
আর, এইখানেই সমস্যাটা, উল্টোদিকের পক্ষটা বেছে নিতে গেলেও দেখছি সেই কোল্যাটারাল ড্যামেজ, ভিন্ন রাজনৈতিক মত প্রকাশে মৃত্যু, পুলিশের চর সন্দেহে হত্যা, পুলিশের সঙ্গে এক বাসে যাতায়াতেও; আর, পুলিশের উর্দিপড়া যে মানুষগুলোকে যুদ্ধের নামে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে হত্যা করা হচ্ছে, তাদের মৃত্যুও কি খুব কম পীড়াদায়ক? খুব কম পীড়াদায়ক কি সংগ্রামের নামে গ্রামের পর গ্রাম ধরে আবালবৃদ্ধবণিতার মিলিটারাইজ?এশন, ইস্কুলের পথ ভুলিয়ে শিশুর হাতে ইন্স্যাস তুলে দেওয়া, বিনষ্ট শৈশব, সদাসন্ত্রস্ত গ্রামজীবন, সন্দেহের চোখে নিজের প্রতিবেশীকে দেখা, পাশের বাড়ির পাশের পাড়ার লোককে খুন করে মৃতদেহ স্ৎকারহীন অবস্থায় দিনের পর দিন ফেলে রাখা, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানানোর নামে যুদ্ধটা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া? আর, এগুলোর বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলছেন তাঁদেরও কি দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছেনা অপর পক্ষের লোক বলে? সশস্ত্র লড়াইয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল, শ্রেণীশত্রু (পুলিশ/ অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মী, একটু ভালোভাবে বাঁচার জন্যে পুলিশের খাতায় নাম লেখানো আদিবাসী যুবক) হত্যার রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সামান্যতম দ্বিধার অর্থ গ্রীণহান্টের বিরুদ্ধে ভয়েস অফ ডিসেন্ট না জানানোর সমতুল্যই কারণ যেকোনও একটা পক্ষ বেছে নিলেই যুদ্ধটাকে বৈধতা দেওয়া হয়ে যায়, মেনে নিতে হয় অপরপক্ষের যুদ্ধে সামিল হওয়ার স্বাভাবিকতাকেও। ... ...

পুরুষ কর্মীদের প্রাথমিক মাইনে তার মহিলা সহকর্মীর থেকে গড়ে ৪,৬০০ ডলার বেশি। প্রথমেই যে মহিলারা পিছিয়ে পরে মাইনে বা পদাধিকার কোনটাতেই তারা আর পুরুষ সহকর্মীর সাথে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারে না। ক্যাটালিস্টের গণনা অনুযায়ী ছেলেদের সিইও হবার সম্ভাবনা তার মহিলা সহকর্মীর প্রায় দ্বিগুন। অনেকেই ভাবেন মহিলাদের কত কাজ, একদিকে বাড়ি, ছেলেমেয়ে সামলে অফিসের কাজ করতে হয়। কাজের দিকে মন দেবার সময় পায় না। মায়ের জাত বলে কথা। কিন্তু সার্ভের রেজাল্ট বলছে প্রথম চাকরি বদলানোর ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে উন্নতিই লক্ষ্য। ছেলেমেয়ে প্রতিপালনের জন্য ৩% মেয়ে ও ২% ছেলে চাকরি বদলায়। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কারণ হল ভালো চাকরি, ভালো মাইনে ইত্যাদি। ... ...

সে এও ভাবে যে তাদের ছেলেবেলার এক গোপন ও স্বাদু স্মৃতির কথা - যখন সে এবং ইমলিকোবা জঙ্গলের রাস্তায় নগ্ন নারীকে হেঁটে যেতে দেখেছিল, হাঁটার ছন্দে যার স্তনদুটি দুলছে এবং দুই পায়ের ফাঁকে অন্ধকার - যা তার নাতিকে বলাই পৌরুষসুলভ হত, কিন্তু সেই কথা না বলে তাকে তার জীবনের অন্ধকার দিনগুলির কথাই বলে যেতে হয়। কারণ সে বাধ্য। ... ...

ঘাতক, একাকিত্ব, মৃত্যু আর অন্ধকার। একের পর এক খালি ঘর পেরিয়ে যেতে যেতে দমকা হাওয়ার মত উপলব্ধি আসে। নীলাভ আলোর ছটা, পাহাড়ের চূড়া থেকে তীক্ষ্ম শব্দে যে প্রহর ঘোষণা করে, সেও একা। ঠাণ্ডায় কুঁচকানো শরীরটা জ্বরের ওম পেয়ে কেঁপে ওঠে। বৃক্ষের শাখা থেকে টুপিয়ে পড়ছে শিশির, রক্তের মত। নি:শ্বাসে বিষ নিয়ে ফুলে ভরে দিচ্ছে এক যুবা। ... ...

একদিকে শার্লক হোমস যখন আঙ্গুলের ক্ষয়ে যাওয়া নখ, জুতোর গোড়ালি, কলারের ভাঙ্গা কোনা থেকে মানুষ সম্পর্কে ""অকাট্য"" ধারণা তৈরী করছেন, তখন একটা মানুষের বলা গল্পের পটভূমি, তার শরীরভাষার মতন, সেইসময়কার যুক্তিকাঠামোর বাইরে থাকা বিষয় কে, গুরুত্ব দিয়ে ভাবা - নি:সন্দেহে সাহসের পরিচয়। ... ...

একদিকে শার্লক হোমস যখন আঙ্গুলের ক্ষয়ে যাওয়া নখ, জুতোর গোড়ালি, কলারের ভাঙ্গা কোনা থেকে মানুষ সম্পর্কে "অকাট্য" ধারণা তৈরী করছেন, তখন একটা মানুষের বলা গল্পের পটভূমি, তার শরীরভাষার মতন, সেইসময়কার যুক্তিকাঠামোর বাইরে থাকা বিষয় কে, গুরুত্ব দিয়ে ভাবা - নি:সন্দেহে সাহসের পরিচয়। এর কিছু আগেকার ঘটনা (১৮৩৮) গৌতম ভদ্র তার "জাল রাজার কথা"তে, দেখিয়েছেন মানুষ চেনার ঐ সব লক্ষণগুলিকে, ঔপনিবেশিক বিচারব্যবস্থা কিভাবে অস্বীকার করছে। ... ...

দুদিনের জন্য হেডলাইন হওয়া ছাড়া আর কোথায় এর সার্থকতা? খুব কাছের কয়েকজন ছাড়া আর কতজনকে ইনস্পায়ার করতে পারছে এটা? স্রেফ একটা করুণরসের সিরিয়াল হয়ে ওঠা ছাড়া কি অভিষেকদাদের অন্য কোনো পরিণতি নেই? ... ...

অতএব পয়লা বৈশাখের ভোরবেলায় আমরা দুই মূর্তিমান ধানবাদ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে দুটি লাল সুতোর বিড়ি ধরালাম। তারপর সমস্বরে বললাম "একলা বৈশাখ' ... ...

- মায়াবতী তা হলে ভালো লোক নয়? কেন? - সে কেমন লোক জানি না বাপু! মোটমাট গান্ধীদাদুর সাথে তার তুলনা চলে না। - কেন? কুইন তো ক্রাউন পরে, সবাইকে নিয়ে নিজের স্ট্যাচু বানায়, কুইনরা তো সবসময়ে ভালো হয়। - কে বলেছে সবসময়ে ভালো হয়? তুমি তো স্লিপিং বিউটির গল্প শুনেছো। স্লিপিং বিউটির সেই কুইনটা কি ভালো ছিল? ... ...

সময়টা ভাল নয়। ফুল হাফ যাই ফুটুক না ফুটুক বসন্ত এসেছে। দুগ্গি হোক কি বাসন্তি, পুজো ইস্পিশাল এসেছে। স্বভাব কবির ভাব এসেছে, শান্তিনিকেতনে অশান্তি, সব খাপে খাপ। জঙ্গলমহলে নিচে রক্ত-লাশ উপরে পলাশ, ডবল হোলি ব্যাপার। আমাদের পুজো ইস্পেশালও ডবল ডেকার। ... ...

প্রতি বছর পূজো আসে, বাবার সঙ্গে নতুন জুতো কিনতে যাই। নতুন জুতো পরে বিছানার ওপর হাঁটাহাটি করি, কেউ বকে না। এলাকায় বারোয়ারী পূজো মাত্র দুটি, তারা বছর বছর নিজেদের মধ্যে রেষারেষি করে উঁচু উঁচু মূর্তি তৈরী করে- এ বছর এদের বারো হাত ঠাকুর তো ও বছর ওদের চৌদ্দ হাত প্রতিমা। ... ...

উনি পুরাণ-টুরাণ ঘেঁটে দেখাতে চাইছেন যে পুলস্ত্য মুনি ও নিকষা রাক্ষসীর পুত্র রাবণ জাতিতে ব্রাহ্মণ বটেক! তায় সকাল -সন্ধ্যে বেদপাঠ করেন। রাবণের নামে বৈশেষিক সূত্রের ওপর ""লংকাবতার ভাষ্য'' আছে। এমন মহাপণ্ডিত রাবণকে মারার অধিকার সির্ফ ভগবান বিষ্ণুর অবতার রামের আছে, অন্য কোন মনুষ্যের নেই। ... ...

সেপ্টেম্বর-অক্টোবারে দেশে-¢বদেশে বাঙালী ¢হন্দুর মন পুজো-পুজো করে। এই অমোঘ সত্যকে এ¢ড়য়ে যেতে চাই নানারকম প্যাঁচপয়জার কষে। আজ ওবামার হেলথ কেয়ার ¢ডবেট তো কাল রেড সক্স। আজ বসের ধাঁতা¢ন তো কাল আই¢পওর ¢ন¢শর ডাক। বু¢ঝ। ... ...

পুজোর কদিন এ গলির সব কটা বাড়ি আলোর মালায় সাজানো। দুপাশের আলোর সজ্জা দর্শনার্থীকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে প্যান্ডেল পর্যন্ত। ছোটর মধ্যে হলেও এ পাড়ার পুজোটার বেশ নামডাক আছে। তাই ভিড়ও হয়েছে বেশ। বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছতে হিমসিম খেতে হল সোমলতাকে। দোতলার ডোরবেলটায় হাত রেখে বেল বাজানোর আগে আবার একরাশ স্মৃতি ভিড় করে এল মনে। ... ...

দু:খের কারণগুলি আরো খুলিয়াই বলি তাহলে। এত বৎসর ধরিয়া বাঙালী আমার পূজা করিতেছে, অথচ মেয়েদের আশীর্বাদ করিয়া কেহ কখোনো বলে না "মা দুগ্গার মতন তেজী হও,সাহসী হও, শক্তিশালী হও'! পুরুষ যে বলিবে না ইহাতে বিস্ময়ের কিছু নাই। মেয়েরা দলে দলে শক্তিশালী হইলে তাহাদের ঘোর বিপদ, বলাই বাহুল্য। ... ...

দূর্গা তার ছোট মেয়ে। বাজারের সবচেয়ে বড় আড়ত ওদের, সবচেয়ে বড় ফার্মেসী, সবচেয়ে বড় কাপড়ের দোকান। শিলিগুড়িতে ও নাকি ওরা বাড়ি কিনেছে, ব্যবসা করেছে। হরে ফিসফিসিয়ে আমাকে শুনিয়েছে এইসব- "দেখিস শ্যামা শালা একদিন পাততাড়ি গুটিয়ে ঐ পারে চলে যাবে'। ... ...

ওষুধে নয়, মূহুর্তের সেই উচ্ছাস পথ্যে। হাতে করে মানুষ করা নাতনির আদরে। বোঝা গেল দশমীর দিনই। সেদিন আর ওঠার ক্ষমতা নেই, শ্বাসকষ্টটাও খুব বেশি। কিন্তু আজ কি করবে? আটত্রিশ বছরের সঙ্গীটি আজ অসহায়। কোথাও যাওয়া আসার উপায় নেই। আর একটা দিন কাটাতে পারলেই হল। সময় গোনে লোকটি। কিছু করার না থাকায় ফোন করে সকলকে। যিনি নিয়ে যাবেন তাকে বার চারেক ফোন করে বলে দেন ভোর হলেই যেন চলে আসে। ফোন করাতে কি কি হতে পারে না তার ফিরিস্তি দিতে থাকেন। পূবকোণে আগুন রাঙিয়ে ভোর হয় রোজকার মতন। ... ...

যেটা পুজো সংক্রান্ত স্মৃতি আমার খুব স্পষ্ট ভাবে আছে, সেটা পাঁচ ছয় নাগাদ, নিউব্যারাকপুরের স্মৃতিটা ঠিক পুজোর নয়, পুজো উপলক্ষে ব্যায়ামসমিতির করা শরীরের পেশী প্রদর্শন, আর মামাবাড়িতে, মধ্যমগ্রামের বিধানপল্লীতে, দুলুদার দোকানের সামনে ফাঁকা মাঠে পুজোর মণ্ডপে, খুবই মাঠো সব, বাঁশের বেড়ার গায়ে চটের আবরণ, তার মধ্যে তখনকার ডেকরেটরের কাঠ-পিজবোর্ডের চেয়ারে বসে আমি আর গজো, তখনকার এক সঙ্গী, একটা খেলনা পিস্তল দিয়ে মারামারি করছি। ... ...

সেসব কথা বাড়তে বাড়তে এখন পুরো আস্ত নদী। যে যার মতো মতো নৌকা ভাসায়, জল তোলে কেউ, কেউ বা কিছু না করে সেই নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে। জলেই জল বাড়তে থাকে - পায়ের পাতা ভিজল যখন কেমন যে এক শিরশিরনি, এক গোড়ালি জল মানে সব জুতো মোজা যায় বগলে। হাঁটু জলে প্রথম টের পাচ্ছিল সেই স্রোতের আভাস। ... ...

অটোয়ালা থেকে ইনস্যুরেন্স এজেন্ট, প্রাইভেট টিউটর থেকে ছোকরা মাস্তান, নাচের দিদিমণি আর ছেনাল পাব্লিক সব গা ঘষাঘষি করে নানাবিধ বাওয়ালিতে মেতে থাকে পাঁচদিন। নতুন জামার আড়ালে তীব্র আমোদগেঁড়েমি ও ত্ৎসহ হারামিপনার জমাট আবহে কারুর কিঞ্চিৎ গুরুপাক হলেও, মোটের ওপর তামাশাটা মন্দ দাঁড়ায়না। তার সাথে ভক্তিভাবের ভ্যাদভেদে গুমোট হাওয়ায় ছোটখাটো বেহেড ঢ্যামনামি ও এগরোল, ফুচকা, আইসক্রীম আর অবাধ্য জীভ বেয়ে গড়িয়ে পড়া প্রেম-লালা-ভালবাসা মাখামাখি কিছু লাভ স্টোরি। ... ...