এবার আরেকজনের গল্প বলি। জিজ্ঞাস করলাম সব ওইপাশ থেকেই আসে, এদিক থেকে কী যায়? ও এক আশ্চর্য পণ্যের কথা বলল। কমন যেগুলা তা তো জানিই, আমি শুনে আশ্চর্য হয়েছিলাম যে এখান থেকে ফগ বডিস্প্রে যায়! ধমক দিয়ে বলেছিলাম, আরে ধুর, ফগ তো ইন্ডিয়ান জিনিস, ওইটা এই পাস থেকে যাবে কেন? ও হাসতে ছিল। আমি ওর হাসি দেখেই বুঝে ফেললাম কাহিনী কী! আমাদের মহান চকের মাল! চকে তৈরি হয় না এমন প্রসাধনী এই দুনিয়ায় সম্ভবত নাই। সেই দুই নাম্বার জিনিস দুই নাম্বার পথে ভারতে যাচ্ছে! চকের এই স্প্রেয়ের চাহিদা না কি খুব বেশি ভারতে, মানে দুই নাম্বার ব্যবসায়ীদের কাছে। ... ...
প্রতি বছর ১ জুলাই গুলশান দুইয়ে হোলি আর্টিজেন শহীদের স্মরণে তৈরি একটা ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হত। নিহত পুলিশ সদ্যসদ্যের জন্যই এইটা বানানো হইছিল। বিভিন্ন দূতাবাস যাদের নাগরিক মারা গেছে এই ঘটনায় তাদের লোকজন ফুল দিয়ে স্মরণ করত হোলি আর্টিজেন বেকারির ওই বাড়িটায়। মহান ৫ আগস্টের পরে হিযবুত তাহরীরের লোকজন ভেঙে গুড়িয়ে দেয় এই ভাস্কর্য। দিয়ে খেলাফতের ঘোষণা সম্বেলিত পোস্টার লাগিয়ে দেয়। কোন দূতাবাস আর এবার সেই ৫ নাম্বার বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে জান নাই। ইতালির দূতাবাসের একটা ছবি দেখা গেছে, তাঁরা দূতাবাসের ভিতরেই স্মরণ করেছে তাঁদের নিহত নাগরিকদের। কতখানি নতজানু মৌলবাদের প্রতি তার আরেকটা উদাহরণ না দিলেই না। চিন্ময় দাস প্রভুকে দেশদ্রোহী মামলায় আটক করা হইছে। কী করেছেন তিনি? কোথায় জানি ইস্কনের পতাকা জাতীয় পতাকার ওপরে লাগানো ছিল! এই হাস্যকর কারণে তাঁকে দিনের পর পর বন্দি করে রাখা হচ্ছে। জামিন আবেদনে আইনজীবী দেওয়া হয় নাই প্রথম দিকে। চট্টগ্রামে এই নিয়ে গণ্ডগোলে একজন আইনজীবী মারা গেছে। এখন সেই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে চিন্ময় দাসকে! তিনি পুলিশ হেফাজতে থেকে ষড়যন্ত্র করে মেরে ফেলেছেন একজন আইনজীবীকে! আইনজীবী আলিফ হত্যার প্রধান আসামি চিন্ময় দাস! এই হল নোবেল জয়ী সরকার প্রধানের কাজকাম! ... ...
ওই সীমান্তে সন্ত্রাসী এসে ঢুকে মানুষ মেরে যায় আর আমাদের এই সীমান্তে ১৪ বছরের স্বর্ণা দাস গুলি খেয়ে মারা যায়। ভারতের সীমান্ত রক্ষীদের যোগ্যতা নিয়েও তো সন্দেহ করতে পারে কেউ। কেউ তো প্রশ্ন করতে পারে যে অমিয় ঘোষদের সব বীরত্ব শুধু ফেলানি আর স্বর্ণা দাসের মত কিশোরীদের সাথেই, অন্য দিকে মানুষ মরে ২৬ জন! ... ...
তিনি ব্রিটিশ রাজের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটা পুরস্কার পেয়েছেন, সেই পুরস্কার নিতে তিনি যাবেন ইংল্যান্ড। এই ছোট্ট সুন্দর একটা কাজকে তিনি ঘাপলা লাগায় দিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কিছু না বলা হলেও ডক্টর সাহেবের প্রেস সচিব এবং পরে তিনি নিজেও জানালেন এইটা রাষ্ট্রীয় সফর! এখন রাষ্ট্রীয় সফর বলতে আমরা কী বুঝি? যাই বুঝি তার কিছু দেখা গেল না এই সফরে। কেউ বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে আসল না, কোন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হল না, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী দেখাও দিল না! দেখা না পাওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়া হল তিনি সম্ভবত দেশে নাই, কানাডায় গেছেন! না, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দেশেই ছিলেন, তিনি দেখা দেন নাই। এইটা যে অসম্মানের, এইটাও এই দলের কারো মাথায় ঢুকে নাই, স্বয়ং ডক্টর সাহেবেরও না। তারা নানা জায়গায় সাক্ষাৎকার দিয়েছে এবং নানা আবোলতাবোল বলে বেড়িয়েছেন। ... ...
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে গুলি খেয়ে মরে ফেলানি খাতুন। ফেলানির বয়স ছিল ১৫ বছর! ফেলানি খাতুন কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাবার সাথে ভারত থেকে ফিরছিল সেই সময় গুলি খেয়ে প্রাণ হারায়। দীর্ঘ সময় ফেলানির লাশ কাঁটাতারে ঝুলে থাকে! সেই সময় কাঁটাতারে ফেলানির লাশ খুব আলোড়ন তৈরি করে। দেশ বিদেশের গণমাধ্যমেও বেশ জায়গা পায় এই ছবি। তখন যে তীব্র ঘৃণার জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশীদের মনে তা ভারতবাসী কতখানি বুঝে ছিল জানি না। আমরা আশা করেছিলাম অন্তত পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা প্রতিবাদ করবে এমন একটা ন্যকারজনক হত্যাকাণ্ডের জন্য। কিন্তু তা আর হয়নি। এরপরে কোথাও যে খুব বেশি কিছু হয়নি তা বুঝতে পারা গেছে সহজেই। কারণ অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই সব আগের মতোই। এবং ১৩ বছর পরে গত বছর ১ সেপ্টেম্বর রাতে ১৪ বছর বয়সই স্বর্ণা দাস মারা গেল গুলি খেয়ে! স্বর্ণা দাস মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে তার মায়ের সাথে ত্রিপুরায় থাকা ওর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিল। বেচারি মা নিজে বাঁচতে পারলে বাঁচাতে পারেনি ছোট্ট কিশোরী স্বর্ণা দাসকে! আত্মরক্ষায় গুলি কোন ক্ষেত্রেই খাটে না। স্বর্ণা দাস, ফেলানি খাতুন কেউই অস্ত্র তাক করেনি বিএসএফের দিকে যে তাকে গুলি করে মেরে ফেলতে হবে। ... ...