
আমার গল্পের পৃথিবীতে এক জঙ্গলের মধ্যে এক হ্রদ ছিল। সেখানে বাঘে গরুতে একসঙ্গে জল খেতে আসত। জঙ্গল থেকে বহুদূরে শহরে এক ছেলে আর এক মেয়েও থাকত। মেয়েটি বাড়ি বানায়। মরুভূমিতে বা খাঁ খাঁ মাঠের মাঝখানে। মাটির ওপরে নয়, মাটির নীচে। বেসমেন্টে। মাটির ওপর জেগে থাকে শুধু হালকা কাঁচের জানলা। সেখান দিয়ে যাবতীয় সূর্যালোক আসে। মেয়েটি সঙ্গে ট্যাব নিয়ে ঘোরে বড় বড় ধনকুবেরদের কাছে। ট্যাব সরিয়ে সরিয়ে সেসব নির্জন বাড়ির ছবি দেখায়। আসলে এগুলো বাঙ্কার। বাকি পৃথিবীতে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও ওখানে বেঁচে থাকা যাবে। ... ...

১৮৩০ সালের চৌঠা অক্টোবর একটি নতুন দেশের জন্ম ঘোষিত হল, ফরাসিতে বেলজিক, ফ্লেমিশে বেলজি জার্মানে বেলগিয়েন। রাষ্ট্রসঙ্ঘ অনেক দূরে; ইউরোপের তিন শক্তি, ইংল্যান্ড ফ্রান্স প্রাশিয়া খুশি, ফ্রান্স আর জার্মানির মধ্যে একটা বাফার স্টেট রাখা মন্দ নয় তবে মিলেছে দুটি শর্তে – প্রোগ্রেসিভ ভাবনা চিন্তা সহ লিবারাল প্রজাতন্ত্র নয়, দেশ হবে রাজতান্ত্রিক এবং অঙ্গীকার করতে হবে সকল যুদ্ধে সংঘর্ষে এ দেশ থাকবে নিরপেক্ষ, সুইজারল্যান্ডের মতন। নতুন দেশ, তার রাজা খুঁজতে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো। শেষ অবধি যিনি গদিতে বসলেন সাক্সা কোবুর্গের সেই রাজকুমার লেওপোলড আবার প্রটেস্টান্ট! সেই একই বছরের জুলাই মাসে আমাদের স্কটিশ চার্চ কলেজের পত্তন হয় উত্তর কলকাতায়। সে কলেজের স্থাপনা হয়েছিল ভারতে শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে, ফ্ল্যানডারস এবং ওয়ালোনিয়া মিলে বেলজিয়ামের স্থাপনা হল ধর্মরক্ষার উদ্দেশ্যে। ... ...

স্বীকার করছি, আমরা এক নিরীহ, সরল এবং বিশ্বাসপ্রবণ জাতিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছি; যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছিল, তাদের দিকেই ফিরেছি অস্ত্র তাক করে; এক সুবিবেচিত, সুশৃঙ্খল প্রজাতন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করেছি; মিত্রের পিঠে ছুরি মেরেছি, অতিথির গালে সপাটে চড় কষিয়েছি; এমন এক শত্রুর কাছ থেকে ছায়া কিনেছি, যার নিজেরই তা বিক্রি করার অধিকার ছিল না; এক বিশ্বস্ত বন্ধুর ভূমি ও স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছি; ... ...

প্রথমত, যন্ত্র হিসেবে ‘জাতি’, মানুষের সেই সব দিককে উপেক্ষা করে, যেগুলি মুনাফা অর্জনের ধারণার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, মানুষের স্বাভাবিক পরোপকারিতা বা আত্মত্যাগের প্রবণতাকে জাতি-রাষ্ট্রের যন্ত্রচালিত কাঠামো উপেক্ষা করে। রবীন্দ্রনাথের মতে, কারণ আত্মত্যাগ মুনাফা-উৎপাদনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নয়। অথচ পরোপকারিতা ও আত্মত্যাগই মানুষের উচ্চতর মানবিক সত্তার পরিচায়ক। দ্বিতীয়ত, জাতীয় যন্ত্রের মধ্যে মানুষের অবস্থান মানুষ ও যন্ত্রের স্বাভাবিক সম্পর্ককে উল্টে দেয় এবং তার স্বাধীনতাকে প্রসারিত করার পরিবর্তে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ মানুষের সঙ্গে মোটরগাড়ির সম্পর্কের উদাহরণ দিয়েছেন। ... ...

কিন্তু, স্কিলেট আবার গল্প বলবে কী করে? একটা বাসন কি কথা বলতে পারে নাকি? হুঁ পারে বটে; যদি সেটা জাদু বাসন হয়! দিদি-আম্মার এই লোহার তাওয়াটা জাদু করা ছিলো।একটা ব্যাপার অবশ্য আছে। যে কেউ কিন্তু সে গল্প শুনতে পাবেনা! শোনার জন্য তোমাকে বাসনদের ভাষা জানতে হবে। সে ভাষায় কোনো শব্দ নেই। শুধু গন্ধের ভাষা, আর স্পর্শের। ওর হাতলের ঠান্ডা ছোঁয়া, মাঝখানটা বহু বছরের ব্যবহারে মসৃণ... এক ঝলক বেকন ভাজার গন্ধ, কখনো দারচিনি আর পীচফলের... কী কোমল ভাষা! এত সুক্ষ্ম, এত কবিতা কবিতা, পৃথিবীর কোনো বইয়ে তার খোঁজ পাওয়া যায়না! গল্পগুলো আমার চোখের সামনে ছবির মতো ফুটে ওঠে। স্পষ্ট, ঝকঝকে। কখনো মনে হয় ১৯৪০ সালের কোনো সিনেমা। কখনো যেন অদ্ভুত সুন্দর সেই সব পেইন্টিং, ভার্মিয়ের যাদের কোনোদিন আঁকেননি। ... ...

ইন্দিরাজী এমার্জেন্সি ঘোষণা করলেন। ব্যাপক ধরপাকড়। সাধারণ উর্দি পরা সেপাই পর্যন্ত কালেক্টরের রোব দেখিয়ে কথা বলত। এদের মধ্যে আমাদের দু’জন জয়প্রকাশ নারায়ণের নাম নিয়ে স্থানীয় স্কুল ও কলেজে মিছিল বের করায় গ্রেফতার হল। ব্যস্ এদের পুরো গ্রুপটাই ইন্দিরা ও এমার্জেন্সি তথা নসবন্দী বিরোধী হয়ে গেল। নানান গোপন কাজকর্ম, যেমন ইস্তেহার ছড়িয়ে দেয়া, গোপন শেল্টারের বন্দোবস্ত, --এসবে ভিড়ে গেল। তারপর একদিন পুলিসের হুড়ো খেয়ে বিলাসপুর ছেড়ে দূরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিল। একজন তো একটি সরকারি হেলথ সেন্টারে দূরসম্পর্কের ডাক্তার দাদার কম্পাউন্ডার সেজে ছিল। ... ...

অচেনা গলির পেটে টিমটিমে ল্যাম্পপোস্ট একা। জেগে থাকি প্রেমহীন, কালপাত না বাঁচার মতো। ... ...

বিশ শতকের শেষ দশকে বাংলা সাহিত্য পড়ে এ কথা অনুমান করা কঠিন হবে যে, বিষয় নির্বাচনে ও পরিবেশনায় সে যুগে শরৎচন্দ্র কি প্রচণ্ড বলিষ্ঠতার পরিচয় দিয়েছেন। শরৎচন্দ্রের সারাজীবনের রচনা থেকে এর উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে অনেক। সমাজ, ধর্ম, অধর্ম, অবৈধ প্রেম, সংস্কার ও সতীত্ব ভ্রষ্টতা ইত্যাদি প্রায় অনেক চোখ বুজে ঠেলেরাখা চরিত্ররা সব ভিড় করেছে তাঁর কথা সাহিত্যে। আমি শুধু উদাহরণ দিই একটা ছোট গল্প থেকে। ‘পথনির্দেশ’ গল্পে হেমনলিনী তার সম্পর্কিত এক ভাই গুণেন্দ্রকে ভালবাসে। কিন্তু সেদিনের সমাজের সঙ্গে তাল রেখে জোর করে হেমনলিনীর বিবাহ দেওয়া হল অন্যত্র। এক বছর পরে হেমনলিনী বিধবা হয়ে ফিরে এলো। ... ...

রবিন তথা প্রোডাক্টিভ সিটিজেন, বাস্তবে যে এই গল্পটির ভিন্নধর্মী চরিত্রগুলির মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী সেতু মাত্র, খুব সতর্ক ভঙ্গিতে উত্তর দেয়, “আমি কিছু বলবো না। আমার কাজ ছিল যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, দিয়েছি। পরে আপনার কাছ থেকে কি মাসিমার কাছ থেকে কোন কথা শুনতে আমি রাজি নই! আপনার মেয়েকেও আমি বিউটি পার্লারে ঢুকিয়ে দেবো, সেখানেও ওই একই কথা, বুঝে নাও করবে কিনা! মন্দ ভালো কোন কিছুরই দায়িত্ব আমি নেব না!” ... ...

কাজেই ফুল টুল আর নয়, কথা হোক কম— যে কোনও তেলেভাজা শব্দকেই আসুন আমরা সেরেফ হেসে উড়িয়ে দিই, দেখি তার কত দম। ... ...

অনন্ত বাবুর কাহিনী এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শান্তিরাম বাকরুদ্ধ। কোনরকম ফোড়ণ কাটতেও সে ভুলে গেছে। এবার সে উৎকণ্ঠার সঙ্গে জিজ্ঞেস করে --"তারপর? কোন অঘটন ঘটেনি তো?" অনন্ত বাবু একবার শান্তিরামের দিকে তাকালেন, বললেন, "আরে বাবা শোনোই না"। তারপরের দিন খুব ভোর থাকতে কালুয়া বেরিয়ে পড়ে। পাইকারদের কাছ থেকে কিছু মাল ধরতে হবে। সে এখন দক্ষ ব্যবসায়ী। হবে নাইবা কেন? দুই তিন বছর বয়সে যার পেটে মদ পড়েছে, জন্মে থেকে যে মাতৃহারা এবং কার্যত পিতৃহারা, সে সার্ভাইবাল এর তাগিদে নিজেই অভিযোজনে সক্ষম। ... ...

চাঁদিতে ঝুঁটি বাঁধা প্রীতি নামের বালিকাটি যার সামনের দুখানা দাঁতের বাঁদিকেরটি পড়ে গেছে - সন্ধ্যে নামলে দোকান দুটির পসরাতে ধূপ ঘুরিয়ে যায়। কান আর চোখ তার সবে গজাতে শুরু করেছে - দাঁত পড়ে যাওয়া সামাল দিতেই বোধহয়। অবাক মুখে, বড় বড় চোখ করে রাস্তার বামদিকের শুন্ডি আর ডানদিকের হাল্লাকে রোজ দেখে ও শোনে সে; দুই দোকানীর কাছেই মানুষের চাহিদা হুবহু এক। ... ...

অর্নিথোলজিস্ট বা পক্ষিবিশেষজ্ঞদের মতে পাখিদের সর্বত্র দেখা গেলেও বাসস্থান হিসেবে তাদেরও পছন্দ - অপছন্দ রয়েছে। যেসব পাখি বিশেষ পরিবেশে থাকতে ভালোবাসে সেই সব ধরনের পাখিরাই দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। তুলনায় যেসব পাখি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশেও দিব্যি মানিয়ে নিতে পারে তাদের অবস্থা তুলনামূলকভাবে খানিকটা হলেও স্থিতিশীল। কিছু পাখির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। এদের মধ্যে আছে এ্যাশি প্রিনিয়া, রক পিজিয়ন বা গোলা পায়রা, এশিয়ান কোয়েল এবং ভারতীয় পিফাউল। ... ...

কিছুক্ষণ আকাশ থেকে বালি খসে পড়ার পর আমরা নিজেরা নিজেদের সম্বিৎ ফিরে পাব। পিছনে তাকিয়ে দেখব যে পাহাড়- পরিখা আমরা পেরিয়ে এসেছি, দিগন্তে তারা কী প্রিয় অলংকারের মতো দাঁড়িয়ে আছে! যে ঘাসবন আমরা পেরিয়ে এসেছি, সেই ঘাসবন তখনো শিশুর মতো দুলছে। আমরা নিজেদের চুনে, হাড়ে ফিরে যাব। ফিরে যাব নিজেদের কঠিন কঙ্কালে। ... ...

রূপ গোস্বামীকে শিক্ষাদানের সময় চৈতন্যদেব বলছেন ‘স্বর্গ মোক্ষ কৃষ্ণভক্ত নরক করি মানে’। মোক্ষের মধ্যে শান্ত-দাস্য-বাৎসল্য-সখ্য-মধুর রসে কৃষ্ণসেবার আনন্দ নেই। ‘সে অমৃতানন্দে ভক্ত সহ ডুবেন আপনে/ কৃষ্ণভক্ত-রসগুণ নহে ঐশ্বর্য্যজ্ঞানিগণে।‘ এখানে ঐশ্বর্য্যজ্ঞানী অর্থে ব্রহ্মজ্ঞানী বা উত্তর-মীমাংসকদের কথা বলছে, যাঁরা বলতেন জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরসম অবস্থায় পৌঁছতে পারে। এই ব্রহ্মজ্ঞানকে নাকচ করে বলছেন ‘ব্রহ্মানন্দ হৈতে পূর্ণানন্দ কৃষ্ণগুণ’। একইভাবে পূর্ব-মীমাংসক বা কর্মকাণ্ডবাদীদেরও তিনি বিরোধিতা করছেন। ... ...

আসমা প্রচণ্ড বিরক্ত হলেন। মনে হল যেন গোটা টাওয়ার ভেঙে পড়ল। একটা কাজ ঠিক করে করার উপায় নেই। সব সময় ঝামেলা। ফিরনির গ্লাস ছেড়ে আসমা দৌড়ে বাইরে এলেন। এসেই হতবাক। ওকি কে পড়ে উঠোনে? সাদিয়া? সামনে একটা ছোটো জলের বোতল। গড়াগড়ি যাচ্ছে। মুখ খোলা। চারিদিকে সাদা সাদা জলীয় বস্তুও ছিটিয়ে পড়ে আছে। কী ওগুলো ? দুধ ? কয়েক মুহূর্ত আসমা থমকে গেলেন। তারপর চেঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "এসব কী হচ্ছে ওসমান? ও পড়ে গেলো কী করে? সাবধানে চলতে বলি। কথা তো শুনবে না।" ... ...

প্রাচীন লোকগাথার আমার প্রিয় দ্বিতীয় রত্নটি, বাস্তবিক একটি অদ্বিতীয় অতুলনীয় মহাজাগতিক চেতনা। সাড়ে চার হাজার বছর আগের এই সেই প্রসিদ্ধ নাসদীয় সূত্রটি। রিলিজন অর্থে যে কোন ধর্মের উদ্ভবের বহু আগে, ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ১২৯ তম স্তোত্রে উদ্ধৃত, যা স্তোত্রটির প্রথম ছত্রানুসারে নামাঙ্কিত। নাসদাসীন্নসদাসীৎ- না ছিল অনস্তিত্ব, না অস্তিত্ব। আধুনিক কালে যাকে আমরা বলি 'আদি মহাবিস্ফোরণ', সেই বিগ ব্যাং-এর পলমাত্র আগে, কেমন ছিল মহাবিশ্বের রূপটি, সেই জন্মলগ্নটি বুঝে নেওয়ার প্রচেষ্টায়, এই 'সূত্র' - একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ। ... ...

কমলদি টিঙ্কু পিঙ্কুকে হেঁকে বলেন 'ডাক দিকি ওই গুরুচন্ডা৯র ইয়াং ব্রিগেডকে। বল দেয়ালে, দোকানে, গাছে, মাঠে পোস্টার সেঁটে দিতে। যে যেখানে আছে সবাই যেন গল্প, কবিতা মুক্তগদ্য, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, উপন্যাস, অনুবাদ, ছবি, কার্টুন, রম্যরচনা আরো যা যা পারে সবরকম লেখাপত্র ঝপাঝপ জমা করে দেয় গুরুচন্ডা৯-র ইমেল বাক্সে। ইদবোশেখির ১৪৩৩ সংখ্যায় ধরা থাক সেই লেখারা, বাঁধা থাক জগৎজোড়া জালে।' ... ...

এটা সত্যি আমি বড় বেশি কাঁদি আশা মৃত হলে কাঁদি অন্যের কান্না দেখে কাঁদি অথচ সেদিন আমার চোখে জল এলো না। তখন দিনের আলো নেভে নেভে সূর্য ছিল না তবু পাঁচ যুবকের চোখে কালো চশমা কঠিন সাদা মুখে বেপরোয়া বোহেমিয়ানা পা গুলো জাপটে আছে ময়লা নীল জিন গায়ে ঢোলা চামড়ার জ্যাকেট এক হাতে সিগারেট অন্য হাতে বিয়ারের ক্যান ... ...

"ফিরলেন? উইক এন্ডে কী করছেন?" এই অনিবার্য প্রশ্ন আসতেই আমি মনে মনে হেসে ফেলি। এক গতে বাঁধা সবকিছু। এতটুকু বৈপরীত্য নেই একটা দৃশ্যের সাথে আরেকটা দৃশ্যের। এই নিপুন অভিনয়ের পুনরাবৃত্তি আমাকে কম বয়েসের একটা পাগলামির কথা মনে করিয়ে দেয়। বক্সঅফিস-হিট হিন্দি সিনেমা দেখতে যাচ্ছি মফঃস্বলী সিনেমা হলে। পরপর তিনবার। তিনবারই আলাদা করে রিকোয়েস্ট এসেছে শুধু আমার জন্য। কারণ, আমি স্মার্ট, আমি কথা বলতে জানি। ওদের ভাষায় বললে, আমি 'অ্যাকটিং ভালোই জানি।' এসব ক্ষেত্রে কী করে অজুহাতকে প্রায়োরিটি হিসাবে সেট করতে হবে তা আমার জানা। কোন গলি দিয়ে অভিসারিকাকে নিয়ে গেলে সবচেয়ে কম লোক দেখবে, কোন চায়ের দোকানের পিছনে নিভৃত গুমটি আছে, মেলার মাঠের কোন দিকটার লাইটপোস্টের আলোটা জনস্বার্থে ভাঙা থাকে এসব নিগূঢ় তথ্য সাপ্লাই করে মফঃস্বলের প্রধান দূতী হয়ে উঠেছি তাই, এইসব গোপন অভিসারে আমি ফার্স্ট চয়েস। এ বিষয়ে অন্য ছেলেপিলেরা চেষ্টা করেও বিশেষ সুবিধা করতে পারত না। ... ...