আজ সভা।নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মাছিটা একবার উঁকি দিয়ে গেল।কনভয় ছুটছে ! এইতো গতকাল অথবা পরশুর আগের রাতেধান ভর্তি জমিতে লোনা জল কেন?এই প্রশ্নের উত্তর নিতে গিয়েশীত ঘুমে চলে গেল মেয়েটি। মেয়েটির নিষ্পাপ মুখে একটা বাসি মাছিঅনবরত ঘুরে বেড়াচ্ছে! মেয়েটির ভ্রান্ত শরীরে এখন সমস্ত প্রশ্ন প্রলম্বিত ছায়া মেলে প্রতীক্ষায় আছে! যদি কোনোদিন আরও একটা সভা করা যায়যেখানে মানুষেরা কথা বলতে পারে নিরাপত্তার জন্য কোনো লাঠি না নিয়েই ! ... ...
এখন বিজ্ঞাপন বিরতিসবকিছু ধোঁয়াটে হয়ে যাওয়ার সময় আদার ব্যাপারী'ও শিথিল কুয়ো তলায় অন্ধকার খুঁজতে খুঁজতেধর্মকে আঁকড়ে ধরে সভ্যতাকে বুঝে উঠবার আগেইকোনও এক বিজ্ঞপ্তিতে নেমে আসে সেই অমোঘ কথন একমাত্র ভগবানই চিরকাল বেচেঁ থাকে। বিজ্ঞাপন শেষ হলে পুনরায় কথামালা শুরু হবে!! ... ...
এখানে কোনও বাতাস নেইআমার কেমন দম বন্ধ লাগছে আমার তাল গোল পাকানো মাথাটা পড়ে আছে মাটিতে আমার কেমন দম আটকে আসছেএখানে কোনও বাতাস নেইএখানে কোনও মানুষ নেই আমি বাতাসের কাছে যাবআমি আবার ভোরের ক্যানিং লোকালেচারিদিকে পেয়াঁজ পান্তার গন্ধ মাখা হৈ হৈ মানুষের সাথে ঝুলতে ঝুলতে আমার কাজে যাব ফিরে আসব টগবগে পাখিদের মত কখনও সন্ধ্যায় কখনও গভীর রাতে নিশুতি রাতের তারারা পথ দেখাবে আকাশে আমি বাতাসের কাছে যাবআমি মানুষের কাছে যাব! ... ...
আমার চারদিকে নজরদারি চলছে ঘরের মধ্যে মানি প্লান্টের চারায় জানালার ঝিরঝিরে বাতাসে বাথরুমে কার্নিশেচিলেকোঠায চারিদিকে ওরা দেখছে ভয় দেখাচ্ছেবিশ্রী ইঙ্গিতে বলছে একি কান্ড, বিভূতিভূষণের পাশে লেনিনতাও আবার রাষ্ট্র ও বিপ্লব !হুম, আম্বেদকর সাহেবও আছে দেখছি! আমি বললাম, মনুসংহিতা আর গীতাএ দুটোও আছে স্যার ! এসব কথায় চিড়ে ভিজল না ... ...
ওরা এখন আর আমার সাথে কথা বলে নাবসে থাকেতাস খেলেমাঝে মাঝে চিৎকার করেওদের কথা আমি বুঝতে পারি না আমি ওদের সাথে এখন আর কথা বলি নাবসে থাকি তাস খেলিপেশেন্স অথবা রঙ মিলন্তি মাঝে মধ্যে একটু এদিক ওদিক হলেই চিৎকার করে উঠিওরা আমার কথা বুঝতে পারে না আমরা যে যার মতো একটা টিয়া রঙের সবুজ দ্বীপ খুঁজছিএকা থাকব বলেআসলে আমরা জানি না সবুজ হতে গেলে একসাথে বহুদিন জঙ্গলে থাকতে হয়! ... ...
এখানে কোনও সমুদ্র নেই। গাঙচিলের স্বপ্নও তাই অধরা।অতএব, বন্দী থাকতে হবে। এটাই নিয়ম এদেশে। স্বাধীনতা উৎসবের ফ্রেমবন্দি ছবি পাঠাতে হবে বিচারের ঘরে। এটাই আদেশ এখন।গুণতির লাইনে দাঁড়াতে হবে, মিলিয়ে দেখার জন্য চোখের মণি আর আঙ্গুলের ছাপ। তারপরও কথা আছে। জানতে চাইবে কবিতা লেখা হয় কিনা!অথবা বুকের মধ্যে কোনো প্রেমের শব্দ! এসব অনুভূতি থেকেই শুরু হতে পারে বিদ্রোহ। সুতরাং, এখানে কোনো সমুদ্র থাকার প্রশ্নই ওঠে না!! ... ...
ইচ্ছে করে যাইযাওয়ার রাস্তাটা পাচ্ছি না লটবহর নিয়ে লোকেরা যাচ্ছেকোথায় কেউ জানিনা, তবু যাচ্ছে সবাই বুঝছে, আগুন লেগেছে কোথাওকোথায় কেউ জানেনা, তবু বুঝছে পাড়ার মেয়েরা কেউ বাড়িতে, কেউ পার্লারে সাজছেকেন সাজছে জানেনা, তবু সাজছে ছেলেরা সবাই খেলছে, কী খেলা ওরা জানেনাতবু খেলছে সবার যেতে ইচ্ছে করছেকোথায় কেউ জানেনা, তবু ইচ্ছে করছে এরই মধ্যে অবাধ্য কিছু মানুষ রাস্তাটা খুঁজছে পাবে কিনা ওরা জানেনা তবুও খুঁজছে !! ... ...
আমার এখন খুব ভয় করেচিরকালই আমি একটু ভীতু প্রকৃতিরতবু ইদানিং ওই ব্যাপারটা বড্ড বেড়ে গেছে!এমনিতে ঘটনাটা তেমন কিছু নয়একটা লোক প্রায় প্রতিদিনই আমার ফ্ল্যাটের নিচেসকালে, বিকেলে,কখনও গভীর রাতেচাঁদকে জাগিয়ে ফুল ফোটানো বন্ধ করেআমার জানালায় হানা দেয়! এই তো সেদিন আমি একটা কবিতা লিখছিলামঅথবা প্রবন্ধ সম্ভবতকিম্বা গল্পও হতে পারেওই রাজনীতির পাগলামো নিয়েনা, ঠিক মনে নেইহয়তো মিশেল ফুকোর ম্যাডনেস অ্যান্ড সিভিলাইজেশন,হঠাৎ সেই লোকটাকী ভাবছেন? ফ্যাসিজিম?খুব, খুব চমকে উঠলাম!কী করে বুঝল?তাহলে কী এখন আমরা দু হাজার সত্তর সালে পৌঁছেছি?!এমনটা শুনতে পাচ্ছিলাম বটেএকটা কানাঘুষো! ঔই বাতাসের কাছ থেকেও!ভ্যাট, কে বলল ?ঘোর কাটিয়ে মাথা তুলতেই দেখি লোকটা নেই!না, ভুল বলছিমাথা তো তুলতেই পারি না আমিসেই কবে থেকেই!হ্যাঁ ... ...
আমার আর আজকাল মাথা কাজ করে নাবলদের মত এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকি! এইতো সেদিনসামনে এগোব ভেবে মিছিলে পা বাড়াবো- পিছন থেকে ধর্ম এসে টেনে বলল,এক জায়গায় বস। ধ্যান কর। নিজেকে খোঁজ।তো আমি বললাম, আজ্ঞে ওই খোঁজের জন্যই তো সামনের দিকে-মাঝপথে কথা থামিয়ে বলল,তুমি কে হে, সামনে এগোবার সমর্পণ কর নিজেকে! আমার আর এগোনো হল নাসেই থেকে আমি বলদের মতএক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি!আমার আর আজকাল মাথা কাজ করে নাএখন আমি শান্তিপূর্ন সহাবস্থানে বিশ্বাস করি!! ... ...