ফেসবুকে সন্দীপন পণ্ডিতের মনোজ্ঞ পোস্ট পড়লাম - মনে পড়ে গেলো বাবার কথা, মনে পড়ে গেলো আমার শ্বশুর মশাইয়ের কথা। তাঁরা দুজনই ছিলেন কাঁঠালবীচির ভক্ত। পথের পাঁচালীর অপু হলে অবশ্য বলতো কাঁঠালবীচির প্রভু। তা প্রভু হোন আর ভক্তই হোন তাঁদের দুজনেরই মত ছিলো, কাঁঠালবীচি যতদিন পাওয়া যায় ততদিন আলু খেয়ে মুখ নষ্ট করবো কেন? রান্না ঘর থেকে আলু বেগুন হটিয়ে দেবার সাধ্যি তাঁদের হয়নি তা ঠিক তবে কাঁঠালবীচির সরষে কাঁচা লঙ্কা দিয়ে বাটা সেদ্ধ থেকে শুরু করে ডালনা, তরকারী, মায় সন্দেশ জিলিপি অব্দি কতো কি যে হয়। ছবি ... ...
এটি মূলতঃ তির্যকের 'রয়েছি মামণি হয়ে' ও শুচিস্মিতা'র 'সন্তানহীনতার অধিকার'এর পাঠপ্রতিক্রিয়া।
--------------------------
মা শব্দটি এখনও মহিমান্বিত। সুদূর অতীতের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তো নেই। এখনো এমন ভাবার কোন কারণ দেখি না যে ভবিষ্যতে মা শব্দের গুরুত্ব কোমলতা এবং মহিমা কমে যাবে। আমি এও বিশ্বাস করি না যে অন্তত মানব শিশুর জীবনে বাবার ভূমিকা কম গুরুত্ব পূর্ন। তবে এই আলোচনা মায়ের বৃত্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বিতর্ক এখনো এই পর্যায়ে আসেনি যে জৈবিক দিক দিয়ে শিশুর প্রাণোদ্গমে মা অথবা বাবা সমান গুরুত ... ...
আজকে কেন জানিনা ঊনকোটি পাহাড়ের কথা খুব মনে পড়ছে। নিজেদের পুরোনো জীবনের কথাও। ১৯৬৯ কি ৭০সাল। সদ্য শিক্ষকতায় ঢুকেছি। কোথায় আমার বাড়ী কোথায় ভদ্রার বাড়ী। ছোট্ট শহর কৈলাশহর। সংস্কৃতিমনষ্ক রক্ষণশীল সমাজ। আমাদের বয়স তখন কম, দেখায় আরো কম। সহকর্মীরা ভালবাসেন, হেডমিস্ট্রেসের আমরা প্রিয়পাত্রী ছিলাম। স্কুলের সব কটি ক্লাসের মেয়েরা পিকনিকে আমাদের নিয়ে যেতে চায় আমরাও সাগ্রহে যাই। ঊনকোটিতে নিরামিষ খাওয়াই প্রথা; আমরা একদিন সর্ষেবাটা দিয়ে রান্না করা ডিম নিয়ে গেছিলাম, কেউ বাধা দেয়নি। তখন পাহাড়ে কেউ থাকতোও না; ক ... ...
আজকে তো বিশ্ব চড়াই দিবস। এই প্রসঙ্গে আমার ছোট বেলার চেনা চড়াইদের কথা মনে পড়ছে। অসমে তখন ব্রিটিশ আমলের বাংলো বাড়ী নেই নেই করে ও ছিলো। ঠান্ডা গরমে সমান আরামের হতো বলে সেগুলোর এবং অন্য অনেক বাড়ীর চাল হতো সোনালী খড়ের, আঞ্চলিক ভাষায় আমরা বলতাম ছনের চাল। এরকম মাঘ ফাল্গুনে চালগুলো নুতন করে ছাওয়া হোতো ঝড় বৃষ্টির দিন শুরুর আগে। কি সুন্দর লাগতো সোনালী চুল ওয়ালা বাড়ীদের। মেহেদীর কেয়ারী। বড় রঙ্গিন বোগানভ্যালিয়া, ব্লিডিং হার্ট আর সুগন্ধি জুঁই বেলি। স্বর্গের মাসতুতো বোন সেই জনপদ? না বোধহয় সহোদরাই। তা সেই খড়ে ... ...
সোনার মতো উজ্জ্বল হলুদ আঙ্গুলে লাল টুকটুকে চাটনী বিন্দু বিন্দু লেগে আছে যেন মাদার ফুলের পাপড়ির ছেঁড়া কুচি। অঞ্জনের চোখ ফিরতে চায় না। এই চাটনি অন্যরকম, টকটকে লাল লঙ্কার ঝালে রান্না শুঁটকিমাছের শুকনো শুকনো একটা আইটেম, পাহাড়ী পথের হোটেল গুলোর ডেলিকেসি, অন্য সব খাবারের সঙ্গে ফ্রী, যার যেটুকু চাই। অঞ্জন অনিচ্ছাসত্বেও চোখ ফিরিয়ে নিলো। ভদ্রতা তার মজ্জায়। ডেভিড আর একটু চেয়ে নিল। সাম্পারীকে হোটেলের বৃদ্ধ পরিবেষক সাধলো -- নিতায়নি গো মাই একটু, ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালো লাল সবুজ পাছড়া আর সবুজ কাঁচের ... ...