যাটাটনিক হয়ে পড়েন। ... ...

তর্ক শুরু আশির দশকে। তর্ক পেরিয়ে যুদ্ধের জমি তৈরী হতে শুরু করে নব্বইয়ের দশকে। আমেরিকাতে। ইউরোপে আরও কিছুদিন পরে। সত্তরের দশকে সফটওয়্যার মানে ছিলো একগুচ্ছ গাণিতিক অ্যালগরিদম, বা নিয়ম - যেগুলোর পেটেন্ট নেওয়া সম্ভব নয়। আমেরিকাতে সুপ্রীম কোর্ট ওইসময় ডেসিমাল থেকে বাইনারী সংখ্যা তৈরীর এক অ্যালগরিদমের জনকের পেটেন্টের দাবি খারিজও করে দেয়। তার বছর দশেকের মধ্যে ওই একই সুপ্রীম কোর্টের এক রুলিং সফটওয়্যার পেটেন্ট বিতর্কের জন্ম দেয় - Diamond vs. Diehr মামলায়। ... ...

এই ইতিহাসটার নাম কী হতে পারে শব্দ এবং আলোর যৌথ ইতিহাস? এটা ভাবলেই, এই যৌথ শব্দটা, এবং এই যে আমি একজন আলো, এবং আমিই সেটা লিখছি, এই গোটাটাই একটা তীব্র আভ্যন্তরীণ বিদ্রূপের মত আঘাত করছে আমায়। যৌথ। হ্যাঁ, যৌথ। বিগত বেশ কয়েকটা প্রজন্ম, একটা দীর্ঘ দীর্ঘ দীর্ঘ যুগ, যে কোনো জীবিত আলো বা শব্দের সম্ভাব্য স্মৃতির চেয়ে অনেক অনেক দীর্ঘ একটা যুগ ধরে কাহিনীটা শুধু বিদ্বেষের আর পারস্পরিক হিংস্রতার। সেখানে ইতিহাস কেন, আলো বা শব্দের যে কারোর ভূগোলেও অন্য জনের অনুপ্রবেশের বিপরীতে এসেছে শুধু আক্রমণ আর নিধন। ... ...

যে শহরে আমি চাকরি করি সেখানে খুব বাস্তুহারাদের ভীড়। সমুদ্রের ধারে গরম আবহাওয়ায় ঘর ছাড়া থাকতে সুবিধা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভ্যেস করে ফেলেছে এই সহবাস। আমার বউ একদিন ট্রেনিং নিতে এসেছিল ওদের হেড অফিসে। ভোরবেলা ও আর ওর সহকর্মী এসে দেখে দুই বাস্তুহারা পার্কিং লটে ঘুমুচ্ছে। সহকর্মী পুলিস ডেকে ওদের তাড়িয়ে দিল। সেদিন বিকেলে ম্যানেজার ডেকে পাঠায় ওদের দু'জনকে। কথা হল ওরা ভোরবেলা কেউ বিছানা থেকে তুলে দিলে সেটা পছন্দ করে কি না। ... ...

আপনার কি মাঝে মধ্যেই দু:খ হয় এই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারার জন্য? নিজেকে মিস্ফিট লাগে এই দুনিয়ায়? স্বপ্নে নিজেকে শিবরাত্রির সলতের মত নিভুনিভু দেখে ঘেমে ওঠেন? মনে হয়, বেঁচে থেকে কি লাভ? কিংবা, আপনার জীবনের ওঠা-পড়ায় কি আনন্দ কম পড়িয়াছে? আর চিন্তা নেই, অব্যর্থ সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি নিয়ে এসে গেছেন আমার আপনার সবার প্রিয় ঘোড়াদা। এখন কলেজ ক্যান্টিন থেকে বসের চেম্বার, ক্রিকেট ক্যাম্প থেকে মাছের বাজার, নন্দনকানন থেকে সুন্দরবন- সর্বত্র আপনাকে আগলে রাখবে "বেঁচে থাকার নিয়ম"। ... ...

ঘিঞ্জি স্যাঁতস্যাঁতে ঠাণ্ডা এই শহরটার সাথে প্রায় ছয় বছরের অ্যাটাচমেন্ট শেষ হবার মুখে। বাক্স গোছনো, ডেস্ক খালি করা, তড়িঘড়ি প্রোজেক্টের কাজ এগোনোর মতন বোরিং জীবনে এই শেষ কয়েক সপ্তাহের একমাত্র আকর্ষন - বলা ভালো টেনশন - সীজন শেষে এই সাদা-কালো শহরটার সাদা-কালো ফুটবল দলটা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে কোন তলায় থাকবে। ফুটবল তো সব শহরেই খেলে - লণ্ডনে নয় নয় করে চার থেকে পাঁচটা দল প্রিমিয়ার লীগে খেলে। ... ...

যদিও ঠিক পাঠ্য পুস্তকের স্টাইলে লেখা নয়, তবু এই বইটি অনেকদিন ধরে সংস্কৃত ও দর্শনের ছাত্রদের পাঠ্য পুস্তক হিসাবে বি এ, এম এ ক্লাসে পড়ানো হয়। বেদের দুটি অংশ। প্রথমটিকে বলা হয় মন্ত্র। পরের অংশটি ব্রাহ্মণ। যাতে রয়েছে (শুদ্ধ) ব্রাহ্মণ,আরণ্যক ও উপনিষদ। প্রচুর ওভারল্যাপিং রয়েছে। মন্ত্র অংশটিকে সংহিতাও বলা হয়। মন্ত্র অংশটি অপৌরেষেয়। যদিও অনেক ঋষি নিজেকে মন্ত্রবিৎ বলেছেন কিন্তু কোরাণের আয়াতের মতন এই মন্ত্রগুলি আবির্ভুত বা দৃশ্য হয়, বেদবাদীদের এরকমই বিশ্বাস। ... ...

বাজারের দরাদরি - রুটি ভাত তরকারি নিয়ে জেরবার হয়ে যাচ্ছি। জিনিসের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গোল্ডেন সিলা বলে একটা সেদ্ধ চাল গত পাঁচ বছর ধরে বাড়িতে আনি - সেটা শুরু থেকে গত বছর পর্যন্ত পঁচিশ টাকা কিলো চলছিল, একদম শুরুতে কিছুদিন হয়তো বাইশেও পাওয়া যেত। শেষ তিন মাসে সেটা লাফ দিলো - পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ আর তারপর সোজা চল্লিশ!! ... ...

এই উপাখ্যানের নাম হতে পারত "অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকায়ে যায়" অথবা "মডার্ন এন আর আই মে ভারত কিঁউ ছোড়া"। খুলেই বলি। সে অনেকদিন আগে, জানেন, যখন আমি ইশকুল-টিশকুলে পড়তাম সেই সময় ছিল এন আর আইদের স্বর্ণযুগ। তখন তো আর এখনকার মতন পাড়ায় পাড়ায় এন আর আইয়ের চাষ হতনা। পাড়ায় এক পিস এন আর আই থাকলে পাড়ার ঘ্যামই বেড়ে যেত। শীতকালে এন আর আই পরিবার আসতেন, পাড়ার লোক কলার তুলে ঘুরে বেড়াত। অন্যপাড়ায় গিয়ে রেলা নিয়ে আসত। এন আর আই পরিবারের কর্তা জিনস পরে থলি হাতে বাজারে গিয়ে মহার্ঘ্য চিংড়িমাছ কিনতেন। ... ...

২০০৬ এ দুশ জন, ২০০৭ এ একশ কুড়ি জন, ২০০৮ এ এখনো পর্যন্ত আট জন। গড়ে প্রতিবছরে প্রায় শদেড়েক মানুষের প্রাণ যায় রাজধানীর পথেঘাটে ঘুরে বেড়ানো এই মৃত্যুদূতের হাতে। আরো কতজন যে পঙ্গুত্বের শিকার হয়, কত পরিবার চিরদিনের মত রোজগারী সদস্যকে হারিয়ে পথে নামে তার কোনো লেখাজোখা নেই। "ঘাতক", হ্যাঁ, এই নামেই অভিহিত করেছে দিল্লী হাইকোর্ট দিল্লী পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম অংশীদার ব্লু লাইন বাসকে, আর সাধারণ লোকে এর নাম দিয়েছে "ব্লাডলাইন বাস"। ... ...

পুরাতন বিই কলেজ, অধুনা বেসুতে যা ঘটে চলেছে, তা একই সঙ্গে ট্র্যাজিক এবং হাস্যকর। বেসু যখন জ্বলছে, কর্তৃপক্ষ তখন ডুগডুগি বাজাচ্ছেন। ক্যাম্পাসে রক্তারক্তি চলছে, বাইরে থেকে পেশীশক্তির আমদানি হচ্ছে অবাধে, ক্রমশ: জড়িয়ে পড়ছেন শিক্ষকরাও, আর কর্তৃপক্ষ অতন্দ্র শার্লক হোমসের ন্যায় কে বা কারা "বেসুকে নন্দীগ্রাম হতে দেব না' বলে এসএমএস চালাচালি করছে,তার রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যস্ত। দুইদল ছাত্রের মধ্যে মারপিট হচ্ছে, সমাধানের সহজ উপায় কি? কর্তৃপক্ষের মতে সোজা উপায় হল দশটার সময় হস্টেল শুদ্ধু ছেলেকে ঘাড় ধরে কলেজ থেকে বার করে দাও। বাস ভাড়া করে হাওড়া আর শিয়ালদা স্টেশনে ছেড়ে দিয়ে এসো। এবার নিজের ম্যাও তারা নিজেরা সামলাক ... ...

ছোটনাগপুর মালভূমির পশ্চিমপ্রান্তে যেখানে ছত্তিশগড় আর ঝাড়খন্ড রাজ্য একটা সীমারেখায় মিশেছে, ঠিক সেইখানে পাহাড়-জঙ্গলে ঠাসা একটা চমৎকার অঞ্চল হল আমাদের সরগুজা জেলা। রাজধানী অম্বিকাপুর। এই এলাকা কয়লা ও নানান বনজসম্পদে সমৃদ্ধ। আবার সমুদ্রতল থেকে অনেকখানি উঁচুতে বলে প্রচন্ড গরমেও তেমন জ্বালায়-পোড়ায় না। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও সহজ সরল আদিবাসী জীবনযাত্রা অনেক ভাগ্যান্বেষীকেই হাতছানি দেয়। ... ...

মেরী লুই বার্কের Swami Vivekanada in America : New discoveries ১৯৫৭ সালে বইটি লেখা হয়। পরবর্তীকালের বিবেকানন্দের জীবনীকারদের কাছে এটি একটি মহামুল্য আকরগ্রন্থ। দীর্ঘ শ্রমে সেই সময়কালের পত্রিকা ও সংবাদপত্র খুঁজে পড়েছেন। যেসব বাড়ীতে বিবেকানন্দ বাস করেছিলেন সেই বাড়ীগুলি খুঁজে বার করেছেন। পড়েছেন ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখা ডায়ারী ও চিঠিপত্র। ... ...

মান ও হুঁশ দুইই যাহার আছে তাহাকেই মানুষ বলে -- এরূপই প্রচলিত ধারণা। কিন্তু যাহার হুঁশ নাই, তাহার কি মান থাকিতে পারে? অথবা যাহার মান নাই তাহার হুঁশ? না: এইবিষয়ে তেমন নির্দিষ্ট কিছুই প্রচলিত নাই। তবে প্রায়শ:ই দেখা যায় হুঁশ না থাকিলে মানও থাকে না। "হুঁশ না থাকিলে' -- বাক্যবন্ধটির বহুবিধ অর্থ হইতে পারে; কিন্তু আমরা ইহার একটি সংকীর্ণ অর্থই এক্ষণে লইব। হুঁশ নাই অর্থাৎ বেহুঁশ, যাহাকে "পাগল' বলিয়াও উল্লেখ করা যাইতে পারে। "বেহুঁশ'গণ সর্ব্বদাই "পাগল' হন না, কিন্তু আগেই বলিয়াছি, অধিক কথনে কাজ নাই, আমরা একটি সঙ্কীর্ণ অর্থই গ্রহণ করিব। ... ...

যে শহরে আমি এখন থাকি তার দুটো নাম আছে। বা বলা ভাল কিছুদিন আগে পর্যন্ত ছিল। পুরানো নামটি শহরের সাবেকি কন্নড়ভাষী জনপদে সেই ষোড়শ শতাব্দী থেকে প্রচলিত ছিল। অন্য নামটিও নয় নয় করে কমদিনের নয়। ব্রিটিশেরা এখানে ক্যান্টনমেন্ট পত্তন করেছিল মোটামুটি দুশ বছর আগে। তাদের পরিশীলিত উচ্চারণবিকৃতির সৌজন্যে নতুন নামটি আস্তে আস্তে প্রচলিত হতে শুরু করে। তাও ওই ক্যান্টনমেন্ট সন্নিহিত অঞ্চল বোঝানোর জন্য। ... ...

'ভোর হবার মুখে আবছা অন্ধকারে ট্যাক্সি এসে হর্ন দেয়। ঘুম অনেক আগেই ভেঙেছিল গায়ত্রীর। সারা রাত বরং ভালো ঘুমই হয়নি তার, এমন এক ঘড়ি ধরে যাত্রার কথা থাকলে চাপা উদ্বেগে যেমন অনেকেরই বার বার ঘুম ভেঙে যায় তেমনই। অন্ধকার থাকতেই স্নান সেরে নিয়েছে সে। সুটকেস আর ব্যাগ তো দু-দিন আগেই গোছানো হয়ে গিয়েছে-গায়ত্রী আর সুধীনের দুটো আলাদা সুটকেস, একটা কিটস ব্যাগ, যার যার নিজস্ব হাতব্যাগ ও কাঁধের ঝোলা। ভোরের বনগাঁ লোকাল ধরবে শিয়ালদা থেকে, সকাল ৫-৩৫ এর গাড়ি।' ... ...