
এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় আত্মধ্বংসের গল্প এটি, আমাদের কাছে যাঁদের একটু সহমর্মিতা প্রাপ্য ছিল। পরিপার্শ্বের বিড়ম্বনায় ক্লিষ্ট মানুষ একটু সম্মান আশা করতে পারতো। মানুষ না মানুষী নিছক প্রকৃতিনির্দিষ্ট এই চিহ্নের বাইরে উড়তে চাওয়া এমনই মানুষের, প্রতিভার অকাল সমাপ্তির এই আখ্য ... ...

এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না, পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ, পুজোর মত রিগ্রেসিভ ব্যাপারের সাথে কোনভাবে জুড়ে যাওয়া উচিত কি অনুচিত, উমার শ্বশুরবাড়ি থেকে আসার মত পিতৃতান্ত্রিক ব্যাপার নিয়ে আহ্লাদ আমোদ করা ঠিক না ভুল, পুজো নিয়ে, ঠাকুরদেবতা নিয়ে ইয়ার্কি মারা অনুভুতিতে আঘাত নাকি নয়, আঘাত হলেও কিছু আসে যায় নাকি যায়না, পুজো ... ...

পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা হবে চরমতম বোকামি', ঘোষকের চোখ মুখ দেখা না গেলেও ঠিক আন্দাজ করছি এবার ওর চোখ মুখ বেরিয়ে আসবে প্রায় উত্তেজনায়, লোকের বোকামিতে ও বুঝি মরেই যাবে! জামা প্যান্ট ট্রায়াল দেবার আধমাইল লম্বা লাইন, একজন ওখানেই জামা খুলে বিশালাকার ভুঁড়ি নাচিয়ে নাচিয়ে জামা ... ...

আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না কেউ দুগ্ধপোষ্য এবং কাঁদুনে। বড় বোনেরা ছোটদের দায়িত্ব নিতে বাধ্য। সুতরাং খাটে পা মেলে বসে, পায়ের ওপর কোনো ভাই বা বোনকে দোলাতে দোলাতে হোমওয়ার্ক-এর জিওমেট্রি আঁকতে হতো। আমার কিছুই করতে হয় না তবু আমি পড়ি না, কেবল ঘুমাই এইসব আক্ষেপ ব্যক্ত করতে করতে মা ... ...

এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে নানান কিসিমে। স্টিফান রাহমস্টর্ফ বলে একজন বিজ্ঞানী সম্প্রতি জানিয়েছেন, আমরা এখন বাস করছি ক্লাইমেট এমারজেন্সির মধ্যে। আবহাওয়ার এই জরুরি অবস্থা জারি হল কীভাবে? আদতে আধুনিক যুগে সভ্যতার অগ্রগতির প্রাথমিক শর্ ... ...

অনেকদিন আগে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ, তখন তিনি আরোই ক্যাবলা, আনস্মার্ট, ছড়ু ছিলেন, মানে এখনও কম না, যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই। না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ তো আপনারা জানেনই। তুতলে তুতলে ইংরিজি বলি, কুতরে কুতরে কোড করি, সে হেন আমার বিদেশ যাত্রায় কলেজের সহপাঠী/পাঠিনী, দূর সম্পর্কের আত্মীয় প্রায় সামনা সামনি বলেই দিয়েছিলো, ওও বিদেশ যাচ্ছে ! সত্যি বিদেশ গুলোর আর জাত রইলো না। তা সত্যি বলতে সে কথা আম ... ...

সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন। মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'র গন্ধ। কাজল পরাতে গেলে 'উঁ' ‘উঁ' শব্দে তীব্র প্রতিবাদ। "একদম চুপ করে বোসো। চোখ ডলে ডলে, দেখো, সমস্ত গালময় কালি করে ফেললে।" খেলতে পাঠিয়ে দিয়ে মা 'গা-ধুতে' যাবেন। বড়দিদিদের সঙ্গে খেলতে গেলে তারা চোখ মটকে ঈশারা করে, বলে ‘দুধ-ভাত'। কক্ষনো সে ... ...

আউটলুকের প্রাক্তন এডিটর, কৃষ্ণ প্রসাদ গতকাল (সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭) একটি লেখা শেয়ার করেছেন ফেসবুকে। তাঁর অনুমতি নিয়ে আমি লেখাটার বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করলাম। বন্ধু বোধিসত্ত্ব মাইতিকে বিশেষ ধন্যবাদ, অনুমতি জোগাড় করে দেবার জন্য। গৌরী লঙ্কেশ খুব নিয়মিত ফোন করতেন না। কিন্তু যেদিন করতেন, বেশ রাতের দিকে করতেন আর সহজে ছাড়তেন না ... ...

আয়োজন বড় জরুরী। এই যে পুজোর আগের আয়োজন, মাঠে প্যান্ডেলের বাঁশ, রেডিওতে পুজোর অ্যাড, গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, নিউমার্কেট হয়ে পাড়ার দোকানগুলোয় মানুষের গুঁতোগুঁতি, ফাঁকা জংলা মাঠে কাশ ফুল, এসব আয়োজন করে দিয়েছে পুজোর। এখন বৃষ্টি আসুক না আসুক কিচ্ছু আসে যায়না, আনন্দ হবেই। আনন্দের জন্য আয়োজন তাই বড় দরকার, সে আয়োজন বুঝিয়ে দেয় কেউ কোথাও অপেক্ষা করছে, অনেকটা যত্ন ভালোবাসা যেন ওই আয়োজনেই লুকিয়ে থাকে, মা খেতে দেয় যেমন আয়োজন করে, পরিপাটি ভাত তরকারি গুছিয়ে, লেবুর ফালি দিয়ে, সেই আয়োজনের প্রয়োজন।আজ যখন আসছি অ ... ...

ফুলশয্যার রাত অবধি অহনার ধারণা ছিল, সব বাড়িরই নিজস্ব কিছু পুরোনো গল্প আছে। প্রাচীন বালাপোষ আর জরিপাড় শাড়ির সঙ্গে সেইসব কাহিনী মথবল দিয়ে তুলে রাখা থাকে। তারপর যেদিন আত্মীয় বন্ধু বহু বৎসর পরে একত্রিত- হয়ত বিবাহ, কিম্বা অন্নপ্রাশন, অথবা শ্রাদ্ধবাসর- সেই সব গল্পকথা আলমারির অগম সব কোণ থেকে আলগোছে বের করে এনে রোদে দেওয়া হয়। এমনি করে, প্রপিতামহর খুল্লতাত অথবা অতিবৃদ্ধ মাতামহীর পিতৃশ্বসাপতির একটি দুটি আখ্যান, ব্রোকেন টেলিফোন খেলায় যেমন হয় আর কি- মুখে মুখে ফেরে আর একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে। আসলে, অহ ... ...

এই সপ্তাহ-শেষটা কি একটু কম ঘটমান ? উত্তেজনা-চিবুনিদের কাছে একটু ম্যাড়মেড়ে ? প্রাচীন উৎসবের আলোয় ঝলমলে ? ব্যস, ব্যস তাহলেই হবে। এইরকম একটা সপ্তাহশেষই আমার চাহিদা ছিল তুঙ্গভদ্রা তীরের গল্প শোনাবার জন্য।দক্ষিণ ভারতের মন্দিরগুলো এখনো আশ্চর্যজনক ভাবে, ঐ যাকে ইংরেজিতে বলে, কিকিং এন্ড এলাইভ। দলে দলে মানুষ বিঠঠলদেবার মন্দিরে বাঁদিকের দৈব রন্ধনশালাযুক্ত প্রকান্ড দরদালানে বসে রসম দিয়ে ভাত খান। খাওয়া হলে ফের কাজে চলে যান।দূরদেশী হলে পরের দিনের শ্রমদানের জন্য রাতটাও কাটিয়ে দেন ওই চত্বরে। নাওয়া খাও ... ...

আমার বড় ভাই মানব নকশাল আমলের বিপ্লবী ছিলেন। সদ্য প্রয়াত বাবা আজিজ মেহেরের (৮৬) সাবেক দল পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (মতিন-আলাউদ্দীন) সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন। হাইস্কুলে পড়ার সময় ভাষানীর সন্তোষের সম্মেলন করেছিলেন। এইসব করতে গিয়ে সে সময় শত্রু পক্ষের গুলি লেগেছিল তার পায়ে। এখনো তার পায়ে সেই চিহ্ন রয়েছে।সাতের দশকে আমার ভাই সব ছেড়ে দিয়ে পপ সম্রাট আজম খানের গানের দলে যোগ দেন। তিনি ছিলেন তার অন্যতম গিটারিস্ট। সে সময় গুলিস্তানে চো চিংচো চাইনিজ রেস্তোরাঁয় আজম খানের সংগে অনেক কনসার্ট করেছিলেন। ... ...

মৎস্য পুরান (১)----------------------সেদিন ভোররাতে একটা পুরোনো সপ্ন দেখলো মিতুল। স্বপ্ন না বলে বহুযুগ আগের স্মৃতি ভেসে ওঠার মতো ব্যাপার মনে হলো। একটা আড়েবহরে তিনফুট বাই চারফুটের একুরিয়ামের কাঁচের ওই পাশে একটা গোল্ডফিস। প্রায় স্থির চোখে তাকিয়ে আছে। সাইজে প্রায় মিতুলের মাথার সমান বড়ো।***একুরিয়ামটা যেরকম মিতুলদের পুরোনো বনেদি বাড়ির টানা বারান্দার পশ্চিম কোনে থাকতো। ইস্কুল থেকে বিকেল তিনটের দিকে ফিরে কাঁধের ব্যাগ (যার ওজন প্রায় মন খানেক মনে হতো তখন) হেঁইও বলে ঘরে ছুঁড়ে ফেলে, একু ... ...

আজ আমার বন্ধুর গার্ল ফ্রেন্ডের গায়ে হলুদ। আগামি কাল বিয়ে। যদি হিসেব নিকেশ ঠিক থাকত তাহলে এই বিয়ের মধ্যমণি থাকতাম আমরা। বিশেষ করে আমি। আমি তাদের সম্পর্কের মাঝে এত উতপ্রত ভাবে জরিয়ে ছিলাম যে এখন ভাবতে অবাক লাগে। প্রেমে ঝগড়া থাকবেই আর আমি এই জীবনে প্রেমের ফাঁদে না পরেও দারুন ভাবে জানতাম এই দুইজনের কল্যাণে। যে কোন এক তরফ থেকে নোটিস পেতাম অন্য জন কি কি জঘন্য কাজ তার সাথে করেছে, কত বড় অন্যায় তার সাথে হয়েছে। আমার দায়িত্ব ছিল অপর পক্ষ কে বুঝিয়ে নতি স্বীকার করানো যে সে আসলেই মারাত্মক অন্যায় করে ফেলেছে, এ ... ...

আমার একান্ত অনুরোধে কারা এই পোস্ট এড়িয়ে যাবেন ?যারা কমরেড কানহাইয়া কি বলেছেন সেটা নিয়ে কোন আলোচনা করেননি,অথচ যা বলেননি তা কেন বলেননি, তার উদ্দেশ্য কি, তা নিয়ে বেজায় ভাবিত, যারা বিশ্বাস করেন কর্তৃত্ববাদী বামপন্থা ভারী কাজের কথা। আর যারা জানেন না বা জেনেও মানেন না যে গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ রক্ষক হিসেবে একটা বামপন্থী সরকারের কাছে মানুষের সঙ্গত বা অসঙ্গত কি বিপুল প্রত্যাশা থাকে, আর কি গভীর সহনশীলতার সঙ্গে বামেরা সেইসব প্রত্যাশার যত্ন নেয় ! অনুগ্রহ করে তারা এই লেখা ইগ্নোর করুন। ... ...

সিলেবাসডোবায় বেশ একখানা কাঁটাসর্বস্ব পদ্ম ফুটত পরীক্ষার নামে, ফি বছর। সুখ অবশ্যি বেশি গিজগিজ করলে, গুপ্ত বিষফোঁড়ার মত 'মিনি'পরীক্ষা কখনো সখনো কপালে টোকা মেরে যেত, বছরের বাকি সময়েও। কোয়ার্টারলি, হাফ ইয়ার্লি। কখনো বা 'সারপ্রাইজ' অ্যাবস্ট্র্যাক্ট নাউন, পায়চারি-টাইমে চটি ছিঁড়ে সেফটিপিন খুঁজতে খুঁজতে টেস্ট এর ঘাড়ে লেজুড়। হাতে হ্যালোজেন, মনে অ্যাডজেক্টিভবোধের বান।স্রেফ আঁতলামি প্রয়াস। 'দেখ বাপু, তোর কত ভাল চাই' এর মুখোশ পরে মাথায় গাঁট্টা মারা সুপিরিয়রবিন্যাস আর আমার মত গামবাটদের মুখ গোমড়া-চোখ লা ... ...

[৩] যাদুবিদ্যা ও ধর্মপৃথিবীর সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মই প্রথম যুগে এই ম্যাজিক সংস্কৃতির বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু কেন? আসুন, এবার আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখি। সমাজ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেখা যাবে, ধর্মের উদ্ভবের সময়কালের সাথে এই যাদুবিদ্যার আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের পার্থক্য দিয়েই সেই উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে, ম্যাজিক সংস্কৃতির বিকাশ ও বিস্তারের সময় হচ্ছে প্রস্তর যুগের সংগ্রহ ও শিকার ভিত্তিক যাযাবর আদিম সাম্যবাদী জ্ঞাতিগোষ্ঠীভিত্তিক সমাজ সংগঠন। আর ধর্মের উদ্ভব ... ...

আমাদের যাদের বয়েস স্বাধীনতার বয়েসের পাশাপাশি তারা ছোটবেলায় প্রায়ই একটা অদ্ভুত প্রশ্নের মুখোমুখি হতাম, দেশ কই? উত্তরে যে দেশের নাম বলার রীতি ছিলো যেমন ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালী সব ছিলো ভারতের ম্যাপের বাইরে সবুজ এলাকায়। আবার সদ্যস্বাধীন দেশে আমরা খুব আবেগবিহ্বল গান শুনি -ভারত আমার ভারতবর্ষ স্বদেশ আমার স্বর্গ গো ..., স্বদেশের বাইরে দেশ? বন্ধুরা কেউ কেউ ছুটি ছাটায় পাসপোর্ট করে দেশে যায় - আমরা যাইনা কারণ বাবা জ্যেঠারা দেশভাগের আগেই দেশ ছেড়েছেন। দাদু ঠাকুমাও নেই। পাসপোর্টের ব্যাপার ঠিক বুঝি না ত ... ...

১--এ: যত তাড়াতাড়িই কর না কেন, সেই সন্ধ্যে হয়ে এলো ----- খুব বিরক্ত হয়ে ছবির মা আকাশের দিকে একবার তাকাল, যদি মেঘ করে বেলা ছোট লেগে থাকে৷ কিন্তু না: আকাশ তকতকে নীল, সন্ধ্যেই হয়ে আসছে৷ এখনও লালবাড়ির বাসনমাজা আর মুনি দের বাড়ি বাসন মাজা, বারান্দামোছা বাকী৷ তারপর বাড়ি গিয়ে কাপড় ছেড়ে এসে মুনিদের বাড়ির পুজোর বাসন মাজতে হবে৷ মুনির দিদা পাঁচবাড়ির বাসনমাজা কাপড়ে পুজোর বাসন মাজতে দেয় না৷ আর বুড়ীর চোখও বলিহারি, ঠিক বুঝে যায় কাচা কাপড় না ছেড়ে রাখা কাপড় পরে এসেছে৷ তবে বুড়ী বকাবকি ... ...

আমার বাবা আজিজ মেহের (৮৬) সেদিন সকালে ঘুমের ভেতর হৃদরোগে মারা গেলেন।সকাল সাড়ে আটটার দিকে (১০ আগস্ট) যখন টেলিফোনে খবরটি পাই, তখন আমি পাতলা আটার রুটি দিয়ে আলু-বরবটি ভাজির নাস্তা খাচ্ছিলাম। মানে রুটি-ভাজি খাওয়া শেষ, রং চায়ে আয়েশ করে চুমুক দিয়ে বাবার কথাই ভাবছিলাম।আজ তাকে কাছেই সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। দুদিন আগে তিনি পর পর তিনবার বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলেন। ৮৬ বছর বয়সে এই প্রথম তার পা ফস্কে গেল। নইলে এতো বছর ধরে সব কাজ তিনি একাই করেছেন। অস্বাভাবিক প ... ...