
আমি প্রতিমা দত্ত, স্বর্গীয় তপন দত্তর ওয়াইফ। গত ৬ মে আমার স্বামীকে নৃশংস ভাবে গুলি করে মারা হয়েছে। বালি লেবেল ক্রসিং-এর ধারে। গত সাড়ে তিন বছর যাবৎ তিনি একটি জলাভূমি নিয়ে লড়াই করছিলেন। যদিও তার সঙ্গে আরও অনেক কিছু নিয়েই লড়াই করছিলেন। বালি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক --- তার গ্রাহক সমিতি বানিয়ে উনি লড়াই করছিলেন। যাতে, গ্রাহকরা যে টাকা জমা রাখছে, সে টাকা ফেরত পায়। ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই-এর জন্য গ্রাহক সমিতি বানিয়ে সেখানে উনি লড়াই করছিলেন। জলাভূমি বাঁচাও কমিটি বানিয়ে সেখানে লড়াই করছিলেন। উনি একটা কথা বলতেন, আমি একটা রাজনৈতিক দলের কর্মী, কিন্তু সেখানে থেকে আমি উপলদ্ধি করছি, রাজনৈতিক দলে থেকে, একটা ব্যানারের তলায় থেকে সব মানুষের জন্য সব কাজ করা যায় না। তাই জন্য নাগরিক মঞ্চ দরকার হয়। আর তাই জন্যই তিনি সিটিজেনস সায়েন্স ফোরাম বানিয়েছিলেন। জলাভূমি রক্ষা কমিটি বানিয়েছিলেন। যাতে বেশি সংখ্যক মানুষকে সাথে নিয়ে এই আন্দোলনগুলো করা যায়। ... ...

ফ্রাস্টু মানে নিমে দত্ত ওরফে নিমচাঁদ দত্ত সময়ে অসময়ে কোটেশন ঝাড়ে জানি,কিন্তু আপিস টাইমে মাল খেয়ে এসে আমারই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে এমন সংস্কৃত শ্লোক ঝেড়ে আমাকেই ঘায়েল করবে ভাবিনি।অতএব জিজ্ঞেস করে যেটুকু বুঝলুম তা আমার পক্ষে নিতান্তই বিড়ম্বনার।আমাদের এই আন্তর্জাতিক আকাদেমিক প্রতিষ্ঠানে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে এসে তার নাকি রীতিমতন গরম লাগছে।তাই সে কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম থেকে এই উদ্ধৃতিটা ঝেড়ে দিয়েছে।দুষ্যন্তের রাজসভায় ঢুকে এমনটাই নাকি মনে হয়েছিল আশ্রমিক শার্ঙ্গরবের।তাঁর মতো নির্জন একাকী তপোবনবাসীর কাছে দুষ্যন্তের ঘ্যাম সভাগৃহ যেন দাবগৃহ,আগুনে গা জ্বলে পুড়ে যায়-। ... ...

আজ, ২০১১ সালে এই ব্যাপারগুলো অনেক বেশিমাত্রায় অ্যাডপ্ট করে নিয়েছে মিনিস্ট্রির এমপ্লয়ীরা। অন্য সব মিনিস্ট্রির কথা জানে না গ্যঁ¡ড়া, তবে পাওয়ার মিনিস্ট্রির নিজস্ব ইনট্রানেট আছে, নিজস্ব ইমেল সিস্টেম আছে, এমনকি আর ক্যাশ সেকশন থেকে আগেকার মত স্যালারি স্লিপও নিতে হয় না, ইন?ট্রানেটে লগিন করলে সেখানেই ই-পেস্লিপ দেখতে পাওয়া যায়, দরকারমতো ডাউনলোডিয়ে নিলেই হল। ইন?ট্রানেটে সরাসরি চলে আসে এনআইসি-র ডেটা, নর্দার্ন গ্রিড ইস্টার্ন গ্রিড সাদার্ন গ্রিড ইত্যাদির ডেটা, সরাসরি সেখান থেকে কপি করে তুলে নেওয়া যায় প্রয়োজনীয় তথ্য। ... ...

কারণ, এটা তো মানতে হবে: হে নিশান, যতোই জীর্ণ হও, হে লাল নিশান, তুমিই তো আমাকে লালন-পালন করেছিলে! তুমি তো আমাকে একের পর এক প্রেম-প্রস্তাব শিরা ছিঁড়ে যাওয়া যন্ত্রণায় প্রত্যাখ্যান করতে শিখিয়েছিলে, শুধুমাত্র রাজনীতির কারণে! তুমিই তো আমাকে যৌবন-দিনে দীর্ঘ-দীর্ঘ নিদাঘ শুধু মিছিলে হাঁটিয়েছো কলেজ-ÏØট্রট থেকে সিধো-কানহো-ডহর! যখন আমার আমার ক্লাসের বন্ধু-বান্ধবীরা সিনেমা দেখতে যেতো, তখন আমি হেঁটেছি গলা-অ্যাসফল্টের রাস্তায়, শুধু তোমার জন্য। ও আমার জীর্ণ লাল নিশান, তুমিই তো আমাকে মুঠো করে ধরতে শিখিয়েছো কবিতা! বলো, কেন আজও আমার উত্তর দিনাজপুরের ডি-সি-এম শুধু কবিতার কথা বলে? কেন আমার রাজ্য-কমিটির সদস্য কবিতার কথা বলে? ও আমার বিবর্ণ নিশান, আমার নিজের ছেলে বড়ো হয়ে কী করবে জানি না, কিন্তু অনেক বামপন্থী ছেলে-মেয়েরা কি একদিন তোমাকে রাঙিয়ে তুলবে না? ... ...

পরাধীন ভারতের অন্যতম সেরা নাট্যপ্রযোজক ভদ্রলোকের নাম রবীন্দ্রনাথ। ইউরোপিয়ানদের এদেশে মঞ্চসজ্জা দেখে যিনি অনুধাবন করতে পারেন বাস্তবতার নাম করে বোকামো করা হচ্ছে এবং যিনি জানেন আসলেই একটি স্টুলকে একই মঞ্চে রাজসিংহাসন থেকে দারোয়ানের বসার জায়গা সব বানানো যায় দর্শকের কল্পনাশক্তির উপরে ভর করে(বাঙ্গালীর কাছে যাত্রা,কথকতায় কল্পনা বিস্তারের পাখা ছিল),তিনিও কিছু কথা বুঝেছিলেন,বলেছিলেন। যেমন গানের ব্যবহারের শক্তি,যেমন মঞ্চসজ্জায় স্বাতন্ত্র্য তৈরী করা,যেমন একটিমাত্র জালের আড়াল দিয়ে রক্তকরবীর গোটা নাটকে যক্ষপুরীকে তুলে আনা ইত্যাদি। তা কল্পনা যদি এতটাই পারে,তাহলে সেই কল্পনা একটি মঞ্চেই আবদ্ধ থাকে কেন? নাটক যদি শিক্ষার মাধ্যম হয়,নাটক যদি সচেতনতার প্রচারক হয়,নাটক যদি সমস্যা আলোচনার একটি নিবিড় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ স্থান হয় তাহলে সেই নাটক শুধু মঞ্চেই আটকে থাকবে কেন? তাহলে তো মঞ্চ পাওয়া না পাওয়া,তার জন্য বিশেষ কর্তৃপক্ষকে খুশী করা ইত্যাদি হিসেবে, আর দর্শককূল হিসেবে শুধু পরিশীলিত মধ্যবিত্ততেই খেলা শেষ! সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন বাদল সরকার। কিন্তু মঞ্চ বিরোধিতা করেননি। সেটা নিতান্তই অপপ্রচার। আসলে নিজের কাজ নিয়ে শহর-গ্রাম তোলপাড় করে বেড়াচ্ছিলেন। আমাদের নাট্যকর্মীকূলের একটি বড় অংশ অফিস শেষ করে এসে থিয়েটারের মহড়ায় অভ্যস্ত। অভ্যস্ত হাফ বা ফুল ছুটি নিয়ে এসে মঞ্চে অভিনয় করায়। তাঁরা যেমন-তেমন ব্যবস্থায় অভিনয় বা প্রযোজনা করেন না। গোছানো সাজানো গ্রামীণ মঞ্চ নেই। আলো,শব্দের বিশেষ প্রক্ষেপণ নেই খোলা মঞ্চে। মানুষ এক জায়গায় বসে প্রবন্ধ পাঠের মুখ করে দেখছেন না নাটক। আসছেন-যাচ্ছেন,ধরে না রাখতে পারলে হেসে বিদ্রুপ করে চলে যাবেন,পাশেই বিক্রেতারা বিক্রি করে চলেছে,ক্রেতা কিনছে,সেই পরিবেশ তাঁদের সমস্যা করেছে। তাঁদের সমস্যা করেছে বাদল সরকারের শরীরি ভাষা। ... ...

অন্য কথায় চলে যাচ্ছি, "কবি'-তে ফেরা যাক। কুসংস্কারমুক্ত সীতা থেকে ন্যাশনাল সে?শালিস্ট মহান্ত - পিতৃতন্ত্র এভাবেই দিন কাটাচ্ছিল। এর মাঝখানে বাড়তে শুরু করল মুচি রাজন ডোম নিতাই আর ভোজপুরী মজুর বালিয়ার বাস্তবতা। "কবি' চলচ্চিত্রের জোরটা এইখানে যে সে এই অন্য বাস্তবতাটাকে নিয়ে এল সেই একই পিতৃতন্ত্রের কাছে। দর্শক তো সে-ই যে তারাশঙ্করের পাঠক ছিল, কিন্তু দর্শনীয় গেল নড়ে। যতটা নড়ার সম্ভাবনা ছিল উপন্যাস "কবি'-তে, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি করে। তারাশঙ্করের অন্তর্বিরোধ, তাঁর লেখাতেই মহান্তের যে নীল চশমার কথা পেলাম, সেই নীল চশমা দিয়ে তিনি যে নিজেই দেখছেন, তাঁর শিল্পীসত্তার সমস্ত পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কারের পরও, তার অবস্থানই তার চোখে ওই চশমাটা গুঁজে দেয়, এই জায়গাটাই আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে "কবি' চলচ্চিত্র দেখতে দেখতে। লেখাটা এবার ক্রমে গুটিয়ে আসছে। চলচ্চিত্রে আমরা পৌঁছেছি পঁয়ত্রিশ মিনিটের কিছু বেশি, তার মানে মোট দৈর্ঘের এক তৃতীয়াংশেরও কম। এখনও পরপর দৃশ্য ধরে, উপাদানগুলোকে পরপর স্পষ্টতায় নিয়ে আসাই যায়। কিন্তু কোনও নতুনতর দৃষ্টিকোণ নয়, তা হবে এতক্ষণ ধরে তুলে আনা দৃষ্টিকোণগুলো দিয়েই বারবার আলাদা আলাদা উপাদানকে দেখানো। এবং সেটা এখন আপনারা নিজেরাই করে চলতে পারবেন। আমি এই লেখাটা শুরু করেছিলাম, দেবাশিসের মত আমার ছাত্রস্থানীয় কারুর কারুর জন্যে, কেন "কবি' চলচ্চিত্রটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ সেটা বোঝাতে, ওই নানা সম্ভাব্য দৃষ্টিকোণগুলো সামনে ধরে দিতে। সেগুলো এতক্ষণে মাথায় বসেই গেছে। এর পরেই আসছে নিতাইয়ের নিমন্ত্রণ, মহাদেব কবিয়ালের কাছ থেকে, দিন প্রতি ছয় টাকা বায়নায়। টাকাটাকে বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করতে পারবেন, মনে করুন, মেলায় এসে যে মালাটা দর করেছিল ঠাকুরঝি, তার খুব বেশি দাম মনে হয়েছিল, সেটার দাম ছিল ছয় পয়সা। এই প্রথম অর্থনৈতিক রকমে সেই স্বীকারটা এসে পৌঁছতে শুরু করল, যেটা এতক্ষণ আমরা সাংস্কৃতিক রকমে দেখছিলাম। ... ...

এই বাংলায় নতুন সরকার এসেছে। গুরুচন্ডালিতে লেখেন বা গুরু পড়েন এরকম কিছু মানুষ,অত্যন্ত ঘরোয়া ভাবে কিছু আলোচনার পর নতুন সরকারের কাছে দাবি বা প্রত্যাশার একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেন। খসড়াটি পাঠানো হয় শ্রী দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। খসড়াটি শুধু প্রাথমিকই নয়,অসম্পূর্ণও। শিক্ষা স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এখানে আসেনি। একে পূর্ণতা দেবার জন্য এবং আলোচনার জন্য বুলবুলভাজায় খসড়াটি প্রকাশ করা হল। ঠিক এই ফর্মেই খসড়াটি সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। আলোচনা করুন, মতামত দিন। টইয়ে দিন, বা মেল করুন গুরুর ঠিকানায়। আপনার মতামতে পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত হয়ে খসড়াটি পুনরায় পাঠানো হবে সরকারের কাছে। ... ...

গুরু ব্যাপারটা নিতান্তই হিন্দু। অন্য কোনো ধর্মে বা সমাজে এর ঠিকঠাক প্যারালাল কিছু পাওয়া যায় না। শুধু শ্রদ্ধেয় শিক্ষক বা আচার্য্যই নন, গুরু সবেতেই একস্ট্রা অনেক কিছু, অনেক বেশী। অনেকাংশে বাবা-মায়ের মতনই গুরুত্বপুর্ণ। ফ্রেন্ড, গাইড অ্যান্ড ফিলোজফার। ক্রমশই এই শ্রদ্ধার সম্পর্কের সাথে আরো একটা সম্পর্ক, আরো জোরদার হয়ে উঠতে লাগল, সেটা আনুগত্যের। প্রশ্নাতীত আনুগত্য। গুরুর আদেশ অলঙ্ঘনীয়, সেটি পালনের সাথে নিজের বিচারবুদ্ধির বা বিবেকের কোনো অজুহাত থাকতে পারবেনা। এই আনুগত্য আরো বেশী করে দেখা যায় যখন গুরু হন ধর্মগুরু। উদ্দালক আরুণীর বহু প্রচলিত গল্পটি তো সবার জানা। আলের গর্ত দিয়ে যাতে জল না ঢোকে ক্ষেতে, গুরুর সেই আদেশ পালন করতে গিয়ে অনন্যোপায় হয়ে আরুণী সারারাত আলের ধারে নিজের দেহ দিয়ে ঢেকে রাখলেন আলের গর্ত্ত। পরের ভোরবেলা গুরু ধৌম তাকে খুঁজে পেয়ে উদ্ধার করলেন, খুব খুশি হলেন ও নামকরণ করলেন উদ্দালক। বা শিষ্য বিন্ধ্যপর্বত ঘাড় গুঁজে রইলো চিরকালের জন্য গুরু অগস্ত্যের ফিরে আসার জন্য। শুধু গুরু নয়, গুরুপুত্রের জন্যেও একটা ধারাবাহিক দুর্বলতা। সরাসরি রণাঙ্গনে .. ... ...

যাই হোক, সাঁইবাবার প্রয়াণের পর ক্ষমতাতে উচ্চপ্রতিষ্ঠিত শিম্পাঞ্জীরা মধু খাওয়ার জন্য মৌমাছির মত তাঁর মরদেহের চারপাশে ভিড় জমিয়েছিলেন। কেউ জানেন না, এই রাজ্য বা কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা যে ভীড় জমিয়েছেন - সেটা ব্যক্তি না সরকারী পর্যায়ে! কেউ জানেন না, এই ধরণের সম্মান দেখানো সংবিধান সম্মত কিনা! আমরা সবাই জানি - এ ধরণের বিশ্বাস বা শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ব্যক্তিগত স্তরে সংবিধান সম্মত, কিন্তু রাজনৈতিক এবং সরকারী স্তরে নৈব নৈব চ! আমাদের সংবিধান বার বার যুক্তিপূর্ণ চিন্তাকে প্রচার করতে বলে। আব্রাহাম কুভুর এবং প্রেমানন্দের মতো যুক্তিবাদীদের প্রতিবাদ; ক্ষমতার কেন্দ্র, অগ্রাহ্য করেছেন। তাঁদের তোলা প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়া বা কর্ণপাত করার কোনো প্রয়োজন, ওই ক্ষমতাসীনরা, বোধ করেন নি। কোনো একজন, বেশ মনোজ্ঞ মন্তব্য করেছেন এই ব্যাপারে! দুই ধরণের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই ভগবানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রথম জনেরা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং তাদের পাপ লুকোবার চেষ্টা করে আর দ্বিতীয় জনেরা অকপট কিন্তু প্রথম দলের সঙ্গে কাজ করেন। ... ...

রাম পুনিয়ানি তাঁর প্রবন্ধটিতে সাঁইবাবা ও অন্যান্য godman- দের প্রবল সমালোচনা করেছেন। অবশ্য সমালোচনার কাঠামোটি ন্যায়শাস্ত্রমতে "বিতণ্ডা'র কাছাকাছি, যেখানে কোনো একটি পক্ষ অপরকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই তর্কে নামেন। আমি আমার পাঠ প্রতিক্রিয়ায় পুনিয়ানির সাথে অনেক বেশি করে "বাদ' করতে চাইব। এই তর্কে পুনিয়ানি হবেন আমার পূর্বপক্ষ। প্রথমেই আমি পুনিয়ানির পাণ্ডিত্য এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে তাঁর বহুদিনের সংগ্রামকে নমস্কার জানাই। তাঁর সাথে এই একমুখী তর্কে প্রথমে তাঁর যুক্তির মধ্যে ফাঁক ফোকর দেখাতে চাইব আর তারপর একটি বিকল্প সমালোচনা রাখব। ... ...

- তবে ভেবে দ্যাখ দিনি, এই জগত সংসারের হাজার হাজার কোটি কোটি মানুষদের মধ্যে তুই লাখে এক। - তা বটে। - কেমন গর্ব হয় বল? - তা হয়। - হয়ে গ্যালো। তোরে অহম ধরলো। তোর দ্বারা আর কিছু হবে না। - সে তো তুমিও। - অ্যায়, ধরেছিস এক্কেরে ঠিক। - তবে? - তাই তো মাধুকরী। - সে আবার কী? - সে ভিক্ষেই তো। ভিক্ষে করলে সবার কাছে মাথা নীচু করতে হয়। মাথা নীচু করতে শেখ, তবে পার পাবি। রোজ তিন জনের কাছে ভিক্ষে করবি। পয়সা চাইবি না। এই যেমন চা খাওয়াতে বলবি, একটা বিড়ি চাইবি, তাতেই হবে। সক্কলের কাছে মাথা নীচু করতে শিখবি। সেই যে মাথাটা নামিয়ে দিয়েছিলেন। অমাবস্যায় চাঁদের উদয়। সে তো গুরুই পারেন। যিনি অ¡ন্ধার (গু) দূর করেন (রু)। আমার সনাতন গুরু। ... ...

আসুন, আজ সেই ঘটনার ৫০-তম বর্ষপূর্তিতে সশ্রদ্ধ ও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি সেই অমর শহীদদের, যাঁরা জীবনের বিনিময়ে বাংলাভাষা ও বাঙালীর অধিকার রক্ষা করেছেন। দেশভাগের পর ব্রিটিশ আসামের কাছাড় জেলা এবং সিলেটের হিন্দুপ্রধান কিছু অংশ (বরাক উপত্যকা) ভারতবর্ষের আসাম রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৬১ সালে আসাম রাজ্য সরকার অহমিয়া-কে একমাত্র সরকারী ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিলে বরাক উপত্যকার বাঙালীরা আন্দোলনে নামেন। ক্রমশ তীব্রতর হতে থাকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার লড়াই। ১৯৬১ সালের ১৯শে মে, ভাষা-আন্দোলনকারীরা শিলচরে রেলপথ অবরোধ করার সময়ে তাঁদের ওপর গুলি চালায় আসাম রাইফেলস-এর একটি ব্যাটেলিয়ন। শহীদ হন ভাষা-আন্দোলনের প্রথম নারী শহীদ কমলা ভট্টাচার্য্য সহ মোট ১১ জন। আহত হন অর্ধশতাধিক। তাঁদের আত্মবলিদান আসাম সরকার-কে বাধ্য করে বাংলা-কে দ্বিতীয় সরকারী ভাষার মর্যাদা দিতে। ... ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনকালে সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম একটি অসমর্থিত খবর ছেপে চলেছে যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মতো শ্রীলংকার জাতীয় সংগীতটির রচয়িতা ও সুরকারও রবীন্দ্রনাথ। এ খবর সত্য হলে সেটা আমাদের জন্য নিরানন্দের ব্যাপার নয় নিশ্চয়ই। বরং আমরা এ অর্থে গর্বিত বোধ করতে পারি যে, পৃথিবীতে বাংলাভাষার লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই একমাত্র ব্যক্তি যিনি তিন-তিনটি স্বাধীন দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে যে, এ সংবাদটি যারা প্রকাশ করছেন, তারা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র ব্যবহার করছেন না কেন? আর এরকম একটা খবর দেশের বড়ো বড়ো সংবাদ মাধ্যমগুলো চেপে যাচ্ছে কেন? তা ছাড়া আমার জানা নেই, আজ পর্যন্ত কোনো রবীন্দ্র জীবনীকার বা গবেষক এরকম দাবি করেছেন কি না ... ...

বেশ কয়েকদিন পূর্বে অপ্রত্যাশিতভাবে একটি রবীন্দ্র সংগীতের সিডি পেলাম, সিডিটি আমার মান্যবর ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত আমাকে দিলেন। বাংলা ও সাঁওতালী ভাষায় ভারতীয় সংগীত শিল্পী সারদা প্রসাদ সরেন রবীন্দ্র সংগীত গেয়েছেন। সম্ভবত তিনিই বাংলা ভাষা রবীন্দ্র সংগীতকে চমৎকারভা?ব সাঁওতালী ভাষায় অনুবাদ করেছেন এবং তাল-লয়, সুর সমস্ত কিছু ঠিক রেখে সঠিক শব্দ চয়ন করেছেন, যা আমাকে এবং আমার সাঁওতাল ভাইবোনদেরকে মোহিত করেছে। যারাই ক্যাসেটটি শ্রবণ করেছেন, প্রত্যেকেই শিল্পীর কণ্ঠে সাঁওতালী রবীন্দ্র সংগীতের অমৃত স্বাদ পেয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলা ও সাঁওতালী ভাষাতে যদি ওই নির্দিষ্ট গানটি করা যায়, তাহলেও অপূর্ব মিল, অপূর্ব সুরের মুর্চ্ছনা ফুটে উঠবে। একই অভিব্যক্তি, একই কথা এবং একই উপলব্ধি ফুটে ওঠে। সাঁওতালী শিল্পী সারদা প্রসাদ সরেনকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি চমৎকার সুরের মোহনায় আদিবাসী সাঁওতালকে উপস্থিত করার জন্যে। বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসীদের সাঁওতালদের গানের নিজস্ব যে অর্ধ শতাধিক স্বতন্ত্র সুর, তাল ও লয় রয়েছে, সেগুলোর মতোই আগামীতে রবীন্দ্রসংগীত জায়গা করে নিতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। দেশের মাটির কথা, মানুষের কথা, প্রকৃতির কথা, সৌন্দর্যের কথাগুলোই তো আদিবাসী সাঁওতালদের গানের কথায় পাওয়া যায়। ... ...

হঠাৎ কোনো এক খোলা গলায় "বৃষ্টি নেশা ভরা সন্ধ্যাবেলায়,কোন বলরামের আমি চেলা!' সুর আছে,কথা আছে,তাল আছে,লয় আছে। আর ভাব আছে নির্ভুল। আমরা কি প্রবলভাবে বিস্মিত!!!একী শুনছি ??? কার মুখে!!! কোন শাপভ্রষ্ট "অরুণেশ্বর' অখ্যাত অন্ধকারে জন্মগ্রহণ করলেন! তারপর একের পর এক গান। রবি-আরাধন অবিরত। আলাপ হলো। ওনারা পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ান। চলতি বাংলায় অতি অবজ্ঞার "মিস্ত্রি'। বাঁশি কি এদের হাতেই দিয়ে যাবার কথা ভেবেছিলেন ক্রান্তদর্শী কবি? বেশ ভালো তো এই উল্টো-পুরাণ!!! "মাল্টিপ্লেক্স'-এ "পরান যায় জ্বলিয়া রে'র জয়ধ্বনি তুলে যাচ্ছি আমরা। আর এদিকে সুপথের কোনো শ্রেণীবিভেদ রইল না! ... ...

এটা একটা গোদা হিসেব- সংখ্যালঘুর ডলার বিতরণী জয়ের হিসেব। তাই, কেউ কেউ মনে করছেন, দরকার নেই বাপু- এমন তিলকে তাল করে পয়হা নষ্ট করার!! আর সংখ্যালঘু অতিধনী যখন আগেই ঠিক করে রেখেছেন, ডলার দিয়ে কোনো পার্টিকে জেতাবেন, তা হলে আর ইয়ের এপিঠ ওপিঠ এর বনাম বাইনারি (দুইয়ের লড়াই, এখানে দুইয়ের মধ্যে আবার কোনো গুণগত অমিল নেই) নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন কি? ইভিএমে একটা "ক্যানসেলড' বোতাম দিয়ে দিয়ে দাও না বাবা! পার্টির লোকেরা বড্ডো জ্বালাতন-পোড়াতন করে ভোটের দিন: "ভোট দিতে চলুন- এটা আপনার অধিকার!' আরে নিকুচি করেছি অধিকারের!!! সরকার বাহাদুর আমার অন্য অনেক অধিকার দেন না, তা পেতে গেলে দীর্ঘমেয়াদী মামলা মোকোদ্দমা করতে হয়, আর এই তো ভোটের অবস্থা!!! তার থেকে "বাতিল' বোতাম টিপে আসি চুপচাপ। পার্টি করা ছেলেপিলে বা মেয়েরা বিপদের দিনে পাশে এসে দাঁড়াবে। ... ...

ঠাকুরঝির উপর ওঝার অত্যাচারের তীব্র সঙ্কটের মুহূর্তে, রাজনের প্রশ্নে, সে উত্তর দেবে, হ্যঁ¡, সে ঠাকুরঝিকে ভালবাসে, কিন্তু সেই বাক্যেও থাকবে একটা "কিন্তু'। এই "কিন্তু' বেয়ে সে চলে যাবে, "জাত', "ঘর' ইত্যাদি প্রশ্নে। তার নিজের বাসনার একটা পরোক্ষ উল্লেখ থাকবে, যখন নিতাই রাজনের কাছে বলবে, বৃন্দাবনের ঘর সে ভেঙে দিতে চায় না, তাহলে বৃন্দাবনের বুকে সেই একই ব্যথা বাজবে, যা তার নিজের হচ্ছে। এই বেদনা হচ্ছে কেন? বাসনা অপরিপূরণে। তাই এই ভাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে নিতাইয়ের বাসনা। কিন্তু তাও দেখুন, "জাত', "বিয়ে' বা "ঘর' ইত্যাদি সামাজিক ভাবে প্রদত্ত ধারণার নিরিখে। মুক্ত স্বতন্ত্র একটি ব্যক্তির নির্জলা বাসনার আকারে, যে ভাবে এসেছিল ঠাকুরঝির উচ্চারণ, আদৌ সেটা আসে না পুরুষ-অবস্থান থেকে। এই জায়গাটা বারবার ভাবায় আমায়, সামাজিক অভিজ্ঞতার নিরিখেও। আমার মনে হয়, সিমোঁ দ বোভোয়ার নিতান্ত ভুল দিয়েছিলেন বইয়ের নামটা। নারী সেকেন্ড সেক্স নয়, ফার্স্ট সেক্স। প্রথম লিঙ্গ নারী। যেখান থেকে নারী বা পুরুষ দুই লিঙ্গই জন্মায়। আমার ভীষণ ঈর্ষা হয় নারী অবস্থানকে, যে জন্ম দেওয়ার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। একটিও মৌলিক পুরুষ অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা নেই যা নারীর হতে পারে না কিছুতেই। কিন্তু দুটি মৌলিকতম অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি নারীর আছে যা কিছুতেই পুরুষের হতে পারে না। এক, গর্ভধারণ ও জন্ম দেওয়া। আর দুই, স্তন্যপান করানো। ... ...

এই যে "নামরে জাত' - জাত কিন্তু বিহু গানের এক রকমফেরের নাম। তেমন কোনো শাস্ত্রীয় বিধিবিধান না থাকলেও স্থানে কালে বিহু নাচের যেমন তেমনি গানেরও বেশ রকমফের প্রচলিত রয়েছে। বিহু গানের ঘোষা, পদ, যোজনা, চুটি, বা খন্ড ছিগা নাম, যোরা নাম, জাত (জাত নাম), বহুয়া নাম ইত্যাদি বেশ ভাগ রয়েছে। চুটি মানে ছোট, ছিগা মানে ছেঁড়া, নাম কথাটার অসমিয়া অর্থ গীত, এসছে বৈষ্ণব পরম্পরার থেকে। এই চুটি নামই মূল বিহু। শুরুতে শুধু এগুলোই ছিল। সাধারণত এগুলো চার পংক্তির স্তবক হয়। চুটি নাম দিয়ে বিহুনাম "পকি উঠে' মানে জমে উঠে। বাংলা কবির লড়াইর মতো বিহুতে জোরানামের প্রচলন পরবর্তী ঘটনা। লোকসংস্কৃতির গবেষকেরা একে কী বলবেন জানিনা। এ হলো বিহুর মূল কারক থেকে অপসারণ বা বিস্তার। জোরানামের সময় অব্দি এসে তরুণ জিজ্ঞেস করছে, বাঁহরে আগলৈ চাই পঠিয়ালো/ বাঁহর কোনডাল পোন ( সোজা-লেখক)/ সঁচাকৈ সুধিছো মিছাকৈ নক'বা / তোমার মরমিয়াল কোন?। তরুণী যেন জলের ঘাটে দাঁড়িয়ে জলাজমিতে মহিষ চরাতে ব্যস্ত তরুণকে শুনিয়ে জবাব দিচ্ছে: তিরোতার জনম দি বিধাতাই স্রজিলে/ পুরুষর লগতে যোর/ আয়ো লোকর বোপায়ো লোকর/ তোমাকে বুলি যাওঁ মোর। ... ...

অন্যভাবে বলা চলে ২০০৩-এর বিশ্বকাপ খেলা হিসেবে ক্রিকেটের শেষ হয়ে যাওয়ার শুরু। তবে তার চেয়ে জরুরী ঘটনা হল একুশ শতকে ক্রিকেটে ভারতের একটা জয় এমন একটা জাতীয় উন্মাদনা তৈরী করে যার সামনে দেশের অন্য সমস্ত সমস্যা, লোকের সমস্ত ক্ষোভ এক ধাক্কায় দূর হয়ে যায়। বদলে যাওয়া এক অচেনা দৈনন্দিন সংস্কৃতির প্রতীক এখনকার ভারতীয় ক্রিকেটারদের মাঠের মধ্যের আচরণ। খেলা হিসেবে ক্রিকেটে অনুৎসাহী যারা তৃতীয় বিশ্বে ক্রিকেটের বাণিজ্যিকরণের মূলে, তারাই ভারতে এই নয়া ক্রিকেট সংস্কৃতির প্রবর্তক - দুর্ভাগ্যক্রমে, যার ফলে ক্রিকেট "ভদ্রলোকের খেলা' থেকে ক্রমশ: দূরে সরছে। ... ...

রং এর কুচি ! ... ...