
একের পর এক যুবকের মৃত্যু আর সহ্য হচ্ছিলো না আমাদের। শুধু তো মৃত্যুই না, রোজ রোজ লাঠি-কাঁদানে গ্যাসের আক্রমণ, যখন তখন বাড়িতে পুলিশ-সিআরপিএফের হামলা, রাস্তায় হঠাৎ করে তল্লাশীর নামে হেনস্থা-- এসবই তো আমাদের জীবনের অভ্যস্ততার মধ্যে ঢুকে গেছলো! অবশেষে, সব জড়তা কাটিয়ে রাস্তায় নামতে পেরেছিলাম, চেয়েছিলাম আমাদেরকেও যেন মানুষ বলে ভাবা হয়! এই মৃত্যুগুলোর তদন্ত হোক, পুলিশ-সিআরপিএফের বাড়াবাড়ি বন্ধ হোক, দোষীদের শাস্তি হোক-- এটা চাওয়া কি সন্ত্রাসবাদ? এর জন্য ভারতের পুলিশ-সিআরপিএফ কি দিলো আমাদের? সোপোরে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সাতাশ তারিখ ঠান্ডা মাথায় খুন করলো শাকিল আহমেদ গনাই (১৭), ফিরদৌস আহমেদ কাকরু (১৬), বিলাল আহমেদ ওয়ানি (২১) কে, আঠাশ তারিখ খুন হলো তাজমূল বসির (১৭), তওকির আহমেদ (১৯)। দক্ষিণ কাশ্মীরের ইসলামাবাদে ইশতিয়াক আহমেদ খান্ডে (১৫), ইমতিয়াজ আহমেদ ইটু (১৭), সুজত উল ইসলাম (১৬) কে গুলি করে মারলো সিআরপিএফ, ঊনত্রিশে জুন। বয়েস গুলো খেয়াল করুন। আপনার পাড়ার এই বয়েসের মুখগুলোকে ভাবুন, তাহলেই বুঝবেন কেন আজ আমিও পুলিশ-সিআরপিএফ-সেনার গাড়ি দেখলে নিজেকে সামলাতে পারি না, তিনরঙা পতাকাটা আমার দু'চোখের বিষ! ... ...

Ýশষ জীবনে স্বাধীনতা সংগ্রামের কথকতায় তাঁহার অনীহা Ýদখা Ýদয়। Ýবাধ করি আমাদের স্বাধীন Ýদশের Ýনতাদের তস্করসুলভ কার্য্যকলাপের কিছুকিছু তাঁহার কর্ণগোচর হইয়া থাকিবে। আমার 'তার পর কি হল?' প্রÝশ্নর উত্তরে নিরুৎসাহ ভঙ্গিতে বলিতেন 'তারপর Ýদশটা বিক্রি হয়ে Ýগল' । বলা বাহুল্য, Ýদশ কাহারা কিরূপে Ýবচিল তাহা শিশু মস্তিকের বুঝিবার পক্ষে কিছুটা জটিল ছিল। অতএব বিরস বদনে নীরবতা অবলম্বন করিতাম। ... ...

এইখানে স্পষ্টতই একটি বর্ষাদিনের ছবি ফুটে উঠতে দেখি। জলে প্রতিফলিত শহরের ছবি, হাঁটুর ওপর কাপড় তুলে মেয়েদের সতর্ক চলে যাওয়া, বাসে ও রিক্সায়। সেইসঙ্গে, যদুবংশের আচমকা উল্লেখে একটি আসন্ন ধ্বংসের আঁচ লেগে থাকে। অথচ গোটা কবিতায় জল কিংবা বৃষ্টি এই শব্দগুলি অনুচ্চারিত থেকে যায় (যদিও বর্ষা শব্দটি, একবার হলেও, উঁকি মেরে গ্যাছে)। ও তার বদলে চরু শব্দের অনুপ্রবেশ লক্ষিত হয়। এই চরু, যা হতে পারে জল, হতে পারে বৃষ্টি অথবা অন্য কিছু। সব মিলিয়ে প্রতীকের ব্যাবস্থাটাই এখানে উল্টেপাল্টে যায়। সিগনিফায়ারগুলি নিজেদের জায়গা বদল করতে থাকে অবিরল। এক নতুন শব্দব্যবস্থার সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটান লেখক। ও লেখক নিজেও এ ব্যাপারে অবহিত থাকেন আগাগোড়া। সে জন্যেই কথা কবিতায় লেখা হয় এইসমস্ত লাইনগুলি ... ...

সরকারী ভর্তুকির কথা তখনই আসে যদি কোনো একটি দ্রব্যের সরকারী করের পরিমাণ সেই দ্রব্যে সরকারের দেওয়া ভর্তুকির পরিমাণের থেকে কম হয়। অর্থাৎ, যে জিনিষটার প্রতি নজর রাখতে হবে তা হল 'নেট ভর্তুকি' সরকারী করসংগ্রহ যদি সেই দ্রব্যে সরকারী ভর্তুকির থেকে বেশি হয় তাহলে নেট হিসেবে ভর্তুকির পরিমাণ ঋণাত্মক। এই অবস্থায় সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে বলা ভুল হবে। ভারতীয় সরকার কি পেট্রোÌলিয়াম পণ্যে নেট ভর্তুকি দিচ্ছে? ... ...

মোটামুটি তিন ধরনের প্রতিক্রিয়া ইংরিজি খবর মাধ্যমগুলোতে দেখা গেল। প্রথমত, বাজার পেট্রল ও ডিজেলের দামের বিনিয়ন্ত্রণকে উল্লাসের সাথে গ্রহণ করল, প্রতিফলন দেখা গেল তেলের শেয়ারের চড়া দামে। দ্বিতীয়ত, জোরালো অভিযোগ উঠতে থাকল যে এই নীতিপরিবর্তন যথেষ্ট নয়। কেরোসিন ও এলপিজির দামের ওপর ন্যূনতম সরকারি নিয়ন্ত্রণ আছে। তেল ও ডিজেলের বিনিয়ন্ত্রণের পরও তাই OMC গুলোর লোকসান এই আর্থবছর ২০১১-তে ৫৩০০০ কোটি টাকা হতে চলেছে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন বিরোধী দল নিয়মমাফিক রীতিতে একটি "ভারত বনধ' পালন করে। ভারতবর্ষের তেলের দামের আর্থ-রাজনীতিকে খুঁটিয়ে দেখার আগে তিনটি প্রশ্নের জবাব খুঁজে নেওয়া যাক। ...... তৃতীয় প্রশ্নটি ভারতবর্ষের তেলের দাম নিয়ে সযত্নে তৈরি করা রূপকথা সম্পর্কিত। এই রূপকথাটির একটি জরুরি উপাদান হল তেলের (মানে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, এলপিজি) দামে সরকার বাহাদুর আমাদের বিপুল পরিমানে ভর্তুকি দিয়ে থাকেন। সরকারি ঘোষণা, সরকারি নীতি চর্চা বা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয় যে এই ভর্তুকি সরকারি OMC গুলোর ' under recovery ' হিসেবে দেখা দেয় ও সরকারি বাজেট ঘাটতিকে (আয় ও ব্যয়ের পার্থক্যকে) বাড়িয়ে তোলে। এই তর্কের পরের ধাপ হল, তেল ভর্তুকি দেশের মূল্যবান সম্পদের অপচয়। সরকারি আয় ব্যয়ের দিক থেকে দেখতে গেলে দীর্ঘকালীন পরিপ্রেক্ষিতে একে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ভর্তুকির কাট ছাঁট তাই দরকার। কীভাবে করা হবে? পেট্রোÌপণ্যের দামের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে দিয়ে, যাতে মূল্য বাজারের চাহিদা-যোগান দিয়ে নির্ধারিত হয়। তেলের দাম নিয়ে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার খবরের ওপর শুধু চোখ বোলালেই এই রূপকথাটি কত জনপ্রিয় মালুম হয়। ... ...

খুব মেপেজুখে হিসেব করলেও অন্তত দেড়লাখ অদক্ষ শ্রমিক কাজ করছে দিল্লীতে (একসময় সংখ্যাটা চার লাখের ওপরে ছিল) ন্যূনতম মজুরীর থেকে গড়পড়তা পঞ্চাশটাকা কমে। দেড়লাখকে পঞ্চাশ দিয়ে গুণ করুন। দিল্লী শহরের সুসভ্য সমাজ-হিতৈষী মালিক-ঠিকাদার-ক¾ট্রাকটারদের দৈনিক আয়ের একটা ধারণা পাওয়া যাবে। তাও তো কমিশন, কনসাল্টেশন ফি - এইসব ধরা হয় নি এই হিসেবে! ... ...

কথা। শব্দ। একটা শব্দ বহুদিন থেকেই আমাকে খুব ধাঁধায় ফেলে। শব্দটা হলো 'রেভোল্যুশন'। ছোটবেলা থেকেই 'বিপ্লব' কিম্বা 'রেভোল্যুশন' ব্যপারটা ঠিকমতো বুঝতে পারতামনা। মনে হতো খুব গ্রামভারী কথা। ভাবলাম রাজনীতি সম্পর্কে জানলে পরে হয়তো বোঝা যাবে এই 'রেভোল্যুশন' জিনিষটা কী। কিন্তু আমাদের ড্রাইভার কাকু তখনই আমায় RPM এর কথা বলেছিলো। আমার মনের মধ্যে আবার সব ঘেঁটে গেছিলো। বোকা ছিলাম তো ছোটবেলায়? অবশ্য বড় হবার পরেও আমার মধ্যে সেই বোকা ছোট ছেলেটা কোথাও একটা রয়ে গেছে। তাই এসব কথা শুনলে সত্যি লাগে মনে ধাঁধা। গত সপ্তাহেই দু দু'বার এই 'রেভোল্যুশন' এর সামনাসামনি পড়লাম। দুখানা ফিল্মে। ... ...

জম্বুদ্বীপের ঘটনাকে ""মানুষকে বাদ দিয়ে সংরক্ষণের"" এক নেতিবাচক উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয় - ""জম্বুদ্বীপের মৎস্যজীবিকা ছিলো প্রকৃতির অনুযোগী অভ্যাস - তাঁদের জাল হাতে বোনা হতো। জালের এমন ব্যবস্থা ছিলো যাতে শুধু বয়স্ক মাছ ধরা পড়তো, শিশু মাছ ধরা হতো না। তাঁরা সূর্যের আলোয় মাছ শুকোতেন। তাঁরা প্রকৃতির থেকে ঠিক ততটুকুই নিতেন, যতটুকু তাঁদের প্রয়োজন ছিলো""। এই কথাটাই তাঁদের পাশে থাকা পরিবেশবাদীরা বলতে চেয়েছিলেন। জম্বুদ্বীপের বাদা বন সমুদ্রের লবণাক্ত ঝড় থেকে মৎস্যজীবীদের পেশাকে রক্ষা করত বলেই মৎস্যজীবীরা এই বাদাবনের রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। এ তাঁদের বই পড়ে বক্তৃতা শুনে প্রকৃতি রক্ষা করার প্রয়াস নয়। একেবারে জীবিকার প্রয়োজন থেকে পরিবেশ রক্ষার চেতনা। দু:খের কথা "বিশুদ্ধ পরিবেশবাদীরা" একথা বুঝলেন না। মৎস্যজীবীদের উৎখাত করার অতি উৎসাহে তারা এমনকি বাংলাদেশ থেকে আসা দুষ্কৃতীদের চোরাচালান ইত্যাদির অভিযোগ তুললেন। অথচ জম্বুদ্বীপের অবস্থান বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে সুন্দরবনের যেকোন অঞ্চল বা দ্বীপের তুলনায় সবথেকে দূরে, পশ্চিম প্রান্তে। আর সীমান্ত থেকে ৯৬ কি.মি. দূরে এই দ্বীপে কোন চোরাচালান বা সাধারণ অপরাধের একটি অভিযোগও কখনও কোনোদিন পুলিশের খাতায় ওঠেনি। অথচ শুধু অনুমানের ভিত্তিতে এরকম অভিযোগ মৎস্যজীবীদের উচ্ছেদের যুক্তিকে সবল করেছিলো। কিন্তু আসলে উচ্ছেদের যুক্তি কি ছিলো? ... ...

মাথা নিচু হয়ে আসে। দেশের রাজধানীর সবচেয়ে হাই প্রোফাইল জায়গা, সাউথ ব্লকে চাকরি করা একজন সরকারি কর্মচারির মুখে এই কথা। কথা কিছু আলাদা হয় না যখন স্টার নিউজ বা এনডিটিভির ক্যামেরা বুম করে দিল্লির অশোক বিহারের সেই মহল্লায়, যেখানে গুজ্জর হয়ে রাজপুতকে বিয়ে করার অপরাধে মরতে হয়েছে মোনিকা আর কুলদীপকে, আর অন্য গোত্রে শুধু প্রেম করার অপরাধে মরতে হয়েছে মোনিকার বোনকেও, একই দিনে। মহল্লারই একজন জুগিয়েছে অস্ত্র, মারবার জন্য, একজন জুগিয়েছে গাড়ি, মারার পরে মৃতদেহ ডাম্প করে আসার জন্য। ... ...

যাই হোক, কাজের কথায় আসি। পঞ্জিকা থেকে পেস্টের বিজ্ঞাপন সর্বত্র বিশ্বকাপ নিয়ে কথা চালাচালি হচ্ছে। অতএব, বুলবুলভাজার কলামেও, অনিবার্য্যভাবে, এসে গেল বিশ্বকাপ। বা অন্তত উপলক্ষ্য। সবাই না হলেও, অনেকেই জানি জুন মাসের এগারো তারিখ দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ ফুটবল। ঝাঁ চকচকে নতুন স্টেডিয়ামে একের পর এক প্রিয় তারকারা ঝলমলাচ্ছে। ... ...

পুলিশের তরফ থেকে যে অভিযোগনামা দায়ের করা হয়, তাতে প্রথমে দায়ের করা অভিযোগগুলো (১৭০ ধারা - নিজেকে সরকারী পদস্থ কর্মচারী হিসাবে দেখানো। ১৭৯ ধারা - তদন্তের অধিকারী সরকারী কর্মচারীকে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করা। ২২৯ ধারা - নিজেকে জুরি হিসবে দেখানো, ১২০(বি) ধারা - রাষ্টের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র) ... ...

তা হলে এর শেষ কোথায়? সমাধানের প্রথম ধাপ অবশ্যই অন্যায় স্বীকার করা। এবং তার পরের ধাপে সেই অন্যায় আর যাতে না-হয়, তা নিশ্চিত করা। আহমদী, হিন্দু, ক্রিশ্চান, শিখ, অন্য সমস্ত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণার চাষ হয়ে চলেছে আমাদের জনতার চৌহদ্দিতে, তাকে বন্ধ করতে হবে। একদিনে এই ঘৃণা নিশ্চিহ্ন হবে না, ঘরে বসে শুধু "নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক!' ভাবলেও তা নিশ্চিহ্ন হবে না। মুখ খুলতে হবে। আলোচনা চালাতে হবে। ... ...

সম্পর্কস্থাপন কার কার মধ্যে? মানুষ/না-মানুষের মধ্যে সম্পর্কস্থাপন? আমরা এই সম্পর্কস্থাপনের এক বয়ান দেখি পশ্চিম/উত্তরের তূলনামূলক নৃতত্ত্বে। সেখানে আমরা প্রাচ্য/দক্ষিণের নির্মাণ হতে দেখি - প্রাচ্য/দক্ষিণের মানুষ (সংস্কৃতি) যেন প্রকৃতির সাথে এক সঙ্গতিতে, হারমনিতে অবস্থান করছেন। প্রাচ্য/দক্ষিণের মানুষ যেন প্রকৃতির সন্তান - প্রকৃতির কোন এক কুলুঙ্গিতে তাদের ঠাঁই। এই ভাষ্যে প্রকৃতি/সংস্কৃতির বিভাজন স্বত:সিদ্ধ কারণ, এই বিভাজনের বাস্তবতা ব্যাতিরেকে দুটি ক্যাটিগরীর সঙ্গতির গল্প বলাই যায় না। ... ...

এই সংস্থার এক্তিয়ারভুক্ত কোন বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যাবে না বা কোন আদালত সংস্থার এক্তিয়ারভুক্ত কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে যার দেওয়ানি আদালতের সমতুল্য ক্ষমতা থাকবে। অভিযোগ সংক্রান্ত ঘটনা ঘটার দু বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে নতুবা আবেদন গ্রাহ্য হবে না। ফৌজদারি অভিযোগ থাকলে ঈশ্বর না ট্রাইবুনাল কার শরণাপন্ন হতে হবে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয নি। ... ...

আবার পরিবেশ আন্দোলনের অংশ হিসেবে পরিবেশবাদ স্বদেশী/সংরক্ষণবাদের সাথে ধারণাগতভাবে জীববৈচিত্র রক্ষার কর্মকাণ্ডে মিশে যায়। এই ধারণাতেও এক অপরিবর্তনশীল প্রকৃতির কল্পনা করা হয় যেখানে বহুবিচিত্র জীবজগতের অস্তিত্ত্ব যেন শুধুমাত্র মানুষের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমিত। এই ধারণায় স্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়ে যায় ইকলজির বিবর্তনের সম্ভাব্যতার কথা, ইকলজির চলমান গতিশীলতার কথা। বাদ পড়ে যায় সেই সব জীবাশ্মের কথা যারা আমাদের অন্তত কিছুটা দুর্বলভাবে হলেও জানিয়েছে যে বিবর্তনের ইতিহাসে পৃথিবীতে মানুষ আসার আগেই ৯৯.৯ শতাংশের বেশী জীবকূল লুপ্ত হয়ে গেছে। ... ...

সমস্যা হ'ল, "ভাল' কী, অথবা "ভাল'-র সংজ্ঞা কী ক'রে নির্ণয় করতে হবে, কোন বিষয়েই যদি দুজনের মত না মেলে, তাহলে তর্ক একটুও এগোতে পারবে না, বরং পেছোতে থাকবে। কাজেই তর্ক শুরুর আগে দেখে নিতে হবে, কোথাও যেন একটু জমি থাকে, যেখান দুজনে একসাথে দাঁড়াতে পারেন, সেখান থেকেই তর্কটা শুরু হতে পারে। একবার সেই জমিটুকু থেকে কথা শুরু হ'লে শচীন-সৌরভের তুলনামূলক বিচার না হোক, ভাল খেলোয়াড় বা খেলার সংজ্ঞা, কিংবা দল বড় না ব্যক্তি, এই নিয়ে কিছু সার্থক আলোচনা হতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ সেই জায়গাটুকু না খুঁজে পাওয়া যায়, ততক্ষণ একজন তামিলে আর অন্যজন ভোজপুরীতে কথা বলছেন - আলোচনা অসম্ভব। ... ...

উন্নয়নের নামে উড়িষ্যার আদিবাসীদের এর আগেও নিজেদের বাস্তু, গ্রাম, জীবন জীবিকা থেকে উচ্ছেদ হতে চেয়েছে, যদিও তখন এই উচ্ছেদ হয়েছে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের নামে। হিরাকুঁদ বাঁধ বা রাউরকেলা ইস্পাত কারখানা স্থাপনের জন্য যে কয়েক লক্ষ আদিবাসী মানুষ তাঁদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলেন, তারা কিন্তু সেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উদ্ভুত বিদ্যুৎ বা সেই শিল্পায়নের কোন সুফল লাভ করতে পারেননি। বরঞ্চ, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাঁরা আজ নি:স্ব। ... ...

নাইন লাইভস এ সাধারণ মানুষের এই ধুলোকাদা মাখা গল্পগুলোর মধ্যেই ফুটে ওঠে লেখকের এক প্রচ্ছন্ন হতাশা। সেই কিশোরী বারাঙ্গনার দুই মেয়েই আজ এইডস রোগে আক্রান্ত। আজকের এই শহুরে বাজার-সর্বস্ব জমানায় যে হাজার হাজার গ্রামের মানুষ এসে ভিড় করছেন শহরে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানির ব্যবসার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বহু মানুষ, যা একদিকে করুণ আবার হয়ত অন্যদিকে অবশ্যম্ভাবী, তাতে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে এই সনাতন, প্রাচীন, উপমহাদেশ। ... ...

যুদ্ধ থামানোর গানের কথা মনে পড়ে। কি অদ্ভুৎ কাকতালীয় এই প্রস্থান। নাকি ইঙ্গিতবাহী বলবো? সরকারী প্রযোজনায় যাঁরা আগে যুদ্ধ থামাতে গান গেয়ে ফিরতো, আজ সরকারী যুদ্ধের দামামার মধ্যেই তাদের একজনের প্রস্থান। হীরক রাজ্যে বড়ো সুখের সময় ছিলো সেটা। আমলা আর মন্ত্রীদের বাড়বাড়ন্ত, বাকিদের নিত্য অনশন। রাজ্য জুড়ে অবিশ্বাসের বিষবাষ্প, স্বয়ং রাজারও নিস্তার নেই। নিজেদের চারপাশে তাকালেই এই অবিশ্বাসের হাওয়া টের পাই। খুব দ্রুত একটা আশচর্য্য প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থায় আমরা এসে পড়েছি, এখানে শুধু কাজ আর টাকা, লালচোখ আর চাবুক। এখন কেউ কেউ যুদ্ধ করেই চলবে। এই যুদ্ধ ও আগামী অনেক যুদ্ধই চলবে বহুদিন ধরে। যতক্ষণ না শেষ মানুষটা মারা যাচ্ছে ততদিন। এখন যন্ত্রের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়ে কথা বলারও নেই কেউ। আমাদের চারপাশে অযুত যন্ত্রমানবেরা ঘুরে ফিরবে। তাদের অর্থলিপ্সা, সাফল্য আর বিকৃতকাম পর্বতপ্রমাণ হয়ে উঠলেও গদি টলাতে কেউ এগিয়ে আসার নেই। ... ...

এটাই শম্ভু মিত্রর আর্টের মূল কথা। চর্বিতচর্বন নয়। নতুন করে ভেবে কিছু করা। নতুন হতে হবে, ভাবনাও থাকতে হবে। বিভিন্ন প্রসঙ্গে, নানা ফর্মে এই কথা বারবার উঠে এসেছে - "(যেমন ফিল্মে করা হয়।) আমি জানি যে দেখলে পরে একটা ইমোশন জাগাতে হবে। যেগুলো স্বীকৃত। একটা মেয়ে একদম শাদা শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে, হাওয়ায় চুলগুলো উড়ছে, মুখটা শুকনো। দেখালে, বেশ তাকে কেমন দু:খের প্রতীক বলে মনে হবে। এই-যে জানা ছবি, এইটেকে দেখালে আমি ভালো ছবিকার হব। এই তো? কিন্তু এতে ভাঙাটা কোথায়? ছাঁচ ভেঙে ফেলাটা কী করে আসবে? ছাঁচ ভেঙে ফেলতে গেলে পরে আমার চিন্তাটা না প্রকাশ করলে তো হবে না?' ... ...