সকাল ছটা থেকে আটটা এই সময়টুকু অবিনাশ ফোন ধরেন না। নেবুতলা মাঠে পাঁচ চক্কর, হালকা ব্যয়াম তারপর বাচ্চাদের ফুটবল পেটানো দেখা। ফেরার পথে গাড়ি দাঁড় করিয়ে কাঁচা বাজার। বাজারটুকু রোজ না করলেও হয় তবে পুরোনো অভ্যেস। চারপাশ এতো দ্রুত বদলায় যে বোঝা যায় আজকাল। আগে যেতোনা, লোটাকম্বল নিয়ে গ্রাম থেকে এসে যে মেসবাড়িতে উঠেছিলেন সেটা বছরের পর বছর কীভাবে ভূতের বাড়ি হয়ে উঠলো, শরিকি মামলা সবই দেখেছেন একটু একটু করে অনেক বছর ধরে। চাকরি পেয়ে পাশের পাড়াতেই সংসার পাতলে যা হয়। সে ছিল ঢিমে তাল। গত তিন বছরে ... ...
যে ধারণ করে সে মাতা। নারীর মধ্যে এই ধারণের রূপটি বর্তমান। তাহারা কেহ জগতের যাবতীয় শংকাকে আপনার মাঝে ধারণ করিয়াছে, কেহ আবিল আনন্দকে। কেহ আবার সংসারের অণুপুন্খের মধ্যে যে অন্তর্লীন তিক্তভাব তাহাকে ধারণ করে। সে যেন সবুজ নবীন কারবেল্লীগুল্মের মধ্যে তিক্ততম ফলটি। প্রানীদেহ মধ্যে পিত্তের ন্যায়।
যৌবনদ্গমকালে ভ্রমরের অভাব হয়না। নলিনীও ব্যতিক্রম নহে । কিন্তু মধুপের দল যথাকালে টের পাইয়াছিল যে কবির নির্দেশ উল্টাইয়া দিয়া, জিহ্বাগ্র ও হৃদয়ে হলাহলের কোনো পার্থক্য রাখেন নাই সৃষ্টিকর্ ... ...
সামাজিকতা মেটার পরে, যে ঘরটায় কোনোদিন থাকতে চাইনি সেখানেই জায়গা হলো। একটামাত্র খুপরি জানলা। দেয়ালের দিকে মুখ করে ছবির দিকে তাকিয়ে বাবা দাঁড়িয়ে। এই জামাটাই। ছবিতেও। সেই ধর্মতলার দোকান থেকে এনেছিলুম, ঠিকঠাক ফিটিং হতো তখন, কিন্তু দিনদিন শুকিয়ে কেমন হাড়সর্বস্ব হয়ে গেলেন মানুষটা। এখনো দেখছি সেইরকম। জেগে আছে পিঠের ডানা দুটো। পাশে গিয়ে দাঁড়াতে একবার দেখে বললেন : খাওয়া শেষ করতে পেরেছিলে ?
বললুম : না। গলায় আটকে গেলো তো।
হাসলেন : আমার ও তো তাই, জলের গেলাস অবধি হাত ... ...
ভিজে ঝাপসা হয়ে জ্যোতি ঘরে ঢোকে। ভুক্তান ইশারায় জুতো খুলতে বলে। জ্যোতি হেঁটে যায় সোফা অবধি। সাদা বেডকভার জড়ানো সোফায় থেবড়ে বসে টেনে টেনে চামড়ার মত জুতো ও মোজাজোড়া খুলে ঘরের মেঝেতে ছুঁড়ে দেয়। ভুক্তান নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে। লেখাটা শেষ করতে হবে। কালকেই জমা দেওয়ার শেষ দিন। অগ্রীম টাকা নিয়েছে তারওপর। পিরিয়ড ড্রামার বরাত বলে কথা।
"মনময়ের ক্ষুধা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইতেছিল অথচ ঘরে দুইটি বাসী রুটি ভিন্ন কিছুই নাই " - এই অবধি লিখে ভুক্তান থেমে যায়। ফিরে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে
: রু ... ...
গদ গদ করে বৃষ্টি হচ্ছে। ব্যালকনির দরজা খোলা। জল গড়িয়ে ঢুকছে ঘরে। প্রথমে রেখা তারপর একটা সাউথ আমেরিকার ম্যাপ তারপর লম্বা জিবেগজা হয়ে জলগুলো বুকসেলফের দিকে এগিয়ে যায়। একপাটি ওল্টানো জুতোকে ধরে ফ্যালে। পাশে ছাড়া মোজাটা ভিজে গ্যালো। তারপর চিৎ হয়ে পরে থাকা উৎপলকুমার। বইমেলা। শিঞ্জিনী এনে দিয়েছিলো। শিঞ্জিনী পিঙ্ক টপ পরেছিলো। এইতো সেদিনও। ওহ আবার চাপিয়ে দেওয়া হিংসা।
না থাক। পারলপেটের জার থেকে মুড়ি নিয়ে মুখে ফেলে তুতুন। মিয়ে গ্যাছে। বৃষ্টি হচ্ছে গদ গদ করে। তেতো লাগে খুব ... ...
অন্ধকারে দাঁড় করানো ভ্যাকুয়াম ক্লীনার। ধাক্কা লাগতেই ভোঁতা শব্দ করে উল্টে যায়। অন্ধকারেই হাতড়ে সোজা করে রাখে অসীম। বাঁদিকে টেবিল তারমানে। জল খায়। আরও জল। রান্নাঘরের অন্ধকারের দিকে হাঁটতে থাকে। বাসন পড়ার শব্দ। আদি জেগে ওঠে এবার। ফ্যাকাসে ডিম লাইট জ্বলে ওঠে। জল ভরে ঘরে ঢোকে অসীম।
কীসের আওয়াজ ?
অসীম উত্তর দেয় না। চোখ বন্ধ করেই জল ঢালে গলায়। বিছানায় এসে শুয়ে পড়ে। অদিতি জলের বোতল নিয়ে বাকি জল অসীমের গায়ে মাথায় ঢেলে দেয়। বিছানা ভিজে যায়। নিজে উঠে গিয়ে সোফা তে শুয়ে প ... ...
বাড়ি খুঁজছি তখন। অপশন তিনটে। পাহাড়ের ওপর। নদীর ধার। বাজার। পাহাড়ের টং এ বাড়ি নেওয়া চাপের। নিজের গাড়ি নেই। তোর্সা নদীর ধারে নিলে অনেকটা হেঁটে এসে তবে ট্যাক্সি স্ট্যানড, কাজেই চলো মার্কেট এরিয়া। ইমিডিএট বস জিগমে ওয়াংদি কথা দিলো চিন্তা কোরনা অত, তোমার হোটেলে থাকার আয়ু তো আরও একুশ দিন আছে, আমি দেখে দেবো বাড়ি ; চলো বিয়ার খাই।
অতএব আমরা রোজ আপিসের পরে বিয়ার খাই। তোর্সা নদীর ধারে নাইট ক্যাম্প ও হয়ে গ্যালো একদিন, বাড়ি খোঁজা আর হলনা। প্রমাদ গুনলুম। একদিন ইচ্ছে করে জিগমের সামনেই ... ...
মিং গা সি মো ?
ঙ্গা গী সোনম ইন। খো গী ?
দেব। গা তে লা মো ?
ট্রাসিগাং !
ওহ তাই এত রূপ। টিকালো নাক আর জ লাইন দেখেই অবশ্য আন্দাজ পেয়েছিলুম ইনি লিম্বুনি নন। কিন্তু দু -চার কথার পরে আমার জংখার স্টক ফুরিয়ে আসে। একসেন্ট তুলে নেওয়া তো খুব সহজ কিন্তু ভাষা শিখে উঠতে পারিনি এত দ্রুত। শব্দভান্ডার খুবই সীমিত। সোনম বুঝতে পারে এবং ইংলিশে আলাপ চালিয়ে যায়। আলাপ বলতে অবশ্য হাসি বেশি কথা কম। ইউনিভার্সিটির পাট চুকিয়ে সে এখন থিম্পুর একটা সেকেন্ডারী ইস্কুলে পড়ায়। টি ... ...
যোশীর সঙ্গে আলাপ এনাকোন্ডা ক্লাবে। কেঝাং আলাপ করিয়েছিল। করিয়েই বেপাত্তা। আমি আর যোশী পাশাপাশি বসে আছি। দুটো উঁচু বার স্টুল। সোফায় বসতে ভাল্লাগেনা। কেমন যেন অনিচ্ছায় এঁকেবেঁকে যাই। উইকেন্ড এর ভীড়ে ফ্লোর জমজমাট। কিঙ্গা, সোনম এসেছে রিসেন্ট গার্লফ্রেন্ড নিয়ে। ওদিকে নাইন বলস এর বোর্ডে ডাওয়া নর্বু। এদিক ওদিক দেখি। আবার বিয়ার এ চুমুক দি। চুপচাপ সময় চলে যায়। মিলকা এগিয়ে এসে ভরে দেয় দুজনের মাগ দুটো। যততমই হোক না ক্যানো প্রতিবার ঢালা বীয়ারের প্রথম চুমুকটায় আলাদা ঝাঁঝ থাকে। তারিয়ে নি সেই ... ...
বই কীকরে বন্ধু হয় বুঝিনা। কোনকালেই অবশ্য ঠিক বই এর পোকা নই। নিজেকে ওভাবে প্রজেক্ট করতেও আলাদা করে কোনো ভালো লাগা বোধ হয়না। শুনি অনেকে বলে বই তাদের শ্রেষ্ট বন্ধু। যেন কাক সমাজ্বন্ধু। ফেসবুকে শেয়ার করে এরকম লিখে যে : অনলি বুকস ক্যান এক্সেপ্ট ইউ এস ইউ আর। এরকম একজন কে মুসোলিনির বক্তৃতা সংকলন পাঠালুম এক কপি আর সমুদ্র জ্যোতিষ। পত্র না পাঠ করেই ফেরত। কেন ভাই ? তুমি যেমন ঠিক তেমনটি এক্সেপ্টেড হলনা ? বেশি খোঁচাতে ভাল্লাগেনা। বন্ধুসন্খ্যা এমনিতেই তলানি তে। খোঁচাই না। বরং লক্ষন্বিচারে বিশ্ ... ...