শিবের ভক্ত রাবণ সমগ্র কৈলাশকে তুলে নিয়ে লঙ্কায় স্থাপন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লেন। শিবের আঙুলের চাপে সব ভার এসে চাপা দিতে শুরু করলো রাবণকে। চিৎকার করে উঠলো রাবণ। সেই রোদন থেকে নাম হলো রাবণ। রাবণ শিব রাজ্যকে লংকায় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলো। শিব রাজ্য কী তা পরে ব্যাখ্যা করা যাবে। যাইহোক শিব বাদে সমস্ত দেবতা আর গ্রহ নক্ষত্রদের নিজের সভায় আটক করেছিলো রাবণ। সয়ং ব্রহ্মা নাকি পড়াতেন শিশু রাক্ষসদের। এই বন্দী করার মানে কী বোঝাতে চেয়েছেন লেখক? শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ, পুরোহিত শ্রেষ্ঠ, বীর যোদ্ধা রাবণ। বর্ণময় চরিত্রের রাবন মারা যাবার পরেও হয়ে উঠেছিলো রাম-সীতার বিচ্ছেদের কারণ। কেমন ছিলো রাবণের রাজ্য? রামায়ণ কী বলে? ... ...
প্রাচীন ভারতে একটা যুদ্ধ হয়েছিলো। তিন ধরণের তন্ত্র বা রাজনৈতিক আদর্শ তাতে জড়িয়ে পড়েছিলো। রাম রাজ্য নাকি রাবণ রাজ্য না বালি রাজ্য, কোনটা ছিলো আদর্শ রাজ্য সে সম্পর্কে রামায়ণ বাল্মিকী পক্ষ নিয়েছিলো রামের। নাকি তা আমাদের বোঝার ভুল? না বোঝা অনেক কথা রামায়ণের প্রতিটি লাইনে লেখা আছে। বাল্মিকী লিখেছেন একরকম আর তার ভেতরে সংকেত দিয়েছেন অন্যরকম। ধর্মীয় আবেগের দিক দিয়ে নয়, নয় আবেগে আঘাতের কোন চেষ্টা, শুধুমাত্র ভাষার সংকেত উদ্ধারই একমাত্র উদ্দেশ্য এই লেখার। বাল্মিকী রামায়ণ মতে রাম নাকি রাজত্ব করেছিলেন ১১ হাজার বছর। অর্থাৎ তার প্রবর্তিত নীতি চলেছিলো ১১ হাজার বছর বা দীর্ঘদিন। কেমন ছিলো সে রাজত্ব? সকলে নাকি সুখে ছিলো। ... ...
প্রথম শিল্পবিপ্লব কি মা কালী করেছিলো? তার সংকেত কি রাখা আছে পুরাণে? বিষ্ণু নিদ্রায় রয়েছে। আর সেই সময় মধু আর কৈটভ বিষ্ণুর কানের মল থেকে তৈরী হয়ে ব্রহ্মাকে খেতে গেলো। ব্রহ্মা মহামায়ার স্তব করলে মহামায়া কালী বিষ্ণুর ঘুম ভাঙালো আর বিষ্ণু বধ করলো তাদের। তাদের মেদ দিয়ে তৈরী হলো মেদিনী বা পৃথিবী। গল্পটাতো জানা। এই গল্পকে সংকেত ধরলে আরেকটা গল্প বেরিয়ে আসে। বিষ্ণুকে নগদ নারায়ণ ধরলে সেই হলো আদি ক্যাপিটালিষ্ট। পূর্বের যৌথ সমাজ ভেঙে বিষ্ণু তৈরী করেছিলো ব্যবসায়ী সমাজ, বিনিময় প্রথা, দুধ সাগর আর সর বা উদ্বৃত্তের লেনদেন। যৌথ সমাজে সকলে সমান ভাগ পেতো। ধনতন্ত্রে শ্রমিক পেতো কেবল পারিশ্রমিক আর লাভ নিতো ... ...
শ্রী মানে লক্ষ্মী আর ধী মানে জ্ঞান। শ্রী-কে লক্ষ্মী আর ধী-কে জ্ঞান বলার অর্থ কী?শ্রী = শ+র+ঈ। শ হলো শক্তি, র হলো আবর্তন আর ঈ হলো অস্তিত্বের সক্রিয় করণ। কোন শক্তি আবর্তিত হয়? সূর্য, চন্দ্র, ঋতু এরা আবর্তিত হয়। এই আবর্তনের ওপরেই অস্তিত্ব টিঁকে আছে। শীতে খাদ্যাভাব, গ্রীষ্মে বর্ষায় খাদ্যের পুনরায় আবির্ভাব। এই ভাবে অস্তিত্ব বারে বার সক্রিয় আর নিষ্ক্রিয় হতে থাকে। যে শক্তি এইভাবে চলে যায় আর ফিরে আসে সেই হলো লক্ষ্মী। তাই লক্ষ্মী চঞ্চলা। স্থীর হয়ে সে থাকে না। অতীতে খাদ্য ছিলো শিকার আর কৃষি থেকে প্রাপ্ত সম্পদ। আর এ দুই সম্পদই ঋতু নির্ভর বলে সম্পদ আর তার ... ...