প্রথম পর্ব: হেতমপুর গ্রামে নতুন বিয়ে হয়েছে রূপার। নতুন বলতে বছর তিনেক হবে। বাপের বাড়ি পাশের গ্রামেই - বেলডিহা। বিশু - ওর স্বামী, শহরের একটা পেপারমিলে কাজ করে। পরিবারে তেমন আর কেও নেই। বিশুর বাবা মা দুজনেই গত হয়েছেন বেশ কয়েকবছর হল। আর্থিক অনটনের কথা বাদ দিলে ওদের সমস্যা একটাই - রূপা এখনও নিঃসন্তান। বিয়ের তিনবছর পরেও বিশুর কোন সন্তান না হওয়ায় শহরে ডাক্তারও দেখিয়েছে অনেক, কিন্তু আশানুরূপ ফল এখনও পেয়ে ওঠেনি। পাড়ার লোকজনও অনেক কটূক্তি করে ওদের। এমনকি রূপাকে কুনজর, কুপরামর্শ বা কুপ্রস্তাব দিতেও ছাড়েনি। এই সন্তান না হওয়ার সমস্যা ছাড়া ওদের জীবনে আর কোন সমস্যা ছিলনা এযাবৎ। পয়সা কড়ির ... ...
"খোকা ফোন ধরল?", অরুণাদেবী বিছানায় শুয়ে শুয়েই অত্যন্ত ধীরে ধীরে ওনার স্বামী সৈকতবাবু কে জিজ্ঞেস করলেন। সৈকতবাবু অরুণাদেবীর মাথার কাছে এসে বসে স্ত্রীর মাথায় কোমলভাবে হাত বোলাতে বোলাতে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,"নাহ্! হয়ত ব্যস্ত আছে। খোকার কাজের অনেক চাপ। তুমি চিন্তা করো না অরুণা, আমি কিছু একটা ব্যবস্থা করছি।" আজ বিজয়া দশমী। সৈকত মজুমদার একসময় হাইকোর্টে কেরানির চাকরি করতেন। বছর দশেক হল রিটায়ার করেছেন। এখন উনি আর ওনার স্ত্রী অরুণাদেবী বোলপুরের কাছে ওনাদের দেশের বাড়িতেই থাকেন। ওনাদের বাড়িতে আবার দুর্গাপুজোও হয়। একসময় মজুমদার পরিবারের দুর্গাপুজো খুব ধুমধাম করে হত, এখন অবশ্য জাস্ট নিয়ম রীতি রক্ষার্থেই পুজোটা হয়, তবে পরিবারের সবাই মিলে পুজোর কটা দিন আনন্দের কোন খামতি ... ...
"আমি চুরি করিনি!" - লিখে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা এক নাবালকের! এটা কি সমাজের বিপর্যয় নয়? মনুষ্যত্বের হেরে যাওয়া নয়? মানুষের আধুনিকতার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার মত একটা ঘটনার পিছনে দোষী কারা? দোষ কী শুধু সেই 'সিভিক' কাম দোকানদারের? নাকি নাবালকের অভিভাবকের? অথবা সমাজের? নাকি আমাদের সবার? পাঁশকুড়ার ঘটনা! চিপসের প্যাকেট হাতে একটি ছেলেকে ধাওয়া করে সিভিক-দোকানদার! ছেলেটি নাবালক, সপ্তম শ্রেণী মাত্র! ভরা বাজারে দাঁড়িয়ে চোর অপবাদ দেওয়া হয় তাকে! বাচ্চা ছেলেটি জোর গলায় সেই অপবাদের বিরুদ্ধে চিৎকার করে! কিন্তু সে জানতই না যে তার চিৎকার শোনার মত লোকজন এই 'সুস্থ মেকি' সমাজে আর বেঁচে নেই। সেদিনের সেই অপমান মেনে নিতে পারেনি ... ...
ফেলুদা, তোপসে আর লালমোহন বাবু একবার ট্রেকিং-এ গিয়েছিলেন। রাত্রিবেলা পাহাড়ের কোলে একটা জায়গায় বিশ্রামের জন্য আশ্রয় নিলেন ওনারা। বেশ কিছুক্ষণ ঘুমানোর পর ফেলুদা হঠাৎ লালমোহনবাবুকে ডেকে ঘুম থেকে তুলে জিজ্ঞেস করলেন, "বলুন তো? কী দেখছেন?" লালমোহনবাবু অনেক কষ্টে চোখ খুলে তাকিয়ে একটু গানের সুরে বললেন, "কেন? টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটল স্টার! হাউ আই ওয়ান্ডার হোয়াট ইউ আর!" ফেলুদা আবার জিজ্ঞেস করল, "এর থেকে আপনি কী বুঝছেন?" লালমোহনবাবু দুহাতের দশটা আঙুল দিয়ে বুকের ওপর তবলা বাজাতে বাজাতে তৎক্ষণাৎ বললেন, "ধূর মশাই! এ আবার বলতে? মিলিয়নস অফ স্টারস! বিলিয়নস অফ গ্যালাক্সিস! নাহ্ এই দৃশ্যটা আমার পরের উপন্যাসে ঢোকাতেই হচ্ছে মশাই! ভাগ্যিস আপনার সঙ্গে ... ...
"আচ্ছা রীতিকা....তুমি কোনোদিন ফ্লাইটে ট্রাভেল করেছ?", অফিস থেকে ফিরেই কাঁধ থেকে ব্যাগটা নামিয়ে জুতোটা খুলে ঘেমো জামার হাতাটা গোটাতে গোটাতে সৌমেন জিজ্ঞেস করল।"না...হঠাৎ একথা জিজ্ঞেস করছ যে?", রান্নাঘর থেকে সরবত করতে করতে রীতিকা উত্তর দিল।বেসিনে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে ধুয়ে তোয়ালেতে মুখ মুছতে মুছতে সৌমেন বলল,"কাল প্রিয়াংশু আর ওর মিসেস সিমলা মানালি ঘুরতে যাচ্ছে.......দিল্লী অবধি ডাইরেক্ট ফ্লাইট..... তারপর ওখান থেকে বাই কার মানালি। সিমলাটা মানালি কমপ্লিট করে তারপর যাবে বলল। সাতদিনের ট্যুর!""ধরো।", বলে সরবতের গ্লাসটা সৌমেনের হাতে দিয়ে ওর পাশে সোফায় বসল রীতিকা।এক চুমুকে পুরো গ্লাসটা নিঃশেষ করে হাঁফাতে হাঁফাতে সৌমেন বলল,"আমরা কতদিন কোথাও ঘুরতে যাইনি বল?""হ্যাঁ, অনেকদিন......বিয়ের পর সেই ... ...
‘সিঁদুরের‘ বদলা নিতে মক ড্রিলের ধোঁয়াশায় চলছে অপারেশন ‘সিন্দুর‘! ৮ই মে এর কালরাত্রি! ছুটে আসছে পাক – ড্রোন! ভারতীয় সেনা সেগুলো চুটকি মেরে ভূপতিত করছে ‘সুদর্শন‘ এর কেরামতিতে। গোটা রাত সারা ভারত জেগে! মানচিত্র থেকে মুছে গেছে করাচি বন্দরের চিহ্ন! আই. এন. এস বিক্রান্ত স্বমহিমায় ফিরে আসছে তেরঙ্গা টাঙিয়ে! আবারও অ্যাটাক! আবারও ভারতীয় ডিফেন্স পরাজিত করেছে পাকিস্থানের জঙ্গিসুলভ মানসিকতাকে! ছুটিতে থাকা সৈনিকেরা ফিরে আসছে সীমান্তে! বন্ধ হয়েছে সীমান্ত লাগোয়া সমস্ত স্কুল কলেজ! রাত ৮ টা থেকে সকাল ৬ টা অবধি ব্ল্যাকআউট! কমানো হয়েছে পর্যটকদের ইতিউতি ঘোরা! শুধু রাজধানী নয়, সমুদ্রতীরবর্তী শহর মুম্বাইয়েও বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা! প্রাণ যাচ্ছে কত মানুষের, শহীদ ... ...
রান্নাঘর থেকে এক ছুটে বেরিয়ে এসে বিছানার ওপরে রিং হতে থাকা ফোনটা রিসিভ করে ঋতু জিজ্ঞেস করল,"হ্যালো, কে বলছেন?"উত্তর এল,"কী রে? এর মধ্যেই ভুলে গেলি?""আরে! অর্ক? তুই! কী খবর? এত দিন পর! ওওওওও.....তুই তো এখন বিদেশী! দেশের লোকজনকে মনেই বা রাখবি কেন বল?", ওপারের গলার আওয়াজ শুনেই ঋতু চিনতে পারল যে সে অর্ক ছাড়া আর কেও নয়।"এই তো? লেগ পুল শুরু করলি? আচ্ছা এই নম্বরটা সেভ করে নে, এটা আমার নতুন নম্বর।""কেন আগের টা কী হল?""আরে, আগেরটা লন্ডনের নম্বর ছিল। আজই তো ইন্ডিয়া এলাম। ভোরের ফ্লাইটেই ল্যান্ড করলাম। নেমেই আগে এই সিমকার্ডটা নিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে সোজা বাড়ি, তারপর একটা ন্যাপ। ... ...
বিদ্যালয় শিক্ষা নিয়ে এমন গাছাড়া মনোভাব পৃথিবীর কোন দেশ বা রাজ্যে কাম্য নয়। বিশেষ করে যে দেশে বা রাজ্যে বেকারত্ব এত বেশি! যেখানে বেশিরভাগ মানুষ স্কুলের গণ্ডি না পেরিয়েই পেটের ভাত যোগাড় করতে কোন না কোন কাজে লেগে পড়েন, চলে যান অন্য জেলায় বা রাজ্যে! আঠারোর নীচের শিশুরাও এর ব্যতিক্রম নয়! একটু চোখ কান খোলা রাখলেই দেখা যায়, অমুক জায়গায় তমুক পরিবারের শিশু অন্যত্র কাজ করতে চলে গেছে পড়াশোনার ল্যাটা চুকিয়ে। অথবা, পাশের গ্রামের এক নাবালিকার ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে! এ ছবি নিরন্তর! দৈনিক পত্রিকার পাতায় এসব খবর যেন নিত্যদিনের অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে! কিন্তু পরিস্থিতি ... ...